📄 ৫১. “আসসালামু আলাল্লাহ” আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষিত হোক বলা যাবে না
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে ইবনে মাসউদ ✃ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন:
كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فِي الصَّلاةِ قُلْنَا: السَّلامُ عَلَى اللَّهِ مِنْ عِبَادِهِ، السَّلامُ عَلَى فُلانٍ وَفُلانٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ؟: «لا تَقُولُوا السَّلامُ عَلَى اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلامُ».
“আমরা যখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ছালাতে থাকতাম, তখন আমরা বলতাম, “আল্লাহর উপর তার বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম, অমুক অমুকের উপর সালাম, অমুক ব্যক্তির উপর সালাম”। তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আল্লাহর উপর সালাম (শান্তি বর্ষিত হোক) এমন কথা তোমরা বলো না। কেননা আল্লাহ নিজেই ‘সালাম’।181
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) এই অধ্যায়ে আল্লাহ তা‘আলার নাম ‘সালাম’এর ব্যাখ্যা জানা গেল।
২) ‘সালাম’ হচ্ছে সম্মানজনক সম্ভাষণ।
৩) আল্লাহকে সালাম (সম্ভাষণ)) দেয়া ছহীহ নয়।
৪) আল্লাহ তা‘আলাকে সালাম (সম্ভাষণ) দেয়া নাজায়েয হওয়ার কারণও বলা হয়েছে।
৫) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাহাবায়ে কেরামকে সালামের ঐ তরীকা শিক্ষা দিয়েছেন, যা আল্লাহ তা‘আলার জন্য সমীচীন ও শোভনীয়।
টিকাঃ
181. ছহীহ বুখারী হা/৮৩৫, ছহীহ মুসলিম হা/৪০২।
📄 ৫২. ‘হে আল্লাহ তুমি চাইলে আমাকে মাফ করো’ এভাবে দু‘আ করা প্রসঙ্গে
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা ✃ হতে বর্ণিত আছে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ، اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ، لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ، فَإِنَّ اللَّهَ لا مُكْرِهَ لَهُ».
“তোমাদের কেউ যেন দু‘আ করার সময় এভাবে না বলে, হে আল্লাহ্! তুমি যদি চাও তবে আমাকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ্! তুমি যদি চাও তবে আমার উপর রহমত নাযিল করো; বরং সে যেন দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে দু‘আ করে। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই”।182
ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«وَلْيُعْظِمِ الرَّغْبَةَ، فَإِنَّ اللَّهَ لا يَتَعَاظَمُهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ».
“আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার সময় পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে প্রয়োজন পেশ করা উচিত। কেননা আল্লাহ বান্দাকে যাই দান করেন না কেন তার কোনটাই তার কাছে বড় কিংবা কঠিন নয়”।183
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) দু‘আর মধ্যে ইনশা-আল্লাহ বলা নিষেধ। অর্থাৎ এভাবে দু‘আ করা যে, হে আল্লাহ! তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে ক্ষমা করো, তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে এটা দান কর ইত্যাদি। এভাবে দু‘আ করা অর্থাৎ দু‘আ কবুল করা বা না করার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া নিষেধ।
২) দু‘আতে ইনশা-আল্লাহ বলা নিষেধ হওয়ার কারণ এ অধ্যায়েই বর্ণিত হয়েছে।
৩) দু‘আর মধ্যে দৃঢ়তা থাকা চাই।
টিকাঃ
182. ছহীহ বুখারী হা/৬৩৩৯, ছহীহ মুসলিম হা/২৬৭৯।
183 Q¦nxn gymwjg nv/2679|
📄 ৫৩. আমার বান্দা (দাস) এবং আমার বান্দী (দাসী) বলবে না
আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: أَطْعِمْ رَبَّكَ، وَضِّئْ رَبَّكَ، وَلا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: سَيِّدِي وَمَوْلايَ، وَلْيَقُلْ: فَتَايَ وَفَتَاتِي وَغُلامِي».
“তোমাদের কেউ যেন না বলে, ‘তোমার প্রভুকে খাবার দাও’ ‘তোমার প্রভুকে অযু করাও’, তোমার প্রভুকে পান করাও। বরং সে যেন বলে, ‘আমার সরদার’ ‘আমার মনিব’। তোমাদের কেউ যেন না বলে ‘আমার বান্দা (দাস)’ ‘আমার (বান্দী) দাসী’। বরং সে যেন বলে, ‘আমার সেবক, আমার সেবিকা, আমার গোলাম (চাকর)”।184
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়
১) আমার (বান্দা) দাস এবং আমার বান্দী (দাসী) বলা নিষিদ্ধ।
২) কোন গোলাম যেন তার মনিবকে আমার রব (প্রভু) না বলে। এ কথাও যেন না বলা হয়, ‘তোমার রবকে আহার করাও’।
৩) মনিবকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, তিনি যেন তার মালিকানাধীন গোলামকে আমার সেবক, আমার সেবিকা এবং আমার গোলাম বলে।
টিকাঃ
184. ছহীহ বুখারী হা/২৫৫২, মুসলিম হা/২২৪৯।
📄 ৫৪. আল্লাহর নাম নিয়ে (আল্লাহর ওয়াস্তে) সাহায্য চাইলে ভিক্ষুককে মাহরূম করা যাবে না
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«مَنْ سَأَلَ بِاللَّهِ فَأَعْطُوهُ، وَمَنِ اسْتَعَاذَ بِاللَّهِ فَأَعِيذُوهُ، وَمَنْ دَعَاكُمْ فَأَجِيبُوهُ، وَمَنْ صَنَعَ إِلَيْكُمْ مَعْرُوفًا فَكَافِئُوهُ، فَإِنْ لَمْ تَجِدُوا مَا تُكَافِئُونَهُ فَادْعُوا لَهُ حَتَّى تَرَوْا أَنَّكُمْ قَدْ كَافَأْتُمُوهُ».
“যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে সাহায্য চায় তাকে সাধ্যানুযায়ী দান করো। যে ব্যক্তি আল্লাহর নাম নিয়ে (আল্লাহর ওয়াস্তে) আশ্রয় প্রার্থনা করে, তাকে তোমরা আশ্রয় দাও। যে তোমাদেরকে ডাকে তার দাওয়াত কবুল করো। যে ব্যক্তি তোমাদের জন্য ভাল কাজ করে, তার যথোপযুক্ত প্রতিদান দাও। তার প্রতিদানের জন্য যদি তোমরা কিছুই না পাও, তাহলে তার জন্য দু‘আ করো, যাতে তোমরা বুঝতে পার যে, তোমরা তার প্রতিদান দিতে পেরেছো”। ইমাম আবু দাউদ ও নাসাঈ হাদীছটি ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছেন।185
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর নামের উসীলায় কেউ আশ্রয় প্রার্থনা করলে নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশ্রয় প্রার্থনাকারীকে আশ্রয় দান করার হুকুম করেছেন।
২) আল্লাহর নামে (ওয়াস্তে) সাহায্য প্রার্থনাকারীকে সাহায্য প্রদান করা উচিত।
৩) দাওয়াত কবুল করা কিংবা ভাল কাজের আহ্বানে সাড়া দেয়া ওয়াজিব।
৪) ভাল কাজের প্রতিদান দেয়া উচিত।
৫) ভাল কাজের প্রতিদানে অক্ষম হলে উপকার সাধনকারীর জন্য দু‘আ করা।
৬) উপকার সাধনকারীর জন্য এই পরিমাণ দু‘আ করা, যাতে মনে হয়, যথোপযুক্ত প্রতিদান দেয়া হয়েছে। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: قَدْ أَنَّكُمْ تَرَوْا حَتَّى كَافَأْتُمُوهُ দ্বারা এটাই বুঝানো হয়েছে।
টিকাঃ
185. ছহীহ: আবু দাউদ হা/১৬৭২, অধ্যায়: সায়েলকে দান করা।