📄 তোমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান দেওয়া হইল
হাদীস নং ৭৩ - যাহ্হাক (রাহঃ) আল্লাহতায়ালার বাণী- (কুতিব আ’লাইকুমুল ক্বিতালু ওয়া হুয়া কুরুহুল লাকুম) [(তোমাদের জন্য যুদ্ধের বিধান দেওয়া হইল যদিও তোমাদের জন্য ইহা অপ্রিয়)। (বাকারা, আয়াত: ২১৬)]
আয়াত প্রসঙ্গে বলেন: ক্বিতালের আয়াত অবতীর্ণ হইলে তাহাদের নিকটে তাহা কষ্টের ব্যাপার মনে হইল। অতঃপর যখন আল্লাহতায়ালা ক্বিতালকারীদের (সশস্ত্র যোদ্ধা) বিনিময়, মর্যাদা এবং তাহাদের জন্য আল্লাহতায়ালা যে জীবন ও রিযিক নির্ধারিত রাখিয়াছেন তাহার বিবরণ দিলেন, তখন তাহাতে বিশ্বাস স্থাপনকারী ব্যক্তিবর্গ অন্য কিছুকেই জিহাদের উপর প্রাধান্য দিলেন না এবং তাহারা ইহাকে পছন্দ করিলেন ও ইহার প্রতি আগ্রহী হইলেন এমনকি তাহারা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট বাহন প্রার্থনা করিতে লাগিলেন, কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে দিবার মত বাহন না থাকায় তাহারা দুঃখভারাক্রান্ত মনে ফিরিয়া গেলেন। আল্লাহর রাহে ব্যয় করিবার সামর্থ্য না থাকার দুঃখে তাহাদের চক্ষু হইতে অশ্রু প্রবাহিত হইতেছিল। জিহাদ আল্লাহতায়ালার ফরয বিধানসমূহের মধ্যে একটি ফরয বিধান।
📄 তোমাদের কি হইলো
হাদীস নং ৭৪- হযরত ইবনে আব্বাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লাহতায়ালা বাণী ‘ওয়া মাল্লাকুম লা তুক্বাতিলুনা ফী সাবীলিল্লাহ’ [তোমাদের কি হইলো যে তোমরা যুদ্ধ করছ না আল্লাহর পথে এবং অসহায় নরনারী ও শিশুদের জন্য, যারা বলে, 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে অন্যত্র নিয়ে যাও, এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী! এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন সাহায্যকারী করে দাও। (নিসা, ৭৫)] হিজরতের পরে মক্কায় অবস্থানকারী অসহায় নর নারীদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হইয়াছে।
📄 আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল সত্য বলিয়াছেন
হাদীস নং ৭৫- হযরত কাতাদাহ (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি আল্লাহতায়ালার বাণী- (ওয়ালাম্মা রাআল মু'মিনুনাল আহযাবা ক্বলু হাযা মা ওয়া আদনাল্লাহু ওয়া রাসুলুহু ওয়া সাদাক্বাল্লাহু ওয়া রাসুলুহু) ["মুমিনগণ যখন সম্মিলিত বাহিনীকে দেখিল, উহারা বলিয়া উঠিল ইহাতো তাহাই আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল যাহার প্রতিশ্রুতি আমাদিগকে দিয়াছিলেন এবং আল্লাহ ও তাঁহার রাসূল সত্যই বলিয়াছিলেন। (আহযাব, ২২)]
উক্ত আয়াতে সুরায়ে বাক্বারার নিম্নোক্ত আয়াতের প্রতি ইঙ্গিত রহিয়াছে, (আম হাসিবেতুম আন তাদখুলুল জান্নাতা ওয়ালাম্মা ইয়াতিকুম মাছালুল্লাযীনা খালাও মিন ক্বাবলিকুম মাছছাতহুমুল বা’সাউ ওয়াদ দ্বাররাউ ওয়া ঝুলঝিলু) ["তোমরা কি মনে কর যে তোমরা জান্নাতে প্রবেশ করিবে যদিও এখনও তোমাদের নিকট তোমাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা আসে নাই? অর্থ-সংকট ও দুঃখ ক্লেশ তাহাদিগকে স্পর্শ করিয়া ছিল এবং তাহারা ভীত কম্পিত হইয়াছিল। (বাক্বারাহ, ২১৪) "]
📄 জান্নাতের ঘ্রান
হাদীস নং ৭৬ - হযরত আনাস (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার চাচা হলেন আনাস বিন নযর, তাহার নামেই আমার নাম। তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিতে পারেন নাই ইহা তাহার জন্য অতিশয় পীড়াদায়ক হইয়াছিল। তাই তিনি বলিতেন, প্রথম যুদ্ধ যাহাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উপস্থিত ছিলেন আমি তাহাতে অংশগ্রহণ করিতে পারি নাই। খোদার কসম, যদি আগামীতে আল্লাহতায়ালা আমাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে কোন যুদ্ধ দেখান তাহা হইলে আল্লাহ অবশ্যই দেখিবেন আমি কী করি? বর্ণনাকারী বলেন, তিনি অন্য কিছু বলিতে ভয় পাইলেন।
পরবর্তী বছর তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে উহুদের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করিলেন। (যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে) সা'দ ইবনে মুয়াযের সহিত তাহার সাক্ষাত হইলে সা'দ বিন মুয়ায বলিলেনঃ হে আবু আমর! আমি উহুদের দিক হইতে জান্নাতের খুশবু পাইতেছি। আহ! তা কেমন মনমাতানো!! ইহা শুনিয়া তিনি (আনাস ইবনে নযর) অগ্রসর হইলেন এবং লড়াই করিতে করিতে নিহত হইলেন। তাঁহার দেহে আশিটিরও বেশী তীর, তরবারী ও বর্শার আঘাত ছিল। আমার ফুফু রবী বিনতে নযর বলেন, আমি আমার ভাইকে শুধু মাত্র তাহার আঙ্গুলের অগ্রভাগ দেখিয়া চিনিতে পারিয়াছি। বর্ননাকারী বলেন, এবং (তাঁহার সম্পর্কে) এই আয়াত অবতীর্ণ হইলঃ
(মিনাল মু'মিনিনা রিজালুন সাদাকু মা আহাদুল্লাহা আলাইহি ফামিনহুম মান ক্বাদা নাহবাহু ওয়া মিনহুম মান ইয়ান্তাযিরু ওয়ামা বাদ্দালু তাবদীল) মুমিনদের মধ্যে কতক আল্লাহর সহিত তাহাদের কৃত অঙ্গিকার পূর্ণ করিয়াছে। উহাদের কেহ কেহ প্রতীক্ষায় রহিয়াছে। উহারা তাহাদের অঙ্গীকারে কোন পরিবর্তন করে নাই (আহযাব, আয়াতঃ ২৩)