📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল সত্য বলিয়াছেন

📄 আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল সত্য বলিয়াছেন


হাদীস নং ৭৫- হযরত কাতাদাহ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহতায়ালার বাণী- (ওয়ালাম্মা রাআল মু'মিনুনাল আহযাবা ক্বলু হাযা মা ওয়া আদনাল্লাহু ওয়া রাসুলুহু ওয়া সাদাক্বাল্লাহু ওয়া রাসুলুহু) ["মুমিনগণ যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখিল, উহারা বলিয়া উঠিল ইহাতো তাহাই আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল যাহার প্রতিশ্রুতি আমাদিগকে দিয়াছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল সত্যই বলিয়াছিলেন। (আহযাব, ২২)]

উক্ত আয়াতে সুরায়ে বাক্বারার নিম্নোক্ত আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত রহিয়াছে, (আম হাসিবেতুম আন তাদখুলুল জান্নাতা ওয়ালাম্মা ইয়াতিকুম মাছালুল্লাযীনা খালাও মিন ক্বাবলিকুম মাছছাতহুমুল বা’সাউ ওয়াদ দ্বাররাউ ওয়া ঝুলঝিলু) ["তোমরা কি মনে কর যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করিবে যদিও এখনও তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা আসে নাই? অর্থ-সংকট ও দুঃখ ক্লেশ তাহাদিগকে স্পর্শ করিয়া ছিল এবং তাহারা ভীত কম্পিত হইয়াছিল। (বাক্বারাহ, ২১৪) "]

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 জান্নাতের ঘ্রান

📄 জান্নাতের ঘ্রান


হাদীস নং ৭৬ - হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা হলেন আনাস বিন নযর, তাহার নামেই আমার নাম। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতে পারেন নাই ইহা তাহার জন্য অতিশয় পীড়াদায়ক হইয়াছিল। তাই তিনি বলিতেন, প্রথম যুদ্ধ যাহাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন আমি তাহাতে অংশগ্রহণ করিতে পারি নাই। খোদার কসম, যদি আগামীতে আল্লাহতায়ালা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোন যুদ্ধ দেখান তাহা হইলে আল্লাহ অবশ্যই দেখিবেন আমি কী করি? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি অন্য কিছু বলিতে ভয় পাইলেন।

পরবর্তী বছর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিলেন। (যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে) সা'দ ইবনে মুয়াযের সহিত তাহার সাক্ষাত হইলে সা'দ বিন মুয়ায বলিলেনঃ হে আবু আমর! আমি উহুদের দিক হইতে জান্নাতের খুশবু পাইতেছি। আহ! তা কেমন মনমাতানো!! ইহা শুনিয়া তিনি (আনাস ইবনে নযর) অগ্রসর হইলেন এবং লড়াই করিতে করিতে নিহত হইলেন। তাঁহার দেহে আশিটিরও বেশী তীর, তরবারী ও বর্শার আঘাত ছিল। আমার ফুফু রবী বিনতে নযর বলেন, আমি আমার ভাইকে শুধু মাত্র তাহার আঙ্গুলের অগ্রভাগ দেখিয়া চিনিতে পারিয়াছি। বর্ননাকারী বলেন, এবং (তাঁহার সম্পর্কে) এই আয়াত অবতীর্ণ হইলঃ

(মিনাল মু'মিনিনা রিজালুন সাদাকু মা আহাদুল্লাহা আলাইহি ফামিনহুম মান ক্বাদা নাহবাহু ওয়া মিনহুম মান ইয়ান্তাযিরু ওয়ামা বাদ্দালু তাবদীল) মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সহিত তাহাদের কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করিয়াছে। উহাদের কেহ কেহ প্রতীক্ষায় রহিয়াছে। উহারা তাহাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করে নাই (আহযাব, আয়াতঃ ২৩)

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 জান্নাতের বিস্তৃতি

📄 জান্নাতের বিস্তৃতি


হাদীস নং ৭৭ আবু বকর ইবনে হাফস বলিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের যুদ্ধের দিন এই আয়াত পাঠ করিলেন- (ওয়া সারিউ ইলা মাগফিরাতিন মির রাব্বিকুম ওয়া জান্নাতিন আরদুহাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদ) [তোমরা ধাবমান হও স্বীয় প্রতিপালকের ক্ষমার দিকে এবং সেই জান্নাতের দিকে যাহার বিস্তৃতি আসমান ও যমীনের ন্যায়। (আলে ইমরান, আয়াতঃ ১৩৩)]

তখন ইবনে কাছহাম নামক এক আনসারী বলিয়া উঠিলেন "বাখ” "বাখ”। আবু বকর ইবনে হাফস বলেন “বাখ” শব্দটি দুই অর্থে ব্যবহৃত হয়, আশ্চর্য প্রকাশ করিতে ও অস্বীকার করিতে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন তুমি "বাখ” বলিয়া কি বুঝাইতেছ? তখন সে বলিল: ইয়া রাসূলাল্লাহ অন্য কিছু নয়, আমি ইহা জানিয়া আশ্চর্যান্বিত হইয়া গিয়াছি যে, আমি যদি উহাতে (জান্নাতে) প্রবেশ করি তাহা হইলে আমার জন্য (এই পরিমান!) প্রশস্ততা হইবে। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হাঁ এরূপই হইবে। অতঃপর ইবনে কাস্হাম বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ও ইহার মধ্যে কি পরিমান দূরত্ব রহিয়াছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, তুমি এই কওমের বিপরীতে দন্ডায়মান হইবার অব্যবহিত পরেই ইহা লাভ করিবে ও আল্লাহতায়ালার বাণীর সত্যতা উপলব্ধি করিবে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি তাহার হাতের খেজুর কয়টি ফেলিয়া দিলেন অথবা বলিয়াছেন, দুনিয়ার খাদ্য পরিত্যাগ করিলেন অতঃপর সামনে অগ্রসর হইলেন ও লড়াই করিতে করিতে নিহত হইয়া গেলেন।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 জিহাদের জন্য ব্যাকুলতা

📄 জিহাদের জন্য ব্যাকুলতা


হাদীস নং ৭৮- হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ)-এর আযাদকৃত গোলাম ইকরিমা হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেনঃ আনসারী ব্যক্তি আমর বিন জামূহ খোড়া ছিলেন। যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বদরের উদ্দেশ্যে বাহির হইলেন তখন তিনি তাহার সন্তানদিগকে বলিলেন, আমাকে বাহির কর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকটে তাহার অবস্থা উল্লেখ করা হইলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে নিজ গৃহে অবস্থানের অনুমতি দিলেন।

যখন উহুদ যুদ্ধের দিন আসিল তখন লোকেরা যুদ্ধে বাহির হইলে তিনিও তাহার পুত্রদিগকে বলিলেন, আমাকে বাহির কর। তাহারা বলিল: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতো আপনাকে গৃহে অবস্থানের অনুমতি দিয়াছেন। তিনি বলিলেনঃ দূর, তোমরা বদরের দিন আমাকে জান্নাত হইতে বঞ্চিত রাখিয়াছ এখন উহুদ প্রান্তরেও আমাকে উহা হইতে বঞ্চিত রাখিতে চাহিতেছ! অবশেষে তিনি যুদ্ধে বাহির হইলেন। যখন তিনি শত্রুবাহিনীর মুখোমুখি হইলেন তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলিলেন, আপনি কি মনে করেন আমি যদি আজ নিহত হই তাহা হইলে আমার এই পঙ্গুত্ব লইয়া জান্নাতে বিচরণ করিতে পারিব? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, হাঁ। তখন তিনি বলিলেন, ঐ সত্ত্বার শপথ! যিনি আপনাকে সত্যসহ প্রেরণ করিয়াছেন আল্লাহ চাহেতো আমি ইহা লইয়া আজই জান্নাতে বিচরণ করিব। অতঃপর তিনি তাঁহার এক দাসকে বলিলেন, তোমার পরিবার পরিজনের নিকটে ফিরিয়া যাও, সে উত্তরে বলিল আমি যদি আজ আপনার সহিত কোন কল্যান লাভ করিতে পারি এতে আপনার কি কোন ক্ষতি হইবে? তিনি বলিলেন, তাহা হইলে অগ্রসর হও। দাসটি অগ্রসর হইল এবং লড়াই করিয়া নিহত হইয়া গেল। অতঃপর তিনি অগ্রসর হইলেন এবং নিহত হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ করিয়া গেলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px