📄 জান্নাতের সুসংবাদ
হাদীস নং ১২২ - হযরত মুসা ইবনে হযরত আনাস হইতে বর্ণিতঃ তিনি বলেন, যখন এই আয়াত অবতীর্ণ হইল—
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ لَا تَرْفَعُوا أَصْوَاتَكُمْ فَوْقَ نَبِيِّكُمْ وَلَا تَجْهَرُوا لَهُ بِالْقَوْلِ كَجَهْرِ بَعْضِكُمْ لِبَعْضٍ أَنْ تَحْبَطَ أَعْمَالُكُمْ وَأَنْتُمْ لَا تَشْعُرُونَ إِنَّ الَّذِينَ يَغُضُّونَ أَصْوَاتَهُمْ عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ
[হে মুমিনগণ! তোমরা নবীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজেদের কণ্ঠস্বর উঁচু করিও না এবং নিজেদের মধ্যে যেভাবে উচ্চস্বরে কথা বল তাহার সহিত সেইরূপ উচ্চস্বরে কথা বলিও না। কারণ ইহাতে তোমাদের কর্ম নিষ্ফল হইয়া যাইবে তোমাদের অজ্ঞাতসারে। যাহারা আল্লাহর রাসূলের সম্মুখে নিজেদের কণ্ঠস্বর নীচু করে (আল্লাহ তাহাদের অন্তরকে তাকওয়ার জন্য পরীক্ষা করিয়া লইয়াছেন, তাহাদের জন্য রহিয়াছে ক্ষমা ও মহাপুরস্কার)] (হুজুরাত, আয়াতঃ ২, ৩)
তখন সাবেত বিন কায়েস তাহার ঘরে বসিয়া পড়িলেন এবং বলিলেনঃ আমার ধারণা এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আমার স্বরকে উচ্চকিত করিতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁহাকে না পাইয়া তাহার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিলেন। উপস্থিত লোকদের মধ্যে হইতে এক ব্যক্তি বলিলেন, আপনি চাইলে আমি তাহার ব্যাপারে জানিয়া আসিতে পারি। অতঃপর লোকটি তাহার নিকটে আসিলেন এবং তাহাকে অত্যন্ত বিমর্ষ চেহারায় পাইলেন, লোকটি বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আপনাকে তালাশ করিয়াছেন এবং আপনার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করিয়াছেন। তিনি বলিলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের চেয়ে আমার স্বরকে উচ্চকিত করিতাম অবশেষে এই আয়াত অবতীর্ণ হইয়াছে। নিঃসন্দেহে সে জাহান্নামী হইয়া গিয়াছে। লোকটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ফিরিয়া আসিয়া তাহার বক্তব্য জানাইলেন। মুসা বিন আনাস বলেনঃ লোকটি দ্বিতীয়বার বিরাট একটি সুসংবাদ লইয়া আসিলেন। তিনি তাহাকে বলিলেন, আপনি জাহান্নামী নন, আপনি জান্নাতের অধিবাসী।
📄 তুমি শহীদরূপে মৃত্যুবরণ করিবে
হাদীস নং ১২৩ - হযরত ইসমাইল বিন সাবেত হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাবিত বিন কায়েস আল আনসারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমার আশংকা হয় আমি ধ্বংস হইয়া যাইতেছি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ইহা কেন? তিনি বলিলেন, আমরা যাহা করি নাই সেই ব্যাপারে কীর্তিমান হইতে আল্লাহতায়ালা আমাদিগকে নিষেধ করিয়াছেন অথচ আমার নিকটে প্রশংসা ভালো লাগে, এবং তিনি আমাদিগকে অহংকার হইতে নিষেধ করিয়াছেন অথচ আমার নিকটে সৌন্দর্য ভালো লাগে এবং আল্লাহতায়ালা আপনার স্বরের চেয়ে আমাদের স্বরকে উচ্চকিত করিতে নিষেধ করিয়াছেন অথচ আমি একজন উচ্চস্বর বিশিষ্ট ব্যক্তি।
তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন হে আবু সাবেত! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট হইবে না যে তুমি প্রশংসিত অবস্থায় জীবন যাপন করিবে, শহীদরূপে মৃত্যুবরণ করিবে এবং আল্লাহতায়ালা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাইবেন? তিনি বলিলেনঃ অবশ্যই ইয়া রাসূলুল্লাহ। বর্ণনাকারী বলেনঃ অতঃপর তিনি প্রশংসিত জীবন যাপন করিয়াছেন এবং মুসাইলামাতুল কাযযাবের সহিত যুদ্ধের দিবসে শহীদ হইয়াছেন।
📄 সর্বোচ্চ পুণ্যের কাজ
হাদীস নং ১২৪- হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম মিকসাম হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আমি বাইতুল মুকাদ্দাসে বসা ছিলাম, আমার সাথে একজন লোক ছিলেন। ইত্যবসরে এক ব্যক্তি আমাদের দিকে অগ্রসর হইলেন তাহাকে দেখিয়া আমার সঙ্গী বলিয়া উঠিলেন, আবু ইসহাককে মারহাবা! তিনি যখন বসিলেন, আমি আমার সঙ্গীকে জিজ্ঞাসা করিলাম, এই ব্যক্তি কে? সে বলিলঃ ইনি কা'ব আল আহবার। তখন আমি তাহাকে বলিলামঃ আপনি আমাদিগকে কিছু বর্ণনা করিয়া শোনান, আল্লাহ আপনার প্রতি রহম করুন।
তিনি বলিলেনঃ নিকৃষ্টতম পাপ হইল আল্লাহতায়ালার সহিত শির্ক করা এবং আপন মাতার সহিত ব্যভিচার করা এবং সর্বোচ্চ পুণ্যের কাজ হইল আল্লাহর জন্য বান্দার রক্ত প্রবাহিত হওয়া। শহীদ তিন ধরনের (প্রথমত) ঐ ব্যক্তি যে স্বীয় ঘর হইতে বাহির হইল শাহাদাত বরণ বা স্বীয় গৃহে প্রত্যাবর্তন উভয়টাই তাহার পছন্দের, এমতাবস্থায় আল্লাহ তাহার প্রতি একটি অজানা তীর উপঢৌকন দিলেন। এই ব্যক্তির রক্তের প্রথম ফোটা বাহির হইবার সাথে সাথে আল্লাহতায়ালা তাহার সকল পাপ ক্ষমা করিয়া দেন এবং পরবর্তী প্রতি ফোটার বিনিময়ে তাহার একটি করিয়া মর্যাদা বুলন্দ করিতে থাকেন এইরূপে তাহার রক্তের শেষ ফোটাটি বাহির হইয়া যায়।
দ্বিতীয় ব্যক্তি, যে স্বীয় ঘর হইতে বাহির হইয়াছে, শাহাদাত বরণ ও গৃহে প্রত্যাবর্তন উভয়টাই তাহার প্রিয় অতঃপর সে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করিল। এই ব্যক্তি সুউচ্চ মাকামে, ইবরাহীম (আঃ) এর হাঁটুর সহিত হাঁটু লাগাইয়া বসিবে।
তৃতীয় ব্যক্তি, যে স্বীয় ঘর হইতে বাহির হইয়াছে, শাহাদাতই তাহার কাম্য, গৃহে প্রত্যাবর্তন তাহার পছন্দ নহে অতঃপর সে লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করিয়াছে, এই ব্যক্তি ঐ বাদশাহের ন্যায় যে বেহেশতে গিয়া তাহার কোষমুক্ত তরবারী সুউচ্চে করিয়াছে। সে বেহেশতের যেইখানে চাইবে সেই খানেই তাহার আবাস স্থল বানাইবে, যাহা চাইবে তাহাই প্রাপ্ত হইবে এবং যাহার ব্যাপারেই সুপারিশ করিবে মঞ্জুর হইবে।
📄 রক্তের প্রথম ফোটার সাথে সব পাপ মাফ হইয়া যায়
হাদীস নং ১২৫ - জুয়াইরিয়া ইবনে কুদামাহ হইতে বর্ণিত, তিনি এবং কা'ব একজন হিবরের (ইহুদী আলেম) নিকটে উপস্থিত হইলেন। কা'ব তাহাকে বলিলেন, আপনার কোন কথা প্রকাশ করিবার থাকিলে ইহার নিকটে প্রকাশ করুন। হিবর ঘরের পর্দার দিকে উঠিয়া গেলেন এবং একটি খাতা বাহির করিয়া আনিলেন যাহাতে তিনটি লাইন লিপিবদ্ধ ছিল।
প্রথম লাইনটি হইল যে ব্যক্তি আল্লাহর পথের অভিযাত্রী হইল কিন্তু হত্যা করা বা নিহত হওয়া কোনটাই তাহার কাম্য নয় এমতাবস্থায় একটি তীর আসিয়া তাহাকে বিদ্ধ করিল, তাহার রক্তের প্রথম ফোটা বাহির হইবার সাথে সাথে তাহার কৃত সকল পাপ ক্ষমা করিয়া দেওয়া হইবে এবং পরবর্তী প্রত্যেক ফোটার পরিবর্তে জান্নাতে তাহার বহু মর্যাদা বৃদ্ধি পাইতে থাকিবে।
দ্বিতীয় লাইনটি হইলঃ যে ব্যক্তি হত্যা করার উদ্দেশ্যে অভিযানে বাহির হইল কিন্তু নিহত হওয়া তাহার কাম্য নয় এমতাবস্থায় একটি তীর আসিয়া তাহাকে বিদ্ধ করিল। তাহার রক্তের প্রথম ফোটা তাহার সকল পাপের কাফফারা হইয়া যাইবে এবং (পরবর্তী) প্রত্যেক ফোটার বিনিময়ে জান্নাতে তাহার বহু মর্যাদা বৃদ্ধি পাইবে এমনকি সে ইবরাহীম (আঃ) এর সাথে হাঁটু মিলাইয়া বসিবে।
তৃতীয় লাইনটি হইলঃ যে ব্যক্তি অভিযানে বাহির হইল তাহার উদ্দেশ্য হইল সে হত্যা করিবে এবং নিজেও নিহত হইবে। অতঃপর একটি তীর আসিয়া তাহাকে বিদ্ধ করিল। তাহার রক্তের প্রথম ফোটা সকল পাপের কাফফারা হইয়া যাইবে। এবং সে প্রতি ফোটার বিনিময়ে জান্নাতে বহু মর্যাদার অধিকারী হইবে এবং অন্যের জন্য কিয়ামতের দিন কোষমুক্ত তরবারী সুউচ্চে উত্তোলন করিয়া উপস্থিত হইবে এবং সুপারিশ করিবে।