📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৫. তাওহীদ এবং লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য দানের ব্যাখ্যা

📄 ৫. তাওহীদ এবং লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর সাক্ষ্য দানের ব্যাখ্যা


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
أُولَٰئِكَ الَّذِينَ يَدْعُونَ يَبْتَغُونَ إِلَىٰ رَبِّهِمُ الْوَسِيلَةَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ وَيَرْجُونَ رَحْمَتَهُ وَيَخَافُونَ عَذَابَهُ ۚ إِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُورًا
“এ সব লোকেরা যাদেরকে ডাকে তারা নিজেরাই তাদের রবের নৈকট্য লাভের আশায় উসীলা অনুসন্ধান করে, তাদের মধ্য হতে কে সবচেয়ে বেশী নিকটবর্তী? তারা তার রহমতের আশা করে এবং তার শাস্তিকে ভয় করে। নিশ্চয়ই তোমার পালনকর্তার শাস্তি ভয়াবহ”। (সূরা আল ইসরা: ৫৭)

আল্লাহ তা‘আলার বাণী,
وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ وَقَوْمِهِ إِنَّنِي بَرَاءٌ مِّمَّا تَعْبُدُونَ إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
“সে সময়ের কথা স্মরণ কর, যখন ইবরাহীম তার পিতা ও গোত্রের লোকদেরকে বলেছিলেন, তোমরা যার ইবাদত কর তার সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই। আমার সম্পর্ক কেবল তারই সাথেই, যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। এ কালিমাটিকে তিনি অক্ষয় বাণীরূপে তার সন্তানদের মধ্যে রেখে গেছেন, যাতে তারা এর দিকেই ফিরে আসে”। (সূরা যুখরুফ: ২৬-২৮)

আল্লাহ তা‘আলা অন্য আয়াতে বলেন,
اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ
“তারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিজেদের পন্ডিত ও সংসার-বিরাগিগণকে নিজেদের রব বানিয়ে নিয়েছে” (সূরা আত তাওবা: ৩১)

ছহীহ মুসলিমে বর্ণিত রয়েছে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ، حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ»
“যে ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে, আর আল্লাহ ব্যতীত অন্যান্য যেসব বস্তুর ইবাদত করা হয় তাকে অস্বীকার করবে, তার জান-মাল মুসলিমদের নিকট সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকবে এবং তার অন্তরে লুকায়িত বিষয়ের হিসাব আল্লাহর উপরই ন্যস্ত হবে”। [ছহীহ মুসলিম, হা/২৩, অধ্যায়: লা-ইলাহা পাঠ না করা পর্যন্ত লোকদের সাথে জিহাদ করার আদেশ।]
পরবর্তী অধ্যায়গুলোতে এ অধ্যায়ের শিরোনামের ব্যাখ্যা রয়েছে।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
এ অধ্যায়ে সর্বাধিক বড় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। আর তা হচ্ছে তাওহীদ এবং শাহাদাতের ব্যাখ্যা। কয়েকটি সুস্পষ্ট বিষয়ের মাধ্যমে এর বর্ণনা দেয়া হয়েছে।
(ক) তাতে রয়েছে সূরা বানী ইসরাঈলের আয়াত। এতে সেসব মুশরিকদের সমুচিত জওয়াব দেয়া হয়েছে যারা নেক বান্দাদেরকে ডাকে। আর এটা যে ‘শিরকে আকবার’ -বড় শিরক এ কথার বর্ণনাও এখানে রয়েছে।
(খ) তাতে রয়েছে সূরা আত তাওবার ঐ আয়াত যাতে বলা হয়েছে যে, ইয়াহূদী-খ্রীস্টানরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে তাদের আলেম ও দরবেশ ব্যক্তিদেরকে রব হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছে। আরো বর্ণনা করা হয়েছে যে, এক আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়নি। এর সুস্পষ্ট ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অন্যায় কাজে আলেম ও দরবেশদের আনুগত্য করা যাবে না এবং বিপদে পড়ে তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া যাবে না।
(গ) কাফেরদেরকে লক্ষ্য করে ইবরাহীম খলীল (আঃ) বলেছেন,
إِنَّنِي بَرَاءٌ مِّمَّا تَعْبُدُونَ (٢٦) إِلَّا الَّذِي فَطَرَنِي فَإِنَّهُ سَيَهْدِينِ
“তোমরা যার ইবাদত কর তার সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আর আমার সম্পর্ক হচ্ছে কেবল তারই সাথে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন। তিনি আমাকে অচিরেই সৎপথ দেখাবেন। এর দ্বারা তিনি তার রবকে যাবতীয় বাতিল মা‘বূদ থেকে আলাদা করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা ইবরাহীম আ. এর জবানীতে বর্ণনা করেছেন যে বাতিল মা‘বূদ থেকে পবিত্র থাকা আর প্রকৃত মা‘বূদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করাই হচ্ছে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র ব্যাখ্যা। তাই আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
وَجَعَلَهَا كَلِمَةً بَاقِيَةً فِي عَقِبِهِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
“আর ইবরাহীম এ কথাটি পরবর্তীতে তার সন্তানের মধ্যে অমর বাণী হিসাবে রেখে গেছেন, যেন তারা এদিকেই ফিরে আসে”।
(ঘ) সূরা আল বাকারায় আল্লাহ তা‘আলা কাফেরদের সম্পর্কে বলেছেন:
وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ
তারা কখনো জাহান্নাম থেকে বের হতে পারবে না।” আল্লাহ তা‘আলা উল্লেখ করেছেন যে, মুশরিকরা তাদের শরীকদেরকে আল্লাহকে ভালবাসার মতই ভালবাসে। এর দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, তারা আল্লাহকে ভালবাসে, কিন্তু এ ভালবাসা তাদেরকে ইসলামে দাখিল করেনি। তাহলে আল্লাহর শরীককে যে ব্যক্তি আল্লাহর চেয়েও বেশী ভালবাসে সে কিভাবে মুসলিম হতে পারে? আর যে ব্যক্তি শুধুমাত্র শরীককেই ভালবাসে এবং আল্লাহর প্রতি যার কোন ভালবাসা নেই, তার অবস্থা কেমন হবে?
(ঙ) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী:
«مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مِنْ دُونِ اللَّهِ، حَرُمَ مَالُهُ وَدَمُهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ»
“যে ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলবে আর আল্লাহ ব্যতীত যার ইবাদত করা হয়, তাকে অস্বীকার করবে, তার জান-মাল হারাম।”
অর্থাৎ তার জান ও মাল মুসলমানের কাছে নিরাপদ। এ বাণী হচ্ছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর সর্বশ্রেষ্ঠ ব্যাখ্যা। কারণ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহর মৌখিক উচ্চারণ, এর অর্থ জানা এবং এর স্বীকৃতি প্রদান করাই যথেষ্ট নয়। এমনকি আল্লাহকে ডাকলেও জান-মালের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া যাবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত উক্ত কালেমা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র সাথে গাইরুল্লাহর ইবাদতকে অস্বীকার করার বিষয়টি যুক্ত না করবে। এতে যদি কোনো প্রকার সন্দেহ, সংশয় কিংবা দ্বিধা-সংকোচ পরিলক্ষিত হয়, তাহলে জান-মালের নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
কতইনা বিরাট এ মাসআলাটি! কতইনা সুস্পষ্ট বর্ণনা এটি! এটা প্রতিপক্ষের দলীলকে সম্পূর্ণরূপে রদ করে দিয়েছে।

টিকাঃ
২৯. এখানে আহবার দ্বারা আলেম উদ্দেশ্য এবং ‘রুহবান’ দ্বারা আবেদ তথা ইবাদতকারী উদ্দেশ্য। রাসূল ﷺ আ’দী বিন হাতিমের জন্য এই আয়াতের ব্যাখ্যা করেছেন। আ’দী বিন হাতিম যখন মুসলিম হয়ে রাসূল ﷺ এর কাছে আগমন করলেন, তখন তিনি আ’দীকে কুরআনের এই আয়াতটি পাঠ করে শুনালেন। আ’দী বিন হাতিম বলেন: আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! তারা তো তাদের ইবাদত করেনা। রাসূল ﷺ বললেন: হ্যাঁ, তারা তাদের ইবাদতই করে। কেননা আহলে কিতাবদের আলেমেরা যখন তাদের জন্য কোনো হালাল বস্তুকে হারাম করে এবং হারামকে হালাল করে, তখন তারা তাতে আলেমদের অনুসরণ করে। আর এটিই হচ্ছে তাদের ইবাদাতের নামান্তর। তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ।
৩০. যে ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ পাঠ করবে এবং সেই সাথে আল্লাহ্ ছাড়া অন্যান্য যে সমস্ত বস্তুর ইবাদত করা হয়, সেগুলোর ইবাদতকে অস্বীকার করবে, তার জান ও মাল মুসলিমদের নিকট নিরাপদ হবে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি ইহা পাঠ করবে, কিন্তু আল্লাহ্ ছাড়া অন্যান্য মা‘বুদের ইবাদত অস্বীকার করবেনা, তার জান ও মাল নিরাপদ হবে না। কেননা সে শিরককে প্রত্যাখ্যান করেনি এবং ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ যা অস্বীকার করেছে, তাকে সে অস্বীকার করেনি।
অন্তরের হিসাব আল্লাহ্ তা‘আলাই নিবেন। সে যদি সত্যবাদী হয়ে থাকে, তাহলে বদলা স্বরূপ আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে জান্নাতুন নাঈম প্রদান করবেন। আর যদি মুনাফেক হয়ে থাকে, তাহলে আল্লাহ্ তা‘আলা তাকে কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন। তবে দুনিয়াতে তার প্রকাশ্য অবস্থার উপর ভিত্তি করেই বিধান প্রয়োগ হবে।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৬. রোগ-ব্যাধি ও বিপদাপদ দূর করা অথবা প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে আংটি তাগা সুতা ইত্যাদি ব্যবহার করা শিরক

📄 ৬. রোগ-ব্যাধি ও বিপদাপদ দূর করা অথবা প্রতিরোধ করার উদ্দেশ্যে আংটি তাগা সুতা ইত্যাদি ব্যবহার করা শিরক


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
قُلْ أَفَرَأَيْتُم مَّا تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ إِنْ أَرَادَنِيَ اللَّهُ بِضُرٍّ هَلْ هُنَّ كَاشِفَاتُ ضُرِّهِ أَوْ أَرَادَنِي بِرَحْمَةٍ هَلْ هُنَّ مُمْسِكَاتُ رَحْمَتِهِ ۚ قُلْ حَسْبِيَ اللَّهُ ۖ عَلَيْهِ يَتَوَكَّلُ الْمُتَوَكِّلُونَ
“বলো: তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আল্লাহ আমার অনিষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তবে তোমরা আল্লাহ ব্যতীত যাদেরকে ডাক, তারা কি সে অনিষ্ট দূর করতে পারবে? অথবা তিনি আমার প্রতি রহমত করার ইচ্ছা করলে তারা কি সে রহমত প্রতিরোধ করতে পারবে? বলো: আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। নির্ভরকারীরা তাঁরই উপর নির্ভর করে” (সূরা আয যুমার: ৩৮)

ইমরান ইবনে হুসাইন (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে
أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - رَأَى رَجُلًا فِي يَدِهِ حَلْقَةً مِنْ صُفْرٍ، فَقَالَ: «مَا هَذِهِ؟ » قَالَ: مِنَ الْوَاهِنَةِ، فَقَالَ: «انْزِعْهَا فَإِنَّهَا لَا تَزِيدُكَ إِلَّا وَهْنًا، فَإِنَّكَ لَوْ مُتَّ وَهِيَ عَلَيْكَ مَا أَفْلَحْتَ أَبَدًا»
“নাবী কারীম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে পিতলের একটি বালা দেখলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেন, এটা কি?” লোকটি বলল, এটা দুর্বলতা দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বললেন: এটা খুলে ফেল। কারণ এটা তোমার দুর্বলতাকেই শুধু বৃদ্ধি করবে। আর এটা তোমার সাথে থাকা অবস্থায় যদি তোমার মৃত্যু হয়, তাহলে তুমি কখনো সফলকাম হতে পারবে না”।

উকবা বিন আমের (রাঃ) থেকে একটি “মারফূ” হাদীছে বর্ণিত হয়েছে,
«مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَلَا أَتَمَّ اللَّهُ لَهُ، وَمَنْ تَعَلَّقَ وَدَعَةً فَلَا وَدَعَ اللَّهُ لَهُ»
“যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলায় আল্লাহ যেন তার আশা পূরণ না করেন। যে ব্যক্তি কড়ি, শঙ্খ বা শামুক পরিধান করে, আল্লাহ যেন তার রোগ ভাল না করেন (উদ্দেশ্য পূর্ণ না করেন)”
অন্য একটি বর্ণনায় আছে, «مَنْ تَعَلَّقَ تَمِيمَةً فَقَدْ أَشْرَكَ» “যে ব্যক্তি তাবিজ ঝুলাল সে শিরক করল”।
ইবনে আবি হাতেম হুযাইফা থেকে বর্ণনা করেছেন, “জ্বর নিরাময়ের জন্য হাতে সুতা বা তাগা পরিহিত অবস্থায় একজন লোককে দেখতে পেয়ে তিনি সেটি কেটে ফেললেন এবং কুরআনের এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন,
وَمَا يُؤْمِنُ أَكْثَرُهُم بِاللَّهِ إِلَّا وَهُم مُّشْرِكُونَ
“আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী অধিকাংশ মানুষ শিরককারী”। (সূরা ইউসূফ: ১০৬)

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে আংটি, বালা ও সুতা ইত্যাদি পরিধান করার ব্যাপারে অত্যাধিক কঠোরতা।
২) ছাহাবীও যদি এ সব জিনিস পরিহিত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন, তাহলে তিনিও সফলকাম হতে পারবেন না। এতে এ কথারই প্রমাণ পাওয়া যায় যে, ছোট শিরক কবীরা গুনাহর চেয়েও অধিক মারাত্মক।
৩) শিরকে লিপ্ত ব্যক্তির অজ্ঞতার অযুহাত গ্রহণযোগ্য নয়।
৪) রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে রিং বা সুতা ব্যবহার করার মধ্যে কোন কল্যাণ নেই, বরং তাতে অকল্যাণ আছে। কেননা নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী: لا تزيدك إلا وهناً ইহা তোমার দুর্বলতা ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করবে না।
৫) যে ব্যক্তি উপরোক্ত কাজ করে তার কাজকে কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।
৬) এ কথা সুস্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি রোগ নিরাময়ের জন্য রিং বা সুতা শরীরে লটকাবে তাকে সেই বস্তুর দিকেই সোপর্দ করা হবে। অর্থাৎ আল্লাহ তার দায়িত্ব নিবেন না। কেননা সে আল্লাহর রহমত ও করুণা হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সর্বাধিক দুর্বল তথা একেবারেই শক্তিহীন উপকরণের উপর ভরসা করেছে। এর মাধ্যমে সে আল্লাহর সাহায্য, দেখাশুনা ও পরিচর্যা লাভের অযোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছে।
৭) এ কথাও সুস্পষ্ট যে, যে ব্যক্তি রোগ নিরাময়ের উদ্দেশ্যে তাবিজ ব্যবহার করলো সে মূলত শিরক করল।
৮) জ্বর নিরাময়ের জন্য সুতা পরিধান করাও শিরকের অন্তর্ভূক্ত।
৯) ছাহাবী হুযাইফা (রাঃ) কর্তৃক কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করা দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয় যে, সাহাবায়ে কেরাম শিরকে আসগরের দলীল হিসাবে ঐ আয়াতকেই পেশ করেছেন যে আয়াতে শিরকে আকবার বা বড় শিরকের কথা রয়েছে। যেমনটি ইবনে আব্বাস (রাঃ) সূরা আল বাকারার আয়াতের ব্যাখ্যায় উল্লেখ করেছেন।
১০) বদ নযর বা চোখ লাগা থেকে আরোগ্য লাভ করার জন্য শামুক, কড়ি, শঙ্খ ইত্যাদি লটকানো বা পরিধান করাও শিরকের অন্তর্ভূক্ত।
১১) যে ব্যক্তি তাবিজ ব্যবহার করে, তার উপর বদ দোয়া করা হয়েছে, ‘আল্লাহ যেন তার আশা পূরণ না করেন’ আর যে ব্যক্তি শামুক, কড়ি বা শঙ্খ লটকায় তাকে যেন আল্লাহ রক্ষা না করেন।

টিকাঃ
৩১. যঈফ: ইবনে মাজাহ হা/৩৫৩১। ইমাম আলবানী (রহঃ) এ হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুন: সিলসিলায়ে যঈফা, হা/১০২৯।
৩২. যঈফ: আয-যঈফাহ হা/১২৬৬।
৩৩. হাসান: ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল (রহঃ) হাদীছটি বর্ণনা করেছেন। দ্বিতীয় বর্ণনার সনদ ছহীহ। কিন্তু প্রথম বর্ণনাটিতে দুর্বলতা রয়েছে। দেখুন: সিলসিলায়ে ছহীহা, হা/৪৯২।
৩৪. অজ্ঞতার ওযুহাত গ্রহণযোগ্য হবে কি না- এ ব্যাপারে আলিমদের মতভেদ রয়েছে। আমাদের সম্মানিত শাইখ আল্লামা মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওয়াহহাব এবং অন্যান্য কতিপয় আলেমের মতে অজ্ঞতা বশত শিরক করলে শাস্তি হবে। অন্যান্যদের কথা হচ্ছে অন্যান্য পাপ কাজের ন্যায় অজ্ঞতা বশত: শিরকে লিপ্ত হলেও অজ্ঞতার ওযুহাত গ্রহণযোগ্য হবে এবং আল্লাহর শাস্তি থেকে রেহাই পাবে। (আল্লাহই অধিক জানেন)

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৭. ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ-কবচ

📄 ৭. ঝাড়-ফুঁক ও তাবিজ-কবচ


ছহীহ বুখারী ও মুসলিমে আবু বশীর আল-আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন,
«أَنَّهُ كَانَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فِي بَعْضِ أَسْفَارِهِ، فَأَرْسَلَ رَسُولًا أَنْ لَا يَبْقَيَنَّ فِي رَقَبَةِ بَعِيرٍ قِلَادَةٌ مِنْ وَتَرٍ، أَوْ قِلَادَةٌ إِلَّا قُطِعَتْ»
“কোন এক সফরে তিনি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে ছিলেন। তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন সংবাদ বাহক পাঠিয়ে তাদেরকে নির্দেশ দিলেন যে, কোন উটের গলায় যেন কোন ধনুকের রশির মালা বা হাড় বাঁধা না থাকে, আর থাকলে যেন কেটে ফেলা হয়”।

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, “আমি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি,
«إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ»
“ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবচ ও যাদু-টোনা করা শিরক”।

আব্দুল্লাহ ইবনে উকাইম থেকে মারফূ‘ হাদীছে বর্ণিত আছে,
«مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِلَ إِلَيْهِ»
“যে ব্যক্তি কোন জিনিস লটকায়, সে উক্ত জিনিসের দিকেই সমর্পিত হয়”। অর্থাৎ এর কুফল তার উপরই বর্তায়।
التمائم) তাবিজ-কবচ) হচ্ছে এমন জিনিস, যা চোখ লাগা বা কু-দৃষ্টি লাগা থেকে বাঁচার জন্য সন্তানদের গায়ে ঝুলানো হয়। ঝুলন্ত জিনিসটি যদি কুরআনের অংশ হয়, তাহলে সালফে ছলেহীনের কেউ কেউ এর অনুমতি দিয়েছেন। আবার কেউ কেউ অনুমতি দেননি বরং এটাকে শরী‘আত কর্তৃক নিষিদ্ধ বিষয় বলে গণ্য করেছেন। ইবনে মাসউদ (রাঃ) এ অভিমতের পক্ষে রয়েছেন।
التولة) যাদু-টোনা) বা ঝাড়-ফুঁক কে عزائم) আযায়েগ) নামেও অভিহিত করা হয়। যে সব ঝাড়-ফুঁক শিরকমুক্ত, তা দলীলের মাধ্যমে খাস করা হয়েছে। তাই রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোখের কু-দৃষ্টি লাগা এবং সাপ বিচ্ছুর বিষ দূর করার জন্য ঝাড়-ফুঁক করার অনুমতি দিয়েছেন।
ঈমান-আক্বীদাহ্ নষ্টকারী ও তাতে ত্রুটি নিয়ে আসে এমন বিষয়াবলী থেকে স্বীয় আক্বীদাহ্ ও বিশ্বাসকে হিফাযত করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয। তাই মুসলিম ব্যক্তি নাজায়েজ কোন ঔষধ গ্রহণ করবে না। অপসংস্কৃতিতে বিশ্বাসী, ভেল্কিবাজ গণকদের নিকট রোগ ব্যাধির চিকিৎসার জন্য যাবে না। কারণ, তারা তার হৃদয় ও আক্বীদাহকে রোগাগ্রস্ত করে দিবে। যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহ্ তার জন্য যথেষ্ট হবেন।
কোন প্রকার শারীরিক ব্যাধি ছাড়াই অনেকে নিজের গায়ে এ সকল জিনিস ঝুলিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে বদ নযর ও হিংসার ক্ষতির ভয় তাদের অন্তরে কাজ করে। অনেকে আবার এগুলো নিজের গাড়ী, বাহন, বাড়ীর দরজা অথবা দোকানে ঝুলিয়ে রাখে। এ সবই দুর্বল আক্বীদা (বিশ্বাস) ও আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা না করার পরিণাম। নিশ্চয় দুর্বল আক্বীদাহ্ বা বিশ্বাসই প্রকৃত রোগ বা ব্যাধি। তাওহীদ (আল্লাহর একত্ব) ও সঠিক আক্বীদা জানার মাধ্যমে এব্যাধির চিকিৎসা করা ফরয।

টিকাঃ
৩৫. ছহীহ বুখারী হা/৩০০৫, মুসলিম হা/২১১৫। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেছেন: বদ নযর ও তার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য মালা বা পশুর গলায় ঘন্টা লাগানো নিষেধ। কিন্তু শুধু সৌন্দর্যের জন্য হলে কোন অসুবিধা নেই।
৩৬. ছহীহ: আবু দাউদ হা/৩৮৮৩। ইমাম আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন, দেখুন: সিলসিলায়ে ছহীহা, হা/৩৩১।
৩৭. হাসান: তিরমিযী হা/২০৭২, অধ্যায়: কোন কিছু ঝুলানোর ব্যাপারে যা বর্ণিত হয়েছে।
৩৮. আক্বীদাতুত তাওহীদ। তাবিজ-কবচ দু’প্রকার:
প্রথম প্রকার তাবিজ-কবচ: যা কুরআন দ্বারা করা হয়। এর পদ্ধতি হলো: একটি কাগজে কুরআনের কোন আয়াত বা আল্লাহর নাম ও গুণাবলী লিখে রোগ মুক্তির আশায় গলায় ঝুলানো হয়। এ প্রকার তাবিজের ক্ষেত্রে আলিমগণ দু’টি মত পোষণ করেছেন।
প্রথম মত: এ প্রকার তাবিজ ঝুলানো জায়েয। আব্দুল্লাহ্ ইবনে আমর ইবনে আস্ (রাঃ) এ মত পোষণ করেছেন। আয়িশা (রাঃ) থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তার বাহ্যিকভাবও এ মতের পক্ষেই। আবু জাফর আল্ বাক্বির এবং ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রহঃ) তার এক বর্ণনায় এমনই মত দিয়েছেন। আর যে সকল হাদীছে তাবিজ কবচ ব্যবহারে নিষেধ করা হয়েছে তা শিরক সম্বলিত বলে তারা উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তাদের নিকটে শিরক সম্বলিত তাবিজ ব্যবহার করা জায়েয নয়। যে তাবিজে শিরক নেই তা ব্যবহারে কোন অসুবিধা নেই এই হলো তাদের সিদ্ধান্ত।
দ্বিতীয় মত: তাবিজ-কবচ ব্যবহার করা নাজায়েজ। এ সিদ্ধান্ত হলো: আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ ও ইবনে আব্বাস, হুযাইফাহ, উব্বাহ্ ইবনে আমির, ইবনে উব্বাইম (রাঃ), তাবেঈগণের একটি দল তাদের মধ্যে রয়েছেন: আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদের সহচরবৃন্দ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বাল (রহঃ) তার এক বর্ণনা মতে, (তার অনেক অনুসারী এ মতকে পছন্দ করেছেন) এবং পরবর্তী উলামাগণের। তারা আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছ দ্বারা প্রমাণ পেশ করেছেন।
রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
إِنَّ الرُّقَى وَالتَّمَائِمَ وَالتِّوَلَةَ شِرْكٌ (مسند أحمد٣٦١٥:)
ঝাড়-ফুঁক, তাবিজ-কবচ এবং যাদু-টোনা ব্যবহার করা নিঃসন্দেহে শিরক। ছহীহ: ইবনে মাজাহ হা/৩৫৩০, আবু দাউদ হা/৩৮৮৩, মুসনাদে আহমাদ হা/৩৬১৫।
তিনটি কারণে দ্বিতীয় মতটি সঠিক ও বিশুদ্ধ:
১| তাবিজ-কবচ নিষেধাজ্ঞা সম্বলিত হাদীছটি ব্যাপক। আর এ ব্যাপকতাকে খাস করে এর বিপরীতে কোন হাদীছ বর্ণিত হয়নি।
২| অবৈধ তাবিজ-কবচ চালু হওয়ার পথ বন্ধ করতে দ্বিতীয় মতটি বড় সহায়ক।
৩| কুরআন দ্বারা তাবিজ-কবচ করা হলে যে ব্যক্তি তা ঝুলায় সে পেশাব-পায়খানাসহ অন্যান্য নাপাক স্থানে তা বহন করার ফলে কুরআনের অবমাননা করে। অথচ কুরআনের অবমাননা করা হারাম।
দ্বিতীয় প্রকার তাবিজ-কবচ: কুরআন ছাড়া অন্য কিছু মানুষের কোন অঙ্গে ঝুলানো। যেমন: দানা জাতীয় পুঁতি বা তাবিজ, হাড়, কড়ি, সুতা, জুতা, লোহার কাঁটা, শয়তান-জ্বিনদের নামসমূহ এবং বিভিন্ন তন্ত্র-মন্ত্র। এরূপ তাবিজ-কবচ সম্পূর্ণ হারাম ও শিরক। কারণ, এ ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহ তা‘আলা তার নাম ও গুণাবলী এবং আয়াত ব্যতীত অন্যের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন। এ প্রসঙ্গে হাদীছে বর্ণিত হয়েছে:
قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ تَعَلَّقَ شَيْئًا وُكِلَ إِلَيْهِ (سنن الترمذى: ٢٠٧٢)
রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি কোন কিছু (তাবিজ-কবচ ইত্যাদি) লটকায় তাকে ঐ বস্তুর দিকে সোপর্দ করে দেয়া হয়। হাসান: সুনানে তিরমিযী ২০৭২।
অর্থাৎ সে যা লটকায় আল্লাহ্ তাকে সে বস্তুর নিকটে সোপর্দ করে দেন। যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে সম্পর্ক রক্ষা করত: তার নিকটে আশ্রয় নিয়ে নিজের সকল বিষয় তার দিকে সোপর্দ করে আল্লাহ্ তা‘আলাই তার জন্য যথেষ্ট হবেন। সকল দূরবর্তী বিষয়কে তার কাছে করে দিবেন এবং কঠিন কাজকে তার জন্য সহজ সাধ্য করে দিবেন।
অপর দিকে যে ব্যক্তি আল্লাহকে বাদ দিয়ে কোন মাখলূক্ব, তাবিজ-কবচ, ঔষধ ও কবরের সাথে সম্পর্ক রক্ষা করবে বা যোগাযোগ করবে আল্লাহ তা‘আলা তাকে ঐ বস্তুর দিকে সোপর্দ করে দিবেন যা তার থেকে কোন কিছুকে বাধা দিতে পারবে না। ওটা তার কোন অপকার বা উপকার করার ক্ষমতা রাখে না। ফলে এ ব্যক্তি তার আক্বীদাহ্ নষ্ট করত: স্বীয় রব্বের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করবে এবং আল্লাহ তা‘আলা তাকে লাঞ্ছিত করবেন।
৩৯. আক্বীদাতুত তাওহীদ। ঝাড়-ফুঁক দু’প্রকার:
প্রথম প্রকার: শিরকমুক্ত ঝাড়-ফুঁক।
যেমন: রোগীর উপর কুরআনের কিছু আয়াত পাঠ করা অথবা আল্লাহর নাম ও গুণাবলীর দ্বারা আল্লাহর নিকটে রোগ মুক্তি চাওয়া। এ প্রকার ঝাড়-ফুঁক জায়েয। কারণ রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজে ঝাড়-ফুঁক করেছেন, এর আদেশ দিয়েছেন এবং একে জায়েয বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আওফ ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন:
كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَىٰ فِي ذَٰلِكَ فَقَالَ: «اعْرِضُوا عَلَيَّ رُقَاكُمْ، لَا بَأْسَ بِالرُّقَىٰ مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ»
জাহিলিয়াত যুগে আমরা ঝাড়-ফুঁক করতাম। আমরা বললাম: হে আল্লাহর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি? রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: তোমাদের ঝাড়-ফুঁকগুলো আমার সামনে পেশ করো। যে ঝাড়-ফুঁকে শিরক নেই তা করতে কোন অসুবিধা নেই। ছহীহ মুসলিম হা/২২০০, ছহীহ: আবু দাউদ হা/৩৮৮৬।
ইমাম সুয়ূত্বী রহি বলেন: তিনটি শর্তের ভিত্তিতে ঝাড়-ফুঁক জায়েয বলে উলামাগণ (রহঃ) ঐক্যমত্য পোষণ করেছেন। শর্তগুলো হলো:
ক| ঝাড়-ফুঁক যেন আল্লাহর বাণী অথবা তার নাম ও গুণাবলী দ্বারা হয়।
খ| আরবী ভাষায় এবং এমন শব্দে হতে হবে যার অর্থ বুঝা যায় এবং
গ| এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে, ঝাড়-ফুঁকের নিজস্ব কোন প্রভাব নেই। বরং আরোগ্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। ফাতহুল মাযীদ ১৩৫ পৃষ্ঠা।
ঝাড়-ফুঁকের পদ্ধতি:
কুরআনের আয়াত অথবা দু‘আ পড়ে রোগীকে ফুঁক দিতে হবে। অথবা দু‘আ পড়ে পানিতে ফুঁক দিয়ে তা রোগীকে পান করানো। যেমন, ছাবিত ইবনে ক্বায়স এর হাদীছে এসেছে:
ثم أَخَذَ تُرَابًا مِنْ بَطْحَانَ فَجَعَلَهُ فِي قَدَحٍ ثُمَّ نَفَثَ عَلَيْهِ بِمَاءٍ وَصَبَّهُ عَلَيْهِ (سنن أبى داود٣٨٨٥:)
অতঃপর নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বুতহান নামক স্থানের কিছু মাটি নিয়ে একটা পাত্রে রেখে তাতে পানি মিশিয়ে ফুঁক দিলেন এবং তা ছাবিত এর শরীরের উপর ঢেলে দিলেন। যঈফ: আবু দাউদ হা/৩৮৮৫।
দ্বিতীয় প্রকার ঝাড়-ফুঁক: শিরকযুক্ত ঝাড়ফুঁক। এ প্রকার ঝাড়-ফুঁকে গাইরুল্লাহর (আল্লাহ্ ব্যতীত অন্যের) সহযোগিতা নেয়া হয়। গাইরুল্লাহর নিকটে প্রার্থনা, ফরিয়াদ ও আশ্রয় চাওয়া হয়। যেমন: জ্বিন, ফেরেশতা, নাবীগণ আলাইহিমুস ছালাতু अस्সালাম এবং সৎ ব্যক্তিগণের নাম দ্বারা ঝাড়-ফুঁক করা। উল্লিখিত বিষয়গুলোতে গাইরুল্লাহকে আহবান করা হয় বিধায় তা শিরকে আকবার বা বড় শিরক। দ্বিতীয় প্রকার ঝাড়-ফুঁক অনেক সময় অনারবী ভাষা অথবা এমন শব্দাবলী দ্বারা করা হয় যার অর্থ বুঝা যায় না। এ প্রকার ঝাড়-ফুঁকে অজান্তে শিরক বা কুফরী প্রবেশের ভয় রয়েছে বিধায় তা নিষিদ্ধ।
৪০. এটা এমন কিছু যাদু-মন্ত্র বা তাবিজ-কবচ যা স্বামীর হৃদয়ে স্ত্রীর এবং স্ত্রীর হৃদয়ে স্বামীর ভালবাসা সৃষ্টির উদ্দেশে তৈরী ও ব্যবহার করা হয়।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 যে ব্যক্তি গাছ পাথর ইত্যাদি দ্বারা বরকত হাসিল করতে চায়

📄 যে ব্যক্তি গাছ পাথর ইত্যাদি দ্বারা বরকত হাসিল করতে চায়


আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
أَفَرَأَيْتُمُ اللَّاتَ وَالْعُزَّىٰ وَمَنَاةَ الثَّالِثَةَ الْأُخْرَىٰ
“তোমরা কি ভেবে দেখেছ লাত ও উয্যা সম্পর্কে এবং তৃতীয় আরেকটি মানাত সম্পর্কে?” (সূরা আন নাজম: ১৯-২০)

আবু ওয়াকিদ আল-লাইছী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন:
خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - إِلَى حُنَيْنٍ وَنَحْنُ حُدَثَاءُ عَهْدٍ بِكُفْرٍ، وَلِلْمُشْرِكِينَ سِدْرَةٌ يَعْكُفُونَ عِنْدَهَا وَيَنُوطُونَ بِهَا أَسْلِحَتَهُمْ يُقَالُ لَهَا: ذَاتُ أَنْوَاطٍ، فَمَرَرْنَا بِسِدْرَةٍ، فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، اجْعَلْ لَنَا ذَاتَ أَنْوَاطٍ كَمَا لَهُمْ ذَاتُ أَنْوَاطٍ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ؟ : «اللَّهُ أَكْبَرُ، إِنَّهَا السُّنَنُ، قُلْتُمْ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ كَمَا قَالَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ لِمُوسَىٰ: {اجْعَل لَّنَا إِلَٰهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ ۚ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ} لَتَرْكَبُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ»
“আমরা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাথে হুনাইন যুদ্ধের উদ্দেশে বের হলাম, আমরা তখন সবেমাত্র ইসলাম গ্রহণ করেছি। এক স্থানে মুশরিকদের একটি কুলগাছ ছিল। যার চারিপাশে তারা বসতো এবং তাদের সমরাস্ত্র সে গাছে ঝুলিয়ে রাখত। গাছটিকে তারা ذَاتُ أَنْوَاطٍ ‘যাতু আনওয়াত’ বা বরকতময় গাছ বলত। আমরা একদিন একটি কুলগাছের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম। তখন আমরা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! মুশরিকদের যেমন “যাতু আনওয়াত” বা বরকত ওয়ালা গাছ আছে আমাদের জন্যও অনুরূপ “যাতু আনওয়াত” গাছ নির্ধারণ করে দিন। তখন রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, “আল্লাহু আকবার! এটি পূর্ববর্তী লোকদের রীতি-নীতি ছাড়া আর কিছুই নয়। যার হাতে আমার জীবন তার নামে শপথ! তোমরা এমন কথাই বলেছ, যা বনী ইসরাঈলের লোকেরা মূসা (আঃ) কে বলেছিল। তারা বলেছিল, “হে মূসা! মুশরিকদের যেমন মা‘বূদ আছে আমাদের জন্য তেমন মা‘বূদ বানিয়ে দাও। মূসা আ. তখন বললেন: তোমরা মূর্খ লোকদের মত কথা বলছ। ঐ সত্তার শপথ যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে, তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের রীতি নীতিই অবলম্বন করছো”।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) সূরা নাজমের আয়াত أفرايتم اللات والعزى -এর তাফসীর জানা গেল।
২) ছাহাবীগণ যে বিষয়টি প্রার্থনা করেছিলেন, তার প্রকৃত অবস্থা জানা গেল।
৩) আরো জানা গেল যে ছাহাবায়ে কেরামগণ শিরক করেননি।
৪) ছাহাবীগণ এই জন্য যাতু আনওয়াত বা বরকত ওয়ালা গাছ প্রার্থনা করেননি যে, তারা এর ইবাদত করবেন। বরং তারা এর মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে চেয়েছিলেন এ কথা ভেবে যে, আল্লাহ তা পছন্দ করেন।
৫) ছাহাবায়ে কেরামগণই যদি এ ব্যাপারে অজ্ঞ থাকেন, তাহলে অন্য লোকেরা তো এ ব্যাপারে আরো বেশী অজ্ঞ থাকবে।
৬) ছাহাবায়ে কেরামের জন্য যে অধিক ছাওয়াব দান ও গুনাহ মাফের ওয়াদা রয়েছে, অন্যদের ব্যাপারে তা নেই।
৭) শিরকের ব্যাপারে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাহাবায়ে কেরামের অজ্ঞতার ওযর গ্রহণ করেননি। বরং তাদের কথার শক্ত জবাব এ কথার মাধ্যমে দিয়েছেন:
اللَّهُ أَكْبَرُ، إِنَّهَا السُّنَنُ، لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ»
“আল্লাহু আকবার! নিশ্চয়ই এটা পূর্ববর্তী লোকদের নীতি। তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের নীতি অনুসরণ করছো।” উপরোক্ত তিনটি কথা দ্বারা বিষয়টি অধিক গুরুত্ব লাভ করেছে।
৮) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এখানে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছেন যে, ছাহাবায়ে কেরামের দাবি মূলত মূসা আলাইহিস সালামকে এর কাছে বনী ইসরাঈলের লোকদের দাবির মতই ছিল। বনী ইসরাঈলের লোকেরা মূসা (আঃ) কে বলেছিল: আমাদের জন্য একটি মা‘বূদ বানিয়ে দাও।
৯) তাদের দাবি মুতাবেক বরকত গ্রহণের জন্য মা‘বূদ নির্ধারণ না করে দেয়া “লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র মর্মার্থের অন্তর্ভূক্ত। এ বিষয়টি অতিসূক্ষ্ম হওয়ার কারণে কতক ছাহাবীর নিকট তা অস্পষ্ট ছিল।
১০) বিনা প্রয়োজনে শপথ করা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর পবিত্র অভ্যাসের অন্তর্ভূক্ত ছিল না। তিনি বিশেষ প্রয়োজনে শপথ করতেন। এখানে তিনি ছাহাবীদের একটি আবেদনের জবাব দিতে গিয়ে শপথ করেছেন।
১১) শিরকের মধ্যে ‘আকবার-বড়’ ও ‘আসগর-ছোট’ রয়েছে। হুনাইনের পথে ছাহাবীগণ যে দাবি করেছিলেন, তা ছিল শিরকে আসগরের পর্যায়ভুক্ত। এ জন্যই তারা তাদের সেই কথার কারণে মুরতাদ হয়ে যাননি।
১২) “আমরা কুফরী যমানার খুব কাছাকাছি ছিলাম” অর্থাৎ আমরা সবেমাত্র মুসলমান হয়েছিলাম, এ কথা দ্বারা বুঝা যায় যে অন্যান্য ছাহাবায়ে কেরাম এ ব্যাপারে অজ্ঞ ছিলেন না।
১৩) আশ্চর্যের ব্যাপার হলো যারা ‘আল্লাহু আকবার’ বলা পছন্দ করে না, এটা তাদের বিরুদ্ধে একটি দলীল।
১৪) শিরক ও পাপাচারের পথ বন্ধ করার গুরুত্ব জানা গেল।
১৫) জাহেলী যুগের লোকদের অনুসরণ ও সাদৃশ্য করা নিষেধ।
১৬) শিক্ষাদানের সময় প্রয়োজন বোধে রাগ করা জায়েয।
১৭) إِنَّهَا السـنن “এটা পূর্ববর্তী লোকদের নীতি” এ বাণী একটা সাধারণ নীতি।
১৮) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সংবাদ দিয়েছেন, বাস্তবে তাই ঘটেছে। এটা নবুওয়াতের অন্যতম নিদর্শন।
১৯) কুরআনে কারীমে আল্লাহ তা‘আলা ইয়াহূদী ও খ্রীস্টানদের চরিত্র সম্পর্কে যেসব দোষ-ত্রুটির কথা বলেছেন, তা থেকে আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করার জন্যই বলেছেন।
২০) ছাহাবীদের কাছে এই কথা সুসাব্যস্ত ছিল যে, আল্লাহ ও তার রাসূলের নির্দেশের উপর ভিত্তি করেই ইবাদত করতে হবে। এখানে ঐ সমস্ত প্রশ্নের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা কবরের মধ্যে করা হবে। কবরে জিজ্ঞেস করা হবে,
(ক) তোমার প্রভু কে? এটি একটি সুস্পষ্ট প্রশ্ন।
(খ) তোমার নাবী কে? এই প্রশ্নগুলো ঐসব গায়েবের অন্তর্ভূক্ত, যা আল্লাহ তা‘আলা তার নাবীকে জানিয়েছেন। কেননা কবরে কি প্রশ্ন করা হবে এ কথা নাবী ছাড়া কেউ বলতে পারে না।
(গ) তোমার দীন কি ছিল? এ কথা তাদের إجعـل لنـا آلهـة আমাদের জন্যও ইলাহ ঠিক করে দিন। এ কথার পরিপ্রেক্ষিতে প্রশ্ন করা হবে। অর্থাৎ তোমার দীন তো শিরক করার নির্দেশ দেয়নি তাহলে তোমাকে কোন দীন শিরকের নির্দেশ দিল?
২১) মুশরিকদের রীতি-নীতির মত আহলে কিতাবের অর্থাৎ আসমানী কিতাব প্রাপ্তদের রীতি-নীতিও দোষনীয়।
২২) বাতিল আক্বীদাহ্ ছেড়ে দেয়ার পরও পূর্বে বাতিল ‘আক্বীদাহ’র কিছু ছাপ (কিছু শিরক-বিদ‘আত) বাতিল পরিত্যাগকারীর অন্তরে থেকে যাওয়া অবাস্তব নয়। ونحـن حـداثء عهـد بكفـر আমরা কুফরী যুগের খুব নিকটবর্তী ছিলাম বা নতুন মুসলমান ছিলাম, ছাহাবীদের এ কথার দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়।

টিকাঃ
৪৪. التبرك অর্থ হলো বরকত অন্বেষণ করা, বরকত কামনা করা এবং উপরোক্ত জিনিসগুলোতে বরক আছে বলে বিশ্বাস করা। উপরোক্ত জিনিসগুলো থেকে বরকত অন্বেষণ করা বড় শিরক। কেননা এর মাধ্যমে বরকত হাসিলের জন্য আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত অন্য জিনিসের উপর ভরসা করা হয়ে থাকে। মূর্তিপূজকরা উপরোক্ত জিনিসগুলো থেকে বরকত অন্বেষণ করতো। সৎ লোকদের কবর থেকে বরকত হাসিল করাও বড় শিরক। যেমন লাত নামক মূর্তি থেকে বরকত লাভ করা, গাছ ও পাথর থেকে বরকত হাসিল করা এবং উয্যা ও মানাত নামক মূর্তি থেকে বরকত লাভ করা।
৪৫. লাত, মানাত এবং উয্যা এই তিনটি ছিল জাহেলী যুগের আরবদের সর্বাধিক বৃহৎ মূর্তি। লাত ছিল তায়েফের ছাকীফ এবং তার পার্শ্ববর্তী লোকদের মা‘বূদ, উয্যা ছিল কুরাইশ ও বনী কেননার লোকদের এবং মানাত ছিল বনী হেলালের লোকদের। ইবনে হিশাম বলেন: মানাত ছিল হুযাইল এবং খুযাআ গোত্রের।
৪৬. এখানে নাবী ﷺ ঐ সমস্ত পথ ও রীতিনীতির প্রতি ইঙ্গিত করেছেন, যা মানব জাতির জন্য আল্লাহর নির্ধারিত দীনের পরিপন্থী।
৪৭. অর্থাৎ তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রীস্টানদের অনুসরণ করবে। এ ব্যাপারে নাবী ﷺ যে সংবাদ দিয়েছেন, এই উম্মাতের মধ্যে বাস্তবেও তাই হয়েছে। এই উম্মাতের লোকেরা ইয়াহূদী ও খ্রীস্টানদের আচার-আচরণ ও সভ্যতাকে নিজেদের পথ বানিয়েছে।
আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত। নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
لَتَتَّبِعُنَّ سَنَنَ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ حَذْوَ الْقُذَّةِ بِالْقُذَّةِ، حَتَّىٰ لَوْ دَخَلُوا جُحْرَ ضَبٍّ لَدَخَلْتُمُوهُ. قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ؟ قَالَ: «فَمَنْ؟»
“তোমরা অবশ্যই তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের পদে পদে অনুসরণ করবে। এমনকি তারা যদি দব্ব (সান্ডা) এর গর্তে প্রবেশ করে থাকে, তোমরাও সেখানে প্রবেশ করবে। ছাহাবীগণ বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! পূর্ববর্তী উম্মাত দ্বারা আপনি কি ইয়াহূদ ও নাসারা বুঝাচ্ছেন? তিনি বললেন: তবে আর কারা? ছহীহ: বুখারী হা/৭৩২০, ৩৪৫৬, মুসলিম হা/২৬৬৯।
৪৮. শিরকের ব্যাপারে অজ্ঞতার ওযর তথা না জেনে না বুঝে কেউ শিরকে লিপ্ত হলে অজ্ঞতার ওযর গ্রহণ করা হবে কি না? এ ব্যাপারে আলেমদের মতভেদ রয়েছে। গ্রন্থকারের বিশ্লেষণ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, শিরকের ব্যাপারে অজ্ঞতার কোন ওযর গ্রহণযোগ্য হবে না। অপরপক্ষে সুবিখ্যাত আলেমে দীন মুহাম্মাদ ইবনে ছলেহ আল উছাইমীনসহ অন্যান্য আলিমের মতে অন্যান্য পাপ কাজের মতই শিরকের ব্যাপারে অজ্ঞতার ওযর গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ না জেনে না বুঝে কেউ শিরকে লিপ্ত হলে সে ক্ষমা পাওয়ার উপযুক্ত। তারা এই অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীছকেই দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। এখানে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের অজ্ঞতার ওযর গ্রহণ করেছেন এবং তাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি যদি তাদের ওযর গ্রহণ না করতেন, তাহলে তিনি তাদেরকে শাস্তি দিতেন এবং মুরতাদ হিসাবে সাব্যস্ত করে তাওবা করার নির্দেশ দিতেন ও কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করে নতুনভাবে ইসলামে প্রবেশের হুকুম করতেন।
তবে বিনা শর্তে এ বিশ্লেষণ গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যে সমাজে তাওহীদের শিক্ষা বিদ্যমান এবং যাদের কাছে দাওয়াত পৌঁছেছে, তারা যদি শিরক করে, তাহলে তাদের কোন রক্ষা নেই। তাদের অজ্ঞতার ওযর গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এ হাদীছে সে সমস্ত ছাহাবীর কথা বলা হয়েছে, তারা ছিলেন নব মুসলিম। তাই সম্ভবত: তাদের অজ্ঞতার ওযর গ্রহণ করা হয়েছে। তা ছাড়া তারা কেবল বরকত ওয়ালা গাছ নির্ধারণ করার আবেদন করেছিলেন। তা থেকে বরকত গ্রহণ করেছেন- এমনটি প্রমাণিত নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00