📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 তাহাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হউক

📄 তাহাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হউক


হাদীস নং ২৪২ - ইবরাহীম হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, কিছু মানুষ দৃঢ়পদ থাকিয়া নিহত হইলেন, তখন উমর বলিলেন, তাহাদের উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক, যদি তাহারা আমার নিকটে প্রত্যাবর্তন করিত তাহা হইলে আমি তাহাদের জন্য 'ফিআ'¹ হইতাম।

টিকাঃ
১. কুরআনে নিম্নোক্ত আয়াত থেকে গৃহীত- 'যে কেহ সেই দিন তাহাদিগকে পৃষ্ঠ প্রদর্শন করিবে যদি না তা লড়াইয়ের পুনঃ প্রস্তুতিকল্পে বা মূল বাহিনীতে আশ্রয় গ্রহণের উদ্দেশ্যে হয় তবে সে আল্লাহর বিরাগভাজন হইবে।” অতএব, হযরত উমর (রাযিঃ) এর বাণীটির অর্থ দাঁড়াচ্ছে "তারা আমার নিকটে প্রত্যাবর্তন করলে তা তাদের জন্য বৈধ হত এবং কুরআন প্রদত্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার হত।” -অনুবাদক (ومن يولهم يومئذ دبره إلا متحرفا لقتال أو متحيزا إلى فئة فقد باء بغضب من الله)

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 তিনজনের মুকাবিলা হইতে পলায়নকারী পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী নয়

📄 তিনজনের মুকাবিলা হইতে পলায়নকারী পৃষ্ঠপ্রদর্শনকারী নয়


হাদীস নং ২৪৩ - আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযিঃ) এই আয়াতদ্বয় তিলাওয়াত করিলেন, "তোমাদের মধ্যে বিশজন ধৈর্য্যশীল থাকিলে তাহারা দুইশত জনের উপর বিজয়ী হইবে এবং তোমাদের মধ্যে একশতজন থাকিলে এক সহস্র কাফেরের উপর বিজয়ী হইবে। কারণ তাহারা এমন এক সম্প্রদায় যাহার বোধশক্তি নাই। আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করিলেন। তিনি তো অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে, সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশতজন ধৈর্য্যশীল থাকিলে তাহারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হইবে। আর তোমাদের মধ্যে এক সহস্র থাকিলে আল্লাহর অনুজ্ঞাক্রমে তাহারা দুই সহস্রের উপর বিজয়ী হইবে। আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সহিত রহিয়াছেন। (আনফাল, আয়াতঃ ৬৫, ৬৬) অতঃপর বলিলেন, যদি কোন ব্যক্তি তিনজনের মুকাবিলা হইতে পলায়ন করে তাহা হইলে সে পলায়ন করে নাই আর যদি দুই জনের মুকাবেলা হইতে পলায়ন করে তাহা হইলে সে পলায়ন করিল।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 রহিত আয়াত

📄 রহিত আয়াত


হাদীস নং ২৪৪ - কায়স ইবনে সাঈদ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আতা বিন আবী রাবাহকে আল্লাহতায়ালার বাণী- (ওয়ামান ইউওয়াল্লিহিম ইয়াওমায়িযিন দুবুরাহু) “যে কেহ সেই দিন তাহাদিগকে পৃষ্ঠপ্রদর্শন করিবে যদি না তারা লড়াইয়ের পুনঃ প্রস্তুতি কল্পে বা মূল বাহিনীতে আশ্রয় গ্রহণের উদ্দেশ্য হয় তবে।” সর্ম্পকে জিজ্ঞাসা করিলাম তিনি বলিলেন, ইহা সূরায়ে আনফালের আয়াত - (আলআনা খফফাফাল্লাহু আনকুম ওয়া আলিমা আন্না ফিকুম দ্বোয়া’ফান, ফায়িন ইয়াকুন মিনকুম মিয়াতান সবিরাতান ইয়াগলিবু মিয়াতাইন) [আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করিলেন তিনি তো অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা আছে সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশতজন ধৈর্য্যশীল থাকিলে তাহারা দুইশত জনের উপর বিজয়ী হইবে। (আনফাল আয়াত : ৬৬)] (উপরোক্ত আয়াত) দ্বারা মানসুখ হইয়া গিয়াছে, এখন কোন দলের জন্য তাহাদের দ্বিগুণ সংখ্যকের মোকাবেলায় (কোন উদ্দেশ্যই) পলায়ন করার অবকাশ নেই। এই আয়াত এই সংখ্যাকে মানসূখ করিয়াছে।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 ধৈর্য ক্ষমতাও হ্রাস হইলো

📄 ধৈর্য ক্ষমতাও হ্রাস হইলো


হাদীস নং ২৪৫ - ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এই আয়াত (ইন ইয়াকুন মিনকুম ইশরুনা সাবিরুনা ইয়াগলিবু মিয়াতাইন) [তোমাদের মধ্যে বিশজন ধৈর্য্যশীল থাকিলে তাহারা দুইশত জনের উপর বিজয়ী হইবে। (আনফাল, আয়াত : ৬৫)] অবতীর্ণ হইলে তাহা মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হইল যেহেতু তাহাদের প্রত্যেক ব্যক্তির উপর দশজনের মোকাবেলা পর্যন্ত পলায়ন করাকে হারাম করা হইয়াছে, তিনি বলেন, অতঃপর বিধান সহজ করা হইল। আল্লাহ বলিলেন, (আলআনা খফফাফাল্লাহু আনকুম ওয়া আলিমা আন্না ফিকুম দ্বোয়া’ফান ফায়িন ইয়াকুন মিনকুম মিয়াতান সবিরাতান ইয়াগলিবু মিয়াতাইন) [আল্লাহ এখন তোমাদের ভার লাঘব করিলেন। তিনি তো অবগত আছেন যে, তোমাদের মধ্যে দুর্বলতা রহিয়াছে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে একশতজন ধৈর্য্যশীল থাকিলে তাহারা দুইশত জনের উপর বিজয়ী হইবে। (আনফাল, ৬৬)] তিনি বলেন, আল্লাহতায়ালা যখন (শত্রুর) সংখ্যা হ্রাস করিলেন তখন ধৈর্যধারণের গুরুভারও তদনুপাতে লাঘব হইল।

ফন্ট সাইজ
15px
17px