📄 যখন দুই সারি মুখোমুখী হয়
হাদীস নং ২১- আব্দুল্লাহ ইবনে উবাইদ ইবনে উমাইর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন দুই সারি মুখোমুখি হয় তখন আল্লাহ তায়ালা জান্নাতের সুনয়না রমনীগণকে দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ করেন। যখন তাহারা কোন যোদ্ধার অগ্রগতি দেখেন তখন বলেন, ইয়া আল্লাহ! ইহাকে দৃঢ়পদ রাখুন। অতঃপর যখন সে পশ্চাদপসরন করে তখন তাহারা সেই দিক হইতে সরিয়া যান। যদি সেই যোদ্ধা নিহত হন তবে দুইজন জান্নাতী রমনী তাহার নিকটে অবতরন করেন এবং তাহার মুখমন্ডল হইতে ধূলা মুছিয়া দেন এবং বলেন ইয়া আল্লাহ! যে ইহাকে ধূলি মলিন করিয়াছে আপনি তাহাকে ধূলায় ধূসরিত করুন।
📄 তোমার সময় হইয়াছে
হাদীস নং ২২- মুজাহিদ হইতে বর্ণিত তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনে শাজারাহ আমাদের ওয়ায করিতেন এবং ক্রন্দন করিতেন। তাহার কর্ম তাহার ক্রন্দনকে সত্যায়ন করিত। তিনি বলিতেন: হে লোক সকল। তোমরা আল্লাহতায়ালার নিয়ামত রাজির কথা স্মরণ কর। তাহার নিয়ামতের ছাপ তোমাদের উপর কতই না সুন্দর দেখাইতেছে যদি তোমরা দেখিতে পাইতে যা আমি দেখি হলুদ, লাল, সাদা ও কালো বর্ণ হইতে এবং কি আছে হাওদার মধ্যে! যখন নামায কায়েম হয় তখন আসমানের দরজাসমূহ, এবং জান্নাত ও জাহান্নামের দরজাসমূহ খুলিয়া দেওয়া হয়। সুনয়না জান্নাতী রমনীগণকে সুসজ্জিত করা হয়। অতঃপর তাহারা উঁকি দিয়া দেখিতে থাকে। যখন কোন ব্যক্তি অগ্রগামী হয় তাহারা বলিতে থাকে ইয়া আল্লাহ! তাহাকে ক্ষমা করুন। অতএব হে গোত্রের বিশিষ্ট লোকেরা! সর্ব শক্তি ব্যয় কর! আমার পিতা মাতা তোমাদের উপর কুরবান হোক। তোমরা হুরে ঈনকে অপমানিত করোনা। যখন সে নিহত হয় তখন রক্তের প্রথম ফোটার সাথে সাথেই তাহার পাপরাশি ঝরিতে থাকে যেমন গাছের ডাল হইতে পাতা ঝরিতে থাকে এবং তাহার নিকটে দুই জন রমনী নামিয়া আসে এবং তাহার মুখমন্ডল হইতে ধূলা ঝাড়িতে থাকে এবং বলে তোমার সময় হইয়াছে। সে ব্যক্তিও তাহাদেরকে বলে তোমাদের ও সময় হইয়াছে। অতঃপর তাহাকে শত প্রস্থ কাপড় পরানো হয়। যাহা ইচ্ছা করিলে তাহার দুই আঙ্গুলের মধ্যে গুজিয়া রাখা সম্ভব হইবে। ইহা কোন মানব সন্তানের বুননকৃত নয়, ইহা জান্নাতের উৎপাদিত বস্ত্র।
📄 জান্নাতের রমনী
হাদীস নং ২৩ - আনাস ইবনে মালেক (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন: আল্লাহর পথে দিনের প্রথমার্ধে বাহির হওয়া বা শেষার্ধে বাহির হওয়া দুনিয়া ও তাহার মধ্যস্থ সব কিছু হইতে উত্তম। তোমাদের কাহারও একটি ধনুক পরিমান জান্নাতের স্থান দুনিয়া ও তাহার মধ্যস্থ সব কিছু হইতে উত্তম যদি জান্নাতের কোন একজন রমনী দুনিয়ার প্রতি উঁকি দেয় তাহা হইলে এতদুভয়ের মধ্যবর্তী স্থান আলোকিত হইয়া যাইবে এবং পুরো ভূমি সুগন্ধে ভরিয়া যাইবে। (খোদার কসম!) তাহার ওড়না দুনিয়া ও ইহার মধ্যস্থ সবকিছু হইতে উত্তম।
📄 পৃথিবী আলোকিত হইয়া যাইত
হাদীস নং ২৪- হাসসান ইবনে অত্মিয়্যাহ হইতে বর্ণিত তিনি বলেন, সাঈদ ইবনে আমের বলিয়াছেন: অপরুপা কল্যানময়ীদের মধ্য হইতে কোন এক কল্যানময়ী যদি আসমান হইতে উঁকি দিত তাহা হইলে তাহার আলোকে পুরো পৃথিবী আলোকময় হইয়া যাইত এবং তাহার চেহারার ঔজ্জল্য চাঁদ সূর্যকে নিস্প্রভ করিয়া দিত। তাহার পরিধেয় ওড়নাটি দুনিয়া ও তাহার মধ্যস্থ সকল কিছু হইতে উত্তম। তিনি তাহার স্ত্রীকে লক্ষ্য করিয়া বলিলেন, খোদার কুসম তাঁহাদের জন্য তোমাকে পরিত্যাগ করা যায় কিন্তু তোমার জন্য তাদিগকে পরিত্যাগ করা যায় না।