📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 ক্বিয়ামতের বড় আলামত বা নিদর্শন

📄 ক্বিয়ামতের বড় আলামত বা নিদর্শন


[ وَأَمَّا الْعَلَامَاتُ الْكُبْرَى]
এটা ক্বিয়ামতের নিকটবর্তী সেই আলামতসমূহ যার পরেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। আর তা কর্তিত পুঁতির মালার (কাঠির) ন্যায় ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকবে। ছহীহ হাদীছে এরূপ দশটি আলামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হুযাইফাহ বিন উসাইদ আল্ গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীছে এসেছে তিনি বলেন:
اِطَّلَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ فَقَالَ مَا تَذَاكَرُونَ قَالُوا نَذْكُرُ السَّاعَةَ قَالَ إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلَاثَةَ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفُ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنْ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ) (صحيح مسلم - ۲۹۰۱)
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাদের উপর উঁকি মেরে দেখলেন আমরা পরস্পর কোন বিষয়ে আলোচনা করছি। তিনি বললেন: তোমরা কি আলোচনা করছো? তাঁরা বললেন: আমরা ক্বিয়ামতের আলোচনা করছি। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: দশটি আলামত দেখার আগে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর সেগুলো হলো:
১। ধোঁয়া
২। দাজ্জাল
৩। দাব্বাহ্ (চতুষ্পদ জন্তুর বহির্গমন)
৪। পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্য উদিত হওয়া
৫। ঈসা বিন মারইয়ামের অবতরণ
৬। ইয়াজুজ-মাজুজের বের হওয়া
৭-৯। তিনটি ভূমি ধস: প্রাচ্যে, পাশ্চাত্যে এবং আরব উপদ্বীপে
১০। আর সর্বশেষে ইয়ামান থেকে এক আগুন বের হবে যা মানুষদেরকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। ২৯
উদাহরণ স্বরূপ আমরা কিয়ামতের একটি বড় আলামত সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্। আর সে আলামতটি হলো:

**দাজ্জালের প্রকাশ**

দাজ্জাল হলো কুফরী, পথ ভ্রষ্টতা এবং ফিতনার মূল। সকল নাবী আলাইহিমুস্ সালাম নিজ নিজ উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক ও ভয় প্রদর্শন করেছেন। নাবীগণ তাদের উম্মতের নিকট দাজ্জালের সকল গুণাগুণ এবং আলামত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নাবী মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালের ব্যাপারে তার উম্মতকে এমনভাবে সতর্ক ও তার আলামত বর্ণনা করেছেন যা চক্ষুস্মান ব্যক্তির নিকটে গোপন থাকতে পারে না।
আনাস () রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: مَا مِنْ نَبِي إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الْأَعْوَرَ الْكَذَّابَ أَلَا إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَمَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ك ف ر (صحیح مسلم - ۲۹۳۳)
প্রত্যেক নাবী তার উম্মতকে এক চোখ কানা দাজ্জাল থেকে সতর্ক করেছেন। জেনে রেখো দাজ্জালের এক চোখ কানা। কিন্তু তোমাদের রব (পালনকর্তা) কানা নয়। আর দাজ্জালের দু'চোখের মাঝে (কপালে) কাফ; ফা; র; তথা কাফির লেখা থাকবে।৩০
আবূ হুরাইরা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا عَنْ الدَّجَّالِ مَا حَدَّثَ بِهِ نَبِيٌّ قَوْمَهُ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّهُ يَجِيءُ مَعَهُ بِمِثَالِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَالَّتِي يَقُولُ إِنَّهَا الْجَنَّةُ هِيَ النَّارُ وَإِنِّي أُنْذِرُكُمْ كَمَا أَنْذَرَ بِهِ نُوحٌ قَوْمَهُ (صحیح البخاري: ۳۳۳۸)
আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সেই হাদীছ বলব না যা প্রত্যেক নাবী তার জাতিকে বলেছেন? দাজ্জালের এক চোখ কানা হবে। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাহামের অনুরূপ জান্নাত-জাহান্নাম থাকবে। দাজ্জাল যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা মূলত জাহান্নাম। আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করছি, যেমন নূহআলাইহিস সালাম তার জাতিকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ৩১
ইল্ম (জ্ঞান) ও আমল ব্যাতীত দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।
ইল্ম হলো: এ জ্ঞান থাকা যে দাজ্জাল শরীর বিশিষ্ট খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করে। তার অপূর্ণতা হলো এক চোখ কানা হবে। তার উভয় চোখের মাঝে (কপালে) কাফির লেখা থাকবে।
আমল হলো: প্রত্যেক ছালাতের শেষ তাশাহুদে আল্লাহর নিকটে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা, সূরা আল্ কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করা। কেননা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنْ الدَّجَّالِ (صحيح مسلم) (৮০৯)
যে ব্যক্তি সূরাহ্ আল্ কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করল সে দাজ্জাল থেকে মুক্তি পাবে। ৩২

টিকাঃ
২৯. ছহীহ মুসলিম হা/২৯০১।
৩০. ছহীহ মুসলিম হা/২৯৩৩।
৩১. ছহীহ বুখারী হা/৩৩৩৮।
৩২. জ্বহীহ মুসলিম হা/৮০৯।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 পুনরুত্থান

📄 পুনরুত্থান


ঙ। পুনরুত্থান [البعث]: কুরআন, সুন্নাহ্, মানুষের জ্ঞান ও অবিকৃত মন-মানসিকতা পুনরুত্থানে বিশ্বাসের প্রমাণ বহণ করে। তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে কবরস্থিতদেরকে আল্লাহ তা'আলা কুবর হতে পুরুত্থান করবেন। প্রত্যেক শরীরে আত্মা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং সকল মানুষ আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ * ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ﴾ [المؤمنون: ١٥-١٦]
এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে, অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে। [সূরা আল মুমিনূন ২৩:১৫-১৬]।
নবী জ্বালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا )
ক্বিয়ামতের দিন মানুষদেরকে জুতা, বস্ত্র ও খাৎনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে। ৩৩
সকল মুসলমানগণ পুনরুত্থান সাব্যস্ত ঐক্যমত, বাস্তবতার চাহিদাও তাই। কেননা, হিম্মত তো এটাই চায় যে আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিজীবের জন্য একটা প্রত্যাবর্তনস্থল করবেন যাতে তিনি তাদেরকে রসূলদের মাধ্যমে দেওয়া দায়িত্বের প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ﴾ [المؤمنون : ١١٥]
তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? [সূরা আল মুমিনূন ২৩: ১১৫]।
অসম্ভব মনে করে কাফিররা মৃত্যু পরবর্তী পূনুরুত্থানকে অস্বীকার করে। এ ধারণা ভুল, শরী'আত, অনুভূতি এবং জ্ঞান এ ধারণার বাতিল হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করে। শরী'আতের দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ bَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴾ [التغابن : ٧ ]
কাফিররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে। আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। [সূরা আত্ তাগাবুন ৬৪: ৭]। অন্য স্থানে মহান রব্বুল 'আলামীন বলেন,
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَأْتِينَا السَّاعَةُ قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ عَالِمِ الْغَيْبِ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِين [سبأ : ٣]
কাফিররা বলে আমাদের উপর ক্বিয়ামত আসবে না। বলুন: কেন আসবে না? আমার পালনকর্তার শপথ-অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। নভোমণ্ডলে ও ভূ-মণ্ডলে তার আগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু, না তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং না বৃহৎ-সব কিছু আছে সুস্পষ্ট কিতাবে। [সূরা সাবা ৩৪: ৩]।
পুনরুত্থান সত্যের ব্যাপারে সকল আসমানী কিতাব একমত।
অনুভূতির দলীল: আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদেরকে দুনিয়াতেই মৃতকে জীবিত করে দেখিয়েছেন। সূরা আল বাক্বারাতে এ ব্যাপারে পাঁচটি দৃষ্টান্ত রয়েছে:
প্রথমটি আমরা উল্লেখ করছি, তা হলো যখন মূসা আলাইহিস সালাম এর জাতি তাকে বলেছিল: আল্লাহ তা'আলাকে স্পষ্টভাবে না দেখা পর্যন্ত আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না, অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে মৃত্যু দান করত পুনরায় জীবিত করেন। এ ক্ষেত্রেই আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে সম্বোধন করে বলেন: وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ (٥٥) ثُمَّ بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾ [البقرة : ٥٥-٥٦]
আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে পাব। বস্তুতঃ তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে। তারপর মরে যাবার পর তোমাদিগকে আমি তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও। [সূরা আল্ বাক্বারা ২:৫৫-৫৬]।
অন্যান্য দৃষ্টান্তের মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো: ঐ নিহিত ব্যক্তি যার ব্যাপারে বানী ইসরাঈলরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছিল। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে একটা গাভী জবাই করে তার কিছু অংশ দিয়ে মৃত ব্যক্তিকে প্রহার করতে বললেন, যাতে মৃত ব্যক্তি (জীবিত হয়ে) তার হত্যাকারী সম্পর্কে তাদেরকে সংবাদ দেয়।
তৃতীয়টি হলো: ঐ সম্প্রদায়ের ঘটনা যারা মৃত্যু ভয়ে তাদের ঘর থেকে পলায়ন করেছিল। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মৃত্যু দিয়ে পূণরায় জীবিত করেন।
চতুর্থ দৃষ্টান্ত হলো: ঐ ব্যক্তির ঘটনা যে একটা মৃত গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন সে ঐ গ্রামের পূণরায় জীবিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করল। তখন আল্লাহ্ তাকে একশত বৎসর মৃত রেখে আবার জীবিত করলেন।
পঞ্চমটি হলো: ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর পাখি জীবিত করার ঘটনা। [বিস্তারিত দেখুন সূরা আল্ বাক্বারা ২: ৭৩, ২৪৩, ২৫৯, ২৬০]।
পূনরুত্থান সম্ভবপর হওয়ার জ্ঞানগত দলীল দু'ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি হলো: আল্লাহ তা'আলা আসমান যমীন ও তার মধ্যবর্তী বস্তুসমূহের সৃষ্টিকর্তা। তিনিই প্রথমবার এগুলো সৃষ্টি করেছেন। আর যিনি শুরুতেই এসব কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম তিনি পুনরায় তা সৃষ্টি করতে অক্ষম নন। বরং তার জন্য তখন এটা আরও সহজ হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنَ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ [الروم : ٢٧]
তিনিই প্রথমবার সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, অতঃপর তিনি পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এটা তার জন্যে সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তারই এবং তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় [সূরা আর রূম ৩০:২৭]।
হাড্ডি ক্ষয় প্রাপ্ত ও পচে যাওয়ার পর তা পূনরায় জীবিত করাকে যারা অস্বীকার করে তাদের প্রতিবাদ করে আল্লাহ তা'আলা আদেশ দিয়ে বলেছেন:
قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ﴾ [يس : ۷۹]
বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত [সূরা ইয়াসীন ৩৬:৭৯]।
দ্বিতীয়টি হলো: যমীন মৃত ও শুষ্ক হয়ে তাতে কোন সবুজ ঘাস, গাছ-পালা থাকে না। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। ফলে তা জীবিত হয়ে সবুজ আকার ধারণ করত আন্দোলিত হয়ে উঠে এবং তাতে সকল প্রকার সুন্দর উদ্ভিদ গজায়।
যিনি যমীনকে মরে যাওয়ার পর জীবিত করতে সক্ষম তিনি অন্য সকল মৃতকেও জীবিত করতে সক্ষম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُبَارَكًا فَأَنْبَتْنَا بِهِ جَنَّاتٍ وَحَبَّ الْحَصِيدِ (۹) وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ (۱۰) رِزْقًا لِلْعِبَادِ وَأَحْيَيْنَا بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا كَذَلِكَ الْخُرُوجُ [ ق : ٩-١١]
আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তদ্বারা বাগান ও শস্য উদগত করি, যেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়। এবং লম্বমান খর্জুর বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খর্জুর, বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ এবং বৃষ্টি দ্বারা আমি মৃত জনপদকে সঞ্জীবিত করি। এমনিভাবে পুনরুত্থান ঘটবে [সূরা আল্ ক্বাফ ৫০:৯-১১]।
প্রত্যেক জ্ঞানী ব্যক্তিই জানেন যে, যিনি বড় জিনিষ করতে সক্ষম তিনি তার চেয়ে ছোট জিনিস করতে অধিক সক্ষম।
আসমান-যমীন এত বড়, প্রশস্ত এবং তার সৃষ্টি বৈচিত্রময় হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহই আসমান যমীনকে পূর্ব নমুনা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। ফলে এটা স্পষ্টভাৱে প্রমাণ হয় যে, হাড্ডি পচে যাওয়ার পরও তা থেকে পুণরায় মানুষ সৃষ্টি করা আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ﴾ [يس : ۸۱]
যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, (সক্ষম) এবং তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ [সূরা ইয়াসীন ৩৬:৮১]।

টিকাঃ
৩৩. জ্বহীহ: জ্বহীহ মুসলিম হা/২৮৫৯, তিরমিযী হা/২৪২৩।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 হাশরের ময়দানে উপস্থিতি, হিসাব গ্রহণ, কিতাব পাঠ

📄 হাশরের ময়দানে উপস্থিতি, হিসাব গ্রহণ, কিতাব পাঠ


চ। হাশরের ময়দানে উপস্থিতি, হিসাব গ্রহণ এবং কিতাব পাঠ: আমরা উপস্থিতি বা আমলনামা পেশে বিশ্বাসী, মানুষদেরকে তাদের রবের সামনে (হিসাবের জন্য) উপস্থিত করা হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন, فَيَوْمَئِذٍ وَقَعَتِ الْوَاقِعَةُ (١٥) وَانْشَقَّتِ السَّمَاءُ فَهِيَ يَوْمَئِذٍ وَاهِيَةٌ (١٦) وَالْمَلَكُ عَلَى أَرْجَائِهَا وَيَحْمِلُ عَرْشَ رَبِّكَ فَوْقَهُمْ يَوْمَئِذٍ ثَمَانِيَةٌ (۱۷) يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُونَ لَا تَخْفَى مِنْكُمْ خَافِيَةٌ [الحاقة : ١٥ - ١٨]
সেদিন ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। সেদিন আকাশ বিদীর্ণ হবে ও বিক্ষিপ্ত হবে। এবং ফেরেশতাগণ আকাশের প্রান্তদেশে থাকবে ও আট জন ফেরেশতা আপনার পালনকর্তার আরশকে তাদের উর্ধ্বে বহন করবে। সেদিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে। তোমাদের কোন কিছু গোপন থাকবে না [সূরা আল্ হাক্কাহ্ ৬৯:১৫-১৮]।
অন্য স্থানে আল্লাহ তা'আলা বলেন, وَعُرِضُوا عَلَى رَبِّكَ صَفًّا لَقَدْ جِئْتُمُونَا كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ بَلْ زَعَمْتُمْ أَلَّنْ تَجْعَلَ لَكُمْ مَوْعِدًا [الكهف : ٤٨]
তারা আপনার পালনকর্তার সামনে পেশ হবে সারিবদ্ধভাবে এবং বলা হবে: তোমরা আমার কাছে এসে গেছো; যেমন তোমাদেরকে প্রথম বার সৃষ্টি করেছিলাম। না, তোমরা তো বলতে যে, আমি তোমাদের জন্যে কোন প্রতিশ্রুত সময় নির্দিষ্ট করব না [সূরা আল্ কাহাফ ১৮:৪৮]।
আমরা হিসাবে বিশ্বাসী, আল্লাহ তা'আলা সৃষ্ট জীবের হিসাব নিবেন, মুমিন বান্দার হিসাব আল্লাহ তা'আলা আলাদা করে নিবেন।
কুরআন হাদীছের বর্ণনা মতে মুমিনগণ তাদের গুণাহের কথা স্বীকার করবেন। কিন্তু কাফিরদের ভালোমন্দ ওজন করে হিসাব নেওয়া হবে না। কারণ, তাদের কোন ভালো কাজ থাকবে না। তবে তাদের আমলগুলো গণনা করে তাদেরকে তার উপর দাঁড় করানো হবে এবং তারা নিজেদের পাপের কথা স্বীকার করবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
يَا أَيُّهَا الْإِنْسَانُ إِنَّكَ كَادِحٌ إِلَى رَبِّكَ كَدْحًا فَمُلَاقِيهِ * فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ * فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا * وَيَنْقَلِبُ إِلَى أَهْلِهِ مَسْرُورًا * وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ وَرَاءَ ظَهْرِهِ * فَسَوْفَ يَدْعُو ثُبُورًا * وَيَصْلَى سَعِيرًا * إِنَّهُ كَانَ فِي أَهْلِهِ مَسْرُورًا * إِنَّهُ ظَنَّ أَنْ لَنْ يَحُورَ * بَلَى إِنَّ رَبَّهُ كَانَ بِهِ بَصِيرًا [الإنشقاق : ٦- ١٥]
হে মানুষ, তোমাকে তোমরা পালনকর্তা পর্যন্ত পৌছতে কষ্ট স্বীকার করতে হবে, অতঃপর তার সাক্ষাৎ ঘটবে। যাকে তার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, তার হিসাব-নিকাশ সহজে হয়ে যাবে, এবং সে তার পরিবার-পরিজনের কাছে হৃষ্টচিত্তে ফিরে যাবে। এবং যাকে তার আমলনামা পিঠের পশ্চাদ্দিক থেকে দেয়া হবে, সে মৃত্যুকে আহবান করবে, এবং জাহান্নামে প্রবেশ করবে। সে তার পরিবার-পরিজনের মধ্যে আনন্দিত ছিল। সে মনে করত যে, সে কখনও ফিরে যাবে না। কেন যাবে না? (অবশ্যই সে আল্লাহর নিকটে ফিরে যাবে) তার পালনকর্তা তো তাকে দেখতেন [সূরা আল ইনশিক্বাক্ব ৮৪: ৬-১৫]।
আ'য়িশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
لَيْسَ أَحَدٌ يُحَاسَبُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا هَلَكَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلَيْسَ قَدْ قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّمَا ذَلِكِ الْعَرْضُ وَلَيْسَ أَحَدٌ يُنَاقَشُ الْحِسَابَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا عُذِّبَ (صحيح البخاري - ٦٥٣٧
(
ক্বিয়ামতের দিন যার হিসাব নেওয়া হবে সে ধ্বংস হবে। আয়িশা (রাঃ) বললাম, হে আল্লাহর রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আল্লাহ তা'আলা কি বলেননি:
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَسَوْفَ يُحَاسَبُ حِسَابًا يَسِيرًا
যার ডান হাতে তার আমলনামা দেওয়া হবে তার খুব সহজ হিসাব নেওয়া হবে [সূরা আল ইনশিক্বাক্ব ৮৪:৭-৮]।
তখন তিনি বললেন: এটা কেবল পেশ বা উপস্থিত করা। আর ক্বিয়ামত দিবসে যার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব নেওয়া হবে তাকে আযাব ভোগ করতেই হবে। ৩৪
আমরা বিশ্বাস করি প্রত্যেক মানুষকে ক্বিয়ামত দিবসে তার আমলনামা দেওয়া হবে। যখন মুমিন তার আমলনামায় তাওহীদ ও সৎআমল দেখবে তখন সে খুব খুশী হবে এবং তা মানুষের মাঝে প্রচার করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
فَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِيَمِينِهِ فَيَقُولُ هَاؤُمُ اقْرَءُوا كِتَابِيَهْ * إِنِّي ظَنَنْتُ أَنِّي مُلَاقٍ حِسَابِيَهْ * فَهُوَ فِي عِيشَةٍ رَاضِيَةٍ * فِي جَنَّةٍ عَالِيَةٍ * قُطُوفُهَا دَانِيَةٌ * كُلُوا وَاشْرَبُوا هَنِيئًا بِمَا أَسْلَفْتُمْ فِي الْأَيَّامِ الْخَالِيَة [الحاقة : ١٩ - ২৪]
অতঃপর যার আমলনামা ডান হাতে দেয়া হবে, সে বলবে: নাও, তোমরাও আমলনামা পড়ে দেখ। আমি জানতাম যে, আমাকে হিসাবের সম্মুখীন হতে হবে। অতঃপর সে সুখী জীবন-যাপন করবে, সুউচ্চ জান্নাতে। তার ফলসমূহ অবনমিত থাকবে। বিগত দিনে তোমরা যা প্রেরণ করেছিলে, তার প্রতিদানে তোমরা খাও এবং পান কর তৃপ্তি সহকারে [সূরা আল্ হাক্কাহ্ ৬৯:১৯-২৪]।
কিন্তু কাফির, মুনাফিকু এবং পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়কে পিছন দিক দিয়ে তাদের বাম হাতে আমলনামা দেওয়া হবে। তখন কাফিররা আফসোস করত ধ্বংস, মৃত্যু ও বড় বিষয়গুলিকে ডাকবে এবং স্মরণ করবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَأَمَّا مَنْ أُوتِيَ كِتَابَهُ بِشِمَالِهِ فَيَقُولُ يَا لَيْتَنِي لَمْ أُوتَ كِتَابِيَهُ * وَلَمْ أَدْرِ مَا حِسَابِيَهْ * يَا لَيْتَهَا كَانَتِ الْقَاضِيَةَ * مَا أَغْنَى عَنِّي مَالِيَهُ * هَلَكَ عَنِّي سُلْطَانِيَهُ * خُذُوهُ فَغُلُّوهُ * ثُمَّ الْجَحِيمَ صَلُّوهُ
যার আমলনামা তার বাম হাতে দেয়া হবে, সে বলবে: হায় আমায় যদি আমার আমল নামা না দেয়া হতো। আমি যদি না জানতাম আমার হিসাব ! হায়! আমার মৃত্যুই যদি শেষ হত। আমার ধন-সম্পদ আমার কোন উপকারে আসল না। আমার ক্ষমতাও বরবাদ হয়ে গেল। ফেরেশতাদেরকে বলা হবে: ধর একে

টিকাঃ
৩৪. জ্বহীহ বুখারী হা/৬৫৩৭।

📘 কিতাবুল ঈমান > 📄 মীযান বা দাঁড়ি পাল্লা ও পুলছিরাত

📄 মীযান বা দাঁড়ি পাল্লা ও পুলছিরাত


ছ। মীযান বা দাঁড়ি পাল্লা ও পুলছিরাত: আমরা ক্বিয়ামতের ময়দানে মীযান বা দাঁড়ি পাল্লায় বিশ্বাস করি। আল্লাহ তা'আলাবলেন,
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيَامَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِنْ خَرْدَلٍ أَتَيْنَا بِمَا وَكَفَى بِنَا حَاسِبِينَ [الأنبياء : ٤٧]
আমি ক্বিয়ামতের দিন ন্যায়বিচারের মানদণ্ড স্থাপন করব। সুতরাং কারও প্রতি জুলুম হবে না। যদি কোন আমল সরিষার দানা পরিমাণও হয়, আমি তা উপস্থিত করব এবং হিসাব গ্রহণের জন্যে আমিই যথেষ্ট [সূরা আল্ আম্বিয়া ২১: ৪৭]।
রসূলছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাদীছ প্রমাণ করে, যে দাঁড়ি পাল্লায় আমল ওজন করা হবে তার দু'টি পাল্লা থাকবে যা অনুভব করা এবং দেখা যাবে। হিসাব শেষ হওয়ার পরে আমলসমূহ ওজন করা হবে। কেননা হিসাব হবে বান্দা কর্তৃক নিজ আমলের স্বীকারোক্তির জন্য আর ওজন হবে তার পরিমাণ প্রকাশের জন্য যাতে সে অনুযায়ী প্রত্যেককে প্রতিদান দেওয়া হয়।
আমরা পুলছিরাতে বিশ্বাস করি, আর তা হলো জান্নাতে যাওয়ার পথে জাহান্নামের উপর স্থাপিত ব্রীজ। প্রত্যেক মানুষ নিজ আমল অনুযায়ী এই ব্রীজের উপর দিয়ে অতিক্রম করবে। মানুষের মধ্যে কেউ চোখের পলকে তা অতিক্রম করবে, কেউ বিদ্যুৎ গতিতে, কেউ বাতাসের গতিতে, কেউ দ্রুতগামী ঘোড়ার মত, কেউ উটের আরোহীর মত, কেউ স্বাভাবিক গতিতে, কেউ হেঁটে, কেউ নিতম্বের উপর ভরকরে তা অতিক্রম করবে। আবার পুলছিরাতের বাঁকা আঁকড়া (বাঁকা পেরেক তথা হুঁক) কাউকে আঁকড়ে ধরবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
উল্লেখ‍্য পুলছিরাতের উপর লোহার বাঁকা আঁকড়া থাকবে যাতে মানুষেরা নিজেদের আমল অনুযায়ী বিদ্ধ হবে, আর যারা পুলছিরাত পার হতে সক্ষম হবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। জানা আবশ্যক যে ব‍্যক্তি আল্লাহর সোজা পথ দীন ইসলামের উপর এ দুনিয়ায় অবিচল থাকবে সে ব‍্যক্তি পরকালে অনায়াসে পুলছিরাত পার হতে সক্ষম হবে। আর যারা এ দুনিয়াতে সরল পথ হতে বিচ্যুত হবে তারা পরকালে পুলসিরাত পার হতে পারবে না। ক্বিয়ামতের দিন পুলছিরাতের নিকটে মুনাফিকুরা মুমিনদের থেকে পৃথক হয়ে যাবে, মুনাফিকুরা পিছনে পড়ে যাবে, মুমিনগণ আগে যাবে এবং উভয়ের মাঝে একটা প্রাচীরের মাধ্যমে বাধার সৃষ্টি করা হবে ফলে মুনাফিকুরা মুমিনদের নিকট পৌঁছতে পারবে না।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00