📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৩৮. আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত বিধান পরিত্যাগ করে অন্যের ফায়ছালা গ্রহণ করার বিধান

📄 ৩৮. আল্লাহ তা‘আলার নাযিলকৃত বিধান পরিত্যাগ করে অন্যের ফায়ছালা গ্রহণ করার বিধান


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَن يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَىٰ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًا فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا
“আপনি কি তাদেরকে দেখেননি যারা আপনার উপর যে কিতাব নাযিল হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছে বলে দাবি করে? তারা বিচার ফায়ছালার জন্য ত্বাগূত এর কাছে যায়, অথচ তা অস্বীকার করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আর শয়তান তাদেরকে চরম গোমরাহীতে নিমজ্জিত করতে চায়। আর যখন তাদেরকে বলা হয় এসো সেই জিনিসের দিকে, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন এবং এসো রাসূলের দিকে তখন তুমি মুনাফিকদেরকে দেখবে, ওরা তোমার কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় যদি তাদের কৃতকর্মের দরুন বিপদ এসে যায়, অতঃপর তারা তোমার কাছে আল্লাহর নামে কসম খেতে খেতে ফিরে আসে এবং বলে, মঙ্গল ও সম্প্রীতি ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না”। (সূরা আন নিসা: ৬০)

আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ
“তাদেরকে যখন বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে, মূলত আমরাই সংশোধনকারী।” (সূরা আল বাকারা: ১১)

আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র ইরশাদ করেন,
وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا ۚ إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
“পৃথিবীতে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার পর তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না। আল্লাহকে আহবান কর ভয় ও আশা সহকারে। নিশ্চয়ই আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। । (সূরা আল আ‘রাফ: ৫৬)

আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেন:
أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ۚ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ
“তারা কি জাহেলী (বর্বর) যুগের ফায়ছালা কামনা করে? বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহ অপেক্ষা উত্তম ফায়ছালাকারী আর কে আছে?” (সূরা আল মায়েদা: ৫০)

আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, ‘রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:
«لَا يُؤْمِنُ أَحَدُكُمْ حَتَّى يَكُونَ هَوَاهُ تَبَعًا لِمَا جِئْتُ بِهِ»
“তোমাদের কেও ঈমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার প্রবৃত্তি আমার আনীত আদর্শের অধীন হয়”। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন: হাদীছটি ছহীহ। আমরা এটিকে কিতাবুল হুজ্জাতে ছহীহ সনদে বর্ণনা করেছি।
ইমাম শা‘বী (রহঃ) বলেন: একজন মুনাফিক এবং একজন ইয়াহূদীর মধ্যে ঝগড়া ছিল। ইয়াহূদী বলল: ‘আমরা এর বিচার- ফায়ছালার জন্য মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যাব। কেননা তার জানা ছিল যে, তিনি ঘুষ গ্রহণ করেন না। আর মুনাফিক বলল: ‘ফায়ছালার জন্য আমরা ইয়াহূদী বিচারকের কাছে যাব। কেননা তার জানা ছিল যে, ইয়াহূদীরা বিচার ফায়ছালায় ঘুষ খায়। পরিশেষে তারা উভয়ই এ সিদ্ধান্তে উপনীত হল যে, তারা এর বিচার ও ফায়ছালার জন্য জুহাইনা গোত্রের এক গণকের কাছে যাবে। তখন সূরা আন নিসার এ আয়াত নাযিল হয়,
أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُوا بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُوا إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُوا أَن يَكْفُرُوا بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلَالًا بَعِيدًا وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلَىٰ مَا أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ رَأَيْتَ الْمُنَافِقِينَ يَصُدُّونَ عَنكَ صُدُودًا فَكَيْفَ إِذَا أَصَابَتْهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ ثُمَّ جَاءُوكَ يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنْ أَرَدْنَا إِلَّا إِحْسَانًا وَتَوْفِيقًا
“তুমি কি তাদেরকে দেখোনি যারা তোমার উপর যে কিতাব নাযিল হয়েছে এবং তোমার পূর্বে যা নাযিল হয়েছে তার প্রতি ঈমান এনেছে বলে দাবি করে? তারা বিচার ফায়ছালার জন্য ত্বাগূত এর কাছে যায়, অথচ তা অস্বীকার করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে আর শয়তান তাদেরকে চরম গোমরাহীতে নিমজ্জিত করতে চায়। আর যখন তাদেরকে বলা হয় এসো সেই জিনিসের দিকে, যা আল্লাহ্ নাযিল করেছেন এবং এসো রাসূলের দিকে তখন তুমি মুনাফিকদেরকে দেখবে, ওরা তোমার কাছ থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাচ্ছে। তারপর যখন তাদের কৃতকর্মের দরুন কোন বিপদ এসে পড়ে, তখন তাদের অবস্থা কী হয়? তখন তারা তোমার কাছে আল্লাহ্র নামে কসম খেতে খেতে ফিরে আসে এবং বলতে থাকে যে, আল্লাহর কসম আমরা তো কেবল মঙ্গল চেয়েছিলাম এবং উভয় পক্ষের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাক এটি ছাড়া আমাদের অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না”। (সূরা আন নিসা: ৬০-৬২)

আরেকটি বর্ণনা মতে জানা যায়, ঝগড়া- বিবাদে লিপ্ত দু’জন লোকের ব্যাপারে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। তাদের একজন বলেছিল, মীমাংসার জন্য আমরা নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যাব। অপরজন বলেছিল: কা‘ব বিন আশরাফের কাছে যাব। পরিশেষে তারা উভয় বিষয়টি মীমাংসার জন্য উমার (রাঃ) এর কাছে সোপর্দ করল। তারপর তাদের একজন ঘটনাটি তার কাছে উল্লেখ করল (উমার (রাঃ) এর কাছে এ কথাও বলা হল যে, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে যাওয়ার প্রস্তাব উঠেছিল, কিন্তু আমাদের একজন (অমুক) এতে রাযী হয়নি)। অতঃপর যে ব্যক্তি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বিচার ফায়ছালার ব্যাপারে সন্তুষ্ট হতে পারেনি, তাকে লক্ষ্য করে উমার (রাঃ) বললেন, ঘটনাটি কি সত্যিই এ রকম? সে বলল: হ্যাঁ। তখন তিনি তলোয়ারের আঘাতে তার গর্দান উড়িয়ে দিলেন।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত মাসআলাগুলো জানা যায়:
১) সূরা আন নিসার ৬০ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল। এ থেকে ত্বাগূতের মর্মার্থ বুঝার ক্ষেত্রে সহযোগিতা পাওয়া যায়।
২) সূরা আল বাকারার ১১ নং আয়াতের ব্যাখ্যা জানা গলে, যেখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন:
وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ
“তাদেরকে যখন বলা হয়, তোমরা পৃথিবীতে ফাসাদ (বিপর্যয়) সৃষ্টি করো না, তখন তারা বলে মূলত আমরাই সংশোধনকারী।” শিরক ও বিদ‘আতই পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি হওয়ার মূল কারণ।
৩) সূরা আল আ‘রাফের ৫৬ নং আয়াতের তাফসীর। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا
“পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর তোমরা বিপর্যয় সৃষ্টি করো না”। অর্থাৎ তাওহীদের মাধ্যমে পৃথিবী সংশোধিত হওয়ার পর শিরক ও বিদ‘আত ছড়িয়ে তাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না।
৪) সূরা আল মায়িদার ৫০ নং আয়াতের তাফসীরও জানা গেল। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ۚ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ
“তারা কি জাহেলী (বর্বর) যুগের ফায়ছালা কামনা করে? বিশ্বাসীদের জন্য আল্লাহ্ অপেক্ষা উত্তম ফায়ছালাকারী আর কে আছে?”
৫) এ অধ্যায়ের প্রথম আয়াতের শানে নুযূল (অবতরণের প্রেক্ষাপট) জানা গেল। এ ক্ষেত্রে ইমাম শা‘বীর বক্তব্যও জানা গেল।
৬) সত্যিকারের ঈমান এবং মিথ্যা ঈমানের ব্যাখ্যা।
৭) মুনাফিকের সাথে উমার (রাঃ) এর ব্যবহার সংক্রান্ত ঘটনা জানা গেল।
৮) প্রবৃত্তি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনীত আদর্শের অনুগত না হওয়া পর্যন্ত কারো ঈমান পূর্ণাঙ্গ না হওয়ার বিষয় জানা গেল।

টিকাঃ
১৬০. ইমাম আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুন শাইখের তাহকীক কৃত ‘মিশকাতুল মাসাবীহ’, হা/১৬৭।
১৬১. শা‘বীর বর্ণনাটি মুরসাল হওয়ার কারণে যঈফ। কারণ তিনি ছিলেন তাবেয়ী। তিনি নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানা পাননি বলে ঘটনায় উপস্থিত হওয়া সম্ভব হয়নি। এ ছাড়া ইমাম তাবারী স্বীয় তাফসীরে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন।
১৬২. ঘটনাটি খুবই দুর্বল: ইমাম ছা’লাবী ইমাম বগবী নিজ নিজ তাফসীরে উল্লেখ করেছেন। দেখুন: ছালাবী (৩/৩৩৭), বগবী (১/৪৬৬)।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৩৯. আল্লাহর ‘আসমা ও ছিফাত’ (নাম ও গুণাবলী) এর কতককে অস্বীকার করবে তার বিধান কি?

📄 ৩৯. আল্লাহর ‘আসমা ও ছিফাত’ (নাম ও গুণাবলী) এর কতককে অস্বীকার করবে তার বিধান কি?


আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
وَيَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَٰنِ ۚ قُلْ هُوَ رَبِّي لَا إِلَٰهَ إِلَّا هُوَ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ مَتَابِ
“এবং তারা রহমানকে (আল্লাহর গুণবাচক নামকে) অস্বীকার করে। বল: তিনিই আমার প্রতিপালক। তিনি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি তার উপরই ভরসা করেছি এবং তার দিকেই আমার প্রত্যাবর্তন।” (সূরা রা’দ: ৩০)

ছহীহ বুখারীতে বর্ণিত একটি হাদীছে এসেছে, আলী (রাঃ) বলেন:
«حَدِّثُوا النَّاسَ بِمَا يَعْرِفُونَ، أَتُرِيدُونَ أَنْ يُكَذَّبَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ»
“লোকদেরকে এমন কথা বলো, যা তারা বুঝতে সক্ষম হয়। তোমরা কি চাও যে, আল্লাহ এবং তার রাসূলকে (আল্লাহ ও রাসূলের কথাকে) মিথ্যা বলা হোক।”

আব্দুর রাযযাক মামার হতে, মামার ইবনে তাউস হতে, তিনি তার পিতা হতে তার পিতা আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর গুণাবলী সম্পর্কে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে একটি হাদীছ শুনে এক ব্যক্তি আল্লাহর ছিফাতকে অস্বীকার করার ব্যাপারে কেঁপে উঠেছিল। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) বললেন: এরা আল্লাহ তা‘আলাকে কেমন ভয় করে? কুরআনের সুস্পষ্ট আয়াত শুনে নরম হয় (আল্লাহকে ভয় করে)। আর যখন কোন অস্পষ্ট আয়াত শুনে তখন ধ্বংস হয় (তা অস্বীকার করে)?” কুরাইশরা যখন শুনল, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আল্লাহর গুণবাচক নাম ‘রহমান’ উল্লেখ করছেন তখন তারা ‘রহমান’ গুণটিকে অস্বীকার করল। এ প্রসঙ্গেই আল্লাহ তা‘আলা নাযিল করলেন, وَهُمْ يَكْفُرُونَ بِالرَّحْمَٰنِ “তারা রহমানকে অস্বীকার করে”। (সূরা রা’দ: ৩০)

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১&) আল্লাহর কোন নাম ও গুণ অস্বীকার করলে ঈমান চলে যায়।
২) সূরা রা‘দের ৩০ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
৩) যে কথা শ্রোতার বোধগম্য নয়, তা পরিহার করা উচিত।
৪) অস্বীকারকারীর অনিচ্ছা সত্ত্বেও যেসব কথা আল্লাহ ও তার রাসূলকে অস্বীকার করার দিকে নিয়ে যায়, এর কারণ কি, তা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ না বুঝার কারণেই অনেকের ক্ষেত্রে এমনটি হয়ে থাকে।
৫| আল্লাহর ছিফাত সংক্রান্ত হাদীছ শুনে যে ব্যক্তির শরীর নড়ে উঠেছিল (ছিফাত অস্বীকার করতে চেয়েছিল) তার জন্য ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর বক্তব্য হচ্ছে, আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর কোন একটি অস্বীকারকারীর ধ্বংস অনিবার্য।

টিকাঃ
১৬৩. ছহীহ বুখারী হা/১২৭, অধ্যায়: যে ব্যক্তি কাউকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে হাদীছ শুনাল।
১৬৪. ইমাম বায়হাকী কিতাবুস সিফাতে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন, হা/৮৬৭, ইমাম দারেমী স্বীয় কিতাব على الجهمية الرد তে বর্ণনা করেছেন, হা/১০৪ এবং ইমাম তাবারীও বিভিন্ন সনদে বর্ণনা করেছেন। তবে সনদ মুরসাল হওয়ার কারণে তা ছহীহ নয়।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৪০. আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করার পরিণাম

📄 ৪০. আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করার পরিণাম


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:
يَعْرِفُونَ نِعْمَتَ اللَّهِ ثُمَّ يُنكِرُونَهَا وَأَكْثَرُهُمُ الْكَافِرُونَ
“তারা আল্লাহর নিয়ামত চিনে, অতঃপর তা অস্বীকার করে তাদের অধিকাংশ অকৃতজ্ঞ।” (সূরা আন নাহল: ৮৩)
মুজাহিদ বলেন, এর মর্মার্থ হচ্ছে, কোন মানুষের এ কথা বলা ‘এ সম্পদ আমার, যা আমার পূর্ব পুরুষ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি’|
আউন বলেন: এর অর্থ হচ্ছে, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, অমুক ব্যক্তি না হলে এমনটি হত না। ইবনে কুতায়বা (রহঃ) বলেন: মুশরিকরা বলে,
আমরা আমাদের মা‘বূদের সুপারিশের বদৌলতে এটি অর্জন করেছি।
যায়েদ বিন খালেদ হতে বর্ণিত হাদীছটি ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। তাতে এ কথা আছে, আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
«أَصْبَحَ مِنْ عِبَادِي مُؤْمِنٌ بِي وَكَافِرٌ»
“আজ আমার কোন বান্দার ভোরে নিদ্রা ভঙ্গ হয়েছে মু’মিন অবস্থায়, আবার কারো ভোর হয়েছে কাফির অবস্থায়।

হাদীছের এই অংশের উপর মন্তব্য করতে গিয়ে শাইখুল ইসলাম আবুল আব্বাস ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন, এ ধরনের অনেক বক্তব্য কুরআন ও সুন্নাহয় উল্লেখ করা হয়েছে। যে ব্যক্তি আল্লাহর নিয়ামতকে অন্যের সাথে সম্পৃক্ত করে এবং আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করে, আল্লাহ তা‘আলা এখানে তার নিন্দা করেছেন।
উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় কোন কোন সালফে ছলেহীন বলেন, বিষয়টি মুশরিকদের এ কথার মতই, “অঘটন থেকে বাঁচার কারণ হচ্ছে অনুকূল বাতাস, আর মাঝি-মাল্লারা ছিল বিচক্ষণ”। এ ধরনের আরো অনেক কথা রয়েছে যা সাধারণ মানুষের মুখে অহরহই শুনা যায়।

এ অধ্যায় থেকে নিম্ন বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর নিয়ামতগুলো চেনা এবং তা অস্বীকার করার ব্যাখ্যা জানা গেল।
২) জেনে-শুনে আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকারের বিষয়টি মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত।
৩) মানুষের মুখে বহুল প্রচলিত এ সব কথা আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করারই শামিল।
৪) এ ধরনের কথা প্রমাণ করে যে, অন্তরে দু’টি বিপরীতমুখী (ঈমান ও কুফরী) বিষয়ের সমাবেশ ঘটতে পারে।

টিকাঃ
১৬৫. ছহীহ বুখারী হা/১০৩৮, ছহীহ মুসলিম হা/৭১, নাসাঈ হা/১৫২৫, মুসনাদে আহমাদ।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৪১. জেনে-বুঝে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা

📄 ৪১. জেনে-বুঝে আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামতে আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে শরীক না করা


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ﴾
“অতএব জেনে-বুঝে তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ নির্ধারণ করো না”। (সূরা আল বাকারা: ২২)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস ✃ বলেন: أنـداد (আন্দাদ) হচ্ছে শিরক। অন্ধকার রাত্রে নির্মল কালো পাথরের উপর পিপীলিকার চলাচলের চেয়েও অধিক গোপনে মানুষের মধ্যে শিরক অনুপ্রবেশ করে। এর উদাহরণ হচ্ছে, তোমার এ কথা বলা, ‘আল্লাহর কসম! এবং হে অমুক! তোমার জীবনের কসম, আমার জীবনের কসম। অনুরূপ তোমার কথা ‘যদি এ ছোট্ট কুকুরটি না থাকত, তাহলে অবশ্যই আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করত। ‘হাঁসটি যদি ঘরে না থাকত, তাহলে অবশ্যই চোর আসত’। অনুরূপ কোন ব্যক্তি তার সাথীকে এ কথা বলল:, ‘আল্লাহ তা‘আলা এবং তুমি যা ইচ্ছা করো’। কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, ‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যদি না থাকে, তাহলে অমুক ব্যক্তিকে এ কাজে রেখো না।’ এগুলো সবই শিরক। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস ✃এর এ বক্তব্য নকল করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ، أَوْ أَشْرَكَ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল, সে কুফরী অথবা শিরক করল”।166
ইমাম তিরমিযী এই হাদীছ বর্ণনা করার পর হাসান বলেছেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এটিকে ছহীহ বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ✃বলেছেন,
«لأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ كَاذِبًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ بِغَيْرِهِ صَادِقًا».
“আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা আমার কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৭৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৮/৪৬৮।
হুযাইফা ✃ থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ فُلانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فُلانٌ».
‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন’ এ কথা তোমরা বলো না; বরং এ কথা বল, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছে’।167
ইমাম আবু দাউদ ছহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
ইবরাহীম নাখয়ী থেকে এ কথা বর্ণিত আছে যে, أعوذ بالله وبك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহ এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই- এ কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর أعوذ بالله ثم بك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অতঃপর আপনার কাছে- এ কথা বলা তিনি জায়েয মনে করতেন। তিনি আরো বলেছেন, لولا الله ثم فلان ‘যদি আল্লাহ না থাকত অতঃপর অমুক না থাকত- একথা বলাও তিনি জায়েয মনে করতেন। কিন্তু لولا الله وفلان অর্থাৎ যদি আল্লাহ না থাকতেন এবং অমুক না থাকত- এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আল বাকারার ২২ নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শিরক করার তাফসীর জানা গেল।
২) শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় শিরকের ব্যাপারে নাযিলকৃত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ছাহাবায়ে কেরাম এভাবে করেছেন যে, তাদের সে ব্যাখ্যা ছোট শিরকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৩) গাইরুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্যের) নামে কসম করা শিরক।
৪) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করার চেয়েও জঘন্য গুনাহ।
৫) واو এবং ثم এর মধ্যকার পার্থক্য জানা গেল। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এবং বান্দার মাঝে واو ব্যবহার করে কোন বিষয়ে একত্রিত করা যাবে না।

টিকাঃ
166. ছহীহ: সুনানে তিরমিযী হা/১৫৩৫, আবু দাউদ হা/৩২৫১।
167. ছহীহ: সুনানে আবু দাউদ হা/৪৯৮০, আস-সিলসিলাতুছ ছহীহাহ হা/১৩৭।

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
﴿فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ﴾
“অতএব জেনে-বুঝে তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক ও সমকক্ষ নির্ধারণ করো না”। (সূরা আল বাকারা: ২২)
এ আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনে আব্বাস ✃ বলেন: أنـداد (আন্দাদ) হচ্ছে শিরক। অন্ধকার রাত্রে নির্মল কালো পাথরের উপর পিপীলিকার চলাচলের চেয়েও অধিক গোপনে মানুষের মধ্যে শিরক অনুপ্রবেশ করে। এর উদাহরণ হচ্ছে, তোমার এ কথা বলা, ‘আল্লাহর কসম! এবং হে অমুক! তোমার জীবনের কসম, আমার জীবনের কসম। অনুরূপ তোমার কথা ‘যদি এ ছোট্ট কুকুরটি না থাকত, তাহলে অবশ্যই আমাদের ঘরে চোর প্রবেশ করত। ‘হাঁসটি যদি ঘরে না থাকত, তাহলে অবশ্যই চোর আসত’। অনুরূপ কোন ব্যক্তি তার সাথীকে এ কথা বলল:, ‘আল্লাহ তা‘আলা এবং তুমি যা ইচ্ছা করো’। কোন ব্যক্তির এ কথা বলা যে, ‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যদি না থাকে, তাহলে অমুক ব্যক্তিকে এ কাজে রেখো না।’ এগুলো সবই শিরক। ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস ✃এর এ বক্তব্য নকল করেছেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার ✃থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«مَنْ حَلَفَ بِغَيْرِ اللَّهِ فَقَدْ كَفَرَ، أَوْ أَشْرَكَ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করল, সে কুফরী অথবা শিরক করল”।166
ইমাম তিরমিযী এই হাদীছ বর্ণনা করার পর হাসান বলেছেন এবং আবু আব্দুল্লাহ আল-হাকিম এটিকে ছহীহ বলেছেন। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ ✃বলেছেন,
«لأَنْ أَحْلِفَ بِاللَّهِ كَاذِبًا أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ أَنْ أَحْلِفَ بِغَيْرِهِ صَادِقًا».
“আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করা আমার কাছে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করার চেয়ে বেশী পছন্দনীয়। মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ৩/৭৯, মুসান্নাফ আব্দুর রাযযাক ৮/৪৬৮।
হুযাইফা ✃ থেকে বর্ণিত আছে, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«لا تَقُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ وَشَاءَ فُلانٌ، وَلَكِنْ قُولُوا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ شَاءَ فُلانٌ».
‘আল্লাহ এবং অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছেন’ এ কথা তোমরা বলো না; বরং এ কথা বল, ‘আল্লাহ যা চেয়েছেন অতঃপর অমুক ব্যক্তি যা চেয়েছে’।167
ইমাম আবু দাউদ ছহীহ সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন।
ইবরাহীম নাখয়ী থেকে এ কথা বর্ণিত আছে যে, أعوذ بالله وبك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহ এবং আপনার কাছে আশ্রয় চাই- এ কথা বলা তিনি অপছন্দ করতেন। আর أعوذ بالله ثم بك অর্থাৎ ‘আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই অতঃপর আপনার কাছে- এ কথা বলা তিনি জায়েয মনে করতেন। তিনি আরো বলেছেন, لولا الله ثم فلان ‘যদি আল্লাহ না থাকত অতঃপর অমুক না থাকত- একথা বলাও তিনি জায়েয মনে করতেন। কিন্তু لولا الله وفلان অর্থাৎ যদি আল্লাহ না থাকতেন এবং অমুক না থাকত- এ কথা বলতে নিষেধ করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আল বাকারার ২২ নং আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে শিরক করার তাফসীর জানা গেল।
২) শিরকে আকবার অর্থাৎ বড় শিরকের ব্যাপারে নাযিলকৃত আয়াতগুলোর ব্যাখ্যা ছাহাবায়ে কেরাম এভাবে করেছেন যে, তাদের সে ব্যাখ্যা ছোট শিরকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
৩) গাইরুল্লাহর (আল্লাহ ছাড়া অন্যের) নামে কসম করা শিরক।
৪) আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে সত্য কসম করা, আল্লাহর নামে মিথ্যা কসম করার চেয়েও জঘন্য গুনাহ।
৫) واو এবং ثم এর মধ্যকার পার্থক্য জানা গেল। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এবং বান্দার মাঝে واو ব্যবহার করে কোন বিষয়ে একত্রিত করা যাবে না।

টিকাঃ
166. ছহীহ: সুনানে তিরমিযী হা/১৫৩৫, আবু দাউদ হা/৩২৫১।
167. ছহীহ: সুনানে আবু দাউদ হা/৪৯৮০, আস-সিলসিলাতুছ ছহীহাহ হা/১৩৭।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00