📄 যুদ্ধ যাত্রার পূর্বে নেক আমল করা
হাদীস নং ৫- আবুদ্দারদা (রাযিঃ) বলিয়াছেন, যুদ্ধ যাত্রার পূর্বে নেক আমল কর, কেননা তোমরা কেবল তোমাদের আমলসমূহের মাধ্যমেই লড়াই করিয়া থাক।
📄 আল্লাহর পথে নিহত হওয়া
হাদীস নং ৬- আবুদ্দারদা (রাযিঃ) বলিয়াছেন, আল্লাহর পথে নিহত হওয়া ময়লাসমূহকে ধুইয়া ফেলে এবং নিহত হওয়া দুই ধরনের, মোচনকারী ও দরজা বুলন্দকারী।
📄 পরিচ্ছন্ন শহীদ
হাদীস নং ৭-উতবা ইবনে আবদিস সুলামী (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলিয়াছেন, নিহত তিন ধরনের।
(প্রথমত) মুমিন ব্যক্তি যে আল্লাহর পথে জান মাল দিয়া জিহাদ করিয়াছে। যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হইয়াছে তখন তাহার সহিত লড়াই করিয়াছে এবং নিহত হইয়াছে। ইনি হইলেন পরিচ্ছন্ন শহীদ। ইনি আরশের নীচে আল্লাহ তায়ালার বিশেষ তাবুতে অবস্থান করিবেন।
(দ্বিতীয়ত) মুমিন ব্যক্তি যে কিছু পাপ ও বিচ্যুতি আহরণ করিয়াছে অপরদিকে আল্লাহর পথে জান মাল দিয়া জিহাদও করিয়াছে এমনকি যখন শত্রুর মুখোমুখি হইয়াছে তখন লড়াই করিয়া নিহত হইয়াছে। তো সেই তরবারিটি হইল পবিত্রকারী, তাহার পাপরাশি ও বিচ্যুতিসমূহকে মুছিয়া দিয়াছে। নিঃসন্দেহে তরবারী বিচ্যুতিসমূহের জন্য মোচনকারী। এই ব্যক্তি জান্নাতের যে দরজা দিয়া প্রবেশ করিতে চায় সেই দরজা দিয়াই তাহাকে প্রবেশ করানো হইবে।
(তৃতীয়ত) মুনাফিক ব্যক্তি, যে জান মাল দিয়া আল্লাহর পথে জিহাদ করিয়াছে যখন সে শত্রুর মুখোমুখি হইয়াছে তখন লড়াই করিয়াছে এবং নিহত হইয়াছে। এই ব্যক্তি কিন্তু জাহান্নামী হইবে কেননা তরবারী নিফাক মোচনকারী নহে।
📄 মুজাহিদ দুই প্রকার
হাদীস নং ৮- আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রাযিঃ) হইতে বর্ণিত, তিনি বলিয়াছেন, জিহাদের সফরে মানুষ দুই ভাগে বিভক্ত হইয়া থাকে।
এক দল যাহারা নিজেরাও অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং অন্যকেও স্মরণ করায়, চলার পথে বিশৃঙ্খলা হইতে বিরত থাকে, সঙ্গীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয় ও সম্পদের উত্তম অংশ (আল্লাহর পথে) ব্যয় করে। এবং সম্পদের থাকিয়া যাওয়া অংশ হইতে ব্যয় কৃত অংশের ব্যাপারেই অধিকতর সন্তুষ্ট থাকে। যখন যুদ্ধক্ষেত্রে গনীমতের সম্পদ হইতে আত্মসাতের সুযোগ আসে তখন তাহারা উহা হইতে নিজেদের অন্তর ও কর্মকে পরিচ্ছন্ন রাখে। ইহাদের মাধ্যমেই আল্লাহ তায়ালা তাহার দ্বীনকে সম্মানিত করেন এবং তাহার শত্রুকে লাঞ্ছিত করেন।
অপর ভাগ; তাহারাও বাহির হয়। এরা নিজেরাও অধিক পরিমাণে আল্লাহকে স্মরণ করেনা এবং অন্যকেও স্মরণ করায়না, বিশৃঙ্খলা হইতে বিরত থাকেনা, সঙ্গীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়না এবং তাহারা শুধু অনিচ্ছাকৃতভাবেই সম্পদ ব্যয় করিয়া থাকে। ইহারা যখন যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত হয় তখন কল্যাণ হইতে পশ্চাদপসরন-কারীদের সহিত অবস্থান করে এবং পাহাড়ের চূড়ায় আশ্রয় নিয়া নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। যখন আল্লাহতায়ালা মুসলমানগণকে জয়যুক্ত করেন তখন ইহাদের মুখে মিথ্যার খৈ ফুটিতে থাকে।
ইহারা মুমিনের প্রাপ্য বিনিময় হইতে কোন কিছুরই হক্বদার হইবেনা যদিও ইহাদের শরীর মুমিনদের সাথে, ইহাদের ভ্রমন মুমিনদের সাথে কেননা ইহাদের ভুবন, ইহাদের নিয়্যত ও কর্ম সকলই ভিন্নতর। অবশেষে কিয়ামতের দিন আল্লাহতায়ালা সকলকে একত্রিত করিবেন অতঃপর তাহাদিগকে বিভক্ত করিয়া ফেলিবেন।