📄 শহীদ পিতা ও পুত্র
হাদীস নং ১৫৫- সাবেত হইতে বর্ণিত তিনি বলেন, যখন সিলাহর স্ত্রী মুয়াযার নিকটে এই সংবাদ আসিল যে পিতা পুত্রকে অগ্রগামী করিয়া বলিয়াছেন অগ্রসর হও এবং পুণ্যের আশা কর। সে নিহত হইল অতঃপর পিতাও নিহত হইলেন তখন মহিলাগণ তাহার নিকটে আসিল। তিনি বলিলেন, যদি তোমরা আমার নিকটে এই জন্য আসিয়া থাক যে আমাকে আল্লাহ যে সম্মান দান করিয়াছেন উহার জন্য মুবারকবাদ দিবে তাহা হইলে ভালো কথা অন্যথায় ফিরিয়া যাইতে পার।
📄 সকলেই মৃত্যুবরণ করিবে
হাদীস নং ১৫৬ - সাবেত বলেন, একদা সিলাহ খাবার খাইতেছিলেন, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি আসিয়া বলিলেন, আপনার ভাই মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, এমন কি খবর! আমিতো তাহার মৃত্যু সংবাদ জানি। লোকটি বলিল, আমার পূর্বে তো আপনার নিকটে কেউ আসে নাই! তিনি বলিলেন, আল্লাহতায়ালা বলিয়াছেন (ইন্নাকা মাইয়্যিতু ওয়া ইন্নাহুম মাইয়্যিতুন) আপনিও মৃত্যুবরণ করিবেন তাহারাও মৃত্যুবরণ করিবে। (যুমার: ৩০)
📄 আপনার পথের শহীদ হিসাবে কবুল করুন
হাদীস নং ১৫৭ - হুমাইদ ইবনে হেলাল হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আসওয়াদ ইবনে কুলছুম যখন চলিতেন তখন তাহার কদম বা পায়ের আঙ্গুলের প্রতি দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখিতেন, এদিক সেদিক তাকাইতেন না। তখন মানুষের দেয়ালসমূহ খাটো হইত। কখনও যদি তিনি মহিলাদের নিকট দিয়া গমন করিতেন এবং তাহাদের কেহ ওড়না বিহীন থাকিত ফলে তাহারা পর পুরুষকে দেখিয়া চমকিয়া উঠিত এবং একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করিত তাহা হইলে তাহারাই বলিয়া উঠিত যে, না তিনি আসওয়াদ ইবনে কুলছুম, এবং ইহা সর্বজন বিদিত যে, তিনি তাহাদের প্রতি দৃষ্টিপাত করেন না।
বর্ণনাকারী বলেন, তিনি যখন অভিযান হইতে ফিরিয়া আসিলেন তখন বলিলেন, ইয়া আল্লাহ! এই শান্তির সময়ে আমার আত্মার ধারণা, সে আপনার সাক্ষাত লাভে আগ্রহী, যদি সে সত্যবাদী হয় তাহা হইলে তাহাকে উহা নসীব করুন আর যদি মিথ্যাবাদী হয় তাহা হইলে উহা তাহার অপছন্দ হওয়া সত্ত্বেও তাহাকে উহাতে বাধ্য করুন এবং তাহাকে আপনার পথের নিহত হিসেবে কবুল করুন এবং আমার গোশত হিংস্র পশু পাখীর আহারে পরিণত করুন।
বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি এই সেনাবাহিনীর একটি দলের সহিত বাহির হইলেন এবং একটি দেয়াল ঘেরা স্থানে প্রবেশ করিলেন যাহার দেয়ালে ভাঙ্গন ছিল। এমতাবস্থায় দুশমন আসিল এবং সেই ভগ্নাংশের নিকটে আসিয়া দাঁড়াইল, তাহার সঙ্গীগণ বাহির হইয়া গেলেন কিন্তু তিনি বাহির হওয়ার পূর্বেই শত্রুর সংখ্যা অনেক হইয়া গেল। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তখন ঘোড়া হইতে অবতরণ করিলেন এবং তাহার চেহারায় চাপড় মারিলেন অতঃপর একাকী চলিলেন। শত্রুগণ তাহার পথ ছাড়িয়া দিল তিনি সেই স্থান হইতে কিছু দূরে একস্থানে আসিয়া উযূ করিলেন এবং নামাযে দাঁড়াইলেন। দুশমনগণ বলিতে লাগিল, ইহা (হয়ত) আরবগণের আত্মসমর্পন যখন তাহারা আত্মসমর্পণ করে। যখন তিনি নামায শেষ করিলেন তাহাদের সহিত লড়িতে আরম্ভ করিলেন এবং নিহত হইলেন। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুক্ষণ পর সেই সেনাদলের মূল বাহিনী সেই দেয়াল ঘেরা স্থানের নিকট দিয়া অতিক্রম করিল, ইহাদের মধ্যে তাহার ভাইও ছিল। তাহাকে বলা হইল এই স্থানে ঢুকিতেছেন না কেন? আপনার ভাইয়ের হাড় গোড় যাহা পাওয়া যায় খুঁজিয়া আনিয়া কাফন দাফন করিতেন! তিনি বলিলেন, আমি কিছুই করিব না, আমার ভাই এ ব্যাপারে দু'আ করিয়াছিলেন তাহা কবুল হইয়াছে। বর্ণনাকারী বলেন, অনন্তর তিনি এ ব্যাপারে কোন কিছু করিলেন না।
📄 শহীদের বাসস্থান ও স্ত্রী
হাদীস নং ১৫৮ - হুমাইদ বিন হেলাল হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু রেফায়া যখন নামায পড়িতেন এবং নামায শেষে দু'আ করিতেন তখন তাহার দু'আর শেষ ভাগে বলিতেন, ইয়া আল্লাহ! আমাকে জীবিত রাখুন যতক্ষণ পর্যন্ত জীবিত থাকা আমার জন্য উত্তম হইবে এবং যখন মৃত্যু উত্তম হইবে তখন আমাকে এমন পুত পবিত্র মৃত্যু দান করুন যে, উহার পবিত্রতার কারণে আমার যে মুসলমান ভাই উহা শুনিবে সেই ঈর্ষান্বিত হইবে এবং আমাকে আপনার পথের নিহত বানান এবং আমাকে আমা হইতে বিচ্ছিন্ন রাখুন।
বর্ণনাকারী বলেন, কিছু দিন পর তিনি আব্দুর রহমান বিন সামুরাহ (রাযিঃ)-এর নেতৃত্বাধীন একটি সেনাদলের সহিত অভিযানে বাহির হইলেন। সেই সেনাদল হইতে ক্ষুদ্র একটি দল একটি অভিযানে বাহির হইলেন। ইহাদের অধিকাংশ ছিলেন বনী হানীফা গোত্রের। তিনি বলিলেন, আমি এই দলের সাথে যাইব। আবু ক্বাতাদা বলিলেন, এখানে বনূ (সাদা) র কেউ নাই এবং আপনার গৃহেও কেউ নাই। তিনি বলিলেন, এই ব্যাপারে আমার সংকল্প স্থির হইয়া গিয়াছে, আমি যাইতেছি। তিনি তাহাদের সহিত চলিলেন। দলটি রাত্রি বেলায় দুশমনের একটি দূর্গের চারপাশ প্রদক্ষিণ করিল। তিনি নামাযরত অবস্থায় রাত্রি কাটাইলেন। যখন রাত্রি শেষ প্রহর হইল তিনি ঢালে মাথা দিয়া শুইলেন এবং ঘুমাইয়া পড়িলেন।
এদিকে তাহার সঙ্গীগণ ভোর বেলায় ভাবিতে লাগিলেন কিভাবে দূর্গের মুখোমুখি হওয়া যায়, কিভাবে উহাতে প্রবেশ করা যায়! এবং তিনি যেখানে ঘুমাইয়া ছিলেন ঘুমাইয়া রহিলেন, সঙ্গীগণ তাহাকে ভুলিয়া গেলেন। কিন্তু দুশমন তাহাকে দেখিতে পাইল এবং তিনজন সুঠাম দেহের সৈন্য নামাইল। তাহারা আসিয়া তাহার তরবারী হস্তগত করিয়া ফেলিল। এদিকে তাহার সঙ্গীগণ বলিয়া উঠিলেন, আবু রেফায়াকে তো আমরা ভুলিয়া গিয়াছি তিনি যেখানে ছিলেন সেখানেই তো রহিয়া গিয়াছেন। তাহারা তাহার নিকটে আসিলেন এবং দেখিলেন কাফের সৈন্যরা তাহাকে হত্যা করিয়া তাহার অস্ত্র শস্ত্র ইত্যাদি লুণ্ঠন করিতে চাহিতেছে। তাহারা উহাদিগকে তাড়াইয়া দিলেন এবং তাহাকে টানিয়া নিয়া আসিলেন। তখন আব্দুল্লাহ বিন সামুরাহ বলিলেন, আমাদের বনী আদী গোত্রের ভাই কখন যে তাহার নিকটে শাহাদাত আসিয়া উপস্থিত হইয়াছে তিনি টেরও পান নাই।