📄 হে আল্লাহর বাহিনী আরোহন কর
হাদীস নং ১৬২ - আসীর ইবনে জাবের হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, অতঃপর একজন আহ্বানকারী আহ্বান করিল, হে আল্লাহর বাহিনী! আরোহণ কর এবং সুসংবাদ গ্রহণ কর! তিনি বলেন, ইহা শুনিয়া তিনি চাদর হেঁচড়াইয়া আসিলেন। অতঃপর লোকেরা তাহাদের মোকাবেলায় সারিবদ্ধ হইয়া গেল। তিনি বলেন, চাদরওয়ালা তাহার তরবারী কোষমুক্ত করিলেন এবং তরবারীর খাপ ভাঙ্গিয়া দূরে নিক্ষেপ করিলেন অতঃপর বলিতে লাগিলেন, কামনা কর! কামনা কর!! সকল প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করুক অতঃপর জান্নাতের দর্শন লাভ না করিয়া আর ফিরিবে না।
হে লোকসকল! কামনা কর! কামনা কর!! তিনি ইহা বলিতে লাগিলেন এবং অগ্রসর হইতে লাগিলেন। লোকেরাও তাহার সাথে আগুয়ান হইল। তিনি ইহা বলিতে বলিতে চলিতেছেন হঠাৎ একটি তীর আসিয়া তাহার হৃদপিণ্ডে বিদ্ধ হইল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেই স্থানেই নিহত হইয়া গেলেন যেন বহুকাল পূর্বে মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। হাম্মাদ তাহার বর্ণনায় বলিয়াছেন, অতঃপর আমরা তাহাকে মাটি দ্বারা ঢাকিয়া দিলাম।
📄 নিঃসন্দেহে ইহা জান্নাত
হাদীস নং ১৬৩ - আনাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ ইয়ামামার যুদ্ধের দিন খালেদ বিন ওয়ালিদ লোকদের নিয়া অগ্রসর হইলেন। তাহারা একটি নদীর নিকটে উপস্থিত হইলে খাটো দ্রব্যসমূহ তাহাদের কোমরে গুঁজিয়া নদী পার হইয়া গেলেন। অতঃপর কিছু সময় পর্যন্ত লড়াই হইল, মুসলমানগণ পিঁছু হটিলেন। তখন খালেদ বিন ওয়ালিদ কিছু সময় মাথা নিচু করিয়া ভূমির দিকে তাকাইয়া রহিলেন, আমি তাহার ও বারা এর মধ্যখানে বিদ্যমান ছিলাম অতঃপর তিনি মাথা উঠাইয়া কিছু সময় আসমানের দিকে তাকাইয়া রহিলেন। তাহার অভ্যাস ছিল কোন বিষয় তাহাকে পেরেশান করিলে তিনি কিছু সময় ভূমির দিকে তাকাইয়া থাকিতেন অতঃপর কিছু সময় আসমানের দিকে তাকাইয়া থাকিতেন। এর পর তাহার নিকটে তাহার কর্তব্য কর্ম স্থির হইত।
কেহ বলিলেনঃ বারা ভরসা করিয়া বসিয়া আছেন...... তিনি বলিলেন, ভাই! খোদার কসম আমি দেখিতেছি। যখন খালেদ আসমানের দিকে মাথা তুলিলেন এবং তাহার কর্তব্য কর্ম স্থির হইল। তিনি বলিলেন, বৎস থাম, সে বলিল, এখন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ এখন, তখন বারা তাহার মাদী ঘোড়ার পিঠে আরোহণ করিলেন অতঃপর আল্লাহতায়ালার হামদ ও ছানা করিলেন এবং বলিলেন, হে লোক সকল! খোদার কসম নিঃসন্দেহে ইহা জান্নাত। আমার পক্ষে মদীনায় ফিরিয়া যাইবার কোন পথ নাই অতঃপর কিছুক্ষণ পর্যন্ত তাহাদিগকে উদ্বুদ্ধ করিলেন অতঃপর তিনি ঘোড়া ছুটাইলেন। আমি যেন এখনও উহাকে লেজ মুচড়িয়া ধাবিত করিতে দেখিতেছি। অতঃপর তাহার বাহিনী লইয়া তাহাদের উপর হামলা করিলেন এবং আল্লাহতায়ালা মুশরিকদিগকে পরাজিত করিলেন।
📄 মর্দে মুজাহিদ
হাদীস নং ১৬৪ - আনাস ইবনে মালেক হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন মদীনার দেয়ালে একটি ভগ্নস্থান ছিল। ইয়ামামার মুহাক্কাম সেই স্থানে পা রাখিয়া গাহিতে আরম্ভ করিল- সে ছিল বিশাল বপু- সে বলিতেছিলঃ আমি ইয়ামামার মুহাক্কাম, আমি অবতরণস্থলকে ঢাকিয়া ফেলি। আমি এই, আমি সেই। ইতিমধ্যে বারা তাহার নিকটে আসিলেন। তাহার মেরুদন্ডে ব্যথা ছিল। সে আঘাত করার সুযোগ পাইয়া বারাকে আঘাত করিল। তিনি ঢাল দ্বারা তাহা প্রতিহত করিলেন। বারা তাহাকে আঘাত করিলেন এবং তাহার পা কাটিয়া ফেলিলেন অতঃপর তাহাকে হত্যা করিলেন। মুহাক্কামের সহিত একটি চওড়া তরবারী ছিল। বারা তাহার তরবারী ফেলিয়া মুহাক্কামের চওড়া তরবারীটি নিলেন এবং উহা দ্বারা লড়াই করিলেন। এক পর্যায়ে উহা ভাঙ্গিয়া গেলে তিনি বলিলেন, তোর যাহা অবশিষ্ট রহিয়াছে আল্লাহ উহার মন্দ করুন, অতঃপর উহা ফেলিয়া দিলেন এবং তাহার তরবারীর নিকটে আসিয়া উহা লইলেন।
📄 সর্বোত্তম মানুষ
হাদীস নং ১৬৫ - হাসান হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আরবের ভাসমান গোত্রসমূহের এক ব্যক্তি উমর (রাযিঃ) কে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, হে সর্বোত্তম মানুষ! হে সর্বোত্তম মানুষ! উমর বলিলেন, লোকটি কি বলিতেছে? বলা হইল, সে বলিতেছে, হে সর্বোত্তম মানুষ! তিনি বলিলেন, তোমাদের ধ্বংস হোক! আমি কক্ষনো সর্বোত্তম মানুষ নই। লোকটি বলিল, খোদার কসম হে আমীরুল মুমিনীন! নিঃসন্দেহে আমি আপনাকে সর্বোত্তম মানুষ ভাবিতাম।
উমর বলিলেন, আমি কি তোমাকে সর্বোত্তম মানুষের সংবাদ দিব না? লোকটি বলিল, অবশ্যই, তিনি বলিলেন, সর্বোত্তম মানুষ সে যে তাহার সহায় সম্পদ, পরিবার পরিজনের মধ্যে অবস্থান করিতেছিল ইত্যবসরে তাহার নিকট ইসলাম পৌঁছিল, তখন সে তাহার কিছু উট লইয়া কোন হিজরতের স্থানে চলিয়া গেল এবং তাহা বিক্রি করিয়া আল্লাহর পথের উপকরণ যোগাড় করিল। অতঃপর মুসলমান এবং শত্রুদিগের মাঝে তাহার রাত্রদিন কাটিতে লাগিল। এই ব্যক্তিই হইল সর্বোত্তম মানুষ।
লোকটি বলিল, ইয়া আমিরুল মুমিনীন! আমি একজন গ্রাম্য ব্যক্তি। আমার বহু ব্যস্ততা রহিয়াছে। আমার এই এই কাজ রহিয়াছে,....... অতএব আপনি আমাকে এমন একটি কাজের আদেশ দিন আমি যাহার উপর নির্ভর করিব এবং অন্যের নিকটে পৌঁছাইব। উমর বলিলেন, তোমার হস্তটি আমাকে দেখিতে দাও। লোকটি তাহার হাত তাঁহাকে দিল। উমর তখন বলিলেন, আল্লাহতায়ালার ইবাদত করিবে এবং তাহার সহিত কোন কিছুকে শরীক করিবেনা। সুষ্ঠুরূপে নামায আদায় করিবে, যাকাত প্রদান করিবে, রমাযান মাসের রোযা রাখিবে, বাইতুল্লাহর হজ্জ করিবে, উমরাহ করিবে, আনুগত্য করিবে, প্রকাশ্যতাকে অবলম্বন করিবে এবং গোপনীয়তা হইতে দূরে থাকিবে। এমন সকল বিষয় হইতে দূরে থাকিবে যাহা আলোচিত ও প্রচারিত হইলে তুমি লজ্জিত ও লাঞ্ছিত হইবে। লোকটি বলিল, ইয়া আমিরুল মুমিনীন! আমি কি এই সব পালন করিতে থাকিব এবং যখন আমার পালনকর্তার মুখোমুখি হইব তখন বলিব, উমর আমাকে এই সবের আদেশ করিয়াছেন? উমর বলিলেন, ইহা গ্রহণ কর এবং যখন তোমার পালনকর্তার মুখোমুখি হইবে তখন যাহা খুশী বলিও।