📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 সর্বোচ্চ পুণ্যের কাজ

📄 সর্বোচ্চ পুণ্যের কাজ


হাদীস নং ১২৪- হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম মিকসাম হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি বাইতুল মুকাদ্দাসে বসা ছিলাম, আমার সাথে একজন লোক ছিলেন। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি আমাদের দিকে অগ্রসর হইলেন তাহাকে দেখিয়া আমার সঙ্গী বলিয়া উঠিলেন, আবু ইসহাককে মারহাবা! তিনি যখন বসিলেন, আমি আমার সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, এই ব্যক্তি কে? সে বলিলঃ ইনি কা'ব আল আহবার। তখন আমি তাহাকে বলিলামঃ আপনি আমাদিগকে কিছু বর্ণনা করিয়া শোনান, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন।

তিনি বলিলেনঃ নিকৃষ্টতম পাপ হইল আল্লাহতায়ালার সহিত শির্ক করা এবং আপন মাতার সহিত ব্যভিচার করা এবং সর্বোচ্চ পুণ্যের কাজ হইল আল্লাহর জন্য বান্দার রক্ত প্রবাহিত হওয়া। শহীদ তিন ধরনের (প্রথমত) ঐ ব্যক্তি যে স্বীয় ঘর হইতে বাহির হইল শাহাদাত বরণ বা স্বীয় গৃহে প্রত্যাবর্তন উভয়টাই তাহার পছন্দের, এমতাবস্থায় আল্লাহ তাহার প্রতি একটি অজানা তীর উপঢৌকন দিলেন। এই ব্যক্তির রক্তের প্রথম ফোটা বাহির হইবার সাথে সাথে আল্লাহতায়ালা তাহার সকল পাপ ক্ষমা করিয়া দেন এবং পরবর্তী প্রতি ফোটার বিনিময়ে তাহার একটি করিয়া মর্যাদা বুলন্দ করিতে থাকেন এইরূপে তাহার রক্তের শেষ ফোটাটি বাহির হইয়া যায়।

দ্বিতীয় ব্যক্তি, যে স্বীয় ঘর হইতে বাহির হইয়াছে, শাহাদাত বরণ ও গৃহে প্রত্যাবর্তন উভয়টাই তাহার প্রিয় অতঃপর সে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করিল। এই ব্যক্তি সুউচ্চ মাকামে, ইবরাহীম (আঃ) এর হাঁটুর সহিত হাঁটু লাগাইয়া বসিবে।

তৃতীয় ব্যক্তি, যে স্বীয় ঘর হইতে বাহির হইয়াছে, শাহাদাতই তাহার কাম্য, গৃহে প্রত্যাবর্তন তাহার পছন্দ নহে অতঃপর সে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করিয়াছে, এই ব্যক্তি ঐ বাদশাহের ন্যায় যে বেহেশতে গিয়া তাহার কোষমুক্ত তরবারী সুউচ্চে করিয়াছে। সে বেহেশতের যেইখানে চাইবে সেই খানেই তাহার আবাস স্থল বানাইবে, যাহা চাইবে তাহাই প্রাপ্ত হইবে এবং যাহার ব্যাপারেই সুপারিশ করিবে মঞ্জুর হইবে।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 রক্তের প্রথম ফোটার সাথে সব পাপ মাফ হইয়া যায়

📄 রক্তের প্রথম ফোটার সাথে সব পাপ মাফ হইয়া যায়


হাদীস নং ১২৫ - জুয়াইরিয়া ইবনে কুদামাহ হইতে বর্ণিত, তিনি এবং কা'ব একজন হিবরের (ইহুদী আলেম) নিকটে উপস্থিত হইলেন। কা'ব তাহাকে বলিলেন, আপনার কোন কথা প্রকাশ করিবার থাকিলে ইহার নিকটে প্রকাশ করুন। হিবর ঘরের পর্দার দিকে উঠিয়া গেলেন এবং একটি খাতা বাহির করিয়া আনিলেন যাহাতে তিনটি লাইন লিপিবদ্ধ ছিল।

প্রথম লাইনটি হইল যে ব্যক্তি আল্লাহর পথের অভিযাত্রী হইল কিন্তু হত্যা করা বা নিহত হওয়া কোনটাই তাহার কাম্য নয় এমতাবস্থায় একটি তীর আসিয়া তাহাকে বিদ্ধ করিল, তাহার রক্তের প্রথম ফোটা বাহির হইবার সাথে সাথে তাহার কৃত সকল পাপ ক্ষমা করিয়া দেওয়া হইবে এবং পরবর্তী প্রত্যেক ফোটার পরিবর্তে জান্নাতে তাহার বহু মর্যাদা বৃদ্ধি পাইতে থাকিবে।

দ্বিতীয় লাইনটি হইলঃ যে ব্যক্তি হত্যা করার উদ্দেশ্যে অভিযানে বাহির হইল কিন্তু নিহত হওয়া তাহার কাম্য নয় এমতাবস্থায় একটি তীর আসিয়া তাহাকে বিদ্ধ করিল। তাহার রক্তের প্রথম ফোটা তাহার সকল পাপের কাফফারা হইয়া যাইবে এবং (পরবর্তী) প্রত্যেক ফোটার বিনিময়ে জান্নাতে তাহার বহু মর্যাদা বৃদ্ধি পাইবে এমনকি সে ইবরাহীম (আঃ) এর সাথে হাঁটু মিলাইয়া বসিবে।

তৃতীয় লাইনটি হইলঃ যে ব্যক্তি অভিযানে বাহির হইল তাহার উদ্দেশ্য হইল সে হত্যা করিবে এবং নিজেও নিহত হইবে। অতঃপর একটি তীর আসিয়া তাহাকে বিদ্ধ করিল। তাহার রক্তের প্রথম ফোটা সকল পাপের কাফফারা হইয়া যাইবে। এবং সে প্রতি ফোটার বিনিময়ে জান্নাতে বহু মর্যাদার অধিকারী হইবে এবং অন্যের জন্য কিয়ামতের দিন কোষমুক্ত তরবারী সুউচ্চে উত্তোলন করিয়া উপস্থিত হইবে এবং সুপারিশ করিবে।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 চার প্রকার শহীদ

📄 চার প্রকার শহীদ


হাদীস নং ১২৬ - উমর ইবনে খাত্তাব (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেনঃ শহীদ চার ধরনের।

প্রথমতঃ উত্তম ঈমান বিশিষ্ট মুমিন যে দুশমনের মুখোমুখি হইল এবং আল্লাহর সামনে তাহার সত্যবাদিতা প্রমাণ করিল, অবশেষে নিহত হইল। এই ব্যক্তির প্রতি লোকেরা কিয়ামত দিবসে এইভাবে চোখ তুলিয়া দেখিবে (ইহা বলিয়া) তিনি মাথা তুলিয়া দেখাইলেন এমনকি তাহার মাথার টুপি পড়িয়া গেল। বর্ণনাকারী বলেন, আমি জানিনা আমার পূর্ববর্তী বর্ণনাকারী কি উমরের টুপি উদ্দেশ্য করিয়াছেন নাকি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের টুপি (উদ্দেশ্য করিয়াছেন)।

দ্বিতীয়ত: উত্তম ঈমান বিশিষ্ট ব্যক্তি, যখন সে দুশমনের মুখোমুখি হয় তখন আতংকে তাহার এই অবস্থা হয় যেন তাহার গাত্রচর্ম তুলহ বৃক্ষের কাঁটা দ্বারা ঝাঁঝরা হইয়া গিয়াছে। একটি অজানা তীর আসিয়া তাহাকে বিদ্ধ করিল এবং সে নিহত হইল এই ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ের।

তৃতীয়তঃ মুমিন ব্যক্তি যে ভালো কাজের সহিত মন্দ কর্মও মিশ্রিত করিয়াছে, সে দুশমনের মুখোমুখি হইয়া আল্লাহতায়ালার সামনে তাহার সত্যবাদীতা প্রমাণ করিয়াছে অবশেষে নিহত হইয়াছে। এই ব্যক্তি তৃতীয় পর্যায়ের।

চতুর্থতঃ মুমিন ব্যক্তি যে নিজের সত্ত্বার উপর অত্যাচার করিয়াছে অতঃপর দুশমনের মুখোমুখি হইয়া আল্লাহর সম্মুখে নিজের সত্যতা প্রমাণ করিয়াছে, অবশেষে নিহত হইয়াছে। এই ব্যক্তি চতুর্থ পর্যায়ের।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 সর্ব প্রথম আল্লাহর পথে নির্গমনকারী

📄 সর্ব প্রথম আল্লাহর পথে নির্গমনকারী


হাদীস নং ১২৭ - উসমান বিন আবী সাওদা হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন "وَالسَّابِقُونَ السَّابِقُونَ অর্থাৎ অগ্রবর্তীতায় অগ্রবর্তী উহারাই নৈকট্য প্রাপ্ত।" (ওয়াক্বি'য়া ১০-১১) এই আয়াতের ব্যাপারে আমরা জানিয়াছি যে তাহারা হইলেন, সর্বপ্রথম মসজিদে আগমনকারী এবং আল্লাহর পথে সর্বপ্রথম নির্গমনকারী।

ফন্ট সাইজ
15px
17px