📄 আখিরাতের প্রতি ঈমান
ক। শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাসের অর্থ: ক্বিয়ামত আসবে নিশ্চিতভাবে এ দৃঢ় বিশ্বাস রাখা এবং তার জন্য আমল করা। ক্বিয়ামতের পূর্বে সংঘটিত আলামতসমূহের প্রতি বিশ্বাসও এর অন্তর্ভুক্ত হবে।
১। মৃত্যু ও তৎপরবর্তী ক্ববরের পরীক্ষা, আযাব, নিয়ামত
২। সিঙ্গায় ফুৎকার, কুবর হতে সৃষ্টি জীবসমূহের বহির্গমন
৩। ক্বিয়ামতের ভয়াবহতা, হাশরের ময়দান ও আমলনামাসমূহ উন্মুক্তকরণ
৪। মীযান বা দাঁড়ি পাল্লা স্থাপন
৫। পুলসিরাত, হাউযে কাওসার, শাফায়াত
৬। জান্নাত ও তার নিয়ামতসমূহ যার সর্বোচ্চ হলো আল্লাহর দর্শন
৭। জাহান্নাম ও তার শান্তি যার কঠিনতম শাস্তি হলো আল্লাহর দর্শন হতে বঞ্চিত হওয়া ইত্যাদি। এসব কিছু ক্বিয়ামত দিবসের উপর ঈমান আনার অন্তর্ভুক্ত।
**কুরআনে এ রুকনের গুরুত্ব ও হিক্কাত**
খ। কুরআনে এ রুকনের গুরুত্ব ও হিকমাত: কুরআনুল কারীমের বিভিন্ন স্থানে ক্বিয়ামত দিবসের উল্লেখ রয়েছে। প্রতিটি স্থানে কুরআন এর প্রতি গুরুত্বারোপ করেছে, উপযুক্ত স্থানে এর প্রতি সতর্ক করেছে। আরবী ভাষার ব্যাকরণিক বিভিন্ন পদ্ধতিতে ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার তাগিদ করা হয়েছে। কুরআনে এ দিবসের প্রতি গুরুত্বের নমুনা হলো, অনেক স্থানেই এ দিবসের প্রতি ঈমানকে আল্লাহর প্রতি ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট করেছে। যেমন-আল্লাহ তা'আলা বলেন, ذَلِكَ يُوعَظُ بِهِ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ [البقرة : ٢٣٢] আর যখন তোমরা স্ত্রীদেরকে তালাক দিয়ে দাও এবং তারপর তারাও নির্ধারিত ইদ্দত পূর্ণ করতে থাকে, তখন তাদেরকে পূর্ব স্বামীদের সাথে পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে নিয়মানুযায়ী বিয়ে করতে বাধা প্রদান করো না। এ উপদেশ তাকেই দেয়া হচ্ছে, যে আল্লাহ্ ও ক্বিয়ামত দিবসের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে। সূরা আল বাক্বারা ২:২৩২।
১। কুরআনুল কারীমে ক্বিয়ামতের অনেক আলোচনা এসেছে। এমনকি কুরআনের প্রায় প্রতিটি পাতায় আপনি ক্বিয়ামত দিবস এবং তার বিভিন্ন অবস্থার আলোচনা পাবেন।
২। ক্বিয়ামত দিবসের গুরুত্বের মধ্যে রয়েছে আল্লাহ এ দিবসকে বিভিন্ন নামে নামকরণ করেছেন। যা এ দিবস সংঘটিত হওয়ার উপর দৃঢ় প্রমাণ বহন করে। যেমন- আল্ হাক্বক্বাহ (الحاقة), আল্ ওয়াক্বিয়াহ (الواقعة) এবং ক্বিয়ামাহ (القيامة) ইত্যাদি।
৩। ক্বিয়ামতের কিছু নাম এমন রয়েছে যা তাতে সংঘটিত বিভীষিকার উপর প্রমাণ বহন করে। যেমন, আল্ গাশিয়াহ (الغاشية), আত্মম্মাহ (الطامة), আস্সক্ষাহ (الصحة) এবং আল্ ক্বারিয়াহ (القارعة) |
কুরআনে বর্ণিত ক্বিয়ামত দিবসের আরো কিছু নাম: ইয়াওমুদ্দীন (يوم الدين), ইয়াওমুল হিসাব (يوم الحساب), ইয়াওমুল জাম্'আহ (يوم الجمعة)
ইয়াওমুল খুলুদ (يوم الخلود), ইয়াওমুল খুরূজ (يوم الخروج), ইয়াওমুল হাসরাহ্ (يوم الحسرة) এবং ইয়াওমুত্তানাদ (يوم التماد)।
৪। ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান আনার অধিক গুরুত্ব দেয়ার হিকমত হলো: মানুষের দিকনির্দেশনা, সৎকর্মে তাদের ধারাবাহিকতা এবং তাক্বওয়ার (আল্লাহর ভয়) ক্ষেত্রে এ দিবসের প্রতি ঈমানের বড় প্রভাব রয়েছে।
৫। ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান ও সৎ আমলকে এক সাথে উল্লেখ করার কুরআনিক নীতি এ হিকমতের প্রতি ইঙ্গিত দেয়। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ فَعَسَى أُولَئِكَ أَنْ يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ [التوبة : ١٨ ]
নিঃসন্দেহে তারাই আল্লাহর মসজিদসমূহ আবাদ করবে যারা ঈমান এনেছে আল্লাহর প্রতি ও শেষ দিনের প্রতি এবং কায়েম করেছে সলাত ও আদায় করে যাকাত; আল্লাহ ব্যতীত আর কাউকে ভয় করে না। অতএব, আশা করা যায়, তারা হিদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। সূরা আত্ তাওবা ৯:১৮।
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَهَذَا كِتَابٌ أَنْزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنْذِرَ أُمَّ الْقُرَى وَمَنْ حَوْلَهَا وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ وَهُمْ عَلَى صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ [الأنعام : ٩٢]
এ কুরআন এমন গ্রন্থ, যা আমি অবতীর্ণ করেছি; বরকতময়, পূর্ববর্তী গ্রন্থের সত্যতা প্রমাণকারী এবং যাতে আপনি মক্কাবাসী ও পাশ্ববর্তীদেরকে ভয় প্রদর্শন করেন। যারা পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তারা স্বীয় সলাত সংরক্ষণ করে। সূরা আল্ আন্আম ৬:৯২।
৬। সম্ভবত ক্বিয়ামত দিবসকে বেশী উল্লেখের কারণ হলো, দুনিয়ার টান ও তার সম্পদের মোহে মানুষ এ দিবসকে বেশী ভুলে এ সম্পর্কে অসতর্ক থাকে। তাই এ দিবস ও তাতে উল্লেখিত শান্তি-নিয়ামতের প্রতি ঈমান দুনিয়ার প্রতি অতিরঞ্জিত ভালোবাসা কমিয়ে ভালো কাজে প্রতিযোগীতার আগ্রহ যোগাবে। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انْفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ انَّا قَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ أَرَضِيتُمْ بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ [التوبة : [۳۸
হে ঈমানদারগণ, তোমাদের কি হল, যখন আল্লাহর পথে বের হবার জন্যে তোমাদের বলা হয়, তখন মাটি জড়িয়ে ধর, তোমরা কি আখিরাতের পরিবর্তে দুনিয়ার জীবনে পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? অথচ আখিরাতের তুলনায় দুনিয়ার জীবনের উপকরণ অতি অল্প। সূরা আত্ তাওবাহ্ ৯:৩৮।
৭। আল্লাহর উপর ঈমানের পর শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস ব্যতীত কোন জিনিস মানুষকে দুনিয়ার মোহ্ বা ভালোবাসা থেকে ফিরাতে পারে না। যখন কেউ বিশ্বাস করবে সকল সম্পদ ধ্বংসশীল তখন আল্লাহর আনুগত্য ও হুকুম পালনে আগ্রহী হবে। দুনিয়া থেকে বিমুখ হয়ে বিশ্বাস করবে যে দুনিয়ার সম্পদের পরিবর্তে তাকে পরকালে উচ্চ ও স্থায়ী নিয়ামত দেয়া হবে। সাথে এ বিশ্বাসও রাখবে যে, দুনিয়ার জীবনে পার্থিব সম্পদের মোহে আল্লাহর সীমা অতিক্রম করলে পরকালে তাকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ভোগ করতে হবে।
৮। মানুষ যখন শেষ দিবস বা পরকালে বিশ্বাস করবে তখন সে নিশ্চিত হবে যে দুনিয়ার কোন নিয়ামতই পরকালের নিয়ামতের সাথে তুলনা করা যায় না। অপর দিকে ক্বিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস না রাখা এবং আল্লাহর রাস্তায় দুনিয়ায় পাওয়া শান্তির সাথে পরকালের শান্তির কোন তুলনা হয় না। আবার পরকালে বিশ্বাস এবং দুনিয়াতে আল্লাহর পথে কষ্টের জন্য পরকালে যে নিয়ামত দেওয়া হবে তার সাথে দুনিয়ার কোন নিয়ামতের তুলনা হয় না।
📄 কবরের পরীক্ষা
গ। কবরের পরীক্ষা [فتنه القبر] : আমরা মৃত্যুকে সত্য বলে বিশ্বাস করি। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ يَتَوَفَّاكُمْ مَلَكُ الْمَوْتِ الَّذِي وَكِلَ بِكُمْ ثُمَّ إِلَى رَبِّكُمْ تُرْجَعُونَ﴾ [السجدة : ١١]
বলুন, তোমাদের প্রাণ হরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ফেরেশতা তোমাদের প্রাণ হরণ করবে। অতঃপর তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কাছে প্রত্যাবর্তিত হবে। সূরা আস সাজদাহ্ ৩২:১১।
এটা প্রমাণিত বিষয় যা কারো অজানা নয়, এতে কোন সন্দেহ ও সংশয় নেই। আমরা বিশ্বাস করি যারাই মৃত্যুবরণ করে বা তাকে হত্যা করা হয় অথবা যে কোন কারণে তার মৃত্যু হোক না কেন তা তার নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে যাওয়ার কারণেই। মানুষের নির্দিষ্ট সময় হতে কোন কিছু কম করা হয় না।
আল্লাহ তা'আলা বলেন, ﴿وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ﴾ [الأعراف: ٣٤] প্রত্যেক সম্প্রদায়ের একটি মেয়াদ রয়েছে। যখন তাদের মেয়াদ এসে যাবে, তখন তারা না এক মুহূর্ত পিছে যেতে পারবে, আর না এগিয়ে আসতে পারবে। সূরা আল্ আ'রাফ ৭:৩৪।
[ونؤمن بفتنة القبر ]
তা হলো দাফনের পর মৃত ব্যক্তিকে তার রব [مَرَبُّكَ], দীন ইসলাম [وَمَا دِينُكَ] এবং নাবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম [وَمَنْنَبِيُّكَ] সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে। ২০
১। ঈমানদারদেরকে আল্লাহ তা'আলা প্রতিষ্ঠিত কথার উপর দৃঢ় রাখবেন ফলে মুমিন ব্যক্তি বলবেন: আমার রব আল্লাহ তা'আলা, আমার দীন ইসলাম এবং আমার নাবী হলেন মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।
২। আর অত্যাচারীদেরকে আল্লাহ্ পথ ভ্রষ্ট করবেন, ফলে কাফির ব্যক্তি বলবে: হায় হায়! আমি কিছু জানি না।
৩। মুনাফিক্ব বা সন্দিহান ব্যক্তি বলবে: আমি জানি না, মানুষদেরকে কিছু বলতে শুনেছিলাম আমি তাই বলেছিলাম।
আমরা কবরের আযাব ও নিয়ামতে (শান্তিতে) বিশ্বাস করি। কবরের আযাব হবে অত্যাচারী কাফির ও মুনাফেক্বদের।
আল্লাহ তা'আলা বলেন:
﴿وَلَوْ تَرَى إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنْفُسَكُمُ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنْتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنْتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ﴾ [الأنعام : [৯৩
যদি আপনি দেখেন যখন জালেমরা মৃত্যু যন্ত্রণায় থাকে এবং ফেরেশতারা স্বীয় হস্ত প্রসারিত করে বলে, বের কর স্বীয় আত্মা! অদ্য তোমাদেরকে অবমাননাকর শাস্তি প্রদান করা হবে। কারণ, তোমরা আল্লাহর উপর অসত্য বলতে এবং তার আয়াতসমূহ থেকে অহংকার করতে। সূরা আল্ আন'আম ৬:৯৩।
আল্লাহ তা'আলা ফেরআউনের পরিবার সম্পর্কে বলেন,
﴿النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ﴾ [غافر : ٤٦]
সকালে ও সন্ধ্যায় তাদেরকে আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর। সূরা আল-মুমিন ২৩: ৪৬।
যাইদ বিন সাবিত (রাঃ) হতে বর্ণিত। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
﴿إِنَّهَذِهِ الْأُمَّةَ تُبْتَلَى فِي قُبُورِهَا فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِهِ فَقَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ النَّارِ فَقَالَ تَعَوَّذُوا بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ قَالُوا نَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ﴾ (মুসলিম - ২৮৬৭)
এ উম্মত কুবরে পরীক্ষিত হবে, যদি তোমরা দাফন করা ছেড়ে না দিতে তবে আমি কবরের আযাবের যে শব্দ শুনতে পাই তোমাদেরকেও তা শোনার জন্য আল্লাহর নিকটে অবশ্যই দু'আ করতাম। এরপর তিনি আমাদের মুখোমুখি হয়ে
বললেন: তোমরা জাহান্নামের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা কর, তারা বললেন: আমরা আল্লাহর নিকটে জাহান্নামের শাস্তি হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। এরপর বললেন: তোমরা ক্ববরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকটে প্রার্থনা কর, তারা বললেন: আমরা আল্লাহর নিকটে কবরের আযাব হতে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। ২৪
অপর দিকে কবরের নিয়ামত সত্যবাদী মুমিনদের জন্য। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنْتُمْ تُوعَدُونَ [فصلت : ٣٠]
নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের পালনকর্তা আল্লাহ্, অতঃপর তাতেই অবিচল থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। সূরা হা-মীম আস্ সাজদা ৪১:৩০।
অন্যত্রে মহান রব্বুল আলামীন বলেন,
فَلَوْلَا إِذَا بَلَغَتِ الْحُلْقُومَ * وَأَنْتُمْ حِينَئِذٍ تَنْظُرُونَ * وَنَحْنُ أَقْرَبُ إِلَيْهِ مِنْكُمْ وَلَكِنْ لَا تُبْصِرُونَ * فَلَوْلَا إِنْ كُنْتُمْ غَيْرَ مَدِينِينَ * تَرْجِعُونَهَا إِنْ كُنْتُمْ صَادِقِينَ * فَأَمَّا إِنْ كَانَ مِنَ الْمُقَرَّبِينَ * فَرَوْحٌ وَرَيْحَانٌ وَجَنَّتُ نَعِيمٍ﴾ [الواقعة : ৮৯-৮৩]
অতঃপর যখন কারও প্রাণ কন্ঠাগত হয়। এবং তোমরা তাকিয়ে থাক, তখন আমি তোমাদের অপেক্ষা তার অধিক নিকটে থাকি; কিন্তু তোমরা দেখ না। যদি তোমাদের হিসাব-কিতাব না হওয়াই ঠিক হয়, তবে তোমরা এই আত্মাকে ফিরাও না কেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও? যদি সে নৈকট্যশীলদের একজন হয়; তবে তার জন্যে আছে সুখ, উত্তম রিযিক এবং নিয়ামতে ভরা উদ্যান। সূরা আল্ ওয়াক্বিয়া ৫৬:৮৩-৮৯।
বারা বিন আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত, রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেই মুমিনের ব্যাপারে বলেছেন: যে দুই ফেরেস্তার প্রশ্নের উত্তর দেয়,
فَيُنَادِي مُنَادٍ فِي السَّمَاءِ أَنْ صَدَقَ عَبْدِي فَأَفْرِشُوهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَأَلْبِسُوهُ مِنْ الْجَنَّةِ وَافْتَحُوا لَهُ بَابًا إِلَى الْجَنَّةِ قَالَ فَيَأْتِيهِ مِنْ رَوْحِهَا وَطِيبِهَا وَيُفْسَحُ لَهُ فِي قَبْرِهِ مَدَّ بَصَرِهِ (مسند أحمد - ١٨٥٣٤)
(যখন মুমিন ব্যক্তি ফেরেস্তার প্রশ্নের উত্তর দিবে) তখন আসমানে একজন আহ্বানকারী জোর আওয়াজে বলবে: আমার বান্দা সত্য বলেছে, তার জন্য জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের দরজা খুলে দাও। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: ফলে তার নিকটে জান্নাতের রহমত (আরাম আয়েশ), সুগন্ধি আসতে থাকবে এবং দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত তার কবর প্রশস্ত করা হবে। ২৫
কুবরের আযাব এবং দুই ফেরেস্তার প্রশ্নোত্তর সাব্যস্তে মুতাওয়াতির সূত্রে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অনেক হাদীছ পাওয়া যায়। যে ব্যক্তি আযাবের যোগ্য সে কবরে শাস্তি ভোগ করবে আর যে নিয়ামতের যোগ্য সে কবরে শান্তিলাভ করবে। অতএব, তা সাব্যস্তের আক্বীদাহ পোষণ এবং তার প্রতি ঈমান আনা ওয়াজিব। কবরের শাস্তি-শান্তির ধরনের ব্যাপারে আমাদের কথা বলার অধিকার নেই। এ ব্যাপারে কথা বলা মানুষের জ্ঞানের বাইরে। কেননা, এ বিষয়ে তার সাথে কোন অঙ্গীকার করা হয়নি এবং এটা দুনিয়ার কোন বিষয় না। কবরের অবস্থা গায়েবী (অদৃশ্য) বিষয় যা অনুভূতি দিয়ে অনুমান করা সম্ভব নয়।
যদি তা অনুভূতি দিয়ে জানা যেত তবে গায়েবের (অদৃশ্যের) প্রতি বিশ্বাসের কোন লাভ বা তাৎপর্য থাকতো না। মানুষকে ইবাদতের যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তার হিম্মত শেষ হয়ে যেত। মানুষেরা ক্ববরের শান্তি অনুভব করতে পারলে দাফন করা বন্ধ করে দিত। যেমন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
فَلَوْلَا أَنْ لَا تَدَافَنُوا لَدَعَوْتُ اللَّهَ أَنْ يُسْمِعَكُمْ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ الَّذِي أَسْمَعُ مِنْهُ
যদি তোমরা দাফন করা বন্ধ না করে দিতে তবে আমি কবরের যে আযাব শুনতে পাই তা তোমাদেরকে শুনানোর জন্য আল্লাহর নিকটে অবশ্যই দু'আ করতাম। ২৬
আর যেহেতু এই হিকমত পশু-পাখির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়, তাই তারা ক্ববরের আযাব শুনতে ও অনুভব করতে পারে।
টিকাঃ
২০. জ্বহীহ তিরমিযী হা/৩১২০, আবূ দাউদ হা/৪৭৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৪৬৭৮, মিশকাতুল মাসাবিহ ১৩১, ১৬৩০।
২৪. ছহীহ মুসলিম হা/২৮৬৭।
২৫. ছহীহ মুসনাদে আহমাদ হা/১৮৫৩৪।
২৬. ছহীহ মুসলিম হা/২৮৬৭।
📄 ক্বিয়ামতের আলামত
ঘ। ক্বিয়ামতের আলামত [أشراط الساعة] : ক্বিয়ামত দিবসের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা ওয়াজিব। ক্বিয়ামত আসবে এতে কোন সন্দেহ নেই। এর নির্দিষ্ট সময় আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত কেউ জানে না। তিনি এ বিষয়টি সকল মানুষ থেকে গোপন রেখেছেন। তিনি বলেন: يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّي لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللَّهِ وَلَكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ [الأعراف : ۱۸৭]
তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করে, কিয়ামত কখন অনুষ্ঠিত হবে? বলে দিন এর খবর তো আমার পালনকর্তার কাছেই রয়েছে। তিনিই তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য সেটি অতি কঠিন বিষয়। যখন তা তোমাদের উপর আসবে অজান্তেই এসে যাবে। আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এর সংবাদ বিশেষ করে আল্লাহর নিকটই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোকই উপলব্ধি করে না। সূরা আল আ'রাফ ৭:১৮৭।
ক্বিয়ামতের আলামত, সঙ্কেত ও নিদর্শন সম্পর্কে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে অনেক হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। ছহীহ সূত্রে পাওয়া যায় রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ক্বিয়ামতের কিছু ছোট আলামতের সংবাদ দিয়েছেন। যার অধিকাংশ মানুষের দুর্নীতি, পারস্পারিক গোলযোগ এবং আল্লাহর সঠিক পথ থেকে তাদের পদস্খলনের সাথে সম্পৃক্ত।
ক্বিয়ামতের কিছু ছোট আলামত জিবরীল আলাইহিস সালাম এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে। তিনি রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ক্বিয়ামত সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেছিলেন এ ব্যাপারে প্রশ্নকৃত প্রশ্নকারী থেকে অধিক জ্ঞাত নন। জিবরীল আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, তাহলে এর আলামত বা নিদর্শন সম্পর্কে আমাকে সংবাদ দিন?
তখন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন, قَالَ أَنْ تَلِدَ الْأَمَةُ رَبَّتَهَا وَأَنْ تَرَى الْحَفَاةَ الْعُرَاةَ الْعَالَةَ رِعَاءَ الشَّاءِ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ
দাসী তার মালিককে জন্ম দিবে (মায়ের সাথে ছেলে মেয়েরা দাসীর মতো আচরণ করবে বা যুদ্ধ বিগ্রহ বেশী হওয়ার কারণে সন্তান ও পিতা-মাতার খোঁজ থাকবে না, ফলে সন্তানেরা মায়ের মালিক হবে), জুতা ও বস্ত্রহীন গরীব ছাগল চারণকারীরা বাড়ি বা বিল্ডিং নিয়ে একে অপরের উপর গর্ব করবে। ২৭
এক ব্যক্তি রসূল জ্বল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছিলেন: إِذَا ضُيِّعَتْ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرُ السَّاعَةَ قَالَ كَيْفَ إِضَاعَتُهَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ إِذَا أُسْنِدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرُ السَّاعَةَ (صحيح البخاري - ٦٤٩٦)
যখন আমানত নষ্ট করা হবে তখন তুমি ক্বিয়ামতের অপেক্ষা করবে। সাহাবী বললেন: কিভাবে আমানত নষ্ট হবে? রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: যখন অযোগ্য ব্যক্তিকে কাজের দায়িত্ব দেওয়া হবে তখন তুমি ক্বিয়ামতের অপেক্ষা কর। ২৮
টিকাঃ
২৭. ছহীহ মুসলিম হা/৮।
২৮. ছহীহ বুখারী হা/৬৪৯৬।
📄 ক্বিয়ামতের বড় আলামত বা নিদর্শন
[ وَأَمَّا الْعَلَامَاتُ الْكُبْرَى]
এটা ক্বিয়ামতের নিকটবর্তী সেই আলামতসমূহ যার পরেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। আর তা কর্তিত পুঁতির মালার (কাঠির) ন্যায় ধারাবাহিকভাবে আসতে থাকবে। ছহীহ হাদীছে এরূপ দশটি আলামতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হুযাইফাহ বিন উসাইদ আল্ গিফারী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীছে এসেছে তিনি বলেন:
اِطَّلَعَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَيْنَا وَنَحْنُ نَتَذَاكَرُ فَقَالَ مَا تَذَاكَرُونَ قَالُوا نَذْكُرُ السَّاعَةَ قَالَ إِنَّهَا لَنْ تَقُومَ حَتَّى تَرَوْنَ قَبْلَهَا عَشْرَ آيَاتٍ فَذَكَرَ الدُّخَانَ وَالدَّجَّالَ وَالدَّابَّةَ وَطُلُوعَ الشَّمْسِ مِنْ مَغْرِبِهَا وَنُزُولَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ وَثَلَاثَةَ خُسُوفٍ خَسْفٌ بِالْمَشْرِقِ وَخَسْفٌ بِالْمَغْرِبِ وَخَسْفُ بِجَزِيرَةِ الْعَرَبِ وَآخِرُ ذَلِكَ نَارٌ تَخْرُجُ مِنْ الْيَمَنِ تَطْرُدُ النَّاسَ إِلَى مَحْشَرِهِمْ) (صحيح مسلم - ۲۹۰۱)
রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একদিন আমাদের উপর উঁকি মেরে দেখলেন আমরা পরস্পর কোন বিষয়ে আলোচনা করছি। তিনি বললেন: তোমরা কি আলোচনা করছো? তাঁরা বললেন: আমরা ক্বিয়ামতের আলোচনা করছি। রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: দশটি আলামত দেখার আগে ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে না। আর সেগুলো হলো:
১। ধোঁয়া
২। দাজ্জাল
৩। দাব্বাহ্ (চতুষ্পদ জন্তুর বহির্গমন)
৪। পশ্চিম দিগন্ত হতে সূর্য উদিত হওয়া
৫। ঈসা বিন মারইয়ামের অবতরণ
৬। ইয়াজুজ-মাজুজের বের হওয়া
৭-৯। তিনটি ভূমি ধস: প্রাচ্যে, পাশ্চাত্যে এবং আরব উপদ্বীপে
১০। আর সর্বশেষে ইয়ামান থেকে এক আগুন বের হবে যা মানুষদেরকে হাশরের ময়দানের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। ২৯
উদাহরণ স্বরূপ আমরা কিয়ামতের একটি বড় আলামত সম্পর্কে আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্। আর সে আলামতটি হলো:
**দাজ্জালের প্রকাশ**
দাজ্জাল হলো কুফরী, পথ ভ্রষ্টতা এবং ফিতনার মূল। সকল নাবী আলাইহিমুস্ সালাম নিজ নিজ উম্মতকে দাজ্জালের ব্যাপারে সতর্ক ও ভয় প্রদর্শন করেছেন। নাবীগণ তাদের উম্মতের নিকট দাজ্জালের সকল গুণাগুণ এবং আলামত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন। আমাদের নাবী মুহাম্মাদ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দাজ্জালের ব্যাপারে তার উম্মতকে এমনভাবে সতর্ক ও তার আলামত বর্ণনা করেছেন যা চক্ষুস্মান ব্যক্তির নিকটে গোপন থাকতে পারে না।
আনাস () রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেছেন: مَا مِنْ نَبِي إِلَّا وَقَدْ أَنْذَرَ أُمَّتَهُ الْأَعْوَرَ الْكَذَّابَ أَلَا إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَرَ وَمَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ ك ف ر (صحیح مسلم - ۲۹۳۳)
প্রত্যেক নাবী তার উম্মতকে এক চোখ কানা দাজ্জাল থেকে সতর্ক করেছেন। জেনে রেখো দাজ্জালের এক চোখ কানা। কিন্তু তোমাদের রব (পালনকর্তা) কানা নয়। আর দাজ্জালের দু'চোখের মাঝে (কপালে) কাফ; ফা; র; তথা কাফির লেখা থাকবে।৩০
আবূ হুরাইরা () থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: أَلَا أُحَدِّثُكُمْ حَدِيثًا عَنْ الدَّجَّالِ مَا حَدَّثَ بِهِ نَبِيٌّ قَوْمَهُ إِنَّهُ أَعْوَرُ وَإِنَّهُ يَجِيءُ مَعَهُ بِمِثَالِ الْجَنَّةِ وَالنَّارِ فَالَّتِي يَقُولُ إِنَّهَا الْجَنَّةُ هِيَ النَّارُ وَإِنِّي أُنْذِرُكُمْ كَمَا أَنْذَرَ بِهِ نُوحٌ قَوْمَهُ (صحیح البخاري: ۳۳۳۸)
আমি কি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সেই হাদীছ বলব না যা প্রত্যেক নাবী তার জাতিকে বলেছেন? দাজ্জালের এক চোখ কানা হবে। তার সাথে জান্নাত ও জাহান্নাহামের অনুরূপ জান্নাত-জাহান্নাম থাকবে। দাজ্জাল যেটাকে জান্নাত বলবে সেটা মূলত জাহান্নাম। আমি তোমাদেরকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করছি, যেমন নূহআলাইহিস সালাম তার জাতিকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। ৩১
ইল্ম (জ্ঞান) ও আমল ব্যাতীত দাজ্জালের ফিতনা থেকে বাঁচা সম্ভব নয়।
ইল্ম হলো: এ জ্ঞান থাকা যে দাজ্জাল শরীর বিশিষ্ট খাদ্য-পানীয় গ্রহণ করে। তার অপূর্ণতা হলো এক চোখ কানা হবে। তার উভয় চোখের মাঝে (কপালে) কাফির লেখা থাকবে।
আমল হলো: প্রত্যেক ছালাতের শেষ তাশাহুদে আল্লাহর নিকটে দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা, সূরা আল্ কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করা। কেননা রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: مَنْ حَفِظَ عَشْرَ آيَاتٍ مِنْ أَوَّلِ سُورَةِ الْكَهْفِ عُصِمَ مِنْ الدَّجَّالِ (صحيح مسلم) (৮০৯)
যে ব্যক্তি সূরাহ্ আল্ কাহাফের প্রথম দশ আয়াত মুখস্থ করল সে দাজ্জাল থেকে মুক্তি পাবে। ৩২
টিকাঃ
২৯. ছহীহ মুসলিম হা/২৯০১।
৩০. ছহীহ মুসলিম হা/২৯৩৩।
৩১. ছহীহ বুখারী হা/৩৩৩৮।
৩২. জ্বহীহ মুসলিম হা/৮০৯।