📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৪৪. যে ব্যক্তি যমানাকে গালি দেয় সে আল্লাহকেই গালি দেয়

📄 ৪৪. যে ব্যক্তি যমানাকে গালি দেয় সে আল্লাহকেই গালি দেয়


আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَقَالُوا مَا هِيَ إِلا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ﴾
“অবিশ্বাসীরা বলে, ‘শুধু দুনিয়ার জীবনই আমাদের জীবন। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। যমানা ব্যতীত অন্য কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারে না। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে”। (সূরা জাছিয়া: ২৪)
ছহীহ বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
«يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ، يَسُبُّ الدَّهْرَ، وَأَنَا الدَّهْرُ، أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ»
“বনী আদম আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যমানাকে (মহাকালকে) গালি দেয়। অথচ আমিই যমানা (মহাকাল)। রাত-দিনকে আমিই পরিবর্তন করি”।173
অন্য বর্ণনায় আছে,
«لا تَسُبُّوا الدَّهْرَ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ».
“তোমরা যমানাকে গালি দিয়ো না। কারণ, আল্লাহই হচ্ছেন যমানা। (ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬)
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) কাল বা যমানাকে গালি দেয়া নিষেধ।
২) যমানাকে গালি দেয়া আল্লাহকে কষ্ট দেয়ারই নামান্তর।
৩) فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ ‘আল্লাহই হচ্ছেন যমানা’ রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীর মধ্যে গভীর চিন্তার বিষয় নিহিত আছে।
৪) বান্দার অন্তরে আল্লাহকে গালি দেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও অসাবধানতা বশতঃ মনের অগোচরে তাকে গালি দিয়ে ফেলতে পারে।

টিকাঃ
173. ছহীহ বুখারী হা/৪৮২৬, ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬।

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَقَالُوا مَا هِيَ إِلا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ﴾
“অবিশ্বাসীরা বলে, ‘শুধু দুনিয়ার জীবনই আমাদের জীবন। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। যমানা ব্যতীত অন্য কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারে না। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে”। (সূরা জাছিয়া: ২৪)
ছহীহ বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
«يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ، يَسُبُّ الدَّهْرَ، وَأَنَا الدَّهْرُ، أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ»
“বনী আদম আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যমানাকে (মহাকালকে) গালি দেয়। অথচ আমিই যমানা (মহাকাল)। রাত-দিনকে আমিই পরিবর্তন করি”।173
অন্য বর্ণনায় আছে,
«لا تَسُبُّوا الدَّهْرَ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ».
“তোমরা যমানাকে গালি দিয়ো না। কারণ, আল্লাহই হচ্ছেন যমানা। (ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬)
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) কাল বা যমানাকে গালি দেয়া নিষেধ।
২) যমানাকে গালি দেয়া আল্লাহকে কষ্ট দেয়ারই নামান্তর।
৩) فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ ‘আল্লাহই হচ্ছেন যমানা’ রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীর মধ্যে গভীর চিন্তার বিষয় নিহিত আছে।
৪) বান্দার অন্তরে আল্লাহকে গালি দেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও অসাবধানতা বশতঃ মনের অগোচরে তাকে গালি দিয়ে ফেলতে পারে।

টিকাঃ
173. ছহীহ বুখারী হা/৪৮২৬, ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৪৫. কাযীউল কুযাত (মহা বিচারক) প্রভৃতি নামকরণ প্রসঙ্গে

📄 ৪৫. কাযীউল কুযাত (মহা বিচারক) প্রভৃতি নামকরণ প্রসঙ্গে


ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হাদীছে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ، رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاكِ، لا مَالِكَ إِلا اللَّهُ».
“আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার নামকরণ করা হয় ‘রাজাধিরাজ’। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কোন (প্রকৃত) বাদশাহ নেই।174
সুফিয়ান ছাওরী বলেন:
«مِثْلُ شَاهَانْ شَاهْ».
‘রাজাধিরাজ’ কথাটি ‘শাহানশাহ’-এর মতই একটি নাম।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ»
“ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত, নিকৃষ্ট এবং খারাপ ব্যক্তি হচ্ছে, যার নামকরণ করা হয় রাজাধিরাজ।175
উল্লেখিত হাদীছে أخنع শব্দের অর্থ হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ‘রাজাধিরাজ’ শাহানশাহ নাম ধারণ করা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
২) ‘রাজাধিরাজ’এর অর্থে যত নাম ও শব্দ আছে, সবগুলোর হুকুম একই। যেমন সুফিয়ান ছাওরী হতে বর্ণিত হয়েছে যে, শাহানশাহ রাজাধিরাজের মতই।
৩) রাজাধিরাজ বা অনুরূপ নাম ও উপাধি রাখা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করার বিষয়টি ভালভাবে বুঝা উচিত। সে সাথে এটিও সর্বদা মনে রাখা দরকার যে, অন্তর উক্ত শব্দের প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য করে না। মূলতঃ এক্ষেত্রে অন্তরে কি নিয়্যত আছে তা বিবেচ্য নয়।
৪) এ কথা ভাল করে বুঝা উচিত যে আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও বড়ত্ব প্রদর্শনের জন্যই উক্ত নামে কাউকে নামকরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

টিকাঃ
174 ছহীহ বুখারী হা/৬২০৬, ছহীহ মুসলিম হা/২১৮৩।
175. মুসনাদে আহমাদ ২/৩১৫।

ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হাদীছে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ، رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاكِ، لا مَالِكَ إِلا اللَّهُ».
“আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার নামকরণ করা হয় ‘রাজাধিরাজ’। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কোন (প্রকৃত) বাদশাহ নেই।174
সুফিয়ান ছাওরী বলেন:
«مِثْلُ شَاهَانْ شَاهْ».
‘রাজাধিরাজ’ কথাটি ‘শাহানশাহ’-এর মতই একটি নাম।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ»
“ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত, নিকৃষ্ট এবং খারাপ ব্যক্তি হচ্ছে, যার নামকরণ করা হয় রাজাধিরাজ।175
উল্লেখিত হাদীছে أخنع শব্দের অর্থ হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ‘রাজাধিরাজ’ শাহানশাহ নাম ধারণ করা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
২) ‘রাজাধিরাজ’এর অর্থে যত নাম ও শব্দ আছে, সবগুলোর হুকুম একই। যেমন সুফিয়ান ছাওরী হতে বর্ণিত হয়েছে যে, শাহানশাহ রাজাধিরাজের মতই।
৩) রাজাধিরাজ বা অনুরূপ নাম ও উপাধি রাখা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করার বিষয়টি ভালভাবে বুঝা উচিত। সে সাথে এটিও সর্বদা মনে রাখা দরকার যে, অন্তর উক্ত শব্দের প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য করে না। মূলতঃ এক্ষেত্রে অন্তরে কি নিয়্যত আছে তা বিবেচ্য নয়।
৪) এ কথা ভাল করে বুঝা উচিত যে আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও বড়ত্ব প্রদর্শনের জন্যই উক্ত নামে কাউকে নামকরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

টিকাঃ
174 ছহীহ বুখারী হা/৬২০৬, ছহীহ মুসলিম হা/২১৮৩।
175. মুসনাদে আহমাদ ২/৩১৫।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৪৬. আল্লাহর নামসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং সে জন্য নাম পরিবর্তন করা

📄 ৪৬. আল্লাহর নামসমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা এবং সে জন্য নাম পরিবর্তন করা


আবু শুরাইহ হতে বর্ণিত আছে, এক সময় তার কুনিয়াত (ডাক নাম) ছিল আবুল হাকাম (মহা ফায়সালাকারী)। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
«إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَكَمُ، وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ»، فَقَالَ: إِنَّ قَوْمِي إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَيْءٍ أَتَوْنِي فَحَكَمْتُ بَيْنَهُمْ، فَرَضِيَ كِلا الْفَرِيقَيْنِ، فَقَالَ: «مَا أَحْسَنَ هَذَا، فَمَا لَكَ مِنَ الْوَلَدِ؟ قُلْتُ: شُرَيْحٌ، وَمُسْلِمٌ، وَعَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: فَمَنْ أَكْبَرُهُمْ؟ قُلْتُ: شُرَيْحٌ، قَالَ: فَأَنْتَ أَبُو شُرَيْحٍ».
“আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন হাকাম (মহা ফায়সালাকারী) এবং ফায়সালা একমাত্র তারই। তখন আবু শুরাইহ বললেন, ‘আমার কওমের লোকেরা যখন কোন বিষয়ে মতবিরোধ করে, তখন ফায়সালার জন্য আমার কাছে চলে আসে। তারপর আমি তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেই। এতে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট হয়ে যায়। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথা শুনে বললেন, এটা কতইনা ভাল! তোমার কি সন্তানাদি আছে? আবু শুরাইহ বললেন, আমার শুরাইহ, মুসলিম এবং আব্দুল্লাহ নামের তিনটি ছেলে আছে। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তাদের মধ্যে সবার বড় কে? আমি বললাম: শুরাইহ। তিনি বললেন তাহলে তুমি আবু শুরাইহ (শুরাইহের পিতা)।176
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) বান্দার উচিত আল্লাহর আসমা ও ছিফাত অর্থাৎ নাম ও গুণাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সে জন্যই আল্লাহর নাম ও সিফাতের মত করে কারো নাম রাখা অনুচিত। যদিও উক্ত নাম রাখার সময় এর অর্থ উদ্দেশ্য না হয়।
২) আল্লাহর নাম ও সিফাতের সম্মানার্থে কতক নাম পরিবর্তন করা জরুরী।
৩) উপনামের জন্য জন্য বড় ছেলের নাম বাছাই করা উচিত।

টিকাঃ
176. ছহীহ: আবু দাউদ হা/৪৯৫৫, নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৫৯০৭, ইমাম বুখারী আল আদাবুল মুফরাদ হা/৮১১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬১৫।

আবু শুরাইহ হতে বর্ণিত আছে, এক সময় তার কুনিয়াত (ডাক নাম) ছিল আবুল হাকাম (মহা ফায়সালাকারী)। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন,
«إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَكَمُ، وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ»، فَقَالَ: إِنَّ قَوْمِي إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَيْءٍ أَتَوْنِي فَحَكَمْتُ بَيْنَهُمْ، فَرَضِيَ كِلا الْفَرِيقَيْنِ، فَقَالَ: «مَا أَحْسَنَ هَذَا، فَمَا لَكَ مِنَ الْوَلَدِ؟ قُلْتُ: شُرَيْحٌ، وَمُسْلِمٌ، وَعَبْدُ اللَّهِ، قَالَ: فَمَنْ أَكْبَرُهُمْ؟ قُلْتُ: شُرَيْحٌ، قَالَ: فَأَنْتَ أَبُو شُرَيْحٍ».
“আল্লাহ তা‘আলাই হচ্ছেন হাকাম (মহা ফায়সালাকারী) এবং ফায়সালা একমাত্র তারই। তখন আবু শুরাইহ বললেন, ‘আমার কওমের লোকেরা যখন কোন বিষয়ে মতবিরোধ করে, তখন ফায়সালার জন্য আমার কাছে চলে আসে। তারপর আমি তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেই। এতে উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট হয়ে যায়। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একথা শুনে বললেন, এটা কতইনা ভাল! তোমার কি সন্তানাদি আছে? আবু শুরাইহ বললেন, আমার শুরাইহ, মুসলিম এবং আব্দুল্লাহ নামের তিনটি ছেলে আছে। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তাদের মধ্যে সবার বড় কে? আমি বললাম: শুরাইহ। তিনি বললেন তাহলে তুমি আবু শুরাইহ (শুরাইহের পিতা)।176
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) বান্দার উচিত আল্লাহর আসমা ও ছিফাত অর্থাৎ নাম ও গুণাবলীর প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা। সে জন্যই আল্লাহর নাম ও সিফাতের মত করে কারো নাম রাখা অনুচিত। যদিও উক্ত নাম রাখার সময় এর অর্থ উদ্দেশ্য না হয়।
২) আল্লাহর নাম ও সিফাতের সম্মানার্থে কতক নাম পরিবর্তন করা জরুরী।
৩) উপনামের জন্য জন্য বড় ছেলের নাম বাছাই করা উচিত।

টিকাঃ
176. ছহীহ: আবু দাউদ হা/৪৯৫৫, নাসাঈ ফিল কুবরা হা/৫৯০৭, ইমাম বুখারী আল আদাবুল মুফরাদ হা/৮১১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬১৫।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৪৭. আল্লাহ কুরআন অথবা রসূল সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে উপহাস করা

📄 ৪৭. আল্লাহ কুরআন অথবা রসূল সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে উপহাস করা


আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
{وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ (٦٥) لا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُمْ بَعْدَ إِيمَانِكُمْ} [التوبة: ٦٥، ٦٦].
“তুমি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, (তোমরা কি কথা বলছিলে?) উত্তরে তারা অবশ্যই বলবে যে, আমরা কেবল হাসি-তামাসা উপহাস-পরিহাস করছিলাম। বলো: তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াতসমূহ এবং তার রসূলকে নিয়ে উপহাস করছিলে? তোমরা এখন ওযর পেশ করো না। তোমরা তো ঈমান আনার পর কুফরী করেছ। ”। (সূরা আত তাওবা: ৬৫-৬৬)
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার, মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব, যায়েদ বিন আসলাম এবং কাতাদাহ ✄ (তাদের একের কথার সাথে অপরের কথার মিল রয়েছে) থেকে বর্ণিত আছে যে,
أَنَّهُ قَالَ رَجُلٌ فِي غَزْوَةِ تَبُوكَ: مَا رَأَيْنَا مِثْلَ قُرَّائِنَا هَؤُلاءِ أَرْغَبَ بُطُونًا وَلا أَكْذَبَ أَلْسُنًا وَلا أَجْبَنَ عِنْدَ اللِّقَاءِ، يَعْنِي رَسُولَ اللَّهِ؟، وَأَصْحَابَهُ الْقُرَّاءَ، فَقَالَ لَهُ عَوْفُ بْنُ مَالِكٍ: كَذَبْتَ، وَلَكِنَّكَ مُنَافِقٌ، لأُخْبِرَنَّ رَسُولَ اللَّهِ؟، فَذَهَبَ عَوْفٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لِيُخْبِرَهُ، فَوَجَدَ الْقُرْآنَ قَدْ سَبَقَهُ.
فَجَاءَ ذَلِكَ الرَّجُلُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ؟، وَقَدِ ارْتَحَلَ وَرَكِبَ نَاقَتَهُ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَتَحَدَّثُ حَدِيثَ الرَّكْبِ نَقْطَعُ بِهِ عَنَاءَ الطَّرِيقِ، قَالَ ابْنُ عُمَرَ: كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ مُتَعَلِّقًا بِنِسْعَةِ نَاقَةِ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - وَإِنَّ الْحِجَارَةَ تَنْكُبُ رِجْلَيْهِ، وَهُوَ يَقُولُ: إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ، فَيَقُولُ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ؟: {قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ} الآيَةَ، مَا يَلْتَفِتُ إِلَيْهِ وَمَا يَزِيدُهُ عَلَيْهِ.
তাবুক যুদ্ধে একজন লোক বলল, এসব কারীর চেয়ে অধিক পেটুক, কথায় এদের চেয়ে অধিক মিথ্যুক এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সাক্ষাতে এত অধিক ভীরু আর কোন লোক দেখিনি। অর্থাৎ লোকটি তার কথা দ্বারা মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং তার কারী ছাহাবায়ে কেরামের দিকে ইঙ্গিত করছিল। আওফ বিন মালেক লোকটিকে বললেন, তুমি মিথ্যা বলেছ এবং তুমি একজন পাকা মুনাফিক। আমি অবশ্যই রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ খবর জানাব। আওফ তখন এ খবর জানানোর জন্য রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে গেলেন। গিয়ে দেখলেন কুরআন তার চেয়েও অগ্রগামী অর্থাৎ আওফ পৌঁছার পূর্বেই অহীর মাধ্যমে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাপারটি জেনে ফেলেছেন। এরই মধ্যে মুনাফিক রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে আসল। লোকটি এমন সময় রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে উপস্থিত হল, যখন তিনি সফরের উদ্দেশ্যে উটনীর উপর আরোহন করে রওয়ানা দিচ্ছিলেন। তারপর সে বলল: ‘হে আল্লাহর রসূল! আমরা হাসি-তামাশা করছিলাম এবং চলার পথে আরোহীদের মতই পরস্পর হাসি-তামাসা করছিলাম। যাতে করে আমাদের পথ চলার কষ্ট লাঘব হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা) বলেন, আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখছি, যখন সে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উটনীর গদির রশির সাথে ঝুলন্ত ছিল (এবং কিভাবে সে তার সাথে কথা বলছিল)। লোকটি ঝুলন্ত থাকার কারণে এবং রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে নিয়ে উটনী যাত্রা শুরু করার কারণে তার পা দু’টি পাথরের উপর দিয়ে হিঁচড়ে যাচ্ছিল। আর সে বলছিল, ‘আমরা হাসি ঠাট্টা ও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করছিলাম। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন তাকে উদ্দেশ্য করে বলছিলেন,
{أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ}
“তোমরা কি আল্লাহ, তার আয়াতসমূহ এবং তার রসূলকে নিয়ে উপহাস করছিলে? ” (সূরা আত তাওবা: ৬৫) তিনি তার দিকে (মুনাফিকের দিকে একবারও) তাকিয়ে দেখেননি এবং উক্ত আয়াতের বাইরে অতিরিক্ত কোন কথাও বলেননি।177

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত মাসআলাগুলো জানা যায়:
১) এ অধ্যায়ের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও বিরাট মাসআলা হচ্ছে, যারা আল্লাহ, কুরআন ও রসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে তারা কাফির।
২) এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর ঐ ব্যক্তির জন্য, যে এ ধরনের কাজ করে অর্থাৎ আল্লাহ, কুরআন ও রসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। সে যেই হোক না কেন।
৩) চোগলখোরী এবং আল্লাহ ও তার রসূলের উদ্দেশ্যে নসীহতের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। অর্থাৎ আওফ বিন মালেক  কর্তৃক রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মুনাফেকের কথা জানিয়ে দেয়া চোগলখোরীর আওতায় পড়ে না।
৪) যেই পরিমাণ ক্ষমা করাকে আল্লাহ ভালবাসেন তার মাঝে এবং আল্লাহর দুশমনদের উপর কঠোরতা প্রদর্শনের মাঝে পার্থক্য রয়েছে।
৫) কিছু কিছু ওযর এমন রয়েছে যা গ্রহণ করা উচিত নয়।

টিকাঃ
177. হাসান: ইবনে আবী হাতিম ৪/৬৮, শাইখ মুকবিল আল ওয়াদিঈ, আছ ছহীহ মুসনাদ হা/৭১।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00