📄 কবরের পরীক্ষা
গ। কবরের পরীক্ষা [فتنه القبر] : আমরা মৃত্যুকে সত্য বলে বিশ্বাস করি। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وَكِلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ﴾ [السجدة : ١١]
বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। সূরা আস সাজদাহ্ ৩২:১১।
এটা প্রমাণিত বিষয় যা কারো অজানা নয়, এতে কোন সন্দেহ ও সংশয় নেই। আমরা বিশ্বাস করি যারাই মৃত্যুবরণ করে বা তাকে হত্যা করা হয় অথবা যে কোন কারণে তার মৃত্যু হোক না কেন তা তার নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই। মানুষের নির্দিষ্ট সময় হতে কোন কিছু কম করা হয় না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ﴾ [الأعراف: ٣٤] প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহূর্ত পিছে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে। সূরা আল্ আ'রাফ ৭:৩৪।
[ونؤمن بفتنة القبر ]
তা হলো দাফনের পর মৃত ব্যক্তিকে তার রব [مَرَبُّكَ], দীন ইসলাম [وَمَا دِينُكَ] এবং নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম [وَمَنْنَبِيُّكَ] সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ২০
১। ঈমানদারদেরকে আল্লাহ তা'আলা প্রতিষ্ঠিত কথার উপর দৃঢ় রাখবেন ফলে মুমিন ব্যক্তি বলবেন: আমার রব আল্লাহ তা'আলা, আমার দীন ইসলাম এবং আমার নাবী হলেন মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
২। আর অত্যাচারীদেরকে আল্লাহ্ পথ ভ্রষ্ট করবেন, ফলে কাফির ব্যক্তি বলবে: হায় হায়! আমি কিছু জানি না।
৩। মুনাফিক্ব বা সন্দিহান ব্যক্তি বলবে: আমি জানি না, মানুষদেরকে কিছু বলতে শুনেছিলাম আমি তাই বলেছিলাম।
আমরা কবরের আযাব ও নিয়ামতে (শান্তিতে) বিশ্বাস করি। কবরের আযাব হবে অত্যাচারী কাফির ও মুনাফেক্বদের।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ﴾ [الأنعام : [৯৩
যদি আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তার আয়াতসমূহ থেকে অহংকার করতে। সূরা আল্ আন'আম ৬:৯৩।
আল্লাহ তা'আলা ফেরআউনের পরিবার সম্পর্কে বলেন,
﴿النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ﴾ [غافر : ٤٦]
সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর। সূরা আল-মুমিন ২৩: ৪৬।
যাইদ বিন সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
﴿إِنَّهَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ فَقَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ﴾ (মুসলিম - ২৮৬৭)
এ উম্মত কুবরে পরীক্ষিত হবে, যদি তোমরা দাফন করা ছেড়ে না দিতে তবে আমি কবরের আযাবের যে শব্দ শুনতে পাই তোমাদেরকেও তা শোনার জন্য আল্লাহর নিকটে অবশ্যই দু'আ করতাম। এরপর তিনি আমাদের মুখোমুখি হয়ে
বললেন: তোমরা জাহান্নামের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা কর, তারা বললেন: আমরা আল্লাহর নিকটে জাহান্নামের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর বললেন: তোমরা ক্ববরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা কর, তারা বললেন: আমরা আল্লাহর নিকটে কবরের আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ২৪
অপর দিকে কবরের নিয়ামত সত্যবাদী মুমিনদের জন্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ [فصلت : ٣٠]
নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ্, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। সূরা হা-মীম আস্ সাজদা ৪১:৩০।
অন্যত্রে মহান রব্বুল আলামীন বলেন,
فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ * وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ * وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ * فَلَوْلَا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ * تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ * فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ * فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ﴾ [الواقعة : ৮৯-৮৩]
অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক, তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না। যদি তোমাদের হিসাব-কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়, তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়; তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নিয়ামতে ভরা উদ্যান। সূরা আল্ ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৩-৮৯।
বারা বিন আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই মুমিনের ব্যাপারে বলেছেন: যে দুই ফেরেস্তার প্রশ্নের উত্তর দেয়,
فَيُنَادِي مُنَادٍ فِي السَّمَاءِ أَنْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَفْرِشُوهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَدَّ بَصَرِهِ (مسند أحمد - ١٨٥٣٤)
(যখন মুমিন ব্যক্তি ফেরেস্তার প্রশ্নের উত্তর দিবে) তখন আসমানে একজন আহ্বানকারী জোর আওয়াজে বলবে: আমার বান্দা সত্য বলেছে, তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দাও। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ফলে তার নিকটে জান্নাতের রহমত (আরাম আয়েশ), সুগন্ধি আসতে থাকবে এবং দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত তার কবর প্রশস্ত করা হবে। ২৫
কুবরের আযাব এবং দুই ফেরেস্তার প্রশ্নোত্তর সাব্যস্তে মুতাওয়াতির সূত্রে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনেক হাদীছ পাওয়া যায়। যে ব্যক্তি আযাবের যোগ্য সে কবরে শাস্তি ভোগ করবে আর যে নিয়ামতের যোগ্য সে কবরে শান্তিলাভ করবে। অতএব, তা সাব্যস্তের আক্বীদাহ পোষণ এবং তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। কবরের শাস্তি-শান্তির ধরনের ব্যাপারে আমাদের কথা বলার অধিকার নেই। এ ব্যাপারে কথা বলা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। কেননা, এ বিষয়ে তার সাথে কোন অঙ্গীকার করা হয়নি এবং এটা দুনিয়ার কোন বিষয় না। কবরের অবস্থা গায়েবী (অদৃশ্য) বিষয় যা অনুভূতি দিয়ে অনুমান করা সম্ভব নয়।
যদি তা অনুভূতি দিয়ে জানা যেত তবে গায়েবের (অদৃশ্যের) প্রতি বিশ্বাসের কোন লাভ বা তাৎপর্য থাকতো না। মানুষকে ইবাদতের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার হিম্মত শেষ হয়ে যেত। মানুষেরা ক্ববরের শান্তি অনুভব করতে পারলে দাফন করা বন্ধ করে দিত। যেমন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ
যদি তোমরা দাফন করা বন্ধ না করে দিতে তবে আমি কবরের যে আযাব শুনতে পাই তা তোমাদেরকে শুনানোর জন্য আল্লাহর নিকটে অবশ্যই দু'আ করতাম। ২৬
আর যেহেতু এই হিকমত পশু-পাখির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তাই তারা ক্ববরের আযাব শুনতে ও অনুভব করতে পারে।
টিকাঃ
২০. জ্বহীহ তিরমিযী হা/৩১২০, আবূ দাউদ হা/৪৭৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৮, মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩১, ১৬৩০।
২৪. ছহীহ মুসলিম হা/২৮৬৭।
২৫. ছহীহ মুসনাদে আহমাদ হা/১৮৫৩৪।
২৬. ছহীহ মুসলিম হা/২৮৬৭।
📄 ক্বিয়ামতের আলামত
ঘ। ক্বিয়ামতের আলামত [أشراط الساعة] : ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব। ক্বিয়ামত আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এর নির্দিষ্ট সময় আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কেউ জানে না। তিনি এ বিষয়টি সকল মানুষ থেকে গোপন রেখেছেন। তিনি বলেন: يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ [الأعراف : ۱۸৭]
তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না। সূরা আল আ'রাফ ৭:১৮৭।
ক্বিয়ামতের আলামত, সঙ্কেত ও নিদর্শন সম্পর্কে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ছহীহ সূত্রে পাওয়া যায় রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বিয়ামতের কিছু ছোট আলামতের সংবাদ দিয়েছেন। যার অধিকাংশ মানুষের দুর্নীতি, পারস্পারিক গোলযোগ এবং আল্লাহর সঠিক পথ থেকে তাদের পদস্খলনের সাথে সম্পৃক্ত।
ক্বিয়ামতের কিছু ছোট আলামত জিবরীল আলাইহিস সালাম এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। তিনি রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন এ ব্যাপারে প্রশ্নকৃত প্রশ্নকারী থেকে অধিক জ্ঞাত নন। জিবরীল আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, তাহলে এর আলামত বা নিদর্শন সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিন?
তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, قَالَ أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحَفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ
দাসী তার মালিককে জন্ম দিবে (মায়ের সাথে ছেলে মেয়েরা দাসীর মতো আচরণ করবে বা যুদ্ধ বিগ্রহ বেশী হওয়ার কারণে সন্তান ও পিতা-মাতার খোঁজ থাকবে না, ফলে সন্তানেরা মায়ের মালিক হবে), জুতা ও বস্ত্রহীন গরীব ছাগল চারণকারীরা বাড়ি বা বিল্ডিং নিয়ে একে অপরের উপর গর্ব করবে। ২৭
এক ব্যক্তি রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: إِذَا ضُيِّعَتْ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرُ السَّاعَةَ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرُ السَّاعَةَ (صحيح البخاري - ٦٤٩٦)
যখন আমানত নষ্ট করা হবে তখন তুমি ক্বিয়ামতের অপেক্ষা করবে। সাহাবী বললেন: কিভাবে আমানত নষ্ট হবে? রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: যখন অযোগ্য ব্যক্তিকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে তখন তুমি ক্বিয়ামতের অপেক্ষা কর। ২৮
টিকাঃ
২৭. ছহীহ মুসলিম হা/৮।
২৮. ছহীহ বুখারী হা/৬৪৯৬।
📄 ক্বিয়ামতের বড় আলামত বা নিদর্শন
[ وَأَمَّا الْعَلَامَاتُ الْكُبْرَى]
এটা ক্বিয়ামতের নিকটবর্তী সেই আলামতসমূহ যার পরেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। আর তা কর্তিত পুঁতির মালার (কাঠির) ন্যায় ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকবে। ছহীহ হাদীছে এরূপ দশটি আলামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হুযাইফাহ বিন উসাইদ আল্ গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীছে এসেছে তিনি বলেন:
اِطَّلَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ فَقَالَ مَا تَذَاكَرُونَ قَالُوا نَذْكُرُ السَّاعَةَ قَالَ إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلَاثَةَ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفُ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنْ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ) (صحيح مسلم - ۲۹۰۱)
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাদের উপর উঁকি মেরে দেখলেন আমরা পরস্পর কোন বিষয়ে আলোচনা করছি। তিনি বললেন: তোমরা কি আলোচনা করছো? তাঁরা বললেন: আমরা ক্বিয়ামতের আলোচনা করছি। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: দশটি আলামত দেখার আগে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর সেগুলো হলো:
১। ধোঁয়া
২। দাজ্জাল
৩। দাব্বাহ্ (চতুষ্পদ জন্তুর বহির্গমন)
৪। পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্য উদিত হওয়া
৫। ঈসা বিন মারইয়ামের অবতরণ
৬। ইয়াজুজ-মাজুজের বের হওয়া
৭-৯। তিনটি ভূমি ধস: প্রাচ্যে, পাশ্চাত্যে এবং আরব উপদ্বীপে
১০। আর সর্বশেষে ইয়ামান থেকে এক আগুন বের হবে যা মানুষদেরকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। ২৯
উদাহরণ স্বরূপ আমরা কিয়ামতের একটি বড় আলামত সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্। আর সে আলামতটি হলো:
**দাজ্জালের প্রকাশ**
দাজ্জাল হলো কুফরী, পথ ভ্রষ্টতা এবং ফিতনার মূল। সকল নাবী আলাইহিমুস্ সালাম নিজ নিজ উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক ও ভয় প্রদর্শন করেছেন। নাবীগণ তাদের উম্মতের নিকট দাজ্জালের সকল গুণাগুণ এবং আলামত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নাবী মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালের ব্যাপারে তার উম্মতকে এমনভাবে সতর্ক ও তার আলামত বর্ণনা করেছেন যা চক্ষুস্মান ব্যক্তির নিকটে গোপন থাকতে পারে না।
আনাস () রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: مَا مِنْ نَبِي إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الْأَعْوَرَ الْكَذَّابَ أَلَا إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَمَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ك ف ر (صحیح مسلم - ۲۹۳۳)
প্রত্যেক নাবী তার উম্মতকে এক চোখ কানা দাজ্জাল থেকে সতর্ক করেছেন। জেনে রেখো দাজ্জালের এক চোখ কানা। কিন্তু তোমাদের রব (পালনকর্তা) কানা নয়। আর দাজ্জালের দু'চোখের মাঝে (কপালে) কাফ; ফা; র; তথা কাফির লেখা থাকবে।৩০
আবূ হুরাইরা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا عَنْ الدَّجَّالِ مَا حَدَّثَ بِهِ نَبِيٌّ قَوْمَهُ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّهُ يَجِيءُ مَعَهُ بِمِثَالِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَالَّتِي يَقُولُ إِنَّهَا الْجَنَّةُ هِيَ النَّارُ وَإِنِّي أُنْذِرُكُمْ كَمَا أَنْذَرَ بِهِ نُوحٌ قَوْمَهُ (صحیح البخاري: ۳۳۳۸)
আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সেই হাদীছ বলব না যা প্রত্যেক নাবী তার জাতিকে বলেছেন? দাজ্জালের এক চোখ কানা হবে। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাহামের অনুরূপ জান্নাত-জাহান্নাম থাকবে। দাজ্জাল যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা মূলত জাহান্নাম। আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করছি, যেমন নূহআলাইহিস সালাম তার জাতিকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ৩১
ইল্ম (জ্ঞান) ও আমল ব্যাতীত দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।
ইল্ম হলো: এ জ্ঞান থাকা যে দাজ্জাল শরীর বিশিষ্ট খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করে। তার অপূর্ণতা হলো এক চোখ কানা হবে। তার উভয় চোখের মাঝে (কপালে) কাফির লেখা থাকবে।
আমল হলো: প্রত্যেক ছালাতের শেষ তাশাহুদে আল্লাহর নিকটে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা, সূরা আল্ কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করা। কেননা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنْ الدَّجَّالِ (صحيح مسلم) (৮০৯)
যে ব্যক্তি সূরাহ্ আল্ কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করল সে দাজ্জাল থেকে মুক্তি পাবে। ৩২
টিকাঃ
২৯. ছহীহ মুসলিম হা/২৯০১।
৩০. ছহীহ মুসলিম হা/২৯৩৩।
৩১. ছহীহ বুখারী হা/৩৩৩৮।
৩২. জ্বহীহ মুসলিম হা/৮০৯।
📄 পুনরুত্থান
ঙ। পুনরুত্থান [البعث]: কুরআন, সুন্নাহ্, মানুষের জ্ঞান ও অবিকৃত মন-মানসিকতা পুনরুত্থানে বিশ্বাসের প্রমাণ বহণ করে। তাই আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে কবরস্থিতদেরকে আল্লাহ তা'আলা কুবর হতে পুরুত্থান করবেন। প্রত্যেক শরীরে আত্মা ফিরিয়ে দেওয়া হবে এবং সকল মানুষ আল্লাহ্ রব্বুল আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবে।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿ثُمَّ إِنَّكُمْ بَعْدَ ذَلِكَ لَمَيِّتُونَ * ثُمَّ إِنَّكُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ تُبْعَثُونَ﴾ [المؤمنون: ١٥-١٦]
এরপর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে, অতঃপর ক্বিয়ামতের দিন তোমরা পুনরুত্থিত হবে। [সূরা আল মুমিনূন ২৩:১৫-১৬]।
নবী জ্বালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, (يُحْشَرُ النَّاسُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حُفَاةً عُرَاةً غُرْلًا )
ক্বিয়ামতের দিন মানুষদেরকে জুতা, বস্ত্র ও খাৎনাবিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে। ৩৩
সকল মুসলমানগণ পুনরুত্থান সাব্যস্ত ঐক্যমত, বাস্তবতার চাহিদাও তাই। কেননা, হিম্মত তো এটাই চায় যে আল্লাহ তা'আলা সৃষ্টিজীবের জন্য একটা প্রত্যাবর্তনস্থল করবেন যাতে তিনি তাদেরকে রসূলদের মাধ্যমে দেওয়া দায়িত্বের প্রতিদান দিবেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿أَفَحَسِبْتُمْ أَنَّمَا خَلَقْنَاكُمْ عَبَثًا وَأَنَّكُمْ إِلَيْنَا لَا تُرْجَعُونَ﴾ [المؤمنون : ١١٥]
তোমরা কি ধারণা কর যে, আমি তোমাদেরকে অনর্থক সৃষ্টি করেছি এবং তোমরা আমার কাছে ফিরে আসবে না? [সূরা আল মুমিনূন ২৩: ১১৫]।
অসম্ভব মনে করে কাফিররা মৃত্যু পরবর্তী পূনুরুত্থানকে অস্বীকার করে। এ ধারণা ভুল, শরী'আত, অনুভূতি এবং জ্ঞান এ ধারণার বাতিল হওয়ার উপর প্রমাণ বহন করে। শরী'আতের দলীল: আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿زَعَمَ الَّذِينَ كَفَرُوا أَنْ لَنْ يُبْعَثُوا قُلْ bَلَى وَرَبِّي لَتُبْعَثُنَّ ثُمَّ لَتُنَبَّؤُنَّ بِمَا عَمِلْتُمْ وَذَلِكَ عَلَى اللَّهِ يَسِيرٌ ﴾ [التغابن : ٧ ]
কাফিররা দাবী করে যে, তারা কখনও পুনরুত্থিত হবে না। বলুন, অবশ্যই হবে। আমার পালনকর্তার কসম, তোমরা নিশ্চয় পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমাদেরকে অবহিত করা হবে যা তোমরা করতে। এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ। [সূরা আত্ তাগাবুন ৬৪: ৭]। অন্য স্থানে মহান রব্বুল 'আলামীন বলেন,
وَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَا تَأْتِينَا السَّاعَةُ قُلْ بَلَى وَرَبِّي لَتَأْتِيَنَّكُمْ عَالِمِ الْغَيْبِ لَا يَعْزُبُ عَنْهُ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ فِي السَّمَاوَاتِ وَلَا فِي الْأَرْضِ وَلَا أَصْغَرُ مِنْ ذَلِكَ وَلَا أَكْبَرُ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُبِين [سبأ : ٣]
কাফিররা বলে আমাদের উপর ক্বিয়ামত আসবে না। বলুন: কেন আসবে না? আমার পালনকর্তার শপথ-অবশ্যই আসবে। তিনি অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। নভোমণ্ডলে ও ভূ-মণ্ডলে তার আগোচরে নয় অণু পরিমাণ কিছু, না তদপেক্ষা ক্ষুদ্র এবং না বৃহৎ-সব কিছু আছে সুস্পষ্ট কিতাবে। [সূরা সাবা ৩৪: ৩]।
পুনরুত্থান সত্যের ব্যাপারে সকল আসমানী কিতাব একমত।
অনুভূতির দলীল: আল্লাহ তা'আলা তার বান্দাদেরকে দুনিয়াতেই মৃতকে জীবিত করে দেখিয়েছেন। সূরা আল বাক্বারাতে এ ব্যাপারে পাঁচটি দৃষ্টান্ত রয়েছে:
প্রথমটি আমরা উল্লেখ করছি, তা হলো যখন মূসা আলাইহিস সালাম এর জাতি তাকে বলেছিল: আল্লাহ তা'আলাকে স্পষ্টভাবে না দেখা পর্যন্ত আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনব না, অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে মৃত্যু দান করত পুনরায় জীবিত করেন। এ ক্ষেত্রেই আল্লাহ বনী ইসরাঈলকে সম্বোধন করে বলেন: وَإِذْ قُلْتُمْ يَا مُوسَى لَنْ نُؤْمِنَ لَكَ حَتَّى نَرَى اللَّهَ جَهْرَةً فَأَخَذَتْكُمُ الصَّاعِقَةُ وَأَنْتُمْ تَنْظُرُونَ (٥٥) ثُمَّ بَعَثْنَاكُمْ مِنْ بَعْدِ مَوْتِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ﴾ [البقرة : ٥٥-٥٦]
আর যখন তোমরা বললে, হে মূসা, কস্মিনকালেও আমরা তোমাকে বিশ্বাস করব না, যতক্ষণ না আমরা আল্লাহকে প্রকাশ্যে দেখতে পাব। বস্তুতঃ তোমাদিগকে পাকড়াও করল বিদ্যুৎ। অথচ তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে। তারপর মরে যাবার পর তোমাদিগকে আমি তুলে দাঁড় করিয়েছি, যাতে করে তোমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে নাও। [সূরা আল্ বাক্বারা ২:৫৫-৫৬]।
অন্যান্য দৃষ্টান্তের মধ্যে দ্বিতীয়টি হলো: ঐ নিহিত ব্যক্তি যার ব্যাপারে বানী ইসরাঈলরা মতবিরোধে লিপ্ত হয়েছিল। তখন আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে একটা গাভী জবাই করে তার কিছু অংশ দিয়ে মৃত ব্যক্তিকে প্রহার করতে বললেন, যাতে মৃত ব্যক্তি (জীবিত হয়ে) তার হত্যাকারী সম্পর্কে তাদেরকে সংবাদ দেয়।
তৃতীয়টি হলো: ঐ সম্প্রদায়ের ঘটনা যারা মৃত্যু ভয়ে তাদের ঘর থেকে পলায়ন করেছিল। ফলে আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে মৃত্যু দিয়ে পূণরায় জীবিত করেন।
চতুর্থ দৃষ্টান্ত হলো: ঐ ব্যক্তির ঘটনা যে একটা মৃত গ্রামের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল তখন সে ঐ গ্রামের পূণরায় জীবিত হওয়াকে অসম্ভব মনে করল। তখন আল্লাহ্ তাকে একশত বৎসর মৃত রেখে আবার জীবিত করলেন।
পঞ্চমটি হলো: ইবরাহীম আলাইহিস সালাম এর পাখি জীবিত করার ঘটনা। [বিস্তারিত দেখুন সূরা আল্ বাক্বারা ২: ৭৩, ২৪৩, ২৫৯, ২৬০]।
পূনরুত্থান সম্ভবপর হওয়ার জ্ঞানগত দলীল দু'ভাগে বিভক্ত:
প্রথমটি হলো: আল্লাহ তা'আলা আসমান যমীন ও তার মধ্যবর্তী বস্তুসমূহের সৃষ্টিকর্তা। তিনিই প্রথমবার এগুলো সৃষ্টি করেছেন। আর যিনি শুরুতেই এসব কিছু সৃষ্টি করতে সক্ষম তিনি পুনরায় তা সৃষ্টি করতে অক্ষম নন। বরং তার জন্য তখন এটা আরও সহজ হবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَهُوَ الَّذِي يَبْدَأُ الْخَلْقَ ثُمَّ يُعِيدُهُ وَهُوَ أَهْوَنَ عَلَيْهِ وَلَهُ الْمَثَلُ الْأَعْلَى فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ [الروم : ٢٧]
তিনিই প্রথমবার সৃষ্টিকে অস্তিত্বে আনয়ন করেন, অতঃপর তিনি পুনরায় সৃষ্টি করবেন। এটা তার জন্যে সহজ। আকাশ ও পৃথিবীতে সর্বোচ্চ মর্যাদা তারই এবং তিনিই পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় [সূরা আর রূম ৩০:২৭]।
হাড্ডি ক্ষয় প্রাপ্ত ও পচে যাওয়ার পর তা পূনরায় জীবিত করাকে যারা অস্বীকার করে তাদের প্রতিবাদ করে আল্লাহ তা'আলা আদেশ দিয়ে বলেছেন:
قُلْ يُحْيِيهَا الَّذِي أَنْشَأَهَا أَوَّلَ مَرَّةٍ وَهُوَ بِكُلِّ خَلْقٍ عَلِيمٌ﴾ [يس : ۷۹]
বলুন, যিনি প্রথমবার সেগুলোকে সৃষ্টি করেছেন, তিনিই জীবিত করবেন। তিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত [সূরা ইয়াসীন ৩৬:৭৯]।
দ্বিতীয়টি হলো: যমীন মৃত ও শুষ্ক হয়ে তাতে কোন সবুজ ঘাস, গাছ-পালা থাকে না। এরপর আল্লাহ তা'আলা তাতে বৃষ্টি বর্ষণ করেন। ফলে তা জীবিত হয়ে সবুজ আকার ধারণ করত আন্দোলিত হয়ে উঠে এবং তাতে সকল প্রকার সুন্দর উদ্ভিদ গজায়।
যিনি যমীনকে মরে যাওয়ার পর জীবিত করতে সক্ষম তিনি অন্য সকল মৃতকেও জীবিত করতে সক্ষম। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَنَزَّلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً مُبَارَكًا فَأَنْبَتْنَا بِهِ جَنَّاتٍ وَحَبَّ الْحَصِيدِ (۹) وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ (۱۰) رِزْقًا لِلْعِبَادِ وَأَحْيَيْنَا بِهِ بَلْدَةً مَيْتًا كَذَلِكَ الْخُرُوجُ [ ق : ٩-١١]
আমি আকাশ থেকে কল্যাণময় বৃষ্টি বর্ষণ করি এবং তদ্বারা বাগান ও শস্য উদগত করি, যেগুলোর ফসল আহরণ করা হয়। এবং লম্বমান খর্জুর বৃক্ষ, যাতে আছে গুচ্ছ গুচ্ছ খর্জুর, বান্দাদের জীবিকাস্বরূপ এবং বৃষ্টি দ্বারা আমি মৃত জনপদকে সঞ্জীবিত করি। এমনিভাবে পুনরুত্থান ঘটবে [সূরা আল্ ক্বাফ ৫০:৯-১১]।
প্রত্যেক জ্ঞানী ব্যক্তিই জানেন যে, যিনি বড় জিনিষ করতে সক্ষম তিনি তার চেয়ে ছোট জিনিস করতে অধিক সক্ষম।
আসমান-যমীন এত বড়, প্রশস্ত এবং তার সৃষ্টি বৈচিত্রময় হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহই আসমান যমীনকে পূর্ব নমুনা ছাড়া সৃষ্টি করেছেন। ফলে এটা স্পষ্টভাৱে প্রমাণ হয় যে, হাড্ডি পচে যাওয়ার পরও তা থেকে পুণরায় মানুষ সৃষ্টি করা আল্লাহর জন্য অত্যন্ত সহজ। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
أَوَلَيْسَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِقَادِرٍ عَلَى أَنْ يَخْلُقَ مِثْلَهُمْ بَلَى وَهُوَ الْخَلَّاقُ الْعَلِيمُ﴾ [يس : ۸۱]
যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল সৃষ্টি করেছেন, তিনিই কি তাদের অনুরূপ সৃষ্টি করতে সক্ষম নন? হ্যাঁ, (সক্ষম) এবং তিনি মহাস্রষ্টা, সর্বজ্ঞ [সূরা ইয়াসীন ৩৬:৮১]।
টিকাঃ
৩৩. জ্বহীহ: জ্বহীহ মুসলিম হা/২৮৫৯, তিরমিযী হা/২৪২৩।