📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 আত্মার পরিচর্যার কতিপয় পদক্ষেপ

📄 আত্মার পরিচর্যার কতিপয় পদক্ষেপ


চরিত্র ও আত্মশুদ্ধির বোদ্ধারা বলেন, আত্মার পরিচর্যা, তার পরিশুদ্ধি ও পবিত্রকরণে চারটি পদক্ষেপ রয়েছে। যে ওইগুলো দৃঢ়ভাবে কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে অর্জন করবে, সে অবশ্যই তার আত্মশুদ্ধিতে সফল হবে। যা নিম্নে সংক্ষিপ্তাকারে আলোকপাত করা হলো।

১. সকল পাপাচার ও অবাধ্যতা থেকে তাওবা করা
আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴾

'হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তাওবা করো, যেন তোমরা সফলতা লাভ করো। '

আল্লাহ তাআলা তাওবাকে সফলতা ও কামিয়াবির অন্যতম উপায় হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। পবিত্র কুরআনের বহু আয়াত ও অসংখ্য হাদিসে তাওবার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

তাওবার কতিপয় শর্ত
- কৃত পাপের ওপর লজ্জিত ও অনুতপ্ত হওয়া।
- তার পুনরাবৃত্তি না ঘটানোর ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া।
- পাপাচার থেকে সম্পূর্ণরূপে নিজেকে পৃথক করে নেওয়া।
- মানুষের যাবতীয় পাওনা পরিশোধ করে দেওয়া।

২. মুরাকাবা তথা স্বীয় রবের ধ্যানে মগ্ন থাকা
অর্থাৎ মুসলিম ব্যক্তি তার সব কথা ও কাজে স্বীয় রবের দৃষ্টির আওতাধীন হওয়ার ব্যাপারে অনুভব করা, এমনকি তার অন্তরের গোপন চিন্তাধারার ব্যাপারেও। যার ফলশ্রুতিতে রবের বড়ত্ব, তাঁর প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ভয় গভীরভাবে উপলব্ধি হবে। এবং এই ধারণাও বদ্ধমূল হবে যে, আল্লাহর কাছে কোনো কিছুই গোপন নয়। কেননা, স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজের ব্যাপারে বলেন:

﴿ يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ ﴾

'চোখের খিয়ানত ও অন্তরের গোপন বিষয় তিনি জানেন।'

৩. মনে মনে নিজের হিসেব নিজে করা
অর্থাৎ মুমিন ব্যক্তি তার প্রত্যেক কাজকর্মে সর্বদা নিজের ব্যাপারে এমনভাবে হিসেব নেওয়া, যেমন কোনো পার্টনার (অংশীদার) অপর পার্টনার থেকে চুলচেরা হিসেব নেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللهَ وَلْتَنْظُرْ نَفْسٌ مَا قَدَّمَتْ لِغَدٍ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ ﴾

'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো। প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত, আগামীকালের জন্য সে কী প্রেরণ করে, তা চিন্তা করা। আল্লাহকে ভয় করতে থাকো। তোমরা যা করো, নিশ্চয় আল্লাহ সে সম্পর্কে খবর রাখেন।'

• উমর বিন খাত্তাব বলেন:
'তোমরা জিজ্ঞাসিত হওয়ার পূর্বে নিজ নফস থেকে হিসাব নাও এবং তাকে পাকড়াও করো। আর তোমাদের আমলসমূহকে পাল্লায় পরিমাপ করার পূর্বে নিজেই পরিমাপ করে দেখো।'

নির্জন অবস্থায় নিজের থেকে হিসাব নাও

ইবনুল জাওজি বলেন, 'হে আল্লাহর বান্দা, নির্জনতায় তোমার অন্তর থেকে হিসাব নাও। এবং তোমার আয়ু ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার ওপর ক্ষণিক ভাবো। দুর্যোগ ও ব্যস্ততায় নিজেকে গ্রাস করে নেওয়ার পূর্বে অবসরে প্রয়োজনীয় কাজ সেরে নাও।'

তাই আপনার আমলনামায় লিপিবদ্ধ হওয়ার পূর্বেই কর্ম সম্পাদনের ব্যাপারে একটু চিন্তা করে দেখুন। এবং খুব ভালোভাবে লক্ষ করুন, আপনার কঠোর পরিশ্রম ও আত্মশুদ্ধির সময় নফস তথা অন্তরাত্মা আপনার সঙ্গ দেয় নাকি বিরুদ্ধে চলে যায়।

আল্লাহর শপথ, যে নিজ নফসের সাথে হিসাব কষে, তার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, তার বৈধ অধিকারগুলো আদায়ে সচেষ্ট হয় এবং যখনই নফস ক্লান্ত ও শ্রান্ত হয়ে পড়ে, তাকে ভর্ৎসনা করে, একমত পোষণ করলে তাকে উৎসাহ দিয়ে বুকে টেনে নেয় এবং যখনই কোনো কুপ্রবৃত্তি, অবৈধ কামনা মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে প্রচেষ্টা চালায়, কঠোর প্রতিরোধের মাধ্যমে তা বাধা দেয়, উক্ত ব্যক্তি অবশ্যই সফলকাম ও বিজয়ী।

সুতরাং যে কেউ নিজ আত্মার পরিশুদ্ধিতে ইচ্ছুক, তাকে অবশ্যই নফসের সাথে এমনভাবে লড়াই করতে হবে, যার দরুন সে এমন কতক উপাসনা, আনুগত্য ও অবাধ্যতা পরিহারের ওপর অভ্যস্ত হয়ে ওঠে, যার সাথে পূর্বে তার কখনো যোগসূত্র ঘটেনি।

আল্লাহ তাআলা বলেন: وَالَّذِينَ جَاهَدُوا فِينَا لَنَهْدِيَنَّهُمْ سُبُلَنَا )

'আর যারা আমার পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করে, আমি তাদের অবশ্যই আমার পথে পরিচালিত করব।'

প্রাথমিক অবস্থায় যদিও নানা ধরনের ক্লান্তি, অবর্ণনীয় কষ্ট ও কাঠিন্যতা অনুভব হয়, কিন্তু পরবর্তী সময়ে কঠোর অনুশীলন ও নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে সব বিষয় তার জন্য সহজ হয়ে যায়। বস্তুত, ইহাই বাস্তব অভিজ্ঞতা। কষ্টকে জোর করে অনুভব করা কষ্ট আরও বাড়িয়ে দেয়।

ইবনুল জাওজি বলেন, 'মুমিন ব্যক্তি কখনো নফসের সাথে সংগ্রামের ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শন করে না। কেননা, নফসের সাথে সংগ্রামই তাকে সফলতার পথে এগিয়ে নেয়।' সুতরাং তার ওপর কঠোর নজরদারি করুন। এবং তার পক্ষ থেকে কল্যাণকর যাই পান না কেন, সে ব্যাপারে সুযোগের সদ্ব্যবহার করুন। কেননা, আপনি যদি প্রাপ্ত কষ্টটাকে আলাদাভাবে অনুভব করেন, তাহলে আপনি প্রকৃত কষ্টের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হবেন। নফস যদি আপনার পক্ষ থেকে সামান্য অমনোযোগিতাও পায়, তা সে লুফে নিয়ে আপনাকে পদচ্যুত করতে কালক্ষেপণ করবে না।

• আত্মশুদ্ধির উলামায়ে কিরাম বলেন:
যে ব্যক্তি নিজেকে কোনো বিষয়ের ওপর অভ্যস্ত করে তুলতে ইচ্ছুক, সে যেন উক্ত কাজে ২১ দিন পর্যন্ত নিজেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে নিয়োজিত রাখে। অতঃপর তার জন্য ওই কাজটি অকল্পনীয় আকারে সহজ হয়ে যাবে। চাই তা আনুগত্যের বিষয়ে হোক কিংবা অবাধ্যতা থেকে পরিত্রাণের ব্যাপারে হোক।

টিকাঃ
৭০. সুরা আন-নুর: ৩১
৭১. সুরা গাফির: ১৯
৭২. সুরা আল-হাশর: ১৮
৭৩. সুরা আল-আনকাবুত : ৬৯

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 অনুপম চরিত্র গঠনের উপায়

📄 অনুপম চরিত্র গঠনের উপায়


আল্লাহর রাহে সফলতা-প্রত্যাশী ব্যক্তির জন্য উত্তম-অনুপম চরিত্রে চরিত্রবান হওয়ার বিকল্প নেই। তাই শুধু অত্যধিক ইবাদত, আল্লাহর জিকির ও নিরঙ্কুশ আনুগত্য সত্ত্বেও মানুষের সাথে কারও খারাপ সম্পর্ক থাকলে ওই ইবাদত-বন্দেগির প্রকৃত সুফল ভোগ করা থেকে সে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। তাকে অবশ্যই রাসুল -এর আদর্শে পূর্ণ আদর্শবান হতে হবে। (রাসুলুল্লাহ -এর চরিত্রের প্রশংসায়) আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَإِنَّكَ لَعَلَى خُلُقٍ عَظِيمٍ )
'আপনি অবশ্যই মহান চরিত্রের অধিকারী।'

অর্থাৎ হে সম্মানিত রাসুল, আপনি নিশ্চয় সুমহান চরিত্রের অধিকারী। আর তা হচ্ছে, কুরআনে বর্ণিত সৎ চরিত্রের যেসব সুন্দর দিক রয়েছে, সেগুলোর বাস্তব প্রতিচ্ছবি। কেননা, কুরআনের পরিপূর্ণ অনুকরণই ছিল মূলত রাসুলুল্লাহ -এর আদর্শ। কুরআনের আদেশ বাস্তবায়ন ও নিষেধ থেকে বিরত থাকাই ছিল তাঁর পবিত্র জীবনের অন্যতম লক্ষ্য ও ব্রত।
• আবদুল্লাহ বিন আমর থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : لَمْ يَكُنْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَاحِشًا وَلَا مُتَفَحِّشًا، وَإِنَّهُ كَانَ يَقُولُ: إِنَّ خِيَارَكُمْ أَحَاسِنُكُمْ أَخْلَاقًا
'রাসুলুল্লাহ জন্মগতভাবে বা ইচ্ছাপূর্বক অশ্লীলভাষী ছিলেন না। তিনি এরূপ বলতেন যে, "তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী।”'

• আবু দারদা থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ বলেন: مَا مِنْ شَيْءٍ يُوضَعُ فِي الْمِيزَانِ أَثْقَلُ مِنْ حُسْنِ الْخُلُقِ، وَإِنَّ صَاحِبِ حُسْنِ الْخُلُقِ لَيَبْلُغُ بِهِ دَرَجَةَ صَاحِبِ الصَّوْمِ وَالصَّلَاةِ
'কিয়ামত দিবসে মুমিন ব্যক্তির আমলনামায় সুমহান চরিত্র থেকে অধিকতর কোনো ভারী বস্তু থাকবে না। কেননা, অশ্লীল ও রূঢ় স্বভাবের অধিকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ একদমই পছন্দ করেন না।'

- আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত:
سُئِلَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ الجَنَّةَ، فَقَالَ: تَقْوَى اللَّهِ وَحُسْنُ الخُلُقِ، وَسُئِلَ عَنْ أَكْثَرِ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ، فَقَالَ: الفَمُ وَالفَرْجُ.
“রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন জিনিস মানুষকে সবচেয়ে বেশি জান্নাতে প্রবেশ করাবে?” তিনি তদুত্তরে বললেন, "তাকওয়া ও উত্তম চরিত্র।" এরপর জিজ্ঞেস করা হলো, “কোন জিনিস মানুষকে সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে প্রবেশ করাবে?" তিনি তদুত্তরে বললেন, "জবান ও লজ্জাস্থান।”

• ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'রাসুল ﷺ তাকওয়াকে উত্তম চরিত্রের সাথে একীভূত করেছেন। কেননা, তাকওয়া হচ্ছে এমন এক ফলপ্রসূ মাধ্যম, যা বান্দা ও রবের মাঝে সম্পর্কোন্নয়নের সূতিকাগার হিসেবে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে সৃষ্টিকুলের সাথেও সুন্দর সম্পর্ক তৈরিতে উত্তম চরিত্র যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করে। সুতরাং একদিকে আল্লাহর ভালোবাসা সৃষ্টি করে তো অন্যদিকে তা সাধারণ লোকদের সুচরিত্রের অধিকারী ব্যক্তিকে ভালোবাসতে আহ্বান করে।'

উত্তম চরিত্র অর্জনের জন্য কতিপয় আবশ্যকীয় বিষয়

১. উত্তম বস্তু খরচ করা। অর্থাৎ শারীরিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে, কথা ও কাজ ইত্যাদি যেকোনো মাধ্যমে মানুষদের সাহায্য করা এবং তাদের সমূহ কল্যাণ সাধনে সর্বদা তৎপর থাকা।
২. মুসলিমদের থেকে মন্দবিষয়ক বস্তুর অপসারণ, অর্থাৎ হাত ও পা অথবা অন্য কোনো অঙ্গপ্রত্যঙ্গের দ্বারা মানুষকে কষ্ট না দেওয়া; বরং তাদের কষ্ট দূরীকরণে সার্বিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
৩. প্রত্যেক মুমিন ভাইয়ের সাথে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করা।
৪. নিজের মধ্যে ইমানের সাধারণ বৈশিষ্ট্যাবলি জাগরূক রাখা। যেমন: ধৈর্য, কৃতজ্ঞতা, সহনশীলতা, অন্যের প্রতি দয়া ও উপকার, নিষ্ঠার সাথে উপাসনা, বিনয়-নম্রতা এবং যত্রতত্র ক্রোধান্বিত না হওয়া। তেমনিভাবে অহেতুক অভিসম্পাত, গালমন্দ ও হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ না করা; বরং সর্বদা সত্যবাদী, অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পবিত্র ও অত্যধিক পরিশুদ্ধ হওয়া।

৫. নিজের সকল কর্ম আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই সম্পাদন করা। লোকদেখানো ও তাদের প্রশংসা অর্জনের জন্য না হওয়া। রাসুলুল্লাহ ﷺ আপন প্রতিপালকের নিকট ফরিয়াদ করতেন :

اللَّهُمَّ اهْدِنِي لِأَحْسَنِ الْأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الْأَخْلَاقِ لَا يَهْدِي لِأَحْسَنِهَا إِلَّا أَنْتَ، وَقِنِي سَيِّئَ الْأَعْمَالِ وَسَيِّئَ الْأَخْلَاقِ لَا يَقِي سَيِّئَهَا إِلَّا أَنْتَ
‘হে আল্লাহ আমাকে উত্তম আমল ও উত্তম চরিত্রের দিশা দিন, যা আপনি ছাড়া কেউ দান করতে পারে না। এবং মন্দ কর্ম ও মন্দ চরিত্র থেকে আমাকে বাঁচিয়ে রাখুন; কেননা, সব ধরনের মন্দ থেকে আপনি ব্যতীত কেউ বাঁচাতে পারে না।’

সবচেয়ে মারাত্মক রোগ - আহনাফ বিন কায়িস বলেন, “আমি কি তোমাদের সর্বনিকৃষ্ট ও জঘন্য রোগের ব্যাপারে অবহিত করব না?” তদুত্তরে উপস্থিত লোকেরা বললেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই।” তখন তিনি বললেন, “তা হলো, মন্দ চরিত্র ও অশ্লীল জবান।”

- রাসুলুল্লাহ ﷺ তাই সর্বদা নিম্নোক্ত দুআ পাঠ করতেন :

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الأَخْلَاقِ، وَالأَعْمَالِ وَالأَهْوَاءِ
'হে আল্লাহ, আমি আপনার নিকট মন্দ চরিত্র, মন্দ কর্ম ও কুপ্রবৃত্তি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।'

চরিত্রের মন্দ দিকসমূহ

চরিত্রের সার্বিক নিন্দনীয় দিকসমূহ, যেমন: অহংকার, হিংসা, আত্মতুষ্টি, অন্যের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন ইত্যাদি।

মন্দকর্ম : যেমন সব ধরনের অবৈধ কথাবার্তা—পরনিন্দা, ঠাট্টা-বিদ্রুপ, গাল-মন্দ প্রভৃতি।

তেমনিভাবে অবৈধ সব কর্মকাণ্ড, যেমন: মদ্যপান, ব্যভিচার, পিতা-মাতার অবাধ্যতা, সুদ ও চৌর্যবৃত্তি ইত্যাদি।

প্রবৃত্তির মন্দনীয় দিকসমূহ

- বাতিল আকিদা-বিশ্বাস পোষণ করা, অর্থাৎ ওই সব আকিদা-বিশ্বাস, যা কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফে সালিহিনের বিশ্বাসের স্পষ্ট বিপরীত, যা বিভিন্ন ভয়ংকর মতবাদের ধ্বজাধারী ব্যক্তিরা পোষণ করে থাকে। সুতরাং কুরআন-সুন্নাহ ও সালাফ তথা সাহাবা, তাবিয়িন, তাবে তাবিয়িনের লালিত বিশুদ্ধ আকিদা-বিশ্বাসের শিক্ষা অর্জন করতে হবে।

- মন্দ উদ্দেশ্যাবলি: কথা কিংবা কর্ম সম্পাদনে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও সন্তুষ্টি অর্জন মুখ্য উদ্দেশ্য থাকা এবং পুণ্যকর্মের মাধ্যমে পার্থিব কোনো তুচ্ছ স্বার্থ হাসিলের লক্ষ্য থাকা। যেমন: নেতৃত্বের লোভ, প্রসিদ্ধি ও অন্যের প্রশংসা পাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকা প্রভৃতি।

অপছন্দনীয় ও মন্দনীয় রোগব্যাধি যথা: অন্ধত্ব, কুষ্ঠরোগ, পাগলামি অন্যান্য নিকৃষ্ট রোগব্যাধি। এর দ্বারা সব ধরনের রোগব্যাধি উদ্দেশ্য নয়। কেননা, ছোট-খাটো কোনো রোগব্যাধি তো মানুষের সাথে বিভিন্ন সময় লেগেই থাকে।

উত্তম চরিত্রের সংজ্ঞা
উত্তম চরিত্রের মর্ম হলো, নিজে কষ্ট সহ্য করে হলেও অন্যের কষ্ট দূরীকরণে যথাসাধ্য চেষ্টা করা।

উত্তম চরিত্র হলো নিজের সব সৌন্দর্যটুকু ঢেলে দেওয়া ও মন্দা বিষয়াবলি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে গুটিয়ে রাখা।

অথবা উত্তম চরিত্র হচ্ছে, মন্দ ও সব ধরনের অশ্লীলতা থেকে মুক্ত হওয়া এবং যাবতীয় কল্যাণকর ও পুণ্য কর্ম দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করা।

• ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'চরিত্র হচ্ছে ধর্মের আয়নাস্বরূপ। সৎ চরিত্র বৃদ্ধি পাওয়া মানে ধর্মীয় স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পাওয়া।'

• সমস্ত উত্তম চরিত্রের উৎস সম্পর্কে ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'উত্তম চরিত্র মূলত চারটি স্তম্ভে প্রতিষ্ঠিত।
১. ধৈর্য : অর্থাৎ যেকোনো অবস্থায় নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, গোস্বা হজম করা, সহনশীলতা ও নম্রতা প্রদর্শন এবং যেকোনো ক্ষেত্রে অস্থিরতা ও তাড়াহুড়া না করা।
২. পূত-পবিত্রতা : অর্থাৎ সব ধরনের অবৈধ, অশ্লীল কথা ও কাজ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখা। লজ্জাশীলতাকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরা। কেননা, তা সব কল্যাণের আধার এবং অশ্লীলতা, কৃপণতা, মিথ্যা, পরনিন্দা, চোগলখুরি থেকে বিরত রাখে।
৩. সাহসিকতা ও বীরত্ব: এই বৈশিষ্ট্য ব্যক্তিকে আত্মসম্মানবোধ, উঁচু মাপের চরিত্র ও সৎ স্বভাবের ওপর উদ্বুদ্ধ করে। এবং তা মানুষকে আত্মশক্তিতে বলীয়ান ও বীরত্বের উচ্চমার্গে উপনীত করে।
৪. ন্যায়-নীতি ও নৈতিকতা: এই বৈশিষ্ট্য মানুষের চরিত্রে ভারসাম্যতা নিয়ে আসে। বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে মুক্ত করে মধ্যমপন্থায় উদ্বুদ্ধ করে তোলে। ফলশ্রুতিতে তা এমন বীরত্বের উদ্দীপনা জাগিয়ে তোলে, যা কাপুরুষতা ও মন্দনীয় বীরত্বের মাঝামাঝি অবস্থান করে। এবং চরিত্রকে সজ্জিত করে এমন সহনশীলতায়, যা অতি রাগ ও হীনতার মাঝামাঝি অবস্থান করে।'

হীন চরিত্রের মূল উৎস

ইবনুল কাইয়িম বলেন, 'সব নীচু চরিত্রের উৎস ও মূলভিত্তি মূলত চারটি মূলস্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত।
১. অজ্ঞতা : যা সুন্দরকে কুৎসিত ও কুৎসিতকে সুন্দর করে চিত্রায়িত করে।
২. অন্যায়-অবিচার: কোনো বিষয় বা বস্তুকে তার আপন স্থানে না রেখে ভিন্ন স্থানে রাখা। তাই সে সন্তুষ্টির জায়গায় ক্রোধান্বিত হয় এবং আক্রোশের জায়গায় সন্তুষ্ট হয়, তেমনিভাবে খরচের জায়গায় কৃপণতা করে এবং কঠোরতার সময় নম্রতা প্রদর্শন করে। আবার বিনয়ের ক্ষেত্রে অহংকারী হয়ে ওঠে।
৩. কামপ্রবৃত্তি : তা মানুষকে লোভ-লালসা ও সব ধরনের নীচু মানের কাজের প্রতি উৎসাহিত করে।
৪. ক্রোধ ও আক্রোশ: তা অহংকার, হিংসা, বিদ্বেষ, শত্রুতা ও বোকামির জন্ম দেয়।

• অতএব সব ধরনের নীচু স্বভাব—একটা অপরটার উদ্রেক ঘটায়, যেভাবে উত্তম চরিত্র—একটির ফলে অপরটি বিকাশিত হয়।

টিকাঃ
১২৬. সুরা আল-কলম : ৪
১২৭. সহিহুল বুখারি: ৬০৩৫
১২৮. সুনানুত তিরমিজি: ২০০৩
১২৯. সুনানুত তিরমিজি: ২০০৪
১৩০. সুনানুন নাসায়ি: ৮৯৬
১৩১. সুনানুত তিরমিজি: ৩৫৯১

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 মুমিনের অতি প্রয়োজনীয় গুণাবলি

📄 মুমিনের অতি প্রয়োজনীয় গুণাবলি


আল্লাহ তাআলা বলেন: ﴿ التَّائِبُونَ الْعَابِدُونَ الْحَامِدُونَ السَّائِحُونَ الرَّاكِعُونَ السَّاجِدُونَ الْآمِرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَالنَّاهُونَ عَنِ الْمُنْكَرِ وَالْحَافِظُونَ لِحُدُودِ اللهِ وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ ﴾
'তারা তাওবাকারী, ইবাদতকারী, শোকরগুজার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎ কাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃত্তকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হিফাজতকারী। আর সুসংবাদ দাও ইমানদারদের।

উক্ত গুণে গুণান্বিত ব্যক্তি কতই না সৌভাগ্যবান। এই পবিত্রময় গুণে বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত ব্যক্তির জীবন কতই না সুন্দর, নির্মল ও স্নিগ্ধময় জান্নাতের সুবাসে সুবাসিত।

প্রিয় পাঠক, বাস্তবে উল্লিখিত প্রত্যেকটি গুণই একেকটি পূর্ণ প্রশিক্ষণ কোর্স ও লেকচারের দাবি রাখে। কিন্তু বুদ্ধিমানের জন্য ইঙ্গিতই যথেষ্ট।

• এখানে আল্লাহ তাআলা মুমিনের যে নয়টি গুণ নিয়ে আলোচনা করেছেন, তা সকলের গভীরভাবে উপলব্ধি করে উত্তম গুণাবলি দিয়ে নিজেকে সজ্জিত করাই হবে বাঞ্ছনীয়। কেননা, এসব গুণে গুণান্বিত হওয়ার ভিত্তিতেই তো সফলতার সোপানে আরোহণ করা যায়।

• প্রথম বৈশিষ্ট্য: তাওবাকারী, অর্থাৎ সকল পাপাচার থেকে তাওবা করা ও সর্বদা তাওবার সাথে লেগে থাকা।

আপনি কি অনুরূপ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়েছেন?
হে প্রিয় ভাই, তাওবাকে আপনার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ বানিয়ে নিন, যেমনিভাবে রাসুল তাওবাকে তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছিলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন:
يَا أَيُّهَا النَّاسُ تُوبُوا إِلَى اللَّهِ، فَإِنِّي أَتُوبُ، فِي الْيَوْمِ إِلَيْهِ مِائَةَ مَرَّةٍ
'হে লোকসকল, তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো। কেননা, আমি দৈনিক ১০০ বার তাওবা করি।'

শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া বলেন, 'আল্লাহ তাআলার প্রকৃত উপাসক ও তাঁর খাঁটি প্রেমিকমাত্রই প্রতিটি মুহূর্তে ইসতিগফারের মুখাপেক্ষী।'

• দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য: আল্লাহর নির্ভেজাল দাসত্ব ও তাঁর পূর্ণ আনুগত্যের গুণে গুণান্বিত, চাই তা আবশ্যকীয় আদশে হোক কিংবা অনাবশ্যকীয় মুস্তাহাব ইত্যাদিতে হোক। এভাবেই বান্দা স্বীয় রবের খাঁটি উপাসক ও তাঁর একনিষ্ঠ গোলামদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়।

• তৃতীয় বৈশিষ্ট্য: প্রশংসাকারী, অর্থাৎ যে সুখে-দুঃখে সর্বদা স্বীয় রবের স্তুতি ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে, সাথে সাথে তার ওপর আল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নিয়ামতরাজি এবং তাঁর করুণার কথা অকুণ্ঠ চিত্তে স্বীকার করে। এবং দিবা-রাত্রি জিকিরের মাধ্যমে স্বীয় রবকে স্তুতি ও প্রশংসার মাধ্যমে সন্তুষ্ট করে।

• চতুর্থ বৈশিষ্ট্য: রোজাদার কিংবা মুসাফির; সিয়াহাতুন শব্দের মর্ম হচ্ছে রোজা অথবা জ্ঞানান্বেষণের জন্য ভ্রমণে বের হওয়া। অথবা এর মর্ম হচ্ছে, যাদের অন্তর সর্বদা আল্লাহর পরিচয় লাভ, তাঁর ভালোবাসা ও তাঁর প্রতি সার্বিক আনুগত্য প্রদর্শনের পবিত্র উদ্যানে চষে বেড়োয়।

– তবে বিশুদ্ধতম ব্যাখ্যা হচ্ছে, নৈকট্য লাভের সব স্পটে ভ্রমণ করা, যেমন: হজ, উমরা, জিহাদ, জ্ঞানান্বেষণ ও নিকট আত্মীয়দের কল্যাণকামিতায় তাদের নিকট গমন ইত্যাদি।

• পঞ্চম ও ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্য : যারা রুকু করে ও সিজদাবনত হয়। অর্থাৎ যারা রুকু-সিজদা সম্বিলত নামাজ আদায়ের ব্যাপারে অত্যধিক যত্নশীল।

• সপ্তম ও অষ্টম বৈশিষ্ট্য: সৎ কাজের আদেশকারী। যেখানে আবশ্যকীয় ও অনাবশ্যকীয় মুস্তাহাবজাতীয় সব ধরনের ইবাদত অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অসৎ কাজ থেকে বারণকারী অর্থাৎ যেসব কাজ থেকে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল নিষেধ করেছেন, তা থেকে সৃষ্টিকুলকে বারণ করা।

• নবম বৈশিষ্ট্য: আল্লাহর সীমারেখার যথাযথ সংরক্ষণকারী। অর্থাৎ রাসুল -এর ওপর অবতীর্ণ সব ধরনের বিধিবিধান শিক্ষা করার মাধ্যমে তা বাস্তবায়নে যারা ব্রতী হয় এবং উক্ত কাজে সার্বক্ষণিকভাবে নিজেকে জড়িয়ে রাখে।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

( وَبَشِّرِ الْمُؤْمِنِينَ )

'মুমিনদের সুসংবাদ প্রদান করুন।'

এখানে সুসংবাদটির কথা আল্লাহ তাআলা উহ্য রেখেছেন। যেন পার্থিব-অপার্থিব সব প্রতিদানকে অন্তর্ভুক্ত করে নেয়। অতএব সুসংবাদ তো প্রত্যেক মুমিনের জন্য প্রযোজ্য, কিন্তু এর স্বরূপ ও পরিমাণ তাদের ইমানের বলিষ্ঠতা অনুপাতে হবে।

- ইবনে আব্বাস বলেন, 'যে ব্যক্তি উক্ত নয়টি গুণে গুণান্বিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে অবশ্যই আল্লাহর রাস্তায় বলে গণ্য হবে।' (সূত্র: তাফসিরে সাদি সংক্ষেপিত)

টিকাঃ
১৩৫. সূরা আত-তাওবা : ১১২
১৩৬. সহিহু মুসলিম: ২৭০২
১৩৭. সুরা আল-আহজাব : ৪৭

📘 কীভাবে আল্লাহর প্রিয় হবো > 📄 বিনয়ী ও অনুগত বান্দা হওয়ার উপায়

📄 বিনয়ী ও অনুগত বান্দা হওয়ার উপায়


আল্লাহ তাআলা বলেন:

أَمْ مَنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ
'যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সিজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদত করে, পরকালের ভয় রাখে এবং আপন পালনকর্তার রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না। বলুন, "যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে?" চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান।'

মুফাসসিরিনে কিরাম এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন, }أَمْ مَنْ هُوَ قَانِتُ{ অর্থাৎ যিনি আল্লাহ ও রাসুল -এর বিধিবিধানের ক্ষেত্রে তাঁদের একান্ত অনুগত। }آنَاءَ اللَّيْلِ{ অর্থাৎ রাত্রিবেলায় আপনি যাকে তার রবের সান্নিধ্যে নামাজরত ও সিজদারত এবং নামাজান্তে দাঁড়িয়ে মধুর সুরে তাঁর আয়াতসমূহকে তিলাওয়াতরত অবস্থায় দেখবেন। ঠিক ওই সময়ে আবার তাকে আখিরাতের আজাবের ব্যাপারে ভীত-সন্ত্রস্ত এবং তার মহান রবের নিকট এর থেকে পরিত্রাণের জন্য প্রার্থনারত অবস্থায় দেখবেন। অপরদিকে আবার সে স্বীয় রবের অপার করুণা ও অনুগ্রহের আশাবাদী হয়ে কায়মনোবাক্যে জান্নাত কামনা করে।

• আল্লাহু আকবার! এই দ্বীনের মহত্ত্ব কত বড়! এর যাবতীয় বিধিবিধান কতই না সহজ! আমাদের রব কতই না মহান ও করুণাময়! যিনি আমাদের মতো দুর্বল চিত্তের মুসলিমদের সামান্যতম সৎকর্মের জন্যও কত উত্তম বদলা দিতে পারেন, যেই কাজগুলো করতে কোনো রকমের কষ্ট-ক্লেশ ও খেসারতের ভোগান্তি পোহাতে হয় না। বরং তিনি (আমলের কারণে আমাদের তাঁর) বিশেষ অনুগত বান্দাদের আওতাভুক্ত করে নেন। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন:

مَنْ قَامَ بِعَشْرِ آيَاتٍ لَمْ يُكْتَبْ مِنَ الغَافِلِينَ، وَمَنْ قَامَ بِمِائَةِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ القَانِتِينَ، وَمَنْ قَامَ بِأَلْفِ آيَةٍ كُتِبَ مِنَ الْمُقَنْطِرِينَ
'যে ব্যক্তি (রাতের) নামাজে দশটি আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম গাফিলদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে না। আর যে ব্যক্তি (রাতের) নামাজে একশ আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম অনুগত বান্দাদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে। আর যে ব্যক্তি (রাতের) নামাজে দাঁড়িয়ে এক হাজার আয়াত তিলাওয়াত করবে, তার নাম অফুরন্ত পুরস্কারপ্রাপ্তদের তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হবে।

• বিনয়ী হলো ওই ব্যক্তি, যিনি সার্বিক অকুণ্ঠ আনুগত্যের মূর্তপ্রতীক। قَائِتُ এর ব্যুৎপত্তিগত মর্ম হচ্ছে, যিনি স্বীয় রবের আদেশ পালনে ও তাহাজ্জুদ নামাজে সর্বদা সচেষ্ট।
• مُقَنْطِر এর মর্মার্থ হচ্ছে, অঢেল সম্পদ তথা অধিক প্রতিদানের যোগ্য।
• সুতরাং হে প্রিয় ভাই, আপনি কি সত্যিই উক্ত গুণে নিজেকে সজ্জিত করতে চান? তাহলে ঝটপট এ পদ্ধতিটি গ্রহণে সচেষ্ট হোন। আপনি দশ মিনিটের চেয়ে কম সময়ে আদায় করে ফেলতে পারেন। যেমন, তাহাজ্জুদের দুই বা চার রাকআত নামাজে ১০০ কিংবা একটু বেশি, ছোট ছোট আয়াত সম্বলিত সুরা পাঠ করলেন, ব্যাস! আপনি তো আল্লাহর বিশেষ বিনয়ী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেলেন।
• তাই স্বীয় রবের দাসত্বের গুণে যত বেশি গুণান্বিত হতে পারবেন, আপনার পারলৌকিক প্রভূত উন্নতিও সে অনুপাতে বাড়তে থাকবে।

টিকাঃ
১৭৫. সুরা আজ-জুমার: ৯
১৭৬. সুনানু আবি দাউদ: ১৩৯৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00