📄 ৫০. আল্লাহ তা‘আলার রয়েছে আসমায়ে হুসনা
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আল ‘আরাফের ১৮০ নং আয়াতে বলেন,
﴿وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
“আর আল্লাহ্র জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাকে ডাকো। আর যারা তার নামগুলো বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করে চলো। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।
ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস ✃ থেকে বর্ণনা করেছেন, يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ অর্থাৎ তারা তার নামগুলো বিকৃত করে। এর অর্থ হচ্ছে তারা শিরক করে।
ইবনে আব্বাস ✃ থেকে আরো বর্ণিত আছে, মুশরিকরা ‘ইলাহ’ থেকে ‘লাত’ আর ‘আযীয’ থেকে ‘উয্যা’ নামকরণ করেছে।
আ‘মাশ থেকে বর্ণিত আছে, মুশরিকরা আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে এমন কিছু শিরকী বিষয় ঢুকিয়েছে, যার অস্তিত্ব আদৌ তাতে নেই।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহ তা‘আলার অনেক সুন্দর নাম রয়েছে। এই নামসমূহ আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা ওয়াজিব।
২) আল্লাহর নামসমূহ সুন্দরতম ও পবিত্র।
৩) আল্লাহ তা‘আলাকে ঐ সমস্ত সুন্দর ও পবিত্র নামে ডাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
৪) যেসব মূর্খ ও মুশরিকরা আল্লাহর পবিত্র নামের বিরুদ্ধাচারণ করে তাদেরকে পরিহার করে চলা জরুরী।
৫) এই অধ্যায়ে আল্লাহর নাম বিকৃতি করার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
৬) আল্লাহর নাম পরিবর্তন ও বিকৃতিকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির হুমকি।
📄 ৫১. “আসসালামু আলাল্লাহ” আল্লাহর উপর শান্তি বর্ষিত হোক বলা যাবে না
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে ইবনে মাসউদ ✃ থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন:
كُنَّا إِذَا كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فِي الصَّلاةِ قُلْنَا: السَّلامُ عَلَى اللَّهِ مِنْ عِبَادِهِ، السَّلامُ عَلَى فُلانٍ وَفُلانٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ؟: «لا تَقُولُوا السَّلامُ عَلَى اللَّهِ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّلامُ».
“আমরা যখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ছালাতে থাকতাম, তখন আমরা বলতাম, “আল্লাহর উপর তার বান্দাদের পক্ষ থেকে সালাম, অমুক অমুকের উপর সালাম, অমুক ব্যক্তির উপর সালাম”। তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “আল্লাহর উপর সালাম (শান্তি বর্ষিত হোক) এমন কথা তোমরা বলো না। কেননা আল্লাহ নিজেই ‘সালাম’।181
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) এই অধ্যায়ে আল্লাহ তা‘আলার নাম ‘সালাম’এর ব্যাখ্যা জানা গেল।
২) ‘সালাম’ হচ্ছে সম্মানজনক সম্ভাষণ।
৩) আল্লাহকে সালাম (সম্ভাষণ)) দেয়া ছহীহ নয়।
৪) আল্লাহ তা‘আলাকে সালাম (সম্ভাষণ) দেয়া নাজায়েয হওয়ার কারণও বলা হয়েছে।
৫) রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাহাবায়ে কেরামকে সালামের ঐ তরীকা শিক্ষা দিয়েছেন, যা আল্লাহ তা‘আলার জন্য সমীচীন ও শোভনীয়।
টিকাঃ
181. ছহীহ বুখারী হা/৮৩৫, ছহীহ মুসলিম হা/৪০২।
📄 ৫২. ‘হে আল্লাহ তুমি চাইলে আমাকে মাফ করো’ এভাবে দু‘আ করা প্রসঙ্গে
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা ✃ হতে বর্ণিত আছে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي إِنْ شِئْتَ، اللَّهُمَّ ارْحَمْنِي إِنْ شِئْتَ، لِيَعْزِمِ الْمَسْأَلَةَ، فَإِنَّ اللَّهَ لا مُكْرِهَ لَهُ».
“তোমাদের কেউ যেন দু‘আ করার সময় এভাবে না বলে, হে আল্লাহ্! তুমি যদি চাও তবে আমাকে ক্ষমা করো, হে আল্লাহ্! তুমি যদি চাও তবে আমার উপর রহমত নাযিল করো; বরং সে যেন দৃঢ় প্রত্যয়ের সাথে দু‘আ করে। কেননা আল্লাহকে বাধ্য করার কেউ নেই”।182
ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«وَلْيُعْظِمِ الرَّغْبَةَ، فَإِنَّ اللَّهَ لا يَتَعَاظَمُهُ شَيْءٌ أَعْطَاهُ».
“আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করার সময় পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে প্রয়োজন পেশ করা উচিত। কেননা আল্লাহ বান্দাকে যাই দান করেন না কেন তার কোনটাই তার কাছে বড় কিংবা কঠিন নয়”।183
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) দু‘আর মধ্যে ইনশা-আল্লাহ বলা নিষেধ। অর্থাৎ এভাবে দু‘আ করা যে, হে আল্লাহ! তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে ক্ষমা করো, তুমি ইচ্ছা করলে আমাকে এটা দান কর ইত্যাদি। এভাবে দু‘আ করা অর্থাৎ দু‘আ কবুল করা বা না করার বিষয়টি আল্লাহর ইচ্ছার উপর ছেড়ে দেয়া নিষেধ।
২) দু‘আতে ইনশা-আল্লাহ বলা নিষেধ হওয়ার কারণ এ অধ্যায়েই বর্ণিত হয়েছে।
৩) দু‘আর মধ্যে দৃঢ়তা থাকা চাই।
টিকাঃ
182. ছহীহ বুখারী হা/৬৩৩৯, ছহীহ মুসলিম হা/২৬৭৯।
183 Q¦nxn gymwjg nv/2679|
📄 ৫৩. আমার বান্দা (দাস) এবং আমার বান্দী (দাসী) বলবে না
আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: أَطْعِمْ رَبَّكَ، وَضِّئْ رَبَّكَ، وَلا يَقُلْ أَحَدُكُمْ: سَيِّدِي وَمَوْلايَ، وَلْيَقُلْ: فَتَايَ وَفَتَاتِي وَغُلامِي».
“তোমাদের কেউ যেন না বলে, ‘তোমার প্রভুকে খাবার দাও’ ‘তোমার প্রভুকে অযু করাও’, তোমার প্রভুকে পান করাও। বরং সে যেন বলে, ‘আমার সরদার’ ‘আমার মনিব’। তোমাদের কেউ যেন না বলে ‘আমার বান্দা (দাস)’ ‘আমার (বান্দী) দাসী’। বরং সে যেন বলে, ‘আমার সেবক, আমার সেবিকা, আমার গোলাম (চাকর)”।184
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়
১) আমার (বান্দা) দাস এবং আমার বান্দী (দাসী) বলা নিষিদ্ধ।
২) কোন গোলাম যেন তার মনিবকে আমার রব (প্রভু) না বলে। এ কথাও যেন না বলা হয়, ‘তোমার রবকে আহার করাও’।
৩) মনিবকে শিক্ষা দেয়া হয়েছে যে, তিনি যেন তার মালিকানাধীন গোলামকে আমার সেবক, আমার সেবিকা এবং আমার গোলাম বলে।
টিকাঃ
184. ছহীহ বুখারী হা/২৫৫২, মুসলিম হা/২২৪৯।