📄 আমাদের দিকে তাকানো হালাল
হাদীস নং ১৪৩ - আব্দুর রহমান ইবনে ইয়াযীদ ইবনে মুয়াবিয়া হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা রোমের ভূমিতে চলিতেছিলাম, এমতাবস্থায় এক ব্যক্তি বলিলঃ আবু হাযেম! আমাদের সঙ্গীর ঘটনাটি শোনাও তো যিনি আঙ্গুর বাগানে একটি দৃশ্য দেখিয়াছিলেন। লোকটি আব্দুর রহমানকে বলিল, আপনি ঘটনাটি বর্ণনা করুন; কেননা আপনিই তাহার নিকট হইতে যাহা শুনিবার শুনিয়াছেন। তখন আব্দুর রহমান বলিলেন, ঘটনাটি এই যে, আমরা একটি আঙ্গুর বাগানের নিকট দিয়া অতিক্রম করিতেছিলাম, আমরা তাহাকে বলিলাম, এই চামড়ার পাত্রটি ভরিয়া আঙ্গুর নিবেন অতঃপর আমাদের পরবর্তী মঞ্জিলে যাত্রাবিরতির স্থানে আমাদের সহিত মিলিত হইবেন।
যখন তিনি আঙ্গুর বাগানে প্রবেশ করিলেন তখন দেখিলেন, জান্নাতের সুনয়না (হুরে ঈন) রমণীগণের মধ্য হইতে একজন স্বর্ণের সিংহাসনে বসিয়া আছে। তিনি ইহা দেখিয়াই তাহার দৃষ্টি নত করিলেন অতঃপর আঙ্গুর কুঞ্জের দিকে দৃষ্টিপাত করিলেন সেইদিকে অপর আরেকজন রমণীকে দেখিতে পাইলেন। তিনি পুনরায় তাহার দৃষ্টি নত করিলেন। তখন রমণীটি তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, চোখ তুলুন, আপনার জন্য আমাদের দিকে তাকানো হালাল। আমরা উভয়ে হুরে ঈনের মধ্য হইতে আপনার স্ত্রী। আপনি আজই আমাদের নিকটে আগমন করিবেন। অতঃপর তিনি খালি হাতেই তাহার সঙ্গীদের নিকটে ফিরিয়া আসিলেন। আমরা তাহাকে বলিলাম, আপনার কী হইয়াছে? আপনি কি পাগল হইয়া গিয়াছেন? আমরা তাহাকে ভিন্নতর অবস্থায় আবিষ্কার করিলাম, তাহার চেহারা ঝলমল করিতেছে, তাহার অবস্থা সুন্দর হইয়াছে। আমরা তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলাম, কেন আপনি খালি হাতে আসিলেন? তিনি নিশ্চুপ রহিলেন। অবশেষে তাহাকে কসম দিয়া জিজ্ঞাসা করিলে তিনি পূর্ণ ঘটনা বিবৃত করিলেন। ইতিমধ্যেই অভিযানের ডাক আসিল, আমরা এক ব্যক্তিকে তাহার বাহন ধরিয়া রাখিতে বলিলাম এবং সকলে মিলিয়া তাহার বাহনটিতে গদী ইত্যাদি লাগাইয়া আরোহণের উপযোগী করিলাম অতঃপর তিনি শাহাদাতের আশা লইয়া আরোহণ করিলেন, আমরাও আরোহণ করিলাম। তিনি আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হইয়া গেলেন। সেই দিনের সর্ব প্রথম শহীদ তিনিই ছিলেন।
📄 অভিযানের ডাকে বাহির হইয়া গেলেন
হাদীস নং ১৪৪ - আবুল আহদাল হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ তিনি একবার একটি জনপদে উপস্থিত হইলেন যাহাদের মসজিদ (সমূদ্রের) উপকূলে অবস্থিত ছিল। যখন তথাকার অধিবাসীগণ তাহাকে দেখিল, সকলে চোখ তুলিয়া তাহাকে নিরীক্ষণ করিতে লাগিল এবং বলিল, এই লোকটি হুবহু অমুকের মত। আমি তখন তাহাদিগকে বলিলাম, তোমরা যদি আমাকে কাহারও মতো বলিতে চাও তাহা হইলে কোন ভালো মানুষের মতো বলিবে। তাহারা বলিলঃ আমাদের এখানে একজন লোক ছিলেন যিনি উটের ঘাস-পানি যোগাইবার কাজ করিতেন। (একবার) অভিযানের ডাক আসিলে তিনি বাহির হইয়া গেলেন এবং লড়াই করিতে করিতে নিহত হইলেন, অতঃপর তাহার টাকা-পয়সাসহই তাহাকে দাফন করা হইল। লোকেরা আমীরকে এ ব্যাপারে অবহিত করিল এবং তাহার কবর খুঁড়িয়া টাকা পয়সা বাহির করিবার অনুমতি চাহিল। তিনি অনুমতি দিলেন। তখন আমরা তাহার কবরের উদ্দেশ্যে বাহির হইলাম এবং তাহার কবর হইতে মাটি সরাইতে লাগিলাম। সাথে সাথে মিশক আম্বরের সুবাস আসিতে লাগিল। আমরা মাটি সরানো অব্যাহত রাখিলাম এবং তাহার কবর পর্যন্ত পৌঁছিয়া গেলাম কিন্তু আমরা সেখানে কিছুই পাইলাম না।
📄 বেহেশতী হুর
হাদীস নং ১৪৫ - আবু ইদরীস হইতে বর্ণিত তিনি বলেনঃ আমাদের নিকটে যিয়াদ নামক একজন মদীনাবাসী ব্যক্তি আসিলেন। আমরা রোমের ছাকুলিয়া দ্বীপে অভিযান পরিচালনা করিলাম এবং সেখানে একটি শহর অবরোধ করিলাম। আমি, যিয়াদ এবং অপর একজন মদীনাবাসী, এই তিনজন এক সাথে ছিলাম। অবরোধ চলাকালে আমরা একজন সঙ্গীকে খাবার আনিবার জন্য পাঠাইলাম। ইতিমধ্যে মিনজানিকের (প্রস্তর নিক্ষেপণ অস্ত্র) একটি বিরাট পাথর আসিয়া যিয়াদের নিকটে পতিত হইল এবং পাথরটির একটি বড় টুকরা ছিটকাইয়া আসিয়া যিয়াদের হাঁটুতে আঘাত করিল। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বেহুশ হইয়া গেলেন। আমি তাহাকে টানিয়া আনিতে লাগিলাম ইতিমধ্যে আমাদের সঙ্গী ফিরিয়া আসিলেন। আমি তাহাকে নিকটে ডাকিলাম এবং উভয়ে মিলিয়া তাহাকে অকুস্থল হইতে সরাইয়া ফেলিলাম যাহাতে অন্য কোন প্রস্তর আসিয়া তাহার প্রাণনাশ না করিতে পারে।
আমরা পূর্বাহ্নের দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তাহাকে লইয়া বসিয়া রহিলাম, তাহার শরীরে কোনই নড়াচড়া নাই হঠাৎ তিনি অর্ধনিমিলিত চক্ষে হাসিয়া উঠিলেন এমনকি তাহার মাড়ির দাঁত পর্যন্ত প্রকাশিত হইয়া পড়িল অতঃপর নির্বাপিত হইয়া গেলেন অতঃপর পুনরায় হাসিয়া উঠিলেন। এর কিছুক্ষণ পর তাহার হুশ ফিরিল এবং তিনি সোজা হইয়া বসিলেন ও বলিলেনঃ আমি এখানে কেমন করিয়া আসিলাম? আমরা বলিলামঃ আপনি কি আপনার অবস্থা জানেন না? তিনি বলিলেন, না। এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিল আপনার কি ঐ নিক্ষিপ্ত পাথরটির কথা মনে পড়ে যাহা আপনার নিকটে আসিয়া পতিত হইয়াছিল? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমরা বলিলামঃ ঐ পাথরের একটি খণ্ড আসিয়া আপনাকে আঘাত করিয়াছিল ফলে আপনি বেহুশ হইয়া যান এবং এরপর আপনি এই এই করিয়াছেনঃ তিনি বলিলেন, হ্যাঁ আমি আপনাদিগকে বলিতেছি, আমাকে ইয়াকুত ও জবরজদ পাথরের নির্মিত একটি কক্ষে নিয়া যাওয়া হইল এবং সুন্দর ও মজবুত বুননকৃত একটি বিছানায় বসানো হইল। উহার সামনে দুই সারি বালিশ ছিল।
যখন আমি বিছানায় সোজা হইয়া বসিলাম, তখন আমার ডান পার্শ্বে অলংকারের রিনিঝিনিধ্বনি শ্রুতিগোচর হইল, এবং ইহার অব্যবহিত পরেই একজন রমণী বাহির হইয়া আসিলেন। আমি জানিনা তাহার পোষাক, অলংকার এবং সে নিজে, এই তিনটির মধ্যে কোনটি অধিক সুন্দর! সে এদিকেই আসিতে লাগিল, যখন সে আমার সামনে আসিল তখন মারহাবা ও আহলান সাহলান বলিয়া অভ্যর্থনা জানাইল। অতঃপর বলিল, যে নগ্ন পদ আল্লাহর নিকটে আমাদিগকে প্রার্থনা করিত না তাহাকে মারহাবা, অবশ্য আমরা তাহার স্ত্রী অমুকের মত নই। অতঃপর যখন সে তাহার রূপের বর্ণনা দিল তখন আমি হাসিয়া ফেলিলাম। সে আসিয়া আমার ডান পার্শ্বে বসিল। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, তুমি কে? সে বলিল, আমি তোমার স্ত্রীর একজন দাসী। অতঃপর যখন আমি আমার হস্ত প্রসারিত করিলাম, সে বলিল ধীরে! আপনি আমাদের নিকটে যোহরের সময় আসিবেন। তখন আমি কাঁদিয়া ফেলিলাম। সে যখন তাহার কথা শেষ করিল তখন আমি আমার বাম পার্শ্বে অলংকারের রিনিঝিনি শুনিতে পাইলাম। দেখিলাম তাহার মতই দ্বিতীয় আরেকজন রমণী দাঁড়াইয়া আছে। তিনি ইহার বিবরণও প্রথম রমণীর মতই দিলেন। সেও তাহার সঙ্গীনীর মতই আচরণ করিল। সে যখন সেই স্ত্রীলোকটির বর্ণনা দিল তখনও আমি হাসিয়া ফেলিলাম। সে আমার বাম পার্শে উপবেশন করিল। আমি হস্ত প্রসারিত করিলে সে বলিল, ধীরে! আপনি আমাদের নিকটে যোহরের সময় আসিবেন। আমি তখন কাঁদিয়া ফেলিলাম। বর্ণনাকারী বলেন এভাবে তিনি আমাদের নিকটে বসিয়া গল্প করিতেছিলেন। যখন মুয়াজ্জিন আযান দিল তখন তিনি একপাশে হেলিয়া পড়িলেন এবং মৃত্যুবরণ করিলেন।
📄 আমি আপনার স্ত্রী
হাদীস নং ১৪৬ - আব্দুর রহমান বিন ইয়াযীদ বিন জাবের হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন ইবনে আবী যাকারিয়া আমাদিগকে বলিয়াছেন যে, বকর গোত্রের এক ব্যক্তি রোমের ভূখণ্ডে চলিতেছিলেন, এমতাবস্থায় তিনি তাহার গোলামকে বলিলেন, আমাকে আমার পাত্রটি দাও আমি এখান হইতে কিছু আঙুর নিয়া আসিব, পাত্রটি নিয়া তিনি ঘোড়া ছুটাইলেন। তিনি আঙ্গুর বাগানে আছেন হঠাৎ দেখলেন, একজন রমণী একটি সিংহাসনের উপর বসিয়া আছেন, তাহার মত রূপবতী নারী তিনি কখনও দেখেন নাই। তাহার প্রতি নজর পড়া মাত্রই তিনি তাহার দৃষ্টি সরাইয়া ফেলিলেন। রমণীটি বলিল, আমার দিক হইতে মুখ ফিরাইবার প্রয়োজন নাই আমি আপনার স্ত্রী। আপনি সামনে অগ্রসর হোন। আমার চেয়ে উত্তম রমণী দেখিতে পাইবেন। তিনি অগ্রসর হইলেন। দেখিলেন, তাহার মত আরেকজন রমণী রহিয়াছেন সেও তাঁহাকে পূর্বোক্ত রমণীর ন্যায় বলিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা তিনি আবু মাহ্রামা ছিলেন।