📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৬২. আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে

📄 ৬২. আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ﴾
“আর যখনই তোমরা আল্লাহর সাথে কোন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং নিজেদের কসম দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না। তোমরা তো আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত”। (সূরা আন নাহল: ৯১)
বুরাইদাহ  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْ سَرِيَّةٍ، أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا.
فَقَالَ: «اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ. اغْزُوا، وَلا تَغُلُّوا, وَلا تَغْدِرُوا, وَلا تُمَثِّلُوا، وَلا تَقْتُلُوا وَلِيدًا. وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلاثِ خِصَالٍ (أَوْ: خِلالٍ)، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ.
ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ. وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ، فَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا مِنْهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ، يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ تَعَالَى الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ، إِلا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ.
فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْأَلْهُمُ الْجِزْيَةَ، فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ. وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ، وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ، فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّتَكُمْ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ.
وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، فَلا تُنْزِلْهُمْ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ، فَإِنَّكَ لا تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় কিংবা ছোট কোন যুদ্ধে যখন সেনবাহিনীতে কাউকে আমীর বা সেনাপতি নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে ‘তাকওয়ার’ উপদেশ দিতেন এবং তার সাথে যে সব মুসলিম থাকতো তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করার হুকুম করতেন। অতঃপর তিনি বলতেন,
“তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। তোমরা যুদ্ধ করো, কিন্তু খিয়ানত করো না (গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করো না), বিশ্বাস ঘাতকতা করো না, তোমরা শত্রুর নাক-কান কেটো না বা অঙ্গ বিকৃত করো না এবং কোন শিশুকে হত্যা করো না। তুমি যখন তোমার কোন মুশরিক শত্রু বাহিনীর মোকাবেলা করবে, তখন তিনটি বিষয়ের দিকে তাদেরকে আহ্বান জানাবে। যে কোন একটি বিষয়ে তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দিলে তা গ্রহণ করে নিও, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে দিও। তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করো। যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দেয়, তাহলে তাদেরকে গ্রহণ করে নিও। এরপর তাদেরকে তাদের বাড়ী-ঘর ছেড়ে দারুল মুহাজিরীনে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাও। হিজরত করলে তাদেরকে একথা জানিয়ে দাও, ‘মুহাজিরদের জন্য যে অধিকার রয়েছে, তাদেরও সে অধিকার আছে, সাথে সাথে মুহাজিরদের যা করণীয় তাদেরও তাই করণীয়।
আর যদি তারা হিজরতের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে, তাহলে তাদেরকে বলে দিও যে, তারা গ্রাম্য সাধারণ মুসলিমের মর্যাদা পাবে। তাদের উপর আল্লাহর হুকুম-আহকাম জারি হবে। তবে ‘গনীমত’ (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) এবং ‘ফাই’ (যুদ্ধ ছাড়াই কাফের-মুশরিকদের নিকট থেকে যেই সম্পদ অর্জিত হয় তা) থেকে তারা কোন অংশ পাবে না। তবে তারা যদি মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে, সে কথা ভিন্ন। অর্থাৎ তখন গনীমতের অংশ পাবে।
তারা যদি ইসলামে দাখিল হতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের কাছে জিযিয়া (কর) দাবি করো। তারা যদি কর দিতে সম্মত হয়, তবে তা গ্রহণ করো, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করো।
কিন্তু যদি কর দিতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
অতঃপর নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমীরকে নছীহত স্বরূপ বলতেন: তুমি যখন কোন দুর্গের লোকদেরকে অবরোধ করবে, তখন দুর্গের লোকেরা যদি চায় যে, তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাযত ও নিরাপত্তায়) রেখে দিবে, তবে তুমি কিন্তু তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাজতে) রাখবে না বরং তোমার এবং তোমার সঙ্গী-সাথীদের যিম্মায় রেখে দিও। কারণ, তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করা আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার চেয়ে অধিক সহজ।
আর তুমি যখন কোন দুর্গের অধিবাসীদেরকে অবরোধ করবে, তখন তারা যদি চায়, তুমি তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে, তাহলে তুমি কখনই আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে না; বরং তুমি তাদেরকে তোমার নিজের হুকুম মানতে বাধ্য করবে। কারণ তুমি জানো না যে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফায়সালা করতে পারবে কি না।”203
ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর যিম্মা, নবীর যিম্মা এবং মুমিনদের যিম্মার মধ্যে পার্থক্য। আল্লাহর যিম্মা (অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার অপরাধ মানুষের যিম্মা ভঙ্গ করার অপরাধের চেয়ে অনেক বড়।
২) দু’টি বিপদজনক বিষয়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক বিষয়টি গ্রহণ করার প্রতি দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৩) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ: তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো।
৪) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরো নির্দেশ হচ্ছে, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৫) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুকুম: তুমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৬) আল্লাহর হুকুম এবং আলিমদের হুকুমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৭) প্রয়োজন বশতঃ ছাহাবীর জন্য এমন ফায়সালা করা জায়েয, যার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয় যে, তা আল্লাহর হুকুমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না।

টিকাঃ
203. ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৩১।

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ﴾
“আর যখনই তোমরা আল্লাহর সাথে কোন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং নিজেদের কসম দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না। তোমরা তো আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত”। (সূরা আন নাহল: ৯১)
বুরাইদাহ  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْ سَرِيَّةٍ، أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا.
فَقَالَ: «اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ. اغْزُوا، وَلا تَغُلُّوا, وَلا تَغْدِرُوا, وَلا تُمَثِّلُوا، وَلا تَقْتُلُوا وَلِيدًا. وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلاثِ خِصَالٍ (أَوْ: خِلالٍ)، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ.
ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ. وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ، فَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا مِنْهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ، يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ تَعَالَى الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ، إِلا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ.
فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْأَلْهُمُ الْجِزْيَةَ، فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ. وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ، وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ، فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّتَكُمْ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ.
وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، فَلا تُنْزِلْهُمْ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ، فَإِنَّكَ لا تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় কিংবা ছোট কোন যুদ্ধে যখন সেনবাহিনীতে কাউকে আমীর বা সেনাপতি নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে ‘তাকওয়ার’ উপদেশ দিতেন এবং তার সাথে যে সব মুসলিম থাকতো তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করার হুকুম করতেন। অতঃপর তিনি বলতেন,
“তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। তোমরা যুদ্ধ করো, কিন্তু খিয়ানত করো না (গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করো না), বিশ্বাস ঘাতকতা করো না, তোমরা শত্রুর নাক-কান কেটো না বা অঙ্গ বিকৃত করো না এবং কোন শিশুকে হত্যা করো না। তুমি যখন তোমার কোন মুশরিক শত্রু বাহিনীর মোকাবেলা করবে, তখন তিনটি বিষয়ের দিকে তাদেরকে আহ্বান জানাবে। যে কোন একটি বিষয়ে তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দিলে তা গ্রহণ করে নিও, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে দিও। তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করো। যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দেয়, তাহলে তাদেরকে গ্রহণ করে নিও। এরপর তাদেরকে তাদের বাড়ী-ঘর ছেড়ে দারুল মুহাজিরীনে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাও। হিজরত করলে তাদেরকে একথা জানিয়ে দাও, ‘মুহাজিরদের জন্য যে অধিকার রয়েছে, তাদেরও সে অধিকার আছে, সাথে সাথে মুহাজিরদের যা করণীয় তাদেরও তাই করণীয়।
আর যদি তারা হিজরতের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে, তাহলে তাদেরকে বলে দিও যে, তারা গ্রাম্য সাধারণ মুসলিমের মর্যাদা পাবে। তাদের উপর আল্লাহর হুকুম-আহকাম জারি হবে। তবে ‘গনীমত’ (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) এবং ‘ফাই’ (যুদ্ধ ছাড়াই কাফের-মুশরিকদের নিকট থেকে যেই সম্পদ অর্জিত হয় তা) থেকে তারা কোন অংশ পাবে না। তবে তারা যদি মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে, সে কথা ভিন্ন। অর্থাৎ তখন গনীমতের অংশ পাবে।
তারা যদি ইসলামে দাখিল হতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের কাছে জিযিয়া (কর) দাবি করো। তারা যদি কর দিতে সম্মত হয়, তবে তা গ্রহণ করো, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করো।
কিন্তু যদি কর দিতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
অতঃপর নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমীরকে নছীহত স্বরূপ বলতেন: তুমি যখন কোন দুর্গের লোকদেরকে অবরোধ করবে, তখন দুর্গের লোকেরা যদি চায় যে, তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাযত ও নিরাপত্তায়) রেখে দিবে, তবে তুমি কিন্তু তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাজতে) রাখবে না বরং তোমার এবং তোমার সঙ্গী-সাথীদের যিম্মায় রেখে দিও। কারণ, তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করা আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার চেয়ে অধিক সহজ।
আর তুমি যখন কোন দুর্গের অধিবাসীদেরকে অবরোধ করবে, তখন তারা যদি চায়, তুমি তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে, তাহলে তুমি কখনই আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে না; বরং তুমি তাদেরকে তোমার নিজের হুকুম মানতে বাধ্য করবে। কারণ তুমি জানো না যে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফায়সালা করতে পারবে কি না।”203
ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর যিম্মা, নবীর যিম্মা এবং মুমিনদের যিম্মার মধ্যে পার্থক্য। আল্লাহর যিম্মা (অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার অপরাধ মানুষের যিম্মা ভঙ্গ করার অপরাধের চেয়ে অনেক বড়।
২) দু’টি বিপদজনক বিষয়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক বিষয়টি গ্রহণ করার প্রতি দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৩) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ: তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো।
৪) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরো নির্দেশ হচ্ছে, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৫) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুকুম: তুমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৬) আল্লাহর হুকুম এবং আলিমদের হুকুমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৭) প্রয়োজন বশতঃ ছাহাবীর জন্য এমন ফায়সালা করা জায়েয, যার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয় যে, তা আল্লাহর হুকুমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না।

টিকাঃ
203. ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৩১।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৬৩. আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়ে কসম করার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে

📄 ৬৩. আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়ে কসম করার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে


যুনদুব বিন আব্দুল্লাহ  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«قَالَ رَجُلٌ: وَاللَّهِ لا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلانٍ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لا أَغْفِرَ لِفُلانٍ؟ إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ».
“এক ব্যক্তি বললো: “আল্লাহর কসম, অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন: কে এই ব্যক্তি, যে আমার নামে কসম করে বলে যে, ‘আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি অমুককেই ক্ষমা করে দিলাম। আর তোমার (কসমকারীর) আমল বাতিল করে দিলাম”। ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।204
আবু হুরায়রা  হতে বর্ণিত হাদীছে এসেছে, “যে ব্যক্তি কসম করে উল্লেখিত কথা বলেছিল, সে ছিল একজন আবেদ। আবু হুরায়রা  বলেন: ঐ ব্যক্তি একটি মাত্র কথার মাধ্যমে তার দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়টাই বরবাদ করে ফেলেছে।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয় গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়ে কসম খাওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন বিষয়ে মাতব্বরী করার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করার আদেশ করা হয়েছে।
২) আমাদের কারো জাহান্নাম তার জুতায় ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।
৩) জান্নাতও অনুরূপ মানুষের খুবই নিকটবর্তী।
৪) এ অধ্যায়ে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঐ কথার সমর্থন মিলে যেখানে তিনি বলেছেন: একজন লোক কখনো মাত্র এমন একটি কথা বলে, যার মাধ্যমে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে যায়।

টিকাঃ
204. ছহীহ মুসলিম হা/২৬২১।

যুনদুব বিন আব্দুল্লাহ  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«قَالَ رَجُلٌ: وَاللَّهِ لا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلانٍ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لا أَغْفِرَ لِفُلانٍ؟ إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ».
“এক ব্যক্তি বললো: “আল্লাহর কসম, অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন: কে এই ব্যক্তি, যে আমার নামে কসম করে বলে যে, ‘আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি অমুককেই ক্ষমা করে দিলাম। আর তোমার (কসমকারীর) আমল বাতিল করে দিলাম”। ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।204
আবু হুরায়রা  হতে বর্ণিত হাদীছে এসেছে, “যে ব্যক্তি কসম করে উল্লেখিত কথা বলেছিল, সে ছিল একজন আবেদ। আবু হুরায়রা  বলেন: ঐ ব্যক্তি একটি মাত্র কথার মাধ্যমে তার দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়টাই বরবাদ করে ফেলেছে।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয় গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়ে কসম খাওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন বিষয়ে মাতব্বরী করার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করার আদেশ করা হয়েছে।
২) আমাদের কারো জাহান্নাম তার জুতায় ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।
৩) জান্নাতও অনুরূপ মানুষের খুবই নিকটবর্তী।
৪) এ অধ্যায়ে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঐ কথার সমর্থন মিলে যেখানে তিনি বলেছেন: একজন লোক কখনো মাত্র এমন একটি কথা বলে, যার মাধ্যমে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে যায়।

টিকাঃ
204. ছহীহ মুসলিম হা/২৬২১।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৬৪. আল্লাহ তা‘আলাকে সৃষ্টির কাছে সুপারিশকারী বানানো যাবে না

📄 ৬৪. আল্লাহ তা‘আলাকে সৃষ্টির কাছে সুপারিশকারী বানানো যাবে না


যুবাইর বিন মুতইম  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جَهِكَتِ الأَنْفُسُ، وَجَاعَ الْعِيَالُ وَهَلَكَتِ الأَمْوَالُ، فَاسْتَسْقِ لَنَا رَبَّكَ, فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِاللَّهِ عَلَيْكَ وَبِكَ عَلَى اللَّهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ؟: «سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ! فَمَا زَالَ يُسَبِّحُ حَتَّى عُرِفَ ذَلِكَ فِي وُجُوهِ أَصْحَابِهِ. ثُمَّ قَالَ: وَيْحَكَ! أَتَدْرِي مَا اللَّهُ؟ إِنَّ شَأْنَ اللَّهِ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ، إِنَّهُ لا يُسْتَشْفَعُ بِاللَّهِ عَلَى أَحَدٍ»
“এক গ্রাম্য লোক নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল: ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! লোকেরা দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে গেছে, শিশু-পরিবার ক্ষুধার্ত হয়েছে, সম্পদ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। অতএব আপনার রবের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করুন। আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ করছি, আর আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ পেশ করছি। এ কথা শুনে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বার বার বলতে লাগলেন: সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! এভাবে তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতেই থাকলেন। তার ছাহাবায়ে কেরামের চেহারায় রাগের প্রভাব দেখা গেল। অতঃপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার ধ্বংস হোক, আল্লাহর মর্যাদা কত বড়, তা কি তুমি জানো? তুমি যা মনে করছো আল্লাহর মর্যাদা ও শান এর চেয়ে অনেক বেশী। কোন সৃষ্টির কাছেই আল্লাহর সুপারিশ পেশ করা যায় না”। ইমাম আবু দাউদ এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।205
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়
১) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তির प्रति বিরক্তি প্রকাশ করেছেন, যে বলেছিল আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ পেশ করছি।
২) তার ঐ কথাতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন, যার প্রভাব ছাহাবীদের চেহারাতেও প্রকাশিত হয়েছিল।
৩) তবে লোকটি যখন এই কথা বলেছিল, فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِكَ عَلَى اللَّهِ “আমরা আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ কামনা করছি”, তখন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথার প্রতিবাদ করেননি। কেননা এর অর্থ হচ্ছে আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন।
৪) এখানে ‘সুবহানাল্লাহ’ এর ব্যাখ্যার প্রতিও সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ অশোভনীয় এবং আশ্চর্যজনক কিছু শুনে ও দেখে এই বাক্য পাঠ করা উচিত।
৫) মুসলিমগণ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য দু‘আ করাতেন।

টিকাঃ
205. যঈফ: আবু দাউদ হা/৪৭২৬, মিশকাতুল মাসাবীহ, হা/৫৭২৭।

যুবাইর বিন মুতইম  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جَهِكَتِ الأَنْفُسُ، وَجَاعَ الْعِيَالُ وَهَلَكَتِ الأَمْوَالُ، فَاسْتَسْقِ لَنَا رَبَّكَ, فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِاللَّهِ عَلَيْكَ وَبِكَ عَلَى اللَّهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ؟: «سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ! فَمَا زَالَ يُسَبِّحُ حَتَّى عُرِفَ ذَلِكَ فِي وُجُوهِ أَصْحَابِهِ. ثُمَّ قَالَ: وَيْحَكَ! أَتَدْرِي مَا اللَّهُ؟ إِنَّ شَأْنَ اللَّهِ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ، إِنَّهُ لا يُسْتَشْفَعُ بِاللَّهِ عَلَى أَحَدٍ»
“এক গ্রাম্য লোক নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল: ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! লোকেরা দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে গেছে, শিশু-পরিবার ক্ষুধার্ত হয়েছে, সম্পদ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। অতএব আপনার রবের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করুন। আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ করছি, আর আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ পেশ করছি। এ কথা শুনে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বার বার বলতে লাগলেন: সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! এভাবে তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতেই থাকলেন। তার ছাহাবায়ে কেরামের চেহারায় রাগের প্রভাব দেখা গেল। অতঃপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার ধ্বংস হোক, আল্লাহর মর্যাদা কত বড়, তা কি তুমি জানো? তুমি যা মনে করছো আল্লাহর মর্যাদা ও শান এর চেয়ে অনেক বেশী। কোন সৃষ্টির কাছেই আল্লাহর সুপারিশ পেশ করা যায় না”। ইমাম আবু দাউদ এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।205
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়
১) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তির प्रति বিরক্তি প্রকাশ করেছেন, যে বলেছিল আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ পেশ করছি।
২) তার ঐ কথাতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন, যার প্রভাব ছাহাবীদের চেহারাতেও প্রকাশিত হয়েছিল।
৩) তবে লোকটি যখন এই কথা বলেছিল, فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِكَ عَلَى اللَّهِ “আমরা আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ কামনা করছি”, তখন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথার প্রতিবাদ করেননি। কেননা এর অর্থ হচ্ছে আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন।
৪) এখানে ‘সুবহানাল্লাহ’ এর ব্যাখ্যার প্রতিও সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ অশোভনীয় এবং আশ্চর্যজনক কিছু শুনে ও দেখে এই বাক্য পাঠ করা উচিত।
৫) মুসলিমগণ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য দু‘আ করাতেন।

টিকাঃ
205. যঈফ: আবু দাউদ হা/৪৭২৬, মিশকাতুল মাসাবীহ, হা/৫৭২৭।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৬৫. নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাওহীদ সংরক্ষণ ও শিরকের মূলোৎপাটন

📄 ৬৫. নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাওহীদ সংরক্ষণ ও শিরকের মূলোৎপাটন


আব্দুল্লাহ বিন শিখির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: একবার বনী আমেরের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট গেলাম। তখন আমরা বললাম, أَنْتَ سَيِّدُنَا، فَقَالَ: «السيد الله تَبَارَكَ وَتَعَالَى»، قُلْنَا : وَأَفْضَلُنَا فَضْلًا، وَأَعْظَمُنَا طَوْلًا، فَقَالَ: «قُولُوا بِقَوْلِكُمْ أَوْ بَعْضٍ قَوْلِكُمْ، وَلَا يَسْتَجْرِيَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ».
"আপনি আমাদের সায়্যেদ! (নেতা) তখন রসূল জ্বলা্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: আল্লাহ তা'আলাই হচ্ছেন একমাত্র সায়্যেদ! (নেতা) আমরা বললাম: আমাদের মধ্যে মর্যাদার দিক থেকে আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ এবং আমাদের মধ্যে সর্বাধিক দানশীল। এরপর তিনি বললেন: তোমরা তোমাদের এ সব কথা অথবা এগুলো থেকে কতিপয় কথা বলে যাও। তবে শয়তান যেন তোমাদেরকে তার ফাঁদে আটকাতে না পারে। ইমাম আবু দাউদ এই হাদীছকে উত্তম সনদে বর্ণনা করেছেন।
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, কতিপয় লোক রসূল জ্বলা্লল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে লক্ষ্য করে বললো, “হে আল্লাহর রসূল, হে আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তি! হে আমাদের সর্বোত্তম ব্যক্তির পুত্র! হে আমাদের সাইয়্যেদ (নেতা)! হে আমাদের নেতার পুত্র! তখন তিনি বললেন:
«يَا أَيُّهَا النَّاسُ قُولُوا بِقَوْلِكُمْ، وَلَا يَسْتَهْوِيَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ، أَنَا مُحَمَّدٌ عَبْدُ الله وَرَسُولُهُ، مَا أُحِبُّ أَنْ تَرْفَعُونِي فَوْقَ مَنْزِلَتِي الَّتِي أَنْزَلَنِي اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ».
"হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের কথা বলে যাও। এমন যেন না হয় যে, শয়তান তোমাদেরকে প্রবৃত্তির অনুসরণে লিপ্ত ও বিভ্রান্ত করে ফেলবে এবং পরিণামে তোমরা আমার ব্যাপারে বাড়াবাড়ি শুরু করে দিবে। আমি মুহাম্মদ, আল্লাহর বান্দা এবং তার রসূল। আল্লাহর শপথ! আমি পছন্দ করি না যে, আল্লাহ তা'আলা আমাকে যে মর্যাদার স্থানে অধিষ্ঠিত করেছেন, তোমরা আমাকে তার উপরে উঠাবে। ইমাম নাসাঈ উত্তম সনদে এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করা হতে মানুষকে সাবধান করা হয়েছে।
২) কাউকে সম্বোধন করে أنت سيدنا 'আপনি আমাদের নেতা কিংবা মনিব' বলে সম্বোধন করা হলে তার জবাবে কি বলা উচিত, এখানে তা শিক্ষা দেয়া হয়েছে।
৩) লোকেরা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর প্রতি সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন করে কিছু কথা বলার পর তিনি বলেছিলেন, "শয়তান যেন তোমাদেরকে বাড়াবাড়ির দিকে নিয়ে না যায়"। অথচ তারা তার ব্যাপারে হক কথাই বলেছিল। এর তাৎপর্য অনুধাবন করা উচিত।
৪) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: ما أحب أن ترفعونى فوق منزلتى অর্থাৎ তোমরা আমাকে স্বীয় মর্যাদার উপরে স্থান দাও এটা আমি পছন্দ করি না। এ কথার তাৎপর্য উপলব্ধি করা জরুরী।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00