📄 কে উত্তম
হাদীস নং ১১৪ - আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর ইবনুল আস আসিয়া কাবা শরীফে তাওয়াফ করিলেন এবং সেখানে কুরাইশের একটি দলকে উপবিষ্ট দেখিলেন। তাহারা যখন আমরকে দেখিল তখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করিতে লাগিল যে, হিশাম ও আমর ইবনুল আসের মধ্যে কে উত্তম? তিনি তওয়াফ শেষ করিয়া তাহাদের নিকটে আসিলেন এবং বলিলেন, আমি জানি তোমরা আমাকে দেখিয়া কিছু বলিয়াছ, তোমরা কী বলিয়াছ? তাহারা বলিল, আমরা আপনার ও হিশামের কথা আলোচনা করিতেছিলাম, উভয়ের মধ্যে কে উত্তম? তখন তিনি বলিলেন, আমি তোমাদিগকে এই বিষয়ে বলিতেছি, আমরা উভয়ে ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়াছি এবং উভয়ে আল্লাহর পথে রাত্রি যাপন করিয়াছি, আমি তাঁহার (আল্লাহর) নিকটে শাহাদাত প্রার্থনা করিয়াছি কিন্তু যখন ভোর হইল তিনি তাহা লাভ করিলেন আর আমি বঞ্চিত রহিলাম। ইহা হইতেই তোমরা স্পষ্ট বুঝিতে পারিতেছ যে, আমার চেয়ে তিনি উত্তম ছিলেন।
📄 তিনি আমার চেয়ে উত্তম
হাদীস নং ১১৫ - মুহাম্মাদ ইবনুল আসওয়াদ ইবনে খালাফ ইবনে বায়াদাহ আল খুজায়ী হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ও কুরাইশের কিছু লোক কাবাঘরের হাতীমে বসা ছিলাম, কেহ বলিল, গত রাত্রে আমর ইবনুল আস মিসর হইত আগমন করিয়াছেন। যখন তাহার তাওয়াফ শেষ হইল, তিনি হাতীমে আসিলেন এবং দুই রাকাত নামায পড়িলেন অতঃপর বলিলেন, মনে হইতেছে তোমরা আমার নিন্দা করিতেছিলে? লোকেরা বলিলঃ আমরা শুধু ভালো কথাই বলিয়াছি। আমরা আপনার ও হিশামের আলোচনা করিতেছিলাম, আমাদের কেহ বলিল, এ উত্তম, কেহ বলিল, ও উত্তম। আমর বলিলেন, আমি এব্যাপারে তোমাদিগকে বলিতেছি: আমরা উভয়ে ইসলাম গ্রহণ করিলাম এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালোবাসিলাম ও তাঁহার জন্য কল্যাণকামী হইলাম। অতঃপর ইয়ারমুকের যুদ্ধের কথা বলিতে গিয়া বলিলেন, খিমার খুটি ধরা হইল, তিনি গোসল করিলেন, সুগন্ধি লাগাইলেন এবং কাফনের কাপড় পরিধান করিলেন। অতঃপর খিমার খুটি ধরা হইল এবং আমি গোসল করিলাম, সুগন্ধি লাগাইলাম এবং কাফনের কাপড় পরিধান করিলাম অতঃপর উভয়ে আল্লাহতায়ালার সামনে পেশ হইলাম। আল্লাহতায়ালা তাহাকে গ্রহণ করিলেন। অতএব তিনি আমার চেয়ে উত্তম।
আবু উমর বলেন, আমর ইবনে শুয়াইব বলিয়াছেন: আমর ইয়ারমুকের যুদ্ধের দিন তাহার তাবুর খুটির সাথে সত্তরটি তরবারী ঝুলাইয়াছিলেন। উহারা সকলেই বনু সাহমের নিহত লোক ছিল।
📄 সোনালী মানুষ
হাদীস নং ১১৬ - আবুল জাহম বিন হুযাইফা আল আদওয়ী হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি ইয়ারমুকের যুদ্ধের দিন আমার চাচাতো ভাইয়ের সন্ধানে বাহির হইলাম। আমার নিকটে এক মশক পানি ও একটি পেয়ালা ছিল। ইচ্ছা ছিল, যদি তাহার কিছুমাত্র প্রাণ বাকী থাকে তাহা হইলে তাহাকে পানি পান করাইব এবং তাহার মুখমণ্ডল মুছিয়া দিব। হঠাৎ দেখিতে পাইলাম তিনি আমার নিকটেই ভূমি শয্যায় শায়িত, অন্তিম মুহুর্তের কিছুটা হুশ তাহার মধ্যে বিদ্যমান। আমি জিজ্ঞাসা করিলাম, পানি দিব? তিনি ইঙ্গিত করিলেন, হাঁ। ইত্যবসরে আরেক ব্যক্তি বলিলেনঃ আহ! চাচাত ভাই ইঙ্গিতে বলিলেন, উহার নিকটে যাও। দেখিলাম, তিনি হিশাম ইবনুল আস। আমি তাহার নিকটে আসিলাম এবং বলিলামঃ পানি দিব? এমতাবস্থায় অপর আরেক ব্যক্তির আহ ধ্বনি শ্রুতি গোচর হইল। তখন হিশামও তাহার নিকটে পানি নিয়া যাইবার ইঙ্গিত করিলেন। আমি তাহার নিকটে আসিয়া দেখিলাম তিনি মৃত্যুবরণ করিয়াছেন। অতঃপর হিশামের নিকটে আসিয়া দেখি তিনিও ইহধাম ত্যাগ করিয়াছেন। ভাইয়ের নিকটে আসিয়া দেখি তিনিও আর ইহ জগতে নাই।
📄 রোযাদার শহীদ
হাদীস নং ১১৭ - হযরত ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি, আব্দুল্লাহ বিন মাখরামা ও আবু হুযাইফার আযাদকৃত গোলাম সালেম ইয়ামামার যুদ্ধে একসাথে বাহির হইলাম। আমাদের প্রত্যেকের উপর একদিন করিয়া দেখাশোনা ও পাহারাদারীর দায়িত্ব নির্ধারিত ছিল। যেই দিন যুদ্ধ আরম্ভ হইল সেই দিনের দায়িত্ব ছিল আমার ভাগে। আমি অগ্রসর হইয়া দেখিলাম আব্দুল্লাহ ইবনে মাখরামাহ ভূপাতিত হইয়া আছেন। আমি তাহার উপর ঝুকিলাম, তিনি বলিলেন, রোযাদার ব্যাক্তির জন্য কি ইফতারের সময় হইয়াছে? আমি বলিলাম জ্বি না। তিনি বলিলেনঃ আমার জন্য এই ঢালের মধ্যে কিছু রাখ যাহাতে আমি ইফতার করিতে পারি। আমি ইহাই করিলাম অতঃপর তাহার নিকটে ফিরিয়া আসিয়া দেখি তিনি ইন্তেকাল করিয়াছেন।