📄 পুলসিরাতের উপর দিয়া বাতাসের ন্যায় অতিক্রম করিবে
হাদীস নং ১৮৩ – আবু ছালেহ আল হিমসী হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, কিয়ামত দিবসে আল্লাহতায়ালা এমন কিছু লোককে উত্থিত করিবেন, যাহারা পুলসিরাতের উপর দিয়া বাতাসের ন্যায় অতিক্রম করিয়া যাইবে। তাহাদের না কোন হিসাব হইবে না আযাব। সাহাবাগণ বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কাহারা এই সৌভাগ্য লাভ করিবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বলিলেন, যাহারা সীমান্ত প্রহরারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিয়াছে।
📄 সীমান্ত পাহারার ফযীলত
হাদীস নং ১৮৪ – মাকহুল হইতে বর্ণিত, কা'ব ইবনে উজরাহ পারস্যের ভূমিতে সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত ছিলেন। ইতিমধ্যে সালমান তাহার নিকট দিয়া অতিক্রম করিলেন। তিনি তাহাকে দেখিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনি এখানে কি করিতেছেন? তিনি বলিলেন, সীমান্ত প্রহরায় নিয়োজিত রহিয়াছি। সালমান বলিলেন, আমি কি আপনাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি বাণী শুনাইবনা যাহা সীমান্ত প্রহরার কাজে আপনাকে প্রেরণা যোগাইবে? আমি বলিলাম, অবশ্যই শুনাইবেন, আল্লাহ আপনাকে রহম করুন। সালমান বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, আল্লাহর পথে একদিনের সীমান্ত প্রহরা একমাস পর্যন্ত দিনের বেলায় রোযা ও রাতের বেলায় ইবাদত করার চেয়েও উত্তম এবং যে ব্যক্তি সীমান্ত প্রহরারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিবে সে কবরের ফিৎনা হইতে নিরাপদ থাকিবে এবং সে যেই নেক আমল করিত কিয়ামত পর্যন্ত উহা তাহার জন্য চলমান থাকিবে।
📄 যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে ঘোড়ার লাগাম ধারণ করে
হাদীস নং ১৮৫ - হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, অচিরেই মানুষের সামনে এমন সময় উপস্থিত হইবে যখন সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী সেই ব্যক্তি হইবে যে আল্লাহর পথে তাহার ঘোড়ার লাগাম ধারণ করিয়া আছে, যখনই কোন ভীতিপ্রদ আওয়াজ শোনে তখনই সে তাহার ঘোড়ার পিঠে সোজা হইয়া বসে এবং মৃত্যুর সম্ভাব্য স্থানসমূহে মৃত্যুকে খুঁজিয়া ফেরে এবং ঐ ব্যক্তি যে তাহার সামান্য কিছু বকরী লইয়া এইসব পাহাড়ী উপত্যকাসমূহের কোন একটিতে অবস্থান গ্রহণ করে। সুষ্ঠুরূপে নামায আদায় করে, যাকাত প্রদান করে এবং কল্যাণ ব্যতীত অন্য সকল ব্যাপারে নির্জনতা অবলম্বন করে। মৃত্যু পর্যন্ত সে এই অবস্থায় অবিচল থাকে।
📄 কল্যাণ ঐ বান্দার জন্য
হাদীস নং ১৮৬ - সাহাবী হযরত আব্দুল্লাহ বিন হারেস বিন জাঝ আযযাবীদী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তাহার নিকট দুইজন ব্যক্তি আসিলেন। তিনি উহাদিগকে দেখিয়া মারহাবা বলিলেন এবং তিনি যেই বালিশের উপর ঠেস দিয়া বসিয়াছিলেন উহা তাহাদের দিকে আগাইয়া দিলেন। তাহারা বলিলেন, আমরা এইজন্য আসি নাই। আমরা শুধু এই জন্য আসিয়াছি যে, আপনার নিকট হইতে কিছু শুনিব এবং উহা দ্বারা উপকৃত হইব। তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তি তাহার মেহমানকে সম্মান করে না সে না মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে, না ইবরাহীম (আঃ) হইতে। কল্যাণ ঐ বান্দার জন্য যে আল্লাহর পথে ঘোড়ার মাথা জড়াইয়া ধরিয়া সাঁঝের বেলায় উপনীত হইল এবং এক টুকরা রুটি ও ঠাণ্ডা পানি দ্বারা ইফতার সারিল এবং ধ্বংস ঐ চর্বনকারীর জন্য যে গরুর মত চাবাইতে থাকে (এবং বলিতে থাকে) ওহে বৎস! ইহা লইয়া যাও, উহা লইয়া আস। এই বিপুল কর্মব্যস্ততায় আল্লাহর কথা তাহার স্মরণ হয় না।