📄 ৪৭. আল্লাহ কুরআন অথবা রসূল সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে উপহাস করা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
{وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ (٦٥) لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} [التوبة: ٦٥، ٦٦].
“তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, (তোমরা কি কথা বলছিলে?) উত্তরে তারা অবশ্যই বলবে যে, আমরা কেবল হাসি-তামাসা উপহাস-পরিহাস করছিলাম। বলো: তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াতসমূহ এবং তার রসূলকে নিয়ে উপহাস করছিলে? তোমরা এখন ওযর পেশ করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করেছ। ”। (সূরা আত তাওবা: ৬৫-৬৬)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার, মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব, যায়েদ বিন আসলাম এবং কাতাদাহ ✄ (তাদের একের কথার সাথে অপরের কথার মিল রয়েছে) থেকে বর্ণিত আছে যে,
أَنَّهُ قَالَ رَجُلٌ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ: مَا رَأَيْنَا مِثْلَ قُرَّائِنَا هَؤُلاءِ أَرْغَبَ بُطُونًا وَلا أَكْذَبَ أَلْسُنًا وَلا أَجْبَنَ عِنْدَ اللِّقَاءِ، يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ؟، وَأَصْحَابَهُ الْقُرَّاءَ، فَقَالَ لَهُ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ مُنَافِقٌ، لأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ؟، فَذَهَبَ عَوْفٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لِيُخْبِرَهُ، فَوَجَدَ الْقُرْآنَ قَدْ سَبَقَهُ.
فَجَاءَ ذَلِكَ الرَّجُلُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ؟، وَقَدِ ارْتَحَلَ وَرَكِبَ نَاقَتَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَتَحَدَّثُ حَدِيثَ الرَّكْبِ نَقْطَعُ بِهِ عَنَاءَ الطَّرِيقِ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ مُتَعَلِّقًا بِنِسْعَةِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَإِنَّ الْحِجَارَةَ تَنْكُبُ رِجْلَيْهِ، وَهُوَ يَقُولُ: إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ، فَيَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ؟: {قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} الآيَةَ، مَا يَلْتَفِتُ إِلَيْهِ وَمَا يَزِيدُهُ عَلَيْهِ.
তাবুক যুদ্ধে একজন লোক বলল, এসব কারীর চেয়ে অধিক পেটুক, কথায় এদের চেয়ে অধিক মিথ্যুক এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সাক্ষাতে এত অধিক ভীরু আর কোন লোক দেখিনি। অর্থাৎ লোকটি তার কথা দ্বারা মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার কারী ছাহাবায়ে কেরামের দিকে ইঙ্গিত করছিল। আওফ বিন মালেক লোকটিকে বললেন, তুমি মিথ্যা বলেছ এবং তুমি একজন পাকা মুনাফিক। আমি অবশ্যই রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ খবর জানাব। আওফ তখন এ খবর জানানোর জন্য রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে গেলেন। গিয়ে দেখলেন কুরআন তার চেয়েও অগ্রগামী অর্থাৎ আওফ পৌঁছার পূর্বেই অহীর মাধ্যমে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাপারটি জেনে ফেলেছেন। এরই মধ্যে মুনাফিক রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে আসল। লোকটি এমন সময় রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হল, যখন তিনি সফরের উদ্দেশ্যে উটনীর উপর আরোহন করে রওয়ানা দিচ্ছিলেন। তারপর সে বলল: ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা হাসি-তামাশা করছিলাম এবং চলার পথে আরোহীদের মতই পরস্পর হাসি-তামাসা করছিলাম। যাতে করে আমাদের পথ চলার কষ্ট লাঘব হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখছি, যখন সে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উটনীর গদির রশির সাথে ঝুলন্ত ছিল (এবং কিভাবে সে তার সাথে কথা বলছিল)। লোকটি ঝুলন্ত থাকার কারণে এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে উটনী যাত্রা শুরু করার কারণে তার পা দু’টি পাথরের উপর দিয়ে হিঁচড়ে যাচ্ছিল। আর সে বলছিল, ‘আমরা হাসি ঠাট্টা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছিলাম। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন,
{أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ}
“তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াতসমূহ এবং তার রসূলকে নিয়ে উপহাস করছিলে? ” (সূরা আত তাওবা: ৬৫) তিনি তার দিকে (মুনাফিকের দিকে একবারও) তাকিয়ে দেখেননি এবং উক্ত আয়াতের বাইরে অতিরিক্ত কোন কথাও বলেননি।177
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত মাসআলাগুলো জানা যায়:
১) এ অধ্যায়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিরাট মাসআলা হচ্ছে, যারা আল্লাহ, কুরআন ও রসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে তারা কাফির।
২) এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর ঐ ব্যক্তির জন্য, যে এ ধরনের কাজ করে অর্থাৎ আল্লাহ, কুরআন ও রসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। সে যেই হোক না কেন।
৩) চোগলখোরী এবং আল্লাহ ও তার রসূলের উদ্দেশ্যে নসীহতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ আওফ বিন মালেক কর্তৃক রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মুনাফেকের কথা জানিয়ে দেয়া চোগলখোরীর আওতায় পড়ে না।
৪) যেই পরিমাণ ক্ষমা করাকে আল্লাহ ভালবাসেন তার মাঝে এবং আল্লাহর দুশমনদের উপর কঠোরতা প্রদর্শনের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।
৫) কিছু কিছু ওযর এমন রয়েছে যা গ্রহণ করা উচিত নয়।
টিকাঃ
177. হাসান: ইবনে আবী হাতিম ৪/৬৮, শাইখ মুকবিল আল ওয়াদিঈ, আছ ছহীহ মুসনাদ হা/৭১।
📄 ৪৮. নিয়ামতের প্রাচুর্যতা মানুষকে আল্লাহর নাশোরী করার প্রতি উৎসাহ দেয়
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
﴿وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ رَحْمَةً مِنَّا مِنْ بَعْدِ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ هَذَا لِي وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِنْ رُجِعْتُ إِلَى رَبِّي إِنَّ لِي عِنْدَهُ لَلْحُسْنَى فَلَنُنَبِّئَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِمَا عَمِلُوا وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ (٥٠) وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الإِنْسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَى بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُو دُعَاءٍ عَرِيضٍ﴾
“কিন্তু কঠিন সময় কেটে যাওয়ার পর যেই মাত্র আমি তাকে আমার رحمতের স্বাদ আস্বাদন করাই, সে বলতে থাকে, এটা তো আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। তবে সত্যিই যদি আমাকে আমার পালনকর্তার কাছে নিয়ে হাযির করা হয়, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব আমি কাফিরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাবো কঠিন শাস্তি। আমি যখন মানুষকে নিয়ামত দান করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং গর্বিত হয়ে উঠে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দু‘আ করতে শুরু করে”। (সূরা ফুসসিলাত: ৫০-৫১)
বিখ্যাত মুফাসসির মুজাহিদ ✈ বলেন, এটা তো আমার প্রাপ্য এর অর্থ হচ্ছে আমার কর্ম ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই এটা অর্জন করেছি। আমিই এর হকদার।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ✃ বলেন, সে এ কথা বলতে চায় যে, ‘নিয়মত আমার আমলের কারণেই’ এসেছে। অর্থাৎ এটি আমার বুদ্ধিমত্তা, ব্যক্তি সত্তা এবং যোগ্যতার ফল।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ﴿قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِندِي﴾ “সে বলে, ‘নিশ্চয়ই এ নিয়ামত আমার ইলম ও জ্ঞানের জন্য আমাকে দেয়া হয়েছে”।
(কাসাস :৭৮)
কাতাদাহ ✈ বলেন, উপার্জনের রকমারী পন্থা সম্পর্কিত জ্ঞান থাকার কারণেই আমি এ নিয়ামত প্রাপ্ত হয়েছি।
অন্যান্য মুফাসসিরগণ বলেন, এই মাল আমি এই কারণেই প্রাপ্ত হয়েছি যে, আল্লাহ জানতেন, আমি এ মালের হকদার। এটিই মুজাহিদের ঐ কথার অর্থ, যেখানে তিনি বলেছেন, আমার বংশগত মর্যাদার বদৌলতেই এ নিয়ামত প্রাপ্ত হয়েছি।
আবু হুরায়রা ✃ হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছেন,
«إِنَّ ثَلاثَةً مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ: أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَأَعْمَى، فَأَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكًا، فَأَتَى الأَبْرَصَ فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: لَوْنٌ حَسَنٌ وَجِلْدٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ بِهِ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَذَرُهُ، فَأُعْطِيَ لَوْنًا حَسَنًا وَجِلْدًا حَسَنًا، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: الإِبِلُ أَوِ الْبَقَرُ - شَكَّ إِسْحَاقُ - فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ، وَقَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا. قَالَ: فَأَتَى الأَقْرَعَ، فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: شَعَرٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ بِهِ، فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ، وَأُعْطِيَ شَعَرًا حَسَنًا، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: الْبَقَرُ أَوِ الإِبِلُ، فَأُعْطِيَ بَقَرَةً حَامِلا، قَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا.
فَأَتَى الأَعْمَى فَقَالَ أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: أَنْ يَرُدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي، فَأُبْصِرَ بِهِ النَّاسَ، فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: الْغَنَمُ، فَأُعْطِيَ شَاةً وَالِدًا، فَأُنْتِجَ هَذَانِ وَوَلَّدَ هَذَا، فَكَانَ لِهَذَا وَادٍ مِنَ الإِبِلِ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْبَقَرِ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْغَنَمِ.
قَالَ: ثُمَّ إِنَّهُ أَتَى الأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ: رَجُلٌ مِسْكِينٌ قَدِ انْقَطَعَتْ بِيَ الْحِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلا بَلاغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الْحَسَنَ وَالْجِلْدَ الْحَسَنَ وَالْمَالَ، بَعِيرًا أَتَبَلَّغُ بِهِ فِي سَفَرِي، فَقَالَ: الْحُقُوقُ كَثِيرَةٌ، فَقَالَ لَهُ: كَأَنِّي أَعْرِفُكَ! أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ فَقِيرًا فَأَعْطَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْمَالَ؟ فَقَالَ: إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا الْمَالَ كَابِرًا عَنْ كَابِرٍ، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ.
قَالَ: وَأَتَى الأَقْرَعَ فِي صُورَتِهِ، فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذَا، وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَيْهِ هَذَا، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ، قَالَ: وَأَتَى الأَعْمَى فِي صُورَتِهِ، فَقَالَ: رَجُلٌ مِسْكِينٌ وَابْنُ سَبِيلٍ قَدِ انْقَطَعَتْ بِيَ الْحِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلا بَلاغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاةً أَتَبَلَّغُ بِهَا فِي سَفَرِي، فَقَالَ: قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي، فَخُذْ مَا شِئْتَ، وَدَعْ مَا شِئْتَ فَوَاللَّهِ لا أَجْهَدُكَ الْيَوْمَ بِشَيْءٍ أَخَذْتَهُ لِلَّهِ، فَقَالَ: أَمْسِكْ عَلَيْكَ مَالَكَ، فَإِنَّمَا ابْتُلِيتُمْ، فَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ وَسَخِطَ عَلَى صَاحِبَيْكَ».
বর্ণিত হয়েছে যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোক ছিল। যাদের একজন ছিল কুষ্ঠরোগী, আরেকজন টাক পড়া, অপরজন ছিল অন্ধ। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তখন তাদের কাছে তিনি একজন ফেরেশতা পাঠালেন। সর্বপ্রথম কুষ্ঠরোগীর কাছে ফেরেশতা এসে জিজ্ঞেস করলেন: ‘তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী? সে বলল: সুন্দর রং এবং সুন্দর চামড়া। আর যে রোগের কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে তা থেকে মুক্তি আমার কাম্য’। তখন ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন। এতে তার রোগ দূর হয়ে গেল তাকে সুন্দর রং আর সুন্দর চামড়া দেয়া হল। তারপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার প্রিয় সম্পদ কি? সে বলল, উট অথবা গরু। ইসহাক অর্থাৎ হাদীছ বর্ণনাকারী উট কিংবা গরু এ দু’য়ের মধ্যে সন্দেহ করেছেন। তখন তাকে একটি গর্ভবতী উটনী দেয়া হল। ফেরেশতা তার জন্য এই বলে দু‘আ করলেন, “আল্লাহ এ সম্পদে তোমাকে বরকত দান করুন”। তারপর ফেরেশতা টাকপড়া লোকটির কাছে গিয়ে বললেন: “তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?” লোকটি বলল, “আমার প্রিয় জিনিস হচ্ছে সুন্দর চুল। আর লোকজন আমাকে যার জন্য ঘৃণা করে তা থেকে মুক্তি পেতে চাই”। ফেরেশতা তখন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। এতে করে তার মাথার টাক দূর হয়ে গেল। তাকে সুন্দর চুল দেয়া হল। অতঃপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয়? সে বলল: “উট অথবা গরু।” তখন তাকে গর্ভবতী একটি গাভী দেয়া হল। ফেরেশতা তার জন্য এই বলে দু‘আ করলেন, “আল্লাহ এ সম্পদে তোমাকে বরকত দান করুন”। অতঃপর ফেরেশতা অন্ধ লোকটির কাছে গিয়ে বললেন: “তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?” লোকটি বলল, “আল্লাহ যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। যার ফলে আমি লোকজনকে দেখতে পাবো”। ফেরেশতা তখন তার চোখে হাত বুলিয়ে দিলেন। এতে লোকটির দৃষ্টিশক্তি আল্লাহ তা‘আলা ফিরিয়ে দিলেন। এবার ফেরেশতা তাকে বললেন, “কি সম্পদ তোমার কাছে সব চেয়ে বেশী প্রিয়? সে বলল, “ছাগল আমার বেশী প্রিয়।” তখন তাকে একটি গর্ভবতী ছাগল দেয়া হল। আল্লাহর ফযল ও করমে উট ও গরু বংশ বৃদ্ধি করতে লাগল এবং ছাগলও বংশ বৃদ্ধি করতে লাগল। এমনিভাবে অবশেষে অবস্থা এই দাঁড়াল যে, একজনের উট দ্বারা মাঠ ভরে গেল, আরেকজনের গরু দ্বারা মাঠ পূর্ণ হয়ে গেল এবং আরেকজনের ছাগল দ্বারা মাঠ ভর্তি হয়ে গেল। অতঃপর নির্দিষ্ট একটি সময় পার হওয়ার পর একদিন ফেরেশতা তার পূর্ব আকৃতিতেই কুষ্ঠ রোগীর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন: “আমি একজন মিসকীন”। আমার সফরের সম্বল শেষ হয়ে গেছে (আমি খুবই বিপদগ্রস্ত)। আমার গন্তব্যে পৌঁছার জন্য প্রথমে আল্লাহর, অতঃপর আপনার সাহায্য দরকার। যে আল্লাহ আপনাকে এত সুন্দর রং এবং সুন্দর চামড়া দান করেছেন, তার নামে আমি আপনার কাছে একটা উট সাহায্য চাই, যাতে আমি নিজ গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারি। তখন লোকটি বলল, ‘দেখুন: আমার অনেক দায়-দায়িত্ব আছে, হকদার আছে।’ ফেরেশতা বললেন: ‘আমার মনে হয়, আমি আপনাকে চিনি। আপনি কি কুষ্ঠ রোগী ছিলেন না? মানুষ কি আপনাকে ঘৃণা করতো না? আপনি খুব গরীব ছিলেন না? তারপর আল্লাহ আপনাকে এ সম্পদ দান করেছেন। তখন লোকটি বলল: এ সম্পদ আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। ফেরেশতা তখন বলল, “তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাক তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন”। তারপর ফেরেশতা মাথায় টাক-পড়া লোকটির কাছে গেলেন এবং ইতিপূর্বে কুষ্ঠরোগীর সাথে যে ধরনের কথা বলেছিল টাকপড়া লোকটির সাথেও অনুরূপ কথা বললেন। প্রতি উত্তরে কুষ্ঠরোগী যে ধরনের জবাব দিয়েছিল, এ লোকটিও সেই একই ধরনের জবাব দিল। তখন ফেরেশতাও আগের মতই বলল: ‘যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তাহলে আল্লাহ তা‘আলা যেন তোমাকে তোমার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন’। অতঃপর ফেরেশতা স্বীয় আকৃতিতে অন্ধ লোকটির কাছে গিয়ে বললেন, ‘আমি এক গরীব মুসাফির। আমার পথের সম্বল নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। প্রথম আল্লাহর তারপর আপনার সাহায্য কামনা করছি। যিনি আপনার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তার নামে একটি ছাগল আপনার কাছে সাহায্য চাই, যাতে আমার সফরে নিজ গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারি। তখন লোকটি বলল, আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ তা‘আলা আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনার যা খুশি নিয়ে যান। আর যা খুশি রেখে যান। আল্লাহর কসম, আল্লাহর নামে আপনি আজ যা নিয়ে যাবেন, তাতে আমি বিন্দুমাত্র বাধা দেবো না। তখন ফেরেশতা বললেন: আপনার মাল আপনি রাখুন। আপনাদেরকে শুধুমাত্র পরীক্ষা করা হল। আপনার আচরণে আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন। আপনার সঙ্গীদ্বয়ের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়েছেন।178
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত মাসআলাগুলো জানা যায়:
১) সূরা ফুসসিলাতের ৫০ ও ৫১ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
২) لي هذا ليقولن এর তাৎপর্য জানা গেল।
৩) عندى علم على أوتيته এর মর্মার্থও জানা গেল।
৪) এই আশ্চর্য ধরনের কিসসা হতে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় জানা গেল।
টিকাঃ
178. ছহীহ বুখারী হা/৩৪৬৪, মুসলিম হা/২৯৬৪।
📄 ৪৯. আল্লাহ ছাড়া অন্যের বান্দা বলা হারাম
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
﴿هُوَ الَّذِي خَلَقَكُمْ مِنْ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا فَلَمَّا تَغَشَّاهَا حَمَلَتْ حَمْلا خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِ فَلَمَّا أَثْقَلَتْ دَعَوَا اللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحًا لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ (١٨٩) فَلَمَّا آتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا فَتَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ (١٩٠) أَيُشْرِكُونَ مَا لا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ (١٩١) وَلا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلا أَنْفُسَهُمْ يَنْصُرُونَ﴾
“তিনিই (আল্লাহ তা‘আলা) তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন একটি মাত্র প্রাণ থেকে; আর তার থেকেই তৈরী করেছেন তার স্ত্রীকে, যাতে তার কাছে প্রশান্তি লাভ করতে পারে। অতঃপর সে যখন তার স্ত্রীকে আবৃত করল, তখন স্ত্রী হালকা গর্ভধারণ করল। সে তাই নিয়ে চলাফেরা করতে থাকল। তারপর যখন গর্ভ ভারী হয়ে গেল, তখন উভয়ে মিলে তাদের প্রতিপালক আল্লাহর কাছে দু‘আ করলো। তুমি যদি আমাদেরকে ভাল সন্তান দান কর তবে আমরা তোমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো। অতঃপর যখন আল্লাহ তাদেরকে একটি সুস্থ-নিখুঁত সন্তান দান করলেন, তখন দানকৃত বিষয়ে তারা তার অংশীদার তৈরী করতে লাগল। বস্তুত আল্লাহ তাদের শরীক সাব্যস্ত করার বহু ঊর্ধ্বে। তারা কি এমন কাউকে আল্লাহর শরীক সাব্যস্ত করে যে একটি জিনিসও সৃষ্টি করতে পারে না; বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট? আর তারা না তাদের সাহায্য করতে পারে, না নিজেদের সাহায্য করতে পারে”। (সূরা আল ‘আরাফ: ১৮৯-১৯২)
ইবনে হাযম ✈বলেন: উলামায়ে কেরাম এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন যে, এমন প্রত্যেক নামই হারাম, যা দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করা বুঝায়। যেমন আব্দু আমর, আব্দুল কা‘বা এবং এ জাতীয় অন্যান্য নাম। তবে আব্দুল মুত্তালিব এর ব্যতিক্রম।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ✃এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন:
لَمَّا تَغَشَّاهَا آدَمُ حَمَلَتْ، فَأَتَاهُمَا إِبْلِيسُ فَقَالَ: إِنِّي صَاحِبُكُمَا الَّذِي أَخْرَجْتُكُمَا مِنَ الْجَنَّةِ لَتُطِيعَانِّي أَوْ لأَجْعَلَنَّ لَهُ قَرْنَيْ أَيِّلٍ فَيَخْرُجَ مِنْ بَطْنِكِ فَيَشُقَّهُ، وَلأَفْعَلَنَّ وَلأَفْعَلَنَّ يُخَوِّفُهُمَا، سَمِّيَاهُ عَبْدَ الْحَارِثِ، فَأَبَيَا أَنْ يُطِيعَاهُ، فَخَرَجَ مَيِّتًا، ثُمَّ حَمَلَتْ، فَأَتَاهُمَا فَذَكَرَ لَهُمَا، فَأَدْرَكَهُما حُبُّ الْوَلَدِ، فَسَمَّيَاهُ عَبْدَ الْحَارِثِ، فَذَلِكَ قَوْلُهُ: {جَعَلا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا}.
আদম আ. যখন বিবি হাওয়ার সাথে মিলিত হলেন তখন হাওয়া গর্ভবতী হলেন। এমতাবস্থায় শয়তান আদম ও হাওয়ার কাছে এসে বললো, ‘আমি তোমাদের সেই বন্ধু ও সাথী, যে তোমাদেরকে জান্নাত থেকে বের করেছে। তোমরা আমার আনুগত্য করো, নতুবা গর্ভস্থ সন্তানের মাথায় হরিণের শিং গজিয়ে দিবো। তখন সন্তান হাওয়ার পেট চিরে বের হবে। আমি অবশ্যই এ কাজ করে ছাড়বো”। শয়তান এভাবে তাদেরকে আরো অনেক ভয় দেখাচ্ছিল। শয়তান বলল: তোমরা তোমাদের সন্তানের নাম ‘আব্দুল হারিছ’ রেখো। তখন তারা শয়তানের আনুগত্য করতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর তাদের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হলো।
আবারো বিবি হাওয়া গর্ভবতী হলেন। শয়তানও পুনরায় তাদের কাছে এসে পূর্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিল। এর ফলে তাদের অন্তরে সন্তানের প্রতি ভালবাসা তীব্র হয়ে দেখা দিল। তখন তারা সন্তানের নাম ‘আব্দুল হারিস’ রাখলেন (কৃষকের বান্দা)।179
এভাবেই তারা আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতের মধ্যে তার সাথে শরীক করে ফেললেন। এটাই হচ্ছে فِيمَا آتَاهُمَا شُرَكَاءَ لَهُ جَعَلا এ আয়াতের তাৎপর্য।180
ইবনে আবি হাতিম হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
وله بسند صحيح عن قتادة; قال: "شركاء في طاعته، ولم يكن في عبادته".
ইবনে আবী হাতিম কাতাদাহ হতে ছহীহ সনদে অপর একটি হাদীছ বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন: তারা আল্লাহর সাথে শরীক করেছিলেন আনুগত্যের ক্ষেত্রে; ইবাদতের ক্ষেত্রে নয়।
ছহীহ সনদে মুজাহিদ থেকে ইবনে আবী হাতিম لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحًا- এ আয়াতের ব্যাখ্যায় আরো বর্ণনা করেন যে, আদম ও হাওয়া এ ধরনের আশঙ্কায় পড়েছিলেন যে, সন্তানটি মানুষ হয় কি না। হাসান, সাঈদ প্রমুখের কাছ থেকেও আয়াতের এই অর্থই উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) যেইসব নামের মধ্যে আল্লাহ ছাড়া ইবাদতের অর্থ নিহিত রয়েছে সে নাম রাখা হারাম।
২) সূরা আল ‘আরাফের ১৯০ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
৩) আলোচিত অধ্যায়ে বর্ণিত শিরক শুধু নাম রাখার ক্ষেত্রেই হয়েছে। এর দ্বারা শিরকের হাকীকত তথা প্রকৃত পারিভাষিক শিরক উদ্দেশ্য ছিল না।
৪) আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ সন্তান লাভ করা একজন মানুষের জন্য নিয়ামতের বিষয়।
৫) আল্লাহর আনুগত্যের মধ্যে শিরক এবং ইবাদতের মধ্যে শিরকের ব্যাপারে সালফে ছলেহীনগণ পার্থক্য নির্ধারণ করেছেন।
টিকাঃ
179. আব্দুল হারিছ শয়তানের উপাধী। সুতরাং আব্দুল হারিছ অর্থ শয়তানের গোলাম (বান্দা)।
180. যঈফ: আলবানী, আল যঈফাহ হা/৩৪২।
📄 ৫০. আল্লাহ তা‘আলার রয়েছে আসমায়ে হুসনা
আল্লাহ তা‘আলা সূরা আল ‘আরাফের ১৮০ নং আয়াতে বলেন,
﴿وَلِلَّهِ الأَسْمَاءُ الْحُسْنَى فَادْعُوهُ بِهَا وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ﴾
“আর আল্লাহ্র জন্য রয়েছে সব উত্তম নাম। কাজেই সে নাম ধরেই তাকে ডাকো। আর যারা তার নামগুলো বিকৃত করে তাদেরকে বর্জন করে চলো। তারা নিজেদের কৃতকর্মের ফল শীঘ্রই পাবে।
ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস ✃ থেকে বর্ণনা করেছেন, يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ অর্থাৎ তারা তার নামগুলো বিকৃত করে। এর অর্থ হচ্ছে তারা শিরক করে।
ইবনে আব্বাস ✃ থেকে আরো বর্ণিত আছে, মুশরিকরা ‘ইলাহ’ থেকে ‘লাত’ আর ‘আযীয’ থেকে ‘উয্যা’ নামকরণ করেছে।
আ‘মাশ থেকে বর্ণিত আছে, মুশরিকরা আল্লাহর নামসমূহের মধ্যে এমন কিছু শিরকী বিষয় ঢুকিয়েছে, যার অস্তিত্ব আদৌ তাতে নেই।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহ তা‘আলার অনেক সুন্দর নাম রয়েছে। এই নামসমূহ আল্লাহর জন্য সাব্যস্ত করা ওয়াজিব।
২) আল্লাহর নামসমূহ সুন্দরতম ও পবিত্র।
৩) আল্লাহ তা‘আলাকে ঐ সমস্ত সুন্দর ও পবিত্র নামে ডাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
৪) যেসব মূর্খ ও মুশরিকরা আল্লাহর পবিত্র নামের বিরুদ্ধাচারণ করে তাদেরকে পরিহার করে চলা জরুরী।
৫) এই অধ্যায়ে আল্লাহর নাম বিকৃতি করার ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।
৬) আল্লাহর নাম পরিবর্তন ও বিকৃতিকারীদের জন্য রয়েছে কঠোর শাস্তির হুমকি।