📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ১. তাওহীদের মর্যাদা এবং তাওহীদ যে সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়

📄 ১. তাওহীদের মর্যাদা এবং তাওহীদ যে সমস্ত গুনাহ মিটিয়ে দেয়


আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُولَٰئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ
“যারা ঈমান এনেছে এবং ঈমানকে যুলুমের সাথে মিশ্রিত করেনি, তাদের জন্যই রয়েছে শান্তি ও নিরাপত্তা এবং তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত” (সূরা আল আন‘আম:

উবাদা ইবনে সামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«مَنْ شَهِدَ أَنْ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، وَأَنَّ عِيسَىٰ عَبْدُ اللَّهِ وَرَسُولُهُ، وَكَلِمَتُهُ أَلْقَاهَا إِلَىٰ مَرْيَمَ، وَرُوحٌ مِنْهُ، وَالْجَنَّةَ حَقٌّ، وَالنَّارَ حَقٌّ، أَدْخَلَهُ اللَّهُ الْجَنَّةَ عَلَىٰ مَا كَانَ مِنَ الْعَمَلِ»
“যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য প্রদান করল যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তার কোন শরীক নেই এবং মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার বান্দা ও রাসূল। আরও সাক্ষ্য দিল যে, ঈসা আ. আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, ঈসা আ. এমন এক কালিমা যা তিনি মরিয়ম আ. এর প্রতি প্রেরণ করেছেন এবং তিনি তাঁরই পক্ষ থেকে প্রেরিত রূহ বা আত্মা। জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত দান করবেন। তার আমল যাই হোক না কেন”।
ইমাম বুখারী ও মুসলিম ইতবান (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
«فَإِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ: لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ، يَبْتَغِي بِذَٰلِكَ وَجْهَ اللَّهِ»
আল্লাহ তা‘আলা এমন ব্যক্তির উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলেছেন।

আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি ইরশাদ করেন,
«قَالَ مُوسَى: يَا رَبِّ، عَلِّمْنِي شَيْئًا أَذْكُرُكَ وَأَدْعُوكَ بِهِ، قَالَ: قُلْ يَا مُوسَى: لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ، قَالَ: يَا رَبِّ، كُلُّ عِبَادِكَ يَقُولُونَ هَٰذَا، قَالَ: يَا مُوسَى، لَوْ أَنَّ السَّمَاوَاتِ السَّبْعَ وَعَامِرَهُنَّ غَيْرِي، وَالْأَرَضِينَ السَّبْعَ فِي كِفَّةٍ، وَلَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ فِي كِفَّةٍ، مَالَتْ بِهِنَّ لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ»
মূসা (আঃ) বললেন: “হে আমার রব, আমাকে এমন জিনিস শিক্ষা দিন যা দ্বারা আমি আপনাকে স্মরণ করব এবং আপনাকে ডাকব। আল্লাহ বললেন, ‘হে মূসা! তুমি لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ বল। মূসা আ. বললেন: “আপনার সব বান্দাই তো এটা বলে।” তিনি বললেন: “হে মূসা! আমি ব্যতীত সপ্তাকাশে যা কিছু আছে তা আর সাত তবক যমীন যদি এক পাল্লায় থাকে এবং আরেক পাল্লায় যদি শুধু لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ থাকে, তাহলে لَا إِلَٰهَ إِلَّا اللَّهُ -এর পাল্লাই বেশী ভারী হবে”।

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন:
سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - يَقُولُ: «قَالَ اللَّهُ تَعَالَى: يَا ابْنَ آدَمَ، لَوْ أَتَيْتَنِي بِقُرَابِ الْأَرْضِ خَطَايَا، ثُمَّ لَقِيتَنِي لَا تُشْرِكُ بِي شَيْئًا لَأَتَيْتُكَ بِقُرَابِهَا مَغْفِرَةً»
আমি রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন: আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
“হে বনী আদম! তুমি যদি যমীন পরিপূর্ণ গুনাহ নিয়ে আমার কাছে আগমন কর এবং আমার সাথে অন্য কিছুকে শরীক না করে মিলিত হও, তাহলে যমীন পরিপূর্ণ ক্ষমাসহ আমি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করবো।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) আল্লাহ্ তা‘আলার অসীম করুণা।
২) আল্লাহর নিকট তাওহীদের অপরিসীম ছাওয়াব।
৩) অপরিসীম ছাওয়াব দেয়ার সাথে সাথে তাওহীদ দ্বারা পাপসমূহও মোচন হয়।
৪) সূরা আন‘আমের ৮২ নং আয়াতের তাফসীর জানা গেল। অর্থাৎ সেখানে যে যুলুমের বর্ণনা এসেছে, তা দ্বারা সাধারণ যুলুম উদ্দেশ্য নয়; বরং এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে শিরক।
৫) উবাদা বিন সামেতের হাদীছে বর্ণিত পাঁচটি বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেয়া জরুরী।
৬) উবাদা বিন সামেত এবং ইতবানের হাদীছকে একত্র করলে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র অর্থ সুস্পষ্ট হয়ে উঠবে এবং ধোঁকায় নিপতিত লোকদের ভুল সুস্পষ্টভাবে ধরা পড়বে।
৭) ইতবান (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছে উল্লেখিত শর্তের ব্যাপারে সতর্কীকরণ। অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই কালেমাটি পাঠ করবে। সুতরাং যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এটি পাঠ করবে, সে অবশ্যই আমল করবে এবং তা কেবল আল্লাহর জন্যই করবে।
৮) ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র ফযীলতের ব্যাপারে নাবীগণকেও সতর্ক করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
৯) সমগ্র সৃষ্টির তুলনায় এ কালিমার পাল্লা ভারী হওয়ার ব্যাপারে অবগতকরণ। যদিও এ কালেমার অনেক পাঠকের পাল্লা ইখলাসের সাথে পাঠ না করার কারণে হালকা হয়ে যাবে।
১০) সপ্তাকাশের মত সপ্ত যমীন বিদ্যমান থাকার প্রমাণ পাওয়া গেল।
১১) যমীনের মত আকাশেও বসবাসকারী রয়েছে।
১২) আল্লাহর ছিফাত বা গুণাবলীকে সাব্যস্ত করা জরুরী। আশ‘আরী সম্প্রদায়ের লোকেরা এগুলোকে অস্বীকার বা এগুলোর অপব্যাখ্যা করে থাকে।
১৩) আপনি যখন ছাহাবী আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছটি বুঝতে সক্ষম হবেন তখন জানতে পারবেন যে, ইতবান (রাঃ) এর হাদীছে বর্ণিত রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বাণী:
فَإِنَّ اللَّهَ حَرَّمَ عَلَى النَّارِ مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَبْتَغِي بِذَلِكَ وَجْهَ اللَّهِ
“আল্লাহ তা‘আলা এমন ব্যক্তির উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলেছে”। এর মর্মার্থ হচ্ছে শিরক বর্জন করা। শুধু মুখে বলা এর উদ্দেশ্য নয়।
১৪) আল্লাহর নাবী ঈসা (আঃ) এবং মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উভয়ই আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল হওয়ার বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করা।
১৫) “কালিমাতুল্লাহ” বলে ঈসা আ. কে খাস করার বিষয়টি জানা গেল। এ দ্বারা বিশেষ মর্যাদার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে।
১৬) ঈসা আ. আল্লাহর পক্ষ থেকে রূহ হওয়া সম্পর্কে অবগত হওয়া গেল।
১৭) জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতি ঈমান আনার মর্যাদা।
১৮) তাওহীদপন্থী লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে। আমল যাই হোক না কেন।
১৯) এ কথা জানা গেল যে, ক্বিয়ামতের দিন মীযান (দাঁড়িপাল্লা) স্থাপন করা হবে। মীযানের দুটি পাল্লাও থাকবে।
২০) আরও জানা গেল যে, আল্লাহর অনেক ছিফাত রয়েছে। তার মধ্যে আল্লাহর চেহারা তার অন্যতম একটি ছিফাত।

টিকাঃ
১০. আল্লাহ এবং তার রাসূলই অধিক জানেন -এ কথা রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবদ্দশায় বলা বৈধ ছিল। এখন শুধু আমরা বলবো, আল্লাহই ভাল জানেন। রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মৃত্যুর পর সালাফদেরকে এ কথা বলতে শুনা যেত না যে, الله ورسوله أعلم (আল্লাহ এবং তার রাসূলই সর্বাধিক অবগত রয়েছেন)।
১১. এখানে যুলুম দ্বারা বড় শিরক উদ্দেশ্য। মারফূ‘ সূত্রে আব্দুল্লাহ্ ইবনে মাসউদ এবং অন্যান্য ছাহাবীদের হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, উপরোক্ত আয়াতটি নাযিল হলে ছাহাবীগণ বলতে লাগলেন: আমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে নিজের নফসের উপর যুলুম করেনি? নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বললেন: তোমরা এই আয়াতে যুলুম দ্বারা যা বুঝছো, তা সঠিক নয়। এখানে যুলুম দ্বারা শিরক উদ্দেশ্য। তোমরা কি আল্লাহর প্রিয় বান্দা লুকমান আ. এর কথা শুননি? তিনি তাঁর ছেলেকে উপদেশ দিতে গিয়ে বলেছিলেন:
يَا بُنَيَّ لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ ۖ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ
“হে প্রিয় বৎস! আল্লাহ্র সাথে শরীক করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ্র সাথে শরীক করা মহা যুলুম” (সূরা লুকমান: ১৩)।
১২. শাহাদাতু আন্না মুহাম্মাদার রাসূলুল্লাহর শর্তাবলী নিম্নরূপ:
(১) স্বীকারোক্তিসহ আন্তরিক ও বাহ্যিকভাবে রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর রিসালাতকে বিশ্বাস করা।
(২) প্রকাশ্যে এ কালিমাটুকু মুখে উচ্চারণ করা।
(৩) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আনুগত্য করা। তিনি যে সত্য নিয়ে এসেছেন সে অনুযায়ী আমল করা। যে সকল বাতিল থেকে নিষেধ করেছেন তা হতে দূরে থাকা। (সূরা আল হাশর ৫৯:৭, সূরা আন নিসা ৪:৫৯)
(৪) তিনি অতীত ও ভবিষ্যতের যে সকল অদৃশ্য বিষয়ের সংবাদ দিয়েছেন তা সত্যায়ন করা।
(৫) নিজের জীবন, ধন-সম্পদ, সন্তানাদি, পিতা-মাতা এবং সকল মানুষ থেকেও রাসূলকে বেশী ভালবাসা। (ছহীহ বুখারী হা/১৪, ১৫)।
১৩. এখানে কালিমার অর্থ হচ্ছে তাঁর বাণী كُنْ হয়ে যাও। আল্লাহ্ তা‘আলা ঈসা আ. কে তাঁর কালিমা كُنْ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
১৪. ছহীহ বুখারী হা/৩৪৩৫, মুসলিম হা/২৮। সে ব্যক্তিকে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাত দান করবেন। তার আমল যাই হোক না কেন। অর্থাৎ তাঁর ইখলাস তথা একনিষ্ঠতার সাথে উপরোক্ত বিষয়গুলোর ঘোষণা দেয়ার কারণে, সত্য বিষয়গুলোর সত্যায়ন করার কারণে, নাবী-রাসূলদের প্রতি এবং তাদেরকে যেই নবুওয়াত ও রিসালাত দেয়া হয়েছে, তার প্রতি ঈমান আনয়নের কারণে, খ্রীস্টান ও ইয়াহূদীরা ঈসা আ. এর ব্যাপারে যেই বাড়াবাড়ি ও দুর্ব্যবহার করেছে তার প্রতিবাদ ও বিরোধীতা করার কারণে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। সে ঈসা আ. এর ব্যাপারে আরও দৃঢ় বিশ্বাস পোষণ করেছে যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল, জান্নাত ও জাহান্নামের প্রতিও ঈমান আনয়ন করেছে। যার আমল ও অবস্থা এ রকম হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। যদিও সৎকর্ম সম্পাদনে তার ত্রুটি রয়েছে এবং তার বেশ কিছু গুনাহও রয়েছে। এই সৎআমলটি অর্থাৎ নির্ভেজাল তাওহীদের ঘোষণা অন্যান্য সকল গুনাহ-এর তুলনায় ভারী হয়ে যাবে।
যে ব্যক্তি লা-ইলাহা পাঠ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে, অনেক লোকই এই হাদীছটি বুঝতে ভুল করেছে। তারা মনে করে শুধু যবান দিয়ে এ বাক্যটি উচ্চারণ করাই জান্নাতে যাওয়ার জন্য এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট। মূলত বিষয়টি এরূপ নয়। যারা এরূপ মনে করে, তারা বিভ্রান্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত। তারা ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’-এর সঠিক মর্মার্থ বুঝতে পারেনি। না বুঝার কারণ হল, তারা এ নিয়ে চিন্তা-গবেষণা করেনি। এ পবিত্র বাক্যটির সঠিক অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ ব্যতীত সকল মা‘বুদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা এবং সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহর জন্যই খাস (নির্ধারণ) করা। ইবাদতগুলো এমন পদ্ধতিতে করা, যাতে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। এটিই লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্-এর হক্। যে ব্যক্তি এ হক্ আদায় করবে না, কিংবা এর কিছু অংশ আদায় করবে, অতঃপর আল্লাহর সাথে অন্যান্য অলী আওলীয়া ও সৎ লোকদের কাছে দু‘আ করবে এবং তাদের জন্য নযর-মানত পেশ করবে, সে ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’এর শর্ত ভঙ্গকারী হিসাবে গণ্য হবে। সে এটি পাঠ করার দাবি করলেও তাতে কোন লাভ হবে না।
১৫. ছহীহ বুখারী হা/৪২৫, ৫৪০১, মুসলিম হা/৩৩। এটি বুখারী ও মুসলিমের একটি দীর্ঘ হাদীছের অংশ। লেখক তা থেকে শুধু ঐটুকু‍ই বর্ণনা করেছেন, যা এই অধ্যায়ের জন্য প্রযোজ্য। কালেমায়ে তাইয়্যেবার এটিই প্রকৃত অর্থ। এই পবিত্র বাক্যটি ইবাদতের মধ্যে ইখলাসের দাবি জানায় এবং শিরককে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করে। সিদক (সত্যনিষ্ঠা) এবং ইখলাস (একনিষ্ঠতা) এই দু’টি বিষয় এমন, যার একটি অন্যটির সাথে জড়িত। এ দু’টির একটিকে অন্যটি ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। বান্দা যদি ইবাদতের মধ্যে একনিষ্ঠ না হয়, তাহলে সে মুশরিক হিসাবে গণ্য হবে। আর যদি সত্যবাদী না হয়, তাহলে মুনাফিক হিসাবে গণ্য হবে। মুখলিস হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে কালেমায়ে তাওহীদ ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’কে যবান দিয়ে পাঠ করার সাথে সাথে খালেসভাবে কেবল আল্লাহর ইবাদত করে।
আলিমগণ এ কালিমার ৪টি শর্ত উল্লেখ করেছেন। যথা:
১| العلم আল ইলম (জ্ঞান)
২| اليقين আল ইয়াক্বীন (দৃঢ় বিশ্বাস)
৩| الإخلاص আল ইখলাছ (একনিষ্ঠতা বা আন্তরিকতা)
৪| الصدق আছ ছিদ্ক্ব (সত্যায়ন)
৫| المحبة আল মাহাব্বা (ভালবাসা)
৬| الانقياد আল ইনক্বিয়াদ (বশ্যতা স্বীকার করা বা মেনে নেয়া বা রাযী থাকা)
৭| القبول আল ক্ববূল (গ্রহণ করা)
৮| الكفر আল কুফরু (অস্বীকার করা)| [গায়াতুল মুরীদ]
১৬. যঈফ: ইবনে হিব্বান ও হাকিম। ইমাম আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে যঈফ বলেছেন। দেখুন: ছহীহ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, হা/১৫২৯।
১৭. হাসান: তিরমিযী হা//৩৫৪০, অধ্যায়: গুনাহ করার পর বান্দার জন্য আল্লাহর ক্ষমা। ইমাম আলবানী (রহঃ) হাদীছটিকে ছহীহ বলেছেন। দেখুন: সিলসিলায়ে ছহীহা, হা/১২৭।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ২. যে ব্যক্তি তাওহীদের দাবি পূরণ করবে

📄 ২. যে ব্যক্তি তাওহীদের দাবি পূরণ করবে


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন,
إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِّلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
“নিশ্চয়ই ইবরাহীম ছিলেন একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর হুকুম পালনকারী একটি উম্মাত এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না।” (সূরা আন নাহল: ১২০)

আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন,
وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِ رَبِّهِمْ يُؤْمِنُونَ وَالَّذِينَ هُم بِرَبِّهِمْ لَا يُشْرِكُونَ
নিশ্চয়ই যারা তাদের পালনকর্তার ভয়ে সন্ত্রস্ত, যারা তাদের পালনকর্তার আয়াতসমূহে বিশ্বাস স্থাপন করে, আর যারা তাদের রবের সাথে শিরক করে না- (তারাই দ্রুত কল্যাণ অর্জন করে এবং তারা তাতে অগ্রগামী) (সূরা মু’মিনূন: ৫৭-৫৯)

হুসাইন বিন আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন,
كُنْتُ عِنْدَ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، فَقَالَ: أَيُّكُمْ رَأَى الْكَوْكَبَ الَّذِي انْقَضَّ الْبَارِحَةَ؟، فَقُلْتُ: أَنَا، ثُمَّ قُلْتُ: أَمَا إِنِّي لَمْ أَكُنْ فِي صَلَاةٍ، وَلَٰكِنِّي لُدِغْتُ، قَالَ: فَمَا صَنَعْتَ؟، قُلْتُ: ارْتَقَيْتُ، قَالَ: فَمَا حَمَلَكَ عَلَىٰ ذَٰلِكَ؟ قُلْتُ: حَدِيثٌ حَدَّثَنَاهُ الشَّعْبِيُّ، قَالَ: وَمَا حَدَّثَكُمْ؟ قُلْتُ: حَدَّثَنَا عَنْ بُرَيْدَةَ بْنِ الْحُصَيْبِ أَنَّهُ قَالَ: لَا رُقْيَةَ إِلَّا مِنْ عَيْنٍ أَوْ حُمَةٍ، قَالَ: قَدْ أَحْسَنَ مَنِ انْتَهَىٰ إِلَىٰ مَا سَمِعَ، وَلَٰكِنْ حَدَّثَنَا ابْنُ عَبَّاسٍ - رضي الله عنهما -، عَنِ النَّبِيِّ - صلى الله عليه وسلم - أَنَّهُ قَالَ: «عُرِضَتْ عَلَيَّ الْأُمَمُ، فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ وَمَعَهُ الرُّهَيْطُ، وَالنَّبِيَّ وَمَعَهُ الرَّجُلُ وَالرَّجُلَانِ، وَالنَّبِيَّ وَلَيْسَ مَعَهُ أَحَدٌ، إِذْ رُفِعَ لِي سَوَادٌ عَظِيمٌ، فَظَنَنْتُ أَنَّهُمْ أُمَّتِي، فَقِيلَ لِي: هَٰذَا مُوسَىٰ وَقَوْمُهُ، فَنَظَرْتُ فَإِذَا سَوَادٌ عَظِيمٌ، فَقِيلَ لِي: هَٰذِهِ أُمَّتُكَ، وَمَعَهُمْ سَبْعُونَ أَلْفًا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ بِغَيْرِ حِسَابٍ وَلَا عَذَابٍ»، ثمَّ نَهَضَ فَدَخَلَ مَنْزِلَهُ، فَخَاضَ النَّاسُ فِي أُولَٰئِكَ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ: فَلَعَلَّهُمُ الَّذِينَ صَحِبُوا رَسُولَ اللَّهِ؟، وَقَالَ بَعْضُهُمْ: فَلَعَلَّهُمُ الَّذِينَ وُلِدُوا فِي الْإِسْلَامِ فَلَمْ يُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَذَكَرُوا أَشْيَاءَ، فَخَرَجَ عَلَيْهِمْ رَسُولُ اللَّهِ - صلى الله عليه وسلم - فَأَخْبَرُوهُ، فَقَالَ: «هُمُ الَّذِينَ لَا يَسْتَرْقُونَ، وَلَا يَكْتَوُونَ، وَلَا يَتَطَيَّرُونَ، وَعَلَىٰ رَبِّهِمْ يَتَوَكَّلُونَ»، فَقَامَ عُكَّاشَةُ بْنُ مِحْصَنٍ، فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، فَقَالَ: «أَنْتَ مِنْهُمْ» ، ثُمَّ قَامَ رَجُلٌ آخَرُ فَقَالَ: ادْعُ اللَّهَ أَنْ يَجْعَلَنِي مِنْهُمْ، فَقَالَ: «سَبَقَكَ بِهَا عُكَّاشَةُ»
“একবার আমি সাঈদ বিন জুবাইরের কাছে উপস্থিত ছিলাম। তিনি বললেন, গতকাল রাত্রে যে নক্ষত্রটি ছিটকে পড়েছে তা তোমাদের মধ্য হতে কে দেখতে পেয়েছ? তখন বললাম, আমি। তবে আমি ছালাত পড়ছিলাম না। তারপর বললাম, আমি বিষাক্ত প্রাণী কর্তৃক দংশিত হয়েছিলাম। তিনি বললেন: তখন তুমি কি চিকিৎসা করেছ? বললাম ঝাড় ফুঁক করেছি। তিনি বললেন, কিসে তোমাকে এ কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে? অর্থাৎ তুমি কেন এ কাজ করলে? বললাম: ‘একটি হাদীছ’ (আমাকে এ কাজে উদ্বুদ্ধ করেছে) যা শা‘বী আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন। তিনি বললেন, তিনি তোমাদেরকে কি বর্ণনা করেছেন? বললাম ‘তিনি বুরাইদা বিন আল হুসাইব থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, বদ নযর এবং বিষাক্ত পোকার (কামড় ব্যতীত অন্য কোন রোগে ঝাড়-ফুঁক নেই)। তিনি বললেন, ‘সে ব্যক্তিই উত্তম কাজ করেছে, যে শ্রুত কথা অনুযায়ী আমল করাকেই যথেষ্ট মনে করেছে’। কিন্তু ইবনে আব্বাস (রাঃ) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, “আমার সম্মুখে সমস্ত জাতিকে উপস্থাপন করা হল। তখন এমন নাবীকে দেখতে পেলাম, যার সাথে অল্প সংখ্যক লোক রয়েছে। এমন নাবীকেও দেখতে পেলাম, যার সাথে মাত্র একজন বা দু’জন লোক রয়েছে। আবার এমন নাবীকেও দেখতে পেলাম যার সাথে কোন লোকই নেই। ঠিক এমন সময় আমার সামনে এক বিরাট জনগোষ্ঠী পেশ করা হল। তখন আমি ভাবলাম: এরা আমার উম্মত। কিন্তু আমাকে বলা হল, এরা হচ্ছে মূসা আ. এবং তার উম্মত। এরপর আরো একটি বিরাট জনগোষ্ঠীর দিকে আমি তাকালাম। তখন আমাকে বলা হল, এরা আপনার উম্মত। এদের মধ্যে সত্তর হাজার লোক রয়েছে, যারা বিনা হিসাবে এবং বিনা আযাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ কথা বলে তিনি উঠে বাড়ীর অভ্যন্তরে চলে গেলেন। এরপর লোকেরা ঐ সব ভাগ্যবান লোকদের ব্যাপারে বিতর্ক শুরু করে দিল। কেউ বলল: তারা বোধ হয় রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য লাভকারী ব্যক্তিগণ। আবার কেউ বলল: তারা বোধ হয় সেই সব লোক, যারা ইসলামী পরিবেশে তথা মুসলিম মাতা-পিতার ঘরে জন্মগ্রহণ করেছে, আর আল্লাহর সাথে তারা কাউকে শরীক করেনি। তারা এ ধরনের আরো অনেক কথা বলাবলি করল। অতঃপর রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাদের মধ্যে উপস্থিত হলে বিষয়টি তাকে জানানো হল। তখন তিনি বললেন, “তারা হচ্ছে ঐ সব লোক যারা ঝাড়-ফুঁক করে না। পাখি উড়িয়ে ভাগ্যের ভাল-মন্দ যাচাই করে না। শরীরে ছেঁকা বা দাগ দেয় না। আর তাদের রবের উপর তারা ভরসা করে”। এ কথা শুনে উক্কাশা বিন মিহসান দাঁড়িয়ে বলল, আপনি আমার জন্য দু‘আ করুন যেন আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ঐ সৌভাগ্যবান ব্যক্তিদের দলভুক্ত করে নেন। তিনি বললেন: “তুমি তাদের দলভুক্ত”। অতঃপর অন্য একজন লোক দাঁড়িয়ে বলল: আল্লাহর কাছে আমার জন্যও দু‘আ করুন যেন তিনি আমাকেও তাদের অন্তর্ভূক্ত করে নেন। তিনি বললেন: “তোমার পূর্বেই উক্কাশা সে সুযোগ নিয়ে গেছে”।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) তাওহীদের ব্যাপারে মানুষের বিভিন্ন স্তর থাকার কথা জানা গেল।
২) নাবী ইবরাহীম (আঃ) মুশরিক ছিলেন না বলে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা।
৩) তাওহীদের দাবি পূর্ণ করার তাৎপর্য কি, তা জানা গেল।
৪) বড় বড় আউলীয়ায়ে কেরাম শিরক থেকে মুক্ত ছিলেন বলে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জবানে আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা।
৫) ঝাড়-ফুঁক থেকে বিরত থাকা এবং ছেঁকা গ্রহণ পরিত্যাগ করা তাওহীদপন্থী হওয়ার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।
৬) আল্লাহর উপর ভরসাই বান্দার মধ্যে উল্লেখিত গুণাবলী ও স্বভাবসমূহের সমাবেশ ঘটায়।
৭) বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশকারী সৌভাগ্যবান লোকেরা কোন আমল ব্যতীত উক্ত মর্যাদা লাভ করতে পারেনি, এটা জানার ব্যাপারে ছাহাবায়ে কেরামের জ্ঞানের গভীরতা।
৮) মঙ্গল ও কল্যাণের প্রতি তাদের অপরিসীম আগ্রহ।
৯) সংখ্যা ও গুণাবলীর দিক থেকে উম্মাতে মুহাম্মাদীর ফযীলত সম্পর্কে জানা গেল।
১০) নাবী মূসা (আঃ) এর উম্মাতের মর্যাদা।
১১) সব উম্মাতকে তাদের নাবীসহ রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সম্মুখে উপস্থিত করা হবে।
১২) প্রত্যেক উম্মাতই নিজ নিজ নাবীর সাথে পৃথকভাবে হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবে।
১৩) খুব অল্প সংখ্যক লোকই নাবীগণের আহবানে সাড়া দিয়েছিল।
১৪) যে নাবীর দাওয়াত কেউ গ্রহণ করেনি তিনি একাই হাশরের ময়দানে উপস্থিত হবেন।
১৫) এ জ্ঞানের শিক্ষা হচ্ছে, সংখ্যাধিক্যের দ্বারা ধোঁকা না খাওয়া আবার সংখ্যাল্পতার কারণে অবহেলা না করা।
১৬) বদ-নযর লাগা এবং বিষাক্ত কীটের বিষের চিকিৎসার জন্য ঝাড়-ফুঁকের অনুমতি পাওয়া গেল।
১৭) সালফে ছলেহীনের জ্ঞানের গভীরতা সম্পর্কে জানা গেল। قد أحسن من انتهى إلى ما سمع “সেই ব্যক্তি ভাল কাজ করেছে, যে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা শুনেছে তাই আমল করেছে” -এ কথাই তার প্রমাণ। তাই প্রথম হাদীছ দ্বিতীয় হাদীছের বিরোধী নয়।
১৮) মানুষের মধ্যে যে গুণ নেই তার প্রশংসা থেকে সালফে ছলেহীনগণ বিরত থাকতেন।
১৯) أنت منهم “তুমি তাদের অন্তর্ভূক্ত” -উক্কাশার ব্যাপারে নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর এই কথা তার নবুওয়াতেরই প্রমাণ বহন করে।
২০) উক্কাশা (রাঃ) এর মর্যাদা ও ফযীলত।
২১) কোন কথা সরাসরি না বলে হিকমত ও কৌশল অবলম্বন করা।
২২) ইঙ্গিতের মাধ্যমে কথা বলা জায়েয।
২৩) রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর উত্তম চরিত্রের বর্ণনা।

টিকাঃ
১৮. তাওহীদের বাস্তবায়ন (তাওহীদের দাবি পূরণ করা): তাওহীদকে শিরক হতে মুক্ত রাখা। তিনটি বিষয় ছাড়া এটি অর্জন সম্ভব নয়।
১| العلم) ইলম) সুতরাং ইলম অর্জন ব্যতীত কিছুই সম্ভব নয়।
২| الاعتقاد) আক্বীদা-বিশ্বাস) যখন তুমি ইলম অর্জন করলে, কিন্তু বিশ্বাস না করে বরং অহংকার করলে, তাহলে তাওহীদ বাস্তবায়ন হল না।
৩| الانقياد) বশ্যতা স্বীকার করা-আনুগত্য) যখন তুমি ইলম অর্জন করলে, বিশ্বাস স্থাপন করলে কিন্তু বশ্যতা স্বীকার (এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করা এবং তার শরী‘আতের কাছে আত্মসমর্পণ করা) করলে না, তাহলে তাওহীদ বাস্তবায়ন হবে না।
১৯. ইবনে কাছীর (রহঃ) বলেন: আল্লাহ্ তা‘আলা এখানে তাঁর একনিষ্ঠ বান্দাদের ইমাম ও রাসূল ইবরাহীম খলীল আ. এর প্রশংসা করছেন। আল্লাহ্ তা‘আলা বলছেন, তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না, ইয়াহূদী, খ্রীস্টান-নাসারা এবং অগ্নিপূজকদেরও অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না। এখানে উম্মত বলতে এমন নেতা উদ্দেশ্য যার অনুসরণ করা হয়। আয়াতে বর্ণিত قانـت অর্থ হচ্ছে বিনয়ী এবং অনুগত। হানীফ অর্থ শিরক বর্জন করে তাওহীদের দিকে প্রত্যাবর্তনকারী। এ জন্যই আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন: وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشـ ِركينَ “তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন না”। প্রখ্যাত মুফাসসির মুজাহিদ (রহঃ) বলেন: ইবরাহীম একটি উম্মত ছিলেন- এ কথার অর্থ হচ্ছে, সে সময় তিনি একাই ছিলেন মু’মিন এবং অন্যান্য সকল মানুষই ছিল কাফের-মুশরিক।
২০. ইবনে কাছীর (রহঃ) বলেন: নেক ও সৎ আমল করার পরও তারা আল্লাহর ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত ও আতঙ্কের মধ্যে থাকে এবং আল্লাহর শাস্তির ভয়ে ভীত থাকে। হাসান বসরী (রহঃ) বলেন: মু’মিন হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে নেক আমল করার সাথে সাথে আল্লাহ্কে ভয় করে। আর মুনাফিক হচ্ছে ঐ ব্যক্তি, যে পাপ কাজ করে এবং নির্ভয়ে থাকে।
২১. এটি ছিল ইসলামের প্রথম দিকে। পরবর্তীতে অন্যান্য বিষয়েও ঝাড়-ফুঁক করার অনুমতি দেয়া হয়, যদি তা কুরআনের আয়াত, ছহীহ হাদীছ এবং শিরকযুক্ত দু‘আ দ্বারা করা হয়। আল্লাহই ভাল জানেন।
২২. অর্থাৎ যেই জাতির কাছে তাঁকে প্রেরণ করা হয়েছিল, তাদের মধ্য হতে একজনও ঈমান আনয়ন করেনি।
২৩. ছহীহ বুখারী হা/৫৭০৫, ৬৫৪১, মুসলিম, হা/২২০ অধ্যায়: এ উম্মাতের একদল মুসলিমের বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 সে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে

📄 সে বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে


এই অধ্যায়ে কোনো কন্টেন্ট এখনো যোগ করা হয়নি।

📘 কিতাবুত তাওহীদ > 📄 ৩. শিরক হতে ভয়-ভীতি সম্পর্কে

📄 ৩. শিরক হতে ভয়-ভীতি সম্পর্কে


আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন,
إِنَّ اللَّهَ لَا يَغْفِرُ أَن يُشْرَكَ بِهِ وَيَغْفِرُ مَا دُونَ ذَٰلِكَ لِمَن يَشَاءُ
“আল্লাহ তার সাথে শিরক করার গুনাহ মাফ করবেন না। শিরক ছাড়া (নিম্নস্তরের) অন্যান্য গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দিবেন।” (সূরা আন নিসা: ৪৮)

ইবরাহীম খলীল আলাইহিম সালাম আল্লাহ তা‘আলার কাছে এ দু‘আ করেছিলেন,
وَاجْنُبْنِي وَبَنِيَّ أَن نَّعْبُدَ الْأَصْنَامَ
“আমাকে এবং আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে রক্ষা করো” (সূরা ইবরাহীম: ৩৫)

হাদীছে বর্ণিত, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,
«أَخْوَفُ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الشِّرْكُ الْأَصْغَرُ، فَسُئِلَ عَنْهُ، فَقَالَ: الرِّيَاءُ»
“আমি তোমাদের জন্য যে জিনিসের সবচেয়ে বেশী ভয় করি তা হচ্ছে শিরকে আসগর অর্থাৎ ছোট শিরক”। শিরকে আসগর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি উত্তরে বললেন, ছোট শিরক হচ্ছে “রিয়া” অর্থাৎ মানুষকে দেখানোর জন্য আমল করা। ইবনে মাসউদ (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«مَنْ مَاتَ وَهُوَ يَدْعُو مِنْ دُونِ اللَّهِ نِدًّا دَخَلَ النَّارَ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে অনুরূপ কাউকে আহবান করা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”।

ছহীহ মুসলিমে জাবের (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
«مَنْ لَقِيَ اللَّهَ لَا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ الْجَنَّةَ، وَمَنْ لَقِيَهُ يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا دَخَلَ النَّارَ»
“যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে। আর যে ব্যক্তি তার সাথে কাউকে শরীক করে মৃত্যুবরণ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে”।

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায়:
১) শিরককে ভয় করে চলতে হবে।
২) রিয়া শিরকের মধ্যে শামিল।
৩) রিয়া ছোট শিরকের অন্তর্ভূক্ত।
৪) সৎ লোকদের জন্য ভয়ের বস্তুসমূহের মধ্যে সর্বাধিক ভীতিপ্রদ বিষয় হচ্ছে শিরকে আসগর তথা ছোট শিরক।
৫) জান্নাত ও জাহান্নাম মানুষের একদম কাছাকাছি।
৬) জান্নাত ও জাহান্নাম নিকটবর্তী হওয়ার বিষয়টি একই হাদীছে বর্ণিত হয়েছে।
৭) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করলে মৃত ব্যক্তি জান্নাতে যাবে। পক্ষান্তরে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক বানিয়ে মৃত্যুবরণ করলে মৃত ব্যক্তি যত বড় ইবাদতকারীই হোক না কেন, সে জাহান্নামে যাবে।

টিকাঃ
২৪. ছহীহ: মুসনাদে আহমাদ ৫/৪২৮-৪২৯, আছ-ছহীহা, হা/৯৫১।
২৫. ছহীহ বুখারী, হা/৪৪৯৭, ছহীহ মুসলিম হা/৯২।
২৬. ছহীহ মুসলিম, হা/৯৩।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00