📄 বিনয়ী ও অনুগত বান্দা হওয়ার উপায়
আল্লাহ তাআলা বলেন:
أَمْ مَنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ
'যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সিজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, পরকালের ভয় রাখে এবং আপন পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না। বলুন, "যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে?" চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।'
মুফাসসিরিনে কিরাম এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, }أَمْ مَنْ هُوَ قَانِتُ{ অর্থাৎ যিনি আল্লাহ ও রাসুল -এর বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাঁদের একান্ত অনুগত। }آنَاءَ اللَّيْلِ{ অর্থাৎ রাত্রিবেলায় আপনি যাকে তার রবের সান্নিধ্যে নামাজরত ও সিজদারত এবং নামাজান্তে দাঁড়িয়ে মধুর সুরে তাঁর আয়াতসমূহকে তিলাওয়াতরত অবস্থায় দেখবেন। ঠিক ওই সময়ে আবার তাকে আখিরাতের আজাবের ব্যাপারে ভীত-সন্ত্রস্ত এবং তার মহান রবের নিকট এর থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনারত অবস্থায় দেখবেন। অপরদিকে আবার সে স্বীয় রবের অপার করুণা ও অনুগ্রহের আশাবাদী হয়ে কায়মনোবাক্যে জান্নাত কামনা করে।
• আল্লাহু আকবার! এই দ্বীনের মহত্ত্ব কত বড়! এর যাবতীয় বিধিবিধান কতই না সহজ! আমাদের রব কতই না মহান ও করুণাময়! যিনি আমাদের মতো দুর্বল চিত্তের মুসলিমদের সামান্যতম সৎকর্মের জন্যও কত উত্তম বদলা দিতে পারেন, যেই কাজগুলো করতে কোনো রকমের কষ্ট-ক্লেশ ও খেসারতের ভোগান্তি পোহাতে হয় না। বরং তিনি (আমলের কারণে আমাদের তাঁর) বিশেষ অনুগত বান্দাদের আওতাভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:
مَنْ قَامَ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الغَافِلِينَ، وَمَنْ قَامَ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ القَانِتِينَ، وَمَنْ قَامَ بِأَلْفِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْمُقَنْطِرِينَ
'যে ব্যক্তি (রাতের) নামাজে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম গাফিলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে না। আর যে ব্যক্তি (রাতের) নামাজে একশ আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম অনুগত বান্দাদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে। আর যে ব্যক্তি (রাতের) নামাজে দাঁড়িয়ে এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম অফুরন্ত পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে।
• বিনয়ী হলো ওই ব্যক্তি, যিনি সার্বিক অকুণ্ঠ আনুগত্যের মূর্তপ্রতীক। قَائِتُ এর ব্যুৎপত্তিগত মর্ম হচ্ছে, যিনি স্বীয় রবের আদেশ পালনে ও তাহাজ্জুদ নামাজে সর্বদা সচেষ্ট।
• مُقَنْطِر এর মর্মার্থ হচ্ছে, অঢেল সম্পদ তথা অধিক প্রতিদানের যোগ্য।
• সুতরাং হে প্রিয় ভাই, আপনি কি সত্যিই উক্ত গুণে নিজেকে সজ্জিত করতে চান? তাহলে ঝটপট এ পদ্ধতিটি গ্রহণে সচেষ্ট হোন। আপনি দশ মিনিটের চেয়ে কম সময়ে আদায় করে ফেলতে পারেন। যেমন, তাহাজ্জুদের দুই বা চার রাকআত নামাজে ১০০ কিংবা একটু বেশি, ছোট ছোট আয়াত সম্বলিত সুরা পাঠ করলেন, ব্যাস! আপনি তো আল্লাহর বিশেষ বিনয়ী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন।
• তাই স্বীয় রবের দাসত্বের গুণে যত বেশি গুণান্বিত হতে পারবেন, আপনার পারলৌকিক প্রভূত উন্নতিও সে অনুপাতে বাড়তে থাকবে।
টিকাঃ
১৭৫. সুরা আজ-জুমার: ৯
১৭৬. সুনানু আবি দাউদ: ১৩৯৮
📄 ভেতরকে সংশোধন করুন
আল্লাহর নিকট বান্দার নৈকট্য ও সুউচ্চ মর্যাদা লাভের অন্যতম মাধ্যম হলো, আত্মাকে সংশোধন করা।
• তাই বাহ্যিক অবয়বকে ভেতরের আবরণের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হিসেবে গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রমের বিকল্প নেই। আমাদের সালাফের এ ব্যাপারে বিশেষ মনোযোগ ও সীমাহীন গুরুত্ব ছিল।
• তাই আত্মিক পরিশুদ্ধির সাথে অল্প আমল আত্মিক ত্রুটিযুক্ত অসংখ্য আমলের চেয়ে হাজার গুণে উত্তম।
• লুকমান নিজ পুত্রকে উপদেশ দিতেন, 'হে প্রিয় বৎস, আল্লাহকে ভয় করো। এমন যেন না হয়, মানুষের সম্মানের আশায় তুমি নিজেকে বড় মুত্তাকি ও পরহেজগাররূপে জাহির করছ, অথচ তোমার অন্তর লৌকিকতার দোষে দুষ্ট।'
• ইবনে তাইমিয়া বলেন, 'অন্তরের একটি মাত্র আমল বাহ্যিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গের অসংখ্য আমলের চেয়ে উত্তম।'
• সালাফের জনৈক ব্যক্তি বলেন, 'যার বাহ্যিক আমল অভ্যন্তরের সত্যিকারের মুখপাত্র হয়ে যায় এবং উভয়ের মাঝে কোনো বৈপরীত্য না থাকে, সে-ই প্রকৃতপক্ষে একনিষ্ঠ বান্দা।'
• আবু দারদা বলেন, 'নিফাকের অধীনতা থেকে রবের নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করো।' তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'নিফাকের অধীনতা বলতে কী বোঝায়?' তিনি বলেন, 'শরীর বাহ্যিকভাবে বিনয়ী ও একনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও অন্তর লৌকিকতা থেকে মুক্ত না হওয়া।'
• অদ্ভুত এক সমস্যা: মানুষ যখন একাকী কোথাও থাকে, রবের অবাধ্যতা আরম্ভ করে, অথচ তিনি অন্তর্যামী। লোকচক্ষুর অন্তরালে সম্পাদিত পাপকে গোপন রাখতে তাকে বেশ সচেষ্ট দেখা যায়, বাস্তবে সে আল্লাহর হুকুমের কোনো পরোয়াই করে না। লা হাওলা ওয়ালা কুওয়্যাতা ইল্লা বিল্লাহ।
• মানুষকে জবাব দেওয়ার জন্য সে হাজারও হিসাব কষে; কিন্তু তার মহান রবকে জবাব দেওয়ার জন্য সামান্য আত্মপর্যালোচনা পর্যন্ত করে না।
• কারণ, তার নিকট রবের সম্মানের চেয়ে মানুষের সম্মান অনেক বেশি!
• আল্লাহর সাথে আদব রক্ষার চেয়ে মানুষের সাথে আদব রক্ষার দিকটাই তার নিকট প্রাধান্য পায়।
• আল্লাহর কাছে লজ্জিত হওয়ার চেয়ে মানুষের সামনে লজ্জিত হওয়াকে সে বেশি ভয় করে।
• কোনো অপরাধের দরুন মানুষের কাছে তো কত কাকুতি-মিনতি করে, অথচ দ্বীনি ব্যাপারে কোনো ঘাটতি দেখা দিলে, খাঁটি তাওবার মাধ্যমে কোনো অপারগতা পর্যন্ত প্রকাশ করে না। বিপদে তার প্রতিপালকের নিকট ধরনা না দিয়ে কদাকার মানুষের কাছেই ধরনা দেয়। (আল্লাহ আমাদের হিফাজত করুন।)
আল্লাহ বলেন: ﴿مَا لَكُمْ لَا تَرْجُونَ لِلَّهِ وَقَارًا ﴾
'তোমাদের কি হলো যে, তোমরা আল্লাহ তাআলার শ্রেষ্ঠত্ব আশা করছ না।'
কে সবচেয়ে বুদ্ধিমান?
সত্যিকারের বুদ্ধিমান সেই ব্যক্তি, যে মাখলুকের অসন্তুষ্টি সত্ত্বেও রবের সন্তুষ্টিকেই প্রাধান্য দেয়। পক্ষান্তরে যে এর বিপরীতে চলে, আল্লাহ তার অন্তরকে পরিবর্তন করে দেন। ফলে সে পাপাচারকে তার রবের সন্তুষ্টির জন্য সম্পাদন করতে থাকে।
• সালাফের জনৈক ব্যক্তি বলেন, 'তুমি আল্লাহর দৃষ্টিতে সবচেয়ে নীচু না হওয়ার চেষ্টা করো। এবং পাপের লঘুতার দিকে লক্ষ না করে কার অবাধ্য হচ্ছ, তার প্রতি একটু দৃষ্টি নিবদ্ধ করো।
• বিলাল বিন সাদ বলেন, 'গুনাহর ক্ষুদ্রতার দিকে লক্ষ করো না, বরং দেখো, তুমি কার অবাধ্যতা করছ?'
• তাই আল্লাহর রাসুল ﷺ তাশাহুদের পর সালামের পূর্বে এই দুআটি পাঠ করতেন: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَرْتُ، وَمَا أَسْرَرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، وَمَا أَسْرَفْتُ، وَمَا أَنْتَ أَعْلَمُ بِهِ مِنِّي، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ 'হে আল্লাহ, আপনি আমার পূর্বের ও পরের, গোপন ও প্রকাশ্যের, আমার বাড়াবাড়িমূলক এবং আমার যেসব অপরাধের ব্যাপারে আপনি ভালো জানেন, সব ক্ষমা করে দিন। আপনিই অগ্রে প্রেরণকারী, আপনিই পশ্চাতে প্রেরণকারী। আপনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই।'
• আল্লাহর কত বান্দা শুধু তার অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা ও নিষ্কলুষতার দরুন আখিরাতের কতই না উঁচু মাকাম ও মর্যাদা অর্জন করছেন, অথচ তাদের দুনিয়াবি কোনো সার্টিফিকেট ও উন্নত পদ-পদবি ছিল না। তারা তেমন বেশি ইবাদত-বন্দেগিও করতেন না। মানুষের কাছেও তেমন সম্মানি ছিলেন না।
• আল্লাহ তাআলা বান্দার অন্তরের অবস্থার প্রতিই লক্ষ করেন।
• আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন : إِنَّ اللَّهَ لَا يَنْظُرُ إِلَى صُوَرِكُمْ وَأَمْوَالِكُمْ، وَلَكِنْ يَنْظُرُ إِلَى قُلُوبِكُمْ وَأَعْمَالَكُمْ 'আল্লাহ তোমাদের বাহ্যিক আকার-আকৃতি ও ধন-সম্পদ দেখেন না। বরং তোমাদের অন্তর ও কর্মসমূহ দেখেন।'
• সুতরাং মহান রব দুনিয়াবি সার্টিফিকেট, জমি-জমা, সম্পদের আধিক্য, উন্নত জীবনযাপন প্রভৃতির দিকে বিন্দুমাত্রও ভ্রুক্ষেপ করেন না। স্রেফ এ ধরনের দুনিয়াবি চাকচিক্য আপনার আমলনামাকে সমৃদ্ধ করতে পারে না।
• রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, 'কিয়ামতের দিন শারীরিক দিক দিয়ে মোটা তাজা—এমন কতক লোককে আল্লাহর সমীপে উপস্থিত করা হবে, অথচ আল্লাহর নিকট মশার ডানার পরিমাণও তাদের মূল্য থাকবে না। তোমরা এই আয়াতটি গভীর মনোযোগ দিয়ে পাঠ করো: فَلَا نُقِيمُ لَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَزْنًا 'সুতরাং কিয়ামতের দিন তাদের জন্য আমি কোনো গুরুত্ব স্থির করব না।”
• বাস্তবিক অর্থে আপনার ইমান, নিষ্ঠতা, সততা, তাওয়াক্কুল, দৃঢ় বিশ্বাস, আন্তরিক পবিত্রতা ও স্বচ্ছতাকেই আল্লাহর কাছে মাপার জন্য উত্তোলন করা হবে। বাকি সব খড়কুটার মতো ফেনা আকারে তলিয়ে যাবে।
• বিলাল বিন সাদ বলেন, 'তুমি বাহ্যিকভাবে রবের একান্ত বন্ধু আর অভ্যন্তরীণভাবে চরম শত্রু হোয়ো না। তুমি কি জানো, সেটি যে নিফাকের আলামত!'
• হাসান বসরি বলেন, 'নিফাকের অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, অন্তর ও মুখের মাঝে বিপরীত হওয়া এবং বাইরের সাথে ভেতরের মিল না থাকা।'
– আলিমগণ বলেন, 'ওই ব্যক্তি হচ্ছে নিফাকের সবচেয়ে নিকটবর্তী, যে নিজেকে নিফাক থেকে পূত-পবিত্র মনে করে।'
এক ব্যক্তি হুজাইফা -কে বললেন, 'আমি নিফাক নিয়ে খুব বেশি ভীত-সন্ত্রস্ত।' তখন তিনি বললেন, 'যদি তুমি সত্যিকারের মুনাফিক হতে, তাহলে তুমি কখনো নিফাকের ব্যাপারে ভয় করতে না।'
ইবনে আবি মুলাইকা বলেন, 'আমি ৩০ জন সাহাবির সাক্ষাৎ পেয়েছি। তারা সকলেই নিজের ব্যাপারে নিফাক নিয়ে শঙ্কিত ছিলেন।' বস্তুত, এ কারণেই তাদের অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হলে নিজের ব্যাপারে তারা নিফাকের ভয়ে মুহ্যমান হয়ে যেতেন। কেননা, নিফাক হচ্ছে আল্লাহর স্মরণ থেকে অন্তরের উদাসীন হওয়া, মহান রবের রহমত থেকে বিমুখ ও তাঁর শাস্তি থেকে বেপরোয়া হওয়া প্রভৃতি—নাউজুবিল্লাহি মিন জালিকা—এমন নয় যে, আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও পরকালের ব্যাপারে তারা সন্দেহ পোষণ করতেন।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'গান-বাদ্য অন্তরে নিফাকের বীজ বপন করে। যেমনিভাবে পানি ফসল ফলায়।'
আল্লাহর স্মরণ থেকে অন্তরের উদাসীনতা, অন্য কারও বিষয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত হওয়া এবং তাঁর অবাধ্যতার মধ্যে মজে থাকার কারণে অন্তরে নিফাক সৃষ্টি হয়।
গোপনীয় বিষয়ের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করুন
ইবনুল জাওজি বলেন, 'আল্লাহর কসম, আমি এমন কতক লোককে দেখেছি, যারা নামাজ, রোজা ও চুপ থাকার আধিক্যের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন; অথচ, মহান রবের বিন্দুমাত্র বড়ত্ব ও মর্যাদা তাদের অন্তরে নেই।
আবার এমন কতককে দেখেছি, যারা সর্বদা নিজেকে উন্নতমানের পোশাকে সজ্জিত রাখে এবং আল্লাহর আদেশ-নিষেধের তোয়াক্কা করে না, তারাই হলো সেসব লোক, যারা স্বীয় পালনকর্তার নিদর্শনাবলি ও পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের কর্ম নিষ্ফল হয়ে যায়।'
• অতএব, আপনার ভেতরকে সংশোধনে সচেষ্ট হোন। আনাস বলেন, 'কেউ আছে, বাহ্যিকভাবে সে অধিক (নফল) নামাজ-রোজা ও অন্যান্য ইবাদত করে না, কিন্তু তার অন্তরের স্বচ্ছতা ও পবিত্রতা তাকে অনেক উঁচু মর্তবায় পৌঁছিয়ে দেয়।'
• সুতরাং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে আল্লাহকে খুব বেশি ভয় করুন। কারণ, অন্তরের কলুষতা সবকিছুকেই ছাড়িয়ে যায়। যদিও বাহ্যত যত অধিক ইবাদতগুজার হোন না কেন।
• আত্মার ব্যাধির প্রতিকার: রাবি বিন খুসাইম বলেন, 'অন্তরের ব্যাধির প্রতিকারের বিষয়ে মনোযোগী হও। আর তার একমাত্র চিকিৎসা খাঁটি মনে তাওবা করা, যাতে তার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।'
টিকাঃ
১৮০. সুরা নুহ: ১৩
১৮১. সহিহু মুসলিম: ৭৭১
১৮২. সহিহু মুসলিম: ২৫৬৪
১৮৩. সুরা আল-কাহফ: ১০৫
📄 সত্যিকারের মুমিন হওয়ার উপায়
আখিরাতে মুমিনদের ইমান ও সৎকর্মের ওপর ভিত্তি করে তাদের স্তর ও মর্যাদা লাভ হয়। আল্লাহ তাআলা স্বীয় কিতাবে প্রকৃত মুমিনদের কতিপয় গুণের আলোচনা করেন।
• হাসান বসরি বলেন:
'বাহ্যিক সাজগোজ ও আশা-আকাঙ্ক্ষার মাধ্যমে প্রকৃতপক্ষে ইমান অর্জিত হয় না। বরং ইমান হচ্ছে, যা অন্তরে বদ্ধমূল হয়, সাথে সাথে ব্যক্তি বাহ্যিক সৎকর্মও সম্পাদন করে।'
• হাসান বসরি বলেন:
'প্রকৃত মুমিন হচ্ছে ওই ব্যক্তি, যে অদৃশ্যে আল্লাহকে ভয় করে; আল্লাহর পছন্দসই সৎকর্মে উৎসাহবোধ করে। আল্লাহর ক্রোধ আবশ্যককারী বিষয়াবলি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকে। অতঃপর তিনি এই আয়াত তিলাওয়াত করলেন:
إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ ﴾
"আল্লাহকে তাঁর বান্দাদের মধ্যে আলিমগণই ভয় করে।”
তেমনিভাবে অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন:
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ - الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ - أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ وَمَغْفِرَةٌ وَرِزْقٌ كَرِيمٌ
'মুমিন তো তারাই, যাদের সামনে আল্লাহর নাম নেওয়া হলে, তাদের অন্তর ভীত হয়ে পড়ে। আর যখন তাদের সামনে তাঁর আয়াতসমূহ তিলাওয়াত করা হয়, তখন তাদের ইমান বেড়ে যায় এবং তারা আপন প্রতিপালকের প্রতি ভরসা রাখে। যারা নামাজ প্রতিষ্ঠা করে এবং আমি তাদের যে রুজি দিয়েছি, তা থেকে ব্যয় করে। তারাই হলো প্রকৃত মুমিন! তাদের জন্য রয়েছে আপন প্রতিপালকের নিকট মর্যাদা, ক্ষমা ও সম্মানজনক রুজি।'
উক্ত আয়াতে মুমিনের কয়েকটি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে।
প্রথম বৈশিষ্ট্য { إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ } : অর্থাৎ আয়াত শ্রবণমাত্রই অন্তর বিগলিত হওয়া।
ইবনে আব্বাস বলেন, 'ফরজ ইবাদতসমূহ আদায়ের ক্ষেত্রে মুনাফিকের অন্তর স্বীয় রবের স্মরণে জাগ্রত হয় না। এমনকি তারা আল্লাহর একটি আয়াতেও বিশ্বাস স্থাপন করে না। আর না তারা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখে, না লোকচক্ষুর অন্তরালে নামাজ আদায় করে। স্বীয় সম্পদের জাকাত আদায়েও তারা অত্যন্ত কিপটে। তাই উক্ত বৈশিষ্ট্যের আলোকে আল্লাহ তাআলা তাদের ব্যাপারে চূড়ান্ত ফয়সালা দিয়ে বলেন যে, তারা প্রকৃত মুমিন নয়।
- পক্ষান্তরে যার হৃদয় আল্লাহর স্মরণে বিগলিত হয়, অর্থাৎ আল্লাহর ভয়ে যে তাঁর আদেশসমূহ পালন করে এবং নিষিদ্ধ বিষয় থেকে বিরত থাকে। অন্যত্র স্বয়ং আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى - فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى
“পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দণ্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশি থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।”
- এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম সুদ্দি বলেন, 'প্রকৃত মুমিন ওই ব্যক্তি, যে কোনো অবিচার ও পাপের ইচ্ছা পোষণ করলে, কেউ তাকে তাকওয়ার উপদেশ দেওয়ামাত্রই তার অন্তর স্বীয় রবের ভয়ে বিগলিত হয়ে যায়।'
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য : { وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا } অর্থাৎ আল্লাহ তাআলার আয়াত শ্রবণে ইমান বৃদ্ধি পাওয়া।
এর একমাত্র কারণ হচ্ছে, তারা আয়াতের তিলাওয়াত আরম্ভ হওয়ামাত্রই গভীর শ্রদ্ধা ও একাগ্রতার সহিত উহা শ্রবণে মনোযোগী হয়। ফলে, তাদের ইমান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। তারা আয়াতের মর্মার্থ অনুধাবনে গভীরভাবে মনোনিবেশ করে। কেননা, গভীর উপলব্ধি উহা অন্তরের কাজ, যা দ্বারা অজানা ও ভুলে যাওয়া মর্মোদ্ধার হয়; কিংবা এর মাধ্যমে অন্তরে কল্যাণ লাভের জন্য প্রচণ্ড স্পৃহা জাগে, রবের পুরস্কারের প্রতি আগ্রহ জন্মায়, আর শাস্তির ভয় জাগরূক হয়, ঘৃণা সৃষ্টি হয় রবের অবাধ্যতার প্রতি। সর্বোপরি উল্লিখিত সবকটিই ইমান বৃদ্ধিতে খুবই সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য : { وَعَلَى رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ } অর্থাৎ মহান রবের ওপর ভরসা ও পূর্ণ আস্থা অর্জন করা।
তারা স্বীয় রব ব্যতীত কারও দয়ার ওপর আস্থাশীল ও আশাবাদী নন, তাঁকে পাওয়াই তাদের একমাত্র মুখ্য উদ্দেশ্য এবং তাঁর দরবারেই তারা নতজানু হয়, তাঁর কাছ থেকেই সব প্রয়োজন অন্বেষণ করে, তাঁর প্রতিই আগ্রহী হয়। এ ব্যাপারে বদ্ধমূল বিশ্বাস করে যে, আল্লাহ তাআলা যা চান, তা-ই হয়; তিনি যা চান না, তা ঘুণাক্ষরেও অস্তিত্বশীল হয় না এবং তিনিই একমাত্র সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী, যাঁর কোনো শরিক নেই, যাঁর বিধানকে কেউ রহিত করতে পারে না। এ কারণেই সাইদ বিন জুবাইর বলেন, 'তাওয়াক্কুল তথা আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা হচ্ছে ইমানের উৎসস্বরূপ। কেননা, তাতে নিহিত রয়েছে ইমানের আনুষঙ্গিক বিষয়।
• শাইখ সাদি আয়াতাংশের ব্যাখ্যায় বলেন: 'অর্থাৎ তারা উপকারী ও পার্থিব-অপার্থিব ক্ষতিকর বস্তু অপসারণের ক্ষেত্রে মহান রবের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রাখে। দৃঢ় বিশ্বাস রাখে তাঁর সার্বভৌমত্বের ব্যাপারে। বস্তুত, তাওয়াক্কুল সব আমলের প্রতি উদ্বুদ্ধকারী ও উৎসাহ দানকারী। তাই উক্ত বিষয়টি ছাড়া কোনো কাজ পূর্ণতা পায় না।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য : الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ{ অর্থাৎ নামাজ প্রতিষ্ঠা করা।
ব্যাখ্যা: আল্লাহ তাআলা আকিদা-বিশ্বাসের ব্যাপারে আলোচনা করার পর সৎকর্ম নিয়ে আলোচনা আরম্ভ করেছেন, যে সৎকর্মটি সবার ওপর অত্যাবশ্যকীয়, তা হচ্ছে নামাজ প্রতিষ্ঠা করা।
কাতাদা বলেন, 'নামাজ কায়িম করার অর্থ হচ্ছে, নামাজের সময় রুকু, সিজদা ইত্যাদি আনুষঙ্গিক বিষয়ে যথাযথ যত্নবান হওয়া।'
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য : } وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنْفِقُونَ { অর্থাৎ আল্লাহর রাস্তায় দান করা। আল্লাহর দেওয়া রিজিক থেকে দান করার মধ্যে জাকাত এবং আবশ্যকীয় নফল সদাকা, পরিবার- পরিজনের জন্য ব্যয় প্রভৃতি সবকিছুই অন্তর্ভুক্ত। তবে আল্লাহর নিকট তার সৃষ্টিকুলের জন্য উপকারী ব্যয়ই সর্বাধিক পছন্দনীয়।
আল্লাহর বাণী: {أُولَئِكَ هُمُ الْمُؤْمِنُونَ حَقًّا} 'তারাই হলো প্রকৃত মুমিন।'
শাইখ সাদি উক্ত বৈশিষ্ট্যে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত লোকদের প্রকৃত মুমিন হওয়ার কারণ বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ১. কেননা, তারা ইসলাম ও ইমানকে একীভূত করেছে। তেমনিভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ আমলের মাঝে কোনো বৈপরীত্য আনয়ন করেননি। ২. তারা ইলম অর্জন ও তদনুযায়ী আমল করে। ৩. তেমনই বান্দার হক ও আল্লাহর হক আদায়ে সমন্বয় সাধন করে।
প্রথমে অন্তরের আমলের বর্ণনার কারণ-কেননা, উহা হচ্ছে অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের আমলগুলোর উৎসস্বরূপ। তাই অন্তরের আমল সর্বাধিক উত্তম এবং উহাতেই রয়েছে ইমানের হ্রাস-বৃদ্ধির অন্যতম প্রমাণ। তাই আনুগত্যের ফলে ইমান বৃদ্ধি পায় আবার অবাধ্যতার দরুন হ্রাস পায়। ইমানের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ:
প্রত্যেক উন্নতি-প্রত্যাশী বান্দার ওপর স্বীয় ইমান বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা একান্ত অপরিহার্য। এর ফলে সর্বোত্তম যে ফলাফলটি বের হয়ে আসবে, তা হচ্ছে, আল্লাহর কিতাব কুরআনের গভীর বুঝ ও অনুধাবনশক্তি এবং এর অন্তর্নিহিত মর্মের রহস্য উন্মোচন।
অতঃপর আল্লাহ তাআলা প্রকৃত মুমিনদের মহাপ্রতিদানের বিষয়ে বর্ণনা দিয়ে বলেন: { لَهُمْ دَرَجَاتٌ عِنْدَ رَبِّهِمْ} অর্থাৎ তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় সম্পর্ক অনুযায়ী উঁচু উঁচু সম্মান ও দৃষ্টিনন্দন স্তর।
}وَمَغْفِرَةٌ{ অর্থাৎ তাদের পাপসমূহের ক্ষমা প্রদান।
}وَرِزْقٌ كَرِيمٌ{ অর্থাৎ তাদের মেহমানদারির জন্য আল্লাহ জান্নাতে এমন এমন নিয়ামতরাজি প্রস্তুত করে রেখেছেন, যা কোন চোখ কখনো দেখেনি, কোন কান কখনো শুনেনি এবং মানুষের অন্তরে যার স্বরূপ কখনো উদয় হয়নি।
- রাসুলুল্লাহ বলেন:
إِنَّ أَهْلَ الجَنَّةِ يَتَرَاءَوْنَ أَهْلَ الْغُرَفِ مِنْ فَوْقِهِمْ، كَمَا يَتَرَاءَوْنَ الكَوْكَبَ الدُّرِّيَّ الغَابِرَ فِي الأُفُقِ، مِنَ المَشْرِقِ أَوِ المَغْرِبِ، لِتَفَاضُلِ مَا بَيْنَهُمْ. قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ تِلْكَ مَنَازِلُ الْأَنْبِيَاءِ لَا يَبْلُغُهَا غَيْرُهُمْ، قَالَ: بَلَى وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، رِجَالٌ آمَنُوا بِاللَّهِ وَصَدَّقُوا الْمُرْسَلِينَ
“নিশ্চয় জান্নাতবাসীগণ তাদের উঁচুস্তরের অধিবাসীদের দেখতে পাবে, যেমনিভাবে মানুষেরা দিগন্তের পূর্বে বা পশ্চিমে উদিত নক্ষত্র দেখতে পায়। এটা হবে তাদের মধ্যে মর্যাদাগত পার্থক্য বিদ্যমান থাকার কারণে।” সাহাবিগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল, উহা তো নবিদের স্থান, সেখানে তো অন্যরা পৌঁছতে পারবে না।” তদুত্তরে রাসুলুল্লাহ বলেন, “হ্যাঁ, কিন্তু ওই সব ব্যক্তিও এর অধিকারী, যারা আল্লাহর প্রতি ইমান এনেছে ও তাঁর রাসুলগণকে সত্যায়ন করেছে।”
- আবু বকর বলেন, 'তোমরা মিথ্যা থেকে দূরে থাকো। কেননা, মিথ্যা ইমানের বিপরীত বিষয়।'
• মুমিনের হৃদয়ের স্বচ্ছতা
আলি বলেন, 'অন্তরে প্রাথমিকভাবে ইমান একটি ছোট্ট শুভ্র ফোঁটা হিসেবে অস্তিত্ব লাভ করে। অতঃপর ক্রমান্বয়ে ইমান বৃদ্ধির সাথে সাথে ওই শুভ্রতার আয়তনও বাড়তে থাকে। যখন ইমান পূর্ণতা লাভ করে, তখন পুরো অন্তর শুভ্রতায় ভরে যায়। পক্ষান্তরে নিফাক প্রাথমিক অবস্থায় একটি কালো বর্ণের ফোঁটার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে। ক্রমান্বয়ে নিফাকের পরিধি প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে কালো বর্ণের আকার-আয়তনও বাড়তে থাকে। এভাবে একসময় যখন নিফাক পূর্ণতা লাভ করে, তখন পুরো অন্তর কৃষ্ণ বর্ণের হয়ে যায়। আল্লাহর শপথ! যদি কখনো কোনো মুমিনের হৃদয় বিদারণ করতে সক্ষম হও, অবশ্যই ইমানের শুভ্রতা সেখানে দেখতে পাবে, পক্ষান্তরে যদি কোনো মুনাফিকের হৃদয় চিরতে সক্ষম হও, তাকে অবশ্যই কালো বর্ণ পাবে।'
• বান্দার প্রতি মহান রবের অনুগ্রহ এবং বান্দা থেকে রবের রহমতের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়ার আলামতসমূহ
জুননুন মিসরিকে একদা জিজ্ঞেস করা হলো, 'বান্দার প্রতি রবের অনুগ্রহের নিদর্শন কী?' তিনি বললেন, 'যখন তুমি কোনো বান্দাকে সর্বদা ধৈর্যশীল, কৃতজ্ঞ ও জিকিরকারীরূপে পাবে, তা হচ্ছে তার প্রতি মহান আল্লাহর অনুগ্রহের আলামত।' অতঃপর তাকে রবের অসন্তুষ্টির আলামতের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে, তদুত্তরে তিনি বললেন, 'যখন আপনি কোনো বান্দাকে স্বীয় রবের স্মরণ থেকে সম্পূর্ণ উদাসীন ও অবজ্ঞাকারী রূপে দেখবেন, তা হবে তার প্রতি আল্লাহর অসন্তুষ্টির নিদর্শন।'
টিকাঃ
৩৫০. সুরা ফাতির: ২৮
৩৫১. সুরা আল-আনফাল: ২-৪
৩৫২. সুরা আন-নাজিআত: ৪০-৪১
৩৫৩. সহিহুল বুখারি: ৩২৫৬
📄 সফলকামদের কতিপয় বৈশিষ্ট্য
মুমিন ব্যক্তি কেবল পরকালীন সফলতা ও মুক্তির জন্যই দুনিয়ার জীবনে যাবতীয় কষ্ট-ক্লেশ সহ্য করে। ওপারের কামিয়াবির আশায় সে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে। আল্লাহ তাআলা পরকালের সফলতা-লাভকারীদের কতিপয় গুণ সম্পর্কে কুরআনে আমাদের অবহিত করেছেন। তিনি বলেন:
﴿ قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ - الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ - إِلَّا عَلَى أَزْوَاجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ - فَمَنِ ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ - وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ - أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ - الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ ﴾
'নিশ্চয় সফলতা লাভ করেছে মুমিনগণ। যারা নিজেদের নামাজে বিনয়-নম্র। যারা অহেতুক বিষয় থেকে বিরত থাকে। যারা জাকাত আদায় করে। এবং যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে; তবে তাদের স্ত্রী ও মালিকানাভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে তা সংযত না রাখলে তারা তিরস্কৃত হবে না। অতঃপর কেউ এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করলে তারা সীমালঙ্ঘনকারী হবে। এবং যারা আমানত ও অঙ্গীকার সম্পর্কে হুঁশিয়ার থাকে। এবং যারা তাদের নামাজসমূহের খবর রাখে। তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা শীতল ছায়াময় উদ্যানের উত্তরাধিকার লাভ করবে। তারা তাতে চিরকাল থাকবে।'
ইবনে উম্মে মাখতুম -এর সাথিরা তাকে বলেন, 'হে আবু ইয়াজিদ, আপনাকে তো নিজ ঘরে বসে নামাজ আদায় করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।' তখন তিনি বলেন, 'এটা এমনি মানুষ বলে আর কি! কিন্তু আমি তো حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ অর্থাৎ “কল্যাণের পথে এসো” এর আহ্বান শুনি। আর যে ব্যক্তি حَيَّ عَلَى الْفَلَاحِ এর আহ্বান শুনবে, সে যেন উক্ত আহ্বানে সাড়া দেয়, যদিও হামাগুড়ি দিয়ে হোক না কেন।'
প্রথম বৈশিষ্ট্য: নামাজে একাগ্রতা।
e t e { الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ} অর্থাৎ যারা নামাজে একাগ্রচিত্তে দণ্ডায়মান হয়। নামাজে একাগ্রতার মর্ম হচ্ছে, আল্লাহর সমীপে অন্তরকে উপস্থিত করে তাঁর নৈকট্য গভীরভাবে উপলব্ধি করা, যার ফলে হৃদয়ে সম্পূর্ণ স্থিরতা চলে আসে, নড়াচড়া থেমে যায়। স্বীয় রবের সম্মানার্থে এদিক সেদিক তাকানো হ্রাস পাওয়া। নামাজের আনুষঙ্গিক কর্মগুলো আদায়ের সময় শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগের সাথে অনুধাবন করে করে আদায় করা, এর ফলে শয়তানি কুমন্ত্রণা ও অশালীন চিন্তা-ফিকির থেকে নিস্তার পাওয়া যায়।
একাগ্রতাই মূলত নামাজের মূল উদ্দেশ্য, যার প্রতিদান অবশ্যই বান্দার জন্য লিপিবদ্ধ করা হয়। তাই যে নামাজ নম্রতা ও একাগ্রতা-বিবর্জিত, যদিও তার প্রতিদান আশা করা যায়, তথাপি তা হবে নিতান্তই লঘু। কেননা, প্রতিদান তো অন্তরের অবস্থা হিসেবে হ্রাস-বৃদ্ধি হয়ে থাকে।
দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: অহেতুক বিষয় বর্জন।
e a r a c { وَالَّذِينَ هُمْ عَنِ اللَّغْوِ مُعْرِضُونَ} অর্থাৎ যারা অনর্থক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেকে বিরত রাখে। উহা শিরক, অবাধ্যতা ও অপ্রয়োজনীয় কাজকর্ম, কথাবার্তা সবকিছুকে অন্তর্ভুক্ত করে। অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেন :
وَالَّذِينَ لَا يَشْهَدُونَ الزُّورَ وَإِذَا مَرُّوا بِاللَّغْوِ مَرُّوا كِرَامًا )
'এবং যারা মিথ্যা কাজে যোগদান করে না এবং যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়।'
বান্দা যখন নিজ জবানকে নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়, তখন সে অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়েও পূর্ণ ভারসাম্য রক্ষা করতে পারে। রাসুলুল্লাহ মুআজ বিন জাবাল -কে উপদেশ দানকালে বলেন:
أَلَا أُخْبِرُكَ بِمَلَاكِ ذَلِكَ كُلِّهِ؟ قُلْتُ: بَلَى يَا نَبِيَّ اللَّهِ، فَأَخَذَ بِلِسَانِهِ قَالَ: كُفَّ عَلَيْكَ
'আমি কি তোমাকে সবকিছুর মূল বস্তুর ব্যাপারে অবহিত করব না?' তদুত্তরে তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, অবশ্যই।' অতঃপর রাসুলুল্লাহ নিজ জিহ্বা টেনে বের করে বললেন, 'এটাকে নিয়ন্ত্রণ করো।'
সুতরাং মুমিনদের অন্যতম প্রশংসনীয় গুণ হচ্ছে, নিজ জবানকে অহেতুক ও অবৈধ বিষয়াবলি থেকে পূর্ণরূপে বিরত রাখা।
• ইবনে মাসউদ বলেন, 'বিচার দিবসে অত্যধিক পাপের বোঝা বহনকারীর ঝুলিতে উঁকি দিলে দেখা যাবে, সে নিজের অধিকাংশ সময় অহেতুক কাজেই কাটিয়ে দিত।'
তৃতীয় বৈশিষ্ট্য : জাকাত আদায়ে যত্নশীল হওয়া। { وَالَّذِينَ هُمْ لِلزَّكَاةِ فَاعِلُونَ} অর্থাৎ যারা নিজ সম্পদের জাকাত আদায় করে। কেননা, এর মাধ্যমে চরিত্রের কলুষতা ও অপবিত্রতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সুতরাং নামাজে একাগ্রতার মাধ্যমে যেমনিভাবে সে রবের ইবাদতে ইহসানের স্তরে উপনীত হয়, তেমনিভাবে জাকাত আদায়ের মাধ্যমে সৃষ্টিকুলের প্রতি ইহসান করা হয়।
চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: লজ্জা স্থানের হিফাজত। { وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حَافِظُونَ} অর্থাৎ যারা অবৈধ বিষয়াদি থেকে স্বীয় লজ্জাস্থানকে হিফাজত করে, তারা ব্যভিচার ও সমকামিতা থেকে নিজেদের সম্পূর্ণরূপে বাঁচিয়ে রাখে এবং তাদের বৈধ স্ত্রী ও দাসী ছাড়া অন্য কোনো ক্ষেত্রে লজ্জাস্থানের ব্যবহার করে না। বস্তুত, বৈধভাবে ব্যবহারে স্বীয় রবের পক্ষ থেকে কোনো বাধা ও ভর্ৎসনা নেই। এ কারণেই তিনি বলেন : { فَمَن ابْتَغَى وَرَاءَ ذَلِكَ فَأُولَئِكَ هُمُ الْعَادُونَ } অর্থাৎ যারা স্ত্রী ও দাসী ব্যতীত অন্য কারও সাথে সঙ্গমে লিপ্ত হয়, মূলত তারাই সীমালঙ্ঘনকারী।
ইমাম শাফিয়ি উক্ত আয়াত থেকে হস্তমৈথুন অবৈধতার ওপর প্রমাণ পেশ করেছেন।
পঞ্চম বৈশিষ্ট্য: আমানতের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া। { وَالَّذِينَ هُمْ لِأَمَانَاتِهِمْ وَعَهْدِهِمْ رَاعُونَ } অর্থাৎ যখন তাদের কাছে আমানত রাখা হয়, তারা তখন খিয়ানত ও প্রতারণা করে না; বরং উক্ত আমানতকে তার প্রাপ্য হকদারের নিকট যথাযথভাবে ফেরত দেয়। কোনো চুক্তি কিংবা প্রতিশ্রুতি দিলে তারা তা পালনে সর্বদা বদ্ধপরিকর থাকে। ওই মুনাফিকদের মতো নয়, যাদের ব্যাপারে রাসুলুল্লাহ বলেন:
آيَةُ الْمُنَافِقِ ثَلَاثُ: إِذَا حَدَّثَ كَذَبَ، وَإِذَا وَعَدَ أَخْلَفَ، وَإِذَا اؤْتُمِنَ خَانَ
'মুনাফিকের বৈশিষ্ট্য তিনটি : কথা বললে মিথ্যা বলে, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলে তা ভঙ্গ করে আর আমানত রাখা হলে তার খিয়ানত করে।'
এই আয়াতটি আমানতের ব্যাপারে ব্যাপক তাৎপর্য বহন করে। তা রবের হক আদায়ের ব্যাপারে হোক কিংবা বান্দার অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে হোক। সুতরাং আল্লাহ কর্তৃক বান্দার ওপর অত্যাবশকীয় সব বিষয়ই আমানত হিসেবে গণ্য। তা যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা বান্দার ওপর একান্ত অপরিহার্য। তেমনিভাবে উক্ত আয়াতে মানুষের আমানতের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত, চাই তা সম্পদ কিংবা অন্য কোনো গোপনীয় সংবাদ হোক না কেন। সুতরাং বান্দার ওপর দুধরনের আমানতের যথাযথ হিফাজত করা অত্যাবশ্যকীয়। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন:
﴿ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تُؤَدُّوا الْأَمَانَاتِ إِلَى أَهْلِهَا ﴾
'নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দেন যে, তোমরা যেন প্রাপ্য আমানতসমূহ প্রাপকদের নিকট পৌঁছে দাও।'
তেমনিভাবে চুক্তির ক্ষেত্রেও উভয়টি প্রযোজ্য তথা স্বীয় রবের সঙ্গে চুক্তি ও সাধারণ মানুষের সাথে কৃত চুক্তি যথাযথ পালন করা ওয়াজিব। উভয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি কিংবা উদাসীনতা করা যাবে না।
কে সত্যিকারের মনুষ্যত্বের অধিকারী?
উমর বলেন, 'কোনো মানুষের প্রসিদ্ধি ও পরিচিতি দেখে তোমরা আশ্চর্যবোধ কোরো না। কেননা, সত্যিকারের মানুষ তো সেই, যে যথাযথ ভাবে নিজের ওপর আরোপিত আমানতকে সংরক্ষণ করে এবং অন্যের দোষ- ত্রুটি অন্বেষণ থেকে বিরত থাকে।'
আমানতের বাস্তব স্বরূপ
শাইখ সাদি আমানতের সংজ্ঞায় বলেন, 'আমানত হচ্ছে বাহ্যিক দিক দিয়ে যেভাবে আল্লাহর আদেশ পালন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকা হয়, তেমনিভাবে অভ্যন্তরীণ ও পরোক্ষভাবেও তা যথাযথ আদায় করা।'
ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য: নামাজের প্রতি যত্নবান হওয়া।
{ وَالَّذِينَ هُمْ عَلَى صَلَوَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ} অর্থাৎ যারা নামাজের সময় ভেতর ও বাইরের ফরজসমূহ-সহ অন্যান্য নামাজের আনুষঙ্গিক বিষয়ে সর্বদা যত্নশীল। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের দুধরনের গুণের প্রশংসা করেছেন। যার কোনো একটি ব্যতীত নামাজ অসম্পূর্ণ থেকে যায়। যেমন কেউ যদি একাগ্রতা ব্যতীত নামাজের ব্যাপারে সর্বদা যত্নবান হয়, অথবা একাগ্রতা তো আছে, তবে যত্নশীলতা শূন্যের কোঠায়, তাহলে উক্ত নামাজ নিতান্তই দুর্বল, ক্ষীণকায় ও পক্ষপাতদুষ্ট হবে। আদায়কারী ব্যক্তি তিরস্কৃত ও ভর্ৎসনার যোগ্য।
ইবনে কাসির বলেন, 'আল্লাহ তাআলা উক্ত প্রশংসনীয় গুণাবলির আলোচনা নামাজের মাধ্যমে আরম্ভ করেছেন। আবার নামাজ দিয়েই উক্ত বৈশিষ্ট্যাবলির আলোচনার ইতি টেনেছেন। এর থেকে নামাজের সর্বोत्কৃষ্টতার ব্যাপারে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়।
أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ - الَّذِينَ يَرِثُونَ الْفِرْدَوْسَ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ}
যখন আল্লাহ তাআলা উল্লিখিত প্রশংসনীয় গুণাবলির গুরুত্ব নিয়ে এতক্ষণ আলোচনা করলেন। এবার এসবের প্রতিদানের আলোচনা উক্ত আয়াতের মাধ্যমে আরম্ভ করলেন। রাসুলুল্লাহ বলেন:
فَإِذَا سَأَلْتُمُ اللَّهَ، فَاسْأَلُوهُ الفِرْدَوْسَ، فَإِنَّهُ أَوْسَطُ الجَنَّةِ وَأَعْلَى الْجَنَّةِ - أَرَاهُ - فَوْقَهُ عَرْشُ الرَّحْمَنِ، وَمِنْهُ تَفَجَّرُ أَنْهَارُ الجَنَّةِ
'অতএব, যখন তোমরা আল্লাহর নিকট (জান্নাত) চাও, তখন তোমরা জান্নাতুল ফিরদাওসই প্রার্থনা করো। কেননা, এটিই সবচেয়ে উত্তম ও সর্বোচ্চ জান্নাত-বর্ণনাকারী বলেন, আমার মনে হয়, রাসুলুল্লাহ এ কথাও বলেন—এর ওপর রয়েছে দয়াময়ের আরশ এবং জান্নাতে প্রবাহমান নদী ওই স্থান থেকে উৎসরিত। '
- রাসুলুল্লাহ বলেন: مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا لَهُ مَنْزِلَانِ: مَنْزِلُ فِي الْجَنَّةِ، وَمَنْزِلُ فِي النَّارِ، فَإِذَا مَاتَ، فَدَخَلَ النَّارَ، وَرِثَ أَهْلُ الْجَنَّةِ مَنْزِلَهُ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ تَعَالَى: {أُولَئِكَ هُمُ الْوَارِثُونَ} [المؤمنون: ١٠]
'তোমাদের প্রত্যেকের জন্য পরকালে দুটি করে গৃহ বরাদ্দ রয়েছে। একটি জান্নাতে, অন্যটি জাহান্নামে। সুতরাং যে ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করে জাহান্নামে প্রবেশ করে, জান্নাতবাসীরা সেই জাহান্নামী ব্যক্তির জন্য জান্নাতে বরাদ্দকৃত গৃহের উত্তরাধিকারী হয়ে যায়, এ কারণেই আল্লাহ তাআলা বলেন: “তারাই উত্তরাধিকার লাভ করবে।” (আল-মুমিনুন: ১০)।
সুতরাং মুমিনরা জান্নাতে কাফিরদের জন্য বরাদ্দকৃত সেই প্রাসাদগুলোর উত্তরাধিকারী হয়ে যায়। কেননা, সবাইকে তো আল্লাহর উপাসনার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। মুমিনরা যখন স্বীয় রবের ইবাদতে নিজেকে সঁপে দিয়েছে, কাফিররা তখন তাদের ওপর আবশ্যকীয় বিষয়াদি পালনে ব্যর্থতা ও উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে। তাই মুমিনরা জান্নাতে পুরো বিস্তৃত অঞ্চলের মালিক হয়ে গেছে।
- বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
يَجِيءُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ نَاسٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ بِذُنُوبِ أَمْثَالِ الْجِبَالِ، فَيَغْفِرُهَا اللهُ لَهُمْ وَيَضَعُهَا عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَى
'কিয়ামত দিবসে মুসলিমদের মধ্যে কতক পাহাড়সম পাপের বোঝা নিয়ে স্বীয় রবের দরবারে উপস্থিত হলে তাদেরকে আল্লাহ নিজ কৃপায় ক্ষমা করে দিয়ে পাপের বোঝাগুলো ইহুদি-নাসারাদের কাঁধে চাপিয়ে দেবেন।'
টিকাঃ
৩৫৪. সুরা আল-মুমিনুন: ১-১১
৩৫৫. সূরা আল-ফুরকান: ৭২
৩৫৬. সুনানুত তিরমিজি: ২৬১৬
৩৫৭. সহিহুল বুখারি: ৩৩, সহিহু মুসলিম: ৫৯
৩৫৮. সুরা আন-নিসা: ৫৮
৩৫৯. সহিহুল বুখারি: ২৭৯০
৩৬০. সুনানু ইবনি মাজাহ: ৪৩৪১
৩৬১. সহিহ মুসলিম: ২৭৬৭