📄 ৩১. ঈমানের অন্যতম দাবি হল কেবল আল্লাহকেই ভয় করা
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:
إِنَّمَا ذَٰلِكُمُ الشَّيْطَانُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءَهُ فَلَا تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
“এরা হল শয়তান, যারা তোমাদেরকে তার বন্ধুদের (কাফির-বে-ঈমান) দ্বারা ভয় দেখায়। তোমরা যদি প্রকৃত মু’মিন হয়ে থাক তাহলে তাদেরকে (শয়তানের বন্ধুদেরকে) ভয় করো না; বরং আমাকেই ভয় করো।” (সূরা আলে-ইমরান: ১৭৫)
আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেন:
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ
“আল্লাহর মাসজিদগুলোকে একমাত্র তারাই আবাদ করতে পারে, যারা আল্লাহ এবং আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, ছালাত কায়েম করে, যাকাত আদায় করে এবং একমাত্র আল্লাহকে ছাড়া অন্য কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হিদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে।” (সূরা আত তাওবা: ১৮)
আল্লাহ তা‘আলা অন্য আয়াতে ইরশাদ করেছেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ فَإِذَا أُوذِيَ فِي اللَّهِ جَعَلَ فِتْنَةَ النَّاسِ كَعَذَابِ اللَّهِ
“মানুষের মধ্যে এমন কিছু মানুষ আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর উপর ঈমান এনেছি। এরপর যখন আল্লাহর পথে তারা দুঃখ কষ্ট পায় তখন মানুষের চাপানো দুঃখ কষ্টের পরীক্ষাকে তারা আল্লাহর আযাবের সমতুল্য মনে করে।” (সূরা আল আনকাবূত: ১০)
কাতাদাহ বলেন: শয়তান মানুষের অন্তরে তার বন্ধুদেরকে বড় করে দেখায়। যখনই বান্দার ঈমান মযবুত হয়, তখনই তার অন্তর থেকে শয়তানের বন্ধুদের ভয় দূর হয়ে যায়। আর যখনই ঈমান দুর্বল হয়, তখনই বান্দার অন্তরে শয়তানের বন্ধুদের ভয় প্রকট আকার ধারণ করে। অতএব আয়াতটি প্রমাণ করে যে, একমাত্র আল্লাহকে ভয় করা পরিপূর্ণ ঈমানের শর্তসমূহের অন্যতম। তাফসীর ও সীরাতের কিতাবসমূহে এই আয়াতের শানে নুযূল বর্ণিত হয়েছে।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন: খাওফে ইলাহী তথা অন্তরের ভয় আল্লাহর ইবাদাতের অন্যতম প্রকার। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য তা করা ঠিক নয়। আল্লাহর সামনে নত হওয়া, আল্লাহর প্রতি ভালবাসা পোষণ করা, আল্লাহর উপর ভরসা করা, আল্লাহর কাছেই আশা করা এবং এ প্রকারের অন্যসব বিষয় ইবাদাতে ক্বালবিয়্যা অর্থাৎ অন্তরের ইবাদাতের অন্তর্ভূক্ত।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন: যে সমস্ত মানুষের কাছে নাবী-রাসূল পাঠানো হয়েছে, তারা দুইভাগে বিভক্ত হয়েছে। একভাগ বলেছে আমরা ঈমান আনয়ন করেছি, আরেকভাগ তা বলেনি। এই দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকেরা কুফরী ও গুনাহ-এর পথেই চলেছে। যারা বলেছে: আমরা ঈমান আনয়ন করলাম, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মুসীবত ও বিপদাপদে ফেলে পরীক্ষা করেছেন। الفتنة এর অন্যতম অর্থ হচ্ছে মুসীবতে ফেলে ঈমান পরীক্ষা করা। আর যারা ঈমান আনয়ন করেনি, তারা যেন মনে না করে যে, সে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে কিংবা আল্লাহর পাকড়াও থেকে পলায়ন করতে পারবে অথবা তাঁকে পরাজিত করতে পারবে।
সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তিকেই কষ্ট করতে হবে। যে ঈমান এনেছে, সেও কষ্ট করবে, আর যে ঈমান গ্রহণ করেনি, তাকেও কষ্ট করতে হবে। তবে কথা হচ্ছে মু’মিন ব্যক্তি প্রথমে কষ্ট করবে দুনিয়াতে। অতঃপর দুনিয়া ও আখিরাতে তাঁর পরিণাম ভাল হবে।
কিন্তু ঈমান থেকে বিমুখ ব্যক্তি প্রথমে দুনিয়াতে সুখ-শান্তি ভোগ করবে। অতঃপর সে চিরস্থায়ী কষ্টের মধ্যে নিপতিত হবে।
দ্বীনের দাঈর জন্য সমাজের অন্যান্য মানুষের সাথে বসবাস করা জরুরী। মানুষের রয়েছে বিভিন্ন স্বপ্ন, চিন্তা-চেতনা ও বিভিন্ন আশা-আকাঙ্খা। সমাজের মানুষেরা চায় অন্য দ্বীনের দাঈও তাদের চিন্তা-চেতনা ও রীতিনীতির অনুসরণ করেই চলুক। এ ক্ষেত্রে সে যদি সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির বিরোধীতা করে, তাহলে সমাজের প্রচলিত রীতিনীতির অনুসারী লোকেরা তাকে কষ্ট ও শাস্তি দিবে।
আর যদি দ্বীনের দাঈ সমাজের লোকদের চিরাচরিত ও প্রচলিত রীতিনীতি ও আচার অভ্যাসের সাথে তাল মিলিয়ে চলে, তাহলেও সে শাস্তি পাবে। এই শাস্তি কখনো পাবে তার সমাজের লোকদের পক্ষ হতেই। আবার কখনো পাবে অন্যদের পক্ষ হতে।
সুতরাং পূর্ণ দৃঢ়তার সাথে উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা রাযিয়াল্লাহু আনহার ঐ কথার উপর আমল করা আবশ্যক, যা তিনি মু‘আবীয়া (রাঃ) কে বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন:
«مَنِ ارْتَضَى اللَّهَ بِسَخَطِ النَّاسِ كَفَاهُ اللَّهُ مُؤْنَةَ النَّاسِ، وَمَنِ ارْتَضَى النَّاسَ بِسَخَطِ اللَّهِ لَمْ يُغْنُوا عَنْهُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا»
“যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করে, তার জন্য মানুষের মুকাবেলায় আল্লাহই যথেষ্ট হয়ে যান। আর যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষকে সন্তুষ্ট করে মানুষেরা আল্লাহর মুকাবেলায় তার কোনই কাজে আসবেনা”।
আল্লাহ যাকে হেদায়াত করেন, সঠিক পথে পরিচালিত করেন এবং যাকে নফসের অনিষ্ট হতে বাঁচান, সে হারাম কাজ থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকে এবং দুষ্ট লোকদের শত্রুতার উপর ধৈর্য ধারণ করে। এতে করে সে দুনিয়া ও আখিরাতে সফলকাম হয়। যেমন হয়েছিলেন নাবী-রাসূল ও তাদের অনুসারীগণ।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা ঐ ব্যক্তির অবস্থা বর্ণনা করেছেন, যে ঈমান সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন না করেই ঈমান আনয়ন করেছে। এ রকম মানুষকে যখন আল্লাহর রাস্তায় কষ্ট দেয়া হয়, তখন মানুষের ফিতনাকে আল্লাহর সেই আযাবের মতই মনে করে, যা থেকে বাঁচার জন্যই মু’মিনগণ ঈমাণ গ্রহণ করেছেন। ফলে যেই কারণে তাকে এই কষ্ট দেয়া হয়, তা (আল্লাহর পথ) বর্জন করে। অথচ এটি এমন একটি কষ্ট, যা নাবী-রাসূলগণ এবং তাদের অনুসারীগণ বিরোধীদের পক্ষ হতে সবসময়ই ভোগ করেছেন।
প্রকৃত মু’মিনগণ তাদের পূর্ণ দূরদর্শিতা ও বুদ্ধিমত্তার ফলে আল্লাহর আযাবের কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য ঈমানের ছায়াতলে আশ্রয় নেন এবং ঈমানের পথে ক্ষণস্থায়ী দুঃখ-কষ্ট বরদাশত করেন।
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে ‘মারফূ’ হাদীছে বর্ণিত আছে,
«إِنَّ مِنْ ضَعْفِ الْيَقِينِ أَنْ تُرْضِيَ النَّاسَ بِسَخَطِ اللَّهِ، وَأَنْ تَحْمَدَهُمْ عَلَى رِزْقِ اللَّهِ، وَأَنْ تَذُمَّهُمْ عَلَى مَا لَمْ يُؤْتِكَ اللَّهُ، إِنَّ رِزْقَ اللَّهِ لَا يَجُرُّهُ حِرْصُ حَرِيصٍ، وَلَا يَرُدُّهُ كَرَاهِيَةُ كَارِهٍ»
“বিশ্বাসের দুর্বলতার পরিচয় হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলাকে অসন্তুষ্ট করে মানুষকে সন্তুষ্ট করা, আল্লাহর দেয়া রিযিক ভোগ করে মানুষের গুণগান করা এবং তোমাকে আল্লাহ যা দান করেননি তার ব্যাপারে মানুষের বদনাম করা। জেনে রাখা দরকার যে, কোন লোভীর লোভ আল্লাহর রিযিক টেনে আনতে পারে না। আবার কোন ঘৃণাকারীর ঘৃণা আল্লাহর রিযিক বন্ধ করতে পারে না”।
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«مَنِ الْتَمَسَ رِضَا اللَّهِ بِسَخَطِ النَّاسِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ وَأَرَضَى عَنْهُ النَّاسَ، وَمَنِ الْتَمَسَ رِضَا النَّاسِ بِسَخَطِ اللَّهِ سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَسْخَطَ عَلَيْهِ النَّاسَ»
যে ব্যক্তি মানুষকে অসন্তুষ্ট করে আল্লাহর সন্তুষ্টি চায়, তার উপর আল্লাহ সন্তুষ্ট থাকেন, আর মানুষকেও তার প্রতি সন্তুষ্ট করে দেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করে মানুষের সন্তুষ্টি চায়, তার উপর আল্লাহও অসন্তুষ্ট হন এবং মানুষকেও তার প্রতি অসন্তুষ্ট করে দেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আল-ইমরানের ১৭৫ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
২) সূরা আত তাওবার ১৮ নং আয়াতের তাফসীরও জানা গেল।
৩) সূরা আল আনকাবূতের ১০ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
৪) ঈমান দুর্বল হয় এবং শক্তিশালী হয়।
৫) ঈমান দুর্বল হওয়ার কিছু আলামতও রয়েছে। আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) এর হাদীছে দুর্বল ঈমানের তিনটি আলামত বর্ণিত হয়েছে। (১) আল্লাহ তা‘আলাকে অসন্তুষ্ট করে মানুষকে সন্তুষ্ট করা, (২) আল্লাহর দেয়া রিযিক ভোগ করে মানুষের গুণগান করা (৩) আল্লাহ যা দান করেননি, তার ব্যাপারে মানুষকে দোষারোপ করা।
৬) ভয়কে শুধু আল্লাহর জন্যই খালেস-একনিষ্ঠ করা ঈমানের অন্যতম দাবি।
৭) যে ব্যক্তি শুধু আল্লাহকেই ভয় করে, তার ছওয়াবের বর্ণনা রয়েছে।
৮) যে আল্লাহকে ভয় করে না, তার শাস্তিও বর্ণিত হয়েছে।
টিকাঃ
১৩৯. আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন: শয়তানের চক্রান্তের মধ্যে এটিও একটি চক্রান্ত যে, সে মু’মিনদেরকে তার সৈন্যবাহিনী এবং বন্ধুদের মাধ্যমে ভয় দেখায়। যাতে মু’মিনগণ শয়তানদের বিরুদ্ধে জিহাদ না করেন, সৎ কাজের আদেশ না দেন এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বারণ না করেন। আল্লাহ তা‘আলা সংবাদ দিয়েছেন যে, এটিই শয়তানের চক্রান্ত এবং তার ভয় দেখানো। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে শয়তানকে ভয় করতে নিষেধ করেছেন।
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন: সকল মুফাসসিরের নিকট আয়াতের অর্থ হচ্ছে, শয়তান তার বন্ধুদের মাধ্যমে মু’মিনদেরকে ভয় দেখায়।
১৪০. ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন: খাওফে ইলাহী তথা অন্তরের ভয় আল্লাহর ইবাদাতের অন্যতম প্রকার। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য তা করা ঠিক নয়। আল্লাহর সামনে নত হওয়া, আল্লাহর প্রতি ভালবাসা পোষণ করা, আল্লাহর উপর ভরসা করা, আল্লাহর কাছেই আশা করা এবং এ প্রকারের অন্যসব বিষয় ইবাদাতে ক্বালবিয়্যা অর্থাৎ অন্তরের ইবাদাতের অন্তর্ভূক্ত।
১৪১. ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) বলেন: যে সমস্ত মানুষের কাছে নাবী-রাসূল পাঠানো হয়েছে, তারা দুইভাগে বিভক্ত হয়েছে। একভাগ বলেছে আমরা ঈমান আনয়ন করেছি, আরেকভাগ তা বলেনি। এই দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকেরা কুফরী ও গুনাহ-এর পথেই চলেছে। যারা বলেছে: আমরা ঈমান আনয়ন করলাম, আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মুসীবত ও বিপদাপদে ফেলে পরীক্ষা করেছেন। الفتنة এর অন্যতম অর্থ হচ্ছে মুসীবতে ফেলে ঈমান পরীক্ষা করা। আর যারা ঈমান আনয়ন করেনি, তারা যেন মনে না করে যে, সে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে কিংবা আল্লাহর পাকড়াও থেকে পলায়ন করতে পারবে অথবা তাঁকে পরাজিত করতে পারবে।
১৪২. যঈফ: আলবানী যঈফ বলেছেন, যঈফুল জামে‘ হা/২০০৯।
১৪৩. ছহীহ: ইবনে হিব্বান হা/২৭৬, তিরমিযী হা/২৪১৪, আলবানী ছহীহ বলেছেন, আছ ছহীহাহ হা/২৩১১।
📄 ৩২. আল্লাহ তা‘আলার উপর তাওয়াক্কুল (ভরসা) করা
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
“তোমরা যদি মু’মিন হয়ে থাক, তাহলে একমাত্র আল্লাহর উপরই ভরসা কর।” (সূরা আল মায়েদা: ২৩)
আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন,
إِنَّمَا الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ إِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَجِلَتْ قُلُوبُهُمْ وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ
“একমাত্র তারাই মু’মিন যাদের সামনে আল্লাহর কথা স্মরণ করা হলে তাদের অন্তরে ভয়ের সঞ্চার হয় আর যখন তাদের সামনে আল্লাহর আয়াত পাঠ করা হয়, তখন তাদের ঈমান বৃদ্ধি পায় এবং তারা স্বীয় প্রভুর উপর ভরসা করে। (সূরা আল আনফাল: ২)
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ حَسْبُكَ اللَّهُ وَمَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
“হে নাবী! তোমার জন্য এবং যেসব মু’মিন তোমার সাথে রয়েছে তাদের সবার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট”।
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
وَمَن يَتَوَكَّلْ عَلَى اللَّهِ فَهُوَ حَسْبُهُ
“যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।” (সূরা তালাক: ৩)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
«حَسْبُنَا اللَّهُ وَنِعْمَ الْوَكِيلُ»، قَالَهَا إِبْرَاهِيمُ - عليه السلام - حِينَ أُلْقِيَ فِي النَّارِ، وَقَالَهَا مُحَمَّدٌ - صلى الله عليه وسلم - حِينَ قَالُوا لَهُ: {إِنَّ النَّاسَ قَدْ جَمَعُوا لَكُمْ فَاخْشَوْهُمْ فَزَادَهُمْ إِيمَانًا} الْآيَةَ
“আমাদের জন্য আল্লাহই যথেষ্ট, তিনিই সর্বোত্তম কর্মসম্পাদনকারী”। এ কথা ইবরাহীম আ. তখন বলেছিলেন, যখন তাকে অগ্নিকুন্ডে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। আর উহুদ যুদ্ধের পর মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে লোকেরা যখন বলেছিল, “লোকেরা আপনাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বাহিনী সমাবেশ করেছে। অতএব তাদেরকে ভয় করুন”। (সূরা আলে-ইমরান: ১৭৩) তখন তিনি উক্ত কথা বলেছিলেন। ইমাম বুখারী ও ইমাম নাসাঈ এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহর উপর ভরসা করা ফরয।
২) আল্লাহর উপর ভরসা করা ঈমানের অন্যতম শর্ত।
৩) সূরা আল আনফালের ২ নং আয়াতের ব্যাখ্যা।
৪) উক্ত আয়াতটির তাফসীর, অধ্যায়ের শেষাংশেই রয়েছে।
৫) সূরা তালাকের ৩ নং আয়াতের তাফসীর।
৬) حسبنا هلل ونعم الوكيل কথাটির বিরাট গুরুত্বের কথা জানা গেল। ইবরাহীম আ. ও মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিপদের সময় এ বাক্যটি বলেছিলেন।
টিকাঃ
১৪৪. তাওয়াক্কুল দু’প্রকার:
(১) এমন বস্তুর ব্যাপারে তাওয়াক্কুল করা, যার ক্ষমতা শুধু আল্লাহর কাছেই। যে সমস্ত বিষয়ের ক্ষমতা শুধু আল্লাহর কাছেই, সেসব বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অলী-আওলিয়া এবং অনুরূপ অন্যান্যদের উপর ভরসা করা বড় শিরকের অন্তর্ভূক্ত, তাওবা ব্যতীত আল্লাহ তা‘আলা যা ক্ষমা করবেন না।
আর উপস্থিত এবং জীবিত লোক, রাজা-বাদশাহ এবং অনুরূপ যাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা ক্ষমতা দিয়েছেন, যেমন রিযিক দেয়ার ক্ষমতা, কষ্ট দূর করার ক্ষমতা এবং অনুরূপ অন্যান্য বিষয়ের ক্ষমতা আল্লাহ তা‘আলা যাদেরকে দিয়েছেন, তাদের উপর সে বিষয়ে ভরসা করা شرك أصغر তথা ছোট শিরকের অন্যতম প্রকার।
(২) বৈধ তাওয়াক্কুল হচ্ছে, মানুষ তার দুনিয়াবী কাজ-কর্ম সম্পাদন করার জন্য কাউকে উকীল বানাবে। সে তার মত করেই তার কাজ-কর্ম পরিচালনা করবে। যেমন কেনা-বেচা, ভাড়া দেয়া, বিবাহ-তালাক, গোলাম আযাদ ইত্যাদি কাজ-কর্ম কেউ স্বীয় উকীলের মাধ্যমে সম্পাদন করল। এটি সকলের ঐক্যমতে জায়েয। তবে এ ক্ষেত্রে এটি বলা জায়েয নেই যে توكلت عليه আমি তার উপর ভরসা করলাম। বরং বলতে হবে যে, وكلته আমি তাকে উকীল বানালাম। কেননা সে যখন উকীল বানায়, তখন কর্ম সম্পাদনের ক্ষেত্রে আল্লাহ তা‘আলার উপরই ভরসা করে।
১৪৫. ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এবং অন্যান্য আলেমগণ বলেন: আল্লাহর উপর ভরসাকারীর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। অতএব, আল্লাহ তা‘আলা যার জন্য যথেষ্ট হবেন এবং তিনি যার হেফাজতকারী হবেন, শত্রুরা তার কোন ক্ষতি করার চিন্তাও করতে পারবেনা। তারা শুধু ততটুকু ক্ষতিই করতে পারবে, যা স্বাভাবিকভাবেই হয়ে থাকে। যেমন গরম-ঠান্ডা, ক্ষুধা-পিপাসা ইত্যাদি। কিন্তু শত্রুরা তাদের মনোবাসনা অনুযায়ী যত ইচ্ছা ক্ষতি করবে এটি কখনই হবে না। কোন কোন সালাফ বলেন: আল্লাহ তা‘আলা বান্দার প্রত্যেক কাজের বদলা কাজের অনুরূপই নির্ধারণ করেছেন। তিনি তাঁর উপর ভরসা করার বদলা এইভাবে নির্ধারণ করেছেন যে, কেও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল করলে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবেন। আল্লাহ তা‘আলা এখানে বলেন নি যে, তার জন্য এত এত পুরস্কার রয়েছে। যেমন বলেছেন অন্যান্য আমলের ক্ষেত্রে। তিনি তাঁর উপর ভরসাকারী বান্দার জন্য নিজেকেই যথেষ্ট বানিয়েছেন। অতএব আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হবেন এবং সকল শত্রু ও অনিষ্ট হতে তাকে হেফাজত করবেন।
যেই বান্দা আল্লাহর উপর পরিপূর্ণ ভরসা করবে, সমস্ত আসমান-যমীন এবং তার মধ্যকার সকল বস্তু তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করলেও আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সেই বান্দাকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করবেন, তার জন্য যথেষ্ট হবেন এবং তাকে মদদ করবেন। ইবনুল কাইয়্যিম (রহঃ) এর কথা এখানেই শেষ।
১৪৬. ছহীহ বুখারী হা/৪৫৬৩, অধ্যায়: তোমাদের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী বাহিনী জড়ো হয়েছে।
📄 ৩৩. আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা এবং আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া উচিত নয়
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ ۚ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
“তারা কি আল্লাহ্র পাকড়াও থেকে নিরাপদ হয়েছে? ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহ্র পাকড়াও থেকে অন্য কেউ নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারে না”। (সূরা আল আ‘রাফ: ৯৯)
আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেন,
وَمَن يَقْنَطُ مِن رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّالُّونَ
“একমাত্র পথভ্রষ্ট লোকেরা ব্যতীত স্বীয় রবের রহমত থেকে আর কে নিরাশ হতে পারে”? (সূরা আল হিজর: ৫৬)
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কবীরা গুনাহ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেছেন, কবীরা গুনাহ হচ্ছে:
«الشِّرْكُ بِاللَّهِ، وَالْيَأْسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ، وَالْأَمْنُ مِنْ مَكْرِ اللَّهِ»
“আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া এবং আল্লাহর পাকড়াও থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা।”
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেন:
«أَكْبَرُ الْكَبَائِرِ: الْإِشْرَاكُ بِاللَّهِ، وَالْأَمْنُ مِنْ مَكْرِ اللَّهِ، وَالْقُنُوطُ مِنْ رَحْمَةِ اللَّهِ، وَالْيَأْسُ مِنْ رَوْحِ اللَّهِ»
“সবচেয় বড় কবীরাহ গুনাহ হচ্ছে, আল্লাহর সাথে শরীক করা, আল্লাহর পাকড়াও (শাস্তি) হতে নিজেকে নিরাপদ মনে করা, আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া এবং আল্লাহর করুণা থেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করা।” ইমাম আব্দুর রাযযাক স্বীয় মুসান্নাফে এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আল আ‘রাফের ৯৯ নং আয়াতের তাফসীর।
২) সূরা আল হিজরের ৫৬ নং আয়াতের তাফসীর।
৩) আল্লাহর পাকড়াও থেকে ভয়হীন ব্যক্তির জন্য কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন।
৪) আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ ব্যক্তিদের জন্যও রয়েছে কঠোর আযাবের হুমকি।
টিকাঃ
১৪৭. হাসান: আলবানী, ছহীহ আল জামি‘ হা/৪৪৮৯, মুসনাদে বাযযার।
১৪৮. হাসান: মাওকূফ সূত্রে ছহীহ। দেখুন, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক (১০/৪৫৯), তাফসীরে তাবারী, হা/৬১৯১ এবং তাবারানী আল-কাবীর, হা/৮৭৮৩ এবং অন্যান্য।
📄 ৩৪. তাক্বদীরের (ফায়ছালার) উপর ধৈর্যধারণ করা ঈমানের অঙ্গ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, وَمَن يُؤْمِن بِاللَّهِ يَهْدِ قَلْبَهُ “যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ঈমান রাখে, তিনি তার অন্তরকে হিদায়াত দান করেন”। (সূরা আত-তাগাবুন: ১১)
আলকামা (রহঃ) বলেছেন, আয়াতে যার আলোচনা হয়েছে, সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যে বিপদ আসলে মনে করে তা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসেছে। এর ফলে সে বিপদগ্রস্ত হয়েও সন্তুষ্ট থাকে এবং বিপদকে খুব সহজেই মেনে নেয়।
ছহীহ মুসলিমে আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন,
«اثْنَتَانِ فِي النَّاسِ هُمَا بِهِمْ كُفْرٌ: الطَّعْنُ فِي النَّسَبِ وَالنِّيَاحَةُ عَلَى الْمَيِّتِ»
“মানুষের মধ্যে এমন দু’টি (মন্দ) স্বভাব রয়েছে যার দ্বারা তাদের কুফরী প্রকাশ পায়। একটি হচ্ছে, মানুষের বংশের মধ্যে দোষ লাগানো, অপরটি হচ্ছে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা”
বুখারী ও মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে মারফূ‘ সূত্রে বর্ণিত আছে, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«لَيْسَ مِنَّا مَنْ ضَرَبَ الْخُدُودَ، وَشَقَّ الْجُيُوبَ، وَدَعَا بِدَعْوَى الْجَاهِلِيَّةِ»
“যে ব্যক্তি (মুছীবতে) স্বীয় গালে আঘাত করে, বুকের জামা ছিঁড়ে এবং জাহেলী যুগের ন্যায় চিৎকার করে সে আমাদের দলভুক্ত নয়”
আনাস বিন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
«إِذَا أَرَادَ اللَّهُ بِعَبْدِهِ الْخَيْرَ عَجَّلَ لَهُ الْعُقُوبَةَ فِي الدُّنْيَا، وَإِذَا أَرَادَ بِعَبْدِهِ الشَّرَّ أَمْسَكَ عَنْهُ بِذَنْبِهِ حَتَّى يُوَافِيَ بِهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
“আল্লাহ তা‘আলা যখন তার কোন বান্দার মঙ্গল করতে চান, তখন দুনিয়াতেই তার (অপরাধের) শাস্তি দিয়ে থাকেন। পক্ষান্তরে তিনি যখন তার কোন বান্দার অমঙ্গল করতে চান, তখন দুনিয়াতে তার পাপের শাস্তি দেয়া থেকে বিরত থাকেন, যেন ক্বিয়ামতের দিন তাকে পূর্ণরূপে শাস্তি দেন”
রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«إِنَّ عِظَمَ الْجَزَاءِ مَعَ عِظَمِ الْبَلَاءِ، وَإِنَّ اللَّهَ تَعَالَى إِذَا أَحَبَّ قَوْمًا ابْتَلَاهُمْ، فَمَنْ رَضِيَ فَلَهُ الرِّضَا، وَمَنْ سَخِطَ فَلَهُ السُّخْطُ»
“পরীক্ষা যত কঠিন হয়, পুরস্কার তত বড় হয়। আল্লাহ তা‘আলা যখন কোন জাতিকে ভালবাসেন, তখন সে জাতিকে তিনি পরীক্ষা করেন। এতে যে ব্যক্তি সন্তুষ্ট থাকে, তার জন্য রয়েছে সন্তুষ্টি। আর যে ব্যক্তি অসন্তুষ্ট হয়, তার প্রতিও রয়েছে অসন্তুষ্টি”। ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এ হাদীছ বর্ণনা করেছেন এবং হাসান বলেছেন।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা আত তাগাবুনের ১১ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল। আল্লাহ তা‘আলা সেখানে বলেন: “আল্লাহর নির্দেশ ব্যতিরেকে কোন বিপদ আসে না এবং যে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস করে (বিপদাপদ ও মুছীবতে পড়ে ধৈর্যধারণ করে এবং আল্লাহর উপর আস্থা রাখে), তিনি তার অন্তরকে সৎ পথ প্রদর্শন করেন। আল্লাহ সর্ববিষয়ে সম্যক পরিজ্ঞাত”।
২) বিপদে ধৈর্য ধারণ ও আল্লাহর ফায়ছালায় সন্তুষ্ট থাকা ঈমানের অঙ্গ।
৩) কারো বংশের প্রতি অপবাদ দেয়া বা দুর্নাম করা কুফরীর শামিল।
৪) যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে, গাল চাপড়ায়, জামার আস্তিন ছিঁড়ে ফেলে এবং জাহেলী যুগের কোন রীতি নীতির প্রতি আহবান জানায়, তার প্রতি কঠোর শাস্তির ভয় প্রদর্শন।
৫) আল্লাহ তা‘আলা যখন তার কোন বান্দার কল্যাণ চান এবং তাকে ভালবাসেন, তার আলামত কী, তাও জানা গেল। অর্থাৎ তিনি তখন তার সেই বান্দাকে মুছীবতে ফেলেন এবং পরীক্ষা করেন।
৬) আর আল্লাহ যখন তার কোন বান্দার অকল্যাণ চান, তার নিদর্শন কী, তাও জানা গেল। অর্থাৎ পাপ কাজ করার পরও তাকে শাস্তি দেন না; বরং তাকে নিয়ামতের মধ্যেই রাখেন।
৭) বান্দার প্রতি আল্লাহর ভালবাসার নিদর্শন সম্পর্কে জানা গেল।
৮) আল্লাহর (ফায়ছালার) প্রতি অসন্তুষ্ট হওয়া হারাম।
৯) বিপদে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকার ছাওয়াব।
টিকাঃ
১৪৯. ছহীহ মুসলিম হা/৬৭, অধ্যায়: বিলাপ করার ভয়াবহতা।
১৫০. ছহীহ বুখারী হা/১২৯৪, অধ্যায়: যে ব্যক্তি মুছীবতে গাল চাপড়ায় সে আমাদের অন্তর্ভূক্ত নয়। ছহীহ মুসলিম হা/১০৩।
১৫১. হাসান ছহীহ: তিরমিযী হা/২৩৯৬, অধ্যায়: মুছীবতের সময় ধৈর্য ধারণ করা। ইমাম আলবানী (রহঃ) এ হাদীছকে হাসান বলেছেন। দেখুন: সিলসিলায়ে ছহীহা হা/১২২০।
১৫২. হাসান: তিরমিযী হা/২৫৫৯, ইবনে মাজাহ হা/৪০৩১, ইমাম আলবানী (রহঃ) এ হাদীছকে হাসান বলেছেন। ছহীহ আল জামি‘ হা/২১১০।