📄 সেও শহীদ
হাদীস নং ৬৭ - ইয়াহয়া ইবনে আবী কাছীর বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বাহির হইবার জন্য পাদানিতে পা রাখিল এমতাবস্থায় কোন বিষাক্ত কীট তাহাকে দংশন করিল বা তাহার সওয়ারী পশু তাহাকে পিঠ হইতে নিক্ষেপ করিয়া ঘাড় ভাংগিয়া দিল বা অন্য কোন ভাবে সে মৃত্যুবরণ করিল, সে শহীদ হইবে।
📄 আল্লাহ নিয়্যত অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন
হাদীস নং ৬৮- আতীক বিন হারেছ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে হারেসকে দেখিতে আসিলেন। দেখিলেন তাহার বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হইয়াছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে জোরে ডাকিলেন কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন” পড়িলেন এবং বলিলেন, আমরা তোমাকে হারাইয়াছি হে আবুর রাবী'! ইহা শুনিয়া মহিলাগণ চিৎকার করিতে লাগিল এবং ক্রন্দন করিতে আরম্ভ করিল। ইবনে আতীক তাহাদিগকে থামাইতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ইহাদিগকে ছাড়, যখন স্থির হইয়া যাইবে তখন যেন কোন ক্রন্দসী ক্রন্দন না করে। তাঁহারা জিজ্ঞাসা করিলেন, স্থির হইবার কি অর্থ ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলিলেন, যখন সে মারা যাইবে।
তাহার কন্যা তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, খোদার কসম! আমার আশা ছিল আপনি শহীদ হইবেন কেননা আপনি অভিযানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালা তাহার নিয়্যত অনুযায়ী তাহাকে প্রতিদান দিবেন। তোমরা শাহাদাৎ বলিতে কি বোঝ? তাহারা বলিলেন, আল্লাহর পথে নিহত হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ছাড়াও সাত ধরনের শহীদ রহিয়াছে। পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী শহীদ, নিমজ্জিত ব্যক্তি শহীদ, মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, দেয়াল চাপা পড়িয়া মৃত্যুবরণকারী শহীদ, আগুনে পুড়িয়া মৃত্যুবরণকারী শহীদ এবং যেই মহিলা গর্ভবতী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিয়াছে সে ও শহীদ।
📄 তাহারা সকলেই শহীদ
হাদীস নং ৬৯ - তারেক ইবনে শিহাব বলেন, কতিপয় ব্যক্তি আব্দুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) নিকটে শহীদগণের আলোচনা করিলেন। তাহারা বলিতেছিলেন, অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধের দিন শাহাদাৎবরণ করিয়াছেন এবং অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধের দিন। তখন আব্দুল্লাহ বলিলেন, যদি শুধু নিহত ব্যক্তিগণই তোমাদের নিকটে শহীদ হইয়া থাকেন তাহা হইলে তোমাদের শহীদানের সংখ্যা নিতান্তই অল্প হইবে। যে ব্যক্তি পাহাড় হইতে পড়িয়া গিয়াছে বা সমূদ্রে নিমজ্জিত হইয়াছে বা হিংস্র পশু কর্তৃক ভক্ষিত হইয়াছে তাঁহারা সকলেই কিয়ামতের দিবসে আল্লাহর নিকটে শহীদ হিসাবে বিবেচিত হইবেন।
📄 আল্লাহর পথে জিহাদকারীর একদিন
হাদীস নং ৭০ - ছফওয়ান বিন সুলাইম হইতে বর্ণিত, আবু হুরাইরা (রাযিঃ) বলিয়াছেন, তোমাদের কাহারও কি এই সামর্থ আছে যে যতদিন সে জীবিত থাকে ততদিন নিরলসভাবে নামায পড়িবে (কখনও শ্রান্ত হইবে না) এবং অবিরাম রোযা রাখিবে (কখনও রোযা বিহীন থাকিবে না)? বলা হইল হে আবু হুরাইরা! কে ইহার সামর্থ রাখে? তখন তিনি বলিলেন, ঐ সত্ত্বার কসম যাহার হাতে আমার প্রাণ! নিঃসন্দেহে আল্লাহর পথে জিহাদকারীর এক দিন ইহা হইতেও উত্তম।