📄 ১৯. সৎ লোকের কবরের পাশে আল্লাহর ইবাদতকারীর ব্যাপারে যেখানে কঠোর শাস্তির ঘোষণা রয়েছে
ছহীহ বুখারীতে আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, উম্মে সালামা (রাঃ) হাবাশায় যে গীর্জাটি দেখতে পেয়েছিলেন এবং তাতে তিনি যে সব প্রতিকৃতি প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বললেন,
«أُولَٰئِكَ قَوْمٌ إِذَا مَاتَ فِيهِمُ الْعَبْدُ الصَّالِحُ أَوِ الرَّجُلُ الصَّالِحُ بَنَوْا عَلَىٰ قَبْرِهِ مَسْجِدًا وَصَوَّرُوا فِيهِ تِلْكَ الصُّوَرَ، أُولَٰئِكَ شِرَارُ الْخَلْقِ عِنْدَ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ»
“তারা এমন লোক, তাদের মধ্যে যখন কোন নেককার ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করত, তখন তারা তার কবরের উপর মাসজিদ তৈরী করত এবং মাসজিদে ঐগুলো স্থাপন করত। এরাই হচ্ছে ক্বিয়ামতের দিন আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সর্বাধিক নিকৃষ্ট লোক। তারা দু’টি ফিতনাকে একত্র করেছে। একটি হচ্ছে কবর পূজার ফিতনা। অপরটি হচ্ছে প্রতিকৃতি পূজার ফিতনা।
ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আয়েশা (রাঃ) থেকে আরো একটি হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, যখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যু ঘনিয়ে আসল, তখন তিনি নিজের মুখমন্ডলকে স্বীয় চাদর দিয়ে ঢেকে ফেলতেন। আবার অস্বস্তিবোধ করলে তা চেহারা থেকে সরিয়ে ফেলতেন। এমন অবস্থায়ই তিনি বললেন,
«لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الْيَهُودِ وَالنَّصَارَىٰ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ»، يُحَذِّرُ مَا صَنَعُوا، لَوْلَا ذَلِكَ أُبْرِزَ قَبْرُهُ، غَيْرَ أَنَّهُ خَشِيَ أَنْ يُتَّخَذَ مَسْجِدًا»
“ইয়াহূদী-খ্রীস্টানদের প্রতি আল্লাহর লা’নত। তারা তাদের নাবীদের কবরগুলোকে মাসজিদে পরিণত করেছে। ইয়াহূদী-খ্রীস্টানদের শিরকী কাজ থেকে মু’মিনদেরকে সতর্ক করাই ছিল এ কথার উদ্দেশ্য।
আয়েশা (রাঃ) বলেন: কবরকে ইবাদত খানায় পরিণত করার আশঙ্কা না থাকলে তার কবরকে উঁচু স্থানে ও উন্মুক্ত রাখা হত। কিন্তু তিনি আশঙ্কা করলেন যে, তার কবরকে মাসজিদে পরিণত করা হতে পারে”।
জুনদুব ইবনে আব্দুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে তার ইন্তেকালের পূর্বে এ কথা বলতে শুনেছি,
«إِنِّي أَبْرَأُ إِلَى اللَّهِ أَنْ يَكُونَ لِي مِنْكُمْ خَلِيلٌ، فَإِنَّ اللَّهَ قَدِ اتَّخَذَنِي خَلِيلًا كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيلًا، وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ أُمَّتِي خَلِيلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيلًا، أَلَا وَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ كَانُوا يَتَّخِذُونَ قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ، أَلَا فَلَا تَتَّخِذُوا الْقُبُورَ مَسَاجِدَ، فَإِنِّي أَنْهَاكُمْ عَنْ ذَلِكَ»
“তোমাদের মধ্য থেকে কাউকে বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করা থেকে আমি আল্লাহর কাছে দায় মুক্তি ঘোষণা করছি। কেননা আল্লাহ তা‘আলা আমাকে খলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। যেমনি তিনি ইবরাহীম (আঃ) কে খলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। আর আমি যদি আমার উম্মত হতে কাউকে খলীল হিসাবে গ্রহণ করতাম, তাহলে অবশ্যই আবু বকরকে খলীল হিসাবে গ্রহণ করতাম। সাবধান, তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলো তাদের নাবীদের কবরকে মাসজিদে পরিণত করেছে। সাবধান, তোমরা কবরগুলোকে মাসজিদে পরিণত করো না। আমি তোমাদেরকে এ কাজ করতে নিষেধ করছি”।
রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার জীবনের শেষ মুহূর্তেও কবরকে মাসজিদে পরিণত করতে নিষেধ করেছেন। আর এ কাজ যারা করেছে তাদেরকে তিনি লা’নত করেছেন। কবরের পাশে মাসজিদ নির্মিত না হলেও সেখানে যারা ছালাত পড়বে, তারা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লা’নত প্রাপ্তদের অন্তর্ভূক্ত হবে। কবরকে ইবাদত খানায় পরিণত করার আশঙ্কা না থাকলে তার কবরকে উন্মুক্ত রাখা হত, -আয়েশা (রাঃ) এ বাণী দ্বারা এ কথাই বুঝানো হয়েছে। ছাহাবায়ে কেরাম নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পাশে মাসজিদ বানানোর মত লোক ছিলেন না। যে স্থানকে ছালাত পড়ার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে সে স্থানকেই মাসজিদ হিসাবে গণ্য করা হয়। বরং এমন প্রত্যেক স্থানকেই মাসজিদ বলা হয়, যেখানে ছালাত আদায় করা হয়। যেমন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
جُعِلَتْ لِيَ الْأَرْضُ مَسْجِدًا وَطَهُورًا
“পৃথিবীর সব স্থানকেই আমার জন্য মাসজিদ বানিয়ে দেয়া হয়েছে এবং পবিত্র করে দেয়া হয়েছে”।
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে ‘মারফূ’ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে,
«إِنَّ مِنْ شِرَارِ النَّاسِ مَنْ تُدْرِكُهُمُ السَّاعَةُ وَهُمْ أَحْيَاءٌ، وَالَّذِينَ يَتَّخِذُونَ الْقُبُورَ مَسَاجِدَ»
“জীবন্ত অবস্থায় যাদের উপর দিয়ে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, আর যারা কবরকে মাসজিদে পরিণত করে, তারাই হচ্ছে মানুষের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) যে ব্যক্তি কোনো সৎ লোকের কবরের পাশে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য মাসজিদ বানায়, তার ব্যাপারে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কঠোর হুঁশিয়ারী রয়েছে। যদিও ইবাদতকারীর নিয়্যাত বিশুদ্ধ হয়।
২) মূর্তি বানানোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং এ ব্যাপারে কঠোর হুমকি এসেছে।
৩) কবরকে মাসজিদ বানানো থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করার মধ্যে শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। প্রথমে তিনি সুস্পষ্ট করে বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। অতঃপর মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে তিনি তা বারবার বলেছেন। অতঃপর যখন তার মৃত্যুর সময় উপস্থিত হল তখন তিনি পূর্বের বর্ণনাকে যথেষ্ট মনে করেননি। বরং অত্যন্ত কঠোর ভাষায় আবারও সতর্ক করেছেন।
৪) নিজ কবরের অস্তিত্ব লাভের পূর্বেই তার কবরের পাশে এসব কাজ অর্থাৎ কবর পূজা থেকে নিষেধ করেছেন।
৫) নাবীদের কবর পূজা করা বা কবরকে ইবাদতখানায় পরিণত করা ইয়াহূদী-খ্রীস্টানদের রীতি।
৬) এ জাতীয় কাজ যারা করে তাদের উপর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর অভিসম্পাত।
৭) নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -এর সতর্ক করার উদ্দেশ্য হচ্ছে তার কবরকে মাসজিদ বানানো থেকে আমাদেরকে সাবধান করে দেয়া।
৮) তার কবরকে উন্মুক্ত না রাখার কারণ এ হাদীছে সুস্পষ্ট।
৯) এই অধ্যায়ে কবরকে মাসজিদ বানানোর মর্মার্থ ব্যক্ত করা হয়েছে।
১০) যারা কবরকে মাসজিদে পরিণত করে এবং যাদের উপর ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে, -এ দু’ধরনের লোকের কথা একই সাথে উল্লেখ করেছেন। অতঃপর নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিরক সংঘটিত হওয়ার পূর্বেই এমন কিছু বিষয়ের বর্ণনা করেছেন, যা মানুষকে শিরকের দিকে নিয়ে যায়। সেই সাথে তিনি শিরকের শেষ পরিণামও বর্ণনা করেছেন।
১১) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার ইন্তেকালের পাঁচ দিন পূর্বে স্বীয় খুতবায় কবরের উপর মাসজিদ বানাতে নিষেধ করেছেন। এখানে বিদ‘আতী লোকদের মধ্যে সবচেয়ে নিকৃষ্ট দু’টি দলের প্রতিবাদ রয়েছে। কিছু সংখ্যক জ্ঞানী ব্যক্তি এ বিদ‘আতীদেরকে মুসলমানের ৭২ দলের বাইরে বলে মনে করেন। এসব বিদ‘আতী হচ্ছে রাফেযী ও জাহমীয়া। এই রাফেযী দলের কারণেই শিরক এবং কবর পূজা শুরু হয়েছে। সর্বপ্রথম কবরের উপর তারাই মাসজিদ নির্মাণ করেছে।
১২) এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীছ থেকে জানা গেল যে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরও মৃত্যু যন্ত্রণা হয়েছিল।
১৩) নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে আল্লাহ তা‘আলা খলীল বানিয়ে সম্মানিত করেছেন।
১৪) খুল্লাতের স্তর মুহাব্বত ও ভালবাসার স্তরের চেয়েও অধিক ঊর্ধ্বে।
১৫) সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা দেয়া হয়েছে যে, ছাহাবীদের মধ্যে আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) ছিলেন সর্বশ্রেষ্ঠ।
১৬) এ হাদীছে আবুবকর (রাঃ) এর খিলাফতের প্রতি ইঙ্গিত প্রদান করা হয়েছে।
টিকাঃ
৮৬. ছহীহ: বুখারী হা/৪৩৫, মুসলিম হা/৫৩১ অধ্যায়: কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করা নিষেধ।
৮৭. ছহীহ মুসলিম হা/৫৩২, অধ্যায়: কবরের উপর মাসজিদ নির্মাণ করা নিষেধ।
৮৮. ছহীহ বুখারী হা/৪৩৮, মুসলিম হা/৫৩১। অধ্যায়: পৃথিবীর সব স্থানকেই আমার জন্য মাসজিদ বানিয়ে দেয়া হয়েছে।
৮৯. হাসান: মুসনাদে আহমাদ ১/৪০৫। ইবনে খুযাইমা হা/৭৮৯, মুসনাদে শাফেয়ী হা/৫২৮।
৯০. অর্থাৎ তাদের বিদ‘আত এতই মারাত্মক ও ক্ষতিকর, যার কারণে তারা মুসলমানের অন্যান্য গোমরাহ ফিরকার অন্তর্ভূক্ত হওয়ারও উপযুক্ত নয়। তাই কোন কোন আলিম তাদেরকে নিরেট কাফিরদের অন্তর্ভূক্ত করেছেন। অনেকে বইও লিখেছেন- কবর পূজারীরা কাফির।
📄 সেখানে ঐ সৎ লোকের উদ্দেশ্যে ইবাদতকারীর ব্যাপারে কী বিধান আসতে পারে?
এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।
📄 ২০. সৎ লোকদের কবরের প্রতি মাত্রতিরিক্ত সম্মান প্রদর্শন তাকে মূর্তিতে পরিণত করে এবং আল্লাহ ব্যতীত তার ইবাদতও করা হয়
ইমাম মালেক (রহঃ) মুয়াত্তায় বর্ণনা করেন, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দু‘আ করেছেন,
«اللَّهُمَّ لَا تَجْعَلْ قَبْرِي وَثَنًا يُعْبَدُ، اشْتَدَّ غَضَبُ اللَّهِ عَلَى قَوْمٍ اتَّخَذُوا قُبُورَ أَنْبِيَائِهِمْ مَسَاجِدَ)
“হে আল্লাহ! তুমি আমার কবরকে মূর্তিতে পরিণত করো না, যার ইবাদত করা হবে। ঐ জাতির উপর আল্লাহর লা’নত, যারা তাদের নাবীদের কবরগুলোকে মাসজিদে পরিণত করেছে।
ইবনে জারীর সুফিয়ান হতে, তিনি মানসূর হতে এবং তিনি মুজাহিদ হতে والعزى اللات أف رأيتم এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, লাত এমন একজন সৎ লোক ছিলেন, যিনি হাজীদেরকে ছাতু খাওয়াতেন। অতঃপর যখন তিনি মৃত্যুবরণ করলেন, তখন লোকেরা তার কবরের পাশে অবস্থান করতে লাগল। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে আবুল জাওযা একই কথা বর্ণনা করে বলেন, ‘লাত’ হাজীদেরকে ছাতু খাওয়াতেন।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
«لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَائِرَاتِ الْقُبُورِ، وَالْمُتَّخِذِينَ عَلَيْهَا الْمَسَاجِدَ وَالسُّرُجَ»
“রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কবর যিয়ারতকারিণী মহিলাদেরকে এবং যারা কবরকে মাসজিদে পরিণত করে ও যারা কবরে বাতি জ্বালায় তাদেরকে অভিসম্পাত করেছেন”।
এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১| মূর্তি বা প্রতিমার ব্যাখ্যা জানা গেল। অর্থাৎ আল্লাহ ব্যতীত যারই ইবাদত করা হোক না কেন, সেটিই মূর্তি সমতুল্য।
২) ইবাদতের ব্যাখ্যা জানা গেল। অর্থাৎ কবরকে মাত্রতিরিক্ত সম্মান করা কবরবাসীর ইবাদতের নামান্তর।
৩) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা সংঘটিত হওয়ার আশঙ্কা করেছেন একমাত্র তা থেকেই আল্লাহর কাছে আশ্রয় চেয়েছেন।
৪) নাবীদের কবরকে মাসজিদ বানানোর বিষয়টিকে মূর্তি পূজার সাথে সম্পৃক্ত করেছেন।
৫) যারা কবরকে মাসজিদ বানায় তাদের উপর আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে কঠিন গযব নাযিলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
৬) এই অধ্যায়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সর্ববৃহৎ মূর্তি “লাতের” ইবাদতের সূচনা কিভাবে হয়েছে, তা জানা গেল।
৭) লাত নামক মূর্তির স্থানটি মূলত একজন নেককার লোকের কবর।
৮) লাত প্রকৃতপক্ষে কবরস্থ ব্যক্তির নাম। মূর্তির নামেই কবরের নামকরণ করা হয়েছে।
৯) কবর যিয়ারতকারিণী মহিলাদের প্রতি নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অভিসম্পাত।
১০) যারা কবরে বাতি জ্বালায় তাদের প্রতি ও রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর অভিশাপ।
টিকাঃ
৯১. হাসান: মুআত্তা ইমাম মালেক হা/৪১৬। ইমাম আলবানী (রহঃ) এই হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন। দেখুন: শাইখের তাহকীকসহ মিশকাত, হা/৭৫০।
৯২. যঈফ: আবু দাউদ হা/৩২৩৬, অধ্যায়: মহিলাদের কবর যিয়ারত। ইমাম আলবানী এ হাদীছকে যঈফ বলেছেন। দেখুন: সিলসিলায়ে যঈফা, হা/২২৫। মুসনাদে আহমাদ, শুয়া‘ইব আর নাউত্ব (রহঃ) ছহীহ বলেছেন।
📄 ২১. নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাওহীদ সংরক্ষণ ও শিরকের পথ রুদ্ধকরণ
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ বলেন:
لَقَدْ جَاءَكُمْ رَسُولٌ مِّنْ أَنفُسِكُمْ عَزِيزٌ عَلَيْهِ مَا عَنِتُّمْ حَرِيصٌ عَلَيْكُم بِالْمُؤْمِنِينَ رَءُوفٌ رَّحِيمٌ
“তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসূল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের হিদায়াতের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। মু’মিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়”। (সূরা আত তাওবা: ১২৮)
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন:
«لَا تَجْعَلُوا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، وَلَا تَجْعَلُوا قَبْرِي عِيدًا، وَصَلُّوا عَلَيَّ، فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ تَبْلُغُنِي حَيْثُ كُنْتُمْ»
“তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না, আর আমার কবরকে ঈদ-উৎসবের স্থানে পরিণত করো না। আমার উপর তোমরা দরূদ পড়ো। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তোমাদের দরূদ আমার কাছে পৌঁছে যায়। ইমাম আবু দাউদ হাসান সনদে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। হাদীছের সকল রাবীই নির্ভরযোগ্য”।
আলী ইবনুল হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে,
أَنَّهُ رَأَى رَجُلًا يَجِيءُ إِلَى فُرْجَةٍ كَانَتْ عِنْدَ قَبْرِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - فَيَدْخُلُ فِيهَا فَيَدْعُو، فَنَهَاهُ وَقَالَ: أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا سَمِعْتُهُ مِنْ أَبِي عَنْ جَدِّي عَنْ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: «لَا تَتَّخِذُوا قَبْرِي عِيدًا، وَلَا بُيُوتَكُمْ قُبُورًا، وَصَلُّوا عَلَيَّ، فَإِنَّ تَسْلِيمَكُمْ يَبْلُغُنِي أَيْنَ كُنْتُمْ»
তিনি একজন লোককে দেখতে পেলেন যে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পাশে একটি ছিদ্রপথে প্রবেশ করে সেখানে দু‘আ করছে। তখন তিনি ঐ লোকটিকে এ ধরনের কাজ করতে নিষেধ করলেন। তাকে আরো বললেন, আমি কি তোমার কাছে সে হাদীছটি বর্ণনা করব না, যা আমি আমার পিতার কাছ থেকে শুনেছি এবং তিনি শুনেছেন আমার দাদার কাছ থেকে, আর আমার দাদা শুনেছেন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছ থেকে? রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “তোমরা আমার কবরকে ঈদে পরিণত করো না আর তোমাদের ঘরগুলোকে কবরে পরিণত করো না। তোমরা যেখানেই থাকো না কেন তোমাদের সালাম আমার কাছে পৌঁছে যায়। ইমাম যিয়াউদ্দীন আল-মাকদেসী এই হাদীছটি মুখতারায় বর্ণনা করেছেন।
টিকাঃ
৯৩. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন: কোন আলেম ছালাত আদায় ও দু‘আ করার জন্য কবরের নিকট যাওয়ার অনুমতি দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই। কেননা এ জন্য কবরের নিকট যাওয়া কবরকে এক প্রকার ঈদ বানানোর মতই। এতে আরও প্রমাণ পাওয়া যায় যে, যখন কোনো ব্যক্তি নামাযের জন্য মাসজিদে নববীতে প্রবেশ করবে, তখন সালাম দেয়ার নিয়্যতে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের নিকট যাওয়া নিষিদ্ধ। কেননা এটি বৈধ হওয়ার জন্য কোন দলীল পাওয়া যায়না।
ইমাম মালেক (রহঃ) মদীনাবাসীদের জন্য অপছন্দ করতেন যে, তাদের কোন ব্যক্তি মাসজিদে প্রবেশ করেই নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কবরের পাশে যাবে। কেননা সালফে সালেহীনগণ এরূপ করতেন না। তিনি আরো বলেন: এই উম্মাতের আখিরী যামানার লোকদেরকে ঐ বিষয়ই সংশোধন করতে পারে, যা তাদের প্রথম যামানার লোকদেরকে সংশোধন করেছিল। অর্থাৎ ছহীহ সুন্নাতের অনুসরণ ব্যতীত তাদের সংশোধনের কোন সুযোগ নেই।
ছাহাবী এবং তাবেয়ীগণ নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাসজিদে আগমন করতেন এবং ছালাত আদায় করতেন। ছালাত আদায় করে তারা মাসজিদে বসতেন অথবা বের হয়ে যেতেন। কিন্তু সালাম দেয়ার উদ্দেশ্যে কবরের নিকট যেতেন না। কেননা তারা জানতেন যে, মাসজিদে প্রবেশের সময়ই নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর দুরূদ পাঠ করা এবং সালাম দেয়া সুন্নাত।
দুরূদ পাঠ, সালাম দেয়া কিংবা ছালাত আদায় এবং দু‘আ করার নিয়্যতে কবরের নিকট যেতে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ছাহাবীদেরকে অনুমতি দেননি; বরং তিনি তা থেকে ছাহাবীদেরকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন:
৯৪. ছহীহ: মুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা হা/৭৫৪২, বায্যার হা/৫০৯।