📄 শহীদের আবাসস্থল
হাদীস নং ৯৯ - ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, যখন উহুদ প্রান্তরে শহীদগণ শাহাদাত বরণ করিলেন এবং স্ব স্ব আবাসস্থলে উপনীত হইলেন তখন তাহারা তাহারা তাহাদের এমন কিছু বন্ধুবর্গের আবাসস্থল ও দেখিলেন যাহারা এখনও শহীদ হন নাই, ভবিষ্যতে শহীদ হইবেন। তখন তাহারা বলিয়া উঠিলেন, আমরা আল্লাহর নিকটে যেই কল্যাণ লাভ করিয়াছি আমাদের সঙ্গীগণ উহা কিভাবে অবগত হইতে পারেন? তখন (ওলা তাহসাবান্নাল্লাজিনা কুতিলু ফী সাবীলিল্লাহি আমওয়াতাম বাল আহইয়ায়ুন ইনদা রাব্বিহিম ইউরজাকুন) [যাহারা আল্লাহর পথে নিহত হইয়াছেন তাহাদিগকে মৃত মনে করিওনা বরং তাহারা জীবিত তাহাদের পালনকর্তার নিকটে রিযিক লাভ করিতেছে।] এই আয়াতের শেষ পর্যন্ত অবতীর্ণ হইল।
📄 বদরী সাহাবীগণের মর্যাদা
হাদীস নং ১০০ - হাসান বলিয়াছেন, যখন লোকেরা উমরের দরজায় উপস্থিত হইল যাহাদের মধ্যে সুহাইল বিন আমর, আবু সুফিয়ান ইবনে হারব এবং কুরাইশের ঐসব বৃদ্ধগণ ও ছিলেন। তখন অনুমতিদানকারী বাহিরে আসিলেন এবং বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীগণকে অনুমতি দিতে লাগিলেন, সুহাইব, বিলাল এবং অন্যান্য বদরীগণকে। খোদার কসম তিনি (উমর) নিজেও বদরী ছিলেন এবং বদরী সাহাবীগণকে ভালোবাসিতেন এবং তিনি উহাদের ব্যাপারে বিশেষভাবে আদিষ্ট ছিলেন। তখন আবু সুফিয়ান বলিলেন, অদ্যকার মততো আর কখনও দেখি নাই এই সব দাসদিগকে অনুমতি দেওয়া হইতেছে অথচ, আমরা বসিয়া আছি। সুহাইল বিন আমর উত্তরে বলিলেন, তাহার মত পুরুষই হয়না! তাহার মত সুবিবেচকও আর নাই। হে জনমণ্ডলী! খোদার কসম আমি তোমাদের মুখমণ্ডলে পরিস্ফুট অপ্রসন্নতা অবলোকন করিতেছি। যদি তোমাদের মনে ক্রোধের উদ্রেক হইয়া থাকে তাহা হইলে নিজেদের উপরই ক্রোধান্বিত হও। তাহাদিগকেও আহবান করা হইয়াছিল তোমাদিগকেও আহবান করা হইয়াছিল। তাহারা দ্রুত আহবানে সাড়া দিয়াছে এবং তোমরা বিলম্ব করিয়া ফেলিয়াছ। খোদার কসম অদৃশ্য জগতের যেই মর্যাদায় তাহারা তোমাদের চেয়ে অগ্রগামী হইয়া গিয়াছে তাহা হারাইবার বেদনা তোমাদের জন্য এই দরজা (দৃশ্যমান মর্যাদা) হইতেও অধিক মর্মান্তিক হইবে যাহার ব্যাপারে তোমরা তাহাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হইয়া পড়িয়াছ। অতঃপর তিনি বলিলেন, হে জন মন্ডলী! ইহারা তোমাদের চেয়ে ঐ বিষয়ে অগ্রগামী হইয়াগিয়াছে যাহা তোমরা দেখিতেছ। অতএব এই ব্যাপারে তোমাদের কিছুই করিবার নেই। এখন এই জিহাদের প্রতি মনোনিবেশ কর এবং উহাতে অংশগ্রহন কর হয়তবা আল্লাহ তোমাদিগকে শাহাদাত নসীব করিবেন অতঃপর তিনি তাহার কাপড় ঝাড়িলেন এবং শামে চলিয়া গেলেন। হাসান বলেন, খোদার কসম। তিনি সত্যই বলিয়াছেন। আল্লাহতায়ালা তাহার প্রতি দ্রুত ধাবিত বান্দাকে কখনো বিলম্বকারী বান্দার সমপর্যায়ভূক্ত করেন না।
📄 জিহাদের সময়ের ফযীলত
হাদীস নং ১০১ - আবু নওফল ইবনে আবি আকরাব বলেনঃ হারেস ইবনে হিশাম মক্কা হইতে বাহির হইলেন ফলে মক্কাবাসীগণ অত্যন্ত অস্থির হইয়া পড়িলেন। খাদ্য গ্রহণ করে এমন প্রতিটি মানুষ তাহাকে বিদায় জানাইতে বাহির হইয়া আসিলেন। তিনি যখন বাতহার উঁচু স্থানে বা উহার যেখানে আল্লাহর ইচ্ছা পৌঁছিলেন, থামিলেন এবং লোকেরাও ক্রন্দনরত অবস্থায় তাঁহার চারিপাশে থামিল। তিনি তখন মানুষের অস্থিরতা লক্ষ্য করিয়া বলিলেন হে লোক সকল! খোদার কসম আমি এই জন্য বাহির হই নাই যে, আমি তোমাদের সঙ্গ পরিত্যাগ করিয়া একাকী অবস্থানে আগ্রহী বা তোমাদের জনপদ পরিত্যাগ করিয়া অন্য কোন জনপদ গ্রহণ করিব। (বরং ব্যাপার হইল, যেই কাজে আমি বাহির হইতেছি) উহা বহু পূর্বেই আসিয়া ছিল এবং কুরাইশের কিছু লোক ইহাতে অংশগ্রহণ করিয়াছিল। খোদার কসম তাহারা উহার উৎকৃষ্ট বংশের এবং অভিজাত অংশের কখনোই ছিলনা (কিন্তু আমরা তখন পিছাইয়া রহিয়াছি) অতঃপর আমাদের অবস্থা এই দাঁড়াইল যে, যদি মক্কার সকল পাহাড় সোনায় পরিণত হইয়া যায় এবং আমরা উহা খোদার রাহে বিলাইয়া দেই তাহা হইলেও তাহাদের সেই দিনগুলির একদিনের মর্যাদাও লাভ করিতে পারিব না। খোদার কসম! যদি তাহারা দুনিয়াতে সেই ব্যাপারে আমাদের চেয়ে অগ্রগামী হইয়া গিয়া থাকেন তাহা হইলে আমরা অন্তত আখেরাতে তাহাদের সহিত শরীক হইবার সুযোগ সন্ধান করিব। অতএব যেই ব্যাক্তি জিহাদের সফরে বাহির হইয়া গেল সে আল্লাহকে ভয় করিল। অতঃপর তিনি শাম অভিমুখে রওয়ানা হইলেন এবং তাঁহার সফর সঙ্গীগণ তাঁহার অনুসরণ করিলেন। এবং তিনি সেই স্থানে গিয়া শহীদ হইলেন।
📄 আমাকে অনুমতি দিন
হাদীস নং ১০২- হযরত সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব বলেন, যখন হযরত আবু বকর (রাযিঃ) খলীফা হইলেন তখন বেলাল শামে যাইবার প্রস্তুতি গ্রহণ করিলেন। আবু বকর (রাযিঃ) বলিলেন, ওহে বেলাল! তোমার ব্যাপারেতো আমার এই ধারনা ছিলনা যে, তুমি আমাদিগকে এই অবস্থায় ছাড়িয়া যাইবে। তুমি যদি আমাদের সহিত অবস্থান করিতে এবং আমাদেরকে সাহায্য সহযোগিতা করিতে! বিলাল বলিলেনঃ আপনি যদি আমাকে আল্লাহর জন্য আযাদ করিয়া থাকেন তাহা হইলে আমাকে ছাড়িয়া দিন, আমি আল্লাহর নিকটে চলিয়া যাই আর যদি আপনার জন্য আযাদ করিয়া থাকেন তাহা হইলে আমাকে আপনার নিকটেই আবদ্ধ রাখুন। ইহা শুনিয়া আবু বকর তাহাকে অনুমতি দিলেন এবং তিনি শামে চলিয়া গেলেন ও সেখানেই মৃত্যুবরণ করিলেন।