📄 আমার বক্ষ আপনার বক্ষদেশের সম্মুখে থাকিবে
হাদীস নং ৮৪ - হযরত আনাস (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু তালহা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে দাঁড়াইয়া তীর নিক্ষেপ করিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহার পিছন হইতে মাথা উঁচু করিয়া দেখিতেন তাহার তীর কোথায় পৌছিতেছে, তখন আবু তালহা তাহার বক্ষ দিয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আড়াল করিয়া দাঁড়াইতেন এবং বলিতেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! এভাবেই আল্লাহতায়ালা আমাকে আপনার জন্য উৎসর্গ করিয়াছেন, আমার বক্ষ আপনার বক্ষদেশের সম্মুখে থাকিবে।
📄 আল্লাহর জন্য নির্যাতিত হওয়া
হাদীস নং ৮৫ - হযরত সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যাব হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে জাহ্শ উহুদের দিন বলিলেনঃ ইয়া আল্লাহ! আমি আপনাকে কুসম দিয়া বলিতেছি যে, আমরা যেন শত্রু সেনার মুখোমুখি হই। যখন তাহাদের মুখোমুখি হইব তখন যেন তাহারা আমাকে হত্যা করিয়া ফেলে অতঃপর তাহারা আমার উদর ফাড়িয়া ফেলে এবং আমার হস্তপদ কর্তন করিয়া ফেলে অতঃপর যখন আমি আপনার সহিত মিলিত হইব তখন আপনি আমাকে জিজ্ঞাসা করিবেন কিসে তোমার এই অবস্থা হইয়াছে? আমি বলিব, আপনাতে। অতঃপর তিনি শত্রুর মুখোমুখি হইলেন ও নিহত হইলেন এবং তাহার সহিত উপরোক্ত আচরণই করা হইল। ইবনুল মুসাইয়্যাব বলেনঃ আমি আশা করি, আল্লাহতায়ালা যখন তাঁহার কুসমের প্রথমাংশ পূর্ণ করিয়াছেন তখন কুসমের শেষ অংশও পূর্ণ করিবেন।
📄 শাহাদাতের তীব্র আকাঙ্খা
হাদীস নং ৮৬ - মুসলিম বিন সাবীহ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমর ইবনুল জামূহ তাহার সন্তানদিগকে বলিলেন, তোমরা বদর প্রান্তরে আমাকে জান্নাত হইতে বঞ্চিত রাখিয়াছ খোদার কসম আমি যদি জীবিত থাকি......। তাঁহার এই বক্তব্য উমর (রাযিঃ) জানিতে পারিলেন, তিনি তাঁহাকে বলিলেন তুমি কি এরূপ বলিয়াছ? তিনি বলিলেন: জী হাঁ। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর যখন উহুদ যুদ্ধের দিন আসিল, উমর বলেন, সেই আমার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আমি তাহাঁকে তালাশ করিলাম, হঠাৎ দেখি তিনি অগ্রগামী বাহিনীর মধ্যেই রহিয়াছেন।
📄 পিতার বীরত্বে পুত্র মর্যাদাবান হইলেন
হাদীস নং ৮৭- আব্দুর রহমান বিন যায়েদ বিন আসলাম তাহার পিতা হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, উমর ইবনুল খাত্তাব যখন লোকদের জন্য ভাতা নির্ধারণ করিতেছিলেন তখন আব্দুল্লাহ বিন হানযালার জন্য দুই হাজার দিরহাম নির্ধারণ করিলেন। অতঃপর ত্বালহা তাহার ভাতুষ্পুত্রকে লইয়া তাহার নিকটে আসিলেন। উমর তাহার জন্য উহার চেয়ে কম নির্ধারণ করিলেন। ত্বালহা বলিলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! এই আনসারী ব্যক্তিকে আমার ভ্রাতুষ্পুত্রের উপর প্রাধান্য দিলেন! তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, কেননা আমি উহুদের দিন তাহার পিতাকে তরবারী লইয়া এমন উদ্ধতভাবে বিচরণ করিতে দেখিয়াছি যেমন উট বিচরণ করিয়া থাকে।