📄 ৪৫. কাযীউল কুযাত (মহা বিচারক) প্রভৃতি নামকরণ প্রসঙ্গে
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হাদীছে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ، رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاكِ، لا مَالِكَ إِلا اللَّهُ».
“আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার নামকরণ করা হয় ‘রাজাধিরাজ’। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কোন (প্রকৃত) বাদশাহ নেই।174
সুফিয়ান ছাওরী বলেন:
«مِثْلُ شَاهَانْ شَاهْ».
‘রাজাধিরাজ’ কথাটি ‘শাহানশাহ’-এর মতই একটি নাম।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ»
“ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত, নিকৃষ্ট এবং খারাপ ব্যক্তি হচ্ছে, যার নামকরণ করা হয় রাজাধিরাজ।175
উল্লেখিত হাদীছে أخنع শব্দের অর্থ হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ‘রাজাধিরাজ’ শাহানশাহ নাম ধারণ করা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
২) ‘রাজাধিরাজ’এর অর্থে যত নাম ও শব্দ আছে, সবগুলোর হুকুম একই। যেমন সুফিয়ান ছাওরী হতে বর্ণিত হয়েছে যে, শাহানশাহ রাজাধিরাজের মতই।
৩) রাজাধিরাজ বা অনুরূপ নাম ও উপাধি রাখা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করার বিষয়টি ভালভাবে বুঝা উচিত। সে সাথে এটিও সর্বদা মনে রাখা দরকার যে, অন্তর উক্ত শব্দের প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য করে না। মূলতঃ এক্ষেত্রে অন্তরে কি নিয়্যত আছে তা বিবেচ্য নয়।
৪) এ কথা ভাল করে বুঝা উচিত যে আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও বড়ত্ব প্রদর্শনের জন্যই উক্ত নামে কাউকে নামকরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
টিকাঃ
174 ছহীহ বুখারী হা/৬২০৬, ছহীহ মুসলিম হা/২১৮৩।
175. মুসনাদে আহমাদ ২/৩১৫।
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হাদীছে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ، رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاكِ، لا مَالِكَ إِلا اللَّهُ».
“আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার নামকরণ করা হয় ‘রাজাধিরাজ’। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কোন (প্রকৃত) বাদশাহ নেই।174
সুফিয়ান ছাওরী বলেন:
«مِثْلُ شَاهَانْ شَاهْ».
‘রাজাধিরাজ’ কথাটি ‘শাহানশাহ’-এর মতই একটি নাম।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ»
“ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত, নিকৃষ্ট এবং খারাপ ব্যক্তি হচ্ছে, যার নামকরণ করা হয় রাজাধিরাজ।175
উল্লেখিত হাদীছে أخنع শব্দের অর্থ হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ‘রাজাধিরাজ’ শাহানশাহ নাম ধারণ করা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
২) ‘রাজাধিরাজ’এর অর্থে যত নাম ও শব্দ আছে, সবগুলোর হুকুম একই। যেমন সুফিয়ান ছাওরী হতে বর্ণিত হয়েছে যে, শাহানশাহ রাজাধিরাজের মতই।
৩) রাজাধিরাজ বা অনুরূপ নাম ও উপাধি রাখা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করার বিষয়টি ভালভাবে বুঝা উচিত। সে সাথে এটিও সর্বদা মনে রাখা দরকার যে, অন্তর উক্ত শব্দের প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য করে না। মূলতঃ এক্ষেত্রে অন্তরে কি নিয়্যত আছে তা বিবেচ্য নয়।
৪) এ কথা ভাল করে বুঝা উচিত যে আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও বড়ত্ব প্রদর্শনের জন্যই উক্ত নামে কাউকে নামকরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
টিকাঃ
174 ছহীহ বুখারী হা/৬২০৬, ছহীহ মুসলিম হা/২১৮৩।
175. মুসনাদে আহমাদ ২/৩১৫।
📄 ৪৬. আল্লাহর নামসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং সে জন্য নাম পরিবর্তন করা
আবু শুরাইহ হতে বর্ণিত আছে, এক সময় তার কুনিয়াত (ডাক নাম) ছিল আবুল হাকাম (মহা ফায়সালাকারী)। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
«إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَكَمُ، وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ»، فَقَالَ: إِنَّ قَوْمِي إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَيْءٍ أَتَوْنِي فَحَكَمْتُ بَيْنَهُمْ، فَرَضِيَ كِلا الْفَرِيقَيْنِ، فَقَالَ: «مَا أَحْسَنَ هَذَا، فَمَا لَكَ مِنَ الْوَلَدِ؟ قُلْتُ: شُرَيْحٌ، وَمُسْلِمٌ، وَعَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: فَمَنْ أَكْبَرُهُمْ؟ قُلْتُ: شُرَيْحٌ، قَالَ: فَأَنْتَ أَبُو شُرَيْحٍ».
“আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন হাকাম (মহা ফায়সালাকারী) এবং ফায়সালা একমাত্র তারই। তখন আবু শুরাইহ বললেন, ‘আমার কওমের লোকেরা যখন কোন বিষয়ে মতবিরোধ করে, তখন ফায়সালার জন্য আমার কাছে চলে আসে। তারপর আমি তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেই। এতে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট হয়ে যায়। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথা শুনে বললেন, এটা কতইনা ভাল! তোমার কি সন্তানাদি আছে? আবু শুরাইহ বললেন, আমার শুরাইহ, মুসলিম এবং আব্দুল্লাহ নামের তিনটি ছেলে আছে। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তাদের মধ্যে সবার বড় কে? আমি বললাম: শুরাইহ। তিনি বললেন তাহলে তুমি আবু শুরাইহ (শুরাইহের পিতা)।176
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) বান্দার উচিত আল্লাহর আসমা ও ছিফাত অর্থাৎ নাম ও গুণাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সে জন্যই আল্লাহর নাম ও সিফাতের মত করে কারো নাম রাখা অনুচিত। যদিও উক্ত নাম রাখার সময় এর অর্থ উদ্দেশ্য না হয়।
২) আল্লাহর নাম ও সিফাতের সম্মানার্থে কতক নাম পরিবর্তন করা জরুরী।
৩) উপনামের জন্য জন্য বড় ছেলের নাম বাছাই করা উচিত।
টিকাঃ
176. ছহীহ: আবু দাউদ হা/৪৯৫৫, নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৫৯০৭, ইমাম বুখারী আল আদাবুল মুফরাদ হা/৮১১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬১৫।
আবু শুরাইহ হতে বর্ণিত আছে, এক সময় তার কুনিয়াত (ডাক নাম) ছিল আবুল হাকাম (মহা ফায়সালাকারী)। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
«إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَكَمُ، وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ»، فَقَالَ: إِنَّ قَوْمِي إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَيْءٍ أَتَوْنِي فَحَكَمْتُ بَيْنَهُمْ، فَرَضِيَ كِلا الْفَرِيقَيْنِ، فَقَالَ: «مَا أَحْسَنَ هَذَا، فَمَا لَكَ مِنَ الْوَلَدِ؟ قُلْتُ: شُرَيْحٌ، وَمُسْلِمٌ، وَعَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: فَمَنْ أَكْبَرُهُمْ؟ قُلْتُ: شُرَيْحٌ، قَالَ: فَأَنْتَ أَبُو شُرَيْحٍ».
“আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন হাকাম (মহা ফায়সালাকারী) এবং ফায়সালা একমাত্র তারই। তখন আবু শুরাইহ বললেন, ‘আমার কওমের লোকেরা যখন কোন বিষয়ে মতবিরোধ করে, তখন ফায়সালার জন্য আমার কাছে চলে আসে। তারপর আমি তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেই। এতে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট হয়ে যায়। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথা শুনে বললেন, এটা কতইনা ভাল! তোমার কি সন্তানাদি আছে? আবু শুরাইহ বললেন, আমার শুরাইহ, মুসলিম এবং আব্দুল্লাহ নামের তিনটি ছেলে আছে। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তাদের মধ্যে সবার বড় কে? আমি বললাম: শুরাইহ। তিনি বললেন তাহলে তুমি আবু শুরাইহ (শুরাইহের পিতা)।176
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) বান্দার উচিত আল্লাহর আসমা ও ছিফাত অর্থাৎ নাম ও গুণাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সে জন্যই আল্লাহর নাম ও সিফাতের মত করে কারো নাম রাখা অনুচিত। যদিও উক্ত নাম রাখার সময় এর অর্থ উদ্দেশ্য না হয়।
২) আল্লাহর নাম ও সিফাতের সম্মানার্থে কতক নাম পরিবর্তন করা জরুরী।
৩) উপনামের জন্য জন্য বড় ছেলের নাম বাছাই করা উচিত।
টিকাঃ
176. ছহীহ: আবু দাউদ হা/৪৯৫৫, নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৫৯০৭, ইমাম বুখারী আল আদাবুল মুফরাদ হা/৮১১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬১৫।
📄 ৪৭. আল্লাহ কুরআন অথবা রসূল সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে উপহাস করা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
{وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ (٦٥) لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} [التوبة: ٦٥، ٦٦].
“তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, (তোমরা কি কথা বলছিলে?) উত্তরে তারা অবশ্যই বলবে যে, আমরা কেবল হাসি-তামাসা উপহাস-পরিহাস করছিলাম। বলো: তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াতসমূহ এবং তার রসূলকে নিয়ে উপহাস করছিলে? তোমরা এখন ওযর পেশ করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করেছ। ”। (সূরা আত তাওবা: ৬৫-৬৬)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার, মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব, যায়েদ বিন আসলাম এবং কাতাদাহ ✄ (তাদের একের কথার সাথে অপরের কথার মিল রয়েছে) থেকে বর্ণিত আছে যে,
أَنَّهُ قَالَ رَجُلٌ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ: مَا رَأَيْنَا مِثْلَ قُرَّائِنَا هَؤُلاءِ أَرْغَبَ بُطُونًا وَلا أَكْذَبَ أَلْسُنًا وَلا أَجْبَنَ عِنْدَ اللِّقَاءِ، يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ؟، وَأَصْحَابَهُ الْقُرَّاءَ، فَقَالَ لَهُ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ مُنَافِقٌ، لأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ؟، فَذَهَبَ عَوْفٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لِيُخْبِرَهُ، فَوَجَدَ الْقُرْآنَ قَدْ سَبَقَهُ.
فَجَاءَ ذَلِكَ الرَّجُلُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ؟، وَقَدِ ارْتَحَلَ وَرَكِبَ نَاقَتَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَتَحَدَّثُ حَدِيثَ الرَّكْبِ نَقْطَعُ بِهِ عَنَاءَ الطَّرِيقِ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ مُتَعَلِّقًا بِنِسْعَةِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَإِنَّ الْحِجَارَةَ تَنْكُبُ رِجْلَيْهِ، وَهُوَ يَقُولُ: إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ، فَيَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ؟: {قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} الآيَةَ، مَا يَلْتَفِتُ إِلَيْهِ وَمَا يَزِيدُهُ عَلَيْهِ.
তাবুক যুদ্ধে একজন লোক বলল, এসব কারীর চেয়ে অধিক পেটুক, কথায় এদের চেয়ে অধিক মিথ্যুক এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সাক্ষাতে এত অধিক ভীরু আর কোন লোক দেখিনি। অর্থাৎ লোকটি তার কথা দ্বারা মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার কারী ছাহাবায়ে কেরামের দিকে ইঙ্গিত করছিল। আওফ বিন মালেক লোকটিকে বললেন, তুমি মিথ্যা বলেছ এবং তুমি একজন পাকা মুনাফিক। আমি অবশ্যই রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ খবর জানাব। আওফ তখন এ খবর জানানোর জন্য রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে গেলেন। গিয়ে দেখলেন কুরআন তার চেয়েও অগ্রগামী অর্থাৎ আওফ পৌঁছার পূর্বেই অহীর মাধ্যমে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাপারটি জেনে ফেলেছেন। এরই মধ্যে মুনাফিক রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে আসল। লোকটি এমন সময় রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হল, যখন তিনি সফরের উদ্দেশ্যে উটনীর উপর আরোহন করে রওয়ানা দিচ্ছিলেন। তারপর সে বলল: ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা হাসি-তামাশা করছিলাম এবং চলার পথে আরোহীদের মতই পরস্পর হাসি-তামাসা করছিলাম। যাতে করে আমাদের পথ চলার কষ্ট লাঘব হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখছি, যখন সে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উটনীর গদির রশির সাথে ঝুলন্ত ছিল (এবং কিভাবে সে তার সাথে কথা বলছিল)। লোকটি ঝুলন্ত থাকার কারণে এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে উটনী যাত্রা শুরু করার কারণে তার পা দু’টি পাথরের উপর দিয়ে হিঁচড়ে যাচ্ছিল। আর সে বলছিল, ‘আমরা হাসি ঠাট্টা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছিলাম। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন,
{أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ}
“তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াতসমূহ এবং তার রসূলকে নিয়ে উপহাস করছিলে? ” (সূরা আত তাওবা: ৬৫) তিনি তার দিকে (মুনাফিকের দিকে একবারও) তাকিয়ে দেখেননি এবং উক্ত আয়াতের বাইরে অতিরিক্ত কোন কথাও বলেননি।177
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত মাসআলাগুলো জানা যায়:
১) এ অধ্যায়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিরাট মাসআলা হচ্ছে, যারা আল্লাহ, কুরআন ও রসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে তারা কাফির।
২) এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর ঐ ব্যক্তির জন্য, যে এ ধরনের কাজ করে অর্থাৎ আল্লাহ, কুরআন ও রসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। সে যেই হোক না কেন।
৩) চোগলখোরী এবং আল্লাহ ও তার রসূলের উদ্দেশ্যে নসীহতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ আওফ বিন মালেক কর্তৃক রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মুনাফেকের কথা জানিয়ে দেয়া চোগলখোরীর আওতায় পড়ে না।
৪) যেই পরিমাণ ক্ষমা করাকে আল্লাহ ভালবাসেন তার মাঝে এবং আল্লাহর দুশমনদের উপর কঠোরতা প্রদর্শনের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।
৫) কিছু কিছু ওযর এমন রয়েছে যা গ্রহণ করা উচিত নয়।
টিকাঃ
177. হাসান: ইবনে আবী হাতিম ৪/৬৮, শাইখ মুকবিল আল ওয়াদিঈ, আছ ছহীহ মুসনাদ হা/৭১।
📄 ৪৮. নিয়ামতের প্রাচুর্যতা মানুষকে আল্লাহর নাশোরী করার প্রতি উৎসাহ দেয়
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
﴿وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ رَحْمَةً مِنَّا مِنْ بَعْدِ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ هَذَا لِي وَمَا أَظُنُّ السَّاعَةَ قَائِمَةً وَلَئِنْ رُجِعْتُ إِلَى رَبِّي إِنَّ لِي عِنْدَهُ لَلْحُسْنَى فَلَنُنَبِّئَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِمَا عَمِلُوا وَلَنُذِيقَنَّهُمْ مِنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ (٥٠) وَإِذَا أَنْعَمْنَا عَلَى الإِنْسَانِ أَعْرَضَ وَنَأَى بِجَانِبِهِ وَإِذَا مَسَّهُ الشَّرُّ فَذُو دُعَاءٍ عَرِيضٍ﴾
“কিন্তু কঠিন সময় কেটে যাওয়ার পর যেই মাত্র আমি তাকে আমার رحمতের স্বাদ আস্বাদন করাই, সে বলতে থাকে, এটা তো আমার যোগ্য প্রাপ্য; আমি মনে করি না যে, ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। তবে সত্যিই যদি আমাকে আমার পালনকর্তার কাছে নিয়ে হাযির করা হয়, তবে অবশ্যই তার কাছে আমার জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতএব আমি কাফিরদেরকে তাদের কর্ম সম্পর্কে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাবো কঠিন শাস্তি। আমি যখন মানুষকে নিয়ামত দান করি তখন সে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং গর্বিত হয়ে উঠে। আর যখন তাকে অনিষ্ট স্পর্শ করে, তখন সুদীর্ঘ দু‘আ করতে শুরু করে”। (সূরা ফুসসিলাত: ৫০-৫১)
বিখ্যাত মুফাসসির মুজাহিদ ✈ বলেন, এটা তো আমার প্রাপ্য এর অর্থ হচ্ছে আমার কর্ম ও পরিশ্রমের মাধ্যমেই এটা অর্জন করেছি। আমিই এর হকদার।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ✃ বলেন, সে এ কথা বলতে চায় যে, ‘নিয়মত আমার আমলের কারণেই’ এসেছে। অর্থাৎ এটি আমার বুদ্ধিমত্তা, ব্যক্তি সত্তা এবং যোগ্যতার ফল।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন, ﴿قَالَ إِنَّمَا أُوتِيتُهُ عَلَى عِلْمٍ عِندِي﴾ “সে বলে, ‘নিশ্চয়ই এ নিয়ামত আমার ইলম ও জ্ঞানের জন্য আমাকে দেয়া হয়েছে”।
(কাসাস :৭৮)
কাতাদাহ ✈ বলেন, উপার্জনের রকমারী পন্থা সম্পর্কিত জ্ঞান থাকার কারণেই আমি এ নিয়ামত প্রাপ্ত হয়েছি।
অন্যান্য মুফাসসিরগণ বলেন, এই মাল আমি এই কারণেই প্রাপ্ত হয়েছি যে, আল্লাহ জানতেন, আমি এ মালের হকদার। এটিই মুজাহিদের ঐ কথার অর্থ, যেখানে তিনি বলেছেন, আমার বংশগত মর্যাদার বদৌলতেই এ নিয়ামত প্রাপ্ত হয়েছি।
আবু হুরায়রা ✃ হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছেন,
«إِنَّ ثَلاثَةً مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ: أَبْرَصَ وَأَقْرَعَ وَأَعْمَى، فَأَرَادَ اللَّهُ أَنْ يَبْتَلِيَهُمْ، فَبَعَثَ إِلَيْهِمْ مَلَكًا، فَأَتَى الأَبْرَصَ فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: لَوْنٌ حَسَنٌ وَجِلْدٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ بِهِ، قَالَ: فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ قَذَرُهُ، فَأُعْطِيَ لَوْنًا حَسَنًا وَجِلْدًا حَسَنًا، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: الإِبِلُ أَوِ الْبَقَرُ - شَكَّ إِسْحَاقُ - فَأُعْطِيَ نَاقَةً عُشَرَاءَ، وَقَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا. قَالَ: فَأَتَى الأَقْرَعَ، فَقَالَ: أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: شَعَرٌ حَسَنٌ، وَيَذْهَبُ عَنِّي الَّذِي قَدْ قَذِرَنِي النَّاسُ بِهِ، فَمَسَحَهُ فَذَهَبَ عَنْهُ، وَأُعْطِيَ شَعَرًا حَسَنًا، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: الْبَقَرُ أَوِ الإِبِلُ، فَأُعْطِيَ بَقَرَةً حَامِلا، قَالَ: بَارَكَ اللَّهُ لَكَ فِيهَا.
فَأَتَى الأَعْمَى فَقَالَ أَيُّ شَيْءٍ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: أَنْ يَرُدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي، فَأُبْصِرَ بِهِ النَّاسَ، فَمَسَحَهُ فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيْهِ بَصَرَهُ، قَالَ: فَأَيُّ الْمَالِ أَحَبُّ إِلَيْك؟ قَالَ: الْغَنَمُ، فَأُعْطِيَ شَاةً وَالِدًا، فَأُنْتِجَ هَذَانِ وَوَلَّدَ هَذَا، فَكَانَ لِهَذَا وَادٍ مِنَ الإِبِلِ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْبَقَرِ، وَلِهَذَا وَادٍ مِنَ الْغَنَمِ.
قَالَ: ثُمَّ إِنَّهُ أَتَى الأَبْرَصَ فِي صُورَتِهِ وَهَيْئَتِهِ، فَقَالَ: رَجُلٌ مِسْكِينٌ قَدِ انْقَطَعَتْ بِيَ الْحِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلا بَلاغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي أَعْطَاكَ اللَّوْنَ الْحَسَنَ وَالْجِلْدَ الْحَسَنَ وَالْمَالَ، بَعِيرًا أَتَبَلَّغُ بِهِ فِي سَفَرِي، فَقَالَ: الْحُقُوقُ كَثِيرَةٌ، فَقَالَ لَهُ: كَأَنِّي أَعْرِفُكَ! أَلَمْ تَكُنْ أَبْرَصَ يَقْذَرُكَ النَّاسُ فَقِيرًا فَأَعْطَاكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ الْمَالَ؟ فَقَالَ: إِنَّمَا وَرِثْتُ هَذَا الْمَالَ كَابِرًا عَنْ كَابِرٍ، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ.
قَالَ: وَأَتَى الأَقْرَعَ فِي صُورَتِهِ، فَقَالَ لَهُ مِثْلَ مَا قَالَ لِهَذَا، وَرَدَّ عَلَيْهِ مِثْلَ مَا رَدَّ عَلَيْهِ هَذَا، فَقَالَ: إِنْ كُنْتَ كَاذِبًا فَصَيَّرَكَ اللَّهُ إِلَى مَا كُنْتَ، قَالَ: وَأَتَى الأَعْمَى فِي صُورَتِهِ، فَقَالَ: رَجُلٌ مِسْكِينٌ وَابْنُ سَبِيلٍ قَدِ انْقَطَعَتْ بِيَ الْحِبَالُ فِي سَفَرِي، فَلا بَلاغَ لِيَ الْيَوْمَ إِلا بِاللَّهِ ثُمَّ بِكَ، أَسْأَلُكَ بِالَّذِي رَدَّ عَلَيْكَ بَصَرَكَ شَاةً أَتَبَلَّغُ بِهَا فِي سَفَرِي، فَقَالَ: قَدْ كُنْتُ أَعْمَى فَرَدَّ اللَّهُ إِلَيَّ بَصَرِي، فَخُذْ مَا شِئْتَ، وَدَعْ مَا شِئْتَ فَوَاللَّهِ لا أَجْهَدُكَ الْيَوْمَ بِشَيْءٍ أَخَذْتَهُ لِلَّهِ، فَقَالَ: أَمْسِكْ عَلَيْكَ مَالَكَ، فَإِنَّمَا ابْتُلِيتُمْ، فَقَدْ رَضِيَ اللَّهُ عَنْكَ وَسَخِطَ عَلَى صَاحِبَيْكَ».
বর্ণিত হয়েছে যে, বনী ইসরাঈলের মধ্যে তিনজন লোক ছিল। যাদের একজন ছিল কুষ্ঠরোগী, আরেকজন টাক পড়া, অপরজন ছিল অন্ধ। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে পরীক্ষা করতে চাইলেন। তখন তাদের কাছে তিনি একজন ফেরেশতা পাঠালেন। সর্বপ্রথম কুষ্ঠরোগীর কাছে ফেরেশতা এসে জিজ্ঞেস করলেন: ‘তোমার সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী? সে বলল: সুন্দর রং এবং সুন্দর চামড়া। আর যে রোগের কারণে মানুষ আমাকে ঘৃণা করে তা থেকে মুক্তি আমার কাম্য’। তখন ফেরেশতা তার শরীরে হাত বুলিয়ে দিলেন। এতে তার রোগ দূর হয়ে গেল তাকে সুন্দর রং আর সুন্দর চামড়া দেয়া হল। তারপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার প্রিয় সম্পদ কি? সে বলল, উট অথবা গরু। ইসহাক অর্থাৎ হাদীছ বর্ণনাকারী উট কিংবা গরু এ দু’য়ের মধ্যে সন্দেহ করেছেন। তখন তাকে একটি গর্ভবতী উটনী দেয়া হল। ফেরেশতা তার জন্য এই বলে দু‘আ করলেন, “আল্লাহ এ সম্পদে তোমাকে বরকত দান করুন”। তারপর ফেরেশতা টাকপড়া লোকটির কাছে গিয়ে বললেন: “তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?” লোকটি বলল, “আমার প্রিয় জিনিস হচ্ছে সুন্দর চুল। আর লোকজন আমাকে যার জন্য ঘৃণা করে তা থেকে মুক্তি পেতে চাই”। ফেরেশতা তখন তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন। এতে করে তার মাথার টাক দূর হয়ে গেল। তাকে সুন্দর চুল দেয়া হল। অতঃপর ফেরেশতা তাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কোন সম্পদ তোমার কাছে সবচেয়ে বেশী প্রিয়? সে বলল: “উট অথবা গরু।” তখন তাকে গর্ভবতী একটি গাভী দেয়া হল। ফেরেশতা তার জন্য এই বলে দু‘আ করলেন, “আল্লাহ এ সম্পদে তোমাকে বরকত দান করুন”। অতঃপর ফেরেশতা অন্ধ লোকটির কাছে গিয়ে বললেন: “তোমার কাছে সবচেয়ে প্রিয় জিনিস কী?” লোকটি বলল, “আল্লাহ যেন আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। যার ফলে আমি লোকজনকে দেখতে পাবো”। ফেরেশতা তখন তার চোখে হাত বুলিয়ে দিলেন। এতে লোকটির দৃষ্টিশক্তি আল্লাহ তা‘আলা ফিরিয়ে দিলেন। এবার ফেরেশতা তাকে বললেন, “কি সম্পদ তোমার কাছে সব চেয়ে বেশী প্রিয়? সে বলল, “ছাগল আমার বেশী প্রিয়।” তখন তাকে একটি গর্ভবতী ছাগল দেয়া হল। আল্লাহর ফযল ও করমে উট ও গরু বংশ বৃদ্ধি করতে লাগল এবং ছাগলও বংশ বৃদ্ধি করতে লাগল। এমনিভাবে অবশেষে অবস্থা এই দাঁড়াল যে, একজনের উট দ্বারা মাঠ ভরে গেল, আরেকজনের গরু দ্বারা মাঠ পূর্ণ হয়ে গেল এবং আরেকজনের ছাগল দ্বারা মাঠ ভর্তি হয়ে গেল। অতঃপর নির্দিষ্ট একটি সময় পার হওয়ার পর একদিন ফেরেশতা তার পূর্ব আকৃতিতেই কুষ্ঠ রোগীর কাছে উপস্থিত হয়ে বললেন: “আমি একজন মিসকীন”। আমার সফরের সম্বল শেষ হয়ে গেছে (আমি খুবই বিপদগ্রস্ত)। আমার গন্তব্যে পৌঁছার জন্য প্রথমে আল্লাহর, অতঃপর আপনার সাহায্য দরকার। যে আল্লাহ আপনাকে এত সুন্দর রং এবং সুন্দর চামড়া দান করেছেন, তার নামে আমি আপনার কাছে একটা উট সাহায্য চাই, যাতে আমি নিজ গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারি। তখন লোকটি বলল, ‘দেখুন: আমার অনেক দায়-দায়িত্ব আছে, হকদার আছে।’ ফেরেশতা বললেন: ‘আমার মনে হয়, আমি আপনাকে চিনি। আপনি কি কুষ্ঠ রোগী ছিলেন না? মানুষ কি আপনাকে ঘৃণা করতো না? আপনি খুব গরীব ছিলেন না? তারপর আল্লাহ আপনাকে এ সম্পদ দান করেছেন। তখন লোকটি বলল: এ সম্পদ আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। ফেরেশতা তখন বলল, “তুমি যদি মিথ্যাবাদী হয়ে থাক তাহলে আল্লাহ যেন তোমাকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন”। তারপর ফেরেশতা মাথায় টাক-পড়া লোকটির কাছে গেলেন এবং ইতিপূর্বে কুষ্ঠরোগীর সাথে যে ধরনের কথা বলেছিল টাকপড়া লোকটির সাথেও অনুরূপ কথা বললেন। প্রতি উত্তরে কুষ্ঠরোগী যে ধরনের জবাব দিয়েছিল, এ লোকটিও সেই একই ধরনের জবাব দিল। তখন ফেরেশতাও আগের মতই বলল: ‘যদি তুমি মিথ্যাবাদী হও তাহলে আল্লাহ তা‘আলা যেন তোমাকে তোমার পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেন’। অতঃপর ফেরেশতা স্বীয় আকৃতিতে অন্ধ লোকটির কাছে গিয়ে বললেন, ‘আমি এক গরীব মুসাফির। আমার পথের সম্বল নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে। প্রথম আল্লাহর তারপর আপনার সাহায্য কামনা করছি। যিনি আপনার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন, তার নামে একটি ছাগল আপনার কাছে সাহায্য চাই, যাতে আমার সফরে নিজ গন্তব্যস্থানে পৌঁছতে পারি। তখন লোকটি বলল, আমি অন্ধ ছিলাম। আল্লাহ তা‘আলা আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছেন। আপনার যা খুশি নিয়ে যান। আর যা খুশি রেখে যান। আল্লাহর কসম, আল্লাহর নামে আপনি আজ যা নিয়ে যাবেন, তাতে আমি বিন্দুমাত্র বাধা দেবো না। তখন ফেরেশতা বললেন: আপনার মাল আপনি রাখুন। আপনাদেরকে শুধুমাত্র পরীক্ষা করা হল। আপনার আচরণে আল্লাহ সন্তুষ্ট হয়েছেন। আপনার সঙ্গীদ্বয়ের আচরণে অসন্তুষ্ট হয়েছেন।178
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত মাসআলাগুলো জানা যায়:
১) সূরা ফুসসিলাতের ৫০ ও ৫১ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
২) لي هذا ليقولن এর তাৎপর্য জানা গেল।
৩) عندى علم على أوتيته এর মর্মার্থও জানা গেল।
৪) এই আশ্চর্য ধরনের কিসসা হতে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় জানা গেল।
টিকাঃ
178. ছহীহ বুখারী হা/৩৪৬৪, মুসলিম হা/২৯৬৪।