📄 সর্বোত্তম মানুষ
হাদীস নং ১৬৫ - হাসান হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের ভাসমান গোত্রসমূহের এক ব্যক্তি উমর (রাযিঃ) কে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, হে সর্বোত্তম মানুষ! হে সর্বোত্তম মানুষ! উমর বলিলেন, লোকটি কি বলিতেছে? বলা হইল, সে বলিতেছে, হে সর্বোত্তম মানুষ! তিনি বলিলেন, তোমাদের ধ্বংস হোক! আমি কক্ষনো সর্বোত্তম মানুষ নই। লোকটি বলিল, খোদার কসম হে আমীরুল মুমিনীন! নিঃসন্দেহে আমি আপনাকে সর্বোত্তম মানুষ ভাবিতাম।
উমর বলিলেন, আমি কি তোমাকে সর্বোত্তম মানুষের সংবাদ দিব না? লোকটি বলিল, অবশ্যই, তিনি বলিলেন, সর্বোত্তম মানুষ সে যে তাহার সহায় সম্পদ, পরিবার পরিজনের মধ্যে অবস্থান করিতেছিল ইত্যবসরে তাহার নিকট ইসলাম পৌঁছিল, তখন সে তাহার কিছু উট লইয়া কোন হিজরতের স্থানে চলিয়া গেল এবং তাহা বিক্রি করিয়া আল্লাহর পথের উপকরণ যোগাড় করিল। অতঃপর মুসলমান এবং শত্রুদিগের মাঝে তাহার রাত্রদিন কাটিতে লাগিল। এই ব্যক্তিই হইল সর্বোত্তম মানুষ।
লোকটি বলিল, ইয়া আমিরুল মুমিনীন! আমি একজন গ্রাম্য ব্যক্তি। আমার বহু ব্যস্ততা রহিয়াছে। আমার এই এই কাজ রহিয়াছে,....... অতএব আপনি আমাকে এমন একটি কাজের আদেশ দিন আমি যাহার উপর নির্ভর করিব এবং অন্যের নিকটে পৌঁছাইব। উমর বলিলেন, তোমার হস্তটি আমাকে দেখিতে দাও। লোকটি তাহার হাত তাঁহাকে দিল। উমর তখন বলিলেন, আল্লাহতায়ালার ইবাদত করিবে এবং তাহার সহিত কোন কিছুকে শরীক করিবেনা। সুষ্ঠুরূপে নামায আদায় করিবে, যাকাত প্রদান করিবে, রমাযান মাসের রোযা রাখিবে, বাইতুল্লাহর হজ্জ করিবে, উমরাহ করিবে, আনুগত্য করিবে, প্রকাশ্যতাকে অবলম্বন করিবে এবং গোপনীয়তা হইতে দূরে থাকিবে। এমন সকল বিষয় হইতে দূরে থাকিবে যাহা আলোচিত ও প্রচারিত হইলে তুমি লজ্জিত ও লাঞ্ছিত হইবে। লোকটি বলিল, ইয়া আমিরুল মুমিনীন! আমি কি এই সব পালন করিতে থাকিব এবং যখন আমার পালনকর্তার মুখোমুখি হইব তখন বলিব, উমর আমাকে এই সবের আদেশ করিয়াছেন? উমর বলিলেন, ইহা গ্রহণ কর এবং যখন তোমার পালনকর্তার মুখোমুখি হইবে তখন যাহা খুশী বলিও।
📄 সর্বোচ্চ মর্যাদা কার?
হাদীস নং ১৬৬ - উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) হইতে বর্নিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ছিলাম তাহার নিকটে কিছু লোক ছিল। এমতাবস্থায় একব্যক্তি আসিয়া বলিল, ইয়া রাসূলূল্লাহ! আল্লাহতায়ালার নিকটে তাহার নবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের পরে কে সর্ব্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যে ব্যক্তি তাহার শক্তি ও সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করে অবশেষে ঘোড়ার পিঠে উপবিষ্ট অবস্থায় বা ঘোড়ার লাগাম ধরিয়া আছে এমন অবস্থায় তাহার নিকটে আল্লাহতায়ালার আহ্বান পৌঁছে। লোকটি বলিল, এরপর কোন ব্যক্তি? হে আল্লাহর নবী বর্ণনাকারী! বলেন, ইহা শুনিয়া রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে জোরে চাপড় মারিলেন এবং বলিলেন, এক পার্শ্বে অবস্থানরত ব্যক্তি যে উত্তমরূপে আল্লাহতায়ালার ইবাদত করে এবং মানুষকে তাহার অনিষ্ট হইতে নিরাপদ রাখে।
লোকটি বলিল, কোন ব্যক্তি আল্লাহরতায়ালার নিকট সর্ব নিকৃষ্ট? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যে আল্লাহর সাথে শরীক করে। লোকটি বলিল এরপর কে? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, যালেম ক্ষমতাবান ব্যক্তি যে ন্যায়ের ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও উহা হইতে বিরত থাকে।
📄 যে তাহার ঘোড়ার পিঠে উপবিষ্ট
হাদীস নং ১৬৭: মুজাহিদ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উম্মে মুবাশির বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কোন ব্যক্তি আল্লাহতায়ালার নিকটে সর্বোত্তম মর্যাদার অধিকারী? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তরে বলিলেন, ঐ ব্যক্তি যে তাহার ঘোড়ার পিঠে উপবিষ্ট, সেও শত্রুকে ভীতি প্রদর্শন করে এবং তাহারাও তাহাকে ভীতি প্রদর্শন করে। অতঃপর তিনি হাত দ্বারা হিজাজের দিকে ইঙ্গিত করিলেন। অতঃপর বলিলেন, এবং যে ব্যক্তি সুষ্ঠুরূপে নামায আদায় করে এবং তাহার সম্পদ হইতে আল্লাহতায়ালার হক্ব প্রদান করে।
📄 উত্তম মানুষ ও নিকৃষ্ট মানুষ
হাদীস নং ১৬৮- আবু সাঈদ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তবুকের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে বক্তৃতা করিলেন, তিনি তখন একটি খর্জুর বৃক্ষের সহিত হেলান দিয়া বসা ছিলেন। তিনি বলিলেন, আমি কি তোমাদিগকে উত্তম মানুষ ও নিকৃষ্টতম মানুষের সংবাদ দিবনা? উত্তম মানুষ হইল ঐ ব্যক্তি যে ঘোড়ার পিঠে বা উটের পিঠে অথবা পদাতিক অবস্থায় আল্লাহর পথে কাজ করিয়া যায় অবশেষে এই অবস্থায় তাহার মৃত্যু উপস্থিত হয়। এবং নিকৃষ্টতম লোকদের অন্যতম ঐ ব্যক্তি যে, পাপাচারে দুঃসাহসী, সে আল্লাহর কিতাব পাঠ করে অথচ উহার কোন কিছু হইতেই বিরত থাকেনা।