📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ১১. আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে মানত করা শিরক

📄 ১১. আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে মানত করা শিরক


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا
“তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে, যেদিনর অনিষ্ট হবে সুদূর প্রসারী”। (সূরা আদ দাহার: ৭)

আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন:
وَمَا أَنفَقْتُم مِّن نَّفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُم مِّن نَّذْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُهُ
“ যা কিছু তোমরা খরচ কর আর যা কিছু মানত কর নিশ্চয়ই আল্লাহ তা জানেন” (সূরা আল বাকারা: ২৭০)

ছহীহ বুখারীতে আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلَا يَعْصِهِ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের কাজে মানত করে, সে যেন তা পূরণ করার মাধ্যমে তার আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানিমূলক কাজে মানত করে সে যেন তার নাফরমানী না (মানত যেন পূরণ না করে) করে।”
ছহীহ বুখারী হা/৬৬৯৬।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) নেক কাজের মানত পূরণ করা ওয়াজিব।
২) মানত যেহেতু আল্লাহর ইবাদত হিসাবে প্রমাণিত, তাই আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে মানত করা শিরক।
৩) আল্লাহর নাফরমানিমূলক কাজে মানত পূরণ করা জায়েয নয়।

টিকাঃ
৫৭. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন: মানত যেহেতু একটি ইবাদত; তাই মূর্তি, চন্দ্র, সূর্য, কবর-মাযার এবং অনুরূপ বস্তুর জন্য তা করা শিরক। তিনি আরো বলেন: যে ব্যক্তি কোনো কবর বা মাযারকে আলোকিত করার জন্য বাতি মানত করল এবং মুশরিকদের ন্যায় বলল যে অমুক কবর বা মাযার মানত কবুল করে, সকল উম্মাতের ঐক্যমতে তার এই মানত পাপ কাজের মানতের অন্তর্ভূক্ত। এই মানত পূর্ণ করা জায়েয নয়। এমনি যে ব্যক্তি কবর ও মাযারের খাদেমদের জন্য কিংবা তাতে অবস্থানকারীদের জন্য টাকা-পয়সা মানত করল, সেও অন্যায় ও পাপের কাজ করল। কেননা কবর ও মাযারের খাদেমদের মধ্যে এবং লাত, মানাত ও উয্যার খাদেমদের মধ্যে এক বিরাট সাদৃশ্য রয়েছে।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ১২. আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে আশ্রয় চাওয়া শিরক

📄 ১২. আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে আশ্রয় চাওয়া শিরক


আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
“মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক কতিপয় জ্বিনের কাছে আশ্রয় চাচ্ছিল। এর ফলে তারা জ্বিনদের অহমিকা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।” (সূরা আল জ্বিন: ৬)

খাওলা বিনতে হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَقَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْحَلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আমি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো মঞ্জিলে যাত্রা বিরতি করে এ দু‘আ পাঠ করবে:
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
“আমি আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণাঙ্গ কালামের মাধ্যমে তার সৃষ্টির সকল অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই। তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত সে ঐ মঞ্জিল ত্যাগ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা জ্বিনের ৬ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
২) আল্লাহ ব্যতীত অন্যের আশ্রয় চাওয়া শিরকের মধ্যে গণ্য।
৩) এ অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীছের মাধ্যমে আলিমগণ এ বিষয়ের উপর দলীল পেশ করেছেন যে, কালিমাতুল্লাহ (আল্লাহর কালাম) মাখলূকের তথা সৃষ্টির অন্তর্ভূক্ত নয়। বরং আল্লাহর কালাম আল্লাহর সিফাতের মধ্যে শামিল। তাই আলিমগণ বলেছেন: ‘মাখলূকের কাছে আশ্রয় চাওয়া শিরক।
৪) সংক্ষিপ্ত হলেও উক্ত দু‘আর ফযীলত অর্থাৎ
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
পাঠ করার আরো অনেক ফযীলত রয়েছে।
৫) কোন বস্তু দ্বারা পার্থিব উপকার হাসিল করা এবং কোন অনিষ্ট থেকে বেঁচে যাওয়া এ কথা প্রমাণ করে না যে, তা শিরকের অন্তর্ভূক্ত নয়।

টিকাঃ
৫৮. তবে সৃষ্টির নিকট ঐ সব বিপদে আশ্রয় কামনা করা জায়েয আছে, যে বিষয়ের উপর সে ক্ষমতাবান। এ ধরনের আশ্রয় গ্রহণ করা শিরক নয়। এ কথার দলীল হচ্ছে, নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতনার কথা উল্লেখ পূর্বক বললেন: সুতরাং যে ব্যক্তি তা হতে আশ্রয় স্থল পাবে সে যেন তার আশ্রয় গ্রহণ করে। (বুখারী ও মুসলিম) যদি আমার নিকট কোন ডাকাত উপস্থিত হয় এবং আমি এমন কোন ব্যক্তির আশ্রয় গ্রহণ করি যে আমাকে তাদের হাত থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম তবে এতে কোনই দোষ নেই।
৫৯. ছহীহ: মুসলিম হা/২৭০৮, ইবনে মাজাহ হা/৩৫৪৭, তিরমিযী হা/৩৪৩৭, আবু দাউদ হা/৩৮৯৮, অধ্যায়: কিভাবে ঝাড়-ফুঁক করতে হবে। ইমাম আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন। দেখুন: শাইখের তাহকীকসহ মিশকাতুল মাসাবীহ, হা/২৪২২।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ১৩. আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে ফরিয়াদ করা অথবা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট দু‘আ করা শিরক

📄 ১৩. আল্লাহ ব্যতীত অন্যের কাছে ফরিয়াদ করা অথবা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নিকট দু‘আ করা শিরক


আল্লাহ তা‘আলা সূরা ইউনুসের ১০৬ ও ১০৭ নং আয়াতে বলেন:
وَلَا تَدْعُ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ ۖ فَإِن فَعَلْتَ فَإِنَّكَ إِذًا مِّنَ الظَّالِمِينَ وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِن يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ ۚ يُصِيبُ بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ ۚ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
“আল্লাহ ছাড়া এমন কোন মা‘বূদকে ডেকো না, যে তোমার কোন উপকার করতে পারবে না এবং ক্ষতিও করতে পারবে না। যদি এমন কর, তাহলে নিশ্চয়ই তুমি যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হবে। আর আল্লাহ যদি তোমাকে কোন বিপদে ফেলেন, তাহলে একমাত্র তিনি ব্যতীত অন্য কেউ তা থেকে উদ্ধার করতে পারবে না। আর তিনি যদি তোমার প্রতি কোন অনুগ্রহ করতে চান, তাহলে কেউ তার অনুগ্রহকে প্রতিহত করতে পারে না। স্বীয় বান্দাদের মধ্য থেকে যাকে চান, তাকেই তিনি স্বীয় অনুগ্রহ দান করেন; তিনিই ক্ষমাশীল, দয়ালু”। (সূরা ইউনুস: ১০৬ -১০৭)

আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন:
فَابْتَغُوا عِندَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ وَاشْكُرُوا لَهُ
“অতএব আল্লাহর কাছে রিযিক চাও এবং তাঁরই ইবাদত করো”। (সূরা আনকাবূত: ১৭)

আল্লাহ তা‘আলা অন্য এক আয়াতে ইরশাদ করেন,
وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّن يَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَن لَّا يَسْتَجِيبُ لَهُ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ وَهُمْ عَن دُعَائِهِمْ غَافِلُونَ وَإِذَا حُشِرَ النَّاسُ كَانُوا لَهُمْ أَعْدَاءً وَكَانُوا بِعِبَادَتِهِمْ كَافِرِينَ
“তার চেয়ে অধিক ভ্রান্ত আর কে হতে পারে, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ছাড়া এমন কাউকে ডাকে, যে ক্বিয়ামত পর্যন্ত তার ডাকে সাড়া দিবে না। তারা তো তাদের দু‘আ সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেखबर। যখন মানুষকে হাশরে একত্রিত করা হবে, তখন তারা তাদের শত্রুতে পরিণত হবে এবং তাদের ইবাদত অস্বীকার করবে”। (সূরা আহকাফ: ৫-৬)

আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ وَيَكْشِفُ السُّوءَ وَيَجْعَلُكُمْ خُلَفَاءَ الْأَرْضِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ أَمَّن يَهْدِيكُمْ فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ وَمَن يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ ۗ أَإِلَٰهٌ مَّعَ اللَّهِ ۚ تَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
বলো তো কে অসহায়ের ডাকে সাড়া দেন যখন সে ডাকে এবং কষ্ট দূরীভূত করেন ও তোমাদেরকে পৃথিবীতে পূর্ববর্তীদের স্থলাভিষিক্ত করেন? সুতরাং আল্লাহ্র সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তোমরা অতি সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর। বল তো কে তোমাদেরকে জলে ও স্থলে অন্ধকারে পথ দেখান এবং যিনি তার অনুগ্রহের পূর্বে সুসংবাদবাহী বাতাস প্রেরণ করেন? অতএব, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য আছে কি? তারা যাকে শরীক করে, আল্লাহ্ তার অনেক ঊর্ধ্বে। (সূরা আন নামল: ৬২)

ইমাম তাবরানী বর্ণনা করেন,
«أَنَّهُ كَانَ فِي زَمَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - مُنَافِقٌ يُؤْذِي الْمُؤْمِنِينَ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: قُومُوا بِنَا نَسْتَغِيثُ بِرَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - مِنْ هَذَا الْمُنَافِقِ، فَقَالَ النَّبِيُّ؟ : «إِنَّهُ لَا يُسْتَغَاثُ بِي، وَإِنَّمَا يُسْتَغَاثُ بِاللَّهِ»
নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে এমন একজন মুনাফিক ছিল, যে মু’মিনদেরকে কষ্ট দিত। তখন ছাহাবীদের কেউ কেউ বলতে লাগলেন, চল! আমরা এ মুনাফিকের কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে আশ্রয় চাই। নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন,
«إِنَّهُ لَا يُسْتَغَاثُ بِي، وَإِنَّمَا يُسْتَغَاثُ بِاللَّهِ»
“আমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা যাবে না। একমাত্র আল্লাহর কাছেই আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে হবে”।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) প্রথমে দু‘আ উল্লেখ করার পর ইস্তেগাছা (ফরিয়াদ) উল্লেখ করা عام কে (সাধারণ বস্তুকে) خاص এর (নির্দিষ্ট বস্তুর) পূর্বে উল্লেখ করার অন্তর্ভূক্ত।
২) وَلَا تَدْعُ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُكَ وَلَا يَضُرُّكَ “আল্লাহ ছাড়া এমন কোন মা‘বূদকে ডেকো না, যে তোমার কোন উপকার করতে পারবে না এবং ক্ষতিও করতে পারবে না” -আল্লাহর এ বাণীর তাফসীর জানা গেল।
৩) আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে ফরিয়াদ করা বা আল্লাহ ছাড়া অন্যকে ডাকা ‘শিরকে আকবার বা বড় শিরক।’
৪) সব চেয়ে নেককার বান্দাও যদি আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দু‘আ কিংবা ফরিয়াদ করে, তাহলে সে যালিমদের অন্তর্ভূক্ত হবে।
৫) এর পরবর্তী আয়াত অর্থাৎ وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ Gi তাফসীর জানা গেল।
৬) আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দু‘আ করা কুফরী কাজ হওয়ার সাথে সাথে দুনিয়াতে এর কোন উপকারিতা নেই। অর্থাৎ কুফরী কাজে কোন সময় দুনিয়াতে কিছু বৈষয়িক উপকারিতা পাওয়া যায়, কিন্তু গাইরুল্লাহর কাছে দু‘আ করার মধ্যে দুনিয়ার উপকারও নেই।
৭) ৩য় আয়াত অর্থাৎ فَابْتَغُوا عِندَ اللَّهِ الرِّزْقَ وَاعْبُدُوهُ -এর তাফসীরও জানা গেল।
৮) আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে রিযিক চাওয়া উচিত নয়। যেমনিভাবে আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে জান্নাত চাওয়া উচিত নয়।
৯) ৪র্থ আয়াত وَمَنْ أَضَلُّ Gi তাফসীর জানা গেল।
১০) যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দু‘আ করে, তার চেয়ে অধিক বড় পথভ্রষ্ট আর কেউ নেই।
১১) আল্লাহ ব্যতীত যার কাছে দু‘আ করা হয়, সে দু‘আকারীর দু‘আ সম্পর্কে কোন খবরই রাখে না।
১২) مدعو মা‘দূ’ অর্থাৎ যাকে ডাকা হয় কিংবা যার কাছে দু‘আ করা হয়, সে দু‘আকারীর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে থাকে এবং দু‘আকারীর জন্য শত্রুতে পরিণত হয়।
১৩) আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দু‘আ করা তার ইবাদত করার নামান্তর।
১৪) مدعو অর্থাৎ যাকে আহবান করা হয় কিংবা যার কাছে দু‘আ করা হয়, ক্বিয়ামতের দিন ঐ ব্যক্তি তার জন্য সম্পাদিত ইবাদতকে অস্বীকার করবে।
১৫) আর এই বিষয়গুলো অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে দু‘আ করা দু‘আকারীর পথভ্রষ্ট হওয়ার সর্বাধিক বড় কারণ।
১৬) পঞ্চম আয়াত أَمَّن يُجِيبُ الْمُضْطَرَّ إِذَا دَعَاهُ এর তাফসীর জানা গেল।
১৭) বিস্ময়কর ব্যাপার এই যে, মূর্তি পূজারীরাও একথা স্বীকার করে যে, বিপদগ্রস্ত ব্যক্তির ডাকে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেউ সাড়া দিতে পারে না। এ কারণেই তারা যখন কঠিন মুছীবতে পতিত হয় তখন ইখলাস বা আন্তরিকতার সাথে আল্লাহকেই ডাকে।
১৮) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক তাওহীদের সংরক্ষণ এবং আল্লাহ তা‘আলার সাথে আদব-কায়দা রক্ষা করে চলার বিষয়টি জানা গেল।

টিকাঃ
৬০. সৃষ্টির নিকট এমন বিষয়ে ফরিয়াদ করা এবং সাহায্য প্রার্থনা করা শিরক, যে বিষয়ে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ করার ক্ষমতা রাখে না। আর তা এজন্য যে, যার নিকট সাহায্য প্রার্থনা ও ফরিয়াদ করা হয়েছে সে সম্ভবত মৃত্যুবরণ করেছে অথবা অনুপস্থিত রয়েছে। যেমন কেউ মৃত ব্যক্তির নিকট ফরিয়াদ করে এই উদ্দেশে যে, সে তার বিপদ দূর করবে অথবা অনুপস্থিত ব্যক্তিকে ডাকে যাতে করে সে তাকে আরোগ্য দান করে। অথবা যে বিষয়ে অপরের কাছে সাহায্য প্রার্থনা ও ফরিয়াদ করা হয়েছে সে বিষয়ে মূলত আল্লাহ ব্যতীত অপর কেউ কোনো ক্ষমতা রাখে না। যেমন কেউ যদি উপস্থিত জীবিত ব্যক্তির নিকট বৃষ্টি বর্ষণের জন্য ফরিয়াদ করে। এগুলো সবই বড় শিরকের অন্তর্ভূক্ত। তবে মাখলূকের নিকটে এমন বিষয়ে সাহায্য तलब এবং ফরিয়াদ করা বৈধ, যা করার ক্ষমতা সে রাখে। যেমন কোন ব্যক্তি স্বীয় সাথীদের সাহায্য গ্রহণ করল কিংবা যুদ্ধ ইত্যাদি ক্ষেত্রে শত্রুদের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য সাথীদের কাছে ফরিয়াদ করল এবং তাদের নিকট আশ্রয় ও সাহায্য প্রার্থনা করল। এ সব বিষয় শিরক নয়। কারণ এ সকল ক্ষেত্রে মানুষ পরস্পর সাহায্য-সহযোগীতা করার ক্ষমতা রাখে।
৬১. ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রহঃ) স্বীয় মুসনাদে ৫/৩১৭ এবং ইমাম তাবরানী (রহঃ) আল-মু’জামুল কবীরে হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। সনদে ইবনে লাহীয়া থাকার কারণে মুহাদ্দিছগণ হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন, তবে অর্থ ছহীহ। দেখুন: গায়াতুল মুরীদ, ড. আব্দুর রহমান ইবনে আব্দুল আযীয আল-আক্বল।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ১৪. অক্ষমকে আহবান করা শিরক

📄 ১৪. অক্ষমকে আহবান করা শিরক


আল্লাহ তা‘আলার বাণী,
أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ
“তারা কি আল্লাহর সাথে এমন সব বস্তুকে শরীক করে, যারা কিছুই সৃষ্টি করতে পারে না? বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট হয়। আর তারা না তাদেরকে কোন রকম সাহায্য করতে পারে, না নিজেদের সাহায্য করতে পারে”। (সূরা আ‘রাফ: ১৯১-১৯২)
আল্লাহ তা‘আলা নিম্নের বাণী দ্বারা আয়াতগুলোর সূচনা করেছেন,
ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ لَهُ الْمُلْكُ ۚ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ مَا يَمْلِكُونَ مِن قِطْمِيرٍ (١٣) إِن تَدْعُوهُمْ لَا يَسْمَعُوا دُعَاءَكُمْ وَلَوْ سَمِعُوا مَا اسْتَجَابُوا لَكُمْ ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ يَكْفُرُونَ بِشِرْكِكُمْ ۚ وَلَا يُنَبِّئُكَ مِثْلُ خَبِيرٍ
“তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক। রাজত্ব তাঁরই। তাঁর পরিবর্তে তোমরা যাদেরকে ডাক, তারা খেজুরের আঁটির উপর যে পাতলা আবরণ থাকে তারও অধিকারী নয়। তোমরা তাদেরকে ডাকলে তারা তোমাদের সে ডাক শুনে না। শুনলেও তোমাদের ডাকে সাড়া দেয় না। ক্বিয়ামতের দিন তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে। আর আল্লাহর ন্যায় তোমাকে কেউ অবহিত করতে পারবে না”। (সূরা ফাতির: ১৩-১৪)

ছহীহ মুসলিমে আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
شُجَّ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - يَوْمَ أُحُدٍ، وَكُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ، فَقَالَ: «كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ شَجُّوا نَبِيَّهُمْ؟ » فَنَزَلَتْ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} [آل عمران: ١٢٨]
উহুদ যুদ্ধে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আঘাত প্রাপ্ত হলেন এবং তার সামনের দাঁত ভেঙ্গে গেল। তখন নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুঃখ করে বললেন: সে জাতি কেমন করে সাফল্য লাভ করবে, যারা তাদের নাবীকেই আহত করে। তখন {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} এই আয়াত নাযিল হল। যার অর্থ হচ্ছে, আল্লাহর এ ফায়ছালার ব্যাপারে তোমার কোন হাত নেই”।
ছহীহ বুখারীতে আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাঃ) হতে আরো বর্ণিত হয়েছে,
أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ إِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ مِنَ الْفَجْرِ: «اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا، بَعْدَمَا يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ}، وَفِي رِوَايَةٍ: يَدْعُو عَلَى صَفْوَانَ بْنِ أُمَيَّةَ، وَسُهَيْلِ بْنِ عَمْرٍو، وَالْحَارِثِ بْنِ هِشَامٍ، فَنَزَلَتْ: {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ}
তিনি নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ফযরের ছালাতের শেষ রুকু হতে মাথা উঠিয়ে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ، رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলার পর এ কথা বলতে শুনেছেন «اللَّهُمَّ الْعَنْ فُلَانًا وَفُلَانًا» “হে আল্লাহ! তুমি অমুক, অমুক ব্যক্তির উপর তোমার লা’নত নাযিল কর”। তখন এ আয়াত নাযিল হয়, {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} “এ বিষয়ে তোমার কোন এখতিয়ার নেই।” আরেক বর্ণনায় আছে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন সাফওয়ান ইবনে উমাইয়্যা এবং সুহাইল বিন আমর এবং হারিছ বিন হিশামের উপর বদ দু‘আ করেন, তখন এ আয়াত {لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ} নাযিল হয়েছে।
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যখন وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ নাযিল হল, তখন তিনি বললেন,
«يَا مَعْشَرَ قُرَيْشٍ، أَوْ كَلِمَةً نَحْوَهَا، اشْتَرُوا أَنْفُسَكُمْ، لَا أُغْنِي عَنْكُمْ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، يَا عَبَّاسُ بْنَ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، يَا صَفِيَّةُ عَمَّةَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا، وَيَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ، سَلِينِي مِنْ مَالِي مَا شِئْتِ، لَا أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا»
“হে কুরাইশ বংশের লোকেরা! অথবা এরূপ অন্য কোনো কথা বলেন। তোমরা তোমাদের জীবনকে খরিদ করে নাও। আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করার ব্যাপারে আমি তোমাদের কোনো উপকার করতে পারবো না। হে আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব! আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করার ব্যাপারে আমি আপনার জন্য কোন উপকার করতে সক্ষম নই। হে আল্লাহর রাসূলের ফুফু সাফিয়্যাহ! আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করার ব্যাপারে আমি আপনার কোন উপকার করতে সক্ষম নই। হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা, আমার সম্পদ থেকে যা খুশী চাও। কিন্তু আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করার ব্যাপারে তোমার কোনো উপকার করার ক্ষমতা আমার নেই”।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) এ অধ্যায়ে উল্লেখিত দু’টি আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
২) উহুদ যুদ্ধের কাহিনী জানা গেল।
৩) ছালাতে সাইয়্যেদুল মুরসালীন এর “দু‘আয় কুনূত” পাঠ করা এবং ছাহাবায়ে কেরামের আমীন বলার কথা জানা গেল।
৪) যাদের উপর বদ দু‘আ করা হয়েছে তারা ছিল কাফির।
৫) মক্কার কাফিররা নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে এমন আচরণ করেছিল, যা অতীতের অধিকাংশ কাফিররাই তাদের নাবীদের সাথে করেনি। যেমন তারা তাদের নাবীকে আঘাত করেছিল, তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল এবং একই বংশের লোক হওয়া সত্ত্বেও তারা উহুদ যুদ্ধের শহীদদেরকে বিকলাঙ্গ করেছিল অর্থাৎ হাত-পা, নাক-কান ইত্যাদি কেটে ফেলেছিল।
৬) উপরোক্ত মুছীবত আপতিত হওয়ার পর নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর আল্লাহর বাণী: ﴾لَيْسَ لَكَ مِنَ الْأَمْرِ شَيْءٌ﴿ “এ বিষয়ে তোমার কিছুই করার নেই”, -এই আয়াতাংশটি নাযিল হয়।
৭) অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এই বাণী নাযিল করলেন: ﴾أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ﴿ অথবা ইচ্ছা করলে তিনি তাদেরকে তাওবা করার তাওফীক দিবেন, ফলে তারা তাওবা করবে অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন। এরপর আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর অনুগ্রহ করলেন। তারা তাওবা করল। আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করলেন, আর তারাও আল্লাহর উপর ঈমান আনল।
৮) বালা-মুছীবতের সময় দু‘আ-কুনূত পড়া।
৯) যাদের উপর বদ দু‘আ করা হয়, ছালাতে মধ্যে তাদের নাম এবং তাদের পিতার নাম উল্লেখ করে বদ দু‘আ করা বৈধ।
১০) “কুনূতে নাযেলায়” নির্দিষ্ট করে লা’নত করা।
১১) নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উপর যখন
﴾وَأَنذِرْ عَشِيرَتَكَ الْأَقْرَبِينَ﴿
অর্থাৎ তোমার নিকট আত্মীয়দেরকে সতর্ক করো- এ আয়াত নাযিল হল, তখন তিনি তার আত্মীয় স্বজনদের মধ্য হতে একজন একজন করে ডেকে সতর্ক করেছেন।
১২) তাওহীদের দাওয়াত প্রচারের ক্ষেত্রে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। এতে তাকে পাগল বলা হয়েছে। এমনি বর্তমানেও কেউ যদি তাওহীদের দাওয়াত দেয়, তার সাথেও একই আচরণ করা হবে।
১৩) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার দূরবর্তী এবং নিকটাত্মীয়-স্বজনদের ব্যাপারে বলেছেন,
لَا أُغْنِي عَنْكَ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا

টিকাঃ
৬২. যাদেরকে আহবান করা হচ্ছে, তারা নিজেরাই যেহেতু নিজেদের সাহায্য করতে পারে না, তাই অন্যদেরকে সাহায্য করার প্রশ্নই আসে না। সুতরাং প্রমাণিত হল যে, আল্লাহ ব্যতীত অন্যদের কাছে মুশরিকদের সাহায্য কামনা করা সম্পূর্ণ বাতিল। যাদেরকে মুশরিকরা সাহায্যের জন্য আহবান করছে, তারা তো আল্লাহর বান্দা ও অনুগত গোলাম, তিনি তাদেরকে তাঁর ইবাদাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। আর বান্দা কখনই মা‘বূদ হতে পারে না।
যাদেরকে আল্লাহর শরীক মনে করা হচ্ছে, তারা নিজেরাই নিজেদের কল্যাণ ও সাহায্য করতে সক্ষম নয়। সুতরাং অন্যদেরকে তারা সাহায্য করতে পারবে! কিভাবে এ আশা করা যেতে পারে?
৬৩. ছহীহ মুসলিম হা/১৭৯১।
৬৪. ছহীহ বুখারী হা/ ৪০৬৯, মুসলিম হা/১৭৯১।
৬৫. ছহীহ বুখারী হা/২৭৫৩, মুসলিম হা/২০৬।
৬৬. নির্দিষ্টভাবে কারো উপর লা’নত করতে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা করতে নিষেধ করেছেন। ক্বওলুল মুফীদ আলা কিতাবিত তাওহীদ, শাইখ ছালিহ আল উছাইমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00