📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ১০. যে স্থানে গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করা হয়

📄 ১০. যে স্থানে গাইরুল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করা হয়


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا ۚ لَّمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَىٰ مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَن تَقُومَ فِيهِ ۚ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُوا ۚ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ
“তুমি কখনো সেখানে দাঁড়াবে না, তবে যে মাসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকেই, সেটিই তোমার দাঁড়াবার যোগ্য স্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতা অর্জন করাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন”। (সূরা আত তাওবা: ১০৮)

ছাবিত বিন যাহ্‌হাক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
نَذَرَ رَجُلٌ أَنْ يَنْحَرَ إِبِلًا بِبُوَانَةَ، فَسَأَلَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: «هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ؟ » قَالُوا: لَا، قَالَ: «فَهَلْ كَانَ فِيهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ؟ » قَالُوا: لَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ؟ : «أَوْفِ بِنَذْرِكَ، فَإِنَّهُ لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ، وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ»
এক ব্যক্তি নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানায় বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করার মানত করল। তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, সেই স্থানে এমন কোনো মূর্তি ছিল কি, জাহেলী যুগে যার পূজা করা হতো? ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘না’। তিনি বললেন, সেই স্থানে কি তাদের কোন উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হতো? তারা বললেন, ‘না’ অর্থাৎ এমন কিছু হতো না তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তাহলে তুমি তোমার মানত পূর্ণ করো। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর নাফরমানী মূলক কাজে মানত পূর্ণ করা যাবে না। আদম সন্তান যা করতে সক্ষম নয় তেমন মানতও পূরণ করা আবশ্যক নয়”। [ছহীহ: সুনানে আবু দাউদ হা/৩৩১৩|]

এ অধ্যায় থেকে যে সব বিষয় জানা যায় তা নিম্নরূপ:
শিরোণামের সাথে সূরা তাওবার ১০৭ নং আয়াতের সামঞ্জস্য এভাবে করা হয়েছে যে, যে সমস্ত স্থান আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশে পশু যবেহ করার জন্য এবং অন্যান্য শিরকী কাজ-কর্মের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, সে সমস্ত স্থানে আল্লাহর জন্য পশু যবেহ করা ‡থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। তেমনি মুনাফিকদের যিরার মাসজিদটি যেহেতু আল্লাহর নাফরমানী এবং কুফরীর আড্ডা হিসাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, তাই সেটি আল্লাহর গযবের স্থানে পরিণত হয়েছে। সুতরাং তাতে ছালাত পড়া বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে সেখানে ছালাত পড়তে নিষেধ করেছেন। যদিও আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে নির্দিষ্ট একটি স্থানে (যিরার মাসজিদে) প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার হুকুম আম তথা ব্যাপক। সে হিসাবে যে সমস্ত স্থান যেমন মাযার, দূর্গা ইত্যাদি যিরার মাসজিদের মত পাপ কাজের জন্য প্রস্তুত করা হবে, সেগুলোর হুকুম যিরার মাসজিদের অনুরূপ। কেননা পাপকাজ সেই স্থানকে অপবিত্র বানিয়ে ফেলেছে এবং তাতে আল্লাহর ইবাদত করা হতেও বারণ করা হয়েছে।
১) সূরা আত তাওবার ১০৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যা জানা গেল। যে সমস্ত স্থানে পাপ কাজ হয়, সেখানে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দাঁড়ানো যাবে না।
২) যে যমীনে শিরক এবং অন্যান্য পাপের কাজ করা হয় সে যমীনে পাপ কাজের প্রভাব পড়তে পারে। তেমনি যে যমীনে আল্লাহর আনুগত্যের কাজ করা হয় তাতেও ভাল কাজের প্রভাব পড়ে।
৩) দুর্বোধ্যতা দূর করার জন্য কঠিন বিষয়কে সুস্পষ্ট ও সহজ বিষয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত।
৪) প্রয়োজন বোধে মুফতী বিস্তারিত বিবরণ প্রশ্নকারীর কাছে চাইতে পারেন।
৫) মানতের মাধ্যমে কোনো স্থানকে খাস করা কোন দোষের বিষয় নয়, যদি তাতে শরী‘আতের কোনো বাধা না থাকে।
৬) জাহেলী যুগের মূর্তি থাকলে তা দূর করার পরও সেখানে মানত করতে নিষেধ করা হয়েছে।
৭) কোনো স্থানে জাহেলী যুগের কোনো উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলে, তা বন্ধ করার পরও সেখানে মুসলমানদের মানত করা নিষিদ্ধ।
৮) এসব স্থানের মানত পূরণ করা জায়েয নয়। কেননা এটা পাপ কাজের মানত।
৯) মুশরিকদের উৎসব বা মেলার সাদৃশ্য করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যদিও তাদের অনুসরণ করার উদ্দেশ্য না থাকে।
১০) পাপের কাজে কোনো মানত করা যাবে না।
১১) যে জিনিস আদম সন্তানের মালিকানাধীন নয়, তা মানত করা সঠিক নয়।

টিকাঃ
৫৫. বিপ্লবী সংস্কারক মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহঃ) এর তাওহীদী আন্দোলনের পূর্বে নজদ এবং অন্যান্য অঞ্চলের লোকেরা যে সমস্ত শিরকী কাজ-কর্মে লিপ্ত ছিল লেখক এখানে ঐ সমস্ত শিরকী কাজ-কর্মের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। নজদের লোকেরা তখন তাদের রোগীদের আরোগ্য লাভের জন্য জ্বিনের জন্য পশু যবেহ করত। জ্বিনদের জন্য পশু যবেহ করার জন্য তারা তাদের ঘরের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি স্থান নির্ধারণ করে রাখত। শাইখের দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা শিরকের মূলোৎপাটন করেছেন। দ্বীনের এই যুগশ্রেষ্ঠ দাঈ এককভাবে আল্লাহর ইবাদাতের প্রতি যেই দাওয়াত দিয়েছেন, সেই দাওয়াতের বরকতে আরব ভূখন্ড থেকে শিরক, বিদ‘আত ও আকীদার বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে। এ জন্য আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তার কাছেই কৃতজ্ঞতা পেশ করছি।
৫৬. যে মসজিদ প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল সেই মাসজিদটিতে ইবাদাতের জন্য দাঁড়ানোই তোমার পক্ষে অধিকতর সমীচীন। ‡সেখানে এমন ‡লোক আছে যারা পাক-পবিত্র থাকা পছন্দ করে এবং আল্লাহ তা‘আলা পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন। এটি হচ্ছে কুবা মাসজিদ। নাবী ﷺ মক্কা হতে হিজরত করে মদীনায় পদার্পণ করেই তাকওয়ার ভিত্তির উপর এই মাসজিদটি নির্মাণ করেছেন।
তাবূক যুদ্ধে ‡বর হওয়ার পূর্বে মুনাফেকরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য বাহ্যিকভাবে মাসজিদে যিরার নির্মাণ করল। নাবী ﷺ যখন তাবূক যুদ্ধে বের হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন, তখন মুনাফেকদের একটি দল তাঁর কাছে প্রস্তাব করল: হে আল্লাহর রাসূল! বৃষ্টি ও শীতের রাতে আমাদের দুর্বল ও বৃদ্ধদের পক্ষে আপনার মাসজিদে এসে ছালাত আদায় করা কষ্টকর। তাই আমরা তাদের জন্য আমাদের মহল্লায় একটি মাসজিদ নির্মাণ করেছি। আপনি গিয়ে সেখানে ছালাত পড়ে মাসজিদটি উদ্বোধন করে দিলেই সেটির বৈধতা প্রমাণিত হয়ে যাবে। নাবী ﷺ তখন বললেন: আমি এখন তাবূক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আছি। আল্লাহর ইচ্ছায় যখন ফেরত আসব, তখন যাবো। এভাবে মূলত তাদের সাথে একটা মৌখিক অঙ্গীকার হয়ে গেল।
তাবূকের পথে রওয়ানা হওয়ার পর এ মুনাফিকরা উক্ত মাসজিদে নিজেদের ‡জোট গড়ে তুলতে এবং ষড়যন্ত্র পাকাতে লাগলো।
এমনকি তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, ‡রোমানদের হাতে মুসলমানদের মূলোৎপাটনের সাথে সাথেই আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মাথায় রাজ মুকুট পরিয়ে ‡দবে। কিন্তু তাবূকে যা ঘটলো তাতে তাদের ‡স আশার গুড়ে বালি পড়লো। ‡ফরার পথে নাবী ﷺ যখন মদীনার নিকটবর্তী "যী আওয়ান" নামক স্থানে ‡পৌঁছলেন এবং মদীনায় প্রবেশ করতে মাত্র একদিনের রাস্তা কিংবা তার চেয়েও কম রাস্তা বাকী থাকল, তখন মাসজিদটির আসল খবরসহ ওহী আগমন করল। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নাবীকে মাসজিদটি নির্মাণের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন। তিনি তখনই কয়েকজন ‡লোককে মদীনায় পাঠিয়ে দিলেন। তাদেরকে দায়িত্ব দিলেন, তিনি মদীনায় ‡ফেরত আসার আগেই ‡যেন তারা যিরার মাসজিদটি ‡ভেঙ্গে ধুলিস্যাৎ করে ‡দেন।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 সে স্থানে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করা শরী‘আত সম্মত নয়

📄 সে স্থানে আল্লাহর উদ্দেশ্যে পশু যবেহ করা শরী‘আত সম্মত নয়


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
لَا تَقُمْ فِيهِ أَبَدًا ۚ لَّمَسْجِدٌ أُسِّسَ عَلَى التَّقْوَىٰ مِنْ أَوَّلِ يَوْمٍ أَحَقُّ أَن تَقُومَ فِيهِ ۚ فِيهِ رِجَالٌ يُحِبُّونَ أَن يَتَطَهَّرُوا ۚ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُطَّهِّرِينَ
“তুমি কখনো সেখানে দাঁড়াবে না, তবে যে মাসজিদের ভিত্তি স্থাপন করা হয়েছে তাকওয়ার উপর প্রথম দিন থেকেই, সেটিই তোমার দাঁড়াবার যোগ্য স্থান। সেখানে রয়েছে এমন লোক, যারা পবিত্রতা অর্জন করাকে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্র লোকদের ভালবাসেন”।

ছাবিত বিন যাহ্‌হাক (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
نَذَرَ رَجُلٌ أَنْ يَنْحَرَ إِبِلًا بِبُوَانَةَ، فَسَأَلَهُ النَّبِيُّ - صلى الله عليه وسلم - فَقَالَ: «هَلْ كَانَ فِيهَا وَثَنٌ مِنْ أَوْثَانِ الْجَاهِلِيَّةِ يُعْبَدُ؟ » قَالُوا: لَا، قَالَ: «فَهَلْ كَانَ فِيهَا عِيدٌ مِنْ أَعْيَادِهِمْ؟ » قَالُوا: لَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ؟ : «أَوْفِ بِنَذْرِكَ، فَإِنَّهُ لَا وَفَاءَ لِنَذْرٍ فِي مَعْصِيَةِ اللَّهِ، وَلَا فِيمَا لَا يَمْلِكُ ابْنُ آدَمَ»
এক ব্যক্তি নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যামানায় বুওয়ানা নামক স্থানে একটি উট কুরবানী করার মানত করল। তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, সেই স্থানে এমন কোনো মূর্তি ছিল কি, জাহেলী যুগে যার পূজা করা হতো? ছাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘না’। তিনি বললেন, সেই স্থানে কি তাদের কোন উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হতো? তারা বললেন, ‘না’ অর্থাৎ এমন কিছু হতো না তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তাহলে তুমি তোমার মানত পূর্ণ করো। তিনি আরো বলেন, আল্লাহর নাফরমানী মূলক কাজে মানত পূর্ণ করা যাবে না। আদম সন্তান যা করতে সক্ষম নয় তেমন মানতও পূরণ করা আবশ্যক নয়”।

এ অধ্যায় থেকে যে সব বিষয় জানা যায় তা নিম্নরূপ:
শিরোণামের সাথে সূরা তাওবার ১০৭ নং আয়াতের সামঞ্জস্য এভাবে করা হয়েছে যে, যে সমস্ত স্থান আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশে পশু যবেহ করার জন্য এবং অন্যান্য শিরকী কাজ-কর্মের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে, সে সমস্ত স্থানে আল্লাহর জন্য পশু যবেহ করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। তেমনি মুনাফিকদের যিরার মাসজিদটি যেহেতু আল্লাহর নাফরমানী এবং কুফরীর আড্ডা হিসাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, তাই সেটি আল্লাহর গযবের স্থানে পরিণত হয়েছে। সুতরাং তাতে ছালাত পড়া বৈধ নয়। আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে সেখানে ছালাত পড়তে নিষেধ করেছেন। যদিও আল্লাহ তা‘আলা তাঁর নাবীকে নির্দিষ্ট একটি স্থানে (যিরার মাসজিদে) প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন, কিন্তু নিষেধাজ্ঞার হুকুম আম তথা ব্যাপক। সে হিসাবে যে সমস্ত স্থান যেমন মাযার, দূর্গা ইত্যাদি যিরার মাসজিদের মত পাপ কাজের জন্য প্রস্তুত করা হবে, সেগুলোর হুকুম যিরার মাসজিদের অনুরূপ। কেননা পাপকাজ সেই স্থানকে অপবিত্র বানিয়ে ফেলেছে এবং তাতে আল্লাহর ইবাদত করা হতেও বারণ করা হয়েছে।
১) সূরা আত তাওবার ১০৭ নং আয়াতের ব্যাখ্যা জানা গেল। যে সমস্ত স্থানে পাপ কাজ হয়, সেখানে আল্লাহর ইবাদতের জন্য দাঁড়ানো যাবে না।
২) যে যমীনে শিরক এবং অন্যান্য পাপের কাজ করা হয় সে যমীনে পাপ কাজের প্রভাব পড়তে পারে। তেমনি যে যমীনে আল্লাহর আনুগত্যের কাজ করা হয় তাতেও ভাল কাজের প্রভাব পড়ে।
৩) দুর্বোধ্যতা দূর করার জন্য কঠিন বিষয়কে সুস্পষ্ট ও সহজ বিষয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া উচিত।
৪) প্রয়োজন বোধে মুফতী বিস্তারিত বিবরণ প্রশ্নকারীর কাছে চাইতে পারেন।
৫) মানতের মাধ্যমে কোনো স্থানকে খাস করা কোন দোষের বিষয় নয়, যদি তাতে শরী‘আতের কোনো বাধা না থাকে।
৬) জাহেলী যুগের মূর্তি থাকলে তা দূর করার পরও সেখানে মানত করতে নিষেধ করা হয়েছে।
৭) কোনো স্থানে জাহেলী যুগের কোনো উৎসব বা মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকলে, তা বন্ধ করার পরও সেখানে মুসলমানদের মানত করা নিষিদ্ধ।
৮) এসব স্থানের মানত পূরণ করা জায়েয নয়। কেননা এটা পাপ কাজের মানত।
৯) মুশরিকদের উৎসব বা মেলার সাদৃশ্য করা থেকে সতর্ক থাকতে হবে। যদিও তাদের অনুসরণ করার উদ্দেশ্য না থাকে।
১০) পাপের কাজে কোনো মানত করা যাবে না।
১১) যে জিনিস আদম সন্তানের মালিকানাধীন নয়, তা মানত করা সঠিক নয়।

টিকাঃ
৫৫. বিপ্লবী সংস্কারক মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহাব (রহঃ) এর তাওহীদী আন্দোলনের পূর্বে নজদ এবং অন্যান্য অঞ্চলের লোকেরা যে সমস্ত শিরকী কাজ-কর্মে লিপ্ত ছিল লেখক এখানে ঐ সমস্ত শিরকী কাজ-কর্মের দিকে ইঙ্গিত করেছেন। নজদের লোকেরা তখন তাদের রোগীদের আরোগ্য লাভের জন্য জ্বিনের জন্য পশু যবেহ করত। জ্বিনদের জন্য পশু যবেহ করার জন্য তারা তাদের ঘরের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি স্থান নির্ধারণ করে রাখত। শাইখের দাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা শিরকের মূলোৎপাটন করেছেন। দ্বীনের এই যুগশ্রেষ্ঠ দাঈ এককভাবে আল্লাহর ইবাদাতের প্রতি যেই দাওয়াত দিয়েছেন, সেই দাওয়াতের বরকতে আরব ভূখন্ড থেকে শিরক, বিদ‘আত ও আকীদার বিভ্রান্তির অবসান ঘটেছে। এ জন্য আমরা আল্লাহর প্রশংসা করছি এবং তার কাছেই কৃতজ্ঞতা পেশ করছি।
৫৬. যে মাসজিদ প্রথম দিন থেকে তাকওয়ার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছিল সেই মাসজিদটিতে ইবাদাতের জন্য দাঁড়ানোই তোমার পক্ষে অধিকতর সমীচীন। সেখানে এমন লোক আছে যারা পাক-পবিত্র থাকা পছন্দ করে এবং আল্লাহ তা‘আলা পবিত্রতা অর্জনকারীদেরকে ভালবাসেন। এটি হচ্ছে কুবা মাসজিদ। নাবী ﷺ মক্কা হতে হিজরত করে মদীনায় পদার্পণ করেই তাকওয়ার ভিত্তির উপর এই মাসজিদটি নির্মাণ করেছেন।
তাবূক যুদ্ধে বের হওয়ার পূর্বে মুনাফেকরা ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য বাহ্যিকভাবে মাসজিদে যিরার নির্মাণ করল। নাবী ﷺ যখন তাবূক যুদ্ধে বের হওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন, তখন মুনাফেকদের একটি দল তাঁর কাছে প্রস্তাব করল: হে আল্লাহর রাসূল! বৃষ্টি ও শীতের রাতে আমাদের দুর্বল ও বৃদ্ধদের পক্ষে আপনার মাসজিদে এসে ছালাত আদায় করা কষ্টকর। তাই আমরা তাদের জন্য আমাদের মহল্লায় একটি মাসজিদ নির্মাণ করেছি। আপনি গিয়ে সেখানে ছালাত পড়ে মাসজিদটি উদ্বোধন করে দিলেই সেটির বৈধতা প্রমাণিত হয়ে যাবে। নাবী ﷺ তখন বললেন: আমি এখন তাবূক যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আছি। আল্লাহর ইচ্ছায় যখন ফেরত আসব, তখন যাবো। এভাবে মূলত তাদের সাথে একটা মৌখিক অঙ্গীকার হয়ে গেল।
তাবূকের পথে রওয়ানা হওয়ার পর এ মুনাফিকরা উক্ত মাসজিদে নিজেদের জোট গড়ে তুলতে এবং ষড়যন্ত্র পাকাতে লাগলো।
এমনকি তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিল, রোমানদের হাতে মুসলমানদের মূলোৎপাটনের সাথে সাথেই আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইয়ের মাথায় রাজ মুকুট পরিয়ে দেবে। কিন্তু তাবূকে যা ঘটলো তাতে তাদের সে আশার গুড়ে বালি পড়লো। ফেরার পথে নাবী ﷺ যখন মদীনার নিকটবর্তী "যী আওয়ান" নামক স্থানে পৌঁছলেন এবং মদীনায় প্রবেশ করতে মাত্র একদিনের রাস্তা কিংবা তার চেয়েও কম রাস্তা বাকী থাকল, তখন মাসজিদটির আসল খবরসহ ওহী আগমন করল। আল্লাহ্ তা‘আলা তাঁর নাবীকে মাসজিদটি নির্মাণের আসল উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানিয়ে দিলেন। তিনি তখনই কয়েকজন লোককে মদীনায় পাঠিয়ে দিলেন। তাদেরকে দায়িত্ব দিলেন, তিনি মদীনায় ফেরত আসার আগেই যেন তারা যিরার মাসজিদটি ভেঙ্গে ধুলিস্যাৎ করে দেন।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ১১. আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে মানত করা শিরক

📄 ১১. আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে মানত করা শিরক


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
يُوفُونَ بِالنَّذْرِ وَيَخَافُونَ يَوْمًا كَانَ شَرُّهُ مُسْتَطِيرًا
“তারা মানত পূর্ণ করে এবং সেদিনকে ভয় করে, যেদিনর অনিষ্ট হবে সুদূর প্রসারী”। (সূরা আদ দাহার: ৭)

আল্লাহ তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন:
وَمَا أَنفَقْتُم مِّن نَّفَقَةٍ أَوْ نَذَرْتُم مِّن نَّذْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُهُ
“ যা কিছু তোমরা খরচ কর আর যা কিছু মানত কর নিশ্চয়ই আল্লাহ তা জানেন” (সূরা আল বাকারা: ২৭০)

ছহীহ বুখারীতে আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
«مَنْ نَذَرَ أَنْ يُطِيعَ اللَّهَ فَلْيُطِعْهُ، وَمَنْ نَذَرَ أَنْ يَعْصِيَهُ فَلَا يَعْصِهِ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের কাজে মানত করে, সে যেন তা পূরণ করার মাধ্যমে তার আনুগত্য করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাফরমানিমূলক কাজে মানত করে সে যেন তার নাফরমানী না (মানত যেন পূরণ না করে) করে।”
ছহীহ বুখারী হা/৬৬৯৬।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) নেক কাজের মানত পূরণ করা ওয়াজিব।
২) মানত যেহেতু আল্লাহর ইবাদত হিসাবে প্রমাণিত, তাই আল্লাহ ছাড়া অন্যের উদ্দেশ্যে মানত করা শিরক।
৩) আল্লাহর নাফরমানিমূলক কাজে মানত পূরণ করা জায়েয নয়।

টিকাঃ
৫৭. শাইখুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন: মানত যেহেতু একটি ইবাদত; তাই মূর্তি, চন্দ্র, সূর্য, কবর-মাযার এবং অনুরূপ বস্তুর জন্য তা করা শিরক। তিনি আরো বলেন: যে ব্যক্তি কোনো কবর বা মাযারকে আলোকিত করার জন্য বাতি মানত করল এবং মুশরিকদের ন্যায় বলল যে অমুক কবর বা মাযার মানত কবুল করে, সকল উম্মাতের ঐক্যমতে তার এই মানত পাপ কাজের মানতের অন্তর্ভূক্ত। এই মানত পূর্ণ করা জায়েয নয়। এমনি যে ব্যক্তি কবর ও মাযারের খাদেমদের জন্য কিংবা তাতে অবস্থানকারীদের জন্য টাকা-পয়সা মানত করল, সেও অন্যায় ও পাপের কাজ করল। কেননা কবর ও মাযারের খাদেমদের মধ্যে এবং লাত, মানাত ও উয্যার খাদেমদের মধ্যে এক বিরাট সাদৃশ্য রয়েছে।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ১২. আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে আশ্রয় চাওয়া শিরক

📄 ১২. আল্লাহ ছাড়া অন্যের কাছে আশ্রয় চাওয়া শিরক


আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
وَأَنَّهُ كَانَ رِجَالٌ مِّنَ الْإِنسِ يَعُوذُونَ بِرِجَالٍ مِّنَ الْجِنِّ فَزَادُوهُمْ رَهَقًا
“মানুষের মধ্য থেকে কিছু লোক কতিপয় জ্বিনের কাছে আশ্রয় চাচ্ছিল। এর ফলে তারা জ্বিনদের অহমিকা আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।” (সূরা আল জ্বিন: ৬)

খাওলা বিনতে হাকীম (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «مَنْ نَزَلَ مَنْزِلًا فَقَالَ: أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ، لَمْ يَضُرَّهُ شَيْءٌ حَتَّى يَرْحَلَ مِنْ مَنْزِلِهِ ذَلِكَ» رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আমি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে এ কথা বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি কোনো মঞ্জিলে যাত্রা বিরতি করে এ দু‘আ পাঠ করবে:
«أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
“আমি আল্লাহ তা‘আলার পূর্ণাঙ্গ কালামের মাধ্যমে তার সৃষ্টির সকল অনিষ্টতা থেকে আশ্রয় চাই। তাহলে যতক্ষণ পর্যন্ত সে ঐ মঞ্জিল ত্যাগ না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোন কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা জ্বিনের ৬ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল।
২) আল্লাহ ব্যতীত অন্যের আশ্রয় চাওয়া শিরকের মধ্যে গণ্য।
৩) এ অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীছের মাধ্যমে আলিমগণ এ বিষয়ের উপর দলীল পেশ করেছেন যে, কালিমাতুল্লাহ (আল্লাহর কালাম) মাখলূকের তথা সৃষ্টির অন্তর্ভূক্ত নয়। বরং আল্লাহর কালাম আল্লাহর সিফাতের মধ্যে শামিল। তাই আলিমগণ বলেছেন: ‘মাখলূকের কাছে আশ্রয় চাওয়া শিরক।
৪) সংক্ষিপ্ত হলেও উক্ত দু‘আর ফযীলত অর্থাৎ
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
পাঠ করার আরো অনেক ফযীলত রয়েছে।
৫) কোন বস্তু দ্বারা পার্থিব উপকার হাসিল করা এবং কোন অনিষ্ট থেকে বেঁচে যাওয়া এ কথা প্রমাণ করে না যে, তা শিরকের অন্তর্ভূক্ত নয়।

টিকাঃ
৫৮. তবে সৃষ্টির নিকট ঐ সব বিপদে আশ্রয় কামনা করা জায়েয আছে, যে বিষয়ের উপর সে ক্ষমতাবান। এ ধরনের আশ্রয় গ্রহণ করা শিরক নয়। এ কথার দলীল হচ্ছে, নাবী করীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতনার কথা উল্লেখ পূর্বক বললেন: সুতরাং যে ব্যক্তি তা হতে আশ্রয় স্থল পাবে সে যেন তার আশ্রয় গ্রহণ করে। (বুখারী ও মুসলিম) যদি আমার নিকট কোন ডাকাত উপস্থিত হয় এবং আমি এমন কোন ব্যক্তির আশ্রয় গ্রহণ করি যে আমাকে তাদের হাত থেকে মুক্তি দিতে সক্ষম তবে এতে কোনই দোষ নেই।
৫৯. ছহীহ: মুসলিম হা/২৭০৮, ইবনে মাজাহ হা/৩৫৪৭, তিরমিযী হা/৩৪৩৭, আবু দাউদ হা/৩৮৯৮, অধ্যায়: কিভাবে ঝাড়-ফুঁক করতে হবে। ইমাম আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন। দেখুন: শাইখের তাহকীকসহ মিশকাতুল মাসাবীহ, হা/২৪২২।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00