📄 যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক রাত পাহারা দেয়
হাদীস নং ১৮৮ - ইবনে মুহাইরীয হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার পথে এক রাত পাহারা দেয় সে সকল মানুষ ও পশুর সমপরিমাণ কীরাত¹ ছাওয়াব লাভ করিবে।
টিকাঃ
১. এর অর্থ নিম্নোক্ত হাদীস হইতে বুঝা যায়-
(মান সাল্লা আ’লা জানাযাতিন ফালাহু ক্বিরাতুন ওয়ামান তাবিআ’হা হাত্তা ইয়ুক্বদ্বা দফনুহা ফালাহু ক্বিরাতানি, আহাদুহুমা আও আসগারুহুমা মিছলু উহুদ)
যে ব্যক্তি জানাযার নামায আদায় করে সে এক ক্বীরাত ছওয়াব পাইবে এবং যে মৃত্যের সহিত যাইবে এবং যাবৎ না তাহাকে সমাহিত করা হয় তাহার সঙ্গে থাকিবে তাহার জন্য দুই ক্বীরাত ছওয়াব হইবে। প্রতি ক্বীরাত বা বলিয়াছেন, ক্ষুদ্র ক্বীরাতটি "উহুদ" পাহাড় সমপরিমাণ হইবে। (জামে তিরমিযী, হাদাস নং ১০৪০)
📄 এক রাতের পাহারা একশত উট সদকাহ করার চাইতে উত্তম
হাদীস নং ১৮৯ - আব্দুল্লাহ বিন আমর হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, আল্লাহর পথে দুরুদুরু বক্ষে এক রাত পাহারা দেওয়া আমার নিকটে একশত উট সদকাহ করা অপেক্ষা অধিক পছন্দনীয়।
📄 তিনটি চোখ কখনো অগ্নিদগ্ধ হইবে না
হাদীস নং ১৯০ - আবু ইমরান আল আনসারী হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, তিনটি চক্ষু কখনও আগুনে দগ্ধ হইবে না। যে চোখ আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করিয়াছে, যে চোখ আল্লাহর কিতাব লইয়া জাগ্রত রহিয়াছে এবং যে চোখ আল্লাহর পথে পাহারা দিয়াছে।
📄 নামাযে কুরআন পাঠের স্বাদ
হাদীস নং ১৯১ – হযরত জাবের (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত 'গাযওয়ায়ে যাতুর রিকা'তে বাহির হইলাম। মুসলমানদের এক ব্যক্তি এক মুশরিক ব্যক্তির স্ত্রীকে হস্তগত করিল। যখন রাসূলুল্লাহ ফিরিতেছেন, তখন তাহার স্বামী ফিরিল। সে অনুপস্থিত ছিল। তখন সে কসম করিল যে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গীদের রক্ত প্রবাহিত না করিয়া ফিরিবে না। অতঃপর সে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পদচিহ্ন অনুসরণ করিয়া চলিল।
এদিকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক স্থানে অবতরণ করিলেন এবং বলিলেন, কোন পুরুষ আমাদের এই রাত্রির রক্ষণাবেক্ষণ করিবে? তখন একজন মুহাজির ও একজন আনসারী সাহাবী সাড়া দিয়া বলিলেন, আমরা ইয়া রাসূলুল্লাহ। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তোমরা উপত্যকার মুখে অবস্থান গ্রহণ কর। বর্ণনাকারী বলেন, তাহারা একটি উপত্যকায় অবতরণ করিয়াছিলেন। যখন উভয়ে উপত্যকা মুখে পৌঁছিলেন তখন আনসারী সাহাবী মুহাজির সাহাবীকে বলিলেন, আপনার পছন্দ বলুন, রাতের কোন অংশে আমি আপনাকে বিশ্রামের সুযোগ করিয়া দিব? প্রথম অংশে না শেষ অংশে। মুহাজির সাহাবী বলিলেন, প্রথম অংশে আমাকে বিশ্রামের সুযোগ দিন। অতঃপর মুহাজির সাহাবী শুইয়া ঘুমাইয়া পড়িলেন এবং আনসারী সাহাবী দাঁড়াইয়া নামায পড়িতে আরম্ভ করিলেন।
এইদিকে ঐ ব্যক্তি আসিয়া উপস্থিত হইল। সে একটি মনুষ্য অবয়ব দেখিয়া বুঝিতে পারিল, এই ব্যক্তিই বাহিনীর পাহারাদার। তখন সে তাহাকে লক্ষ্য করিয়া তীর নিক্ষেপ করিল এবং তাহাকে বিদ্ধ করিল। সাহাবী তীরটি টান দিয়া খুলিয়া ফেলিয়া দিলেন এবং দৃঢ়পদে দাঁড়াইয়া রহিলেন। লোকটি পুণরায় তীর নিক্ষেপ করিল এবং তাহাকে বিদ্ধ করিল। সাহাবী পুণরায় তাহা বাহির করিয়া ফেলিয়া দিলেন এবং দৃঢ়পদে দাঁড়াইয়া রহিলেন। লোকটি তৃতীয় তীর নিক্ষেপ করিল এবং তাহাকে বিদ্ধ করিল। তিনি তীরটি বাহির করিয়া ফেলিয়া দিলেন অতঃপর রুকু সিজদা করিলেন এবং তাহার সঙ্গীকে জাগ্রত করিয়া বলিলেন, উঠিয়া বসুন আমি আর দাঁড়াইতে পারিতেছি না। মুহাজির সাহাবী লাফাইয়া উঠিলেন। লোকটি যখন দুইটি অবয়ব দেখিল তখন বুঝিতে পারিল তাহার সংবাদ পৌঁছিয়া গিয়াছে। তখন সে পলায়ন করিল।
মুহাজির সাহাবী যখন আনসারী সাহাবীকে দেখিলেন তাহার সর্বাঙ্গ রক্তে ভাসিয়া যাইতেছে তখন বলিয়া উঠিলেন, সুবহানাল্লাহ! আপনি প্রথম তীর নিক্ষিপ্ত হইবার সঙ্গে সঙ্গেই কেন আমাকে জাগাইলেন না? তিনি বলিলেন, আমি একটি সূরা তিলাওয়াত করিতেছিলাম। উহা শেষ না করিয়া ছাড়িয়া দিতে ইচ্ছা হইল না। যখন সে আমার প্রতি উপর্যুপরি তীর নিক্ষেপ করিতে লাগিল তখন রুকু সিজদা করিয়া আপনাকে জাগাইলাম। খোদার কসম! যদি আমার এই ভয় না হইত যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেই সীমান্ত রক্ষা করিবার আদেশ করিয়াছেন আমার দ্বারা উহা বিনষ্ট হইবে হয়ত আমি সূরাটি মধ্যখান হইতে ছাড়িয়া দিবার আগেই সে আমাকে হত্যা করিত অথবা আমি সূরাটি শেষ করিতাম।