📄 যে মানুষের অকল্যাণ হইতে দূরে থাকে
হাদীস নং ১৭০ - ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাদের নিকটে আসিলেন তখন তাহারা একটি মজলিসে বসিয়াছিলেন। তিনি আমাদিগকে বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী ব্যক্তির কথা বলিব না? আমরা বলিলাম, অবশ্যই বলিবেন ইয়া রসূলুল্লাহ! তিনি বলিলেন, যে পুরুষ আল্লাহর পথে তাহার ঘোড়ার মাথা ধরিয়া রাখে যাবৎ না সে মৃত্যুবরণ করে বা নিহত হয়, তিনি বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে তাহার পরবর্তীজনের কথা বলিবনা? আমরা বলিলাম, বলুন ইয়া রাসুলাল্লাহ! তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তি কোন পাহাড়ের নির্জনস্থানে অবস্থান করে, সুষ্ঠুরূপে নামায আদায় করে, যাকাত প্রদান করে এবং মানুষের অকল্যাণ হইতে দূরে সরিয়া থাকে। তিনি বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে নিকৃষ্টতম মানুষের কথা বলিব না? আমরা বলিলাম, বলুন ইয়া রাসূলাল্লাহ! তিনি বলিলেন, যাহার নিকটে আল্লাহর নামে চাওয়া হয় এরপরও সে প্রদান করে না।
📄 তোমরা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক
হাদীস নং ১৭১ - মুবারক বিন ফাযালাহ হইতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহতায়ালার বাণী- (ইয়া আইয়্যুহাল্লাযিনা আমানুছবিরু ওয়া সাবিরু ওয়া রবিতু) [হে ঈমানদারগণ! তোমরা ধৈর্য্য ধারণ কর, ধৈর্য্যে প্রতিযোগিতা কর এবং সদা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাক। (আলে ইমরান, ২০০)] প্রসঙ্গে হাসানকে বলিতে শুনিয়াছেন, যে, (উক্ত আয়াতে আল্লাহতায়ালা) তাহাদিগকে দ্বীনের বিধি বিধান ধৈর্য্যের সাথে পালন করিতে আদেশ করিয়াছেন। তাহারা যেন সুখ-দুঃখ, সচ্ছলতা-অসচ্ছলতা কোন অবস্থাতেই উহাকে পরিত্যাগ না করে এবং তাহাদিগকে কাফেরদের মুকাবেলায় দৃঢ়পদ থাকিতে ও মুশরিকদের মোকাবেলায় সদা প্রস্তুত থাকিতে আদেশ করিয়াছেন।
📄 আল্লাহর পথে সদা প্রস্তুত থাক
হাদীস নং ১৭২ - মা'মার হইতে বর্ণিত ক্বাতাদাহ উপরোক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলিতেন, মুশরিকদের মুকাবেলায় দৃঢ়পদ থাক এবং আল্লাহর পথে সদা প্রস্তুত থাক।
📄 একদিন একরাত সীমান্ত পাহারা
হাদীস নং ১৭৩ - শামের এক ব্যক্তি হইতে বর্ণিত, শুরাহবীল ইবনুস সামত আল কিনদী বলেন, আমরা দীর্ঘ দিন পর্যন্ত সীমান্ত প্রহরায় দূর্গে অবস্থান করিলাম। (একদিন) আমি আমার পরিধেয় বস্ত্র নিরীক্ষণ করিবার জন্য সেনাবাহিনী হইতে কিছুটা তফাতে আসিলাম, কেননা উক্ত বস্ত্রে আমার কষ্ট হইতেছিল। ইত্যবসরে সালমান আমার নিকট দিয়া অতিক্রম করিলেন, তিনি বলিলেন, হে আবুস সামত! কি করিতেছ? আমি অবস্থা জানাইলাম। তিনি বলিলেন, তোমার ব্যাপারে আমার ধারনা হইল, তুমি উম্মুস সামতের নিকটে থাকিবে এবং তোমার পক্ষ হইতে সেই এই কাজ করিয়া দিবে, ইহাই তোমার পছন্দ। আমি বলিলাম, খোদার কসম! ইহাই আমার পছন্দ। তিনি বলিলেন ইহা করিবে না, কেননা আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিতে শুনিয়াছি, একদিন ও একরাতের সীমান্ত প্রহরা বা বলিয়াছেন, একদিন বা একরাতের সীমান্ত প্রহরা এক মাস পর্যন্ত রোযা রাখা ও রাত্রি জাগিয়া ইবাদত করার চেয়েও উত্তম এবং যে ব্যক্তি সীমান্ত প্রহরারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিবে তাহার জন্য উক্ত বিনিময় অবিরাম চলিতে থাকিবে এবং তাহার জন্য রিযক জারি হইবে এবং সে (কবরের ভয়াবহ অবস্থা) ফাততান হইতে নিরাপদ থাকিবে। যদি চাও তাহা হইলে পাঠ কর-
(ওয়াল্লাযিনা হাজারু ফী সাবীলিল্লাহি ছুম্মা ক্বুতিলু আও মাতু লাইয়ারযুক্বান্নাহুমুল্লাহু রিযক্বান হাসানান...)
[এবং যাহারা হিজরত করিয়াছে আল্লাহর পথে, অতঃপর নিহত হইয়াছে অথবা মারা গিয়াছে তাহাদিগকে আল্লাহ অবশ্যই উৎকৃষ্ট জীবিকা দান করিবেন; আর নিশ্চয়ই আল্লাহ, তিনিতো সর্বोत्কৃষ্ট রিযিকদাতা। তিনি তাহাদিগকে অবশ্যই এমন স্থানে দাখিল করিবেন যাহা তাহারা পছন্দ করিবে এবং আল্লাহতো সম্যক প্রজ্ঞাময়, পরম সহনশীল। (হাজ্জ, আয়াত: ৫৮, ৫৯)]