📄 ৪০. আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করার পরিণাম
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:
يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ
“তারা আল্লাহর নিয়ামত চিনে, অতঃপর তা অস্বীকার করে তাদের অধিকাংশ অকৃতজ্ঞ।” (সূরা আন নাহল: ৮৩)
মুজাহিদ বলেন, এর মর্মার্থ হচ্ছে, কোন মানুষের এ কথা বলা ‘এ সম্পদ আমার, যা আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি’|
আউন বলেন: এর অর্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, অমুক ব্যক্তি না হলে এমনটি হত না। ইবনে কুতায়বা (রহঃ) বলেন: মুশরিকরা বলে,
আমরা আমাদের মা‘বূদের সুপারিশের বদৌলতে এটি অর্জন করেছি।
যায়েদ বিন খালেদ হতে বর্ণিত হাদীছটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তাতে এ কথা আছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
«أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ»
“আজ আমার কোন বান্দার ভোরে নিদ্রা ভঙ্গ হয়েছে মু’মিন অবস্থায়, আবার কারো ভোর হয়েছে কাফির অবস্থায়।
হাদীছের এই অংশের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, এ ধরনের অনেক বক্তব্য কুরআন ও সুন্নাহয় উল্লেখ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতকে অন্যের সাথে সম্পৃক্ত করে এবং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে, আল্লাহ তা‘আলা এখানে তার নিন্দা করেছেন।
উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কোন সালফে ছলেহীন বলেন, বিষয়টি মুশরিকদের এ কথার মতই, “অঘটন থেকে বাঁচার কারণ হচ্ছে অনুকূল বাতাস, আর মাঝি-মাল্লারা ছিল বিচক্ষণ”। এ ধরনের আরো অনেক কথা রয়েছে যা সাধারণ মানুষের মুখে অহরহই শুনা যায়।
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর নিয়ামতগুলো চেনা এবং তা অস্বীকার করার ব্যাখ্যা জানা গেল।
২) জেনে-শুনে আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকারের বিষয়টি মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত।
৩) মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত এ সব কথা আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করারই শামিল।
৪) এ ধরনের কথা প্রমাণ করে যে, অন্তরে দু’টি বিপরীতমুখী (ঈমান ও কুফরী) বিষয়ের সমাবেশ ঘটতে পারে।
টিকাঃ
১৬৫. ছহীহ বুখারী হা/১০৩৮, ছহীহ মুসলিম হা/৭১, নাসাঈ হা/১৫২৫, মুসনাদে আহমাদ।
📄 ৪১. জেনে-বুঝে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ﴾
“অতএব জেনে-বুঝে তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ নির্ধারণ করো না”। (সূরা আল বাকারা: ২২)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস ✃ বলেন: أنـداد (আন্দাদ) হচ্ছে শিরক। অন্ধকার রাত্রে নির্মল কালো পাথরের উপর পিপীলিকার চলাচলের চেয়েও অধিক গোপনে মানুষের মধ্যে শিরক অনুপ্রবেশ করে। এর উদাহরণ হচ্ছে, তোমার এ কথা বলা, ‘আল্লাহর কসম! এবং হে অমুক! তোমার জীবনের কসম, আমার জীবনের কসম। অনুরূপ তোমার কথা ‘যদি এ ছোট্ট কুকুরটি না থাকত, তাহলে অবশ্যই আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করত। ‘হাঁসটি যদি ঘরে না থাকত, তাহলে অবশ্যই চোর আসত’। অনুরূপ কোন ব্যক্তি তার সাথীকে এ কথা বলল:, ‘আল্লাহ তা‘আলা এবং তুমি যা ইচ্ছা করো’। কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, ‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যদি না থাকে, তাহলে অমুক ব্যক্তিকে এ কাজে রেখো না।’ এগুলো সবই শিরক। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস ✃এর এ বক্তব্য নকল করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ، أَوْ أَشْرَكَ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল, সে কুফরী অথবা শিরক করল”।166
ইমাম তিরমিযী এই হাদীছ বর্ণনা করার পর হাসান বলেছেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এটিকে ছহীহ বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ✃বলেছেন,
«لأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ كَاذِبًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ بِغَيْرِهِ صَادِقًا».
“আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা আমার কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৭৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৮/৪৬৮।
হুযাইফা ✃ থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ فُلانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فُلانٌ».
‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন’ এ কথা তোমরা বলো না; বরং এ কথা বল, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছে’।167
ইমাম আবু দাউদ ছহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
ইবরাহীম নাখয়ী থেকে এ কথা বর্ণিত আছে যে, أعوذ بالله وبك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহ এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই- এ কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর أعوذ بالله ثم بك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অতঃপর আপনার কাছে- এ কথা বলা তিনি জায়েয মনে করতেন। তিনি আরো বলেছেন, لولا الله ثم فلان ‘যদি আল্লাহ না থাকত অতঃপর অমুক না থাকত- একথা বলাও তিনি জায়েয মনে করতেন। কিন্তু لولا الله وفلان অর্থাৎ যদি আল্লাহ না থাকতেন এবং অমুক না থাকত- এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আল বাকারার ২২ নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শিরক করার তাফসীর জানা গেল।
২) শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় শিরকের ব্যাপারে নাযিলকৃত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ছাহাবায়ে কেরাম এভাবে করেছেন যে, তাদের সে ব্যাখ্যা ছোট শিরকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৩) গাইরুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্যের) নামে কসম করা শিরক।
৪) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করার চেয়েও জঘন্য গুনাহ।
৫) واو এবং ثم এর মধ্যকার পার্থক্য জানা গেল। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এবং বান্দার মাঝে واو ব্যবহার করে কোন বিষয়ে একত্রিত করা যাবে না।
টিকাঃ
166. ছহীহ: সুনানে তিরমিযী হা/১৫৩৫, আবু দাউদ হা/৩২৫১।
167. ছহীহ: সুনানে আবু দাউদ হা/৪৯৮০, আস-সিলসিলাতুছ ছহীহাহ হা/১৩৭।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ﴾
“অতএব জেনে-বুঝে তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ নির্ধারণ করো না”। (সূরা আল বাকারা: ২২)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস ✃ বলেন: أنـداد (আন্দাদ) হচ্ছে শিরক। অন্ধকার রাত্রে নির্মল কালো পাথরের উপর পিপীলিকার চলাচলের চেয়েও অধিক গোপনে মানুষের মধ্যে শিরক অনুপ্রবেশ করে। এর উদাহরণ হচ্ছে, তোমার এ কথা বলা, ‘আল্লাহর কসম! এবং হে অমুক! তোমার জীবনের কসম, আমার জীবনের কসম। অনুরূপ তোমার কথা ‘যদি এ ছোট্ট কুকুরটি না থাকত, তাহলে অবশ্যই আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করত। ‘হাঁসটি যদি ঘরে না থাকত, তাহলে অবশ্যই চোর আসত’। অনুরূপ কোন ব্যক্তি তার সাথীকে এ কথা বলল:, ‘আল্লাহ তা‘আলা এবং তুমি যা ইচ্ছা করো’। কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, ‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যদি না থাকে, তাহলে অমুক ব্যক্তিকে এ কাজে রেখো না।’ এগুলো সবই শিরক। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস ✃এর এ বক্তব্য নকল করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ، أَوْ أَشْرَكَ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল, সে কুফরী অথবা শিরক করল”।166
ইমাম তিরমিযী এই হাদীছ বর্ণনা করার পর হাসান বলেছেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এটিকে ছহীহ বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ✃বলেছেন,
«لأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ كَاذِبًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ بِغَيْرِهِ صَادِقًا».
“আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা আমার কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৭৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৮/৪৬৮।
হুযাইফা ✃ থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ فُلانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فُلانٌ».
‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন’ এ কথা তোমরা বলো না; বরং এ কথা বল, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছে’।167
ইমাম আবু দাউদ ছহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
ইবরাহীম নাখয়ী থেকে এ কথা বর্ণিত আছে যে, أعوذ بالله وبك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহ এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই- এ কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর أعوذ بالله ثم بك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অতঃপর আপনার কাছে- এ কথা বলা তিনি জায়েয মনে করতেন। তিনি আরো বলেছেন, لولا الله ثم فلان ‘যদি আল্লাহ না থাকত অতঃপর অমুক না থাকত- একথা বলাও তিনি জায়েয মনে করতেন। কিন্তু لولا الله وفلان অর্থাৎ যদি আল্লাহ না থাকতেন এবং অমুক না থাকত- এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আল বাকারার ২২ নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শিরক করার তাফসীর জানা গেল।
২) শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় শিরকের ব্যাপারে নাযিলকৃত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ছাহাবায়ে কেরাম এভাবে করেছেন যে, তাদের সে ব্যাখ্যা ছোট শিরকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৩) গাইরুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্যের) নামে কসম করা শিরক।
৪) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করার চেয়েও জঘন্য গুনাহ।
৫) واو এবং ثم এর মধ্যকার পার্থক্য জানা গেল। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এবং বান্দার মাঝে واو ব্যবহার করে কোন বিষয়ে একত্রিত করা যাবে না।
টিকাঃ
166. ছহীহ: সুনানে তিরমিযী হা/১৫৩৫, আবু দাউদ হা/৩২৫১।
167. ছহীহ: সুনানে আবু দাউদ হা/৪৯৮০, আস-সিলসিলাতুছ ছহীহাহ হা/১৩৭।
📄 ৪২. আল্লাহর নামে কসম করে সন্তুষ্ট না থাকার পরিণাম
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«لا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقْ، وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللَّهِ فَلْيَرْضَ، وَمَنْ لَمْ يَرْضَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ»
“তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, সে যেন সত্য বলে। আর যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হবে, সে যেন উক্ত কসমে সন্তুষ্ট থাকে। আল্লাহর কসমে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো না, তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই”।168
ইমাম ইবনে মাজাহ হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যানা যায়:
১) বাপ-দাদার নামে কসম করার উপর নিষেধাজ্ঞা।
২) যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হল, তার প্রতি কসমের বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ রয়েছে।
৩) আল্লাহর নামে কসম করার পর, যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে না, তাকে ভয় প্রদর্শন ও হুশিয়ার করা হয়েছে।
টিকাঃ
168. হাসান-ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১০১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬৯৮।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«لا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقْ، وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللَّهِ فَلْيَرْضَ، وَمَنْ لَمْ يَرْضَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ»
“তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, সে যেন সত্য বলে। আর যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হবে, সে যেন উক্ত কসমে সন্তুষ্ট থাকে। আল্লাহর কসমে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো না, তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই”।168
ইমাম ইবনে মাজাহ হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যানা যায়:
১) বাপ-দাদার নামে কসম করার উপর নিষেধাজ্ঞা।
২) যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হল, তার প্রতি কসমের বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ রয়েছে।
৩) আল্লাহর নামে কসম করার পর, যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে না, তাকে ভয় প্রদর্শন ও হুশিয়ার করা হয়েছে।
টিকাঃ
168. হাসান-ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১০১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬৯৮।
📄 ৪৩. আল্লাহ এবং আপনি যা চেয়েছেন- এ কথা বলার বিধান
কুতাইলা হতে বর্ণিত আছে,
«أَنَّ يَهُودِيًّا أَتَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: إِنَّكُمْ تُشْرِكُونَ، تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، وَتَقُولُونَ: وَالْكَعْبَةِ، فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَرَادُوا أَنْ يَحْلِفُوا أَنْ يَقُولُوا: وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، وَأَنْ يَقُولُوا: «مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ».
এক ইয়াহূদী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: আপনারা আল্লাহর সাথে শিরক করে থাকেন। কারণ আপনারা বলে থাকেন: আল্লাহ এবং আপনি যা চেয়েছেন। আপনারা আরো বলে থাকেন কাবার কসম। এরপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মুসলমানদের মধ্যে যারা কসম করতে চায়, তারা যেন বলে وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ‘কাবার রবের কসম’। আর যেন এ কথা বলে: مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর আপনি যা চেয়েছেন’।169
ইমাম নাসাঈ এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং ছহীহ বলেছেন।
সুনানে নাসাঈ তে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ✃ হতে আরো একটি হাদীছে বর্ণিত আছে,
«أَنَّ رَجُلا قَالَ لِلنَّبِيِّ? : مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، فَقَالَ: «أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا؟ مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ».
এক ব্যক্তি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্যে বলল: আপনি এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন। তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরীক বানিয়ে ফেলেছ?” আসলে আল্লাহ একাই যা ইচ্ছা করেছেন, তাই হয়েছে”।170
আয়েশা ✆ এর বৈপিত্রেয় (মায়ের তরফ থেকে) ভাই তোফায়েল থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
رَأَيْتُ كَأَنِّي أَتَيْتُ عَلَى نَفَرٍ مِنَ الْيَهُودِ، قُلْتُ: إِنَّكُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ، قَالُوا: وَأَنْتُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، ثُمَّ مَرَرْتُ بِنَفَرٍ مِنَ النَّصَارَى، فَقُلْتُ: إِنَّكُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ. قَالُوا: وَأَنْتُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَخْبَرْتُ بِهَا مَنْ أَخْبَرْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَأَخْبَرْتُهُ، قَالَ: هَلْ أَخْبَرْتَ بِهَا أَحَدًا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ طُفَيْلا رَأَى رُؤْيَا أَخْبَرَ بِهَا مَنْ أَخْبَرَ مِنْكُمْ، وَإِنَّكُمْ قُلْتُمْ كَلِمَةً كَانَ يَمْنَعُنِي كَذَا وَكَذَا أَنْ أَنْهَاكُمْ عَنْهَا، فَلا تَقُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، وَلَكِنْ قُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ».
আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি কয়েকজন ইয়াহূদীর কাছে এসেছি। আমি তাদেরকে বললাম: তোমরা অবশ্যই একটা ভাল জাতি, যদি তোমরা উযাইরকে আল্লাহর পুত্র না বলতে! তারা বলল: ‘তোমরাও অবশ্যই একটি ভাল জাতি হতে, যদি তোমরা এ কথা না বলতে, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেছেন’। সকালে এ (স্বপ্নের) খবর যাকে পেলাম তাকে দিলাম। তারপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এলাম এবং তাকে আমার স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বললেন: এ স্বপ্নের কথা কি আর কাউকে বলেছ? বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং গুণ বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন: তোফায়েল একটা স্বপ্ন দেখেছে, যার খবর তোমাদের মধ্যে যাকে বলার বলেছে। তোমরা এমন একটি কথা বলছ, যা থেকে আমিও তোমাদেরকে নিষেধ করতে চেয়েছিলাম, তবে অমুক অমুক কারণ আমাকে তা বলতে বাধা প্রদান করেছে। অতএব তোমরা এভাবে বলবে না যে, مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ অর্থাৎ ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা ইচ্ছা করেছেন; বরং তোমরা বল: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ অর্থাৎ ‘আল্লাহ একাই যা ইচ্ছা করেছেন’।171
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ছোট শিরক সম্পর্কে ইয়াহূদীরাও অবগত আছে।
২) কোন বিষয়ে যখন মানুষের প্রবৃত্তি সামনে চলে আসে, তখন সে স্বীয় প্রবৃত্তি অনুসারেই বিষয়টিকে বুঝতে চায়।
৩) লোকেরা যখন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লক্ষ্য করে مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ (আপনি যা চেয়েছেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন) বলল, তখন তিনি এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন এভাবে বললে শিরক হয়। তিনি এভাবে প্রতিবাদ করেছেন যে: أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا ‘তুমি কি আমাকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে দিলে? তাহলে সে ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যে ব্যক্তি বলে, يَا أَكْرَمَ الْخَلْقِ مَا لِي مَنْ أَلُوذُ بِهِ سِوَاكَ ‘হে সৃষ্টির সেরা! আপনি ছাড়া আমার আশ্রয়দাতা কেউ নেই এবং এ কবিতাংশের পরবর্তী দু’টি লাইন। অর্থাৎ উপরোক্ত কথা বললে অবশ্যই বড় ধরনের শিরক হবে।
৪) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: يَمْنَعُنِي كَذَا وَكَذَا (আমাকে অমুক অমুক বিষয় নিষেধ করতে বারণ করেছে) দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা শিরকে আকবার তথা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫) ভাল ও সত্য স্বপ্ন অহীর শ্রেণীভুক্ত।
৬) স্বপ্ন শরী‘আতের কোন কোন বিধান জারির কারণ হতে পারে।172
টিকাঃ
169. ছহীহ: সুনানে নাসাঈ হা/৩৭৭৩, আলবানী, আছ-ছহীহাহ হা/১৩৬।
170. ছহীহ: মুসনাদে আহমাদ, হাদীছটির একাধিক শাওয়াহেদ থাকার কারণে ছহীহ।
171. ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১১৮, মুসনাদে আহমাদ।
172. তবে নবী-রসূলদের স্বপ্নের মাধ্যমেই শরী‘আতের বিধান জারি হতে পারে। সাধারণ মুমিনদের স্বপ্ন দ্বারা কখনই শরী‘আতের কোন বিধান সাব্যস্ত হবে না।
কুতাইলা হতে বর্ণিত আছে,
«أَنَّ يَهُودِيًّا أَتَى النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: إِنَّكُمْ تُشْرِكُونَ، تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، وَتَقُولُونَ: وَالْكَعْبَةِ، فَأَمَرَهُمُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - إِذَا أَرَادُوا أَنْ يَحْلِفُوا أَنْ يَقُولُوا: وَرَبِّ الْكَعْبَةِ، وَأَنْ يَقُولُوا: «مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ».
এক ইয়াহূদী রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাছে এসে বলল: আপনারা আল্লাহর সাথে শিরক করে থাকেন। কারণ আপনারা বলে থাকেন: আল্লাহ এবং আপনি যা চেয়েছেন। আপনারা আরো বলে থাকেন কাবার কসম। এরপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, মুসলমানদের মধ্যে যারা কসম করতে চায়, তারা যেন বলে وَرَبِّ الْكَعْبَةِ ‘কাবার রবের কসম’। আর যেন এ কথা বলে: مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شِئْتَ ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর আপনি যা চেয়েছেন’।169
ইমাম নাসাঈ এই হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং ছহীহ বলেছেন।
সুনানে নাসাঈ তে আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ✃ হতে আরো একটি হাদীছে বর্ণিত আছে,
«أَنَّ رَجُلا قَالَ لِلنَّبِيِّ? : مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ، فَقَالَ: «أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا؟ مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ».
এক ব্যক্তি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উদ্দেশ্যে বলল: আপনি এবং আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন। তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: “তুমি কি আল্লাহর সাথে আমাকে শরীক বানিয়ে ফেলেছ?” আসলে আল্লাহ একাই যা ইচ্ছা করেছেন, তাই হয়েছে”।170
আয়েশা ✆ এর বৈপিত্রেয় (মায়ের তরফ থেকে) ভাই তোফায়েল থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
رَأَيْتُ كَأَنِّي أَتَيْتُ عَلَى نَفَرٍ مِنَ الْيَهُودِ، قُلْتُ: إِنَّكُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ، قَالُوا: وَأَنْتُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، ثُمَّ مَرَرْتُ بِنَفَرٍ مِنَ النَّصَارَى، فَقُلْتُ: إِنَّكُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ. قَالُوا: وَأَنْتُمْ لأَنْتُمُ الْقَوْمُ لَوْلا أَنَّكُمْ تَقُولُونَ: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، فَلَمَّا أَصْبَحْتُ أَخْبَرْتُ بِهَا مَنْ أَخْبَرْتُ، ثُمَّ أَتَيْتُ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - فَأَخْبَرْتُهُ، قَالَ: هَلْ أَخْبَرْتَ بِهَا أَحَدًا؟ قُلْتُ: نَعَمْ. قَالَ: فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ، ثُمَّ قَالَ: «أَمَّا بَعْدُ، فَإِنَّ طُفَيْلا رَأَى رُؤْيَا أَخْبَرَ بِهَا مَنْ أَخْبَرَ مِنْكُمْ، وَإِنَّكُمْ قُلْتُمْ كَلِمَةً كَانَ يَمْنَعُنِي كَذَا وَكَذَا أَنْ أَنْهَاكُمْ عَنْهَا، فَلا تَقُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ، وَلَكِنْ قُولُوا: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ».
আমি স্বপ্নে দেখতে পেলাম, আমি কয়েকজন ইয়াহূদীর কাছে এসেছি। আমি তাদেরকে বললাম: তোমরা অবশ্যই একটা ভাল জাতি, যদি তোমরা উযাইরকে আল্লাহর পুত্র না বলতে! তারা বলল: ‘তোমরাও অবশ্যই একটি ভাল জাতি হতে, যদি তোমরা এ কথা না বলতে, ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মাদ যা ইচ্ছা করেছেন’। সকালে এ (স্বপ্নের) খবর যাকে পেলাম তাকে দিলাম। তারপর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে এলাম এবং তাকে আমার স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি বললেন: এ স্বপ্নের কথা কি আর কাউকে বলেছ? বললাম: হ্যাঁ। তখন তিনি আল্লাহর প্রশংসা করলেন এবং গুণ বর্ণনা করলেন। তারপর বললেন: তোফায়েল একটা স্বপ্ন দেখেছে, যার খবর তোমাদের মধ্যে যাকে বলার বলেছে। তোমরা এমন একটি কথা বলছ, যা থেকে আমিও তোমাদেরকে নিষেধ করতে চেয়েছিলাম, তবে অমুক অমুক কারণ আমাকে তা বলতে বাধা প্রদান করেছে। অতএব তোমরা এভাবে বলবে না যে, مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ مُحَمَّدٌ অর্থাৎ ‘আল্লাহ যা ইচ্ছা করেছেন এবং মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা ইচ্ছা করেছেন; বরং তোমরা বল: مَا شَاءَ اللَّهُ وَحْدَهُ অর্থাৎ ‘আল্লাহ একাই যা ইচ্ছা করেছেন’।171
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) ছোট শিরক সম্পর্কে ইয়াহূদীরাও অবগত আছে।
২) কোন বিষয়ে যখন মানুষের প্রবৃত্তি সামনে চলে আসে, তখন সে স্বীয় প্রবৃত্তি অনুসারেই বিষয়টিকে বুঝতে চায়।
৩) লোকেরা যখন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লক্ষ্য করে مَا شَاءَ اللَّهُ وَشِئْتَ (আপনি যা চেয়েছেন এবং আল্লাহ যা চেয়েছেন) বলল, তখন তিনি এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন এবং বলেছেন এভাবে বললে শিরক হয়। তিনি এভাবে প্রতিবাদ করেছেন যে: أَجَعَلْتَنِي لِلَّهِ نِدًّا ‘তুমি কি আমাকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে দিলে? তাহলে সে ব্যক্তির অবস্থা কী হবে, যে ব্যক্তি বলে, يَا أَكْرَمَ الْخَلْقِ مَا لِي مَنْ أَلُوذُ بِهِ سِوَاكَ ‘হে সৃষ্টির সেরা! আপনি ছাড়া আমার আশ্রয়দাতা কেউ নেই এবং এ কবিতাংশের পরবর্তী দু’টি লাইন। অর্থাৎ উপরোক্ত কথা বললে অবশ্যই বড় ধরনের শিরক হবে।
৪) নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: يَمْنَعُنِي كَذَا وَكَذَا (আমাকে অমুক অমুক বিষয় নিষেধ করতে বারণ করেছে) দ্বারা বুঝা যায় যে, এটা শিরকে আকবার তথা বড় শিরকের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৫) ভাল ও সত্য স্বপ্ন অহীর শ্রেণীভুক্ত।
৬) স্বপ্ন শরী‘আতের কোন কোন বিধান জারির কারণ হতে পারে।172
টিকাঃ
169. ছহীহ: সুনানে নাসাঈ হা/৩৭৭৩, আলবানী, আছ-ছহীহাহ হা/১৩৬।
170. ছহীহ: মুসনাদে আহমাদ, হাদীছটির একাধিক শাওয়াহেদ থাকার কারণে ছহীহ।
171. ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১১৮, মুসনাদে আহমাদ।
172. তবে নবী-রসূলদের স্বপ্নের মাধ্যমেই শরী‘আতের বিধান জারি হতে পারে। সাধারণ মুমিনদের স্বপ্ন দ্বারা কখনই শরী‘আতের কোন বিধান সাব্যস্ত হবে না।