📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা

📄 আল্লাহ সর্বোত্তম রিযিকদাতা


হাদীস নং ৬৬: আব্দুর রহমান ইবনে জাহদাম আল খাওয়ালানী বলেন, তিনি সমুদ্রের সফরে ফাদালাহ ইবনে উবাইদের নিকটে দুইটি মৃতদেহ লইয়া উপস্থিত হইলেন। উহাদের একজন মিনজানীকের আঘাতে এবং অপর জন সাধারণভাবে মৃত্যুবরণ করিয়াছিলেন। ফাদালাহ সাধারণভাবে মৃত্যুবরণকারী ব্যক্তির কবরের পাশে বসিলেন। তখন তাহাকে প্রশ্ন করা হইল আপনি শহীদকে পরিত্যাগ করিলেন! তাহার নিকটে বসিলেন না! তখন তিনি উত্তরে বলিলেন। আমি এতদুভয়ের কাহার কবর হইতে উত্থিত হইব তাহার কোন পরোয়া আমার নাই (অর্থাৎ এতদুভয়ের কাহার মত অবস্থা আমার হইবে আল্লাহর পথে শহীদ হইয়া কবরস্থ হইব বা আল্লাহর পথে সাধারণভাবে মৃত্যুবরণ করিয়া কবরস্থ হইব উভয়টাই আমার নিকটে সমান) কেননা আল্লাহতায়ালা বলিতেছেন-

( وَالَّذِينَ هَاجَرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ ، ثُمَّ قُتِلُوا أَوْ مَاتُوا لَيَرْزُقَنَّهُمُ اللَّهُ رِزْقًا حَسَنًا ، إِنَّ اللهَ لَهُوَ خَيْرُ الرَّازِقِينَ، لَيُدْخِلَنَّهُمْ مَدْخَلًا يَرْضَوْنَهُ )

যারা আল্লাহর পথে হিজরত করে অতঃপর নিহত হয় বা মৃত্যুবরণ করে অবশ্যই আল্লাহতায়ালা তাহাদিগকে মনোরম রিযিক দান করিবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালাই সর্বোত্তম রিযিকদাতা। অবশ্যই তাহাদিগকে তাহাদের পছন্দনীয় প্রবেশস্থলে প্রবেশ করাইবেন। (সূরা হজ্জ, ৫৮,৫৯)

অতএব হে ভৃত্য! যখন তুমি তোমার পছন্দনীয় আবাস পাইলে এবং মনোরম রিযিক লাভ করিলে তখন তোমার আর কিসের প্রত্যাশা! খোদার কসম এতদুভয়ের কাহার কবর হইতে আমি উত্থিত হইব তাহার কোন পরোয়া আমার নাই!

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 সেও শহীদ

📄 সেও শহীদ


হাদীস নং ৬৭ - ইয়াহয়া ইবনে আবী কাছীর বলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে বাহির হইবার জন্য পাদানিতে পা রাখিল এমতাবস্থায় কোন বিষাক্ত কীট তাহাকে দংশন করিল বা তাহার সওয়ারী পশু তাহাকে পিঠ হইতে নিক্ষেপ করিয়া ঘাড় ভাংগিয়া দিল বা অন্য কোন ভাবে সে মৃত্যুবরণ করিল, সে শহীদ হইবে।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 আল্লাহ নিয়্যত অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন

📄 আল্লাহ নিয়্যত অনুযায়ী প্রতিদান দিবেন


হাদীস নং ৬৮- আতীক বিন হারেছ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আব্দুল্লাহ ইবনে হারেসকে দেখিতে আসিলেন। দেখিলেন তাহার বাহ্যজ্ঞান লুপ্ত হইয়াছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাহাকে জোরে ডাকিলেন কিন্তু তিনি কোন উত্তর দিলেন না তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম “ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রজিউন” পড়িলেন এবং বলিলেন, আমরা তোমাকে হারাইয়াছি হে আবুর রাবী'! ইহা শুনিয়া মহিলাগণ চিৎকার করিতে লাগিল এবং ক্রন্দন করিতে আরম্ভ করিল। ইবনে আতীক তাহাদিগকে থামাইতে লাগিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, ইহাদিগকে ছাড়, যখন স্থির হইয়া যাইবে তখন যেন কোন ক্রন্দসী ক্রন্দন না করে। তাঁহারা জিজ্ঞাসা করিলেন, স্থির হইবার কি অর্থ ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বলিলেন, যখন সে মারা যাইবে।

তাহার কন্যা তাহাকে লক্ষ্য করিয়া বলিল, খোদার কসম! আমার আশা ছিল আপনি শহীদ হইবেন কেননা আপনি অভিযানের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করিয়াছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহতায়ালা তাহার নিয়্যত অনুযায়ী তাহাকে প্রতিদান দিবেন। তোমরা শাহাদাৎ বলিতে কি বোঝ? তাহারা বলিলেন, আল্লাহর পথে নিহত হওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিলেন, আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ছাড়াও সাত ধরনের শহীদ রহিয়াছে। পেটের পীড়ায় মৃত্যুবরণকারী শহীদ, নিমজ্জিত ব্যক্তি শহীদ, মহামারীতে মৃত্যুবরণকারী শহীদ, দেয়াল চাপা পড়িয়া মৃত্যুবরণকারী শহীদ, আগুনে পুড়িয়া মৃত্যুবরণকারী শহীদ এবং যেই মহিলা গর্ভবতী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করিয়াছে সে ও শহীদ।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 তাহারা সকলেই শহীদ

📄 তাহারা সকলেই শহীদ


হাদীস নং ৬৯ - তারেক ইবনে শিহাব বলেন, কতিপয় ব্যক্তি আব্দুল্লাহর (ইবনে মাসউদ) নিকটে শহীদগণের আলোচনা করিলেন। তাহারা বলিতেছিলেন, অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধের দিন শাহাদাৎবরণ করিয়াছেন এবং অমুক ব্যক্তি অমুক যুদ্ধের দিন। তখন আব্দুল্লাহ বলিলেন, যদি শুধু নিহত ব্যক্তিগণই তোমাদের নিকটে শহীদ হইয়া থাকেন তাহা হইলে তোমাদের শহীদানের সংখ্যা নিতান্তই অল্প হইবে। যে ব্যক্তি পাহাড় হইতে পড়িয়া গিয়াছে বা সমূদ্রে নিমজ্জিত হইয়াছে বা হিংস্র পশু কর্তৃক ভক্ষিত হইয়াছে তাঁহারা সকলেই কিয়ামতের দিবসে আল্লাহর নিকটে শহীদ হিসাবে বিবেচিত হইবেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px