📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 জনাব মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মালেক ছাহেবের ভূমিকা

📄 জনাব মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল মালেক ছাহেবের ভূমিকা


জিহাদের হাকীকত, হিকমত এবং কিছু ভ্রান্তির নিরসন

মাকতাবাতুল আশরাফের স্বত্বাধিকারী শ্রদ্ধেয় জনাব মাওলানা মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান খান সাহেব, আল ইমামুল মুজাহিদ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ) এর মুবারক সংকলন "কিতাবুল জিহাদের” অনুবাদ প্রকাশ করার সংকল্প করলে আমাকে এর একটি ভূমিকা লিখতে বলেন। কিন্তু আমার মনে হয়েছে যে, এর বিশেষ কোন প্রয়োজন নেই, কেননা তিনি ইতিপূর্বে "আয়াতুল জিহাদ” নামে একটি কিতাব প্রকাশ করেছেন যাতে জিহাদ সংক্রান্ত অধিকাংশ আয়াত তরজমা ও সংক্ষিপ্ত তাফসীরসহ সন্নিবেশিত হয়েছে। জিহাদের উদ্দেশ্য ও উপকারিতা এবং এর ফলাফল ও যথার্থতার ব্যাপারে যে কোন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর উক্ত কিতাবেই পাওয়া যেতে পারে। থাকল জিহাদের ফযীলত সম্পর্কীয় দিক, তো এর সিংহভাগ বিষয়ই বক্ষমান কিতাবে বিদ্যমান রয়েছে। জিহাদের মাসাইলের জন্য ফিকহের কিতাবসমূহ বিদ্যমান রয়েছে। 'কুরআন' ও 'সুন্নাহ'-য় স্পষ্টভাবে উল্লেখিত মাসাইল বলুন বা কুরআন সুন্নাহ থেকে আহরিত মাসাইলই বলুন, অত্যন্ত সুবিন্যস্ত ও স্পষ্টভাবে ফিকহের কিতাবসমূহে বিদ্যমান রয়েছে। মুজাহিদগণের পবিত্র সীরাতের একটি উল্লেখযোগ্য আলোচনা বক্ষমান কিতাবের দ্বিতীয় অংশে পাওয়া যাবে। মোটকথা ভূমিকা লিখার তেমন কোন প্রয়োজন আমার কাছে অনুভূত হচ্ছিলনা তারপরও তাঁর বার বার বলায় পাঠকবৃন্দের সামনে কিছু কথা পেশ করছি। আল্লাহ তা'আলা একে কবুল করুন, আমীন।

জিহাদের পরিচয়, উদ্দেশ্য ও ফলাফল
"জিহাদ” শব্দটির একটি সাধারণ অর্থ এবং একটি পারিভাষিক অর্থ রয়েছে। "জিহাদের” সাধারণ অর্থ হল, আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে, শরীয়তের শিক্ষা ও নির্দেশনা অনুযায়ী ইসলামের কালিমা বুলন্দ করার জন্য যে ত্যাগ, তিতিক্ষা, কষ্ট ও মুশাককাত সহ্য করা হয় তাই জিহাদ, তা যে কোন পথেই হোক বা যে কোন পন্থায়ই হোক না কেন। কিন্তু "জিহাদ” যা শরীয়তের একটি বিশেষ পরিভাষা, তার অর্থ হল, আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করা, ইসলাম ও মুসলমানদেরকে রক্ষা করা, মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি করা ও কাফের মুশরিকদের ক্ষমতা ও কর্তৃত্বকে চূর্ণ করার জন্য আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কাফের মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করা। "জিহাদে শরয়ী”র আসল অর্থ তাই। যা সাধারণ অবস্থায় ফরযে কিফায়া এবং বিশেষ অবস্থায় ফরযে 'আইন' হয়ে যায়।

জিহাদ বিধিবদ্ধ হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যাবলী নিম্নরূপ:
১. জুলুম ও অত্যাচারের প্রতিউত্তর দেওয়া।
২. অত্যাচারিত মুসলমানদের সাহায্য করা।
৩. অঙ্গীকার ভঙ্গের শাস্তি প্রদান করা।
৪. ফিত্না-ফাসাদ নির্মূল করা এবং ন্যায় ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা।
৫. কুফরের কর্তৃত্ব নির্মূল করা ও আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করা।

এ প্রসঙ্গে নিম্নোক্ত আয়াতসমূহ মনোযোগ সহকারে অধ্যয়ন করুন:
১। আল্লাহ তা'আলা মুমিনদের উপর থেকে (কাফিরদের কর্তৃত্ব ও কষ্ট দেওয়ার ক্ষমতা) হটিয়ে দিবেন। আল্লাহ তা'আলা কোন বিশ্বাসঘাতক অকৃতজ্ঞকে পছন্দ করেন না। তাদেরকে কাফেরদের সাথে লড়াই করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যারা আক্রান্ত হয়েছে; কেননা তারা নির্যাতিত হয়েছে। এবং নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে বিজয়ী করার ব্যাপারে সামর্থবান। তাদের অন্যায়ভাবে নিজ নিজ গৃহ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, শুধু এই অপরাধে যে, তারা বলে, 'আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ।' যদি আল্লাহ একের মাধ্যমে অপরের শক্তি খর্ব না করতেন তবে স্ব স্ব যুগে (খ্রিস্টানদের) গির্জা, (ইহুদীদের) উপাসনালয় এবং (মুসলমানদের) মসজিদসমূহ যাতে অধিক পরিমাণে আল্লাহর নাম নেওয়া হয়, সব গুড়িয়ে দেওয়া হত। অবশ্যই আল্লাহ তার সাহায্য করবেন যে আল্লাহর (দ্বীনের) সাহায্য করবে (অর্থাৎ আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার বিশুদ্ধ নিয়তে জিহাদ করবে) নিঃসন্দেহে আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী। এরা এমন যে, যদি আমি তাদেরকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দান করি তবে তারা নিজেরাও নামাযের পাবন্দী করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং (অন্যকে) সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজে নিষেধ করবে। এবং সকল কাজের পরিণতি আল্লাহরই আয়ত্বাধীন। (সূরা হজ্জ, ৩৮-৪১)

২। সুতরাং যারা আল্লাহর কাছে আখিরাতের বিনিময়ে দুনিয়ার জীবন বিক্রয় করে দেয় তারা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করুক এবং যে কেউ আল্লাহর পথে যুদ্ধ করে অতঃপর নিহত হোক বা বিজয়ী হোক আমি তাকে মহাপূণ্য দান করব। তোমাদের কী হল যে, তোমরা যুদ্ধ করছ না আল্লাহর পথে এবং অসহায় নরনারী ও শিশুদের জন্য, যারা বলে, 'হে আমাদের পালনকর্তা! আমাদিগকে এই জনপদ থেকে অন্যত্র নিয়ে যাও, এখানকার অধিবাসীরা যে অত্যাচারী! এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন অভিভাবক করে দাও এবং তোমার পক্ষ থেকে আমাদের জন্য কোন সাহায্যকারী করে দাও। যারা মুমিন তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর পথে এবং যারা কাফের তারা যুদ্ধ করে তাগুতের পথে, অতএব তোমরা শয়তানের পক্ষাবলম্বনকারীদের সাথে যুদ্ধ কর, শয়তানের কৌশল অবশ্যই দুর্বল। (সূরা নিসা ৭৪-৭৬)

শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা শাব্বীর আহমদ উসমানী (রহঃ) বলেন, অর্থাৎ দুই কারণে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করা তোমাদের কর্তব্য। এক, আল্লাহর দ্বীনকে বুলন্দ করা। দুই, কাফেরদের হাতে নির্যাতিত মুসলমানদেরকে মুক্ত করা। মক্কাতে অনেক লোক এমন ছিল যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে হিজরত করতে পারেন নাই। তাঁদের আত্মীয় স্বজন তাদের উপর নির্যাতন নিপীড়ন করত, যাতে তাঁরা পুনরায় কাফের হয়ে যান তখন আল্লাহ তা'আলা মুসলমানদেরকে বললেন, 'তোমাদের দুই কারণে যুদ্ধ করা উচিৎ। আল্লাহর দ্বীন বুলন্দ করার জন্য এবং মক্কার কাফেরদের হাতে নির্যাতিত মুসলমানদেরকে মুক্ত করার জন্য।'

৩। তোমরা কি সেই সব লোকদের সাথে যুদ্ধ করবেনা যারা নিজেদের শপথ ভঙ্গ করেছে এবং রাসূলকে বহিষ্কার করার সংকল্প করেছে? এবং এরাই তোমাদের সাথে বিবাদের সুত্রপাত করেছে। তোমরা কি তাদের ভয় কর? আল্লাহ হলেন তোমাদের ভয়ের অধিকতর যোগ্য, যদি তোমরা মুমিন হও। যুদ্ধ কর ওদের সাথে, আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি দিবেন, তাদের লাঞ্ছিত করবেন, তাদের উপর তোমাদের বিজয়ী করবেন ও মুমিনদের চিত্ত প্রশান্ত করবেন। এবং তাদের মনের জ্বালা দূর করবেন। এবং আল্লাহ যাকে চান তাকে তাওবা নসীব করবেন। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়। তোমরা কি মনে কর যে, তোমাদিগকে এমনি ছেড়ে দেওয়া হবে যাবৎ না আল্লাহ জানবেন তোমাদের মধ্যে কারা জিহাদ করেছে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মুমিনগণ ছাড়া অন্য কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করে নাই। তোমরা যা কর সে ব্যাপারে আল্লাহ সবিশেষ অবগত। (সূরা তাওবাহ, ১৩-১৬)

হযরত উসমানী (রাহঃ) বলেন, জিহাদ বিধিবদ্ধ হওয়ার মূল হিকমত এই যে, পূর্ববর্তী উম্মতের কাফের ব্যক্তিদের ঔদ্ধত্য যখন সীমা অতিক্রম করত তখন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে ব্যাপক আযাব দিয়ে সমূলে ধ্বংস করে দিতেন কিন্তু এই উম্মতের কাফেরদের জন্য জিহাদ বিধিবদ্ধ হয়েছে। এর মাধ্যমে খোদাদ্রোহী ব্যক্তিদেরকে আল্লাহ তায়ালা তার অনুগত বান্দাদের হাতে শাস্তি প্রদান করেন। এতে একদিকে যেমন কাফেরদের লাঞ্ছনা হয় অপরদিকে আল্লাহর অনুগত বান্দাদের মর্যাদা বৃদ্ধি ঘটে এবং তাদের বিজয় ও কর্তৃত্ব প্রকাশিত হয়। মুমিনদের অন্তর এই ভেবে প্রশান্ত হয় যে, গতকাল পর্যন্ত যেসব কাফের তাদের উপর নির্যাতন করত আজ আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহে তারাই তাদের অনুকম্পা বা ইনসাফের মুখাপেক্ষী হয়েছে। অপর দিকে কাফেরদের জন্যও এই শাস্তি বিধানের মধ্যে একটি উপকারী দিক এই রয়েছে যে, এতে করে শাস্তিলাভের পরও তাদের জন্য তাওবার দরজা খোলা থাকে এবং এ থেকে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থাকে।

৪। যারা কুফরী করে এবং অপরকে আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত করে আল্লাহ তাদের কর্ম ব্যর্থ করে দেন। অতএব যখন তোমরা কাফিরদের সাথে যুদ্ধে মুকাবিলা কর তখন তাদের গর্দানে আঘাত কর, পরিশেষে যখন তোমরা তাদেরকে সম্পূর্ণরূপে পরাভূত করবে তখন তাদেরকে কষে বেঁধে ফেল; অতঃপর হয় অনুগ্রহ, নয় মুক্তিপণ। তোমরা জিহাদ অব্যাহত রাখবে যাবৎ না যুদ্ধ তার অস্ত্র নামিয়ে ফেলে। এই বিধান। এবং আল্লাহ ইচ্ছা করলে প্রতিশোধ নিতে পারতেন কোন আযাব প্রেরণ করে কিন্তু তিনি চান তোমাদের একজনকে অপরজন দ্বারা পরীক্ষা করতে। যারা আল্লাহর পথে নিহত হয় তিনি কখনো তাদের কর্ম বিনষ্ট হতে দেন না। তিনি তাদেরকে (জান্নাতের পানে) পথ দিবেন এবং (আখিরাতের সকল মঞ্জিলে) তাদের অবস্থা ভালো করে দিবেন এবং তাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে যার কথা তিনি তাদেরকে জানিয়েছিলেন। হে মু'মিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর; আল্লাহ তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদেরকে দৃঢ়পদ রাখবেন। (সূরা মুহাম্মদ; ১, ৪-৮)

৫। এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাক যাবৎ না ফিৎনা দূরীভূত হয় এবং দ্বীন একমাত্র আল্লাহর জন্য হয় এবং যদি তারা বিরত হয় তবে তারা যা করে আল্লাহ তা সম্যক দ্রষ্টা। যদি তারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তবে জেনে রাখ, আল্লাহই তোমাদের অভিভাবক। কত উত্তম অভিভাবক এবং কত উত্তম সাহায্যকারী। (আনফাল ৩৯-৪০)
হযরত মাওঃ মুফতী মুহম্মাদ শফী (রহঃ) বলেন, 'দ্বীন অর্থ বিজয় ও কর্তৃত্ব। এই অর্থে আয়াতের তাফসীর এই হবে যে, মুসলমানদের জন্য কাফেরদের সাথে ঐ সময় পর্যন্ত লড়াই জারী রাখা উচিৎ যতক্ষণ না মুসলমানরা তাদের অত্যাচার থেকে নিরাপদ হয়ে যায় এবং দ্বীন ইসলামের বিজয় অর্জিত হয় যাতে সে অন্যদের অত্যাচার থেকে মুসলমানদেরকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়।'

৬। যাদের প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করা হয়েছে তাদের মধ্যে যারা আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান আনে না এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূল যা হারাম করেছেন তা হারাম গণ্য করে না এবং সত্য দ্বীন অনুসরণ করে না; তাদের সাথে যুদ্ধ করবে যাবৎ না তারা নত হয়ে স্বহস্তে জিযিয়া দেয়। (সূরা তাওবা, ২৯)

শরয়ী জিহাদ ও অন্যদের লড়াইয়ের মধ্যে পার্থক্যঃ
১. অন্যান্য যুদ্ধ তাগুতের পথে হয় পক্ষান্তরে জিহাদ হয় আল্লাহর পথে। এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটে এসে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আল্লাহর পথে লড়াইয়ের পরিচয় কী? আমরা কেউ ক্রোধান্বিত হওয়ায় লড়াই করি, কেউ জাত্যাভিমানের বশবর্তী হয়ে লড়াই করি? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করার জন্য লড়াই করে সে আল্লাহর পথে। (সহীহুল বুখারী, সহীহু মুসলিম)
২. অন্যান্য যুদ্ধ হয় মানুষের উপর নির্যাতনের রোলার চালাবার জন্য এবং পৃথিবীতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য। অপরদিকে জিহাদ হয়ে থাকে ন্যায় ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য।
৩. জিহাদের উদ্দেশ্য হল মানুষকে মুক্ত করা মানুষের দাসত্ব থেকে আল্লাহর দাসত্বের প্রতি, দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে এর প্রশস্ততার প্রতি, অন্ধকারসমূহ থেকে আলোর প্রতি এবং সকল মত ও ধর্মের নিপীড়ন থেকে ইসলামের ইনসাফের প্রতি।
৪. অন্যান্য যুদ্ধের উদ্দেশ্য হল সাম্রাজ্য বিস্তার করা অপর দিকে জিহাদের উদ্দেশ্য হল ভূমিকে তার হক্বদারের নিকট প্রত্যার্পণ করা। ভূমির মালিক আল্লাহ তা'আলা। তিনি নেককার মুমিনগণকেই এর হক্বদার সাব্যস্ত করেছেন। যারা এতে 'আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করবে।
৫. অন্যান্য যুদ্ধ হল, বিনা উদ্দেশ্যে নিরপরাধ মানুষের জান-মান, ইজ্জত আব্রুর উপর আঘাত হানার নাম পক্ষান্তরে জিহাদে ইসলামী শুধু তাদের সাথেই হয়ে থাকে যারা নিজেদের অপরাধের কারণে হত্যাযোগ্য হয়ে গিয়েছে।
৬. অন্যান্য যুদ্ধ সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মৃত্যু বিভীষিকার নামান্তর পক্ষান্তরে জিহাদে ইসলামী সমাজকে দান করে নবজীবন।
৭. অন্যান্য যুদ্ধ লাগামহীন হত্যাযজ্ঞের নাম, অপরদিকে জিহাদে ইসলামীর জন্য রয়েছে বহু শর্ত, বহু বিধি-নিষেধ এবং নির্ধারিত সীমা-রেখা।

১. দ্বীন প্রতিষ্ঠার সকল প্রচেষ্টাই কি "জিহাদ”?
কোন কোন বন্ধুকে বলতে শোনা যায় যে, ই'লায়ে কালিমাতুল্লাহ, দ্বীন প্রতিষ্ঠা বা দ্বীনের প্রচার প্রসারের নিমিত্ত যে কোন কর্ম-প্রচেষ্টাই জিহাদের অন্তর্ভুক্ত। বলা বাহুল্য "জিহাদ” আভিধানিক অর্থে শরীয়ত সম্মত সকল দ্বীনি প্রচেষ্টাকেই বুঝায় কিন্তু জিহাদ যা শরীয়তের একটি বিশেষ পরিভাষা এবং যার অপর নাম "ক্বিতাল ফী সাবীলিল্লাহ” তা কখনো এই সাধারণ কর্ম প্রচেষ্টার নাম নয়। এই অর্থে "জিহাদ” হল, “আল্লাহর কালিমা বুলন্দ করার জন্য, ইসলামের হিফাজত ও এর মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য, কুফরের শক্তিকে চুরমার করার জন্য এবং এর প্রভাব প্রতিপত্তিকে বিলুপ্ত করার জন্য কাফের মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করা।”

২. জিহাদে আকবর কিসের নাম?
ঐসব লোকের ভ্রান্তি স্পষ্ট যারা ক্বিতাল ফী সাবীলিল্লাহর গুরুত্বকে খাটো করার জন্য জিহাদে আকবর (বড় জিহাদ) ও জিহাদে আসগরের (ছোট জিহাদ) দর্শন ব্যবহার করেন। হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ 'আলী থানবী (রহঃ) বলেন, "আজকাল সাধারণভাবে মানুষের ধারণা এই যে, কাফেরদের সাথে লড়াই করা জিহাদে আসগর এবং নফসের মুজাহাদা জিহাদে আকবর। এই ধারণা ঠিক নয় বরং বাস্তবতা হল, কাফেরদের সাথে লড়াই যদি ইখলাসপূর্ণ হয় তবে এই লড়াই অবশ্যই জিহাদে আকবর এবং তা নিভৃতে নফসের মুজাহাদায় নিমগ্ন হওয়া থেকে উত্তম। কেননা যে লড়াই ইখলাসপূর্ণ হবে তাতে নফসের মুজাহাদাও বিদ্যমান থাকবে।”

৩. জিহাদ কি ইকুদামী (আক্রমণমূলক) না শুধুই দিফায়ী (প্রতিরোধমূলক)?
বাস্তবতা হল, জিহাদের মূল উদ্দেশ্য ই'লায়ে কালিমাতুল্লাহ বা ইসলামের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং কুফরের প্রভাব প্রতিপত্তি চুরমার করা। এতদুদ্দেশ্যে ইকুদামী বা আক্রমণমূলক জিহাদ শুধু অনুমোদিতই নয় বরং কখনো কখনো তা ফরয ও প্রভূত সওয়াবের কারণও বটে। আল্লাহদ্রোহীদের প্রভাব প্রতিপত্তিকে চুরমার করার জন্যই মুসলমান জিহাদ করে।

৪. তাবলীগের অনুমতি পেয়ে যাওয়াই কি জিহাদ পরিত্যাগের জন্য যথেষ্ট?
কোন কোন বন্ধুর এই ভুল ধারণাও আছে যে, কোন অমুসলিম সরকার তার দেশে তাবলীগের অনুমতি দিলে তাদের সাথে ইকুদামী জিহাদ ঠিক নয়। হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তকী উসমানী (দাঃ বাঃ) এর উত্তরে বলেন, ইসলাম প্রচারের পথে প্রতিবন্ধকতা শুধু এই নয় যে, সরকার ইসলাম প্রচারের ব্যাপারে আইনী নিষেধাজ্ঞা জারী করে বরং মুসলমানদের বিপরীতে কোন অমুসলিম রাষ্ট্র অধিক প্রতিপত্তির মালিক হওয়াও দ্বীনে হক্ক এর প্রচারে অনেক বড় বাধা। কাফেরদের প্রতিপত্তি চুরমার করা জিহাদের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্যসমূহের অন্যতম যাতে সত্য গ্রহণের পথ উন্মুক্ত হয়।

৫. জিহাদের বিধান কি বিশেষ পরিবেশ-পরিস্থিতির কারণে ছিল?
জিহাদ একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ 'আন্তর্জাতিক সংশোধনমূলক' দায়িত্ব। জিহাদের ফরযিয়্যত এখনও বাকী আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত বাকী থাকবে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, 'আমার বি'ছতের সময় থেকে নিয়ে আমার উম্মতের শেষ ভাগ দাজ্জালের সাথে লড়াই করা পর্যন্ত জিহাদ চলমান থাকবে। কোন ন্যায়পরায়ণ শাসকের ন্যায়পরায়ণতা এবং কোন জালেমের জুলুম একে রহিত করবে না।”

পরিশিষ্টঃ
জিহাদের উভয় প্রকার, ইকুদামী ও দিফায়ী ইসলামের চিরন্তন ফরযসমূহের অন্যতম। যতদিন পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠে কুফর ও শিরকের প্রভাব প্রতিপত্তির ফিৎনা বিদ্যমান থাকবে ততদিন পর্যন্ত সত্য-ন্যায়ের বিজয় নিশ্চিত করার জন্য জিহাদের দায়িত্বও অবশ্যপালনীয় থাকবে। এই দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য মুসলিম রাষ্ট্রের সেনাবাহিনী শুধু রাষ্ট্রের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্যই নয় বরং ইসলাম ও ইসলামী নিদর্শাবলী সংরক্ষণ করা, মুসলমানদের শক্তি বৃদ্ধি করা এবং কুফরের প্রভাব প্রতিপত্তি নির্মূল করাও তাদের গুরুত্বপূর্ণ উদ্দেশ্য হওয়া উচিৎ।

মুহাম্মাদ আবদুল মালেক
তারিখ ১৭/৭/১৪২৫ হিজরী

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.)

📄 আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহ.)


আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ) ইসলামের ঐসব মহাপুরুষদের অন্যতম ছিলেন যাদের মধ্যে অসংখ্য গুণাবলীর বর্ণাঢ্য সমাবেশ ঘটেছিল। অসাধারণ মেধা, অতলান্ত জ্ঞান, সীমাহীন খোদাভীতির পাশাপাশি উন্নতরুচি, শানিত ব্যক্তিত্ব, প্রখর বুদ্ধিমত্তা ও অসাধারণ বীরত্ব এই মহাপুরুষকে সমসাময়িক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে আসীন করেছিল। উমারী বলেন, ইসলামী বিশ্বের খলীফা হওয়ার জন্য তারচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি আমি আমার যুগে আর কাউকে দেখিনি।

জন্ম ও শৈশব
ইমাম 'আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) ১১৮ হিজরী মতান্তরে ১১৯ হিজরীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা তুর্কী বংশোদ্ভূত ছিলেন। বাল্যকালেই তিনি ছিলেন অসাধারণ মেধাবী। তাঁর পিতা ছিলেন একজন বিদ্যানুরাগী ব্যক্তি। সন্তানের মধ্যে বিদ্যান্বেষণের আগ্রহ সৃষ্টি করার জন্য তিনি অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন।

ইলম অন্বেষণ
তিনি প্রথমত তার নিজ শহর "মারও”¹ এর শাইখগণের নিকট থেকে ইলম অর্জন করেন। অতঃপর ১৪১ হিজরীতে ইলম অন্বেষণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ আরম্ভ করেন। তিনি মক্কা, মদীনা, শাম, মিসর, ইয়ামান, কুফা, বসরা, জাযীরা প্রভৃতি এলাকা ভ্রমণ করেন। 'আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) বলেন, আমি চার হাজার শাইখ থেকে ইলম অর্জন করেছি। ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহঃ) বলেন, 'আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারকের যুগে তাঁর চেয়ে অধিক ইলম অন্বেষণকারী আর কেউ ছিল না।

হাদীস শাস্ত্রেঃ
আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ) উম্মতে মুহাম্মদীর শ্রেষ্ঠতম মুহাদ্দিসগণের অন্যতম ছিলেন। ইমাম বুখারী (রহঃ) এর উস্তাদ ইমাম আলী ইবনে মাদীনী (রহঃ) বলেন, ইলম দুই ব্যক্তি পর্যন্ত গিয়ে সমাপ্ত হয়েছে। একজন হলেন আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক, দ্বিতীয় জন ইয়াহইয়া ইবনে মায়ীন। সুফিয়ান সাওরী (রহঃ) বলতেন, আমার ইচ্ছা হয় আমার পূর্ণ জীবনের পরিবর্তে ইবনুল মুবারকের জীবনের একটি বছর আমি লাভ করি কিন্তু আমার পক্ষে এক বছরের জন্য তারমতো হওয়াতো দূরের কথা, তিনদিনের জন্যও তাঁর মত হওয়া সম্ভব নয়। অসাধারণ স্মরণশক্তির অধিকারী হওয়া সত্ত্বেও তিনি কিতাব থেকে হাদীস বর্ণনা করতেন যাতে ভুল ত্রুটি না হয়।

ফিকহ শাস্ত্রেঃ
ইবরাহীম বিন শাম্মাস বলেন, আমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে বড় ফকীহ আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) কে দেখেছি। ইমাম মালিক (রহঃ) তাকে দেখে নিজের স্থান থেকে সরে বসতেন এবং বলতেন, 'ইনি হলেন খুরাসানের ফক্বীহ আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক।' আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ) বলতেন, "আমি ফিক্‌হ ইমাম আবু হানীফা থেকে অর্জন করেছি। তোমরা বলোনা, আবু হানীফার মত। কেননা তাতো হাদীসেরই তাফসীর ও তার ব্যাখ্যা।"

ইল্ম ও আহলে ইলমের পৃষ্ঠপোষকতাঃ
তিনি কল্যাণের সকল পথে মুক্ত হস্তে ব্যয় করতেন। প্রতি বছর ফকীর মিসকীনদেরকে একলক্ষ দিরহাম দান করতেন। যে কোন ব্যক্তি ঋণগ্রস্ত হয়ে তার নিকটে আসত তিনি তার ঋণ পরিশোধ করে দিতেন। হজ্জে যাবার সময় বহু মানুষকে সঙ্গে নিতেন এবং তাদের পূর্ণ খরচ নিজেই বহন করতেন।

তাকওয়া ও পরহেযগারীঃ
নুয়াইম বিন হাম্মাদ (রহঃ) বলেন, 'আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহঃ) যখন "কিতাবুর রিক্বাকু" পড়তেন তখন জার জার হয়ে কাঁদতেন। অন্যের সম্পদের ব্যাপারে এত সচেতন ছিলেন যে, শামে অবস্থান কালীন সময়ে কারো কাছ থেকে একটি কলম নিয়েছিলেন কিন্তু তা ফেরত দিতে ভুলে যান। তিনি শুধু সেই কলমটি ফেরত দেওয়ার জন্য পুনরায় শামে ফিরে গিয়েছিলেন।

জিহাদের ময়দানে আব্দুল্লাহ ইবনুল মুবারক (রহঃ)
জীবনের বিপুল সময় তিনি ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী এলাকাসমূহে কাফিরদের সাথে জিহাদ করে কাটিয়েছেন। জিহাদের ময়দানে তিনি ছিলেন একজন পরীক্ষিত বীর সেনানী। এক ময়দানে তিনি দ্বৈতযুদ্ধে একের পর এক ছয়জন রোমান বীরকে হত্যা করেন। তিনি বিখ্যাত আবেদ হযরত ফুযাইল বিন ইয়াজ (রহঃ) কে এক চিঠিতে লিখেছিলেনঃ "আল্লাহর বাহিনীর পথের ধূলা ও জাহান্নামের লকলকে আগুন কখনো ব্যক্তির নাসারন্দ্রে একত্রিত হবে না। আল্লাহর কিতাব আমাদের মাঝে সত্যকথা বলে, আল্লাহর পথের শহীদ কখনো মৃত নয়।"

ইন্তেকালঃ
শামের সীমান্তবর্তী শহর "হীত”¹ নগরীতে ১৮১ হিজরীর ১০ই রমাযান শেষরাতে এই মহামনীষী মহান রাব্বুল 'আলামীনের সান্নিধ্যে চলে যান। "হীত” নগরীতেই তাঁকে দাফন করা হয়।

তথ্যসূত্র: ১- আত তারীখুল কাবীর ৫/২১২ ২- আল জারহু ওয়াত তা'দীল ৫/১৭৯-১৮১ ৩- তারিখু বাগদাদ ১০/১৫২-১৬৯ ৪-তাহযীবুল কামাল ১০/৪৬৬-৪৭৮ ৫- তাহযীবুত তাহযীব ৫/৩৮২-৩৮৭ ৬- তাযকিরাতুল হুফফায ১/২৭৪-২৭৯ ৭- সিয়ারু আ'লামিন নুবালা ৮/৩৭৮-৪২১ ৮- আল ইন্তিকা ফী ফাযাইলিল আইম্মাতিছ ছালাছাতিল ফুক্বাহা। পৃঃ ২০৬-২০৭ ৯- মানাক্বিবু আবী হানীফা লিলমুয়াফফাক্ব ২/৫১,৫৩ ১০- মুকাদ্দিমাতু কিতাবিল জিহাদ

টিকাঃ
১. তৎকালীন খোরাসানের প্রসিদ্ধ শহরসমূহের অন্যতম। আল্লামা ইয়াকৃত হামভী (রহঃ) বলেন, আমি ৬১৬ হিজরীতে "মারও” ছেড়ে আসি। যদি এসব এলাকায় তাতারীদের আক্রমণ না হত তবে আমি মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই অবস্থান করতাম কেননা সেখানকার অধিবাসীগন অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র এবং সেখানে মৌলিক ও উন্নত রচনাবলীর প্রাচুর্য রয়েছে। আমি যখন সেখান থেকে আসি তখন সেখানে দশটি ওয়াকফকৃত লাইব্রেরী ছিল যার মত সমৃদ্ধ ও উন্নত লাইব্রেরী আমি পৃথিবীর অন্য কোথাও দেখিনাই। আমি আমার এই কিতাব ও অন্যান্য কিতাবের অধিকাংশ তথ্যাবলী এসব লাইব্রেরী থেকে আহরণ করেছি। (মুজামুল বুলদান, ৫/১৩২-১৩৪) শহরটি বর্তমান তুর্কমেনিস্তানের অর্ন্তগত।
১. ফোরাত নদীর তীরে অবস্থিত একটি শহর। ঐতিহাসিকগণ বলেন, এই শহরের প্রতিষ্ঠাতার নামেই শহরটির নামকরণ করা হয়। (মু'জামুল বুলদান, ৫/৪৮২-৪৮৩) শহরটি বর্তমান ইরাকের অন্তর্গত।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল

📄 আল্লাহর নিকট সর্বাধিক প্রিয় আমল


হাদীস নং ১- হেলাল ইবনে আবু মায়মুনাহ হইতে বর্ণিত, তিনি আতা বিন ইয়াসার হইতে তিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম (রাযিঃ) হইতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমরা পরস্পর আলোচনা করিতেছিলাম, আমাদের মধ্য হইতে কে উপস্থিত হইয়া রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞাসা করিবে যে, আল্লাহ তায়ালার নিকটে কোন আমলটি সর্বাধিক প্রিয়? কিন্তু আমাদের কেহ তাহা জিজ্ঞাসা করিবার সাহস করিলেন না।
অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের প্রত্যেককে ডাকাইয়া একত্রিত করিলেন। আমরা একে অপরের প্রতি ইঙ্গিত করিতে লাগিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সামনে (নিম্নোক্ত আয়াত সমূহ) তেলাওয়াত করিলেন।
১। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যাহা কিছু আছে সমস্তই আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
২। হে মু'মিনগণ! তোমরা যাহা করনা তাহা তোমরা কেন বল?
৩। তোমরা যাহা করনা তোমাদের তাহা বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে অতিশয় অসন্তোষজনক।
৪। যাহারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে সারিবদ্ধ ভাবে সুদৃঢ় প্রাচীরের মত, আল্লাহ তাহাদিগকে ভালো বাসেন..... সুরার শেষ পর্যন্ত। বর্নণাকারী বলেন, আব্দুল্লাহ ইবনে সালামও আমাদের সামনে সূরাটি শুরু হইতে শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করিলেন। হেলাল বলেন আতা ইবনে ইয়াসার (যিনি আব্দুল্লাহ ইবনে সালাম হইতে বর্নণা করিয়াছেন) আমাদের সামনে সূরাটি শুরু হইতে শেষ পর্যন্ত তেলাওয়াত করিলেন।

📘 কিতাবুল জিহাদ 📄 সর্বোত্তম আমল

📄 সর্বোত্তম আমল


হাদীস নং ২- আবু ছালেহ বলিয়াছেন, তাঁহারা আলোচনা করিলেন, যদি আমরা জানিতাম কোন আমলটি সর্বোত্তম বা আল্লাহ তায়ালার নিকটে অধিক পছন্দনীয়! তখন অবতীর্ণ হইল,
"হে মু'মিনগণ! আমি কি তোমাদিগকে এমন এক ব্যবসার সন্ধান দিব? যাহা তোমাদিগকে রক্ষা করিবে মর্মন্তুদ শাস্তি হইতে, উহা এই যে তোমরা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলে বিশ্বাস স্থাপন করিবে এবং তোমাদের ধন-সম্পদ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করিবে।"
তাহারা ইহাকে কষ্টের ব্যাপার মনে করিলেন। তখন অবতীর্ণ হইল,
হে মু'মিনগণ! তোমরা যাহা করনা তাহা তোমরা কেন বল? তোমরা যাহা করনা তোমাদের তাহা বলা আল্লাহর দৃষ্টিতে অতিশয় অসন্তোষজনক। নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ সকল লোকদিগকে ভালোবাসেন যাহারা তাঁহার পথে সারিবদ্ধ হইয়া সুদৃঢ় প্রাচীরের ন্যায় লড়াই করে।

ফন্ট সাইজ
15px
17px