📄 ৪২. আল্লাহর নামে কসম করে সন্তুষ্ট না থাকার পরিণাম
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«لا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقْ، وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللَّهِ فَلْيَرْضَ، وَمَنْ لَمْ يَرْضَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ»
“তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, সে যেন সত্য বলে। আর যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হবে, সে যেন উক্ত কসমে সন্তুষ্ট থাকে। আল্লাহর কসমে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো না, তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই”।168
ইমাম ইবনে মাজাহ হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যানা যায়:
১) বাপ-দাদার নামে কসম করার উপর নিষেধাজ্ঞা।
২) যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হল, তার প্রতি কসমের বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ রয়েছে।
৩) আল্লাহর নামে কসম করার পর, যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে না, তাকে ভয় প্রদর্শন ও হুশিয়ার করা হয়েছে।
টিকাঃ
168. হাসান-ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১০১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬৯৮।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«لا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقْ، وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللَّهِ فَلْيَرْضَ، وَمَنْ لَمْ يَرْضَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ»
“তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, সে যেন সত্য বলে। আর যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হবে, সে যেন উক্ত কসমে সন্তুষ্ট থাকে। আল্লাহর কসমে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো না, তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই”।168
ইমাম ইবনে মাজাহ হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যানা যায়:
১) বাপ-দাদার নামে কসম করার উপর নিষেধাজ্ঞা।
২) যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হল, তার প্রতি কসমের বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ রয়েছে।
৩) আল্লাহর নামে কসম করার পর, যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে না, তাকে ভয় প্রদর্শন ও হুশিয়ার করা হয়েছে।
টিকাঃ
168. হাসান-ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১০১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬৯৮।
📄 ৪৩. আল্লাহ এবং আপনি যা চেয়েছেন- এ কথা বলার বিধান
কুতাইলা হতে বর্ণিত আছে,
«أَنَّ يَهُودِيًّا أَتَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: إِنَّكُمْ تُشْرِكُونَ، تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، وَتَقُولُونَ: وَالْكَعْبَةِ، فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَرَادُوا أَنْ يَحْلِفُوا أَنْ يَقُولُوا: وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، وَأَنْ يَقُولُوا: «مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ».
এক ইয়াহূদী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: আপনারা আল্লাহর সাথে শিরক করে থাকেন। কারণ আপনারা বলে থাকেন: আল্লাহ এবং আপনি যা চেয়েছেন। আপনারা আরো বলে থাকেন কাবার কসম। এরপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মুসলমানদের মধ্যে যারা কসম করতে চায়, তারা যেন বলে وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ‘কাবার রবের কসম’। আর যেন এ কথা বলে: مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর আপনি যা চেয়েছেন’।169
ইমাম নাসাঈ এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং ছহীহ বলেছেন।
সুনানে নাসাঈ তে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ✃ হতে আরো একটি হাদীছে বর্ণিত আছে,
«أَنَّ رَجُلا قَالَ لِلنَّبِيِّ? : مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، فَقَالَ: «أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا؟ مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ».
এক ব্যক্তি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্যে বলল: আপনি এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন। তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরীক বানিয়ে ফেলেছ?” আসলে আল্লাহ একাই যা ইচ্ছা করেছেন, তাই হয়েছে”।170
আয়েশা ✆ এর বৈপিত্রেয় (মায়ের তরফ থেকে) ভাই তোফায়েল থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
رَأَيْتُ كَأَنِّي أَتَيْتُ عَلَى نَفَرٍ مِنَ الْيَهُودِ، قُلْتُ: إِنَّكُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ، قَالُوا: وَأَنْتُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، ثُمَّ مَرَرْتُ بِنَفَرٍ مِنَ النَّصَارَى، فَقُلْتُ: إِنَّكُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ. قَالُوا: وَأَنْتُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَخْبَرْتُ بِهَا مَنْ أَخْبَرْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَأَخْبَرْتُهُ، قَالَ: هَلْ أَخْبَرْتَ بِهَا أَحَدًا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ طُفَيْلا رَأَى رُؤْيَا أَخْبَرَ بِهَا مَنْ أَخْبَرَ مِنْكُمْ، وَإِنَّكُمْ قُلْتُمْ كَلِمَةً كَانَ يَمْنَعُنِي كَذَا وَكَذَا أَنْ أَنْهَاكُمْ عَنْهَا، فَلا تَقُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، وَلَكِنْ قُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ».
আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি কয়েকজন ইয়াহূদীর কাছে এসেছি। আমি তাদেরকে বললাম: তোমরা অবশ্যই একটা ভাল জাতি, যদি তোমরা উযাইরকে আল্লাহর পুত্র না বলতে! তারা বলল: ‘তোমরাও অবশ্যই একটি ভাল জাতি হতে, যদি তোমরা এ কথা না বলতে, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেছেন’। সকালে এ (স্বপ্নের) খবর যাকে পেলাম তাকে দিলাম। তারপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এলাম এবং তাকে আমার স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বললেন: এ স্বপ্নের কথা কি আর কাউকে বলেছ? বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং গুণ বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন: তোফায়েল একটা স্বপ্ন দেখেছে, যার খবর তোমাদের মধ্যে যাকে বলার বলেছে। তোমরা এমন একটি কথা বলছ, যা থেকে আমিও তোমাদেরকে নিষেধ করতে চেয়েছিলাম, তবে অমুক অমুক কারণ আমাকে তা বলতে বাধা প্রদান করেছে। অতএব তোমরা এভাবে বলবে না যে, مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ অর্থাৎ ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা ইচ্ছা করেছেন; বরং তোমরা বল: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ অর্থাৎ ‘আল্লাহ একাই যা ইচ্ছা করেছেন’।171
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ছোট শিরক সম্পর্কে ইয়াহূদীরাও অবগত আছে।
২) কোন বিষয়ে যখন মানুষের প্রবৃত্তি সামনে চলে আসে, তখন সে স্বীয় প্রবৃত্তি অনুসারেই বিষয়টিকে বুঝতে চায়।
৩) লোকেরা যখন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লক্ষ্য করে مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ (আপনি যা চেয়েছেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন) বলল, তখন তিনি এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন এভাবে বললে শিরক হয়। তিনি এভাবে প্রতিবাদ করেছেন যে: أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا ‘তুমি কি আমাকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে দিলে? তাহলে সে ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যে ব্যক্তি বলে, يَا أَكْرَمَ الْخَلْقِ مَا لِي مَنْ أَلُوذُ بِهِ سِوَاكَ ‘হে সৃষ্টির সেরা! আপনি ছাড়া আমার আশ্রয়দাতা কেউ নেই এবং এ কবিতাংশের পরবর্তী দু’টি লাইন। অর্থাৎ উপরোক্ত কথা বললে অবশ্যই বড় ধরনের শিরক হবে।
৪) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: يَمْنَعُنِي كَذَا وَكَذَا (আমাকে অমুক অমুক বিষয় নিষেধ করতে বারণ করেছে) দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা শিরকে আকবার তথা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫) ভাল ও সত্য স্বপ্ন অহীর শ্রেণীভুক্ত।
৬) স্বপ্ন শরী‘আতের কোন কোন বিধান জারির কারণ হতে পারে।172
টিকাঃ
169. ছহীহ: সুনানে নাসাঈ হা/৩৭৭৩, আলবানী, আছ-ছহীহাহ হা/১৩৬।
170. ছহীহ: মুসনাদে আহমাদ, হাদীছটির একাধিক শাওয়াহেদ থাকার কারণে ছহীহ।
171. ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১১৮, মুসনাদে আহমাদ।
172. তবে নবী-রসূলদের স্বপ্নের মাধ্যমেই শরী‘আতের বিধান জারি হতে পারে। সাধারণ মুমিনদের স্বপ্ন দ্বারা কখনই শরী‘আতের কোন বিধান সাব্যস্ত হবে না।
কুতাইলা হতে বর্ণিত আছে,
«أَنَّ يَهُودِيًّا أَتَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: إِنَّكُمْ تُشْرِكُونَ، تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، وَتَقُولُونَ: وَالْكَعْبَةِ، فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَرَادُوا أَنْ يَحْلِفُوا أَنْ يَقُولُوا: وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، وَأَنْ يَقُولُوا: «مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ».
এক ইয়াহূদী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: আপনারা আল্লাহর সাথে শিরক করে থাকেন। কারণ আপনারা বলে থাকেন: আল্লাহ এবং আপনি যা চেয়েছেন। আপনারা আরো বলে থাকেন কাবার কসম। এরপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মুসলমানদের মধ্যে যারা কসম করতে চায়, তারা যেন বলে وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ‘কাবার রবের কসম’। আর যেন এ কথা বলে: مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর আপনি যা চেয়েছেন’।169
ইমাম নাসাঈ এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং ছহীহ বলেছেন।
সুনানে নাসাঈ তে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ✃ হতে আরো একটি হাদীছে বর্ণিত আছে,
«أَنَّ رَجُلا قَالَ لِلنَّبِيِّ? : مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، فَقَالَ: «أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا؟ مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ».
এক ব্যক্তি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্যে বলল: আপনি এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন। তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরীক বানিয়ে ফেলেছ?” আসলে আল্লাহ একাই যা ইচ্ছা করেছেন, তাই হয়েছে”।170
আয়েশা ✆ এর বৈপিত্রেয় (মায়ের তরফ থেকে) ভাই তোফায়েল থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
رَأَيْتُ كَأَنِّي أَتَيْتُ عَلَى نَفَرٍ مِنَ الْيَهُودِ، قُلْتُ: إِنَّكُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ، قَالُوا: وَأَنْتُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، ثُمَّ مَرَرْتُ بِنَفَرٍ مِنَ النَّصَارَى، فَقُلْتُ: إِنَّكُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ. قَالُوا: وَأَنْتُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَخْبَرْتُ بِهَا مَنْ أَخْبَرْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَأَخْبَرْتُهُ، قَالَ: هَلْ أَخْبَرْتَ بِهَا أَحَدًا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ طُفَيْلا رَأَى رُؤْيَا أَخْبَرَ بِهَا مَنْ أَخْبَرَ مِنْكُمْ، وَإِنَّكُمْ قُلْتُمْ كَلِمَةً كَانَ يَمْنَعُنِي كَذَا وَكَذَا أَنْ أَنْهَاكُمْ عَنْهَا، فَلا تَقُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، وَلَكِنْ قُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ».
আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি কয়েকজন ইয়াহূদীর কাছে এসেছি। আমি তাদেরকে বললাম: তোমরা অবশ্যই একটা ভাল জাতি, যদি তোমরা উযাইরকে আল্লাহর পুত্র না বলতে! তারা বলল: ‘তোমরাও অবশ্যই একটি ভাল জাতি হতে, যদি তোমরা এ কথা না বলতে, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেছেন’। সকালে এ (স্বপ্নের) খবর যাকে পেলাম তাকে দিলাম। তারপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এলাম এবং তাকে আমার স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বললেন: এ স্বপ্নের কথা কি আর কাউকে বলেছ? বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং গুণ বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন: তোফায়েল একটা স্বপ্ন দেখেছে, যার খবর তোমাদের মধ্যে যাকে বলার বলেছে। তোমরা এমন একটি কথা বলছ, যা থেকে আমিও তোমাদেরকে নিষেধ করতে চেয়েছিলাম, তবে অমুক অমুক কারণ আমাকে তা বলতে বাধা প্রদান করেছে। অতএব তোমরা এভাবে বলবে না যে, مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ অর্থাৎ ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা ইচ্ছা করেছেন; বরং তোমরা বল: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ অর্থাৎ ‘আল্লাহ একাই যা ইচ্ছা করেছেন’।171
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ছোট শিরক সম্পর্কে ইয়াহূদীরাও অবগত আছে।
২) কোন বিষয়ে যখন মানুষের প্রবৃত্তি সামনে চলে আসে, তখন সে স্বীয় প্রবৃত্তি অনুসারেই বিষয়টিকে বুঝতে চায়।
৩) লোকেরা যখন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লক্ষ্য করে مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ (আপনি যা চেয়েছেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন) বলল, তখন তিনি এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন এভাবে বললে শিরক হয়। তিনি এভাবে প্রতিবাদ করেছেন যে: أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا ‘তুমি কি আমাকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে দিলে? তাহলে সে ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যে ব্যক্তি বলে, يَا أَكْرَمَ الْخَلْقِ مَا لِي مَنْ أَلُوذُ بِهِ سِوَاكَ ‘হে সৃষ্টির সেরা! আপনি ছাড়া আমার আশ্রয়দাতা কেউ নেই এবং এ কবিতাংশের পরবর্তী দু’টি লাইন। অর্থাৎ উপরোক্ত কথা বললে অবশ্যই বড় ধরনের শিরক হবে।
৪) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: يَمْنَعُنِي كَذَا وَكَذَا (আমাকে অমুক অমুক বিষয় নিষেধ করতে বারণ করেছে) দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা শিরকে আকবার তথা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫) ভাল ও সত্য স্বপ্ন অহীর শ্রেণীভুক্ত।
৬) স্বপ্ন শরী‘আতের কোন কোন বিধান জারির কারণ হতে পারে।172
টিকাঃ
169. ছহীহ: সুনানে নাসাঈ হা/৩৭৭৩, আলবানী, আছ-ছহীহাহ হা/১৩৬।
170. ছহীহ: মুসনাদে আহমাদ, হাদীছটির একাধিক শাওয়াহেদ থাকার কারণে ছহীহ।
171. ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১১৮, মুসনাদে আহমাদ।
172. তবে নবী-রসূলদের স্বপ্নের মাধ্যমেই শরী‘আতের বিধান জারি হতে পারে। সাধারণ মুমিনদের স্বপ্ন দ্বারা কখনই শরী‘আতের কোন বিধান সাব্যস্ত হবে না।
📄 ৪৪. যে ব্যক্তি যমানাকে গালি দেয় সে আল্লাহকেই গালি দেয়
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَقَالُوا مَا هِيَ إِلا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ﴾
“অবিশ্বাসীরা বলে, ‘শুধু দুনিয়ার জীবনই আমাদের জীবন। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। যমানা ব্যতীত অন্য কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারে না। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে”। (সূরা জাছিয়া: ২৪)
ছহীহ বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
«يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ، يَسُبُّ الدَّهْرَ، وَأَنَا الدَّهْرُ، أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ»
“বনী আদম আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যমানাকে (মহাকালকে) গালি দেয়। অথচ আমিই যমানা (মহাকাল)। রাত-দিনকে আমিই পরিবর্তন করি”।173
অন্য বর্ণনায় আছে,
«لا تَسُبُّوا الدَّهْرَ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ».
“তোমরা যমানাকে গালি দিয়ো না। কারণ, আল্লাহই হচ্ছেন যমানা। (ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬)
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) কাল বা যমানাকে গালি দেয়া নিষেধ।
২) যমানাকে গালি দেয়া আল্লাহকে কষ্ট দেয়ারই নামান্তর।
৩) فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ ‘আল্লাহই হচ্ছেন যমানা’ রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীর মধ্যে গভীর চিন্তার বিষয় নিহিত আছে।
৪) বান্দার অন্তরে আল্লাহকে গালি দেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও অসাবধানতা বশতঃ মনের অগোচরে তাকে গালি দিয়ে ফেলতে পারে।
টিকাঃ
173. ছহীহ বুখারী হা/৪৮২৬, ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَقَالُوا مَا هِيَ إِلا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا نَمُوتُ وَنَحْيَا وَمَا يُهْلِكُنَا إِلا الدَّهْرُ وَمَا لَهُمْ بِذَلِكَ مِنْ عِلْمٍ إِنْ هُمْ إِلا يَظُنُّونَ﴾
“অবিশ্বাসীরা বলে, ‘শুধু দুনিয়ার জীবনই আমাদের জীবন। আমরা এখানেই মরি ও বাঁচি। যমানা ব্যতীত অন্য কিছুই আমাদেরকে ধ্বংস করতে পারে না। তাদের কাছে এ ব্যাপারে কোন জ্ঞান নেই। তারা কেবল অনুমান করে কথা বলে”। (সূরা জাছিয়া: ২৪)
ছহীহ বুখারী ও মুসলিম আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
«يُؤْذِينِي ابْنُ آدَمَ، يَسُبُّ الدَّهْرَ، وَأَنَا الدَّهْرُ، أُقَلِّبُ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ»
“বনী আদম আমাকে কষ্ট দেয়। তারা যমানাকে (মহাকালকে) গালি দেয়। অথচ আমিই যমানা (মহাকাল)। রাত-দিনকে আমিই পরিবর্তন করি”।173
অন্য বর্ণনায় আছে,
«لا تَسُبُّوا الدَّهْرَ، فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ».
“তোমরা যমানাকে গালি দিয়ো না। কারণ, আল্লাহই হচ্ছেন যমানা। (ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬)
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) কাল বা যমানাকে গালি দেয়া নিষেধ।
২) যমানাকে গালি দেয়া আল্লাহকে কষ্ট দেয়ারই নামান্তর।
৩) فَإِنَّ اللَّهَ هُوَ الدَّهْرُ ‘আল্লাহই হচ্ছেন যমানা’ রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণীর মধ্যে গভীর চিন্তার বিষয় নিহিত আছে।
৪) বান্দার অন্তরে আল্লাহকে গালি দেয়ার ইচ্ছা না থাকলেও অসাবধানতা বশতঃ মনের অগোচরে তাকে গালি দিয়ে ফেলতে পারে।
টিকাঃ
173. ছহীহ বুখারী হা/৪৮২৬, ছহীহ মুসলিম হা/২২৪৬।
📄 ৪৫. কাযীউল কুযাত (মহা বিচারক) প্রভৃতি নামকরণ প্রসঙ্গে
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হাদীছে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ، رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاكِ، لا مَالِكَ إِلا اللَّهُ».
“আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার নামকরণ করা হয় ‘রাজাধিরাজ’। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কোন (প্রকৃত) বাদশাহ নেই।174
সুফিয়ান ছাওরী বলেন:
«مِثْلُ شَاهَانْ شَاهْ».
‘রাজাধিরাজ’ কথাটি ‘শাহানশাহ’-এর মতই একটি নাম।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ»
“ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত, নিকৃষ্ট এবং খারাপ ব্যক্তি হচ্ছে, যার নামকরণ করা হয় রাজাধিরাজ।175
উল্লেখিত হাদীছে أخنع শব্দের অর্থ হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ‘রাজাধিরাজ’ শাহানশাহ নাম ধারণ করা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
২) ‘রাজাধিরাজ’এর অর্থে যত নাম ও শব্দ আছে, সবগুলোর হুকুম একই। যেমন সুফিয়ান ছাওরী হতে বর্ণিত হয়েছে যে, শাহানশাহ রাজাধিরাজের মতই।
৩) রাজাধিরাজ বা অনুরূপ নাম ও উপাধি রাখা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করার বিষয়টি ভালভাবে বুঝা উচিত। সে সাথে এটিও সর্বদা মনে রাখা দরকার যে, অন্তর উক্ত শব্দের প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য করে না। মূলতঃ এক্ষেত্রে অন্তরে কি নিয়্যত আছে তা বিবেচ্য নয়।
৪) এ কথা ভাল করে বুঝা উচিত যে আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও বড়ত্ব প্রদর্শনের জন্যই উক্ত নামে কাউকে নামকরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
টিকাঃ
174 ছহীহ বুখারী হা/৬২০৬, ছহীহ মুসলিম হা/২১৮৩।
175. মুসনাদে আহমাদ ২/৩১৫।
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু হুরায়রা ✃ থেকে বর্ণিত হাদীছে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«إِنَّ أَخْنَعَ اسْمٍ عِنْدَ اللَّهِ، رَجُلٌ تَسَمَّى مَلِكَ الأَمْلاكِ، لا مَالِكَ إِلا اللَّهُ».
“আল্লাহ তা‘আলার কাছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ঐ ব্যক্তি, যার নামকরণ করা হয় ‘রাজাধিরাজ’। কেননা আল্লাহ ব্যতীত কোন (প্রকৃত) বাদশাহ নেই।174
সুফিয়ান ছাওরী বলেন:
«مِثْلُ شَاهَانْ شَاهْ».
‘রাজাধিরাজ’ কথাটি ‘শাহানশাহ’-এর মতই একটি নাম।
অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«أَغْيَظُ رَجُلٍ عَلَى اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَأَخْبَثُهُ»
“ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর কাছে সবচেয়ে ঘৃণিত, নিকৃষ্ট এবং খারাপ ব্যক্তি হচ্ছে, যার নামকরণ করা হয় রাজাধিরাজ।175
উল্লেখিত হাদীছে أخنع শব্দের অর্থ হচ্ছে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ‘রাজাধিরাজ’ শাহানশাহ নাম ধারণ করা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।
২) ‘রাজাধিরাজ’এর অর্থে যত নাম ও শব্দ আছে, সবগুলোর হুকুম একই। যেমন সুফিয়ান ছাওরী হতে বর্ণিত হয়েছে যে, শাহানশাহ রাজাধিরাজের মতই।
৩) রাজাধিরাজ বা অনুরূপ নাম ও উপাধি রাখা হতে কঠোরভাবে নিষেধ করার বিষয়টি ভালভাবে বুঝা উচিত। সে সাথে এটিও সর্বদা মনে রাখা দরকার যে, অন্তর উক্ত শব্দের প্রকৃত অর্থ উদ্দেশ্য করে না। মূলতঃ এক্ষেত্রে অন্তরে কি নিয়্যত আছে তা বিবেচ্য নয়।
৪) এ কথা ভাল করে বুঝা উচিত যে আল্লাহ তা‘আলার সম্মান ও বড়ত্ব প্রদর্শনের জন্যই উক্ত নামে কাউকে নামকরণ করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
টিকাঃ
174 ছহীহ বুখারী হা/৬২০৬, ছহীহ মুসলিম হা/২১৮৩।
175. মুসনাদে আহমাদ ২/৩১৫।