📄 ৫৩. আমার বান্দা (দাস) এবং আমার বান্দী (দাসী) বলবে না
আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: أَطْعِمْ رَبَّكَ، وَضِّئْ رَبَّكَ، وَلا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: سَيِّدِي وَمَوْلايَ، وَلْيَقُلْ: فَتَايَ وَفَتَاتِي وَغُلامِي».
“তোমাদের কেউ যেন না বলে, ‘তোমার প্রভুকে খাবার দাও’ ‘তোমার প্রভুকে অযু করাও’, তোমার প্রভুকে পান করাও। বরং সে যেন বলে, ‘আমার সরদার’ ‘আমার মনিব’। তোমাদের কেউ যেন না বলে ‘আমার বান্দা (দাস)’ ‘আমার (বান্দী) দাসী’। বরং সে যেন বলে, ‘আমার সেবক, আমার সেবিকা, আমার গোলাম (চাকর)”।184
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়
১) আমার (বান্দা) দাস এবং আমার বান্দী (দাসী) বলা নিষিদ্ধ।
২) কোন গোলাম যেন তার মনিবকে আমার রব (প্রভু) না বলে। এ কথাও যেন না বলা হয়, ‘তোমার রবকে আহার করাও’।
৩) মনিবকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, তিনি যেন তার মালিকানাধীন গোলামকে আমার সেবক, আমার সেবিকা এবং আমার গোলাম বলে।
টিকাঃ
184. ছহীহ বুখারী হা/২৫৫২, মুসলিম হা/২২৪৯।
📄 ৫৪. আল্লাহর নাম নিয়ে (আল্লাহর ওয়াস্তে) সাহায্য চাইলে ভিক্ষুককে মাহরূম করা যাবে না
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«مَنْ سَأَلَ بِاللَّهِ فَأَعْطُوهُ، وَمَنِ اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ فَأَعِيذُوهُ، وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ، وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِئُوهُ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ».
“যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে সাহায্য চায় তাকে সাধ্যানুযায়ী দান করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিয়ে (আল্লাহর ওয়াস্তে) আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাকে তোমরা আশ্রয় দাও। যে তোমাদেরকে ডাকে তার দাওয়াত কবুল করো। যে ব্যক্তি তোমাদের জন্য ভাল কাজ করে, তার যথোপযুক্ত প্রতিদান দাও। তার প্রতিদানের জন্য যদি তোমরা কিছুই না পাও, তাহলে তার জন্য দু‘আ করো, যাতে তোমরা বুঝতে পার যে, তোমরা তার প্রতিদান দিতে পেরেছো”। ইমাম আবু দাউদ ও নাসাঈ হাদীছটি ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।185
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর নামের উসীলায় কেউ আশ্রয় প্রার্থনা করলে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনাকারীকে আশ্রয় দান করার হুকুম করেছেন।
২) আল্লাহর নামে (ওয়াস্তে) সাহায্য প্রার্থনাকারীকে সাহায্য প্রদান করা উচিত।
৩) দাওয়াত কবুল করা কিংবা ভাল কাজের আহ্বানে সাড়া দেয়া ওয়াজিব।
৪) ভাল কাজের প্রতিদান দেয়া উচিত।
৫) ভাল কাজের প্রতিদানে অক্ষম হলে উপকার সাধনকারীর জন্য দু‘আ করা।
৬) উপকার সাধনকারীর জন্য এই পরিমাণ দু‘আ করা, যাতে মনে হয়, যথোপযুক্ত প্রতিদান দেয়া হয়েছে। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: قَدْ أَنَّكُمْ تَرَوْا حَتَّى كَافَأْتُمُوهُ দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে।
টিকাঃ
185. ছহীহ: আবু দাউদ হা/১৬৭২, অধ্যায়: সায়েলকে দান করা।
📄 ৫৫. আল্লাহর চেহারার উসীলা দিয়ে (আল্লাহর দোহাই দিয়ে) একমাত্র জান্নাত ব্যতীত কিছুই প্রার্থনা করা যায় না
জাবির ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا يُسْأَلُ بِوَجْهِ اللَّهِ إِلا الْجَنَّةُ»
“আল্লাহর চেহারার উসীলা দিয়ে একমাত্র জান্নাত ছাড়া অন্য কিছুই চাওয়া যায় না।” ইমাম আবু দাউদ ✈হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।186
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর চেহারার উসীলা দিয়ে সর্বোচ্চ মাকসূদ অর্থাৎ জান্নাত ব্যতীত অন্য কিছু চাওয়া যায় না।
২) এ অধ্যায়ে বর্ণিত দলীল দ্বারা আল্লাহর ‘চেহারা’ নামক ছিফাত সাব্যস্ত হয়।
টিকাঃ
186. যঈফ: আবু দাউদ, অধ্যায়: আল্লাহর চেহারার উসীলা দিয়ে কিছু চাওয়া মাকরূহ। হা/১৬৭১।
📄 ৫৬. বাক্যের মধ্যে ‘যদি’ ব্যবহার সংক্রান্ত আলোচনা
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
﴿يَقُولُونَ لَوْ كَانَ لَنَا مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ مَا قُتِلْنَا هَاهُنَا﴾
“তারা বলে, ‘যদি’ এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় কিছু থাকতো, তাহলে আমরা এখানে নিহত হতাম না” (সূরা আলে ইমরান: ১৫৪) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
﴿الَّذِينَ قَالُوا لإِخْوَانِهِمْ وَقَعَدُوا لَوْ أَطَاعُونَا مَا قُتِلُوا﴾
“যারা ঘরে বসে থেকে তাদের ভাইদেরকে বলে, আমাদের কথা মতো যদি তারা চলতো তাহলে তারা নিহত হতো না। (সূরা আলে-ইমরান: ১৬৮)
ছহীহ মুসলিমে আবু হুরাইরা ✂ হতে বর্ণিত হয়েছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ، وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ، وَلا تَعْجِزَنَّ، وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلا تَقُلْ لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ لَكَانَ كَذَا وَكَذَا، وَلَكِنْ قُلْ: قَدَرُ اللَّهِ وَمَا شَاءَ فَعَلَ، فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ».
“যে জিনিস তোমার উপকার সাধন করবে, তা অর্জন করার জন্য আগ্রহী হও এবং সর্বোচ্চ শ্রম ব্যয় করো এবং সকল বিষয়ে কেবল আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাও। আর এ রকম যেন না হয় যে, তাকদীরের উপর ভরসা করে হাত গুটিয়ে অপারগ হয়ে বসে থাকবে। কল্যাণকর ও উপকারী বস্তু অর্জনে সাধ্যানুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করার পরও যদি তোমার উপর কোন বিপদ এসে পড়ে, তবে কখনও এ কথা বলো না, ‘যদি আমি এ রকম করতাম, তাহলে অবশ্যই এমন হতো’। বরং তুমি এ কথা বলো, ‘আল্লাহ যা তাকদীরে রেখেছেন এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন তাই হয়েছে। কেননা ‘যদি’ কথাটি শয়তানের জন্য কুমন্ত্রণার পথ খুলে দেয়”।187
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আলে-ইমরানের ১৫৪ নং আয়াত এবং ৬৮ নং আয়াতের উল্লেখিত অংশের তাফসীর।
২) কোন বিপদাপদ হলে কিংবা মাকসূদ পূর্ণ না হলে ‘যদি’ শব্দ প্রয়োগ করে কথা বলার উপর সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
৩) لو (যদি) শব্দ উচ্চারণ করা নিষেধ হওয়ার কারণ হল এটি শয়তানের কুমন্ত্রণামূলক কাজের সুযোগ তৈরী করে।
৪) উত্তম কথার প্রতি দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
৫) উপকারী ও কল্যাণকর বস্তু অর্জনে আগ্রহী ও সচেষ্ট হওয়ার সাথে সাথে আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার আদেশ দেয়া হয়েছে।
৬) এর বিপরীত অর্থাৎ ভাল কাজে অপারগতা ও অক্ষমতা প্রদর্শনের উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
টিকাঃ
187. ছহীহ মুসলিম হা/২৬৬৪, অধ্যায়: শক্তিশালী হওয়া এবং অপারগতা প্রকাশ বর্জনের আদেশ।