📄 ৬১. বেশী বেশী কসম করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾
“তোমরা যে সমস্ত অর্থহীন কসম খেয়ে থাকো, সেসবের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না। কিন্তু তোমরা জেনেশুনে যেসব কসম খাও সেগুলোর উপর তিনি অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। (এ ধরনের কসম ভেঙে ফেলার) কাফফারা এই যে, দশজন মিসকীনকে এমন মধ্যম মানের খাদ্য প্রদান করবে; যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে খেতে দিয়ে থাকো অথবা তাদেরকে কাপড় পরাও অথবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন ছিয়াম রাখবে। এ হচ্ছে তোমাদের কসমের কাফফারা যখন শপথ করে তা ভেঙে ফেলো। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ সংরক্ষণ করো। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশনাবলী বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও”। (সূরা আল মায়িদা: ৮৯)
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একথা বলতে শুনেছি,
«الْحَلِفُ مَنْفَقَةٌ لِلسِّلْعَةِ، مَمْحَقَةٌ لِلْكَسْبِ».
“মিথ্যা শপথ ব্যবসায়িক পণ্য দ্রুত বিক্রি হতে সাহায্য করে ঠিকই; কিন্তু তা লাভ ধ্বংসকারী।” ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।200
সালমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«ثَلاثَةٌ لا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ: أُشَيْمِطٌ زَانٍ، وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ، وَرَجُلٌ جَعَلَ اللَّهَ بِضَاعَتَهُ، لا يَشْتَرِي إِلا بِيَمِينِهِ، وَلا يَبِيعُ إِلا بِيَمِينِهِ»
“তিন শ্রেণীর লোকদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে গুনাহ হতে পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তারা হচ্ছে, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী গরীব, আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ব্যবসার পণ্য বানিয়েছে। আল্লাহর নামে কসম করা ব্যতীত সে পণ্য ক্রয় করে না, কসম করা ব্যতীত পণ্য বিক্রিও করে না”। ইমাম তাবরানী ছহীহ সনদে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।201
ছহীহ বুখারীতে ইমরান বিন হুসাইন হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، قَالَ عِمْرَانُ: فَلا أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا، ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذِرُونَ وَلا يُوفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ».
“আমার উম্মতের সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার ছাহাবীগণ। অতঃপর উত্তম হচ্ছে তাদের পরবর্তীতে আগমনকারীগণ। অতঃপর উত্তম হচ্ছে যারা তাদের পরবর্তীতে আসবে। ইমরান বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরে দুই যুগের কথা বলেছেন নাকি তিন যুগের কথা বলেছেন তা আমি বলতে পারছি না। অতঃপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর তোমাদের পরে এমন সব লোক আসবে, যাদেরকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা না হলেও সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এগিয়ে আসবে, তারা খিয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না। তারা মানত করবে, কিন্তু তা পূরণ করবে না। আর তাদের মধ্যে মোটা মানুষ দেখা দিবে”।202
ছহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ».
“সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার যুগের মানুষ। এরপর উত্তম হলো এর পরবর্তীতে আগমনকারী লোকেরা। তারপর উত্তম হলো যারা তাদের পরবর্তীতে আসবে। অতঃপর এমন এক জাতির আগমন ঘটবে, যাদের কারো সাক্ষ্য কসমের আগেই হয়ে যাবে, আবার কখনো কসম সাক্ষ্যের আগেই হয়ে যাবে”। অর্থাৎ কসম ও সাক্ষ্যের মধ্যে কোন মিল থাকবে না। কসম ও সাক্ষ্য উভয়টাই মিথ্যা হবে।
ইবরাহীম নখয়ী বলেন:
«كَانُوا يَضْرِبُونَنَا عَلَى الشَّهَادَةِ وَالْعَهْدِ وَنَحْنُ صِغَارٌ».
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন সাক্ষ্য, শপথ এবং ওয়াদা-অঙ্গীকারের হিফাযত করার জন্য অভিভাবকগণ আমাদেরকে প্রহার করতেন। ছহীহ বুখারী হা/২৬৫২।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) কসম সংরক্ষণের উপদেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কসম করলে তা পূরণ করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
২) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, মিথ্যা কসমের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পণ্য দ্রুত বিক্রি হয় ঠিকই, কিন্তু তা হতে বরকত উঠে যায়।
৩) যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম ছাড়া ক্রয় বিক্রি করে না তাকে কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে।
৪) এখানে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, গুনাহ করার জন্য উপযুক্ত শক্তি এবং উপকরণ কম থাকার পরও যদি কেউ গুনাহ করে তাহলে তার ছোট গুনাহও বড় আকার ধারণ করে। অর্থাৎ বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হওয়ার ফলে মানুষের যৌন আগ্রহে ও শক্তিতে ভাটা পড়ে। তখন ব্যভিচার করার মত পর্যাপ্ত শক্তি ও আগ্রহ না থাকারই কথা। এরপরও যেই বৃদ্ধলোক এই কাজ করবে, তার শাস্তি ভয়াবহ হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ জীবনের শেষ মুহূর্তে উপনীত হয়ে সদা আখিরাতের চিন্তা করা উচিত, সৎকর্মে মশগুল থাকা জরুরী এবং আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকা আবশ্যক। যখন কোন বৃদ্ধ তা না করে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার পরও পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে, তার জন্য সেই পাপ কাজ নিশ্চয়ই ভয়াবহ লাঞ্ছনা ও গ্লানি ডেকে আনবে।
৫) কসম খেতে বলার আগেই যারা কসম খায়, তাদের নিন্দা করা হয়েছে।
৬) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন যুগের অর্থাৎ ছাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীদের প্রশংসা করেছেন। এই তিন যুগের পরে যে সমস্ত জঞ্জাল, বিদ‘আত এবং অন্যান্য অপকর্ম হবে, তিনি তা আগেই বলে দিয়েছেন।
৭) সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা না হলেও যারা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে এখানে তাদেরও নিন্দা করা হয়েছে।
৮) সালফে ছলেহীনগণ শিশুদেরকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে প্রতিপালন করতেন। সাক্ষ্য দেয়া, শপথ করা এবং ওয়াদা-অঙ্গীকারের উপর কায়িম থাকার জন্য তারা বাচ্চাদেরকে প্রহারও করতেন।
টিকাঃ
200. ছহীহ বুখারী হা/২০৮৭, মুসলিম হা/১৬০৬, আবু দাউদ হা/৩৩৩৫।
201. ছহীহ: আলবানী, ছহীহুল জামি হা/৩০৬৭, ছহীহুত্ব তারগীব ও তারহীব, হা/১৭৮৮।
202. অর্থাৎ আখেরি যামানায় মানুষের দ্বীনী চেতনা দুর্বল হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে তারা ভোগ-বিলাসী হয়ে উঠবে। ফলে তারা অতিভোজী হবে। এতে তাদের দেহ খুব মোটা হয়ে যাবে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমবে। হাদীসে অতিভোজের মাধ্যমে শরীর মোটা করাকে নিন্দা করা হয়েছে। কেননা মাত্রাতিরিক্ত মোটা মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কম বুদ্ধিসম্পন্ন হয় এবং শরীর ভারী হওয়ার কারণে ইবাদত-বন্দেগী ঠিক মত করতে পারে না।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾
“তোমরা যে সমস্ত অর্থহীন কসম খেয়ে থাকো, সেসবের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না। কিন্তু তোমরা জেনেশুনে যেসব কসম খাও সেগুলোর উপর তিনি অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। (এ ধরনের কসম ভেঙে ফেলার) কাফফারা এই যে, দশজন মিসকীনকে এমন মধ্যম মানের খাদ্য প্রদান করবে; যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে খেতে দিয়ে থাকো অথবা তাদেরকে কাপড় পরাও অথবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন ছিয়াম রাখবে। এ হচ্ছে তোমাদের কসমের কাফফারা যখন শপথ করে তা ভেঙে ফেলো। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ সংরক্ষণ করো। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশনাবলী বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও”। (সূরা আল মায়িদা: ৮৯)
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একথা বলতে শুনেছি,
«الْحَلِفُ مَنْفَقَةٌ لِلسِّلْعَةِ، مَمْحَقَةٌ لِلْكَسْبِ».
“মিথ্যা শপথ ব্যবসায়িক পণ্য দ্রুত বিক্রি হতে সাহায্য করে ঠিকই; কিন্তু তা লাভ ধ্বংসকারী।” ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।200
সালমান থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«ثَلاثَةٌ لا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ: أُشَيْمِطٌ زَانٍ، وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ، وَرَجُلٌ جَعَلَ اللَّهَ بِضَاعَتَهُ، لا يَشْتَرِي إِلا بِيَمِينِهِ، وَلا يَبِيعُ إِلا بِيَمِينِهِ»
“তিন শ্রেণীর লোকদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে গুনাহ হতে পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তারা হচ্ছে, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী গরীব, আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ব্যবসার পণ্য বানিয়েছে। আল্লাহর নামে কসম করা ব্যতীত সে পণ্য ক্রয় করে না, কসম করা ব্যতীত পণ্য বিক্রিও করে না”। ইমাম তাবরানী ছহীহ সনদে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।201
ছহীহ বুখারীতে ইমরান বিন হুসাইন হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، قَالَ عِمْرَانُ: فَلا أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا، ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذِرُونَ وَلا يُوفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ».
“আমার উম্মতের সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার ছাহাবীগণ। অতঃপর উত্তম হচ্ছে তাদের পরবর্তীতে আগমনকারীগণ। অতঃপর উত্তম হচ্ছে যারা তাদের পরবর্তীতে আসবে। ইমরান বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরে দুই যুগের কথা বলেছেন নাকি তিন যুগের কথা বলেছেন তা আমি বলতে পারছি না। অতঃপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর তোমাদের পরে এমন সব লোক আসবে, যাদেরকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা না হলেও সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এগিয়ে আসবে, তারা খিয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না। তারা মানত করবে, কিন্তু তা পূরণ করবে না। আর তাদের মধ্যে মোটা মানুষ দেখা দিবে”।202
ছহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ».
“সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার যুগের মানুষ। এরপর উত্তম হলো এর পরবর্তীতে আগমনকারী লোকেরা। তারপর উত্তম হলো যারা তাদের পরবর্তীতে আসবে। অতঃপর এমন এক জাতির আগমন ঘটবে, যাদের কারো সাক্ষ্য কসমের আগেই হয়ে যাবে, আবার কখনো কসম সাক্ষ্যের আগেই হয়ে যাবে”। অর্থাৎ কসম ও সাক্ষ্যের মধ্যে কোন মিল থাকবে না। কসম ও সাক্ষ্য উভয়টাই মিথ্যা হবে।
ইবরাহীম নখয়ী বলেন:
«كَانُوا يَضْرِبُونَنَا عَلَى الشَّهَادَةِ وَالْعَهْدِ وَنَحْنُ صِغَارٌ».
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন সাক্ষ্য, শপথ এবং ওয়াদা-অঙ্গীকারের হিফাযত করার জন্য অভিভাবকগণ আমাদেরকে প্রহার করতেন। ছহীহ বুখারী হা/২৬৫২।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) কসম সংরক্ষণের উপদেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কসম করলে তা পূরণ করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
২) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, মিথ্যা কসমের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পণ্য দ্রুত বিক্রি হয় ঠিকই, কিন্তু তা হতে বরকত উঠে যায়।
৩) যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম ছাড়া ক্রয় বিক্রি করে না তাকে কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে।
৪) এখানে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, গুনাহ করার জন্য উপযুক্ত শক্তি এবং উপকরণ কম থাকার পরও যদি কেউ গুনাহ করে তাহলে তার ছোট গুনাহও বড় আকার ধারণ করে। অর্থাৎ বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হওয়ার ফলে মানুষের যৌন আগ্রহে ও শক্তিতে ভাটা পড়ে। তখন ব্যভিচার করার মত পর্যাপ্ত শক্তি ও আগ্রহ না থাকারই কথা। এরপরও যেই বৃদ্ধলোক এই কাজ করবে, তার শাস্তি ভয়াবহ হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ জীবনের শেষ মুহূর্তে উপনীত হয়ে সদা আখিরাতের চিন্তা করা উচিত, সৎকর্মে মশগুল থাকা জরুরী এবং আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকা আবশ্যক। যখন কোন বৃদ্ধ তা না করে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার পরও পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে, তার জন্য সেই পাপ কাজ নিশ্চয়ই ভয়াবহ লাঞ্ছনা ও গ্লানি ডেকে আনবে।
৫) কসম খেতে বলার আগেই যারা কসম খায়, তাদের নিন্দা করা হয়েছে।
৬) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন যুগের অর্থাৎ ছাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীদের প্রশংসা করেছেন। এই তিন যুগের পরে যে সমস্ত জঞ্জাল, বিদ‘আত এবং অন্যান্য অপকর্ম হবে, তিনি তা আগেই বলে দিয়েছেন।
৭) সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা না হলেও যারা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে এখানে তাদেরও নিন্দা করা হয়েছে।
৮) সালফে ছলেহীনগণ শিশুদেরকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে প্রতিপালন করতেন। সাক্ষ্য দেয়া, শপথ করা এবং ওয়াদা-অঙ্গীকারের উপর কায়িম থাকার জন্য তারা বাচ্চাদেরকে প্রহারও করতেন।
টিকাঃ
200. ছহীহ বুখারী হা/২০৮৭, মুসলিম হা/১৬০৬, আবু দাউদ হা/৩৩৩৫।
201. ছহীহ: আলবানী, ছহীহুল জামি হা/৩০৬৭, ছহীহুত্ব তারগীব ও তারহীব, হা/১৭৮৮।
202. অর্থাৎ আখেরি যামানায় মানুষের দ্বীনী চেতনা দুর্বল হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে তারা ভোগ-বিলাসী হয়ে উঠবে। ফলে তারা অতিভোজী হবে। এতে তাদের দেহ খুব মোটা হয়ে যাবে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমবে। হাদীসে অতিভোজের মাধ্যমে শরীর মোটা করাকে নিন্দা করা হয়েছে। কেননা মাত্রাতিরিক্ত মোটা মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কম বুদ্ধিসম্পন্ন হয় এবং শরীর ভারী হওয়ার কারণে ইবাদত-বন্দেগী ঠিক মত করতে পারে না।
📄 ৬২. আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ﴾
“আর যখনই তোমরা আল্লাহর সাথে কোন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং নিজেদের কসম দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না। তোমরা তো আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত”। (সূরা আন নাহল: ৯১)
বুরাইদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْ سَرِيَّةٍ، أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا.
فَقَالَ: «اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ. اغْزُوا، وَلا تَغُلُّوا, وَلا تَغْدِرُوا, وَلا تُمَثِّلُوا، وَلا تَقْتُلُوا وَلِيدًا. وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلاثِ خِصَالٍ (أَوْ: خِلالٍ)، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ.
ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ. وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ، فَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا مِنْهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ، يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ تَعَالَى الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ، إِلا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ.
فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْأَلْهُمُ الْجِزْيَةَ، فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ. وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ، وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ، فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّتَكُمْ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ.
وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، فَلا تُنْزِلْهُمْ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ، فَإِنَّكَ لا تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় কিংবা ছোট কোন যুদ্ধে যখন সেনবাহিনীতে কাউকে আমীর বা সেনাপতি নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে ‘তাকওয়ার’ উপদেশ দিতেন এবং তার সাথে যে সব মুসলিম থাকতো তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করার হুকুম করতেন। অতঃপর তিনি বলতেন,
“তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। তোমরা যুদ্ধ করো, কিন্তু খিয়ানত করো না (গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করো না), বিশ্বাস ঘাতকতা করো না, তোমরা শত্রুর নাক-কান কেটো না বা অঙ্গ বিকৃত করো না এবং কোন শিশুকে হত্যা করো না। তুমি যখন তোমার কোন মুশরিক শত্রু বাহিনীর মোকাবেলা করবে, তখন তিনটি বিষয়ের দিকে তাদেরকে আহ্বান জানাবে। যে কোন একটি বিষয়ে তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দিলে তা গ্রহণ করে নিও, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে দিও। তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করো। যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দেয়, তাহলে তাদেরকে গ্রহণ করে নিও। এরপর তাদেরকে তাদের বাড়ী-ঘর ছেড়ে দারুল মুহাজিরীনে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাও। হিজরত করলে তাদেরকে একথা জানিয়ে দাও, ‘মুহাজিরদের জন্য যে অধিকার রয়েছে, তাদেরও সে অধিকার আছে, সাথে সাথে মুহাজিরদের যা করণীয় তাদেরও তাই করণীয়।
আর যদি তারা হিজরতের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে, তাহলে তাদেরকে বলে দিও যে, তারা গ্রাম্য সাধারণ মুসলিমের মর্যাদা পাবে। তাদের উপর আল্লাহর হুকুম-আহকাম জারি হবে। তবে ‘গনীমত’ (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) এবং ‘ফাই’ (যুদ্ধ ছাড়াই কাফের-মুশরিকদের নিকট থেকে যেই সম্পদ অর্জিত হয় তা) থেকে তারা কোন অংশ পাবে না। তবে তারা যদি মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে, সে কথা ভিন্ন। অর্থাৎ তখন গনীমতের অংশ পাবে।
তারা যদি ইসলামে দাখিল হতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের কাছে জিযিয়া (কর) দাবি করো। তারা যদি কর দিতে সম্মত হয়, তবে তা গ্রহণ করো, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করো।
কিন্তু যদি কর দিতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
অতঃপর নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমীরকে নছীহত স্বরূপ বলতেন: তুমি যখন কোন দুর্গের লোকদেরকে অবরোধ করবে, তখন দুর্গের লোকেরা যদি চায় যে, তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাযত ও নিরাপত্তায়) রেখে দিবে, তবে তুমি কিন্তু তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাজতে) রাখবে না বরং তোমার এবং তোমার সঙ্গী-সাথীদের যিম্মায় রেখে দিও। কারণ, তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করা আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার চেয়ে অধিক সহজ।
আর তুমি যখন কোন দুর্গের অধিবাসীদেরকে অবরোধ করবে, তখন তারা যদি চায়, তুমি তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে, তাহলে তুমি কখনই আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে না; বরং তুমি তাদেরকে তোমার নিজের হুকুম মানতে বাধ্য করবে। কারণ তুমি জানো না যে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফায়সালা করতে পারবে কি না।”203
ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর যিম্মা, নবীর যিম্মা এবং মুমিনদের যিম্মার মধ্যে পার্থক্য। আল্লাহর যিম্মা (অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার অপরাধ মানুষের যিম্মা ভঙ্গ করার অপরাধের চেয়ে অনেক বড়।
২) দু’টি বিপদজনক বিষয়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক বিষয়টি গ্রহণ করার প্রতি দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৩) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ: তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো।
৪) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরো নির্দেশ হচ্ছে, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৫) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুকুম: তুমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৬) আল্লাহর হুকুম এবং আলিমদের হুকুমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৭) প্রয়োজন বশতঃ ছাহাবীর জন্য এমন ফায়সালা করা জায়েয, যার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয় যে, তা আল্লাহর হুকুমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না।
টিকাঃ
203. ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৩১।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ﴾
“আর যখনই তোমরা আল্লাহর সাথে কোন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং নিজেদের কসম দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না। তোমরা তো আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত”। (সূরা আন নাহল: ৯১)
বুরাইদাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْ سَرِيَّةٍ، أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا.
فَقَالَ: «اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ. اغْزُوا، وَلا تَغُلُّوا, وَلا تَغْدِرُوا, وَلا تُمَثِّلُوا، وَلا تَقْتُلُوا وَلِيدًا. وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلاثِ خِصَالٍ (أَوْ: خِلالٍ)، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ.
ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ. وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ، فَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا مِنْهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ، يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ تَعَالَى الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ، إِلا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ.
فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْأَلْهُمُ الْجِزْيَةَ، فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ. وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ، وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ، فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّتَكُمْ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ.
وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، فَلا تُنْزِلْهُمْ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ، فَإِنَّكَ لا تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় কিংবা ছোট কোন যুদ্ধে যখন সেনবাহিনীতে কাউকে আমীর বা সেনাপতি নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে ‘তাকওয়ার’ উপদেশ দিতেন এবং তার সাথে যে সব মুসলিম থাকতো তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করার হুকুম করতেন। অতঃপর তিনি বলতেন,
“তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। তোমরা যুদ্ধ করো, কিন্তু খিয়ানত করো না (গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করো না), বিশ্বাস ঘাতকতা করো না, তোমরা শত্রুর নাক-কান কেটো না বা অঙ্গ বিকৃত করো না এবং কোন শিশুকে হত্যা করো না। তুমি যখন তোমার কোন মুশরিক শত্রু বাহিনীর মোকাবেলা করবে, তখন তিনটি বিষয়ের দিকে তাদেরকে আহ্বান জানাবে। যে কোন একটি বিষয়ে তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দিলে তা গ্রহণ করে নিও, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে দিও। তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করো। যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দেয়, তাহলে তাদেরকে গ্রহণ করে নিও। এরপর তাদেরকে তাদের বাড়ী-ঘর ছেড়ে দারুল মুহাজিরীনে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাও। হিজরত করলে তাদেরকে একথা জানিয়ে দাও, ‘মুহাজিরদের জন্য যে অধিকার রয়েছে, তাদেরও সে অধিকার আছে, সাথে সাথে মুহাজিরদের যা করণীয় তাদেরও তাই করণীয়।
আর যদি তারা হিজরতের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে, তাহলে তাদেরকে বলে দিও যে, তারা গ্রাম্য সাধারণ মুসলিমের মর্যাদা পাবে। তাদের উপর আল্লাহর হুকুম-আহকাম জারি হবে। তবে ‘গনীমত’ (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) এবং ‘ফাই’ (যুদ্ধ ছাড়াই কাফের-মুশরিকদের নিকট থেকে যেই সম্পদ অর্জিত হয় তা) থেকে তারা কোন অংশ পাবে না। তবে তারা যদি মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে, সে কথা ভিন্ন। অর্থাৎ তখন গনীমতের অংশ পাবে।
তারা যদি ইসলামে দাখিল হতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের কাছে জিযিয়া (কর) দাবি করো। তারা যদি কর দিতে সম্মত হয়, তবে তা গ্রহণ করো, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করো।
কিন্তু যদি কর দিতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
অতঃপর নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমীরকে নছীহত স্বরূপ বলতেন: তুমি যখন কোন দুর্গের লোকদেরকে অবরোধ করবে, তখন দুর্গের লোকেরা যদি চায় যে, তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাযত ও নিরাপত্তায়) রেখে দিবে, তবে তুমি কিন্তু তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাজতে) রাখবে না বরং তোমার এবং তোমার সঙ্গী-সাথীদের যিম্মায় রেখে দিও। কারণ, তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করা আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার চেয়ে অধিক সহজ।
আর তুমি যখন কোন দুর্গের অধিবাসীদেরকে অবরোধ করবে, তখন তারা যদি চায়, তুমি তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে, তাহলে তুমি কখনই আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে না; বরং তুমি তাদেরকে তোমার নিজের হুকুম মানতে বাধ্য করবে। কারণ তুমি জানো না যে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফায়সালা করতে পারবে কি না।”203
ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর যিম্মা, নবীর যিম্মা এবং মুমিনদের যিম্মার মধ্যে পার্থক্য। আল্লাহর যিম্মা (অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার অপরাধ মানুষের যিম্মা ভঙ্গ করার অপরাধের চেয়ে অনেক বড়।
২) দু’টি বিপদজনক বিষয়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক বিষয়টি গ্রহণ করার প্রতি দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৩) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ: তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো।
৪) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরো নির্দেশ হচ্ছে, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৫) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুকুম: তুমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৬) আল্লাহর হুকুম এবং আলিমদের হুকুমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৭) প্রয়োজন বশতঃ ছাহাবীর জন্য এমন ফায়সালা করা জায়েয, যার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয় যে, তা আল্লাহর হুকুমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না।
টিকাঃ
203. ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৩১।
📄 ৬৩. আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়ে কসম করার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে
যুনদুব বিন আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«قَالَ رَجُلٌ: وَاللَّهِ لا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلانٍ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لا أَغْفِرَ لِفُلانٍ؟ إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ».
“এক ব্যক্তি বললো: “আল্লাহর কসম, অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন: কে এই ব্যক্তি, যে আমার নামে কসম করে বলে যে, ‘আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি অমুককেই ক্ষমা করে দিলাম। আর তোমার (কসমকারীর) আমল বাতিল করে দিলাম”। ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।204
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত হাদীছে এসেছে, “যে ব্যক্তি কসম করে উল্লেখিত কথা বলেছিল, সে ছিল একজন আবেদ। আবু হুরায়রা বলেন: ঐ ব্যক্তি একটি মাত্র কথার মাধ্যমে তার দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়টাই বরবাদ করে ফেলেছে।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয় গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়ে কসম খাওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন বিষয়ে মাতব্বরী করার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করার আদেশ করা হয়েছে।
২) আমাদের কারো জাহান্নাম তার জুতায় ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।
৩) জান্নাতও অনুরূপ মানুষের খুবই নিকটবর্তী।
৪) এ অধ্যায়ে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঐ কথার সমর্থন মিলে যেখানে তিনি বলেছেন: একজন লোক কখনো মাত্র এমন একটি কথা বলে, যার মাধ্যমে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে যায়।
টিকাঃ
204. ছহীহ মুসলিম হা/২৬২১।
যুনদুব বিন আব্দুল্লাহ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«قَالَ رَجُلٌ: وَاللَّهِ لا يَغْفِرُ اللَّهُ لِفُلانٍ، فَقَالَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: مَنْ ذَا الَّذِي يَتَأَلَّى عَلَيَّ أَنْ لا أَغْفِرَ لِفُلانٍ؟ إِنِّي قَدْ غَفَرْتُ لَهُ، وَأَحْبَطْتُ عَمَلَكَ».
“এক ব্যক্তি বললো: “আল্লাহর কসম, অমুক ব্যক্তিকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না। তখন আল্লাহ তা‘আলা বললেন: কে এই ব্যক্তি, যে আমার নামে কসম করে বলে যে, ‘আমি অমুককে ক্ষমা করবো না? আমি অমুককেই ক্ষমা করে দিলাম। আর তোমার (কসমকারীর) আমল বাতিল করে দিলাম”। ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।204
আবু হুরায়রা হতে বর্ণিত হাদীছে এসেছে, “যে ব্যক্তি কসম করে উল্লেখিত কথা বলেছিল, সে ছিল একজন আবেদ। আবু হুরায়রা বলেন: ঐ ব্যক্তি একটি মাত্র কথার মাধ্যমে তার দুনিয়া এবং আখিরাত উভয়টাই বরবাদ করে ফেলেছে।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয় গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর ইচ্ছাধীন বিষয়ে কসম খাওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাধীন বিষয়ে মাতব্বরী করার ব্যাপারে সাবধানতা অবলম্বন করার আদেশ করা হয়েছে।
২) আমাদের কারো জাহান্নাম তার জুতায় ফিতার চেয়েও অধিক নিকটবর্তী।
৩) জান্নাতও অনুরূপ মানুষের খুবই নিকটবর্তী।
৪) এ অধ্যায়ে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ঐ কথার সমর্থন মিলে যেখানে তিনি বলেছেন: একজন লোক কখনো মাত্র এমন একটি কথা বলে, যার মাধ্যমে তার দুনিয়া ও আখিরাত উভয়ই বরবাদ হয়ে যায়।
টিকাঃ
204. ছহীহ মুসলিম হা/২৬২১।
📄 ৬৪. আল্লাহ তা‘আলাকে সৃষ্টির কাছে সুপারিশকারী বানানো যাবে না
যুবাইর বিন মুতইম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جَهِكَتِ الأَنْفُسُ، وَجَاعَ الْعِيَالُ وَهَلَكَتِ الأَمْوَالُ، فَاسْتَسْقِ لَنَا رَبَّكَ, فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِاللَّهِ عَلَيْكَ وَبِكَ عَلَى اللَّهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ؟: «سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ! فَمَا زَالَ يُسَبِّحُ حَتَّى عُرِفَ ذَلِكَ فِي وُجُوهِ أَصْحَابِهِ. ثُمَّ قَالَ: وَيْحَكَ! أَتَدْرِي مَا اللَّهُ؟ إِنَّ شَأْنَ اللَّهِ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ، إِنَّهُ لا يُسْتَشْفَعُ بِاللَّهِ عَلَى أَحَدٍ»
“এক গ্রাম্য লোক নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল: ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! লোকেরা দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে গেছে, শিশু-পরিবার ক্ষুধার্ত হয়েছে, সম্পদ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। অতএব আপনার রবের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করুন। আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ করছি, আর আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ পেশ করছি। এ কথা শুনে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বার বার বলতে লাগলেন: সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! এভাবে তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতেই থাকলেন। তার ছাহাবায়ে কেরামের চেহারায় রাগের প্রভাব দেখা গেল। অতঃপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার ধ্বংস হোক, আল্লাহর মর্যাদা কত বড়, তা কি তুমি জানো? তুমি যা মনে করছো আল্লাহর মর্যাদা ও শান এর চেয়ে অনেক বেশী। কোন সৃষ্টির কাছেই আল্লাহর সুপারিশ পেশ করা যায় না”। ইমাম আবু দাউদ এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।205
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়
১) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তির प्रति বিরক্তি প্রকাশ করেছেন, যে বলেছিল আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ পেশ করছি।
২) তার ঐ কথাতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন, যার প্রভাব ছাহাবীদের চেহারাতেও প্রকাশিত হয়েছিল।
৩) তবে লোকটি যখন এই কথা বলেছিল, فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِكَ عَلَى اللَّهِ “আমরা আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ কামনা করছি”, তখন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথার প্রতিবাদ করেননি। কেননা এর অর্থ হচ্ছে আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন।
৪) এখানে ‘সুবহানাল্লাহ’ এর ব্যাখ্যার প্রতিও সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ অশোভনীয় এবং আশ্চর্যজনক কিছু শুনে ও দেখে এই বাক্য পাঠ করা উচিত।
৫) মুসলিমগণ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য দু‘আ করাতেন।
টিকাঃ
205. যঈফ: আবু দাউদ হা/৪৭২৬, মিশকাতুল মাসাবীহ, হা/৫৭২৭।
যুবাইর বিন মুতইম হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
جَاءَ أَعْرَابِيٌّ إِلَى النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، جَهِكَتِ الأَنْفُسُ، وَجَاعَ الْعِيَالُ وَهَلَكَتِ الأَمْوَالُ، فَاسْتَسْقِ لَنَا رَبَّكَ, فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِاللَّهِ عَلَيْكَ وَبِكَ عَلَى اللَّهِ، فَقَالَ النَّبِيُّ؟: «سُبْحَانَ اللَّهِ، سُبْحَانَ اللَّهِ! فَمَا زَالَ يُسَبِّحُ حَتَّى عُرِفَ ذَلِكَ فِي وُجُوهِ أَصْحَابِهِ. ثُمَّ قَالَ: وَيْحَكَ! أَتَدْرِي مَا اللَّهُ؟ إِنَّ شَأْنَ اللَّهِ أَعْظَمُ مِنْ ذَلِكَ، إِنَّهُ لا يُسْتَشْفَعُ بِاللَّهِ عَلَى أَحَدٍ»
“এক গ্রাম্য লোক নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট এসে বলল: ‘ইয়া রসূলাল্লাহ! লোকেরা দুর্বল ও ক্লান্ত হয়ে গেছে, শিশু-পরিবার ক্ষুধার্ত হয়েছে, সম্পদ ধ্বংস প্রাপ্ত হয়েছে। অতএব আপনার রবের কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা করুন। আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ করছি, আর আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ পেশ করছি। এ কথা শুনে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বার বার বলতে লাগলেন: সুবহানাল্লাহ! সুবহানাল্লাহ! এভাবে তিনি আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করতেই থাকলেন। তার ছাহাবায়ে কেরামের চেহারায় রাগের প্রভাব দেখা গেল। অতঃপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “তোমার ধ্বংস হোক, আল্লাহর মর্যাদা কত বড়, তা কি তুমি জানো? তুমি যা মনে করছো আল্লাহর মর্যাদা ও শান এর চেয়ে অনেক বেশী। কোন সৃষ্টির কাছেই আল্লাহর সুপারিশ পেশ করা যায় না”। ইমাম আবু দাউদ এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।205
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়
১) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ ব্যক্তির प्रति বিরক্তি প্রকাশ করেছেন, যে বলেছিল আমরা আপনার কাছে আল্লাহর সুপারিশ পেশ করছি।
২) তার ঐ কথাতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এত ক্রোধান্বিত হয়েছিলেন, যার প্রভাব ছাহাবীদের চেহারাতেও প্রকাশিত হয়েছিল।
৩) তবে লোকটি যখন এই কথা বলেছিল, فَإِنَّا نَسْتَشْفِعُ بِكَ عَلَى اللَّهِ “আমরা আল্লাহর কাছে আপনার সুপারিশ কামনা করছি”, তখন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার কথার প্রতিবাদ করেননি। কেননা এর অর্থ হচ্ছে আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দু‘আ করুন।
৪) এখানে ‘সুবহানাল্লাহ’ এর ব্যাখ্যার প্রতিও সতর্ক করা হয়েছে। অর্থাৎ অশোভনীয় এবং আশ্চর্যজনক কিছু শুনে ও দেখে এই বাক্য পাঠ করা উচিত।
৫) মুসলিমগণ নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে আল্লাহর নিকট বৃষ্টির জন্য দু‘আ করাতেন।
টিকাঃ
205. যঈফ: আবু দাউদ হা/৪৭২৬, মিশকাতুল মাসাবীহ, হা/৫৭২৭।