📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৫৯. তাকদীর অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

📄 ৫৯. তাকদীর অস্বীকারকারীদের সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে


আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃বলেছেন,
وَالَّذِي نَفْسُ ابْنِ عُمَرَ بِيَدِهِ، لَوْ كَانَ لأَحَدِهِمْ مِثْلُ أُحُدٍ ذَهَبًا، ثُمَّ أَنْفَقَهُ فِي سَبِيلِ اللَّهِ مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْهُ حَتَّى يُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، ثُمَّ اسْتَدَلَّ بِقَوْلِ النَّبِيِّ؟: «الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ، وَمَلائِكَتِهِ، وَكُتُبِهِ، وَرُسُلِهِ، وَالْيَوْمِ الآخِرِ، وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»
“সেই সত্তার কসম, যার হাতে ইবনে উমারের জীবন, তাদের (তাকদীরের প্রতি অবিশ্বাসীদের) কারো কাছে যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও থাকে, অতঃপর তা আল্লাহর রাস্তায় দান করে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা উক্ত দান কবুল করবেন না, যতক্ষণ না সে তাকদীরের প্রতি ঈমান আনে”। অতঃপর তিনি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী দ্বারা নিজ বক্তব্যের পক্ষে দলীল পেশ করেন:
«الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الآخِرِ وَتُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ»
“ঈমান হচ্ছে, তুমি আল্লাহ তা‘আলার প্রতি, তার সমুদয় ফেরেশতার প্রতি, তার যাবতীয় কিতাবের প্রতি, তার সমস্ত রসূলের প্রতি এবং আখিরাতের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবে। সাথে সাথে তাকদীর এবং এর ভাল-মন্দের প্রতিও ঈমান আনয়ন করবে”।189
ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
উবাদা বিন সামেত ✃ থেকে বর্ণিত, তিনি একদা তার ছেলেকে উপদেশ দিতে গিয়ে বললেন:
يَا بُنَيَّ، إِنَّكَ لَنْ تَجِدَ طَعْمَ الإِيمَانِ حَتَّى تَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ، وَمَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ الْقَلَمَ، فَقَالَ لَهُ: اكْتُبْ، فَقَالَ: رَبِّ وَمَاذَا أَكْتُبُ؟ قَالَ: اكْتُبْ مَقَادِيرَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى تَقُومَ السَّاعَةُ».
“হে বৎস, তুমি ততক্ষণ পর্যন্ত ঈমানের স্বাদ অনুভব করতে পারবে না, যতক্ষণ না তুমি এ কথা বিশ্বাস করবে যে, ‘তোমার জীবনে যা ঘটেছে তা ঘটারই ছিল। আর যা ঘটেনি তা কোনদিন তোমার জীবনে ঘটার ছিল না’ রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আমি এ কথা বলতে শুনেছি, “সর্বপ্রথম আল্লাহ তা‘আলা যা সৃষ্টি করলেন তা হচ্ছে ‘কলম’। সৃষ্টির পরেই তিনি কলমকে বললেন, “লিখো”। কলম বলল: ‘হে আমার রব, ‘আমি কী লিখবো?’ তিনি বললেন, ‘ক্বিয়ামত পর্যন্ত সব জিনিসের তাকদীর লিপিবদ্ধ করো”।190
হে বৎস! রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আমি বলতে শুনেছি, “যে ব্যক্তি এর উপর (তাকদীরের উপর) বিশ্বাস ব্যতীত মৃত্যু বরণ করলো, সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য নয়”।191
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল ✈হতে অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে
«إِنَّ أَوَّلَ مَا خَلَقَ اللَّهُ تَعَالَى الْقَلَمَ، فَقَالَ لَهُ: اكْتُبْ، فَجَرَى فِي تِلْكَ السَّاعَةِ بِمَا هُوَ كَائِنٌ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ».
“আল্লাহ তা‘আলা সর্ব প্রথম যা সৃষ্টি করেছেন তা হচ্ছে ‘কলম’। এরপরই তিনি কলমকে বললেন, ‘লিখো’। কলম তখন ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা সংঘটিত হবে, সব লিখে শেষ করেছে।192
ইবনে ওয়াহাবের একটি বর্ণনা মতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«فَمَنْ لَمْ يُؤْمِنْ بِالْقَدَرِ خَيْرِهِ وَشَرِّهِ أَحْرَقَهُ اللَّهُ بِالنَّارِ».
“যে ব্যক্তি তাকদীর এবং তাকদীরের ভাল- মন্দে বিশ্বাস করে না, তাকে আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের আগুনে জ্বালাবেন”।193
মুসনাদে আহমাদ এবং সুনানে আবু দাউদে ইবনুদ্‌ দাইলামী থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন:
أَتَيْتُ أُبَيَّ بْنَ كَعْبٍ - رضي الله عنه - ، فَقُلْتُ: فِي نَفْسِي شَيْءٌ مِنَ الْقَدَرِ، فَحَدِّثْنِي بِشَيْءٍ، لَعَلَّ اللَّهَ يُذْهِبُهُ مِنْ قَلْبِي، فَقَالَ: لَوْ أَنْفَقْتَ مِثْلَ أُحُدٍ ذَهَبًا مَا قَبِلَهُ اللَّهُ مِنْكَ حَتَّى تُؤْمِنَ بِالْقَدَرِ، وَتَعْلَمَ أَنَّ مَا أَصَابَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُخْطِئَكَ، وَمَا أَخْطَأَكَ لَمْ يَكُنْ لِيُصِيبَكَ، وَلَوْ مُتَّ عَلَى غَيْرِ هَذَا لَكُنْتَ مِنْ أَهْلِ النَّارِ، قَالَ: فَأَتَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، وَحُذَيْفَةَ بْنَ الْيَمَانِ، وَزَيْدَ بْنَ ثَابِتٍ، فَكُلُّهُمْ حَدَّثَنِي بِمِثْلِ ذَلِكَ عَنِ النَّبِيِّ?.
‘আমি উবাই ইবনে কা’ব এর কাছে আসলাম। অতঃপর বললাম, ‘তাকদীরের ব্যাপারে আমার মনে কিছু সন্দেহ উদয় হয়েছে। আপনি আমাকে তাকদীর সম্পর্কে কিছু কথা বলুন। এর ফলে হয়তো আল্লাহ তা‘আলা আমার অন্তর হতে তা দূর করে দিবেন। তখন তিনি বললেন,
“তুমি যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও আল্লাহর রাস্তায় দান করো, আল্লাহ তোমার এ দান ততক্ষণ পর্যন্ত কবুল করবেন না, যতক্ষণ না তুমি তাকদীরের প্রতি বিশ্বাস করবে”। আর এ কথা জেনে রাখো, তোমার জীবনে যা ঘটেছে তা না ঘটার ছিল না। আর তোমার জীবনে যা ঘটেনি, তা ঘটার ছিল না। এ বিশ্বাস পোষণ না করে তুমি যদি মৃত্যু বরণ করো, তাহলে অবশ্যই জাহান্নামী হবে’
ইবনুদ্‌ দাইলামী বলেন, অতঃপর আমি আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ, হুযায়ফা বিন ইয়ামান এবং যায়েদ বিন ছাবিত  এর নিকট আসলাম। তাদের প্রত্যেকেই রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে এ রকমই বর্ণনা করেছেন”।194
ইমাম আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এই হাদীছ তার ছহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয় গুলো জানা যায়
১) তাকদীরের প্রতি ঈমান আনয়ন করা ফরয।
২) তাকদীরের প্রতি কিভাবে ঈমান আনতে হবে, তাও বর্ণনা করা হয়েছে।
৩) তাকদীরের প্রতি যার ঈমান নেই তার আমল বাতিল।
৪) যে ব্যক্তি তাকদীরের প্রতি ঈমান আনে না সে ঈমানের স্বাদ থেকে মাহরূম হবে।
৫) আল্লাহ তা‘আলা সর্বপ্রথম যা সৃষ্টি করেছেন- এখানে তা উল্লেখ করা হয়েছে।
৬) ক্বিয়ামত পর্যন্ত যা সৃষ্টি হবে, হুকুমে ইলাহী পেয়েই কলম তা লিখে শেষ করেছে।
৭) যে ব্যক্তি তাকদীর বিশ্বাস করে না তার সাথে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পূর্ণ দায়মুক্ত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। অর্থাৎ তার সাথে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কোন সম্পর্ক নেই।
৮) সালফে ছলেহীনের রীতি ছিল, কোন বিষয়ের সংশয় নিরসনের জন্য তারা জ্ঞানী ও বিজ্ঞজনকে প্রশ্ন করতেন।
৯) উলামায়ে কেরাম এমনভাবে প্রশ্নকারীকে জবাব দিতেন যদ্বারা সন্দেহ দূর হয়ে যেতো। তাদের জবাবের নিয়ম এই ছিল যে, তারা নিজেদের কথাকে শুধুমাত্র রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে নিসবত (সম্বোধিত) করতেন।

টিকাঃ
189. ছহীহ: ছহীহ মুসলিম হা/৮, অধ্যায়: ইসলাম, ঈমান এবং তাকদীর সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। তিরমিযী হা/২৬১০, নাসাঈ হা/৪৯৯০, আবু দাউদ হা/৪৬৯৫, আবনে মাজাহ হা/৬৩।
190. ছহীহ: তিরমিযী হা/২১৫৫, ৩৩১৯, আবু দাউদ হা/৪৭০০।
191. ছহীহ: আবু দাউদ হা/৪৭০০, সুনানুল কুবরা বাইহাকী হা/২০৮৭৫।
192. ছহীহ: মুসনাদে আহমাদ হা/২২৭০৫।
193. ইবনে আবী আসিম এর কিতাবুস সুন্নাহ হা/১১১।
194. ছহীহ: আবু দাউদ হা/৪৬৯৯, ইবনে মাজাহ হা/৭৭, মুসনাদে আহমাদ।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৬০. ছবি অঙ্কনকারীদের ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে

📄 ৬০. ছবি অঙ্কনকারীদের ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে


আবু হুরায়রা  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي، فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً، أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةً، أَوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةً».
“আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালেম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মত সৃষ্টি করতে চায়? তাদের শক্তি থাকলে একটা অণু সৃষ্টি করুক অথবা একটা দানা সৃষ্টি করুক কিংবা একটি যবের দানা সৃষ্টি করুক”।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهِئُونَ بِخَلْقِ اللَّهِ».
“ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদেরই, যারা আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টির মতো ছবি বা চিত্র অঙ্কন করে”।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি,
«كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ يُعَذَّبُ بِهَا فِي جَهَنَّمَ».
“প্রত্যেক চিত্র অঙ্কনকারীই জাহান্নামী। চিত্রকর যতটা (প্রাণীর) চিত্র অঙ্কন করবে, তার প্রত্যেকটির বদলে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে”।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস  হতে বর্ণিত ‘মারফু’ হাদীছে এসেছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلِّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ، وَلَيْسَ بِنَافِخٍ».
যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে ঐ চিত্রে আত্মা দেয়ার জন্য বাধ্য করা হবে। অথচ সে আত্মা দিতে সক্ষম হবে না।

ছহীহ মুসলিমে আবুল হাইয়াজ আল-আসা‘দী হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আলী  একদা আমাকে বললেন,
«أَلا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ؟: أَنْ لا تَدَعَ صُورَةً إِلا طَمَسْتَهَا، وَلا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلا سَوَّيْتَهُ».
‘আমি কি তোমাকে এমন কাজে পাঠাবো না, যে কাজে স্বয়ং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে পাঠিয়ে ছিলেন? সে কাজটি হচ্ছে, ‘তুমি কোন প্রাণীর ছবি দেখলেই তা বিলুপ্ত না করে ছাড়বে না। আর কোন উঁচু কবরকে মাটির সমান না করে ছাড়বে না’।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ছবি অঙ্কনকারীদের ব্যাপারে কঠোর হুমকি ও শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে।
২) ছবি বানানো থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করার কারণও বলে দেয়া হয়েছে। এখানে কঠোরতা অবলম্বনের কারণ হচ্ছে, ছবি নির্মাণে আল্লাহর সাথে বেআদবী হয়। আল্লাহ তা‘আলা হাদীছে কুদসীতে বলেন, «وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي» “ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালেম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে চায়?
৩) এখানে সৃষ্টি করার ব্যাপারে আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতার প্রতি সতর্ক করা হয়েছে। অপরদিকে বান্দা যে এতে সম্পূর্ণ অক্ষম তা বলা হয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা ছবি প্রস্তুতকারীদেরকে বলেছেন, ‘তোমাদের ক্ষমতা থাকলে তোমরা একটা অণু অথবা একটা দানা কিংবা একটা যবের দানা তৈরী করে নিয়ে এসো’।
৪) সুস্পষ্ট করে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ক্বিয়ামতের দিন চিত্রকরদের সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে।
৫) চিত্রকর যতটা প্রাণীর ছবি আঁকবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি দেয়ার জন্য ততটা প্রাণ সৃষ্টি করবেন এবং এর দ্বারাই জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেয়া হবে।
৬) অঙ্কিত ছবিতে রূহ দেয়ার জন্য চিত্রকরকে বাধ্য করা হবে।
৭) প্রাণীর ছবি পাওয়া গেলেই তা ধ্বংস করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

টিকাঃ
195. ছহীহ বুখারী হা/৫৯৫৩, ছহীহ মুসলিম হা/২১১১।
196. ছহীহ বুখারী হা/৫৯৫৪, ছহীহ মুসলিম হা/২১১০।
197. ছহীহ বুখারী হা/২২২৫, ছহীহ মুসলিম হা/২১১০।
198. ছহীহ বুখারী হা/৫৯৬৩, মুসলিম হা/২১১০।
199. ছহীহ: মুসলিম হা/৯৬৯, নাসাঈ হা/২০৩১।

আবু হুরায়রা  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي، فَلْيَخْلُقُوا ذَرَّةً، أَوْ لِيَخْلُقُوا حَبَّةً، أَوْ لِيَخْلُقُوا شَعِيرَةً».
“আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালেম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মত সৃষ্টি করতে চায়? তাদের শক্তি থাকলে একটা অণু সৃষ্টি করুক অথবা একটা দানা সৃষ্টি করুক কিংবা একটি যবের দানা সৃষ্টি করুক”।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«أَشَدُّ النَّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ الَّذِينَ يُضَاهِئُونَ بِخَلْقِ اللَّهِ».
“ক্বিয়ামতের দিন সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে তাদেরই, যারা আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টির মতো ছবি বা চিত্র অঙ্কন করে”।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলতে শুনেছি,
«كُلُّ مُصَوِّرٍ فِي النَّارِ يُجْعَلُ لَهُ بِكُلِّ صُورَةٍ صَوَّرَهَا نَفْسٌ يُعَذَّبُ بِهَا فِي جَهَنَّمَ».
“প্রত্যেক চিত্র অঙ্কনকারীই জাহান্নামী। চিত্রকর যতটা (প্রাণীর) চিত্র অঙ্কন করবে, তার প্রত্যেকটির বদলে একটি করে প্রাণ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে তাকে জাহান্নামে শাস্তি দেয়া হবে”।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস  হতে বর্ণিত ‘মারফু’ হাদীছে এসেছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«مَنْ صَوَّرَ صُورَةً فِي الدُّنْيَا كُلِّفَ أَنْ يَنْفُخَ فِيهَا الرُّوحَ، وَلَيْسَ بِنَافِخٍ».
যে ব্যক্তি দুনিয়াতে কোন প্রাণীর চিত্র অঙ্কন করবে, ক্বিয়ামতের দিন তাকে ঐ চিত্রে আত্মা দেয়ার জন্য বাধ্য করা হবে। অথচ সে আত্মা দিতে সক্ষম হবে না।

ছহীহ মুসলিমে আবুল হাইয়াজ আল-আসা‘দী হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আলী  একদা আমাকে বললেন,
«أَلا أَبْعَثُكَ عَلَى مَا بَعَثَنِي عَلَيْهِ رَسُولُ اللَّهِ؟: أَنْ لا تَدَعَ صُورَةً إِلا طَمَسْتَهَا، وَلا قَبْرًا مُشْرِفًا إِلا سَوَّيْتَهُ».
‘আমি কি তোমাকে এমন কাজে পাঠাবো না, যে কাজে স্বয়ং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাকে পাঠিয়ে ছিলেন? সে কাজটি হচ্ছে, ‘তুমি কোন প্রাণীর ছবি দেখলেই তা বিলুপ্ত না করে ছাড়বে না। আর কোন উঁচু কবরকে মাটির সমান না করে ছাড়বে না’।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ছবি অঙ্কনকারীদের ব্যাপারে কঠোর হুমকি ও শাস্তির কথা বর্ণিত হয়েছে।
২) ছবি বানানো থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করার কারণও বলে দেয়া হয়েছে। এখানে কঠোরতা অবলম্বনের কারণ হচ্ছে, ছবি নির্মাণে আল্লাহর সাথে বেআদবী হয়। আল্লাহ তা‘আলা হাদীছে কুদসীতে বলেন, «وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنْ ذَهَبَ يَخْلُقُ كَخَلْقِي» “ঐ ব্যক্তির চেয়ে বড় যালেম আর কে হতে পারে, যে আমার সৃষ্টির মতো সৃষ্টি করতে চায়?
৩) এখানে সৃষ্টি করার ব্যাপারে আল্লাহর কুদরত বা ক্ষমতার প্রতি সতর্ক করা হয়েছে। অপরদিকে বান্দা যে এতে সম্পূর্ণ অক্ষম তা বলা হয়েছে। তাই আল্লাহ তা‘আলা ছবি প্রস্তুতকারীদেরকে বলেছেন, ‘তোমাদের ক্ষমতা থাকলে তোমরা একটা অণু অথবা একটা দানা কিংবা একটা যবের দানা তৈরী করে নিয়ে এসো’।
৪) সুস্পষ্ট করে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ক্বিয়ামতের দিন চিত্রকরদের সবচেয়ে কঠিন শাস্তি হবে।
৫) চিত্রকর যতটা প্রাণীর ছবি আঁকবে, ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহ তা‘আলা তাকে শাস্তি দেয়ার জন্য ততটা প্রাণ সৃষ্টি করবেন এবং এর দ্বারাই জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেয়া হবে।
৬) অঙ্কিত ছবিতে রূহ দেয়ার জন্য চিত্রকরকে বাধ্য করা হবে।
৭) প্রাণীর ছবি পাওয়া গেলেই তা ধ্বংস করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

টিকাঃ
195. ছহীহ বুখারী হা/৫৯৫৩, ছহীহ মুসলিম হা/২১১১।
196. ছহীহ বুখারী হা/৫৯৫৪, ছহীহ মুসলিম হা/২১১০।
197. ছহীহ বুখারী হা/২২২৫, ছহীহ মুসলিম হা/২১১০।
198. ছহীহ বুখারী হা/৫৯৬৩, মুসলিম হা/২১১০।
199. ছহীহ: মুসলিম হা/৯৬৯, নাসাঈ হা/২০৩১।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৬১. বেশী বেশী কসম করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে

📄 ৬১. বেশী বেশী কসম করা সম্পর্কে যা বর্ণিত হয়েছে


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾
“তোমরা যে সমস্ত অর্থহীন কসম খেয়ে থাকো, সেসবের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না। কিন্তু তোমরা জেনেশুনে যেসব কসম খাও সেগুলোর উপর তিনি অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। (এ ধরনের কসম ভেঙে ফেলার) কাফফারা এই যে, দশজন মিসকীনকে এমন মধ্যম মানের খাদ্য প্রদান করবে; যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে খেতে দিয়ে থাকো অথবা তাদেরকে কাপড় পরাও অথবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন ছিয়াম রাখবে। এ হচ্ছে তোমাদের কসমের কাফফারা যখন শপথ করে তা ভেঙে ফেলো। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ সংরক্ষণ করো। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশনাবলী বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও”। (সূরা আল মায়িদা: ৮৯)
আবু হুরায়রা  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একথা বলতে শুনেছি,
«الْحَلِفُ مَنْفَقَةٌ لِلسِّلْعَةِ، مَمْحَقَةٌ لِلْكَسْبِ».
“মিথ্যা শপথ ব্যবসায়িক পণ্য দ্রুত বিক্রি হতে সাহায্য করে ঠিকই; কিন্তু তা লাভ ধ্বংসকারী।” ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।200
সালমান  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«ثَلاثَةٌ لا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ: أُشَيْمِطٌ زَانٍ، وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ، وَرَجُلٌ جَعَلَ اللَّهَ بِضَاعَتَهُ، لا يَشْتَرِي إِلا بِيَمِينِهِ، وَلا يَبِيعُ إِلا بِيَمِينِهِ»
“তিন শ্রেণীর লোকদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে গুনাহ হতে পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তারা হচ্ছে, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী গরীব, আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ব্যবসার পণ্য বানিয়েছে। আল্লাহর নামে কসম করা ব্যতীত সে পণ্য ক্রয় করে না, কসম করা ব্যতীত পণ্য বিক্রিও করে না”। ইমাম তাবরানী ছহীহ সনদে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।201
ছহীহ বুখারীতে ইমরান বিন হুসাইন  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، قَالَ عِمْرَانُ: فَلا أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا، ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذِرُونَ وَلا يُوفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ».
“আমার উম্মতের সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার ছাহাবীগণ। অতঃপর উত্তম হচ্ছে তাদের পরবর্তীতে আগমনকারীগণ। অতঃপর উত্তম হচ্ছে যারা তাদের পরবর্তীতে আসবে। ইমরান বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরে দুই যুগের কথা বলেছেন নাকি তিন যুগের কথা বলেছেন তা আমি বলতে পারছি না। অতঃপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর তোমাদের পরে এমন সব লোক আসবে, যাদেরকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা না হলেও সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এগিয়ে আসবে, তারা খিয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না। তারা মানত করবে, কিন্তু তা পূরণ করবে না। আর তাদের মধ্যে মোটা মানুষ দেখা দিবে”।202
ছহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ».
“সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার যুগের মানুষ। এরপর উত্তম হলো এর পরবর্তীতে আগমনকারী লোকেরা। তারপর উত্তম হলো যারা তাদের পরবর্তীতে আসবে। অতঃপর এমন এক জাতির আগমন ঘটবে, যাদের কারো সাক্ষ্য কসমের আগেই হয়ে যাবে, আবার কখনো কসম সাক্ষ্যের আগেই হয়ে যাবে”। অর্থাৎ কসম ও সাক্ষ্যের মধ্যে কোন মিল থাকবে না। কসম ও সাক্ষ্য উভয়টাই মিথ্যা হবে।
ইবরাহীম নখয়ী বলেন:
«كَانُوا يَضْرِبُونَنَا عَلَى الشَّهَادَةِ وَالْعَهْدِ وَنَحْنُ صِغَارٌ».
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন সাক্ষ্য, শপথ এবং ওয়াদা-অঙ্গীকারের হিফাযত করার জন্য অভিভাবকগণ আমাদেরকে প্রহার করতেন। ছহীহ বুখারী হা/২৬৫২।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) কসম সংরক্ষণের উপদেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কসম করলে তা পূরণ করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
২) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, মিথ্যা কসমের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পণ্য দ্রুত বিক্রি হয় ঠিকই, কিন্তু তা হতে বরকত উঠে যায়।
৩) যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম ছাড়া ক্রয় বিক্রি করে না তাকে কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে।
৪) এখানে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, গুনাহ করার জন্য উপযুক্ত শক্তি এবং উপকরণ কম থাকার পরও যদি কেউ গুনাহ করে তাহলে তার ছোট গুনাহও বড় আকার ধারণ করে। অর্থাৎ বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হওয়ার ফলে মানুষের যৌন আগ্রহে ও শক্তিতে ভাটা পড়ে। তখন ব্যভিচার করার মত পর্যাপ্ত শক্তি ও আগ্রহ না থাকারই কথা। এরপরও যেই বৃদ্ধলোক এই কাজ করবে, তার শাস্তি ভয়াবহ হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ জীবনের শেষ মুহূর্তে উপনীত হয়ে সদা আখিরাতের চিন্তা করা উচিত, সৎকর্মে মশগুল থাকা জরুরী এবং আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকা আবশ্যক। যখন কোন বৃদ্ধ তা না করে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার পরও পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে, তার জন্য সেই পাপ কাজ নিশ্চয়ই ভয়াবহ লাঞ্ছনা ও গ্লানি ডেকে আনবে।
৫) কসম খেতে বলার আগেই যারা কসম খায়, তাদের নিন্দা করা হয়েছে।
৬) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন যুগের অর্থাৎ ছাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীদের প্রশংসা করেছেন। এই তিন যুগের পরে যে সমস্ত জঞ্জাল, বিদ‘আত এবং অন্যান্য অপকর্ম হবে, তিনি তা আগেই বলে দিয়েছেন।
৭) সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা না হলেও যারা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে এখানে তাদেরও নিন্দা করা হয়েছে।
৮) সালফে ছলেহীনগণ শিশুদেরকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে প্রতিপালন করতেন। সাক্ষ্য দেয়া, শপথ করা এবং ওয়াদা-অঙ্গীকারের উপর কায়িম থাকার জন্য তারা বাচ্চাদেরকে প্রহারও করতেন।

টিকাঃ
200. ছহীহ বুখারী হা/২০৮৭, মুসলিম হা/১৬০৬, আবু দাউদ হা/৩৩৩৫।
201. ছহীহ: আলবানী, ছহীহুল জামি হা/৩০৬৭, ছহীহুত্ব তারগীব ও তারহীব, হা/১৭৮৮।
202. অর্থাৎ আখেরি যামানায় মানুষের দ্বীনী চেতনা দুর্বল হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে তারা ভোগ-বিলাসী হয়ে উঠবে। ফলে তারা অতিভোজী হবে। এতে তাদের দেহ খুব মোটা হয়ে যাবে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমবে। হাদীসে অতিভোজের মাধ্যমে শরীর মোটা করাকে নিন্দা করা হয়েছে। কেননা মাত্রাতিরিক্ত মোটা মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কম বুদ্ধিসম্পন্ন হয় এবং শরীর ভারী হওয়ার কারণে ইবাদত-বন্দেগী ঠিক মত করতে পারে না।

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿لا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَكِنْ يُؤَاخِذُكُمْ بِمَا عَقَّدْتُمُ الأَيْمَانَ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلاثَةِ أَيَّامٍ ذَلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ كَذَلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾
“তোমরা যে সমস্ত অর্থহীন কসম খেয়ে থাকো, সেসবের জন্য আল্লাহ তোমাদেরকে পাকড়াও করেন না। কিন্তু তোমরা জেনেশুনে যেসব কসম খাও সেগুলোর উপর তিনি অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। (এ ধরনের কসম ভেঙে ফেলার) কাফফারা এই যে, দশজন মিসকীনকে এমন মধ্যম মানের খাদ্য প্রদান করবে; যা তোমরা স্বীয় পরিবারকে খেতে দিয়ে থাকো অথবা তাদেরকে কাপড় পরাও অথবা একজন ক্রীতদাস মুক্ত করে দিবে। আর যে ব্যক্তি এর সামর্থ্য রাখে না, সে তিন দিন ছিয়াম রাখবে। এ হচ্ছে তোমাদের কসমের কাফফারা যখন শপথ করে তা ভেঙে ফেলো। তোমরা স্বীয় শপথসমূহ সংরক্ষণ করো। এমনিভাবে আল্লাহ তোমাদের জন্য স্বীয় নির্দেশনাবলী বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা কৃতজ্ঞ হও”। (সূরা আল মায়িদা: ৮৯)
আবু হুরায়রা  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আমি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে একথা বলতে শুনেছি,
«الْحَلِفُ مَنْفَقَةٌ لِلسِّلْعَةِ، مَمْحَقَةٌ لِلْكَسْبِ».
“মিথ্যা শপথ ব্যবসায়িক পণ্য দ্রুত বিক্রি হতে সাহায্য করে ঠিকই; কিন্তু তা লাভ ধ্বংসকারী।” ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।200
সালমান  থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
«ثَلاثَةٌ لا يُكَلِّمُهُمُ اللَّهُ وَلا يُزَكِّيهِمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ: أُشَيْمِطٌ زَانٍ، وَعَائِلٌ مُسْتَكْبِرٌ، وَرَجُلٌ جَعَلَ اللَّهَ بِضَاعَتَهُ، لا يَشْتَرِي إِلا بِيَمِينِهِ، وَلا يَبِيعُ إِلا بِيَمِينِهِ»
“তিন শ্রেণীর লোকদের সাথে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কথা বলবেন না, তাদেরকে গুনাহ হতে পবিত্র করবেন না; বরং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। তারা হচ্ছে, বৃদ্ধ ব্যভিচারী, অহংকারী গরীব, আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে ব্যবসার পণ্য বানিয়েছে। আল্লাহর নামে কসম করা ব্যতীত সে পণ্য ক্রয় করে না, কসম করা ব্যতীত পণ্য বিক্রিও করে না”। ইমাম তাবরানী ছহীহ সনদে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।201
ছহীহ বুখারীতে ইমরান বিন হুসাইন  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«خَيْرُ أُمَّتِي قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، قَالَ عِمْرَانُ: فَلا أَدْرِي أَذَكَرَ بَعْدَ قَرْنِهِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاثًا، ثُمَّ إِنَّ بَعْدَكُمْ قَوْمًا يَشْهَدُونَ وَلا يُسْتَشْهَدُونَ، وَيَخُونُونَ وَلا يُؤْتَمَنُونَ، وَيَنْذِرُونَ وَلا يُوفُونَ، وَيَظْهَرُ فِيهِمُ السِّمَنُ».
“আমার উম্মতের সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার ছাহাবীগণ। অতঃপর উত্তম হচ্ছে তাদের পরবর্তীতে আগমনকারীগণ। অতঃপর উত্তম হচ্ছে যারা তাদের পরবর্তীতে আসবে। ইমরান বলেন: রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার পরে দুই যুগের কথা বলেছেন নাকি তিন যুগের কথা বলেছেন তা আমি বলতে পারছি না। অতঃপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, অতঃপর তোমাদের পরে এমন সব লোক আসবে, যাদেরকে সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা না হলেও সাক্ষ্য দেয়ার জন্য এগিয়ে আসবে, তারা খিয়ানত করবে, আমানত রক্ষা করবে না। তারা মানত করবে, কিন্তু তা পূরণ করবে না। আর তাদের মধ্যে মোটা মানুষ দেখা দিবে”।202
ছহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ  হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«خَيْرُ النَّاسِ قَرْنِي، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ الَّذِينَ يَلُونَهُمْ، ثُمَّ يَجِيءُ قَوْمٌ تَسْبِقُ شَهَادَةُ أَحَدِهِمْ يَمِينَهُ، وَيَمِينُهُ شَهَادَتَهُ».
“সর্বোত্তম মানুষ হচ্ছে আমার যুগের মানুষ। এরপর উত্তম হলো এর পরবর্তীতে আগমনকারী লোকেরা। তারপর উত্তম হলো যারা তাদের পরবর্তীতে আসবে। অতঃপর এমন এক জাতির আগমন ঘটবে, যাদের কারো সাক্ষ্য কসমের আগেই হয়ে যাবে, আবার কখনো কসম সাক্ষ্যের আগেই হয়ে যাবে”। অর্থাৎ কসম ও সাক্ষ্যের মধ্যে কোন মিল থাকবে না। কসম ও সাক্ষ্য উভয়টাই মিথ্যা হবে।
ইবরাহীম নখয়ী বলেন:
«كَانُوا يَضْرِبُونَنَا عَلَى الشَّهَادَةِ وَالْعَهْدِ وَنَحْنُ صِغَارٌ».
আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন সাক্ষ্য, শপথ এবং ওয়াদা-অঙ্গীকারের হিফাযত করার জন্য অভিভাবকগণ আমাদেরকে প্রহার করতেন। ছহীহ বুখারী হা/২৬৫২।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) কসম সংরক্ষণের উপদেশ দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ কসম করলে তা পূরণ করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
২) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, মিথ্যা কসমের মাধ্যমে ব্যবসায়িক পণ্য দ্রুত বিক্রি হয় ঠিকই, কিন্তু তা হতে বরকত উঠে যায়।
৩) যে ব্যক্তি মিথ্যা কসম ছাড়া ক্রয় বিক্রি করে না তাকে কঠিন শাস্তির ভয় দেখানো হয়েছে।
৪) এখানে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, গুনাহ করার জন্য উপযুক্ত শক্তি এবং উপকরণ কম থাকার পরও যদি কেউ গুনাহ করে তাহলে তার ছোট গুনাহও বড় আকার ধারণ করে। অর্থাৎ বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হওয়ার ফলে মানুষের যৌন আগ্রহে ও শক্তিতে ভাটা পড়ে। তখন ব্যভিচার করার মত পর্যাপ্ত শক্তি ও আগ্রহ না থাকারই কথা। এরপরও যেই বৃদ্ধলোক এই কাজ করবে, তার শাস্তি ভয়াবহ হওয়াই স্বাভাবিক। কারণ জীবনের শেষ মুহূর্তে উপনীত হয়ে সদা আখিরাতের চিন্তা করা উচিত, সৎকর্মে মশগুল থাকা জরুরী এবং আল্লাহর ভয়ে ভীত থাকা আবশ্যক। যখন কোন বৃদ্ধ তা না করে শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়ার পরও পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে, তার জন্য সেই পাপ কাজ নিশ্চয়ই ভয়াবহ লাঞ্ছনা ও গ্লানি ডেকে আনবে।
৫) কসম খেতে বলার আগেই যারা কসম খায়, তাদের নিন্দা করা হয়েছে।
৬) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিন যুগের অর্থাৎ ছাহাবী, তাবেয়ী এবং তাবে-তাবেয়ীদের প্রশংসা করেছেন। এই তিন যুগের পরে যে সমস্ত জঞ্জাল, বিদ‘আত এবং অন্যান্য অপকর্ম হবে, তিনি তা আগেই বলে দিয়েছেন।
৭) সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ডাকা না হলেও যারা সাক্ষ্য দেয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে এখানে তাদেরও নিন্দা করা হয়েছে।
৮) সালফে ছলেহীনগণ শিশুদেরকে বিশেষ গুরুত্বের সাথে প্রতিপালন করতেন। সাক্ষ্য দেয়া, শপথ করা এবং ওয়াদা-অঙ্গীকারের উপর কায়িম থাকার জন্য তারা বাচ্চাদেরকে প্রহারও করতেন।

টিকাঃ
200. ছহীহ বুখারী হা/২০৮৭, মুসলিম হা/১৬০৬, আবু দাউদ হা/৩৩৩৫।
201. ছহীহ: আলবানী, ছহীহুল জামি হা/৩০৬৭, ছহীহুত্ব তারগীব ও তারহীব, হা/১৭৮৮।
202. অর্থাৎ আখেরি যামানায় মানুষের দ্বীনী চেতনা দুর্বল হবে এবং তাদের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। এতে করে তারা ভোগ-বিলাসী হয়ে উঠবে। ফলে তারা অতিভোজী হবে। এতে তাদের দেহ খুব মোটা হয়ে যাবে এবং শরীরে অতিরিক্ত চর্বি জমবে। হাদীসে অতিভোজের মাধ্যমে শরীর মোটা করাকে নিন্দা করা হয়েছে। কেননা মাত্রাতিরিক্ত মোটা মানুষ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কম বুদ্ধিসম্পন্ন হয় এবং শরীর ভারী হওয়ার কারণে ইবাদত-বন্দেগী ঠিক মত করতে পারে না।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৬২. আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে

📄 ৬২. আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মার ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ﴾
“আর যখনই তোমরা আল্লাহর সাথে কোন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং নিজেদের কসম দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না। তোমরা তো আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত”। (সূরা আন নাহল: ৯১)
বুরাইদাহ  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْ سَرِيَّةٍ، أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا.
فَقَالَ: «اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ. اغْزُوا، وَلا تَغُلُّوا, وَلا تَغْدِرُوا, وَلا تُمَثِّلُوا، وَلا تَقْتُلُوا وَلِيدًا. وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلاثِ خِصَالٍ (أَوْ: خِلالٍ)، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ.
ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ. وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ، فَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا مِنْهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ، يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ تَعَالَى الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ، إِلا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ.
فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْأَلْهُمُ الْجِزْيَةَ، فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ. وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ، وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ، فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّتَكُمْ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ.
وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، فَلا تُنْزِلْهُمْ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ، فَإِنَّكَ لا تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় কিংবা ছোট কোন যুদ্ধে যখন সেনবাহিনীতে কাউকে আমীর বা সেনাপতি নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে ‘তাকওয়ার’ উপদেশ দিতেন এবং তার সাথে যে সব মুসলিম থাকতো তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করার হুকুম করতেন। অতঃপর তিনি বলতেন,
“তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। তোমরা যুদ্ধ করো, কিন্তু খিয়ানত করো না (গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করো না), বিশ্বাস ঘাতকতা করো না, তোমরা শত্রুর নাক-কান কেটো না বা অঙ্গ বিকৃত করো না এবং কোন শিশুকে হত্যা করো না। তুমি যখন তোমার কোন মুশরিক শত্রু বাহিনীর মোকাবেলা করবে, তখন তিনটি বিষয়ের দিকে তাদেরকে আহ্বান জানাবে। যে কোন একটি বিষয়ে তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দিলে তা গ্রহণ করে নিও, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে দিও। তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করো। যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দেয়, তাহলে তাদেরকে গ্রহণ করে নিও। এরপর তাদেরকে তাদের বাড়ী-ঘর ছেড়ে দারুল মুহাজিরীনে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাও। হিজরত করলে তাদেরকে একথা জানিয়ে দাও, ‘মুহাজিরদের জন্য যে অধিকার রয়েছে, তাদেরও সে অধিকার আছে, সাথে সাথে মুহাজিরদের যা করণীয় তাদেরও তাই করণীয়।
আর যদি তারা হিজরতের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে, তাহলে তাদেরকে বলে দিও যে, তারা গ্রাম্য সাধারণ মুসলিমের মর্যাদা পাবে। তাদের উপর আল্লাহর হুকুম-আহকাম জারি হবে। তবে ‘গনীমত’ (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) এবং ‘ফাই’ (যুদ্ধ ছাড়াই কাফের-মুশরিকদের নিকট থেকে যেই সম্পদ অর্জিত হয় তা) থেকে তারা কোন অংশ পাবে না। তবে তারা যদি মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে, সে কথা ভিন্ন। অর্থাৎ তখন গনীমতের অংশ পাবে।
তারা যদি ইসলামে দাখিল হতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের কাছে জিযিয়া (কর) দাবি করো। তারা যদি কর দিতে সম্মত হয়, তবে তা গ্রহণ করো, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করো।
কিন্তু যদি কর দিতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
অতঃপর নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমীরকে নছীহত স্বরূপ বলতেন: তুমি যখন কোন দুর্গের লোকদেরকে অবরোধ করবে, তখন দুর্গের লোকেরা যদি চায় যে, তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাযত ও নিরাপত্তায়) রেখে দিবে, তবে তুমি কিন্তু তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাজতে) রাখবে না বরং তোমার এবং তোমার সঙ্গী-সাথীদের যিম্মায় রেখে দিও। কারণ, তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করা আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার চেয়ে অধিক সহজ।
আর তুমি যখন কোন দুর্গের অধিবাসীদেরকে অবরোধ করবে, তখন তারা যদি চায়, তুমি তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে, তাহলে তুমি কখনই আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে না; বরং তুমি তাদেরকে তোমার নিজের হুকুম মানতে বাধ্য করবে। কারণ তুমি জানো না যে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফায়সালা করতে পারবে কি না।”203
ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর যিম্মা, নবীর যিম্মা এবং মুমিনদের যিম্মার মধ্যে পার্থক্য। আল্লাহর যিম্মা (অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার অপরাধ মানুষের যিম্মা ভঙ্গ করার অপরাধের চেয়ে অনেক বড়।
২) দু’টি বিপদজনক বিষয়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক বিষয়টি গ্রহণ করার প্রতি দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৩) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ: তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো।
৪) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরো নির্দেশ হচ্ছে, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৫) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুকুম: তুমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৬) আল্লাহর হুকুম এবং আলিমদের হুকুমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৭) প্রয়োজন বশতঃ ছাহাবীর জন্য এমন ফায়সালা করা জায়েয, যার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয় যে, তা আল্লাহর হুকুমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না।

টিকাঃ
203. ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৩১।

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدْتُمْ وَلا تَنْقُضُوا الأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلا إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ﴾
“আর যখনই তোমরা আল্লাহর সাথে কোন অঙ্গীকার করো তখন আল্লাহর সেই অঙ্গীকার পূর্ণ করো এবং নিজেদের কসম দৃঢ় করার পর তা ভঙ্গ করো না। তোমরা তো আল্লাহকে নিজেদের উপর সাক্ষী বানিয়ে নিয়েছো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত”। (সূরা আন নাহল: ৯১)
বুরাইদাহ  হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
كَانَ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَمَّرَ أَمِيرًا عَلَى جَيْشٍ أَوْ سَرِيَّةٍ، أَوْصَاهُ بِتَقْوَى اللَّهِ، وَمَنْ مَعَهُ مِنَ الْمُسْلِمِينَ خَيْرًا.
فَقَالَ: «اغْزُوا بِاسْمِ اللَّهِ فِي سَبِيلِ اللَّهِ، قَاتِلُوا مَنْ كَفَرَ بِاللَّهِ. اغْزُوا، وَلا تَغُلُّوا, وَلا تَغْدِرُوا, وَلا تُمَثِّلُوا، وَلا تَقْتُلُوا وَلِيدًا. وَإِذَا لَقِيتَ عَدُوَّكَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ فَادْعُهُمْ إِلَى ثَلاثِ خِصَالٍ (أَوْ: خِلالٍ)، فَأَيَّتُهُنَّ مَا أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى الإِسْلامِ، فَإِنْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ.
ثُمَّ ادْعُهُمْ إِلَى التَّحَوُّلِ مِنْ دَارِهِمْ إِلَى دَارِ الْمُهَاجِرِينَ. وَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ إِنْ فَعَلُوا ذَلِكَ فَلَهُمْ مَا لِلْمُهَاجِرِينَ، وَعَلَيْهِمْ مَا عَلَى الْمُهَاجِرِينَ، فَإِنْ أَبَوْا أَنْ يَتَحَوَّلُوا مِنْهَا فَأَخْبِرْهُمْ أَنَّهُمْ يَكُونُونَ كَأَعْرَابِ الْمُسْلِمِينَ، يَجْرِي عَلَيْهِمْ حُكْمُ اللَّهِ تَعَالَى الَّذِي يَجْرِي عَلَى الْمُؤْمِنِينَ، وَلا يَكُونُ لَهُمْ فِي الْغَنِيمَةِ وَالْفَيْءِ شَيْءٌ، إِلا أَنْ يُجَاهِدُوا مَعَ الْمُسْلِمِينَ.
فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْأَلْهُمُ الْجِزْيَةَ، فَإِنْ هُمْ أَجَابُوكَ فَاقْبَلْ مِنْهُمْ وَكُفَّ عَنْهُمْ، فَإِنْ هُمْ أَبَوْا فَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ وَقَاتِلْهُمْ. وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تَجْعَلَ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ فَلا تَجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ، وَلَكِنِ اجْعَلْ لَهُمْ ذِمَّتَكَ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكَ، فَإِنَّكُمْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّتَكُمْ وَذِمَّةَ أَصْحَابِكُمْ أَهْوَنُ مِنْ أَنْ تُخْفِرُوا ذِمَّةَ اللَّهِ وَذِمَّةَ نَبِيِّهِ.
وَإِذَا حَاصَرْتَ أَهْلَ حِصْنٍ فَأَرَادُوكَ أَنْ تُنْزِلَهُمْ عَلَى حُكْمِ اللَّهِ، فَلا تُنْزِلْهُمْ وَلَكِنْ أَنْزِلْهُمْ عَلَى حُكْمِكَ، فَإِنَّكَ لا تَدْرِي أَتُصِيبُ فِيهِمْ حُكْمَ اللَّهِ أَمْ لا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
“রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় কিংবা ছোট কোন যুদ্ধে যখন সেনবাহিনীতে কাউকে আমীর বা সেনাপতি নিযুক্ত করতেন, তখন তাকে ‘তাকওয়ার’ উপদেশ দিতেন এবং তার সাথে যে সব মুসলিম থাকতো তাদের সাথে ভাল ব্যবহার করার হুকুম করতেন। অতঃপর তিনি বলতেন,
“তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো। যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করো। তোমরা যুদ্ধ করো, কিন্তু খিয়ানত করো না (গনীমতের মাল বন্টনের পূর্বে আত্মসাৎ করো না), বিশ্বাস ঘাতকতা করো না, তোমরা শত্রুর নাক-কান কেটো না বা অঙ্গ বিকৃত করো না এবং কোন শিশুকে হত্যা করো না। তুমি যখন তোমার কোন মুশরিক শত্রু বাহিনীর মোকাবেলা করবে, তখন তিনটি বিষয়ের দিকে তাদেরকে আহ্বান জানাবে। যে কোন একটি বিষয়ে তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দিলে তা গ্রহণ করে নিও, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করে দিও। তাদেরকে ইসলামের দিকে আহ্বান করো। যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া দেয়, তাহলে তাদেরকে গ্রহণ করে নিও। এরপর তাদেরকে তাদের বাড়ী-ঘর ছেড়ে দারুল মুহাজিরীনে স্থানান্তরিত হওয়ার জন্য আহ্বান জানাও। হিজরত করলে তাদেরকে একথা জানিয়ে দাও, ‘মুহাজিরদের জন্য যে অধিকার রয়েছে, তাদেরও সে অধিকার আছে, সাথে সাথে মুহাজিরদের যা করণীয় তাদেরও তাই করণীয়।
আর যদি তারা হিজরতের মাধ্যমে স্থান পরিবর্তন করতে অস্বীকার করে, তাহলে তাদেরকে বলে দিও যে, তারা গ্রাম্য সাধারণ মুসলিমের মর্যাদা পাবে। তাদের উপর আল্লাহর হুকুম-আহকাম জারি হবে। তবে ‘গনীমত’ (যুদ্ধলব্ধ সম্পদ) এবং ‘ফাই’ (যুদ্ধ ছাড়াই কাফের-মুশরিকদের নিকট থেকে যেই সম্পদ অর্জিত হয় তা) থেকে তারা কোন অংশ পাবে না। তবে তারা যদি মুসলিমদের সাথে জিহাদে অংশ গ্রহণ করে, সে কথা ভিন্ন। অর্থাৎ তখন গনীমতের অংশ পাবে।
তারা যদি ইসলামে দাখিল হতে অস্বীকার করে তাহলে তাদের কাছে জিযিয়া (কর) দাবি করো। তারা যদি কর দিতে সম্মত হয়, তবে তা গ্রহণ করো, আর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করো।
কিন্তু যদি কর দিতে অস্বীকার করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
অতঃপর নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমীরকে নছীহত স্বরূপ বলতেন: তুমি যখন কোন দুর্গের লোকদেরকে অবরোধ করবে, তখন দুর্গের লোকেরা যদি চায় যে, তুমি তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাযত ও নিরাপত্তায়) রেখে দিবে, তবে তুমি কিন্তু তাদেরকে আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মায় (হিফাজতে) রাখবে না বরং তোমার এবং তোমার সঙ্গী-সাথীদের যিম্মায় রেখে দিও। কারণ, তোমার এবং তোমার সাথীদের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করা আল্লাহ ও তার রসূলের যিম্মা (নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার চেয়ে অধিক সহজ।
আর তুমি যখন কোন দুর্গের অধিবাসীদেরকে অবরোধ করবে, তখন তারা যদি চায়, তুমি তাদেরকে আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে, তাহলে তুমি কখনই আল্লাহর হুকুমের উপর ছেড়ে দিবে না; বরং তুমি তাদেরকে তোমার নিজের হুকুম মানতে বাধ্য করবে। কারণ তুমি জানো না যে, তাদের ব্যাপারে আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী ফায়সালা করতে পারবে কি না।”203
ইমাম মুসলিম এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর যিম্মা, নবীর যিম্মা এবং মুমিনদের যিম্মার মধ্যে পার্থক্য। আল্লাহর যিম্মা (অঙ্গীকার ও নিরাপত্তা) ভঙ্গ করার অপরাধ মানুষের যিম্মা ভঙ্গ করার অপরাধের চেয়ে অনেক বড়।
২) দু’টি বিপদজনক বিষয়ের মধ্যে অপেক্ষাকৃত কম বিপদজনক বিষয়টি গ্রহণ করার প্রতি দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৩) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ: তোমরা আল্লাহর নামে আল্লাহর রাস্তায় যুদ্ধ করো।
৪) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আরো নির্দেশ হচ্ছে, যারা আল্লাহর সাথে কুফরী করে, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৫) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হুকুম: তুমি আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও এবং কাফিরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করো।
৬) আল্লাহর হুকুম এবং আলিমদের হুকুমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
৭) প্রয়োজন বশতঃ ছাহাবীর জন্য এমন ফায়সালা করা জায়েয, যার ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয় যে, তা আল্লাহর হুকুমের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ কি না।

টিকাঃ
203. ছহীহ মুসলিম, হা/১৭৩১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00