📄 সামুদ্রিক অভিযানের ভবিষ্যতবাণী
হাদীস নং ২০২- মুহাম্মাদ ইবনে ইয়াহইয়া বিন হিব্বান হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রায়ই উম্মে হারামের বাসগৃহে যাইতেন এবং সেখানে কাইলুলাহ (দিবানিদ্রা) করিতেন। একদিন তাহার গৃহে ঘুমাইয়াছেন হঠাৎ হাসিতে হাসিতে ঘুম হইতে জাগিয়া উঠিলেন। উম্মে হারাম জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কি ব্যাপারে হাসিলেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, عجبت من أناس من أمتي عرضوا علي انفا على سرر أمثال الملوك، يركبون هذا البحر الأخضر في سبيل الله عزوجل - আমি আমার উম্মতের কিছু লোককে দেখিয়া বিস্মিত হইলাম। উহাদিগকে আমার সামনে পেশ করা হইল। আমি দেখিলাম তাহারা রাজা বাদশাহদের মত সিংহাসনে বসিয়া আল্লাহর পথে এই সবুজ সাগরে ভ্রমণ করিতেছে। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার জন্য দু'আ করুন, আল্লাহতায়ালা যেন আমাকে তাহাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি প্রথম দলের অন্তর্ভুক্ত, পরবর্তীদের অন্তর্ভুক্ত নও।
বর্ণনাকারী বলেন, আমি বর্ণনাটি জানিয়াছি, কিন্তু উম্মে হারামের পরিণাম কি হইয়াছিল তাহা আমি জানিতাম না। অবশেষে আমাদের নিকটে আনাস বিন মালেক আসিলেন, উম্মে হারাম ছিলেন তাহার খালা। আমি ভাবিলাম, আমার জীবনের কসম! অবশ্যই আনাস ইহা জানিয়া থাকিবেন। আমি আনাসের নিকটে আসিলাম এবং তাহাকে উম্মে হারামের ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলাম, কিভাবে তাহার মৃত্যু হইয়াছিল? তিনি বলিলেন, তিনি তো জান্নাতে অবতরণ করিয়াছেন। তাহার ঘটনা হইল, তিনি তাহার চাচাত ভাই উবাদা বিন সামেতের সহিত বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। উবাদা তাহাকে নিয়া শামে চলিয়া যান। যখন মুয়াবিয়া (রাযিঃ) নৌপথে যুদ্ধাভিযানে বাহির হন তখন তিনি ও উম্মে হারাম তাহার সহিত সেই অভিযানে অংশগ্রহণ করেন। যখন অভিযান সমাপ্ত হইল এবং তাহারা সমুদ্র উপকূলে উপস্থিত হইলেন তখন উম্মে হারামের জন্য একটি ঘোড়া উপস্থিত করা হইল। তিনি উহাতে আরোহন করিলেন। কিছুদূর গিয়াই ঘোড়াটি তাহাকে ফেলিয়া দিল। তিনি পড়িয়া গেলেন এবং পরিবারবর্গের নিকটে পৌঁছিবার পূর্বেই মৃত্যুবরণ করিলেন।
টিকাঃ
১. এর অর্থ নিম্নোক্ত হাদীস হইতে বুঝা যায়- এক ক্বিনত্বার বা প্রভূত সম্পদ। এর ব্যাখ্যায় বিভিন্ন মত রহিয়াছে যথা, আশিহাজার, একটি ষাঁড়ের চামড়া ভর্তি স্বর্ণ, প্রচুর, ইত্যাদি।
📄 রাসূলুল্লাহর (স.) হাসি
হাদীস নং ২০৩ - আনাস বিন মালেক (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোবায় আসিলে উম্মে হারামের গৃহে যাইতেন। উম্মে হারাম তাহাকে আহার করাইতেন। উম্মে হারাম ছিলেন উবাদা বিন সামেত (রাযিঃ)-এর স্ত্রী। একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার নিকটে গেলেন। তিনি তাহাকে আহার করাইলেন অতঃপর বসিয়া নামায পড়িতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম শুইয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন এবং কিছুক্ষণ পর হাসিতে হাসিতে জাগ্রত হইলেন। উম্মে হারাম জিজ্ঞাসা করিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কেন হাসিতেছেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আমার উম্মতের কিছু ব্যক্তি......। অতঃপর পূর্বোক্ত বৃত্তান্ত শুনাইলেন।
হাদীস নং ২০৪ - আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সমুদ্রের একটি অভিযান আমার নিকটে কবুলকৃত এক ক্বিনত্বার সম্পদ হইতেও উত্তম।
📄 সামুদ্রিক অভিযানের ভয়াবহতা
হাদীস নং ২০৫ – ইবনে হুবাইরা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, মুয়াবিয়া (রাযিঃ) উমর (রাযিঃ)-এর নিকটে নৌ অভিযানের অনুমতি চাহিয়া পত্র লিখিলেন এবং জানাইলেন যে, তাহার এবং কুবরুস দ্বীপের মধ্যখানে সমুদ্র পথে মাত্র দুই দিনের দূরত্ব রহিয়াছে। আমীরুল মুমিনীন যদি সমীচীন মনে করেন যে, আমি সেখানে অভিযান পরিচালনা করি এবং আল্লাহ আমার হাতে উহাকে বিজিত করেন? উমর (রাযিঃ) পত্র পাইয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, সমুদ্র ভ্রমণে সর্বাধিক অভিজ্ঞ কে? বলা হইল, আমর বিন আস। তিনি সমুদ্রপথে হাবাশায় আসা-যাওয়া করিতেন। উমর (রাযিঃ) তাহাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলেন। তিনি বলিলেন, ইয়া আমীরুল মুমিনীন! সমুদ্রে মানুষের উদাহরণ কাষ্ঠখণ্ডে ভাসমান পোকার ন্যায়। স্থিরচিত্তে বসিয়া থাকিলেও ডুবিতে হইবে, অস্থির হইয়া গেলেও ডুবিতে হইবে। ইহা শুনিয়া উমর (রাযিঃ) বলিলেন, খোদার কসম! আমি যতদিন জীবিত থাকিব ততদিন পর্যন্ত একজন মুসলমানকেও ইহাতে উদ্বুদ্ধ করিব না।
📄 ছয়টি জিনিষের পুরস্কার আটজন হুর
হাদীস নং ২০৬ - মুসা বিন আইয়্যুব গাফেক্বী হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, এক ব্যক্তি আমাকে বর্ণনা করিয়াছেন যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস (রাযিঃ)-এর একজন আযাদকৃত গোলাম তাহার নিকটে আসিলেন এবং বলিলেন, আমি নৌপথে যুদ্ধাভিযানে যাইবার ইচ্ছা করিয়াছি, আমাকে কিছু অসীয়ত করুন। আব্দুল্লাহ বলিলেন, তুমি স্থলপথেই থাক। তুমি অন্যকে কষ্ট দিবে না নিজেও কষ্টে পতিত হইবে না। সে বলিল, আমি সমুদ্র অভিযানের সংকল্প করিয়াছি। আব্দুল্লাহ বলিলেন, যদি ছয়টি বিষয় স্মরণ রাখ তাহা হইলে আটজন 'হুরে ঈন' অবধারিত হইয়া যাইবে। ১. গনীমতের সম্পদ হইতে আত্মসাৎ করিবে না, ২. কেহ আত্মসাৎ করিলে উহা গোপন করিবে না, ৩. কোন প্রতিবেশীকে কষ্ট দিবে না, ৪. কোন যিম্মীকে কষ্ট দিবে না, ৫. কোন ইমামকে গালমন্দ করিবেনা, ৬. পলায়ন করিবে না এবং ভয় করিতে থাকিবে।