📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 নামাযে কুরআন পাঠের স্বাদ

📄 নামাযে কুরআন পাঠের স্বাদ


হাদীস নং ১৯১ – হযরত জাবের (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত 'গাযওয়ায়ে যাতুর রিকা'তে বাহির হইলাম। মুসলমানদের এক ব্যক্তি এক মুশরিক ব্যক্তির স্ত্রীকে হস্তগত করিল। যখন রাসূলুল্লাহ ফিরিতেছেন, তখন তাহার স্বামী ফিরিল। সে অনুপস্থিত ছিল। তখন সে কসম করিল যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গীদের রক্ত প্রবাহিত না করিয়া ফিরিবে না। অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদচিহ্ন অনুসরণ করিয়া চলিল।

এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক স্থানে অবতরণ করিলেন এবং বলিলেন, কোন পুরুষ আমাদের এই রাত্রির রক্ষণাবেক্ষণ করিবে? তখন একজন মুহাজির ও একজন আনসারী সাহাবী সাড়া দিয়া বলিলেন, আমরা ইয়া রাসূলুল্লাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তোমরা উপত্যকার মুখে অবস্থান গ্রহণ কর। বর্ণনাকারী বলেন, তাহারা একটি উপত্যকায় অবতরণ করিয়াছিলেন। যখন উভয়ে উপত্যকা মুখে পৌঁছিলেন তখন আনসারী সাহাবী মুহাজির সাহাবীকে বলিলেন, আপনার পছন্দ বলুন, রাতের কোন অংশে আমি আপনাকে বিশ্রামের সুযোগ করিয়া দিব? প্রথম অংশে না শেষ অংশে। মুহাজির সাহাবী বলিলেন, প্রথম অংশে আমাকে বিশ্রামের সুযোগ দিন। অতঃপর মুহাজির সাহাবী শুইয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন এবং আনসারী সাহাবী দাঁড়াইয়া নামায পড়িতে আরম্ভ করিলেন।

এইদিকে ঐ ব্যক্তি আসিয়া উপস্থিত হইল। সে একটি মনুষ্য অবয়ব দেখিয়া বুঝিতে পারিল, এই ব্যক্তিই বাহিনীর পাহারাদার। তখন সে তাহাকে লক্ষ্য করিয়া তীর নিক্ষেপ করিল এবং তাহাকে বিদ্ধ করিল। সাহাবী তীরটি টান দিয়া খুলিয়া ফেলিয়া দিলেন এবং দৃঢ়পদে দাঁড়াইয়া রহিলেন। লোকটি পুণরায় তীর নিক্ষেপ করিল এবং তাহাকে বিদ্ধ করিল। সাহাবী পুণরায় তাহা বাহির করিয়া ফেলিয়া দিলেন এবং দৃঢ়পদে দাঁড়াইয়া রহিলেন। লোকটি তৃতীয় তীর নিক্ষেপ করিল এবং তাহাকে বিদ্ধ করিল। তিনি তীরটি বাহির করিয়া ফেলিয়া দিলেন অতঃপর রুকু সিজদা করিলেন এবং তাহার সঙ্গীকে জাগ্রত করিয়া বলিলেন, উঠিয়া বসুন আমি আর দাঁড়াইতে পারিতেছি না। মুহাজির সাহাবী লাফাইয়া উঠিলেন। লোকটি যখন দুইটি অবয়ব দেখিল তখন বুঝিতে পারিল তাহার সংবাদ পৌঁছিয়া গিয়াছে। তখন সে পলায়ন করিল।

মুহাজির সাহাবী যখন আনসারী সাহাবীকে দেখিলেন তাহার সর্বাঙ্গ রক্তে ভাসিয়া যাইতেছে তখন বলিয়া উঠিলেন, সুবহানাল্লাহ! আপনি প্রথম তীর নিক্ষিপ্ত হইবার সঙ্গে সঙ্গেই কেন আমাকে জাগাইলেন না? তিনি বলিলেন, আমি একটি সূরা তিলাওয়াত করিতেছিলাম। উহা শেষ না করিয়া ছাড়িয়া দিতে ইচ্ছা হইল না। যখন সে আমার প্রতি উপর্যুপরি তীর নিক্ষেপ করিতে লাগিল তখন রুকু সিজদা করিয়া আপনাকে জাগাইলাম। খোদার কসম! যদি আমার এই ভয় না হইত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই সীমান্ত রক্ষা করিবার আদেশ করিয়াছেন আমার দ্বারা উহা বিনষ্ট হইবে হয়ত আমি সূরাটি মধ্যখান হইতে ছাড়িয়া দিবার আগেই সে আমাকে হত্যা করিত অথবা আমি সূরাটি শেষ করিতাম।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 সিরিয়ার ফযীলত

📄 সিরিয়ার ফযীলত


হাদীস নং ১৯২- আবু ইদরীস হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তোমরা বহু সেনাদলে বিন্যস্ত হইবে। একটি বাহিনী শামে (সিরিয়ায়) থাকিবে, আরেকটি ইরাকে থাকিবে এবং আরেকটি ইয়ামানে থাকিবে। ইবনুল খাওয়ালানী বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার জন্য কোথায় যাওয়া উত্তম হইবে তাহা বলিয়া দিন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি শামে চলিয়া যাইও। যাহার পক্ষে ইহা সম্ভব না হয় সে যেন ইয়ামানে চলিয়া যায় এবং তথাকার জলাশয় হইতে পানি গ্রহণ করে। কেননা আল্লাহতায়ালা আমার জন্য শাম ও তাহার অধিবাসীদের ব্যাপারে জিম্মাদার হইয়াছেন।

হাদীস নং ১৯৩ - রাবীয়া বিন ইয়াযীদ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে এইরূপ বর্ণনা করিয়াছেন।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 তাহাদের মধ্যে আবদাল রহিয়াছে

📄 তাহাদের মধ্যে আবদাল রহিয়াছে


হাদীস নং ১৯৪ - ছফওয়ান বিন আব্দুল্লাহ বিন ছফওয়ান হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি ছিফফীন যুদ্ধের দিন বলিলেন, আয় আল্লাহ! শামের অধিবাসীদিগকে আপনার রহমত হইতে দূরে সরাইয়া দিন। ইহা শুনিয়া আলী (রাযিঃ) বলিলেন, শামের বিশাল জনগোষ্ঠীকে মন্দ বলিওনা কেননা তাহাদের মধ্যে এমন অনেক লোক রহিয়াছে যাহারা তোমরা যাহা দেখিতেছ উহাকে অপছন্দ করে এবং তাহাদের মধ্যে আবদাল রহিয়াছে।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি সিরিয়া চলিয়া যাইবে

📄 প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তি সিরিয়া চলিয়া যাইবে


হাদীস নং ১৯৫ - আব্দুল্লাহ বিন আমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে মানুষের সামনে এমন একটি সময় আসিবে যখন প্রত্যেক মুমিন ব্যক্তিই শামে চলিয়া যাইবে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px