📄 সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট ব্যক্তি
হাদীস নং ১১১ - হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, ব্যক্তির সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট বৈশিষ্ট্য হইল অস্থিরকারী লালসা এবং হৃদপিণ্ড উৎপাটনকারী ভীরুতা।
📄 ভীরুদের চোখের নিদ্রা তিরোহিত হোক
হাদীস নং ১১২ - হাইছাম ইবনে মালিক হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, সেনা বাহিনীর একজন বৃদ্ধ যিনি অত্যন্ত বাহাদুর ছিলেন, যখন তাহার মৃত্যুর সময় সন্নিকটে আসিল তিনি বলিলেন, কত ময়দানে উপস্থিত হইলাম, কত সেনাদলের সঙ্গী হইলাম অথচ শাহাদাত নছীব হইল না। ভীরু কাপুরুষদের চোখের নিদ্রা তিরোহিত হোক।
📄 সাহায্য শুধু আল্লাহর নিকট হইতেই আসে
হাদীস নং ১১৩ - আলী ইবনে রাবাহ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রোমক বাহিনী (আজনাদাইন এর যুদ্ধে) রোমক সৈন্য ও আরব নাসারাদের বিরাট বাহিনী লইয়া অগ্রসর হইল। ইয়ানাক নামিয় এক রোমী জেনারেল তাহাদের সেনাপতি ছিল। তখন মুসলমানদের মধ্য হইতে কেহ বলিলেন, তোমাদের সামনে বিরাট বাহিনী উপস্থিত হইয়াছে, সমীচীন মনে করিলে তোমরা শামের বীরীন ও কুদাইস পর্যন্ত পশ্চাদপসরন করিয়া আবু বকর (রাযিঃ) কে পত্র লিখিতে পার তাহা হইলে তিনি তোমাদিগকে সাহায্য পাঠাইবেন। তখন হিশাম ইবনুল আস বলিলেন, যদি তোমরা বিশ্বাস কর যে, সাহায্য শুধুমাত্র মহা পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাবান (আল্লাহর) নিকট হইতেই আসিয়া থাকে তাহা হইলে এই বাহিনীর সহিত যুদ্ধে লিপ্ত হও। আর যদি তোমরা আবু বকরের পক্ষ হইতে সাহায্য আসিবার প্রতিক্ষায় থাক তাহা হইলে এই আমি আমার উটে চড়িলাম, এক্ষুনি তাঁহার নিকটে পৌছিব। তখন কেহ বলিলেনঃ হিশাম ইবনুল আস তোমাদের জন্য কোন কথার সুযোগ রাখেন নাই। অতঃপর মুসলমানগণ প্রচণ্ড লড়াই করিলেন। মুসলমানদের বহু সৈনিক নিহত হইল। হিশাম ইবনুল আসও নিহত হইলেন এবং আল্লাহতায়ালা রোমক বাহিনীকে পরাজিত করিলেন। ইয়ানাক নিহত হইল। এক ব্যক্তি হিশাম ইবনুল আসের মৃত দেহের নিকট দিয়া গমন করিবার সময় বলিলেন, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন! তুমি তো ইহাই চাহিয়াছিলে।
📄 কে উত্তম
হাদীস নং ১১৪ - আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর ইবনুল আস আসিয়া কাবা শরীফে তাওয়াফ করিলেন এবং সেখানে কুরাইশের একটি দলকে উপবিষ্ট দেখিলেন। তাহারা যখন আমরকে দেখিল তখন নিজেদের মধ্যে আলোচনা করিতে লাগিল যে, হিশাম ও আমর ইবনুল আসের মধ্যে কে উত্তম? তিনি তওয়াফ শেষ করিয়া তাহাদের নিকটে আসিলেন এবং বলিলেন, আমি জানি তোমরা আমাকে দেখিয়া কিছু বলিয়াছ, তোমরা কী বলিয়াছ? তাহারা বলিল, আমরা আপনার ও হিশামের কথা আলোচনা করিতেছিলাম, উভয়ের মধ্যে কে উত্তম? তখন তিনি বলিলেন, আমি তোমাদিগকে এই বিষয়ে বলিতেছি, আমরা উভয়ে ইয়ারমুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিয়াছি এবং উভয়ে আল্লাহর পথে রাত্রি যাপন করিয়াছি, আমি তাঁহার (আল্লাহর) নিকটে শাহাদাত প্রার্থনা করিয়াছি কিন্তু যখন ভোর হইল তিনি তাহা লাভ করিলেন আর আমি বঞ্চিত রহিলাম। ইহা হইতেই তোমরা স্পষ্ট বুঝিতে পারিতেছ যে, আমার চেয়ে তিনি উত্তম ছিলেন।