📄 ৩৯. আল্লাহর ‘আসমা ও ছিফাত’ (নাম ও গুণাবলী) এর কতককে অস্বীকার করবে তার বিধান কি?
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَيَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَٰنِ ۚ قُلْ هُوَ رَبِّي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ
“এবং তারা রহমানকে (আল্লাহর গুণবাচক নামকে) অস্বীকার করে। বল: তিনিই আমার প্রতিপালক। তিনি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি তার উপরই ভরসা করেছি এবং তার দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন।” (সূরা রা’দ: ৩০)
ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীছে এসেছে, আলী (রাঃ) বলেন:
«حَدِّثُوا النَّاسَ بِمَا يَعْرِفُونَ، أَتُرِيدُونَ أَنْ يُكَذَّبَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ»
“লোকদেরকে এমন কথা বলো, যা তারা বুঝতে সক্ষম হয়। তোমরা কি চাও যে, আল্লাহ এবং তার রাসূলকে (আল্লাহ ও রাসূলের কথাকে) মিথ্যা বলা হোক।”
আব্দুর রাযযাক মামার হতে, মামার ইবনে তাউস হতে, তিনি তার পিতা হতে তার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একটি হাদীছ শুনে এক ব্যক্তি আল্লাহর ছিফাতকে অস্বীকার করার ব্যাপারে কেঁপে উঠেছিল। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন: এরা আল্লাহ তা‘আলাকে কেমন ভয় করে? কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াত শুনে নরম হয় (আল্লাহকে ভয় করে)। আর যখন কোন অস্পষ্ট আয়াত শুনে তখন ধ্বংস হয় (তা অস্বীকার করে)?” কুরাইশরা যখন শুনল, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘রহমান’ উল্লেখ করছেন তখন তারা ‘রহমান’ গুণটিকে অস্বীকার করল। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَٰنِ “তারা রহমানকে অস্বীকার করে”। (সূরা রা’দ: ৩০)
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১&) আল্লাহর কোন নাম ও গুণ অস্বীকার করলে ঈমান চলে যায়।
২) সূরা রা‘দের ৩০ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
৩) যে কথা শ্রোতার বোধগম্য নয়, তা পরিহার করা উচিত।
৪) অস্বীকারকারীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেসব কথা আল্লাহ ও তার রাসূলকে অস্বীকার করার দিকে নিয়ে যায়, এর কারণ কি, তা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ না বুঝার কারণেই অনেকের ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে।
৫| আল্লাহর ছিফাত সংক্রান্ত হাদীছ শুনে যে ব্যক্তির শরীর নড়ে উঠেছিল (ছিফাত অস্বীকার করতে চেয়েছিল) তার জন্য ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর বক্তব্য হচ্ছে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর কোন একটি অস্বীকারকারীর ধ্বংস অনিবার্য।
টিকাঃ
১৬৩. ছহীহ বুখারী হা/১২৭, অধ্যায়: যে ব্যক্তি কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে হাদীছ শুনাল।
১৬৪. ইমাম বায়হাকী কিতাবুস সিফাতে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, হা/৮৬৭, ইমাম দারেমী স্বীয় কিতাব على الجهمية الرد তে বর্ণনা করেছেন, হা/১০৪ এবং ইমাম তাবারীও বিভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে সনদ মুরসাল হওয়ার কারণে তা ছহীহ নয়।
📄 ৪০. আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করার পরিণাম
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:
يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ
“তারা আল্লাহর নিয়ামত চিনে, অতঃপর তা অস্বীকার করে তাদের অধিকাংশ অকৃতজ্ঞ।” (সূরা আন নাহল: ৮৩)
মুজাহিদ বলেন, এর মর্মার্থ হচ্ছে, কোন মানুষের এ কথা বলা ‘এ সম্পদ আমার, যা আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি’|
আউন বলেন: এর অর্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, অমুক ব্যক্তি না হলে এমনটি হত না। ইবনে কুতায়বা (রহঃ) বলেন: মুশরিকরা বলে,
আমরা আমাদের মা‘বূদের সুপারিশের বদৌলতে এটি অর্জন করেছি।
যায়েদ বিন খালেদ হতে বর্ণিত হাদীছটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তাতে এ কথা আছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
«أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ»
“আজ আমার কোন বান্দার ভোরে নিদ্রা ভঙ্গ হয়েছে মু’মিন অবস্থায়, আবার কারো ভোর হয়েছে কাফির অবস্থায়।
হাদীছের এই অংশের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, এ ধরনের অনেক বক্তব্য কুরআন ও সুন্নাহয় উল্লেখ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতকে অন্যের সাথে সম্পৃক্ত করে এবং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে, আল্লাহ তা‘আলা এখানে তার নিন্দা করেছেন।
উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কোন সালফে ছলেহীন বলেন, বিষয়টি মুশরিকদের এ কথার মতই, “অঘটন থেকে বাঁচার কারণ হচ্ছে অনুকূল বাতাস, আর মাঝি-মাল্লারা ছিল বিচক্ষণ”। এ ধরনের আরো অনেক কথা রয়েছে যা সাধারণ মানুষের মুখে অহরহই শুনা যায়।
এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর নিয়ামতগুলো চেনা এবং তা অস্বীকার করার ব্যাখ্যা জানা গেল।
২) জেনে-শুনে আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকারের বিষয়টি মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত।
৩) মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত এ সব কথা আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করারই শামিল।
৪) এ ধরনের কথা প্রমাণ করে যে, অন্তরে দু’টি বিপরীতমুখী (ঈমান ও কুফরী) বিষয়ের সমাবেশ ঘটতে পারে।
টিকাঃ
১৬৫. ছহীহ বুখারী হা/১০৩৮, ছহীহ মুসলিম হা/৭১, নাসাঈ হা/১৫২৫, মুসনাদে আহমাদ।
📄 ৪১. জেনে-বুঝে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ﴾
“অতএব জেনে-বুঝে তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ নির্ধারণ করো না”। (সূরা আল বাকারা: ২২)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস ✃ বলেন: أنـداد (আন্দাদ) হচ্ছে শিরক। অন্ধকার রাত্রে নির্মল কালো পাথরের উপর পিপীলিকার চলাচলের চেয়েও অধিক গোপনে মানুষের মধ্যে শিরক অনুপ্রবেশ করে। এর উদাহরণ হচ্ছে, তোমার এ কথা বলা, ‘আল্লাহর কসম! এবং হে অমুক! তোমার জীবনের কসম, আমার জীবনের কসম। অনুরূপ তোমার কথা ‘যদি এ ছোট্ট কুকুরটি না থাকত, তাহলে অবশ্যই আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করত। ‘হাঁসটি যদি ঘরে না থাকত, তাহলে অবশ্যই চোর আসত’। অনুরূপ কোন ব্যক্তি তার সাথীকে এ কথা বলল:, ‘আল্লাহ তা‘আলা এবং তুমি যা ইচ্ছা করো’। কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, ‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যদি না থাকে, তাহলে অমুক ব্যক্তিকে এ কাজে রেখো না।’ এগুলো সবই শিরক। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস ✃এর এ বক্তব্য নকল করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ، أَوْ أَشْرَكَ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল, সে কুফরী অথবা শিরক করল”।166
ইমাম তিরমিযী এই হাদীছ বর্ণনা করার পর হাসান বলেছেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এটিকে ছহীহ বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ✃বলেছেন,
«لأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ كَاذِبًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ بِغَيْرِهِ صَادِقًا».
“আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা আমার কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৭৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৮/৪৬৮।
হুযাইফা ✃ থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ فُلانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فُلانٌ».
‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন’ এ কথা তোমরা বলো না; বরং এ কথা বল, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছে’।167
ইমাম আবু দাউদ ছহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
ইবরাহীম নাখয়ী থেকে এ কথা বর্ণিত আছে যে, أعوذ بالله وبك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহ এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই- এ কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর أعوذ بالله ثم بك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অতঃপর আপনার কাছে- এ কথা বলা তিনি জায়েয মনে করতেন। তিনি আরো বলেছেন, لولا الله ثم فلان ‘যদি আল্লাহ না থাকত অতঃপর অমুক না থাকত- একথা বলাও তিনি জায়েয মনে করতেন। কিন্তু لولا الله وفلان অর্থাৎ যদি আল্লাহ না থাকতেন এবং অমুক না থাকত- এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আল বাকারার ২২ নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শিরক করার তাফসীর জানা গেল।
২) শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় শিরকের ব্যাপারে নাযিলকৃত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ছাহাবায়ে কেরাম এভাবে করেছেন যে, তাদের সে ব্যাখ্যা ছোট শিরকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৩) গাইরুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্যের) নামে কসম করা শিরক।
৪) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করার চেয়েও জঘন্য গুনাহ।
৫) واو এবং ثم এর মধ্যকার পার্থক্য জানা গেল। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এবং বান্দার মাঝে واو ব্যবহার করে কোন বিষয়ে একত্রিত করা যাবে না।
টিকাঃ
166. ছহীহ: সুনানে তিরমিযী হা/১৫৩৫, আবু দাউদ হা/৩২৫১।
167. ছহীহ: সুনানে আবু দাউদ হা/৪৯৮০, আস-সিলসিলাতুছ ছহীহাহ হা/১৩৭।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ﴾
“অতএব জেনে-বুঝে তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ নির্ধারণ করো না”। (সূরা আল বাকারা: ২২)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস ✃ বলেন: أنـداد (আন্দাদ) হচ্ছে শিরক। অন্ধকার রাত্রে নির্মল কালো পাথরের উপর পিপীলিকার চলাচলের চেয়েও অধিক গোপনে মানুষের মধ্যে শিরক অনুপ্রবেশ করে। এর উদাহরণ হচ্ছে, তোমার এ কথা বলা, ‘আল্লাহর কসম! এবং হে অমুক! তোমার জীবনের কসম, আমার জীবনের কসম। অনুরূপ তোমার কথা ‘যদি এ ছোট্ট কুকুরটি না থাকত, তাহলে অবশ্যই আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করত। ‘হাঁসটি যদি ঘরে না থাকত, তাহলে অবশ্যই চোর আসত’। অনুরূপ কোন ব্যক্তি তার সাথীকে এ কথা বলল:, ‘আল্লাহ তা‘আলা এবং তুমি যা ইচ্ছা করো’। কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, ‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যদি না থাকে, তাহলে অমুক ব্যক্তিকে এ কাজে রেখো না।’ এগুলো সবই শিরক। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস ✃এর এ বক্তব্য নকল করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ، أَوْ أَشْرَكَ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল, সে কুফরী অথবা শিরক করল”।166
ইমাম তিরমিযী এই হাদীছ বর্ণনা করার পর হাসান বলেছেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এটিকে ছহীহ বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ✃বলেছেন,
«لأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ كَاذِبًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ بِغَيْرِهِ صَادِقًا».
“আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা আমার কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৭৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৮/৪৬৮।
হুযাইফা ✃ থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ فُلانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فُلانٌ».
‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন’ এ কথা তোমরা বলো না; বরং এ কথা বল, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছে’।167
ইমাম আবু দাউদ ছহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
ইবরাহীম নাখয়ী থেকে এ কথা বর্ণিত আছে যে, أعوذ بالله وبك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহ এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই- এ কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর أعوذ بالله ثم بك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অতঃপর আপনার কাছে- এ কথা বলা তিনি জায়েয মনে করতেন। তিনি আরো বলেছেন, لولا الله ثم فلان ‘যদি আল্লাহ না থাকত অতঃপর অমুক না থাকত- একথা বলাও তিনি জায়েয মনে করতেন। কিন্তু لولا الله وفلان অর্থাৎ যদি আল্লাহ না থাকতেন এবং অমুক না থাকত- এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আল বাকারার ২২ নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শিরক করার তাফসীর জানা গেল।
২) শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় শিরকের ব্যাপারে নাযিলকৃত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ছাহাবায়ে কেরাম এভাবে করেছেন যে, তাদের সে ব্যাখ্যা ছোট শিরকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৩) গাইরুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্যের) নামে কসম করা শিরক।
৪) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করার চেয়েও জঘন্য গুনাহ।
৫) واو এবং ثم এর মধ্যকার পার্থক্য জানা গেল। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এবং বান্দার মাঝে واو ব্যবহার করে কোন বিষয়ে একত্রিত করা যাবে না।
টিকাঃ
166. ছহীহ: সুনানে তিরমিযী হা/১৫৩৫, আবু দাউদ হা/৩২৫১।
167. ছহীহ: সুনানে আবু দাউদ হা/৪৯৮০, আস-সিলসিলাতুছ ছহীহাহ হা/১৩৭।
📄 ৪২. আল্লাহর নামে কসম করে সন্তুষ্ট না থাকার পরিণাম
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«لا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقْ، وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللَّهِ فَلْيَرْضَ، وَمَنْ لَمْ يَرْضَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ»
“তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, সে যেন সত্য বলে। আর যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হবে, সে যেন উক্ত কসমে সন্তুষ্ট থাকে। আল্লাহর কসমে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো না, তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই”।168
ইমাম ইবনে মাজাহ হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যানা যায়:
১) বাপ-দাদার নামে কসম করার উপর নিষেধাজ্ঞা।
২) যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হল, তার প্রতি কসমের বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ রয়েছে।
৩) আল্লাহর নামে কসম করার পর, যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে না, তাকে ভয় প্রদর্শন ও হুশিয়ার করা হয়েছে।
টিকাঃ
168. হাসান-ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১০১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬৯৮।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃ থেকে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«لا تَحْلِفُوا بِآبَائِكُمْ، مَنْ حَلَفَ بِاللَّهِ فَلْيَصْدُقْ، وَمَنْ حُلِفَ لَهُ بِاللَّهِ فَلْيَرْضَ، وَمَنْ لَمْ يَرْضَ فَلَيْسَ مِنَ اللَّهِ»
“তোমরা তোমাদের বাপ-দাদার নামে কসম করো না। যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কসম করে, সে যেন সত্য বলে। আর যে ব্যক্তির জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হবে, সে যেন উক্ত কসমে সন্তুষ্ট থাকে। আল্লাহর কসমে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট হলো না, তার সাথে আল্লাহর কোন সম্পর্ক নেই”।168
ইমাম ইবনে মাজাহ হাসান সনদে এটি বর্ণনা করেছেন।
এই অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যানা যায়:
১) বাপ-দাদার নামে কসম করার উপর নিষেধাজ্ঞা।
২) যার জন্য আল্লাহর নামে কসম করা হল, তার প্রতি কসমের বিষয়ে সন্তুষ্ট থাকার নির্দেশ রয়েছে।
৩) আল্লাহর নামে কসম করার পর, যে তাতে সন্তুষ্ট থাকে না, তাকে ভয় প্রদর্শন ও হুশিয়ার করা হয়েছে।
টিকাঃ
168. হাসান-ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/২১০১, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আল ইরওয়া হা/২৬৯৮।