📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 শহীদের বাসস্থান ও স্ত্রী

📄 শহীদের বাসস্থান ও স্ত্রী


হাদীস নং ১৫৮ - হুমাইদ বিন হেলাল হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু রেফায়া যখন নামায পড়িতেন এবং নামায শেষে দু'আ করিতেন তখন তাহার দু'আর শেষ ভাগে বলিতেন, ইয়া আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য উত্তম হইবে এবং যখন মৃত্যু উত্তম হইবে তখন আমাকে এমন পুত পবিত্র মৃত্যু দান করুন যে, উহার পবিত্রতার কারণে আমার যে মুসলমান ভাই উহা শুনিবে সেই ঈর্ষান্বিত হইবে এবং আমাকে আপনার পথের নিহত বানান এবং আমাকে আমা হইতে বিচ্ছিন্ন রাখুন।

বর্ণনাকারী বলেন, কিছু দিন পর তিনি আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ (রাযিঃ)-এর নেতৃত্বাধীন একটি সেনাদলের সহিত অভিযানে বাহির হইলেন। সেই সেনাদল হইতে ক্ষুদ্র একটি দল একটি অভিযানে বাহির হইলেন। ইহাদের অধিকাংশ ছিলেন বনী হানীফা গোত্রের। তিনি বলিলেন, আমি এই দলের সাথে যাইব। আবু ক্বাতাদা বলিলেন, এখানে বনূ (সাদা) র কেউ নাই এবং আপনার গৃহেও কেউ নাই। তিনি বলিলেন, এই ব্যাপারে আমার সংকল্প স্থির হইয়া গিয়াছে, আমি যাইতেছি। তিনি তাহাদের সহিত চলিলেন। দলটি রাত্রি বেলায় দুশমনের একটি দূর্গের চারপাশ প্রদক্ষিণ করিল। তিনি নামাযরত অবস্থায় রাত্রি কাটাইলেন। যখন রাত্রি শেষ প্রহর হইল তিনি ঢালে মাথা দিয়া শুইলেন এবং ঘুমাইয়া পড়িলেন।

এদিকে তাহার সঙ্গীগণ ভোর বেলায় ভাবিতে লাগিলেন কিভাবে দূর্গের মুখোমুখি হওয়া যায়, কিভাবে উহাতে প্রবেশ করা যায়! এবং তিনি যেখানে ঘুমাইয়া ছিলেন ঘুমাইয়া রহিলেন, সঙ্গীগণ তাহাকে ভুলিয়া গেলেন। কিন্তু দুশমন তাহাকে দেখিতে পাইল এবং তিনজন সুঠাম দেহের সৈন্য নামাইল। তাহারা আসিয়া তাহার তরবারী হস্তগত করিয়া ফেলিল। এদিকে তাহার সঙ্গীগণ বলিয়া উঠিলেন, আবু রেফায়াকে তো আমরা ভুলিয়া গিয়াছি তিনি যেখানে ছিলেন সেখানেই তো রহিয়া গিয়াছেন। তাহারা তাহার নিকটে আসিলেন এবং দেখিলেন কাফের সৈন্যরা তাহাকে হত্যা করিয়া তাহার অস্ত্র শস্ত্র ইত্যাদি লুণ্ঠন করিতে চাহিতেছে। তাহারা উহাদিগকে তাড়াইয়া দিলেন এবং তাহাকে টানিয়া নিয়া আসিলেন। তখন আব্দুল্লাহ বিন সামুরাহ বলিলেন, আমাদের বনী আদী গোত্রের ভাই কখন যে তাহার নিকটে শাহাদাত আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে তিনি টেরও পান নাই।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 স্বপ্নের ব্যাখ্যা

📄 স্বপ্নের ব্যাখ্যা


হাদীস নং ১৫৯ - সিলাহ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি স্বপ্নে দেখিলাম যেন আবু রিফায়া একটি দ্রুতগামী উটের পিঠে সওয়ার এবং আমি একটি ধীরগতি উটের পিঠে। তিনি কিছুদূর গিয়া আমার জন্য অপেক্ষা করেন, যখন আমি তাহার এতটুকু নিকটবর্তী হই যে, তিনি আমার কণ্ঠস্বর শুনিবেন তখন তিনি পুনরায় ধাবিত হন এবং আমি তাহার অনুসরণ করি। সিলাহ বলেন, আমি ইহার এই ব্যাখ্যা করিলাম যে, আমি আবু রিফায়ার পথে চলিব এবং তাহার তিরোধানের পরও কর্মের ঝামেলা পোহাইব।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 সফরসঙ্গীর খিদমত

📄 সফরসঙ্গীর খিদমত


হাদীস নং ১৬০ - হুমাইদ ইবনে হেলাল হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু রেফায়া বলিয়াছেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে গেলাম তিনি তখন খুতবা দিতেছিলেন। আমি আরয করিলাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! একজন মুসাফির ব্যক্তি, দ্বীন সম্পর্কে জানিতে চায় সে জানেনা তাহার দ্বীন কি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবা ছাড়িয়া আমার প্রতি মনোযোগী হইলেন ও আমার নিকটে আসিলেন। একটি কুরসী আনা হইল আমার মনে হইল উহার পায়াগুলো লোহার। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উহাতে বসিলেন এবং আল্লাহতায়ালা যা তাহাকে শিক্ষা দিয়াছেন আমাকে তাহা শিক্ষা দিতে আরম্ভ করিলেন। অতঃপর তাঁহার অসম্পূর্ণ খুতবা সম্পূর্ণ করিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আবু রেফায়া বলিতেন, যেদিন আল্লাহতায়ালা আমাকে সূরায়ে বাকারা শিক্ষা দিয়াছেন সেদিন হইতে উহা আমার হাত ছাড়া হয় নাই, আমি কুরআনের অন্য সূরা যাহা ধারণ করিয়াছি উহার সাথেই ধারণ করিয়াছি। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি সফরে তাহার সঙ্গীবৃন্দের জন্য পানি গরম করিতেন এবং বলিতেন, তোমরা ইহা দ্বারা উত্তমরূপে উযূ কর এবং আমি উহা দ্বারা উত্তমরূপে উযূ করিব অতঃপর তিনি ঠান্ডা পানি দ্বারা উযূ করিতেন।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 তিন প্রকারের লোক

📄 তিন প্রকারের লোক


হাদীস নং ১৬১ - আসীর ইবনে জাবের হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, কুফায় অবস্থানকালে আমার একজন সঙ্গী আমাকে বলিলেন, তোমার কি একজন লোককে দেখিবার ইচ্ছা আছে? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। সে বলিল, এই হইল তাহার রাস্তা, এবং আমার ধারণা তিনি এখনই আমাদের নিকট দিয়া অতিক্রম করিবেন। আমরা তাহার অপেক্ষায় বসিয়া রহিলাম।

ইত্যবসরে পুরাতন চাদর পরিহিত একব্যক্তি অতিক্রম করিলেন, লোকেরা তাহার পিছনে পিছনে চলিতেছিল এবং তিনি তাহাদের দিকে ঘুরিয়া কর্কশ ভাষা ব্যবহার করিতেছিলেন কিন্তু লোকেরা বিরক্ত হইতেছিল না। আমরাও লোকদের সহিত চলিলাম। তিনি কুফার মসজিদে প্রবেশ করিলেন আমরাও তাহার সহিত প্রবেশ করিলাম। তিনি এক কোণে একটি খুঁটির দিকে গিয়া দুই রাকাত নামায আদায় করিলেন, অতঃপর আমাদের দিকে ঘুরিয়া বসিলেন এবং বলিলেন, হে লোক সকল! আমার ও তোমাদের মাঝে এমন কি ঘটিয়াছে যে তোমরা প্রত্যেক গলিতেই আমার পিছু নাও। আমি একজন দুর্বল মানুষ, আমার প্রয়োজন থাকে অথচ তোমাদের কারণে আমি তা পূরণ করিতে পারিনা। এমন করিবে না, আল্লাহ তোমাদিগকে রহম করুন। আমার নিকটে কারো কোন প্রয়োজন থাকিলে এখানে বলিতে পার।

কিছুক্ষণ পর বলিলেন, এই মজলিসে তিন ধরনের লোক থাকে। (প্রথমত) ফক্বীহ মুমিন, (দ্বিতীয়ত) এমন মুমিন যে দ্বীনের জ্ঞান লাভ করে নাই, (তৃতীয়ত) মুনাফিক। দুনিয়াতে এর একটি উদাহরণ রহিয়াছে, আর তাহা হইল বৃষ্টি। ইহা আসমান হইতে ভূমিতে বর্ষিত হয় এবং পত্রবহুল, পোক্তা, ফলবান বৃক্ষে পৌঁছে, ফলে উহার পত্র পল্লব আরো সজীব হয়, তাহার পরিপক্কতা বৃদ্ধি পায়, এবং উহার ফলসমূহ আরো সুস্বাদু হইয়া যায় এবং এই বৃষ্টির পানি পত্র বহুল এমন পোক্তা বৃক্ষেও পৌঁছিয়া থাকে যাহাতে ফল নাই ফলে উহার সেই গাছের পরিপক্কতা বৃদ্ধি পায়। তাহার পাতা পল্লব আরো সজীব হয় এবং উহাতে ফল আসে ফলে সে উপরোক্ত প্রকারের অর্ন্তভূক্ত হইয়া যায়। এবং এই পানি মৃত শুষ্ক বৃক্ষেও পৌঁছিয়া থাকে কিন্তু তাহা উহাকে ছিন্ন ভিন্ন করিয়া ভাসাইয়া লইয়া যায়। অতঃপর তিনি এই আয়াতটি তিলাওয়াত করিলেন,

(ওয়া নুনাযঝিলু মিনাল কুরআনি মা হুয়া শিফাউও ওয়া রাহমাতুল লিল মু’মিনিনা ওয়ালা ইয়াযিদুয যালিমিনা ইল্লা খাসারা)

[আমি অবতীর্ণ করি কুরআন, যাহা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত কিন্তু উহা যালিমদের ক্ষতিই বৃদ্ধি করে (বনী ইসরাঈল, আয়াত: ৮২)]

এবং বলিলেন, ইয়া আল্লাহ! আমাকে এমন শাহাদাত নসীব করুন যাহার সুসংবাদ উহার কষ্টের চেয়ে এবং যাহার নিরাপত্তা উহার ভীতির চেয়ে অগ্রগামী হইবে, যাহার মধ্যে আপনি আমার জন্য জীবন ও রিযিকের ফয়সালা করিবেন অতঃপর তিনি নিশ্চুপ হইলেন। আসীর বলেন, আমার সঙ্গী আমাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, লোকটিকে কেমন দেখিলে? আমি বলিলাম আমার আগ্রহই বাড়িয়া চলিয়াছে এবং তিনি আমাদের জন্য এমন লোক নহেন যাহাকে পরিত্যাগ করিব। অনন্তর আমরা তাহার সহিত রহিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযানের জন্য একটি দল গঠন হইল। সেই চাদরওয়ালা ব্যক্তি উহার সহিত বাহির হইলেন আমরাও তাহার সহিত বাহির হইলাম। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর পর্যায়ক্রমে ভ্রমণ ও যাত্রাবিরতি হইতে লাগিল। অবশেষে দুশমনের নিকটে পৌঁছিলাম।

ফন্ট সাইজ
15px
17px