📄 ৬৫. নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাওহীদ সংরক্ষণ ও শিরকের মূলোৎপাটন
আব্দুল্লাহ বিন শিখির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার বনী আমেরের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট গেলাম। তখন আমরা বললাম, أَنْتَ سَيِّدُنَا، فَقَالَ: «السيد الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى»، قُلْنَا : وَأَفْضَلُنَا فَضْلًا، وَأَعْظَمُنَا طَوْلًا، فَقَالَ: «قُولُوا بِقَوْلِكُمْ أَوْ بَعْضٍ قَوْلِكُمْ، وَلَا يَسْتَجْرِيَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ».
"আপনি আমাদের সায়্যেদ! (নেতা) তখন রসূল জ্বলা্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আল্লাহ তা'আলাই হচ্ছেন একমাত্র সায়্যেদ! (নেতা) আমরা বললাম: আমাদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আমাদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল। এরপর তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের এ সব কথা অথবা এগুলো থেকে কতিপয় কথা বলে যাও। তবে শয়তান যেন তোমাদেরকে তার ফাঁদে আটকাতে না পারে। ইমাম আবু দাউদ এই হাদীছকে উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, কতিপয় লোক রসূল জ্বলা্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে বললো, “হে আল্লাহর রসূল, হে আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি! হে আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তির পুত্র! হে আমাদের সাইয়্যেদ (নেতা)! হে আমাদের নেতার পুত্র! তখন তিনি বললেন:
«يَا أَيُّهَا النَّاسُ قُولُوا بِقَوْلِكُمْ، وَلَا يَسْتَهْوِيَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ، أَنَا مُحَمَّدٌ عَبْدُ الله وَرَسُولُهُ، مَا أُحِبُّ أَنْ تَرْفَعُونِي فَوْقَ مَنْزِلَتِي الَّتِي أَنْزَلَنِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ».
"হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের কথা বলে যাও। এমন যেন না হয় যে, শয়তান তোমাদেরকে প্রবৃত্তির অনুসরণে লিপ্ত ও বিভ্রান্ত করে ফেলবে এবং পরিণামে তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি শুরু করে দিবে। আমি মুহাম্মদ, আল্লাহর বান্দা এবং তার রসূল। আল্লাহর শপথ! আমি পছন্দ করি না যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে যে মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত করেছেন, তোমরা আমাকে তার উপরে উঠাবে। ইমাম নাসাঈ উত্তম সনদে এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা হতে মানুষকে সাবধান করা হয়েছে।
২) কাউকে সম্বোধন করে أنت سيدنا 'আপনি আমাদের নেতা কিংবা মনিব' বলে সম্বোধন করা হলে তার জবাবে কি বলা উচিত, এখানে তা শিক্ষা দেয়া হয়েছে।
৩) লোকেরা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করে কিছু কথা বলার পর তিনি বলেছিলেন, "শয়তান যেন তোমাদেরকে বাড়াবাড়ির দিকে নিয়ে না যায়"। অথচ তারা তার ব্যাপারে হক কথাই বলেছিল। এর তাৎপর্য অনুধাবন করা উচিত।
৪) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: ما أحب أن ترفعونى فوق منزلتى অর্থাৎ তোমরা আমাকে স্বীয় মর্যাদার উপরে স্থান দাও এটা আমি পছন্দ করি না। এ কথার তাৎপর্য উপলব্ধি করা জরুরী।
📄 ৬৬. আল্লাহ তা‘আলার বড়ত্ব ও উচ্চ মর্যাদার বর্ণনা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ
"তারা আল্লাহ্ মর্যাদা ও ক্ষমতা নিরূপণ করতে পারেনি। ক্বিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুঠোয় (সূরা আয যুমার: ৬৭)।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, جَاءَ حَبْرٌ مِنَ الْأَحْبَارِ إِلَى رَسُولِ الله - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ : يَا مُحَمَّدُ إِنَّا نَجِدُ أَنَّ اللَّهَ يَجْعَلُ السَّمَواتِ عَلَى إِصْبَعِ وَالْأَرَضِينَ عَلَى إِصْبَعِ، وَالشَّجَرَ عَلَى إِصْبَعِ، وَالمَاءَ عَلَى إِصْبَعِ, وَالثَّرَى عَلَى إِصْبَعِ، وَسَائِرَ الخَلْقِ عَلَى إِصْبَعِ، فَيَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ،
فَضَحِكَ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - حَتَّى بَدَتْ نَوَاجِدَهُ، تَصْدِيقًا لِقَوْلِ الحَبْرِ، ثُمَّ قَرَأَ : {وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ} الآية.
"একজন ইয়াহূদী পণ্ডিত রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল: 'হে মুহাম্মাদ! আমরা তাওরাত কিতাবে দেখতে পাই যে, আল্লাহ তা'আলা আকাশ মন্ডলীকে এক আঙ্গুলে, সমস্ত যমীনকে এক আঙ্গুলে, বৃক্ষরাজিকে এক আঙ্গুলে, পানি ও কাদাকে এক আঙ্গুলে এবং সমস্ত সৃষ্টি জগতকে এক আঙ্গুলে রেখে বলবেন, আমিই বাদশাহ। রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইয়াহূদী পন্ডিতের এ কথা শুনে এবং তা সত্যায়ন করে এমন ভাবে হাসলেন যে, তার দন্ত মোবারক দেখা যাচ্ছিল। অতঃপর তিনি এই আয়াত পাঠ করলেন:
وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ وَالْأَرْضُ جَمِيعًا قَبْضَتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ ﴾
"তারা আল্লাহ্ মর্যাদা ও ক্ষমতা মুতাবেক কদর করতে পারেনি। ক্বিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুঠোয় (সূরা আয যুমার: ৬৭)। জ্বহীহ মুসলিমের হাদীছে বর্ণিত আছে,
«وَالْجِبَالَ وَالشَّجَرَ عَلَى إِصْبَعِ، ثُمَّ يَهْزُهُنَّ فَيَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ، أَنَا اللَّهُ».
“পাহাড়-পর্বত এবং বৃক্ষরাজি এক আঙ্গুলে থাকবে। অতঃপর এগুলোকে ঝাকুনি দিয়ে তিনি বলবেন: 'আমি রাজাধিরাজ, আমিই আল্লাহ”। জ্বহীহ বুখারীর অন্য এক বর্ণনায় আছে:
يَجْعَلُ السَّمَوَاتِ عَلَى إِصْبَعِ، وَالمَاءَ وَالثَّرَى عَلَى إِصْبَعِ، وَسَائِرَ الْخَلْقِ عَلَى إِصْبَعِ».
"আকাশ মণ্ডলীকে এক আঙ্গুলে রাখবেন। পানি এবং কাদাকে এক আঙ্গুলে রাখবেন। আরেক আঙ্গুলে রাখবেন সমস্ত সৃষ্টিকে”।
জ্বহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ( থেকে মারফু সূত্রে বর্ণিত, রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
يَطْوِي اللَّهُ السَّمَوَاتِ يَوْمَ القِيَامَةِ، ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِيَدِهِ الْيُمْنَى، ثُمَّ يَقُولُ: أَنَا الْمَلِكُ، أَيْنَ الْجَبَّارُونَ؟ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ؟ ثُمَّ يَطْوِي الأَرَضِينَ السَبْعَ, ثُمَّ يَأْخُذُهُنَّ بِشِمَالِهِ، ثُمَّ يَقُولُ : أَنَا المَلِكُ، أَيْنَ الْجَبَّارُونَ؟ أَيْنَ الْمُتَكَبِّرُونَ؟ ».
"কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা আকাশমণ্ডলীকে ভাঁজ করবেন। অতঃপর তা ডান হাতে নিবেন। অতঃপর বলবেন: আমিই বাদশাহ। দুনিয়ার প্রতাপশালীরা আজ কোথায়? দুনিয়ার অহংকারীরা আজ কোথায়? অতঃপর সাত যমীনকে ভাঁজ করবেন এবং এগুলোকে বাম হাতে নিবেন। অতঃপর বলবেন: "আমি হচ্ছি রাজাধিরাজ। দুনিয়ার অত্যাচারীরা আজ কোথায়? দুনিয়ার অহংকারীরা আজ কোথায়?"
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: «مَا السَّمَوَاتُ السَّبْعُ وَالْأَرَضُونَ السَّبْعُ فِي كَفِ الرَّحْمَنِ إِلَّا كَخَرْدَلَةٍ فِي يَدِ أَحَدِكُمْ».
"সাত আসমান ও সাত যমীন আল্লাহ তা'আলার হাতের তালুতে ঠিক যেন তোমাদের কারো হাতে একটা সরিষার দানার মত।
ইবনে জারীর তাবারী (রহঃ) স্বীয় তাফসীরে বর্ণনা করেন, আমার কাছে বর্ণনা করেছেন ইউনুস। ইউনুস বলেন: আমাকে সংবাদ দিয়েছেন ইবনে ওয়াহাব। ওয়াহাব বলেন: ইবনে যায়েদ তার পিতা হতে বর্ণনা করেছেন। ইবনে যায়েদ বলেন: "আমার পিতা আমাকে বলেন, রসূল জ্বলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«مَا السَّمَوَاتُ السَّبْعُ فِي الكُرْسِي إِلَّا كَدَرَاهِمَ سَبْعَةٍ أُلْقِيَتْ فِي تُرْسٍ».
"কুরসীর মধ্যে সাত আসমানের অবস্থান ঠিক তেমনি যেমন একটি ঢালের মধ্যে নিক্ষিপ্ত সাতটি দিরহামের অবস্থান"।
তিনি আরো বলেন: 'আবু যার (রাঃ) বলেছেন: 'আমি রসূল জ্বলাল্লাহু আলাইহি ওয়াসালামকে এ কথা বলতে শুনেছি,
«مَا الكُرْسِي فِي العَرْشِ إِلَّا كَحَلْقَةٍ مِنْ حَدِيدٍ أُلْقِيَتْ بَيْنَ ظَهْرَيْ فَلَاةٍ مِنَ الْأَرْضِ».
"আরশের মধ্যে কুরসীর অবস্থান ঠিক সে রকমই যেমন ভূপৃষ্ঠের কোন উন্মুক্ত ময়দানে পড়ে থাকা একটি আংটি”।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ () থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন: بَيْنَ السَّمَاءِ الدُّنْيَا وَالَّتِي تَلِيهَا خَمْسُ مِئَةِ عَامٍ، وَبَيْنَ كُلِّ سَمَاءٍ وَسَمَاءِ خَمْسُ مِئَةِ عَامٍ، وَبَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ وَالكُرْسِي خَمْسٌ مِئَةِ عَامٍ، وَبَيْنَ الكُرْسِي وَالْمَاءِ خَمْسُ مِئَةِ عَامٍ، وَالْعَرْشُ فَوْقَ المَاءِ، واللهُ فَوْقَ العَرْشِ، لَا يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ أَعْمَالِكُمْ».
"দুনিয়ার আকাশ এবং এর পরবর্তী আকাশের মধ্যে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ' বছরের পথ। আর এক আকাশ থেকে অন্য আকাশের দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছরের পথ। এমনিভাবে সপ্তমাকাশ এবং কুরসীর মধ্যে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছরের পথ। কুরসী এবং পানির মাঝখানে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছরের। আরশ হচ্ছে পানির উপরে। আর আল্লাহ তা'আলা আরশের উপরে। তোমাদের আমলের কোন কিছুই তার কাছে গোপন নয়"।
হাম্মাদ বিন সালামা হতে এই হাদীছ ইবনে মাহদী, ইবনে মাহদী বর্ণনা করেন আসেম হতে, আসেম বর্ণনা করেন যির্ হতে, তিনি বর্ণনা করেন আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ () হতে। অনুরূপ বর্ণনা করেন মাসউদী আসেম হতে, তিনি আবি ওয়ায়েল হতে এবং তিনি আবদুলাহ বিন মাসউদ ( হতে বর্ণনা করেছেন।
ইমাম যাহাবী () উপরোক্ত সনদ বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন: অনেক সনদে এই বর্ণনা এসেছে।
আব্বাস বিন আবদুল মুত্তালিব () হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার জিজ্ঞেস করলেন:
«هَلْ تَدْرُونَ كَمْ بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ؟ قُلْنَا : اللهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ: بَيْنَهُمَا مَسِيرَةُ خَمْسِ مِئَةِ سَنَةٍ، وَمِنْ كُلِّ سَمَاءٍ إِلَى سَمَاءِ مَسيرَةُ خَمْسِ مِئَةِ سَنَةٍ، وَكِথَفُ كُلِّ سَمَاءٍ مَسِيرَةُ خَمْسِ مِئَةِ سَنَةٍ، وَبَيْنَ السَّمَاءِ السَّابِعَةِ وَالعَرْشِ بَحْرٌ ، بَيْنَ أَسْفَلِهِ وَأَعْلَاهُ كَمَا بَيْنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ، وَاللَّهُ تَعَالَى فَوْقَ ذَلِكَ، وَلَيْسَ يَخْفَى عَلَيْهِ شَيْءٌ مِنْ أَعْمَالِ بَنِي آدَمَ».
"তোমরা কি জানো, আসমান ও যমীনের মধ্যে দূরত্ব কত?” আমরা বললাম: আল্লাহ ও তার রসূলই সবচেয়ে ভাল জানেন। তিনি বললেন, "আসমান ও যমীনের মাঝে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছরের পথ। এক আকাশ থেকে অন্য আকাশের দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ' বছরের পথ। প্রতিটি আকাশের ঘনত্বও (পুরুত্ব) পাঁচশ' বছরের পথ। সপ্তমাকাশ ও আরশের মধ্যখানে রয়েছে একটি সাগর। যার উপরিভাগ ও তলদেশের মাঝে দূরত্ব হচ্ছে আকাশ ও যমীনের মধ্যকার দূরত্বের সমান। আল্লাহ তা'আলা এর উপরে রয়েছেন। আদম সন্তানের কোন কর্মকান্ডই তার অজানা নয়"। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) ও অন্যান্যরা এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) এ অধ্যায়ে আলোচিত والارض جميعا قبضته يوم القيامة (অর্থাৎ কিয়ামতের দিন সমগ্র পৃথিবী থাকবে তার হাতের মুঠোয়।
২) এ অধ্যায়ে আলোচিত জ্ঞান ও এ সম্পর্কিত জ্ঞানের চর্চা তথা আল্লাহর ছিফাত সংক্রান্ত জ্ঞান রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগের ইয়াহূদীদের মধ্যেও বিদ্যমান ছিলো। তারা এ জ্ঞানের না তাবীল (অপব্যাখ্যা) করেছে এবং না অস্বীকার করেছে।
৩) ইয়াহূদী পণ্ডিত ব্যক্তি যখন ক্বিয়ামতের দিনে আল্লাহর ক্ষমতা সংক্রান্ত কথা বলল, তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথাকে সত্যায়ন করলেন এবং এর সমর্থনে কুরআনের আয়াতও নাযিল হলো।
৪) ইয়াহূদী পণ্ডিত কর্তৃক আল্লাহর ক্ষমতা সম্পর্কিত মহাজ্ঞানের কথা উল্লেখ করা হলে রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাসির উদ্রেক হওয়ার রহস্য জানা গেল।
৫) আল্লাহ তা'আলার দু'হস্ত মোবারকের সুস্পষ্ট উল্লেখ। আকাশমণ্ডলী তার ডান হাতে, আর সমগ্র যমীন তার অপর হাতে থাকবে।
৬) অপর হাতকে বাম হাত বলে নামকরণ করার সুস্পষ্ট ঘোষণা।
৭) ক্বিয়ামতের দিন অত্যাচারী এবং অহংকারীদের প্রতি আল্লাহর শান্তির উল্লেখ।
৮) “তোমাদের কারো হাতে একটা সরিষা দানার মত" রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এ কথার তাৎপর্য। অর্থাৎ কিয়ামতের দিন আল্লাহর হাতের তালুতে সাত আসমান ও সাত যমীন সেভাবেই থাকবে, যেভাবে থাকে কোন মানুষের হাতের সরিষার একটি দানা।
৯) আকাশের তুলনায় আল্লাহর কুরসী অনেক বিশাল।
১০) কুরসীর তুলনায় আরশের বিশালতার উল্লেখ।
১১) কুরসী এবং পানি থেকে আরশ সম্পূর্ণ আলাদা।
১২) প্রতিটি আকাশের মধ্যে দূরত্ব ও ব্যবধানের উল্লেখ।
১৩) সপ্তমাকাশ ও কুরসীর মধ্যে ব্যবধান।
১৪) কুরসী এবং পানির মধ্যে দূরত্ব।
১৫) আরশের অবস্থান পানির উপর।
১৬) আল্লাহ তা'আলা আরশে সমুন্নত।
১৭) আসমান ও যমীনের মধ্যকার দূরত্বের উল্লেখ।
১৮) প্রতিটি আকাশের ঘনত্ব (পুরুত্ব) পাঁচশ বছরের পথ।
১৯) আকাশমণ্ডলীর উপরে যে সমুদ্র রয়েছে তার ঊর্ধ্বদেশ ও তলদেশের মধ্যে দূরত্ব হচ্ছে পাঁচশ বছরের পথ। (আল্লাহই সর্বাধিক অবগত রয়েছেন) والحمد لله رب العلمين وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين।