📄 জান্নাতের বিস্তৃতি
হাদীস নং ৭৭ আবু বকর ইবনে হাফস বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধের দিন এই আয়াত পাঠ করিলেন- (ওয়া সারিউ ইলা মাগফিরাতিন মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন আরদুহাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ) [তোমরা ধাবমান হও স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যাহার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়। (আলে ইমরান, আয়াতঃ ১৩৩)]
তখন ইবনে কাছহাম নামক এক আনসারী বলিয়া উঠিলেন "বাখ” "বাখ”। আবু বকর ইবনে হাফস বলেন “বাখ” শব্দটি দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়, আশ্চর্য প্রকাশ করিতে ও অস্বীকার করিতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন তুমি "বাখ” বলিয়া কি বুঝাইতেছ? তখন সে বলিল: ইয়া রাসূলাল্লাহ অন্য কিছু নয়, আমি ইহা জানিয়া আশ্চর্যান্বিত হইয়া গিয়াছি যে, আমি যদি উহাতে (জান্নাতে) প্রবেশ করি তাহা হইলে আমার জন্য (এই পরিমান!) প্রশস্ততা হইবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হাঁ এরূপই হইবে। অতঃপর ইবনে কাস্হাম বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ও ইহার মধ্যে কি পরিমান দূরত্ব রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি এই কওমের বিপরীতে দন্ডায়মান হইবার অব্যবহিত পরেই ইহা লাভ করিবে ও আল্লাহতায়ালার বাণীর সত্যতা উপলব্ধি করিবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি তাহার হাতের খেজুর কয়টি ফেলিয়া দিলেন অথবা বলিয়াছেন, দুনিয়ার খাদ্য পরিত্যাগ করিলেন অতঃপর সামনে অগ্রসর হইলেন ও লড়াই করিতে করিতে নিহত হইয়া গেলেন।
📄 জিহাদের জন্য ব্যাকুলতা
হাদীস নং ৭৮- হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম ইকরিমা হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আনসারী ব্যক্তি আমর বিন জামূহ খোড়া ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের উদ্দেশ্যে বাহির হইলেন তখন তিনি তাহার সন্তানদিগকে বলিলেন, আমাকে বাহির কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে তাহার অবস্থা উল্লেখ করা হইলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে নিজ গৃহে অবস্থানের অনুমতি দিলেন।
যখন উহুদ যুদ্ধের দিন আসিল তখন লোকেরা যুদ্ধে বাহির হইলে তিনিও তাহার পুত্রদিগকে বলিলেন, আমাকে বাহির কর। তাহারা বলিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতো আপনাকে গৃহে অবস্থানের অনুমতি দিয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ দূর, তোমরা বদরের দিন আমাকে জান্নাত হইতে বঞ্চিত রাখিয়াছ এখন উহুদ প্রান্তরেও আমাকে উহা হইতে বঞ্চিত রাখিতে চাহিতেছ! অবশেষে তিনি যুদ্ধে বাহির হইলেন। যখন তিনি শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হইলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিলেন, আপনি কি মনে করেন আমি যদি আজ নিহত হই তাহা হইলে আমার এই পঙ্গুত্ব লইয়া জান্নাতে বিচরণ করিতে পারিব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হাঁ। তখন তিনি বলিলেন, ঐ সত্ত্বার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন আল্লাহ চাহেতো আমি ইহা লইয়া আজই জান্নাতে বিচরণ করিব। অতঃপর তিনি তাঁহার এক দাসকে বলিলেন, তোমার পরিবার পরিজনের নিকটে ফিরিয়া যাও, সে উত্তরে বলিল আমি যদি আজ আপনার সহিত কোন কল্যান লাভ করিতে পারি এতে আপনার কি কোন ক্ষতি হইবে? তিনি বলিলেন, তাহা হইলে অগ্রসর হও। দাসটি অগ্রসর হইল এবং লড়াই করিয়া নিহত হইয়া গেল। অতঃপর তিনি অগ্রসর হইলেন এবং নিহত হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করিয়া গেলেন।
📄 ইহাতেই জান্নাত
হাদীস নং ৭৯ - সুলাইমান ইবনে আবান বলেন, যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদর প্রান্তরের উদ্দেশ্যে বাহির হইলেন তখন সা'দ বিন খাইছামাহ ও তাহার পিতা খাইছামাহ উভয়ে যাইতে চাহিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে ইহা উপস্থাপন করা হইলে তিনি একজনকে যাইতে বলিলেন। তখন উভয়ের নামে লটারী হইলে সা'দের নাম আসিল তখন পিতা বলিলেন, প্রিয় বৎস! ইহা আমার জন্য ছাড়িয়া দাও। পুত্র বলিলেন আব্বাজান! ইহাতো জান্নাত! যদি অন্য কিছু হইত তবে অবশ্যই আমি আপনার জন্য ছাড়িয়া দিতাম। অতঃপর সা'দ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিত বাহির হইলেন এবং নিহত হইলেন। পরের বছর উহুদ যুদ্ধে খাইছামা নিহত হইলেন।
📄 আমি সফলতা লাভ করিয়াছি
হাদীস নং ৮০ - আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) বলেন, বিরে মাউনার যুদ্ধের দিন হারাম বিন মালহান-যিনি তার মামা ছিলেন- বর্শার আঘাতে আহত হওয়া মাত্রই এভাবে, রক্ত নিয়ে তাহার মাথায় ও মুখ মন্ডলে মাখিলেন অতঃপর বললেন, কাবার রবের শপথ আমি সফলতা লাভ করিয়াছি।